আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ঘরে লাগানো গাছ কি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর?

ঘরে গাছপালা লাগানো মন ও শরীর ভালো রাখে বলে মনে করা হয়
ঘরে গাছপালা লাগানো মন ও শরীর ভালো রাখে বলে মনে করা হয়

ঘরে গাছপালা লাগানো মন এবং ভালো থাকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করা হয়। হয়তো সেগুলোর ছবি ইন্সটাগ্রামে অনেক লাইক এনে দেয়।

কিন্তু এগুলো পরিবেশের জন্য কতটা কতটা উপকারী?

চারাগাছ উৎপাদন থেকে শুরু করে , পুনরায় ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পট তৈরিসহ ব্রিটেনের উদ্যানবিদ, উদ্ভিদবিদ এবং পরিবেশবিদরা আপনার এই উদ্যানের শখ টিকিয়ে রাখার জন্য নানা কাজ করে যাচ্ছেন।

বাসায় ছোট বাগান করা প্রবণতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি (আরএইচএস), যা ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালের শেষ ছয়মাসে প্রায় ৬০শতাংশ বেড়েছে।

এই প্রবণতাকে পরিবেশ বান্ধব এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার সহস্রাব্দ বলে মনে করা হয়, যারা তাদের শহরের ছোট বাসায় সবুজ তৈরির চেষ্টা করছেন এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল যুগে কিছু ‘বাস্তব’ লালন-পালন করছেন।

যুক্তরাজ্যে প্রতি ১৬ থেকে ২৪ বছরের পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে অন্তত চারজনের বাসায় কোন একটি গাছ রয়েছে।

তাদের মধ্যে অন্তত এক পঞ্চমাংশ গাছ কিনেছেন তাদের স্বাস্থ্য ও ভালো থাকার কথা চিন্তা করে বলে আরএইচএসের জরিপে বেলিয়ে এসেছে।

যুক্তরাজ্যে ঘরে গাছ লাগানোর বিষয়টি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
যুক্তরাজ্যে ঘরে গাছ লাগানোর বিষয়টি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

‘প্ল্যান্ট মাইলস’

গাছ নিয়ে মানুষের আগ্রহ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বেশ কিছু অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন একেবারে বাড়িতে গাছপালা পৌঁছে দিচ্ছে।

লন্ডনের সবচেয়ে বড় অনলাইন গাছ বিক্রেতা দাবি করা প্যাচ এদের মধ্যে অন্যতম।

তারা তাদের গাছগুলোকে ডাক নাম দেয় যেমন ‘চ্যাজ’ অথবা ‘বিগ কেন’, যাদেরকে তাদের সম্ভাব্য ‘গাছের পিতামাতার’ কাছে দিয়ে দেয়া হবে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রেডি ব্লাকেট বলছেন, গাছ মানুষের মধ্যে ‘শান্তি, আনন্দ আর স্বাচ্ছন্দ্য’ এনে দিতে পারে।

প্যাচের গাছ এবং উদ্ভিদগুলো নেদারল্যান্ডসে জন্মানো হয়। এরপরে গাছ সরবরাহের আদেশ পাওয়ার পর সেগুলো যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হয়। ফলে অতিরিক্ত গাছ আমদানি হয় না।

কিন্তু এর ফলে ‘প্লান্ট মাইলস’ তৈরি হতে পারে বলে বলছেন ফে কেনওয়ার্থি, প্ল্যান্টসোয়াপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যারা স্থানীয়ভাবে গাছপালা হাতবদলের জন্য উৎসাহিত করে থাকে।

”যেহেতু অনেক গাছ বিদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়, তাদের পরিবহনের সময় অনেক ইকোলজিক্যাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি হতে পারে।”

যদিও বেশিরভাগ গাছপালা নেদারল্যান্ডস থেকে আসে, কিন্তু অর্কিড আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে এবং হালকা রঙের কিছু গাছ আসে কেনিয়া এবং জিম্বাবুয়ে থেকে।

”আমার অনেকেই পরিবেশ রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমিয়েছি, কিন্তু আপনারা গাছপালা এখনো বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে শিপিং করা হচ্ছে।”

তবে উদ্যান বিজ্ঞানী এবং বিবিসির উপস্থাপক জেমস ওয়াঙের কাছে এভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গাছ পাঠানোর বিষয়টি কোন উদ্বেগের বিষয় নয়। তার বাসায় পাঁচশো উদ্ভিদ বা গাছপালা রয়েছে।

”আপনি যখন কোন গাছের জন্য চাহিদা জানাবেন, তখন কোন উদ্যানে যাওয়ার চেয়ে আপনি অনেক কম কার্বন ফুটপ্রিন্ট রাখবেন, কারণ এসব গাছের আকার খুবই ছোট।” তিনি বলছেন।

তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, গাড়িতে করে কোন উদ্যানে যাওয়ার চেয়ে একবার বাসায় গাছ সরবরাহে পরিবেশগত প্রভাব অনেক কম পড়ে।

ফে কেনওয়ার্থির সঙ্গে সহ প্রতিষ্ঠাতা সারাহ রোউসেয়ু
ফে কেনওয়ার্থির সঙ্গে সহ প্রতিষ্ঠাতা সারাহ রোউসেয়ু

আর বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের অনেক ক্রেতা ব্রিটেনের সরবরাহকারীদের তুলনায় আমস্টারডামের কাছাকাছি বসবাস করেন।

তিনি বলেন, উষ্ণ জলবায়ুর মধ্যে গাছ উৎপন্ন করে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হলে যুক্তরাজ্যের কাছাকাছি আর কোন গ্রিনহাউজ তৈরির প্রয়োজন পড়বে না।

সেই সঙ্গে তিনি বলছেন, যেসব গাছের চাহিদা নেই, অথবা কলম তৈরি করা অথবা বীজ থেকে গাছ উৎপন্ন করা সবসময়েই বাসাবাড়িতে যারা গাছের বাগান করেন, তাদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।

মিজ কেনওয়ার্থি বলছেন, পাশাপাশি এতে নতুন গাছের সঙ্গে আসা অতিরিক্ত প্যাকেজিং করার বিষয়টি এড়ানো যেতে পারে- কারণ প্যাকেট করার জন্য প্লাস্টিকের হাঁড়ি ব্যবহার করা হয়।

প্লাস্টিকের হাঁড়ি

প্লাস্টিক বিরোধী প্রচারণা কর্মী অ্যামি মার্ক বলছেন, পুনরায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এসব প্লাস্টিকের পট বা হাঁড়ি দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিতে পারে।

ওয়েস্ট এন্ড রিসোর্স অ্যাকশন প্রোগ্রামের (ডব্লিউআরএপি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মাত্র ১০ শতাংশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব প্লাস্টিকের হাঁড়ি গ্রহণ করে থাকে।

অনেক সময় এগুলো সংগ্রহ করা হয় না, কারণ এগুলো বিষাক্ত বলে মনে করা হয়।

আবার অনেক ক্ষেত্রে এসব হাঁড়ি তৈরি হয় কালো প্লাস্টিক দিয়ে, যা পুনঃপ্রক্রিয়া করার কেন্দ্রে বাছাই মেশিনগুলো সনাক্ত করতে পারে না। ফলে সেগুলোর ঠাই হয় ভাগাড়ে।

এমনকি অনেক স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কালো নয়, এমন গাছের হাঁড়িগুলোও নিতে চায় না। ফলে সহজে পুনঃ ব্যবহার করা যায় এমন হাঁড়ি বা পচন উপযোগী হাঁড়ি তৈরির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফলে এখন হর্টিকালচারাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন এবং আরএইচএস গার্ডেন অনেক সময় গাছের পটগুলো পুনঃব্যবহার অথবা ফিরিয়ে নেয়ার প্রকল্প চালু করেছে।

‘কিডস অ্যাগেইনস্ট প্লাস্টিক’ নামের একটি দাতব্য সংস্থা পরিচালনা করেন মিজ মিক, তার ছোট বোন এলাকে নিয়ে।

তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন যে, মানুষ যেন গাছ কেনার সময় সেটির হাঁড়ি নিয়ে প্রশ্ন করেন যে, এটা কি আবার ব্যবহার করা যাবে? অথবা এমন কোন জায়গা কি আছে যেখানে পরিবেশ উপযোগী হাঁড়ি পাওয়া যাবে?

'কিডস অ্যাগেইনস্ট প্লাস্টিক' নামের একটি দাতব্য সংস্থা পরিচালনা করেন মিজ মিক, তার ছোট বোন এলাকে নিয়ে
‘কিডস অ্যাগেইনস্ট প্লাস্টিক’ নামের একটি দাতব্য সংস্থা পরিচালনা করেন মিজ মিক, তার ছোট বোন এলাকে নিয়ে

পিট শৈবাল রক্ষা

ঘরে পরিবেশ সম্মত গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে সেটি কীভাবে সরবরাহ করা হয়েছে, শুধু এটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং সেখানে কী জন্মানো হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্ভিদবিদ ড.ট্রেভর ডাইনসের মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো জীব সারের মধ্যে পিট শৈবাল ব্যবহার করা।

যুক্তরাজ্যের জলাবদ্ধ অঞ্চলে পাওয়া মাটির পদার্থটি পচনশীল উদ্ভিদের পদার্থ দ্বারা তৈরি এবং এটি হতে হাজার হাজার বছর সময় নিতে পারে।

”বাণিজ্যিকভাবে এগুলো উত্তোলন শুরু হলে পাঁচশো বছর ধরে তৈরি হওয়া এসব পদার্থ এক বছরেই শেষ হয়ে যেতে পারে,” বলছেন সংরক্ষণ বিষয়ক ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা প্লান্টলাইফের কর্মকর্তা ড. ডাইনস।

তার পরামর্শ, গাছ কেনার সময় মানুষের দেখা উচিত সেখানে মাটি বা সার হিসাবে কী ব্যবহৃত হচ্ছে। অথবা অর্কিড বা ক্যাটটাসের মতো এমন গাছ কেনা, যার জন্য এরকম পিট শৈবাল ব্যবহার করা হয়না।

ঘরের গাছ কি বাতাস পরিষ্কার করে
ঘরের গাছ কি বাতাস পরিষ্কার করে

ঘরের গাছ কি বাতাস পরিষ্কার করে?

গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে আর অক্সিজেন নির্গত করে, এর মানেই এই নয় যে, তারা পরিবেশের দূষণ বন্ধ করে বাতাস পরিষ্কার করে রাখছে।

পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শক ও এ বিষয়ে পিএইচডি করা কার্টিস গুয়াব দেখতে পেয়েছেন যে, ঘরের একটি কক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কার্বনডাই অক্সাইড সরিয়ে ফেলতে পারে গাছ বা উদ্ভিদ।

কিন্তু সেটা নির্ভর করে কী ধরণের গাছ এবং সেগুলো কতগুলো রয়েছে, তার ওপরে। সেই সঙ্গে রুমটি কতোবড় এবং গাছের মাটির ভেতরে কতটা পানি রয়েছে।

”উদ্ভিদে যে পরিমাণ জল সরবরাহ করা হয়, তার ওপর নির্ভর করে গাছটি কতটা কার্বন ডাই অক্সাইড সরাতে পারবে, ঠিক যেমনটা মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটে।

আপনার শরীরে যদি পানিশূনত্য থাকে অথবা আপনি অতিরিক্ত পানি খেয়ে ফেলে, তাহলে আপনিও পুরোপুরি সুস্থ বোধ করবেন না।,” তিনি বলছেন।

বিবিসি উপস্থাপক জেমস ওয়াংয়ের বাাসায় পাঁচশোর বেশি গাছ রয়েছে
বিবিসি উপস্থাপক জেমস ওয়াংয়ের বাাসায় পাঁচশোর বেশি গাছ রয়েছে

ঘরের গাছ কি তাহলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর?

ওয়াঙ বলছেন, যা কিছুই আমরা করি না কেন, সেটার একটা কার্বন ফুটপ্রিন্ট তৈরি করে, কিন্তু সেটা পরিবেশের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আতংকিত হওয়া ঠিক নয়।

তবে তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, যদি ক্রেতারা যদি যতটা সম্ভব টেকসই পরিবেশ রক্ষা করতে চান, তাহলে তাদের উচিত সরবরাহকারীদের সঙ্গে পিট শৈবাল ব্যবহার নিয়ে কথা বলা, বিশেষ কিছু গাছপালা এড়িয়ে চলা এবং কলম বা বীজ থেকে তৈরি হয়, এমন গাছপালার প্রতি আগ্রহী হওয়া।

”এর কোনটাই কঠিন কোন কাজ নয়। তবে এর প্রতিটা পদক্ষেপই পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করতে পারে।” তিনি বলছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

চাঁদপুরে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার জালসহ ৩১ জেলে আটক

লেখক

জেলার পদ্মা- মেঘনায় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অভয়াশ্রমে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে চাঁদপুর  নৌ-পুলিশ।  শনিবার অভিযানের ষষ্ঠ দিন ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলা নৌ-পুলিশের এ অভিযানে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ ৩১ জেলেকে আটক করা হয়। 
এ অভিযানে  অংশ নেয় নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান। এসময় চারটি ফাঁড়ি এবং একটি থানার পুলিশ সদস্যরা অভিযানে যোগ দেন। এছাড়া নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত  ছিলেন। 


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজজ্জামান বাসসকে জানান, চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বর ও তার আশপাশের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বেশকিছু এলাকায় শনিবার সকাল থেকে  এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। তিনি আরো জানান, অভিযানকারী দলটি দেখে জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এসময় আটক ৩১ জেলের জাল থেকে  ৭৫ কেজি মা ইলিশ, ৮টি নৌকা,  প্রায় ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল আটক করা হয়।   


এদিকে, গত ৬ দিনের অভিযানে  সবমিলিয়ে চাঁদপুর জেলায়  এ পর্যন্ত এক কোটি দশ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল, ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ১৫টি নৌকা এবং প্রায় চারশ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয়েছে ৮০ জন জেলেকে। অন্যদিকে, আটক দের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তরমুজ থেকে তৈরি হচ্ছে ‘গুড়’, নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

তরমুজ থেকে তৈরি হওয়ায় গুড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘তোগুড়’

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ছোটবন্ড গ্রামে  কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তরমুজ থেকে গুড় উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সেই উৎপাদিত গুড়ের নাম দিয়েছেন “তোগুড়”।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, ২০১৯ সাল থেকে তিনি তরমুজ চাষ শুরু করে সফলতা পান। এরপর তরমুজের রস মিষ্টি এবং পাতলা বলে তা জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে সফল হন। 

তিনি আরও বলেন, “শুরুতে প্রায় তিন কেজি গুড় তৈরি করে পাড়া প্রতিবেশী, উপজেলা কৃষি অফিসারসহ অনেককেই খাইয়েছেন। আবার অনেকেই সে গুড় ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনতেও চেয়েছেন।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, আমাদের দেশের গুড় শিল্প দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, তাল ও খেঁজুর গাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমছে। এছাড়া, উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলগুলো তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তরমুজের মৌসুমের সময়ে কৃষকরা তরমুজের জন্য ন্যয্য মূল্য পান না। তাই তরমুজের গুড় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের গুড় তৈরি করলে কৃষকরা তার ন্যায্যমূল্য পাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পদ্মায় ইলিশ ধরার সময় আটক ৫৫ জেলে

মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরার সময় আটক করা হয়েছে ৫৫ জন জেলেকে। আটকদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে রোববার (১৭অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত লৌহজং উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালায় উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এতে সহায়তা করে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, অভিযানে ১ লাখ ২০হাজার মিটার কারেন্টজালসহ একটি মাছ ধরার নৌকা ও ২৫০কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

jagonews24

লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ জাগো নিউজকে জানান, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা বন্ধ করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৫৫ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের মধ্যে ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন।

jagonews24

তিনি আরও জানান, দুপুরে জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। আর কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আমন, শঙ্কা পোকার

ঝলমলে সোনা রাঙা রোদ পড়েছে সবুজ ধানক্ষেতে। যতদূর চোখ যায় দেখা মেলে শরতের বাতাসে দুলছে রোপা আমন ধান।কুষ্টিয়ায় এ বছর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে এই ধান। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের মাঠে বেড়েছে পোকার উপদ্রব। পোকা নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলার ছয়টি উপজেলায় ৮৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ৭৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল উফশী, আট হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং এক হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের রোপা আমন।

তবে চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে উফশী, ১০ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ১ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে স্থানীয় রোপা আমনের আবাদ। দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উফশী ধানের চাষ কম হলেও বেড়েছে অন্য জাতের ধানের আবাদ। এর মধ্যে ধান গবেষণা উদ্ভাবিত ও বিনা উদ্ভাবিত ৩৪ জাতের উফশী, ১২ জাতের হাইব্রিড ও ২টি স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছে কৃষকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে স্বর্ণা (১১ হাজার ৯৪৭ হেক্টর), ব্রিধান-৪৯ (১০ হাজার ৪১৬ হেক্টর) ও ব্রিধান-৩৯ (১০ হাজার ১৫৩ হেক্টর) চাষ করা হয়েছে। হাইব্রিড ধানের মধ্যে রয়েছে ধানীগোল্ড (পাঁচ হাজার ৮২১ হেক্টর), এটুজেড-৭০০৬ (দুই হাজার ৫৫৪ হেক্টর) ও মাহিকো-১ (৫২০ হেক্টর)। এছাড়া কুষ্টিয়ার দুটি স্থানীয় জাত কালোজিরা ও বাদশা ভোগের চাষ হয়েছে এক হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে। আবার, মিরপুর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে এবং খাটোবাবু ও ভেড়ামারায় ৫০০ হেক্টর জমিতে শুরু হয়েছে রূপসা জাতের চাষ।

মাজরা পোকার আক্রমণে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা।  ছবি: বাংলানিউজ

মাজরা পোকার আক্রমণে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা। ছবি: বাংলানিউজ

জেলা কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, এ বছর জেলায় চার লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন রোপা আমন উৎপাদিত হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে পাওয়া যাবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন চাল। আবার, রোপা আমনে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হলেও উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। এবার জেলা জুড়ে দেখা গেছে মাজরা বা কারেন্ট পোকার উপদ্রব। কৃষকরা কীটনাশক দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া মাঠের প্রায় অধিকাংশ জমিতে দেখা গেছে পোকার উপদ্রব।

ওই এলাকার কৃষক দুলাল আলী বাংলানিউজকে বলেন, ‘রোপা আমন ধান বেশ ভালো হয়েছে। তবে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে খুব। কীটনাশক দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ’

ফরিদুল ইসলাম নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও ধানের জমিতে গেলে মন ভরে যেতো। বেশ ভালো ফলন পাবো বলে আশা করেছিলাম। তবে এবার পোকার কারণে ফলন কম হতে পারে। ’

ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় এবার মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি। তবে খুব একটা ফলনের পার্থক্য হবে না। ’

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বাংলানিউজকে বলেন, আমরা কৃষকদের ফসলের উপকারী ও অপকারী পোকা চেনা উপায়, অধিক কীটনাশক ব্যবহার না করাসহ আধুনিক চাষাবাদ ও জৈব পদ্ধতি অবলম্বনে উৎসাহিত করছি। ধানের দাম বাড়ায় ও সরকারি প্রণোদনার ফলে কৃষকরা ধান চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

পোকার আক্রমণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বছর জলবায়ুর কারণে পোকার আক্রমণ একটু বেশি। তবে আমরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছি। ফলে পোকার আক্রমণ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পোকায় ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে মনে করি। ’

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন,  ‘এ বছর রোপা আমনের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয়েছে। আশা করছি উৎপাদনও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সাপিয়ার সংসার চলে মাছ ধরে!

অল্প বয়সে বিয়ে হয় সাপিয়ার বেগমের। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় সন্তান না হওয়ার অপরাধে তাকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে যায় স্বামী।পরে দ্বিতীয় বিয়ে না করেই ৪১ বছর ধরে অন্যের বাড়িতে একটি কুঁড়েঘরে থাকেন সাপিয়া। পেটের দায়ে খালে-বিলে নিজে জাল দিয়ে মাছ শিকার করেন। মাঝেমধ্যে দিন মজুরি করে যা উপার্জন করেন তা দিয়েই কোনো ধরনের দিন কাটে সাপিয়ার।

বলছি এক অসহায় নারী সাপিয়ার কথা। স্বামী ফেলে রেখে যাওয়ার পরে ৪১ বছরেও বিয়ে করেননি তিনি। ছবিটি দেখে হয়তো অনেকেই ভাবনায় পরে যাবেন; ভাববার বিষয়ও। একজন বৃদ্ধ নারী কেমন করে এভাবে জাল মেরে মাছ ধরতে পারে? ইচ্ছা আর শক্তি সমন্বয় ঘটলে যে দারিদ্র্য জয় করা যায় সেটি প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রান্তিক নারী সাপিয়া বেগম।  

অন্য নারীর মতো নিজের ইচ্ছা আর শক্তি দিয়ে সফলতার চূড়ায় না পৌঁছলেও নিজের কাছে নিজেই মনে করছেন সফল। নিজেই চালাচ্ছেন সংসার। এই বৃদ্ধ বয়সেও একজন নারী জাল দিয়ে মাছ ধরছেন এমন জলন্ত উদাহরণ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার প্রান্তিক জনপদের নারী সাপিয়া বেগম। এমন কাজ করে এলাকার মানুষের কাছে অতি আপনজন হয়েছেন তিনি।

উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানী গ্রামে বসবাস করছেন সাপিয়া বেগম। তার সঙ্গে কথা বলতেই কেঁদে উঠলেন। ১৯৬৯ সালের আগস্ট মাসে পটুয়াখালীর গলাচিপার আউলিয়ারপুর এলাকার জালাল আহম্মেদ তালুকদারের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের ১০ বছর পরও তার গর্ভে কোন সন্তান না আসায় বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে যায় স্বামী। এরপরই নেমে আসে সাপিয়ার জীবনের দুর্বিষহ অবস্থা।

সাপিয়া বেগম বলেন, বিয়ের ১০ বছর পর আমাকে ফেলে রেখে যায় স্বামী। বাবার কোনো জমি না থাকায় একমাত্র বোনের কাছ থেকে ১ কেজি চাল ১১টাকায় বিক্রি করে তা দিয়ে খুলনায় গিয়ে পানের দোকান দেই। ১২ বছর সেখানে একজনের বাড়িতে থাকি। কয়েক বছর পানের দোকান দিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে তা দিয়ে খুলনায় ১৩ শতাংশ জমি কিনে মাছের চাষ করি। সেখানে এক মাছ চোরকে ধরে থাপ্পড় মারার অপরাধে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। পরে পাথরঘাটার তালুকের চরদুয়ানীর শাহজাহান তালুকদারের বাড়িতে আশ্রয় নেই। তারাই আমাকে তাদের বসতবাড়ির মধ্যে থাকতে দেয়। সেখানেই একটি কুঁড়েঘরে থাকি। এ বাড়ির পাশে খালে-বিলে জাল দিয়ে মাছ ধরি, যা পাই তা বিক্রি করে নিজের কোনোভাবে পেট চালাই। তাছাড়া সিজনে ধান, মুগডাল তুলি এবং অন্যের বাড়িতেও কাজ করি।

তিনি বলেন, আমাকে ফেলে রেখে যাওয়ার পর কয়েকবার স্বামীর কাছে স্ত্রীর দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু রাখেননি। আমি অনেকবার অনুরোধ করেছি, অন্তত ঘরের কাজের জন্য হলেও আমাকে রেখে দিতে কিন্তু তাও তার বিবেকে নাড়া দেয়নি। কোনো ধরনের দিন চলছে আমার। যে বাড়িতে থাকছি তারা আমাকে সব সময় খোঁজ-খবর নিচ্ছে। ঘরে কোন খাবার না থাকলে তারা খাবার দেয়, কাপড়-চোপড়ও দেয়। কিন্তু বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাই না।

মোসা চম্পা বেগম বলেন, আমাদের বাড়ির মধ্যে এক টুকরো জায়গা দিয়েছি। সেখানে ঘর করে থাকছেন তিনি। আমরা সব সময়ই তার দেখাশুনা করছি। তিনি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ এবং মাছ শিকার করে। আমরা তাকে এসব কাজ করতে বারণ করলেও তিনি কারো অনুগ্রহ নিয়ে থাকতে চান না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বাংলানিউজকে বলেন, তাকে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়ি অথবা দোকান করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো। আর বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা না পেলে তাও দেওয়ার চেষ্টা করবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com