আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

ঘরবন্দী সময়ে প্রবীণদের যত্ন

করোনাভাইরাসের প্রকোপে ‘নিউ নরমাল’ সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব হিসাবই যেন পাল্টে গেছে। কিছুই আর আগের মতো নেই। জীবনযাপন, সম্পর্ক, খাদ্যাভাস থেকে শুরু করে এই সময়ে সবকিছুতেই প্রয়োজন বাড়তি যত্নের। ঘরের বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের প্রবীণদের প্রতিও রাখতে হবে বাড়তি খেয়াল, নেওয়া চাই বাড়তি যত্ন। ষাটোর্ধ্ব এসব মানুষ পরিবারের কয়েক প্রজন্মের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করেন। তাঁদের চাওয়া-পাওয়া এবং জীবনযাপনও হয় অন্যদের চেয়ে আলাদা। ফলে একটু বাড়তি যত্ন তাঁরা দাবি করতেই পারেন। ঘরবন্দী সময়ে প্রবীণদের যত্ন নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি। বিজ্ঞাপন

তাঁদের প্রতি হতে হবে শ্রদ্ধাশীল

প্রবীণদের প্রতি সব সময়ই শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। তাঁদের দিয়ে আর কিছুই হবে না, এমন মনোভাব পোষণ করা অবশ্যই উচিত নয়। করোনাকালের ‘নিউ নরমাল’ বিষয়ে তাঁদের জানাতে হবে। নতুন ধারার এই জীবনযাপনের সঙ্গে তাঁদের অভ্যস্ত করে তোলা প্রয়োজন। বিরক্ত প্রকাশ না করে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়া উচিত। তাঁদের চিন্তা, ধারণা ও চাহিদার প্রতি সম্মান দেখালেই তাঁরা বরং নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন দ্রুতই। তা যদি না হয়, তবে তাঁরা ভুগতে পারেন মানসিক চাপ ও বিষাদে, যা আপনার দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে বরং বাড়িয়ে তুলবে।

ছবি: পেকজেলসডটকম
ছবি: পেকজেলসডটকম

মানতে হবে নিয়ম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রবীণদের মৃত্যুর হারই সবচেয়ে বেশি। ফলে কোভিড থেকে সুরক্ষা পেতে হলে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা সবার জন্যই জরুরি। প্রবীণদের ক্ষেত্রে সেটা আরও বেশি জরুরি। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্ন থাকা ইত্যাদি বিষয়ে প্রবীণদেরও অংশ নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাঁদের এসব বিষয়ে সচেতন করে তোলাও জরুরি। বিজ্ঞাপন

তাঁরা যেন বিচ্ছিন্ন না হয়ে যান

করোনা থেকে বেঁচে থাকতে গিয়ে হরেক রকম নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতায় এসব মানুষ যেন বিচ্ছিন্ন না হয়ে যান, সে বিষয়ে খেয়াল রাখাও জরুরি। প্রবীণদের অফিস কিংবা ঘরের তেমন কাজ না থাকার কারণে তাঁরা সচরাচর বাইরে বের হতে, সমবয়সীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে কিংবা সকালে হাঁটতে চান। করোনার সামাজিক দূরত্ব বিধির কারণে এর কিছুই এখন হয় না প্রায়। ফলে তাঁরা বিচ্ছিন্ন ও একাকী বোধ করতে পারেন। প্রবীণদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে তাঁদের সময় দিন, তাঁদের সঙ্গে গল্প করুন। পাশাপাশি অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের বন্ধু ও দূরের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিন। অনলাইন ব্যবহারে তাঁদের অভ্যস্ত করে তুললে তাঁরা বরং একাকী বোধ করবেন না।

ছবি: পেকজেলসডটকম
ছবি: পেকজেলসডটকম

প্রবীণদের স্বাস্থ্যের প্রতি হতে হবে যত্নশীল

এই বয়সের মানুষের বাড়তি যত্ন, খাবার, পুষ্টি, বিশ্রাম ও ব্যায়ামের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। ফলে ঘরবন্দী সময়ে প্রবীণদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া খুবই জরুরি। ঘরের বিভিন্ন কাজ ও ব্যস্ততার ফাঁকে তাঁদের দৈনন্দিন পুষ্টির বিষয়টি যেন ভুলে না যাই। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, শাকসবজি বা ফল যেন বাসায় থাকে। তাঁদের প্রতিদিনকার বিশ্রাম এবং ঘুমে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, এ বিষয়ও মাথায় রাখা প্রয়োজন। ঘর থেকে বাইরে বেরুতে মানা, ফলে তাঁদের প্রতিদিনকার ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমও হয় না। বাসায় বসেই যেন তাঁরা বিভিন্ন সহজ ব্যায়াম করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের যোগব্যায়াম কিংবা মেডিটেশনেও অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন।

চিকিৎসার ব্যাপারে খেয়াল রাখুন

করোনার কারণে হরহামেশাই লকডাউন হয়ে যায় সব। যোগাযোগ চলাচল সবই যখন বন্ধ, তখন তাঁদের নিয়মিত চিকিৎসার বিষয়ে বাড়তি খেয়াল রাখা উচিত। এখন অনলাইনেই ডাক্তাররা রোগী দেখে থাকেন, ফলে টেলিমেডিসিনের মতো নতুন বিষয়ের সঙ্গে নিজেদের এবং তাঁদের সবারই অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে ডাক্তারের সঙ্গে। পাশাপাশি প্রবীণদের অনেকেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাই ওষুধ তাঁদের জীবনের একটি অংশ হয়ে যায়। এই সময়ে তাঁদের ওষুধের যেন সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য অন্তত এক মাসের জন্য বাড়তি ওষুধ কিনে রাখা প্রয়োজন।

ছবি: পেকজেলসডটকম
ছবি: পেকজেলসডটকম

বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করুন তাঁদের

ঘরে বসে থাকতে থাকতে প্রবীণদের যেন একঘেয়েমিতে পেয়ে না বসে, সে জন্য তাঁদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করুন। তাঁরা যদি আগ্রহী হন, তবে তাঁদের ঘরের বিভিন্ন সহজ কাজ, যেমন ঘরের গাছে পানি দেওয়া, ছবির অ্যালবাম সাজিয়ে রাখা, তাঁদের জিনিসপত্র গোছানো, বুকশেলফ পরিষ্কার করা বা গুছিয়ে রাখা ইত্যাদির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারেন। পাশাপাশি পরিশ্রম করতে হয় না, এমন বিভিন্ন মজার ইনডোর খেলা, যেমন ক্যারম, দাবা, লুডু বা কার্ড খেলায় ঘরের অন্যদের সঙ্গে তাঁদেরও যুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া তাঁদের নিজস্ব কোনো শখ বা আগ্রহের বিষয়েও আগ্রহী করে তুলতে পারেন। এসবের মাধ্যমে তাঁদের সময় যেমন কাটবে আনন্দে, তেমনি ঘরে থাকার একঘেয়েমি থেকেও তাঁরা মুক্তি পাবেন।

ছবি: পেকজেলসডটকম
ছবি: পেকজেলসডটকম

ইতিবাচক থাকুন

সবশেষে বলি, ইতিবাচক থাকুন। কঠিন সময় আসবে। সেই বন্ধুর সময় চলেও যাবে। নানান কাজ, ব্যস্ততা ও ঝামেলার মধ্যে থাকলেও প্রবীণদের বিষয়ে ইতিবাচক মানসিকতার প্রকাশ করুন। ধৈর্য ধারণ করে, নিজের মতো উপায় বের করে ঘরে ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করুন। এমন কিছু করবেন না বা বলবেন না, যাতে পরিবারের প্রবীণতম সদস্যরা মনে ব্যথা পান। বরং তাঁদের বিশাল অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে বুদ্ধি নিয়েই দমবন্ধ এই সময়গুলো পার করুন না।

দৈনন্দিন

হেপাটাইটিস কি মারাত্মক ব্যাধি? জেনে নিন এর ধরন ও লক্ষণ

হেপাটাইটিস লিভারের একটি প্রদাহ। যা হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাসের মাধ্যমে ঘটে। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। যা প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে কোনো উপসর্গ প্রকাশ না করলে ধীরে ধীরে মারাত্মক হয়ে ওঠে।

হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে। জানেন কি, প্রতি বছর লিভারের এই রোগে বিশ্বব্যাপী এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এ বছরের হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্র হলো ‘হেপাটাইটিস অপেক্ষা করে না’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হেপাটাইটিসকে নির্মূল করার জন্য সব দেশকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

যেমন- শরীর দুর্বল, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং হলুদ প্রস্রাবের মতো উপসর্গ ইত্যাদি। শরীরে এই রোগের বিস্তার ঘটলে পেটে জল আসা, রক্ত পায়খানা ও রক্তবমি হতে পারে।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরন ও লক্ষণসমূহ

হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাস হলো এ, বি, সি, ডি এবং ই। এর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিত্সা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

হেপাটাইটিস এ

দূষিত খাবার এবং জলের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এ রোগের ক্ষেত্রে, লিভার ফুলে যাওয়া, ক্ষিদে কমে যাওয়া, জ্বর, বমি এবং জয়েন্টে ব্যথা মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

হেপাটাইটিস বি

এই ভাইরাসটি রক্ত, ঘাম, লালা, বীর্যসহ বিভিন্ন দেহনিঃসৃত তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত রক্তে অবস্থিত ভাইরাস এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থিত অ্যান্টিবডি থেকে এ রোগ নির্ণয় করা হয়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস লিভারে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এ কারণে রোগীর বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, কোলিক, ত্বকের হলুদ রঙের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ যা লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের রূপ নেয়। যদি কোনো গর্ভবতী নারী এতে আক্রান্ত হন; তবে তার গর্ভস্থ শিশুও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

হেপাটাইটিস সি

হেপাটাইটিস এ এবং বি এর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক এই ভাইরাসটি। রক্ত দেওয়া-নেওয়া, শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগের সময় যদি জীবাণুযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেখান থেকে হেপাটাইটিস সি এর সংক্রমণ হয়। পৃথিবী জুড়ে আনুমানিক ১৩০-১৭০ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত।

হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ফলে লিভারের ক্ষত এবং বেশ কয়েক বছর পর সিরোসিস সৃষ্টি করে।

আবার অনেক সময় সিরোসিস আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার অকার্যকর, যকৃতের ক্যান্সার, বা খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর শিরা স্ফীত হতে পারে। যার ফলে রক্তক্ষরণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়াও ত্বকে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

হেপাটাইটিস ডি

হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগীদের ঝুঁকি থেকে বেশি থাকে এই ভাইরাসে। এটি দূষিত রক্তের সংক্রমণ, সংক্রামিত সূঁচ ব্যবহার বা শেভিংয়ের অন্যান্য কিটগুলির ব্যবহারের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। লিভারের সংক্রমণের ফলে বমি ও হালকা জ্বর হয়।

হেপাটাইটিস ই

এই ভাইরাস দূষিত খাবার দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ত্বকের হলুদ হওয়া এবং হালকা জ্বর অনুভব করে। এ সংক্রমণের ফলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ফ্যাকাশে ত্বক ও চেহারা এবং জ্বরের মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরণ ও লক্ষণ যদি আপনার শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়; তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দেয়ালের ড্যাম্প দূর করার সহজ উপায়

বর্ষায় ঘরের দেয়ালের পঁলেস্তার খসে পড়ে। দেয়ালে ড্যাম্প ধরার কারণে এটি হয়ে থাকে। এর ফলে দেয়ালে দেখা দেয় বিশ্রী কালচে ছোপ। সেইসঙ্গে দেয়ালের রংও চটে যায়।

ভেজা দেয়াল শুকিয়ে গেলে আবার পঁলেস্তার ফুলে ওঠে এবং ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে অনেকের ঘরেই এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে খুব সহজেই দেয়ালের ড্যাম্প দূর করা সম্ভব। জেনে নিন উপায়-

প্রথমে ঘরের দেয়ালের যেসব স্থানে ড্যাম্প ধরেছে তা চিহ্নিত করুন। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো এক স্থান থেকে ক্রমাগত পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ওই ভেজা অংশ থেকেই ড্যাম্প ছড়াতে থাকে।

ঘরের ভেন্টিলেশনের দিকে নজর রাখুন। অনেক সময় সেখান থেকেও পানি চুঁইয়ে দেয়াল নষ্ট হতে পারে। তাই বর্ষার আগেই ব্যবস্থা নিন।

অনেক সময় বাড়ির ছাদে বা দেয়ালে ফাটল ধরে পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ঘরের ভিতরে ছাদের অংশে বা দেয়ালে ড্যাম্প ধরে। এক্ষেত্রে দ্রুত ওই ফাটল মেরামত করা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন যদি কোনো ওয়ালমেট বা আসবাব দেয়ালের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় থাকে; ওই স্থানে ড্যাম্প ধরে। তাই কিছুদিন পরপর আসবাবপত্রের জায়গা পরিবর্তন করুন।

চেষ্টা করুন ঘর খেলামেলা রাখতে। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরে যদি আলো-বাতাস খেলা করে; তাহলে দেয়ালে ড্যাম্প ধরবে না। অন্যদিকে বদ্ধ ঘরে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প বা আর্দ্রতা জমে দেয়ালে ড্যাম্প পড়ার আশঙ্কা থাকে।

দেওয়ালের যে স্থানে ড্যাম্প ধরেছে সেখানে জিপসাম প্লাস্টার ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে বাজারে উপলব্ধ ‘মোল্ড রেজিস্ট’ রং বা জিপসাম প্লাস্টার পাওয়া যায়। এগুলো ঘরের দেয়ালকে ড্যাম্প পড়ার হাত থেকে দীর্ঘদিন রক্ষা করে।

ঘরের কোনো দেয়ালে বা মেঝেতে যদি শেওলা হয়, তাহলে স্থানটিতে সাদা ভিনেগার স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত মুছে ফেলতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরির রেসিপি

গরু বা খাসির কলিজা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। সবাই নিশ্চয়ই কলিজার ভুনা বা দোঁপেয়াজা খেয়েছেন। তবে কলিজার বারবিকিউ কাবাবও কিন্তু খেতে খুবেই মজাদার।

কোরবানি ঈদের পর এ সময় অনেকেই হয়তো কলিজার বিভিন্ন পদ রান্না করতে পারেন। চাইলে কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরি করতে পারেন খুব সহজেই। জেনে নিন রেসিপি-

১. এক কাপ সেদ্ধ কলিজা
২. পেঁয়াজ কুচি ৩ টেবিল চামচ
৩. কাঁচা মরিচ কুচি ২ চা চামচ
৪. গোল মরিচের গুঁড়ো আধা চা চামচ
৫. ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
৬. লবণ স্বাদমতো

৭. সয়া সস ২ চা চামচ
৮. টমেটো সস ২ টেবিল চামচ
৯. বারবিকিউ সস ৩ টেবিল চামচ
১০. গরম মসলার গুঁড়ো ৩ টেবিল চামচ
১১. কাবাব মসলার গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ
১২. চিনি পরিমাণমতো
১৩. ডিম একটি
১৪. পাউরুটি ২ টুকরো
১৫. পরিমাণমতো তেল

পদ্ধতি

প্রথমে বাটিতে সেদ্ধ কলিজার সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। এরপর ফ্রাইপ্যানে তেল দিন। এবার মসলায় মাখানো সেদ্ধ কলিজা বড়া আকার তৈরি করুন।

এরপর গরম তেলে কলিজার কাবাবগুলো ছেড়ে দিন। উল্টে পাল্টে ভালো করে ভেজে নিন। ভাজা হলে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম কলিজার বারবিকিউ কাবাব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মগজের শাহি কোরমা রান্নার সহজ রেসিপি

গরু বা খাসির মগজ খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। কোরবানি ঈদের পরের এ সময়ে অনেকের ঘরেই কোরবানি পশুর মগজ আছে নিশ্চয়ই!

তবে কীভাবে আরও সুস্বাদু করে এটি রান্না করা যায় তা হয়তো অনেকেই জানেন না। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক মগজের শাহি কোরমা রান্নার সহজ রেসিপি-

উপকরণ

১. একটি মগজ (গরু বা খাসি)
২. পরিমাণমতো পানি
৩. স্বাদমতো লবণ
৪. দুই টেবিল চামচ ঘি
৫. একটি তেজপাতা
৬. দুই চা চামচ পেঁয়াজ বাটা
৭. তিন চা চামচ রসুন বাটা
৮. দুই টেবিল চামচ আদা বাটা
৯. আধা কাপ মিশ্রিত টক দই ও তরল দুধ
১০. দুই চা চামচ কাজু বাদাম বাটা
১১. দুই টেবিল চামচ গরম মসলার গুঁড়ো
১২. দুই টেবিল চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো
১৩. সামান্য পরিমাণ চিনি
১৪. তিন টেবিল চামচ ক্রিম
১৫. তিন-চারটি কাঁচামরিচ

পদ্ধতি

প্রথমে সসপ্যানে পানি, লবণ ও মগজ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। তারপর প্যান গরম করে ঘি দিন। এতে একে একে তেজপাতা ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ভেজে নিন।

এরপর টকদইয়ের মধ্যে রসুন বাটা, আদা বাটা, তরল দুধ, কাজু বাদাম বাটা, গরম মসলার গুঁড়ো, সাদা গোলমরিচের গুঁড়ো ও চিনি মিশিয়ে নিন।

তারপর প্যানে সব মিশ্রণ ঢেলে দিন। মশলা কষানো হলে সেদ্ধ মগজ দিয়ে কষিয়ে নিন। এ সময় ঢেকে রান্না করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যাতে নিচে লেগে না যায়।

তারপর রান্না শেষে সবশেষে ক্রিম ও কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন দারুণ স্বাদের মগজের শাহি কোরমা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রাঙামাটিতে কর্মহীন অর্ধলাখ মৎস্যজীবী

রাঙামাটি শহরের পাশে কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপের নাম জালিয়া পাড়া। এ দ্বীপে বসবাস করে প্রায় ২৮০ জেলে পরিবার। একটা সময় হ্রদে জাল ফেলে নৌকা ভাসিয়ে শুরু হতো তাদের দিন। আর সন্ধ্যা বেলা নৌকা ভরে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতো তারা। সে মাছ বাজারাজাত করে আনন্দ কেটে যেত তাদের সংসার। কিন্তু এখন পুরাই ভিন্ন চিত্র। অভাব যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। ছেলে-মেয়েদের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে হ্রদ পাড়ে বসে কাটে দিন।

মৎস্যজীবি জগদীস দাস দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করে চালাচ্ছেন জীবন ও জীবিকা। মাছ বিক্রি করে চলে তার সংসার। তবে বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার কারণে বেকার সময় কাটছে দিন। একই অভিযোগ কমলা দাস ও বিফলা দাসের। তারাও জানান, কর্ম নেই। তাই টাকাও নেই। নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে। কখনো খেয়ে, আবার কখনো না খেয়ে কাটছে দিন। খেতে না পেয়ে মানুষের বাসা বাড়িতে যে ঝিয়ের কাজ করবো সে সুযোগও নেই। করোনার কারণে মানুষ এখন আগের মতো বাসা-বাড়িতে কাজের লোক রাখে না। শুধু রাঙামাটির জালিয়া পাড়া নয়, এমন দুর্দশার চিত্র এখন রাঙামাটি জেলার প্রায় ৮টি উপজেলায়।জানা গেছে, বর্তমানে রাঙামাটিতে কর্মহীন রয়েছে অর্ধ লাখ মৎস্যজীবী পরিবার।

গত ১ মে কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও বংশ বিস্তারে লক্ষ্যে সব ধরনের মাছ শিকার ও আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর বেকার হয়ে পড়ে তারা। বিকল্প কোনো পেশা বা কর্মসংস্থান না থাকায় জেলে ও শ্রমিকসহ মাছের ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলো মধ্যে চরম আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসেবে রাঙামাটিতে ২৫ হাজার ২৯টি মৎস্যজীবী পরিবারের কথা উল্লেখ থাকলেও অনিবন্ধিত রয়েছে প্রায় অর্ধ লাখ জেলে পরিবার। এমনটা দাবি সংশ্লিষ্টদের। নিবন্ধিত মৎস্যজীবী পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে ভিজিএফ কার্ডে মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও, সুবিধাবঞ্চিত রয়েছে অনিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলো।  ফলে অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। অনিশ্চত হয়ে পড়েছে ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ। টানাপড়েনের মধ্যে কাটছে তাদের জীবন।

অন্যদিকে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে ১ আগস্ট থেকে মাছ শিকার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আর হচ্ছে না। হ্রদে পানি কম থাকায় মাছ শিকার বন্ধ থাকবে আগামি ১০ আগস্ট পর্যন্ত। বুধবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বিএফডিসির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান ।

তবে বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস বন্ধকালীন রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণের সাথে জড়িত দরিদ্র জেলে পরিবাগুলোকে খাদ্যশস্য বরাদ্ধ দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের রাঙামাটি জেলা ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার এম. তৌহিদুল ইসলাম (ট্যাজ) জানান, সাধারণত  তিন মাসের  মাথায় খুলে দেওয়া হয় কাপ্তাই হ্রদ। কিন্তু এবার কাপ্তাই হ্রদে পানি কম থাকায় মাছ শিকার করা সম্ভব না। কারণ কম পানিতে মাছ শিকার করলে প্রজনন নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বন্ধকালীন সময়টা বাড়িয়ে আগামি ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে পানি না বাড়লে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বন্ধকালীন সময় আরও দীর্ঘ করা হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com