আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

গ্রীষ্ম মণ্ডলে ফসল ধ্বংসের কারণ হবে পোকামাকড়

গম এমন একটি শস্য যেটি মূলত শীতল আবহাওয়ায় দেশগুলোতে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে
গম এমন একটি শস্য যেটি মূলত শীতল আবহাওয়ায় দেশগুলোতে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে

জলবায়ুর পরিবর্তন বিশেষ করে উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিশ্বের গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় দেশগুলির ফসলহানির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে কীট পতঙ্গ। মার্কিন একটি গবেষণা এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

বৈশ্বিক তাপমাত্রার প্রতি ডিগ্রী বৃদ্ধির সাথে সাথে অন্তত ১০-২৫% বেশি গম, চাল এবং ভুট্টা ধ্বংস করবে কীট, গবেষকদের হিসেব তাই বলছে।

উষ্ণতা এসব ফসল নাশক কীটকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং সেগুলোর খাবার গ্রহণের পরিমাণও যাবে বেড়ে। সেইসাথে হবে তাদের বংশবৃদ্ধি।

আর তার প্রভাব পরবে বিশ্বের প্রধান প্রধান খাদ্যশস্যে, গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক কার্টিস ডয়েচ-এর এমনই মত।

“বর্তমানে কীটপতঙ্গের খাবারের পরিমাণ ১২টি রুটির সমতুল্য। তবে এই শতাব্দীর শেষেও যদি এই হারে সামগ্রিক তাপমাত্রার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তবে এসব কীটের খাবার গ্রহণের মাত্রা আরও দুটি রুটি বেশি হবে।” ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষকরা জানিয়েছে বি-বিসিকে।

গবেষণায় কি দেখা যাচ্ছে?

প্রফেসর ডয়েচ, যশুয়া টিউকসবারি এবং তাদের সহকর্মীরা পুরো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তাতে পুরো বিশ্বের মানুষের প্রধান তিনটি খাদ্যশস্যকে তারা বেছে নেন।

বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় তারা পুরো বিশ্ব থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে একটি গাণিতিক গণনা করেন। যা ইঙ্গিত দেয় যে, তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে ফসলের ক্ষতি বেশি করে কীটপতঙ্গ।

গবেষকদের দলটি ৩৮ প্রজাতির ক্ষতিকর পোকার তথ্য তাদের গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। তারা দেখতে চেয়েছেন যে কিভাবে তাপমাত্রা এসব কীটের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে সেই সাথে খাদ্য শস্যের ওপর তাদের প্রভাব। ভবিষ্যৎ ফসলহানি বুঝতে ছিল এই পরীক্ষা চালানো হয়।

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে দেখা গেছে তাপমাত্রা প্রতি ডিগ্রী বৃদ্ধিতে ফলসের ক্ষতি হয়ে থাকে শতকরা ৫ ভাগ।

আর সেখানে কীটপতঙ্গের প্রভাব যোগ হলে সে ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ৫০%, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর টিউকসবারি অন্তত তাই বলছেন।

কোন কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি?

প্রফেসর টিউকসবারির মতে যত তাপমাত্রা বাড়বে তত পোকামাকড়ের বংশবৃদ্ধি হবে এবং তত দ্রুত তারা ফসল খেতে শুরু করবে।

তার মতে, “এর প্রভাব বেশি দেখা যাবে ইউরোপের ‘ব্রেড বাস্কেট’ ও মার্কিন ‘কর্ণ জোন’-এ।” তিনি আরও বলেন যে, “বহু ইউরোপীয় দেশেই এধরনের প্রভাব ৫০-১০০% পর্যন্ত দেখা যেতে পারে।”

এর অর্থ ইউরোপে গম উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে অন্তত ১৬ মিলিয়ন।

ইউরোপের ভুট্টা ক্ষেতের একটি পেটুক পোকাগুলো উষ্ণ দেশগুলোয় বংশবৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে
ইউরোপের ভুট্টা ক্ষেতের একটি পেটুক পোকাগুলো উষ্ণ দেশগুলোয় বংশবৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

কিন্তু ক্রান্তিয় অঞ্চলের তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই এসব পোকামাকড়ের বৃদ্ধির জন্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন সেখানে তাদের বংশ বৃদ্ধির হার বরং কমেছে।

এই পরিস্থিতি থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব?

বিশ্বের অন্যতম বেশি ফসল উৎপাদনকারী অঞ্চল এই আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং চীন।

যখন ভূট্টা, ধান এবং গম ক্ষতিগ্রস্ত হবে তখন আসলেই সেট হবে একটি বিপর্যয়, কেননা শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরির ৪২% আমরা পাই এসব শস্য থেকে।

জলবায়ু মডেল বলছে যে ২১০০ সাল নাগাদ বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২-৫ ডিগ্রী বৃদ্ধি পাবে।

আর সেক্ষেত্রে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদই অন্তত ২ ডিগ্রী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পোকামাকড় দ্বারা ফসলের ক্ষতির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা সে সময়ের মধ্যেই ঘটতে শুরু করবে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

কি হতে পারে সমাধান?

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, ফসলের অভিযোজনে জোর দিতে হবে। এমন অভিমত প্রফেসর টিউকসবারির।

ইউরোপে বিশেষ করে ব্রিটেনে ফসলের ক্ষেতে কীটনাশকের ব্যবহার খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, উষ্ণ জলবায়ু কীটপতঙ্গকে আরও বেশি কীটনাশক প্রতিরোধী করে তুলতে পারে।

তাই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশী জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহারে জোর দেন প্রফেসর পপি। তারমতে লেডিবার্ড জাতীয় পোকা ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

এছাড়া হতে পারে ফসল বপনের সময়ে পরিবর্তন এনে কিংবা কীট-প্রতিরোধী ফসলের জাত চাষ করে।

এ সংক্রান্ত গবেষকদের মতে সবগুলোর পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে এ ব্যাপারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

ফসল

হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা

হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা
হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা

শীতের শেষ আর বসন্তের আগে গ্রামবাংলা সেজেছে অপরূপ সাজে। গ্রামজুড়ে এখন হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। মাঠের সরিষা ক্ষেতে হলুদের হাতছানি। বিভিন্ন অলি-ভ্রমর ছুটে বেড়ায় এখান থেকে সেখানে। নিজ কর্মে খুবই ব্যস্ত তারা। মধু আহরণের জন্য ঘুরে বেড়ায় চারিদিকে।

হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা
হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা

হলুদ সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির আনাগোনা এবং মধু আহরণের দৃশ্য বড়ই চমৎকার। মনে পড়ে যায় কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতা, ‘মৌমাছি মৌমাছি/কোথা যাও নাচি নাচি/দাঁড়াও না একবার ভাই,/ওই ফুল ফোটে বনে, যাই মধু আহরণে,/দাঁড়াবার সময় তো নাই…।’

হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা
হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা

হেমন্ত ঋতুর অগ্রহায়ণ মাস থেকেই মৌমাছির ব্যস্ততা বাড়ে। বসন্তের আগে আরও। সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণের সময় শেষের দিকে। তাই ব্যস্ততাও বাড়িয়ে দেয় ওরা। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল ঘুরলে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে। দর্শনার্থীদের মুঠোফোনে বন্দি হয় মৌমাছির কার্যক্রমের স্থিরচিত্র।

হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা
হলুদ সরিষা বনে মৌমাছির আনাগোনা

চারিদিকের অবারিত সরিষা ক্ষেত যেন শীতের শেষের দিকে গ্রামবাংলার অপার সৌন্দর্য। ফুরফুরে হলুদ সরিষা ফুলের ফাঁকে ফাঁকে সবুজ পাতা ও ফল। এ ফল থেকেই পাওয়া যায় সরিষার তেল। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক উপকারে আসে। কৃষকের মুখে ফোটে তৃপ্তির হাসি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ইরি-বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত নওগাঁর চাষিরা। শীতের মৌসুমে কয়েক দফা বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা, শীত ও আবহাওয়া বিপর্যয়ে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেরিতে শুরু হয়েছে চাষাবাদ। কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে তাদের ঘরে ধান নেই। বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে তা বড় বড় ব্যবসায়ীদের। সরকার ধান কিনলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এ বছর ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। চলতি রোপা-আমন মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল।

চাষিরা জানান, গত কয়েক বছরে ধানের আবাদ করে লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর বোরো ধান ঘরে ওঠার আগেই ফনীর প্রভাবে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একদিকে ধানের উৎপাদন কম, অন্যদিকে শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন কৃষকরা। প্রতিবিঘা জমিতে আবাদ করতে ১২-১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছিল ১৫-১৯ মণ।

অপরদিকে সার, ওষুধ ও কাটা-মাড়াইসহ আমন ধানের আবাদ করতে প্রায় ৮-৯ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি প্রায় ১৮-২২ মণ। প্রথমদিকে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও পরে কীটনাশক প্রয়োগে রক্ষা পায়। সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে আগাম আমন ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে খোলা বাজারে দাম নিয়ে সারা বছরই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বর্তমানে বাজারে জিরাশাইল ১০৩০-১০৪০ টাকা, কাটারি ১১০০-১১৫০ টাকা, চিনিগুড়া ১৯০০-১৯৫০ টাকা, আমন স্বর্ণা-৫, ৭২০-৭৪০ টাকা। গত ১৫ দিনে প্রতিমণ ধানে ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে।

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

বদলগাছী উপজেলার ভাতশাইল গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে আছে। পানি, সেচ ও হাল চাষ করে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত শীতের কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে আবারও বীজ রোপণ করতে হয়েছে। যে কারণে রোপণের কাজ ধীর গতিতে হচ্ছে।’

চাকরাইল গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, ‘গত বছর বোরো ধানের আবাদ করতে গিয়ে খরচ বেশি ও ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার যে ধান কিনছেন, তা পর্যাপ্ত না। যে কারণে খোলা বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়। সরকারের উচিত কৃষকদের ধানের দাম দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা। বেশি ধান কিনলেও কৃষকরা উপকৃত হবে।’

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ) মো. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান রোপণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি রোপণ হয়েছে। শীতের কারণে বীজতলা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষকরা পরবর্তীতে পুষিয়ে নিয়েছেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

জেনে নিন পেঁয়াজের অজানা ১৩ তথ্য

রান্না ঘরে খাবার সুস্বাদু করতে পৃথিবীর সব দেশই পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয়। শুধু অন্য রান্নার অনুষঙ্গ নয়, কাঁচা খেতেও পেয়াজ বেশ সুস্বাদু। এছাড়া সরাসরি কাঁচা পেঁয়াজ, ভর্তা, আচার এবং সালাদ হিসেবেও পেঁয়াজের কদর কম নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এবার জেনে নিন পেঁয়াজের অজানা ১৩টি তথ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ

ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ
ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ

জয়পুরহাটে দিন দিন বাড়ছে পান চাষ। ধান, আলুসহ অন্যান্য ফসলের চেয়ে পান চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন পান চাষে। জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বেশকিছু গ্রামের মাঠে নিজ মেধা ও উদ্যোগে পান চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। বিঘাপ্রতি পানের বরজে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ করে পরবর্তী বছর থেকে প্রতি বছর লাভ করছেন ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা।

তবে জেলায় পান বিক্রির নির্ধারিত কোন পাইকারি হাট বা বাজার নেই। ফলে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলায় পান বিক্রি করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় পান চাষিদের। জেলায় লাভজনক ফসল পানের চাষ বাড়াতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগ।

ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ
ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ

পাঁচবিবির বাগুয়ান এলাকায় পূর্বপুরুষের পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে পবিত্র বর্মন, অতুল চন্দ্র, মিলন চন্দ্র, ধিরেন রায়, কমল চন্দ্র, সুশীল কুমার, নিমাই রায়, বিনয় রায়, উত্তম সাহা, কানাইলাল, নয়ন, মদনলালরা দীর্ঘদিন ধরে পান চাষ করে যাচ্ছে। তাদের সফলতায় হাজীপুরের মোস্তাফিজুর, লুৎফর রহমান, হাটখোলার মুক্তিয়ারসহ সীমান্তঘেঁষা চেঁচড়া, সালুয়া, ত্রিপুরা, রতনপুর, আটাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা পান চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবিঘা জমির পানের বরজে মাটির আইল, বেড়া, ছাউনি, শ্রমিক, পানের লতাসহ ১ লাখ টাকা প্রাথমিক অবস্থায় খরচ হয়। পরের বছর থেকে খরচ খুবই সামান্য হয়। কারণ একটি পানের বরজ তৈরি করার পর মাটির আইল, বেড়া, ছাউনি সংস্কার ছাড়া ৪০-৪৫ বছর পর্যন্ত পানের বরজ অক্ষুণ্ন থাকে। সেখান থেকে পান পাওয়া যায়। বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত পানের ভড়া মৌসুম। ভাদ্র থেকে মাঘ পর্যন্ত পানের উৎপাদন কম হয়। ফাল্গুন মাসে বাড়ন্ত লতিকে নিচে নামিয়ে দেওয়াতে পানের উৎপাদন হয় না বললেই চলে। একটি পানের বরজ থেকে উৎপাদন বেশি হলে ২ পোয়া (১২৮টি) পর্যন্ত পান পাওয়া যায়। বড় পান পুরাতন ১ পোয়া ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা, মাঝারি পান ১ পোয়া ১ হাজার ৫শ’ টাকা থেকে ২ হাজার ৫শ’ এবং ছোট পান ৫শ’ টাকা থেকে ১ হাজার ৪শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ
ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ

হাজীপুরের লুৎফর রহমান, হাটখোলার মুক্তিয়ার ও বাগুয়ানের পবিত্র বর্মন জানান, তাদের পান বিক্রির জন্য জেলায় নির্ধারিত কোন পাইকারি হাট-বাজার নেই। ফলে পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুরে পান বিক্রি করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ার পাশাপাশি পান বিক্রিতে খরচও হয় বেশি হয়। তাই জেলায় একটি পানের হাট বা বাজার সৃষ্টির দাবি কৃষকদের।

ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ
ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে পান চাষ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে পান চাষ হয়েছে। পান চাষে আরও আগ্রহী করতে আধুনিক এবং প্রযুক্তিগত সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পোকা দমনে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি

পোকা দমনে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি
পোকা দমনে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি

শস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলসহ সিরাজগঞ্জে কৃষকদের মাঝে দিন দিন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কীটনাশক ছাড়াই ক্ষতিকারক পোকা দমনের পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতির ব্যবহার।

জমিতে সার দেয়ার পর থেকেই রোপা-আমন, ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের খেতে বাদামী ঘাসফড়িং বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা ও চুঙ্গি-মাজরাসহ নানা ধরনের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা কীটনাশকসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

বর্তমানে কৃষকরা খেতে কীটনাশক ওষুধ পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও পরিবেশবান্ধব পার্চিং এবং আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে জানা যায়, ইতোমধ্যে প্রতি বিঘা জমিতে ডেড পার্চিং ও জীবন্ত পার্চিং পদ্ধতির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঝে কাজ করছেন।

জেলার মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৬ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমি পার্চিং পদ্ধতির আওতায় এবং ৪২৫টি আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ বাঁচিয়ে কৃষকরা স্থানীয় পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে পোকা ও পোকার ডিম বিনষ্ট করছে।

সদর উপজেলার পাঁচঠাকুরীর বর্গাচাষী আমজাদ হোসেন, রহিম, বক্কারসহ অনেকেই বলেন, কৃষি অফিস আমাদেরকে পার্চিং পদ্ধতি বা খেতের ভিতর ডাল-পালা, বাঁশের কুঞ্চি পুতে রাখা এবং সন্ধ্যার দিকে জমিতে আলোক ফাদ সম্পর্কে মাঝেমধ্যে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতন করেন। সেই অনুযায়ী আমরা উক্ত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে জমিকে রক্ষা করে অনেক লাভবান হয়েছি।

বহুলীর প্রান্তিক কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, ক্ষেতের ভিতর ডাল-পালা পুতে রাখলে সেই ডাল-পালায় পাখি বসে এবং ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। এতে কীটনাশক ছাড়াই আমরা ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে অতি সহজেই ফসলকে রক্ষা করতে পারছি।  

তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের মানিকচার গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব আলী পার্চিং সম্পর্কে বলেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে জমিতে ক্ষতিকারক পোকার হাত থেকে কীটনাশক ছাড়াই ফসলকে রক্ষা করা যায়। এ পদ্ধতি আমি গতবারও ব্যবহার করেছিলাম উপকার পেয়ে এবারও ব্যবহার করছি।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি অফিসার হুমায়ন কবির জানান, এই ফসলি জমিতে পোতা ডালগুলোর উপরে পাখি বসে ফসলি জমির ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। যার ফলে আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে না। ফলে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, ক্ষেতের ভিতর ডালপালা পুতে রেখে পাখিদেরকে মথ খাওয়ার সুযোগ করে দেয়াকেই পার্চিং পদ্ধতি বলে। আর সন্ধ্যার দিকে জমিতে ইলেকট্রিক বা ব্যাটারি চালিত বাল্ব একটি খুটির সঙ্গে লাগিয়ে জ্বালিয়ে রাখতে হয়।

সেই বাল্বের নিচে সাবান মিশ্রিত পানি ভর্তি একটি গামলা রাখতে হয়। আলো পেয়ে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় সেখানে জড়ো হয় এবং গামলার ভিতর পড়ে মারা যায়। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন সহজেই করা যায়। এ পদ্ধতিগুলো পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com