আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

গ্রীষ্মকালীন সবজি এখন কৃষকের গলার কাঁটা

আমরা জানি, অন্যান্য ফসলের তুলনায় বর্তমানে সবজি উৎপাদন কৃষকের জন্য অত্যন্ত সুখকর কারণ অন্যান্য ফসলের তুলনায় সবজিতে ফলন ও রিটার্ন দুইই বেশী। বাংলাদেশে গত ১০ বছরে সবজি উৎপাদন প্রায় ১০ গুন বেড়েছে। যার ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, কৃষকের ও শ্রমিকের আয় বেড়েছে, নারীদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে, ভূমিহীনদের কাজের সুযোগ তৈরী হচ্ছে এবং কিছুটা হলেও কৃষকের অভাব অনেকটাই কমেছে।

বর্তমানে সবজি উৎপাদনে চীন ও ভারতের পরে বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। এর ফলে শিক্ষিত যুব সমাজ নতুন নতুন প্রযুক্তি ও ইনোভেটিভ ধ্যান ধারণা নিয়ে সবজি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।

কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের সূত্র মতে এ বছর বাংলাদেশে ৮.২৪ লাখ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। উৎপাদন টার্গেট ১৬৪.৫৯ লক্ষ টন। শীত, গ্রীষ্ম, সারা বছর চাষ হয় এবং কিছু বিদেশী জাত মিলে বাংলাদেশে প্রায় ১৪২ ধরণের সবজি চাষ হয়। সবচেয়ে বেশী যে সমস্ত সবজি বাংলাদেশে চাষ হয় তাদের মধ্যে টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, চাল কুমড়া, পটল, ঝিঙা, করলা, লাউ, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, কাঁচা মরিচ, ধুন্দুল, মিষ্টি কুমড়া, ঢেরস, শশা, ক্ষীরা, মুলা, শিম, গাঁজর, পুইশাক, লালসাক, বরবটি, সজনা, শিম, ধনে পাতা, মটরশুঁটি, কাঁচা পেঁপে ইত্যাদি।

আমরা জানি, কৃষি হচ্ছে আমাদের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত, এ খাত থেকে জিডিপির আনুমানিক ১৪ শতাংশ আসে। মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৬৩ শতাংশ এর সঙ্গে জড়িত। আমরা এও জানি, মোট সবজির ৩০ শতাংশই উৎপাদন হয় গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে যার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টন এবং বাজার মূল্য প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলোই এখন কৃষকের জন্য হয়েছে গলার কাঁটা। এই কাঁটা দূর করার জন্য সরকারকে অনতিবিলম্বে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ ভিত্তিক গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্রয়ের স্থান নির্ধারণ করা, যেখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত গ্রীষ্মকালীন সবজি একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর রাখবে, স্কুল, কলেজ ও খেলার মাঠগুলোও আপদকালীন সময়ে ব্যাবহার করা যেতে পারে। যেখান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় সবজি সমূহ সরাসরি কিনে ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সরবরাহ করা যেতে পারে।

এ ছাড়াও স্থানীয় কৃষি অফিস, বিএডিসি ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তররের সমন্বয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারভিশনে উপজেলা অনুযায়ী একটি করে টিম গঠন করে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে সবজি ক্রয় করে, বড় বড় শহরগুলোতে পাঠানোরে ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বড় বড় সুপারশপগুলোকে সবজি উৎপাদন জেলাগুলতে গিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সবজি কেনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করতে পার। এইখানেও আইনশৃংখলা বাহিনী তাদের সহায়তা করতে পারে।

এ কষ্টের সময়ে কৃষকের পাশে যদি আমরা দাঁড়াতে না পারি তাহলে অসহায় কৃষকেরা আমদের ক্ষমা নাও করতে পারেন। আমরা ভালোভাবেই জানি একমাত্র কৃষি খাতের সফলতার উপর আমাদের ১৭ কোটি জনগনের বাঁচা মরা নির্ভর করে। আর এই খাতের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে দেশের প্রায় এক কোটি কৃষক পরিবারসহ ছোটবড় অসংখ্য কৃষি উৎপাদকেরা যারা ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য জোগান দিয়ে যাচ্ছে না বেশ কিছু রপ্তানীযোগ্য পন্যেরও জোগান দিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্হিতিতে দেশের কৃষি উৎপাদকরা সামগ্রীকভাবে চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। কৃষি উৎপাদকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যা উৎপাদন করে তা সে গ্রীষ্মকালীন সবজি , ধান, পাট, ডিম, দুধ, মুরগী যাই হোক না কেন, তার কোনটিরই উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে না। অবশ্য ভোক্তা পর্যায়ে এ সবকিছুরই মূল্য যথেষ্ঠ বেশী। তার মানে টাকা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এ ঘটনা অবশ্য সারা বছরই ঘটছে, তবে বর্তমান কোয়ারেন্টিনের মধ্যে সেই সংকট আরো গভীর হয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরো গভীরতর হতে চলেছে।

পাইকারী বাজারে পণ্য আছে কিন্তু ক্রেতা নেই, পণ্য পরিবহনে চলছে নানারকম বাঁধা বিপত্তি। ফলে উৎপাদক কম দামে লোকসান দিয়ে তার পণ্য বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। ৪ টাকা পিস ডিম, ২৫ টাকা লিটার দুধ, ৪৫ টাকা কেজি ফার্মের মুরগী আর ৩ টাকা কেজি বেগুন, ২ টাকা কেজি টমেটো, ২ টাকা কেজি শশা ,৩ টাকা কেজি ঢেঁড়স তার কয়েকটি উদাহরণ। অথচ উৎপাদন খরচ অনেক বেশী। শিল্প উৎপাদকেরা বাজারে চাহিদা কমে গেলে প্রয়োজনে যে কোন সময় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু কৃষি উৎপাদকরা চাইলেই সেটা অনেক সময় করতে পারে না। ফলে লোকসান হয় অবধারিত। এরকম চলতে থাকলে দেশের কৃষক সমাজ ও কৃষি উৎপাদকরা তো মারা পড়বেই; উপরন্ত দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। সেক্ষেত্রে কৃষির সংগে সংশ্লিষ্ট শিল্পসমূহ, যেমন কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, ইত্যাদিও মহা সংকটে পড়বে। তাই দেশের কৃষক তথা সামগ্রীকভাবে কৃষিকে বাঁচাতে এখনই সরকারকে জরুরীভিত্তিতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন করতেই হবে। যেমন, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রনোদনা হিসাবে ভর্তুকির ব্যবস্হা করা, কৃষি ঋণ মাফ করা বা সুদ মওকুফ করা, বিনাসুদে বা স্বল্পসুদে নতুন ঋণের ব্যবস্হা করা, প্রয়োজনে ভারতের মতো মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইজ ঘোষণা করে তা সরকারী উদ্যোগে নিশ্চিত করা, কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ ও পরিবহণ বাঁধামূক্ত করা, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে চাহিদা নিরূপন করে এলাকাভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরী ও বাস্তবায়ন, ইত্যাদি।

আশা করি সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল কৃষকের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিবেন এবং অসহায় কৃষকদের গলার কাঁটা নামানোর চেষ্টা করবেন। কারণ কৃষকেরা হলো আমাদের প্রকৃত যোদ্ধা, আজকে আমরা ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, পুলিশ, সেনাবাহিনী, সংবাদকর্মী ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারীকে যোদ্ধা হিসাবে আমরা যেমন সবাই স্যালুট জানাচ্ছি, ঠিক তেমনি আন সীন বা অন্ধকারে ঢাকা পড়া প্রকৃত যোদ্ধাকে আমরা যেন ন্যূনতম সম্মানটুকু দিতে ভুলে না যাই। মনে রাখতে হবে কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্হিতিতে ১৭ কোটি মানুষকে দুর্ভিক্ষের হাত থকে বাঁচাতে পারে একমাত্র এই আন সীন যোদ্ধারাই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

শতবর্ষী তেজপাতা গাছ চাষের সহজতম উপায়

রান্নায় তেজপাতা না হলে রান্না যেন ঠিক জমে না।মাংস অথবা ঘুঘনি– তেজপাতার ব্যবহারে এই পদগুলির স্বাদই যায় খুলে। ওষধি হিসাবেও তেজপাতার বহুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। মুখের অরুচি দূর করা থেকে শুরু করে, মাড়ির ক্ষত সারাতে এবং চর্মরোগ নিবারণেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রসাধনী দ্রব্য বানাতেও তেজপাতার গুরুত্ব অপরিসীম। তেজপাতা গাছের বাকল থেকে সুগন্ধি তেল ও সাবানও তৈরি হয়। বহু কৃষক অধিক লাভের আশায় বর্তমানে তেজপাতার চাষ করছেন। বাজারে প্রচুর পরিমানে তেজপাতার চাহিদা থাকায়, এই চাষে লাভ বৈকি ক্ষতি হয় না। অল্প বিনিয়োগে প্রচুর টাকা আয় করা যায় বলে তেজপাতা চাষে কৃষকরা বহুল পরিমানে আয় করছেন।

জলবায়ু (Climate)

বেলে দো-আঁশ মাটি তেজপাতা চাষের পক্ষে আদর্শ। তেজপাতার যেখানে চাষ হবে সেই জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে। বেলে দোআঁশ ছাড়াও প্রায় সবধরনের মাটিতেই তেজপাতার চাষ করা যায়। বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যবর্তী সময় তেজপাতা চাষের জন্য আদর্শ।

চারা রোপন (Planting)

জমিতে মাদা করে চারা রোপন করা উচিত। জমিতে যখন ছায়া অবস্থান করবে সেইসময় তেজপাতার চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। চারা রোপন সবসময় সোজা ভাবে করা উচিত। চারা যদি মারা যায় তাহলে সেই চারা সরিয়ে নতুন করে চারা লাগানো উচিত। মূলত বীজ থেকে তেজপাতার চারা তৈরী হয়। তেজপাতার চারা লাগানোর পর সেই অঞ্চলে ছায়ার ব্যবস্থা করা উচিত। প্রয়োজন হলে সেখানে বড় গাছ লাগানো উচিত। জমিতে জল সেচ চারা লাগানোর পর অবশ্য কর্তব্য।

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

জমিতে উপযুক্ত পরিমানে সার প্রয়োগ হলে তেজপাতার ফলনও স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। জমিতে ৫০ কেজি গোবর সার, ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম, টিএসপি ১৫০ গ্রাম, এমওপি ১৫০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও চারা যখন পোঁতা হবে সেই সময় প্রত্যেকটা মাদায় ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০ গ্রাম ছাই দেওয়া উচিত।

সেচ (Irrigation)

শুখা মরসুমে জমিতে পর্যাপ্ত পরিমানে জল সেচ দিতে হবে। জলের অভাবে যাতে গাছ না মারা যায় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জল নিকাশের পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত রাখা উচিত।

আগাছা দমন (Weed management)

তেজপাতার জমিতে আগাছা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে দিতে হবে। আগাছা গাছের পুষ্টি নষ্ট করে দিতে পারে, তারজন্যই আগাছা দেখা দিলে এই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনও তেজপাতা গাছ ৮ থেকে ৯ বছর হলে তা কেটে ফেলা উচিত।

রোগ নিয়ন্ত্রণ (Disease Control)

এই গাছের মূলত পাতা পোড়া এবং পাতায় গল রোগ দেখা যায়। ছত্রাকের কারণে এই পাতা পোড়া রোগ হয়ে থাকে তেজপাতা গাছের। কচি পাতায় প্রধানত এই রজার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তেজপাতায় এই রোগ দেখা দিলে, জলে টিল্ট মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের একমাত্র পন্থা জৈব কৃষিকাজ

বর্তমান আধুনিক যুগে যেমন জনসংখ্যা বাড়ছে তেমন বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা | এই ব্যাপক চাহিদাপূরণের জোগান বাড়াতে ফসল উৎপাদন হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে | কার্বাইডে পাকানো ফল, হাইব্রিড শাক-সব্জি, ব্রয়লার মুরগি ইত্যাদি | এই কোনো কিছুই আদতে আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয় | অতিরিক্ত ফলন বাড়াতে দিনের পর দিন ক্ষতিকর পেস্টিসাইডসের বহুল ব্যবহার বাড়ছে। ফলত, খাবারের এই কৃত্রিমতায় পুষ্টিগুণ কমছে  যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর| তাই, কৃষিকাজে আবারও অগ্রগতি হয়ে দাঁড়াচ্ছে জৈব কৃষি বা অর্গ্যানিক ফার্মিং | এই জৈবিক কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকবন্ধুদের মধ্যে |

জৈব কৃষিকাজ কি (What is Organic Farming)?

কোনও রকম কৃত্রিম ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব পন্থা অবলম্বন করে চাষবাস, ফলনই হল অর্গ্যানিক ফার্মিং। রোজকার আনাজপাতি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ সবই উৎপাদিত হতে পারে অর্গ্যানিক উপায়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা অর্গ্যানিক উপায়ে চাষ করা ফল, আনাজ, হার্ব, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু ইত্যাদির।

যেহেতু কোনও রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার নেই,  তাই  সার বানাতে হবে প্রাকৃতিক উপায়ে। অর্গ্যানিক ফার্মিংয়ের ভিত কিন্তু সারের উপরেই। ফার্মের পশু-পাখির বিষ্ঠা শুকিয়ে তা দিয়েই মূলত তৈরি হয় জৈব সার। এ ছাড়াও কচুরিপানা খুব ভাল সারের কাজ করে। তাই গাছের গোড়ায় কচুরিপানাও দেওয়া হয়ে থাকে। মাটি ছাড়া শুধু কচুরিপানা জমিয়েও তাতে করে ফেলা যায় পেঁপে গাছ। এই জৈব সারই হলো গাছের ফলন বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি | মাটির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয় কেঁচোকেও। গাছের গোড়ায় যাতে অক্সিজেন পৌঁছায়, তার জন্য খুরপি দিয়ে মাটি খুঁড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো নিজেই এই কাজটা করে দেয়। গাছে পোকা লাগলেও নষ্ট হয় আনাজপাতি। অর্গ্যানিকে কিন্তু পেস্টিসাইড চলবে না। তাই ব্যবহার করা হয় নিম তেল। গোমূত্রও ব্যবহার করা হয় কীটনাশক হিসেবে। ফলে পোকাও ধ্বংস হয়, আবার ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই |

জৈব কৃষিকাজ পদ্ধতি (Types of Organic Farming):

এই জৈব কৃষির পন্থাকে কাজে লাগিয়ে শাক-সব্জি, আনাজ, মাছ, মাংস প্রায় সব উৎপাদিত হয় | যেমন,

শাক (Herbs):

কুলেখাড়া,ধনে, নটে, লাল নটে, ব্রাহ্মী, গুলঞ্চ, কালমেঘ, পুদিনাও চাষ করা যেতে পারে এই উপায়ে। একসঙ্গে একাধিক হার্ব চাষ করা হয় সারি হিসেবে। এতে হার্ব তুলতে সুবিধে হয়। ব্রাহ্মী, কুলেখাড়া চাষ করা যায় জলেই। প্রথমে ছোট পাত্রে এবং পরে গাছ বড় হলে তা তুলে বড় পাত্রে রাখা হয়। এই গাছ থেকে তৈরি করা হয় নানা ভেষজ ঔষধ |

সব্জি (Vegetables):

একই জমিতে বছরে ২ বার, তিন বার ভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। ধান তোলা হয়ে গেলে সেই জমিতেই চাষ হয় তৈলবীজ যেমন সর্ষে, সূর্যমুখী, তিল ইত্যাদি। আবার সরষে তোলার পরে ও ধান গাছ লাগানোর আগে করা হয় তিল চাষ। বাঁধাকপি, ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে জায়গা বেশি লাগে। কারণ প্রত্যেকটি চারা বা বীজের মাঝে ব্যবধান হবে এক হাত। আবার মুলোর সঙ্গে চাষ করা হয় লাল নটে শাক। মাটিতে চাষের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের জোগান বাড়ে। কুমড়ো, পেঁপে, লাউ, বেগুনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে আনাজ বড় হওয়া পর্যন্ত। সাধারণত, জৈবিক উপায়ে ফলনের বৃদ্ধি হতে একটু দেরি হওয়ায় ধৈর্য রাখতে হবে, তবে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপন্ন হয় |

পোল্ট্রি (Poultry):

কোয়েল, মুরগি থেকে শুরু করে গরু প্রতিপালনও করা যায় এখানে। মুরগি ২ টি ভাগে প্রতিপালন করা হয়। একটি ডিমের জন্য, অন্যটি মাংসের জন্য। কোয়েলের ক্ষেত্রেও তাই। অর্গ্যানিক দুধের চাহিদা প্রচুর। আবার গরুর দুধ থেকে ঘি, মাখন যেমন তৈরি করা যায়, তেমনই গোবর ব্যবহার করা হয় জৈব সার তৈরি করতে এবং গোমূত্র কীটনাশক হিসেবে।

মাছ (Fish farming):

পুকুরেই চাষ করা হয় তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, কই ইত্যাদি মাছ। পানাও ছড়িয়ে থাকে পুকুরের উপরে যাতে তারা খাবার পায়। অন্য দিকে আলাদা পুকুরে চাষ করা হয় চিংড়ির। জিওল মাছ বা বড় মাছ ধরা হয় বেড় জালে।

জৈব কৃষিকাজে বর্জ্যের ব্যবহার (Waste management):

অর্গ্যানিক চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বর্জ্যের ব্যবহার। জৈব বর্জ্য সহজেই প্রকৃতিতে মিশে যায়। ফলে তা দিয়ে সার তৈরিও সহজ। কিন্তু শহরাঞ্চলে বর্জ্যের অনেকটাই প্লাস্টিক, সে ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট জরুরি। এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা প্রত্যেক দিন বর্জ্য সংগ্রহ করে। তার পরে তা থেকে কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক বর্জ্য পৃথক করা হয়। প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য আলাদা করে তা হস্তশিল্পের কাজে লাগানো হয়। অন্য দিকে কিচেন ওয়েস্ট অর্থাৎ আনাজপাতির খোসা, মাংসের ছাঁট ইত্যাদি পচনশীল বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং সার তৈরি করা হয়। আবার, এই সার চলে যায় বিভিন্ন অর্গ্যানিক ফার্মে।

বাড়িতে কিভাবে জৈবিক উপায়ে চাষ করা যায় (Organic farming at home):

বাড়িতেই খুব সময় উপায়ে অর্গ্যানিক চাষ করে সব্জি উৎপাদন  (Organic vegetables cultivation) করতে পারেন | এই চাষের জন্য স্বল্প জায়গা ও জলের ব্যবহার প্রয়োজন। বড় ড্রামের গায়ে সমান ব্যবধানে চৌকো করে চিরে নিন। প্রত্যেকটি চেরা জায়গায় একটি করে চারা লাগান। একটি ড্রামেই জন্মাবে একাধিক গাছ। আবার, উল্লম্ব ভাবে একের পর এক ট্রে বা টবে চাষ করতে পারেন থানকুনি, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা | বাড়ির বর্জ্য থেকে সার তৈরি করে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। ফলে, আপনার বাড়ির বর্জ্য নষ্ট হবেনা আবার সব্জিও উৎপাদন হবে |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

অ্যারোপোনিক্স উপায়ে সব্জি চাষে দারুন লাভ

হাইড্রোপনিক্স উপায়ে (Hydroponic Method) সব্জি চাষ প্রায় অনেকেই জানেন | কিন্তু, আপনি কি জানেন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদ কি? অনেকেই ভেবে থাকেন এই দুই পদ্ধতি এক | আপাত দৃষ্টিতে এক লাগলেও, আছে সামান্য পার্থক্য | এই দুটি উপায়েই মাটি ছাড়া সব্জি চাষ সম্ভব | হাইড্রোপনিক্স উপায়ে মাটি ছাড়া জলের সাহায্যে বেড়ে ওঠে উদ্ভিদ এবং অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে জলের পরিমান কম থাকে ও বাতাসের মাধ্যম উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে | এই দুর্দান্ত কৌশলে সবজি চাষ করে আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যায় | যেখানে মাটির ঝামেলাও নেই আবার স্বল্প জল ব্যবহৃত হয়|

তবে, জেনে নিন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতির খুঁটিনাটি;

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কি (What is Aeroponics method)?-

প্রধানত, এটি হলো উদ্ভিদের শিকড়কে বাতাসে প্রকাশ করে উদ্ভিদের চাষাবাদ প্রক্রিয়া | এই পদ্ধতিতে  একটি উচ্চ-চাপযুক্ত, পুষ্টিকর সমৃদ্ধ কুয়াশা গাছগুলিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এবং শিকড়কে আরও সুষম জল, পুষ্টি এবং অক্সিজেন পরিপূরক সরবরাহ করে। উদ্ভিদগুলি কোনোরকম স্তর ব্যবহার না করেই জন্মায় |

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

সাধারণত, এখানে বায়ুবিদ্যার নীতিকে কাজে লাগিয়ে চাষ করা হয় | তাই. বায়ুবিদ্যার মৌলিক নীতিটি হলো ঝুলন্ত উদ্ভিদ প্রজাতির বর্ধিত বা অর্ধ-উন্মুক্ত উদ্ভিদের ঝুলন্ত শিকড় ও তার কাণ্ডের নিচের অংশ জলের দ্রবণে নিমজ্জিত থাকে | এটি সম্পূর্ণ একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া | বৃহত্তর উদ্ভিদের জন্য, আপনি গাছপালা এবং ফলের ওজনকে সমর্থন করতে কিছু ধরণের ট্রেলিস বা অন্য ধরণের উল্লম্ব সমর্থনও ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে সব্জি চাষ (Vegetables farming by Aeroponics method):

এই পদ্ধতিতে আপনি আপনার ছাদ-বাগানে খুব সহজেই শাক-সব্জি, ফল-মূল চাষ করতে পারেন | সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপাদন হয় | এখানে কোনো রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার হয়না | মাটির পরিবর্তে নুড়ি, পাথর নেওয়া হয় | লাউ, কুমড়ো, টমেটো প্রায় সব সব্জি চাষ করা হয় এই পদ্ধতি অবলম্বনে | মাছের চাষের সময় যে বর্জ্য উৎপাদিত হয় তা পাইপের মাধ্যমে চলে আসে সব্জি চাষের মধ্যে | এটাই সব্জির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় |

এই পদ্ধতিতে কোনো কিছুই নষ্ট হয়না | অনেক কৃষকরাই এই পদ্ধতিতে চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছেন | একই সময়ে, বায়বীয় যন্ত্রপাতি নিজেই একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এটি মাটি বিহীন এবং শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত সমর্থন কাঠামো অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভিদ এবং সহায়তার মধ্যে একটি ন্যূনতম মিথস্ক্রিয়া ফলে গাছের 100% বায়ুর সংস্পর্শে আসতে দেয়। তদতিরিক্ত, হ্রাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা শিকড়গুলির প্রাকৃতিক প্রসারণ বা বিশুদ্ধ জলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় না।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব:

এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত শাক-সব্জি সম্পূর্ণ জৈব | প্রধানত, এই পদ্ধতিতে চাষ রোগজীবাণু অনেকটাই কম হয় |উদ্ভিদ থেকে উদ্ভিদ যোগাযোগের পদ্ধতি প্রকৃতির দ্বারা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ থাকে যার থেকে রোগজীবাণু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ। এ্যারোপোনিক্সের কোনও সমস্যা নয় কারণ অন্যের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে আগে সংক্রামিত উদ্ভিদটি সমর্থন কাঠামো থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়। তার উপরে, প্রয়োজনে বাষ্পীকরণের প্রতিটি নাড়ি জীবাণুমুক্ত হতে পারে |অ্যারোপোনিকস এক নতুন ধরণের জৈব চাষের জন্ম দেয় যা সম্ভবত ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বাঁশ চাষে আপনিও হতে পারেন কোটিপতি, জেনে নিন সম্পূর্ণ পদ্ধতি

বাঁশ একটি সপুষ্পক, স্থায়ী এবং চিরসবুজ উদ্ভিদ, যা Poaceae এর ঘাস পরিবারের অন্তর্গত। এটি একটি বহুমুখী, শক্তিশালী, পুনর্নবীকরণযোগ্য | সেইসাথে পরিবেশ বান্ধব উপাদান যা সহজেই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে চাষ করা যায়। বাঁশকে পৃথিবীতে দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কাঠের উদ্ভিদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

ভারতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা ফসলের মধ্যে বাঁশ অন্যতম এবং এটি ‘দরিদ্র মানুষের কাঠ’ হিসেবেও পরিচিত | চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁশ উৎপাদনকারী দেশ। দেশে বার্ষিক বাঁশের উৎপাদন আনুমানিক ৩.২৩ মিলিয়ন টন |

এশিয়ায়, বাঁশ সংস্কৃতির সবচেয়ে সংহত অংশ এবং এটি কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রধানত নির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র, সজ্জা এবং পাতলা কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ভারত নিতান্তই খুব ভাগ্যবান যে এখানে বাঁশের উৎপাদন সবচেয়ে ভালো । সর্বোপরি, বাঁশের কান্ডগুলি খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয় এবং পুষ্টির ভাল উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। দেশের উত্তর -পূর্ব রাজ্যগুলি প্রধান বাঁশ উৎপাদনকারী রাজ্য। যদিও দেশে প্রায় ১৩৬ প্রজাতির বাঁশের অস্তিত্ব রয়েছে, তবুও তাদের মধ্যে কয়েকটি কেবল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব।

জলবায়ু(Climate):

বাঁশ বাগান গরম থেকে উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াতে ভাল জন্মায়। তবে এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে গ্রীষ্মে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় না | যেহেতু বাঁশের পাতলা শিকড় এবং যথেষ্ট বৃদ্ধি আছে, তাই এটিকে সবসময় শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ বা ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও, যে অঞ্চলে ঠান্ডা বাতাস আসে সেখানে বাঁশ চাষের জন্য উপযুক্ত নয় |কারণ শৈত্যপ্রবাহে বাঁশের পাতা শুকিয়ে মরে যেতে পারে |

মাটি(Soil):

সাধারনত, বাঁশগুলি কলম কাটিং বা রাইজোমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়। কিন্তু এগুলি বীজের মাধ্যমেও বংশ বিস্তার করা যায়, যা খুব কমই পাওয়া যায় | বাঁশের চারাগুলি মূলত নার্সারিতে বেড়ে ওঠে  এবং ১ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সেগুলিকে  মাটি ভর্তি পাত্রগুলিতে বাড়তে দেওয়া হয়। পরে চারা মূল জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়। রাইজোম রোপণ পদ্ধতিতে একটু যত্নের প্রয়োজন হয়। এখানে, শিকড় সহ ১ বছরের কলম খনন করে ১ মিটার আকারে কাটা উচিত এবং বর্ষায় রোপণ করা উচিত।

রোপণ পদ্ধতি(Plantation):

সাধারণত বর্ষায় বাঁশের চারা রোপণ করা হয়। ৬০*৬০ আকারের মাটিতে গর্ত খুঁড়তে হবে | ৫*৪  মিটারের জায়গায় নার্সারি থেকে নিয়ে আসা চারা রোপণ করতে হবে। ১ একর জমিতে প্রায় ২০০ টি বাঁশের চারা একসাথে লাগানো যেতে পারে | বাঁশ রোপণে বেড়ে ওঠার সময়কাল ৫ বছর। অতএব আদা, মরিচ বা হলুদের মতো সাথী ফসস্ল অনায়াসে চাষ করে কিছু অতিরিক্ত আয় করা যায় | তাই, প্রথম ৩ বছরের মধ্যে বাঁশের সাথে এই সাথী ফসলগুলি সহজেই চাষ করা যেতে পারে |

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

উচ্চ মানের এবং সর্বোত্তম ফলনের জন্য, সার ব্যবহার করা হয়। যখন মূল জমিতে চারা রোপণ করা হয় তখন সার এবং কীটনাশক গুরুত্বপূর্ণ | যেহেতু বাঁশ গাছগুলি ভারী খাদক, এমনকি খুব উচ্চ মানের মাটিও হার মেনে যাবে যদি এই চাষে সার প্রয়োগ করা না হয় | কিন্তু সবসময় ফসল তোলার পর সার প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং গাছে সেচ প্রদান করার আগে | পটাসিয়াম এবং নাইট্রোজেন সার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান | এই ২ সারের প্রয়োগে যার কারণে বাঁশ গাছ বেড়ে ওঠে। এছাড়াও অবশ্যই সবুজ সার, জৈব কম্পোস্ট, কাঠের ছাই এবং রাসায়নিক সার পরিমাণমতো ও প্রয়োজনমতো প্রয়োগ করতে হবে। পাতা কামড়ানো এবং পাতার রস চুষে খেয়ে নেওয়া পোকামাকড় দেখা যায় | তাই এই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ(Irrigation):

নার্সারিতে  বাঁশ জন্মানোর সময় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। নার্সারি থেকে মূল জমিতে চারা রোপণের সময় অবিলম্বে জল সরবরাহ করতে হবে। এটি অবশ্যই লক্ষ করা উচিত যে বাঁশের গাছ জলাবদ্ধতার জন্য সংবেদনশীল তাই বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যার সময় মাটি বের করতে হবে। জলের ভাল ব্যবহারের জন্য  ড্রিপ সেচ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে |

ফসল সংগ্রহ(Harvesting):

পঞ্চম বছর থেকে ফসল কাটা শুরু করা যেতে পারে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে, ৬ বছর থেকে ফসল তোলা আবশ্যক।  প্রথমবার  ষষ্ঠ বছরে ৬  টি কলম এবং এরপর ৭ বছরে ৭ টি কলম কত হয় এবং পরবর্তীতে এভাবে চলতে থাকে | ১  একর বাঁশ রোপণের জন্য ৫ বছরে  খরচ  প্রায় ৯৪০০  টাকা। বাঁশ চাষ থেকে ফলন এবং আয়, প্রতি ৬ বছর থেকে বৃদ্ধি পায়। অতএব আমরা বলতে পারি যে বাঁশ হল একটি লাভজনক ফসল যার দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম অর্থনৈতিক পুনরাবৃত্তি লাভ দেয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের ভালো ফলনের জন্য বীজ শোধনের পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গ আউশ, আমন ও বোরো এই তিন মৌসুমে প্রতি বছর ১৫-১৬ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদন করে। খরিফ ধান (আউশ ও আমন) মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ। বোরো ধান সাধারণত খাল বা সেচ সুবিধার উপর নির্ভরশীল জমিতে চাষ করা হয়। ধান চাষে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কৃষকের লভ্যাংশের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বৈজ্ঞানিক প্রথায় ও আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু খুটিনাটি বিষয়েও কৃষককে সচেতন থাকতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে মিলবে শতভাগ সফলতা। 

ভালো চারা তৈরীর একটি বিশেষ উপাদান হল ভালো বীজ। আমরা বীজ কিনে ভালো মন্দ বীজ পরখ না করে, বাছাই না করে সব বীজ বুনে দিই। বীজতলাতে আর চিটে বা স্বল্প পুষ্ট বীজ থেকে যে দুর্বল চারা বার হয় তাও মূল জমিতে রোপন করে দিই, কারণ একটা সময় পর সেই চারা তো আর আলাদা করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না । তাই সামান্য একটু সময় ব্যয় করে বীজ বাছাই করে নিয়ে তার সাথে সাথে যৎসামান্য খরচ করে বীজবাহিত রোগ থেকে বীজ কে মুক্ত করার লক্ষ্যে বীজ শোধন করে নিতে হবে ।

বীজ ধান বাছাই (Paddy seed sorting) – 

১.৩ কেজি খাদ্য লবন ৮ লিটার জলে দ্রবীভূত করে, তার মধ্যে বীজ ধান ঢেলে দিতে হবে। দ্রবণে ভেসে ওঠা অপুষ্ট ধান ফেলে দিতে হবে ও ডুবে যাওয়া পুষ্ট ধান বীজ হিসাবে উপযুক্ত বলে তা তুলে নিয়ে পরিষ্কার জলে ধোয়ার পর শুকিয়ে নিতে হবে ।

এইভাবে ৮ লিটার দ্রবণে ২০-৩০ কেজি বীজ ধান বাছাই করা যায় । এরপর প্রতি কেজি বীজ শোধনের জন্য ৪-৫ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি বা ২ গ্রাম ব্যাভিষ্টিন বা ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম -৪৫ (ম্যানকোজেব), ঝলসা প্রবন এলাকায় ১.৫ গ্রাম ট্রাইসাইক্লাজোল অথবা ব্যাক্টেরিয়া ধ্বসা প্রবণ অঞ্চলে ১ গ্রাম স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন প্রতি ১০ লিটার জলে মিশিয়ে শোধন করতে হবে । যদি বীজ শোধন না করেই বীজ ফেলা হয় সেক্ষেত্রে চারা তোলার পর লাগানোর পূর্বে গামলা বা বালতিতে ওষুধ গুলে তাতে ১০ মিনিট শিকড় ডুবিয়ে রোয়া করা যেতে পারে।

বেশ কিছু অঞ্চলে আগাছা একটা বিরাট সমস্যা । ভালো চারা তৈরী করতে গেলে বীজতলা আগাছামুক্ত রাখতে হবে । তার জন্য কয়েকটা বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে যেমন –

বীজতলা আগাছামুক্ত (Weed management) –

১) বীজতলার জন্য এমন জমি নিতে হবে যেখানে সাধারনভাবেই আগাছা কম হয় ।

২) অনেক সময় বীজতলায় জৈবসারের মাধ্যমে আগাছা বীজ চলে আসে, সে বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে, প্রয়োজনে নিজের জন্য জৈবসার নিজেই তৈরী করুন ।

৩) যে জমিতে বীজতলা তৈরী করবেন, বপনের ১৫ দিন আগে সেই জমি ভিজিয়ে ৭ দিন রেখে দিন, দেখা যাবে বেশ কিছু আগাছা বেড়িয়েছে তখন চাষ দিয়ে দিন এবং এর পর আরো ৭ দিন রেখে দিন । দেখা যাবে আরও কিছু আগাছা দেখা যাচ্ছে তখন মই ও লাঙল দিয়ে বীজতলার জমি তৈরী করুন ।

৪ ) নমিনিগোল্ড / অ্যাডোরা / মংআচো / তারাক এই আগাছানাশকটি ১ কাঠা বীজতলার জন্য মোট ৩ লিটার জলে ২ মিলি প্রয়োগ করুন। অর্থাৎ ১ বিঘা জমির জন্য ৬০ লিটার জল ব্যবহার করতে হবে আর ৪০ মিলি ঔষধ।

অনেকসময় বীজতলায় রোগ বা পোকার উপদ্রব দেখা যায় সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে পাদান ১ গ্রাম বা অ্যাসিফেট ০.৭৫ গ্রাম বা ট্রয়োজোফস ১ মিলি প্রতি লিটার জলে স্প্রে করা যেতে পারে। ঝলসা, বাদামী দাগ, গোড়াপচা ইত্যাদি রোগ লাগলে আইসোপ্রোথিওলেন ১ মিলি, বা ট্রাইসাইক্লাজোল (বীম বা টুপার) ০.৫ গ্রাম অথবা সাফ বা কমপ্যানিয়ান ২ গ্রাম প্রতি লিটার জলে স্প্রে করুন ।

চারা তোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা – 

চারা তোলার সময় মোটামুটি যত মাসের ধান তত সপ্তাহের চারা তুলতে হবে। তার আগে হলে আরো ভালো কারণ সুস্থ সবল কম বয়সী চারাই আমাদের উদ্দেশ্য । চারা তোলার ৬-৮ ঘন্টা আগে বীজতলায় ১০ সেমি জল রাখতে হবে। চারা তোলার ২ দিনের মধ্যে অবশ্যই রোয়া করা উচিৎ ।

অনেক সময় পোকার ডিম বা রোগ থেকে চারাকে মুক্ত করার জন্য চারার ডগার দিকে কিছুটা ছিঁড়ে ফেলা হয়। যেভাবে চার তোলা হয় অনেকসময়ই প্রচুর চারার শিকড় ছিঁড়ে যায় এবং এই অবস্থাতেই আমরা মূল জমিতে রোয়া করি । বীজতলা তো সামনা একটু জায়গা । তাই বীজতলাতে ভালো করে বেশী বেশী করে জৈবসার দিয়ে ভালো করে মাটি তৈরী করতে হবে যাতে মাটি আলগা থাকে, চারার বৃদ্ধি ভালো হয় আবার চারার শিকড় অটুট থাকে। ভালো ফলনের জন্য ভালো চারা সবচেয়ে জরুরী । সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী নজর দিতে হবে।

সবশেষে কৃষক বন্ধুদের জন্য বৈজ্ঞানিকদের পরামর্শ হল –

সুস্থ সবল মোটা চারা তৈরী করুন, শিকড় সমেত কম বয়সী চারা ফাঁকা ফাঁকা রোয়া করুন আর গুছিতে কম চারা দিন যাতে আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগীতা কম হয় এবং ভালো ফলন নিশ্চিত করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com