আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগে গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদেরা

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক দুই গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন এবং ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের কার্যক্রম ও পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন

কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদগণ।

বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সারাবিশ্ব এখন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে। বাংলাদেশে মার্চের শুরুতে এর সংক্রমণ শুরু হলেও ইতোমধ্যেই সারাদেশে এর বিস্তার হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিকাজ ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক দুই গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন এবং ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের কার্যক্রম ও পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই প্রকল্প করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ে আরও অধিক কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে শহরাঞ্চলের অনেক ভাসমান মানুষ গ্রামে চলে গেছে। এই গ্রামমুখী দরিদ্র মানুষকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতির ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এ জন্য আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও আশ্রয়ণ প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা উচিৎ।”

তিনি দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারাতে আনার জন্য আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রকল্পটির সঠিক বাস্তবায়ন দেশের দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনের জন্য, আমাদের সুবিধাভোগী বাছাই, সেবা প্রদান এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের উপর বিশেষ জোর দিতে হবে।”

“আমার বাড়ি আমার খামার” প্রকল্প দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সরকার এই প্রকল্পের আওতায় তহবিল সংগ্রহ করে এবং খামার গড়ে তোলার মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের পরিচালক আকবর হোসেন বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের মূল লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে এই প্রকল্প গ্রামীণ হতদরিদ্রদের স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ২০৪ টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৮ টি পরিবারের প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে তাদের জীবনমান উন্নত করার প্রচেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা ২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রায় ১,৮৬৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছে এবং সরকার এই সঞ্চয়ের সঙ্গে ১,৬১৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে পুঁজি গঠনে সহায়তা করছে, প্রশিক্ষণ এবং উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলছে এবং উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে একত্রে বসার সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে চাহিদাভিত্তিক ছোট-ছোট পারিবারিক খামার গড়ে তুলছে। প্রকল্পের আওতায় এসব খামারে উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য প্রকল্পটি চালু করেছে। যাতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে বিশাল জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করা যায়। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে এবং তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে সক্ষম হয়েছে।

এই প্রকল্পে সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে। একেকটি গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৬০ সদস্যের ৪০ জন সদস্যই নারী। গ্রাম উন্নয়ন সমিতির প্রতিটি সদস্য প্রতিমাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করে এবং প্রতিমাসে সরকার তাদের সমপরিমাণ টাকা বোনাস দেয়। এই টাকা প্রকল্পাধীন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়।

আকবর হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট সমিতির মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ঋণের টাকা পাওয়ার পর প্রতিটি গরীব পরিবারের সদস্যরা মৎস্য, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগির খামার, নার্সারি ও উদ্ভিজ্জ বাগান হিসাবে ছোট খামার গড়ে তোলে। ফলে, নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি ইঞ্চি ভূমি কৃষি উৎপাদনের জন্য দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাদের খামারের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে সেই আয় থেকে প্রতিটি সদস্য সমিতির ঋণ পরিশোধ করে। এভাবে এই দরিদ্রদের দ্বারা গড়ে তোলা তহবিল স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

আকবর হোসেন বলেন, এভাবেই এটি একটি দারিদ্র্য বিমোচনের চক্র হিসাবে কাজ করছে এবং এর মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের চির অবসান ঘটবে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ২০০৯ সালে ১,৪৯২ কোটি টাকা নিয়ে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের সফলতা বিবেচনা করে ২০১৬ সালে প্রকল্পের বরাদ্দ ৮,০১০.২৭ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে সংশোধিত প্রকল্প গৃহীত হয়।

বর্তমান সরকার ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে বর্তমান মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রকল্পের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে “আমার বাড়ি আমার খামার” করা হয়।

এগ্রোবিজ

ডিমের দাম কমেছে, আলু আগের মতোই

লেখক

বাজার আসছে শীতের নানা সবজি। বাজারে এসব সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে আলু কিনতে আগের মতোই চড়া দাম গুনছেন ক্রেতারা। মাছ, ডিম ও মুরগির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম, বরবটি, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমসহ নতুন অনেক শীতের সবজি বাজারে এসেছে। এসব সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এতে সবজির দামও কমে এসেছে বলে জানান বিক্রেতারা।

আগের সপ্তাহে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়া করলা, শিম ও বরবটির কেজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। বৃহস্পতিবার মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে শিমের কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বেগুন ও কাঁচা টমেটোর দাম কমে এদিন বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির মুলা ও পেঁপের দাম কমে ২০ থেকে ৩০ টাকায় নেমেছে। একইভাবে অন্যান্য সবজির দামও কিছুটা কমেছে। প্রতিটি লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি এখন ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালশাক, পালংশাক ও লাউশাকের আঁটি আগে ১৫ থেকে ৩০ টাকা ছিল। এখন তা কমে পাঁচ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। প্রতি কেজি পুরোনো গোল আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় স্থির রয়েছে। নতুন আলুর দাম কিছুটা কমে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কলি বাজারে এসেছে।

মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভালো দাম পেতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগাম তুলে বাজারে ছাড়ছেন চাষিরা। এ পেঁয়াজ গাছসহ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৫০ টাকা কেজিতে। মিরপুরের উত্তর পিরেরবাগ বাজারে এই পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নতুন পেঁয়াজ গাছ বাজারে আসার আগেই আমদানি পেঁয়াজের চাপে দাম কমেছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে আমদানি করা চীনা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কমেছে। প্রতি ডজন ডিম এখন ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এ ছাড়া মাছের দামও তুলনামূলক কম। প্রতি কেজি মাঝারি রুই ২২৫ থেকে ৩০০ টাকা ও কাতলা ২২০ থেকে ২৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। পাঙাশের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। খালবিল শুকিয়ে আসায় অন্য মাছও বাজারে প্রচুর আসায় তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

১ কেজি নতুন আলুর দাম ৮০ টাকা

নীলফামারীতে জমি থেকে আগাম আলু উত্তোলনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখানকার আগাম আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আগাম আলু চাষের জন্য বিখ্যাত নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলা। দেশের আগাম আলুর সিংহভাগ উৎপাদন হয় এখানে। আগাম আমন ধান কাটার পর এখানকার কৃষকরা এক খণ্ড জমিও পতিত রাখেন না। মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উৎপাদিত সেভেন গ্র্যানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করেছে এখানকার কৃষকরা। মাঠে এখন আগাম আলু তোলার ধুম পড়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার। শুরুতে দাম ভালো পাচ্ছেন আলু চাষিরা। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একদিকে চলছে আলু উত্তোলনের কাজ, অন্যদিকে কেউ কেউ মৌসুমি আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত, আবার কেউবা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষি স্বপন বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে আগাম আলু উৎপাদন করে পেয়েছেন ৭৮০ কেজি, যা ৮০ টাকা কেজি দরে ফসলের মাঠেই বিক্রি করেছেন। আগাম আলু আবাদে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি এই আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। এতে তার লাভ হয়েছে ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের খালিশা খুটামারা গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে এ বছর আলু চাষ করেছি। আলুর বয়স এখন ৫৫ দিন। আরও ১০ দিন পরে আলু তুলবো। এবার আলু দাম বেশ ভালো। তিনি বলেন, দুদিন আগে দেড় বিঘা জমির আলু তুলে বিক্রি করেছি ৯০ টাকা কেজি দরে। ওই আলু একদিনের ব্যবধানে কমেছে ১০ টাকা কেজিতে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার পোড়াকোট গ্রামের আলু চাষি লুৎফর রহমান (৪২) বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে এবার আলু চাষ করেছি। আগাম আলুর দাম ভালো থাকায় এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করেছি ৮৫ টাকা কেজি দরে। এতে তার ব্যাপক লাভ হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা খেতে এসে নগদ টাকায় আলু নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী রোস্তম আলী জানান, নীলফামারীতে আগাম আলু উঠতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও এখন আলুর প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হচ্ছে। আগাম আলু ট্রাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার আগেই নীলফামারীর আগাম আলু উঠে এবং আগাম বাজারদরে লাভবান হন এখানকার কৃষকরা।

চলতি বছর এ জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ২৫ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন। এ জেলায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম আলু উঠবে। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আলুর ভরা মৌসুমে বাম্পার আলু বেশি পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিলাররা সহযোগিতা না করলে মজুত আইনে পরিবর্তন আনবে সরকার

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, সরকারি গুদামে চাল না দিলে মিলারদের (চালকলমালিক) বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রয় নীতিমালা ও খাদ্যপণ্য মজুত আইনে পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং ধান-চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, বাংলাদেশ চালকল ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি লায়েক আলী, নওগাঁ জেলা ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোধ বরণ সাহা, নওগাঁ জেলা চালমালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার। এ ছাড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ধান-চাল ব্যবসায়ীরাও সভায় বক্তব্য দেন।

সরকারিভাবে চালের মজুত ঠিক রাখতে ইতিমধ্যে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এখনো অনেক মিলমালিক সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার জন্য চুক্তি করেননি। ইতিমধ্যে দেড় লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও চাল আমদানি করা হবে। তবে চাল আমদানির ফলে কৃষকেরা ক্ষতির শিকার হন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

বর্তমানে একটি মিলে পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতার পাঁচগুণ ধান-চাল মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে। এর জায়গায় ধান-চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি মিল পাক্ষিক ছাঁটাইক্ষমতার তিনগুণ ধান-চাল মজুত রাখতে পারবে, এ ধরনের আইন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার, খাদ্যমন্ত্রীবিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের লাভ-ক্ষতির কথা চিন্তা করে চাল আমদানি যাতে বেশি না হয়, সে জন্য সরকার বেসরকারিভাবে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করছে। এ জন্য সরকার নিজেই এবার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল আমদানি করা হবে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মিলাররা সরকারকে চাল দিয়ে সহযোগিতা না করলে সরকার ধান-চাল ক্রয়ে নীতিমালায় পরিবর্তন আনবে। ইতিমধ্যে ভারতের ধান-চাল সংগ্রহ নীতিমালা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারতের সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী মিলারদের পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতা অনুযায়ী সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল দিতে বাধ্য করা হবে। এ ছাড়া মিলে ধান-চাল মজুত আইনেও পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমানে একটি মিলে পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতার পাঁচগুণ ধান-চাল মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে। এর জায়গায় ধান-চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি মিল পাক্ষিক ছাঁটাইক্ষমতার তিনগুণ ধান-চাল মজুত রাখতে পারবে, এ ধরনের আইন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সভায় মিলমালিকদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে চালের ক্রয়মূল্য ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং আমন চাল ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২৬ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার দাবি তোলা হয়।

কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মৌসুমের শুরুতেই ধান-চালের দর বেঁধে দেওয়া এবং সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করায় সুফল পাচ্ছেন কৃষকেরা। কয়েক বছর ধরে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যুগোপযোগী ও সময়মতো উদ্যোগ নেওয়ায় কৃষকেরা এখন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

এদিকে সভায় মিলমালিকদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে চালের ক্রয়মূল্য ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং আমন চাল ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২৬ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার দাবি তোলা হয়। চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, ধানের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১ কেজি চাল আমদানি করতে ৩৮-৪০ টাকা পর্যন্ত উৎপাদন খরচ পড়ছে। সেই জায়গায় সরকারকে ৩৭ টাকা দরে চাল দিতে গিয়ে পরিবহন খরচসহ মিলমালিকদের ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বগুড়ায় গুদামে চাল দিতে পারবেন না ৭৪৩ কলমালিক

বগুড়ায় চলতি আমন মৌসুমে ৭৪৩ জন চালকলের মালিককে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বোরো মৌসুমে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও গুদামে চাল না দেওয়ায় ৩২২ জনকে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আর বোরো মৌসুমে চাল সরবরাহের চুক্তি না করায় আরও ৪২১ জনকে নিষিদ্ধ করা হয়।

চলতি আমন মৌসুমে বগুড়ায় সরকারি গুদামে চালকলমালিকদের কাছ থেকে ৪৮ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ১১ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন আমন ধান কেনা হবে। গত রোববার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম দুপচাঁচিয়া উপজেলা খাদ্যগুদামে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে এবার ১১ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন কৃষক গুদামে সর্বোচ্চ ৬ মেট্রিক টন ধান দিতে পারবেন। এবার ১ কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা। বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চুক্তিবদ্ধ চালকলমালিকদের কাছ থেকে ৪৮ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন চাল কেনা হচ্ছে। ১ কেজি মোটা চাল সরবরাহের জন্য চালকলমালিকদের ৩৭ টাকা দেওয়া হবে। ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন কলের মালিকেরা। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুদামে ধান ও চাল সরবরাহ করা যাবে। এই সংগ্রহ অভিযানে ৭৪৩ জন কলমালিককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২২ জন মালিকের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

একই সূত্রে আরও জানা যায়, বগুড়ায় ১ হাজার ৯৬০টি চালকল রয়েছে। গত বোরো মৌসুমে গুদামে চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে দেড় হাজার জন হাস্কিং মিলমালিক ও ৫৬ জন অটোমেটিক চালকলের মালিক চুক্তিবদ্ধ হন। চালের বাজারমূল্য বেশি—এমন অজুহাতে গত মৌসুমে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেনি ৪২১ জন মালিক। গেল মৌসুমে বোরো চাল সংগ্রহ করার কথা ছিল ৭১ হাজার ৮৪৮ টন। এর মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। ৩৬ টাকা কেজি দরে সেদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য ২৬ এপ্রিল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৩২২ জন মালিক চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করেনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com