আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে প্রায় ৩১ কেজি ওজনের একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। এটি চলতি মৌসুমে পদ্মায় ধরা পড়া সবচেয়ে বড় মাছ বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

আজ শুক্রবার ভোরের দিকে মাছটি উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন এলাকায় ধরা পড়ে। পাবনার আমিনপুর থানার ঢালারচর এলাকার জেলে মোস্তাক হালদারের জালে মাছটি ওঠে বলে দৌলতদিয়া ঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

দৌলতদিয়া ঘাট থেকে নিলামে মাছটি ৯৫০ টাকা কেজি ধরে কেনেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. মাসুদ মোল্লা। পরে তিনি ঢাকার গুলশানের এক ব্যবসায়ী কাছে এক হাজার টাকা কেজি ধরে তা বিক্রি করেন।

মাছ ব্যবসায়ী মো. মাসুদ মোল্লা বলেন, তিনি মাছটি দৌলতদিয়া ঘাটের কেছমত শেখের আড়ত থেকে কেনেন। ওই আড়তে মাছটির নিলাম হয়েছিল।

জেলে মোস্তাক হালদারের বরাত দিয়ে মাসুদ মোল্লা বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোস্তাক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে পদ্মায় ‘গাইল্যা ফাইস্যা’ জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করেন। তাঁরা উজানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় জাল ফেলে নৌকায় বসে ভাটির দিকে ভাসতে থাকেন। এরপর ভোরের দিকে তাঁদের নৌকা গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের সীমানায় গভীর খারে (মাছ বসবাসের উপযোগী স্থান হিসেবে পরিচিত) পৌঁছায়।

মাসুদ মোল্লা জানান, ওই খারে পৌঁছার পর মোস্তাকরা জাল তুলতে শুরু করেন। জাল তোলার শুরুতেই তাঁরা ভারী ঝাঁকি অনুভব করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর মোস্তাকরা নৌকার কাছে জাল গোটাতে সক্ষম হন। সূর্য ওঠার পর তাঁরা দৌলতদিয়া ঘাট-সংলগ্ন বড় মাছের বাজারে বাগাড়টি নিয়ে আসেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ৫ নম্বর পন্টুনের সঙ্গে মোটা রশি দিয়ে মাছটি বেঁধে পানিতে রাখা হয়েছে। কিছু উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় করে। মাছটি তখন বিক্রির জন্য আড়তে আনা হয়। মাসুদ মোল্লা জানান, তিনি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এখন তা দ্রুত ঢাকায় পাঠাতে হবে।

এ সময় মাছ দেখার পাশাপাশি নিজের মুঠোফোনে ভিডিও করছিলেন ঢাকাগামী একটি বাসের যাত্রী মো. আবুল কালাম। তিনি বলেন, বাসের জানালা দিয়েই তিনি মাছটি দেখতে পেয়েছেন। তাই তিনি বাস থেকে নেমে এসেছেন। এত বড় মাছ এর আগে তিনি কাছ থেকে দেখেননি বলে জানান।

উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, এই মৌসুমে পদ্মা নদীতে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের মাছ পাওয়া যাবে। তবে এত বড় মাছ এই মৌসুমে প্রথম ধরা পড়ল। তিনি জানান, সাধারণত কৌনা, ফাইস্যা জালে এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ে থাকে।

বাংলাদেশ

সরকারি পুকুরে ‘মামার’ পরিচয়ে চলছে মাছ চাষ

৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় পুকুরে পানি শোধনাগার হওয়ার কথা। সে প্রকল্প চলমান অবস্থাতেই দখল করে মাছ চাষ হচ্ছে।

পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া গ্রামের সরকারি সদুল্যাপুর পুকুরে নেওয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প। প্রকল্পে পুকুর খনন, বাঁধ নির্মাণ, ইটের তৈরি হাঁটার পথ, সংযোগ সড়ক ও বনায়ন রয়েছে। ইতিমধ্যে পুকুরটি খননের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কাজও চলমান। এ অবস্থায় পুকুরটিতে মাছ চাষ করছেন দুই ছাত্রলীগ নেতা। পুকুরপাড়ে করছেন কলা ও সবজি চাষ।

ওই দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক সজিব হোসেন ও সদস্যসচিব মুন্না বিশ্বাস। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সজিব হোসেন বলেন, পুকুরটি জেলা পরিষদের। জেলা পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইকবাল হোসেন এবং জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এম এ মঞ্জুরের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে তিন বছর ধরে মাছ চাষ হচ্ছে। আর জেলা পরিষদের সদস্য ইকবাল হোসেনকে মামা পরিচয় দিয়ে মুন্না বিশ্বাস বলেন, ‘পুকুরগুলো ইকবাল মামার অধীন। পুকুরটিতে পানি শোধনাগার হবে। যখন কাজ শুরু হবে, তখন পুকুরটি ছেড়ে দেব।’

এ প্রসঙ্গে ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ সেখানে মাছ চাষ করছে। মাছ চাষের জন্য একজন মৌখিকভাবে বলেছিল। কিন্তু কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।’ আর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এম এ মঞ্জু বলেন, সরকারি পুকুরে মাছ চাষের অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মৌজায় সদুল্যাপুর পুকুরটি অবস্থিত। পুকুরটিতে পানি সংরক্ষণ এবং এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০১৮ সালে পুকুরটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, ৩০ লাখ ১২ হাজার ৩২৪ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ করছে যশোরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৭ মার্চ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরের চারপাশের সীমানা ঘেঁষে সিমেন্ট, বালু ও লোহার রড দিয়ে তৈরি কংক্রিটের অনেকগুলো পিলার। এর সঙ্গে তার টানিয়ে সীমানাপ্রাচীর তৈরি করা হয়েছে। পুকুর ও রাস্তার মাঝের জায়গায় কলা, মানকচু, বেগুন চাষ করা হচ্ছে। সম্প্রতি লাগানো বেশ কয়েকটি নারকেল ও নিমের চারা চোখে পড়ল। পুকুরটি খনন করা হয়েছে। তবে কাজের কোনো সাইনবোর্ড চোখে পড়েনি।

পুকুরের পানিতে বড় পলিথিন ভিজিয়ে পরিষ্কার করছিলেন বসুন্দিয়া গ্রামের ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, পুকুরটি সাত-আট মাস আগে খনন করা হয়েছে। আর সীমানা দেওয়া হয়েছে দুই মাস আগে। খননের আগ থেকেই সজিব ও মুন্না মাছ চাষ করতেন। খননের পর পুকুরটি শুকনা ছিল। শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি ভরে সেখানে পুনরায় সজিব ও মুন্না মাছ চাষ করছেন। তাঁরা পুকুরের চারপাশে কলাগাছ ও বিভিন্ন রকমের সবজি লাগিয়েছেন। এলাকাবাসীও এই পুকুরের পানি ব্যবহার করেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ বলেন, ‘পুকুরটিতে মাছ চাষের ব্যাপারে জেনেছি। মাছ থাকায় পুকুরে পানি শোধনাগারের কাজ শুরু করতে সমস্যা হচ্ছে। পুকুর থেকে মাছ তুলে নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে জেলা পরিষদে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিষখালী-পায়রা-বলেশ্বরে ইলিশের অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব

প্রস্তাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশ। এরই মধ্যে পানির গুণাগুণ ও খাবার পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • বিষখালীতে অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে ৩৮ কি.মি। নদীর নিম্নাংশ মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
  • প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলের ইলিশ নিয়ে বড় ধরনের অনুসন্ধান হবে।

বরিশাল অঞ্চলের তিনটি প্রধান নদ-নদী বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বরের ইলিশের স্বাদ, পানি ও খাবারের গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কার্যক্রমের প্রাথমিক অগ্রগতি হিসেবে এই তিন নদ-নদীতে তিনটি পৃথক ইলিশের অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকোফিশ প্রকল্প-২–এর গবেষকেরা।

সংস্থাটির গবেষকেরা জানান, এরই মধ্যে তিনটি নদীর পানির গুণাগুণ ও কী ধরনের খাবার রয়েছে, তা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইলিশের জীবনচক্র ও স্বাদের কারণও অনুসন্ধান করবেন তাঁরা। এ জন্য এসব নদ–নদীর পানি, মাছের খাদ্যকণা প্ল্যাঙ্কটন (পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র জীব) ও ইলিশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের একজন এবং পানি, খাদ্যকণার গুণাগুণ পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে যুক্ত করা হচ্ছে। পুরো গবেষণাকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইকোফিশ প্রকল্পের দলনেতা ও মৎস্য বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবদুল ওহাব।

সম্প্রতি প্রথম আলোতে ‘বিষখালী নদীতে ইলিশের ভান্ডার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে বলে জানায় ইকোফিশের গবেষক দল। এরপর বিষখালীসহ সংযুক্ত তিন নদ-নদীর ইলিশের স্বাদ, জীবনচক্র এবং পানির গুণাগুণ ও জীববৈচিত্র্য গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক গবেষণার পর এই তিন নদীর ইলিশ সম্প্রসারণ, বিচরণ ও বেড়ে ওঠার বিষয়টি নির্বিঘ্ন করতে আলাদা তিনটি অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব তৈরি করে দলটি। অভয়াশ্রমের মানচিত্রও তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মানচিত্র অনুযায়ী বিষখালীর নিম্ন-মধ্য অঞ্চল প্রস্থে বড় এবং স্রোত বেশি। নদীটির মধ্যাঞ্চল মাছ ও চিংড়ির বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় অভয়াশ্রম ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর নিম্নাংশ মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে ৩৮ কিলোমিটার। এর উত্তর-পূর্বে বরগুনার বেতাগী লঞ্চঘাট, উত্তর-পশ্চিমে ঝালকাঠির কচুয়া ফেরিঘাটের দক্ষিণ মাথার বাঁক, দক্ষিণ-পূর্বে বরগুনা সদরের বড়ইতলা ফেরিঘাট ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনার বাইনচটকি ফেরিঘাট।

ইকোফিশের গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলের ইলিশ নিয়ে বড় ধরনের অনুসন্ধান হবে।

আনিসুর রহমান, বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক

পায়রা নদীর অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এর উত্তর-পূর্বে পটুয়াখালীর পায়রা কুঞ্জ ফেরিঘাট, উত্তর-পশ্চিমে মৃধা বাড়ি রোড ফেরিঘাট, দক্ষিণ-পূর্বে বরগুনার আমতলী ফেরিঘাট ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা সদরের পুরাঘাটা ফেরিঘাট।

বলেশ্বর নদে জাটকার বিচরণক্ষেত্রের ভিত্তিতে উপরি অংশে অভয়াশ্রম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ কিলোমিটার। উত্তর-পূর্বে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া মসজিদ পয়েন্ট, উত্তর-পশ্চিমে পিরোজপুর সদরের দক্ষিণ গাজীপুর মাদ্রাসা এলাকা, দক্ষিণ-পূর্বে পিরোজপুরে মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়া স্টিমারঘাট ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বাগেরহাটের রায়েন্দা শিপইয়ার্ড।

আবদুল ওহাব প্রথম আলোকে বলেন, বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বরের ইলিশ সম্পদ নিয়ে এত দিন ধারণা কম ছিল। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক গবেষণায় এই তিন নদ-নদীতে ইলিশের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ইকোফিশের গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলের ইলিশ নিয়ে বড় ধরনের অনুসন্ধান হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ইলিশ ধরা ২২ দিন বন্ধ

মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার লক্ষ্যে টানা ২২ দিন সাগর, নদ–নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়। নিষেধাজ্ঞার এই সময় ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জেলেপ্রতি ২০ কেজি করে সরকারি সহায়তার চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কঠোর নজরদারি থাকবে প্রশাসনের।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই তীরে ফিরতে শুরু করেছেন বরিশাল, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, ইলিশ শিকারিরা। অনেক জেলে এর মধ্যে ফিরে এসেছেন, বাকিরা দ্রুতই ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছেন জেলা ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা।

প্রতি বছরই এ সময় ইলিশ ধরা বন্ধ করা হয়। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য এ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

বরিশালের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান তালুকদার গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বিভাগের সড়ক, মহাসড়ক ও নদীগুলোতে আজ থেকে প্রশাসন তল্লাশি চালাবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিলুপ্তপ্রায় ২৩ প্রজাতির দেশীয় মাছ পুনরুদ্ধার

বিলুপ্তপ্রায় ২৩ প্রজাতির দেশীয় মাছ পুনরুদ্ধার

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

লইট্টায় ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা

চট্টগ্রাম ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার গবেষকের গবেষণা। জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ সার্ডিন ও চিংড়ির দেহেও ক্ষতিকর এই বস্তু।

দেশে শুঁটকির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল বিক্রীত হচ্ছে লইট্টা। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামানের দেওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার উপকূলে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হয়। এর এক-তৃতীয়াংশ লইট্টা শুঁটকি।

গবেষক দলের সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক কণাকে আগামী দিনের জন্য অন্যতম ক্ষতিকারক উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সাবধান হতে হবে। কারণ এটি ঘুরেফিরে আমাদের দেহে প্রবেশ করছে।’

গবেষক দলের সদস্যদের ভাষ্য, যেসব প্রাণীর দেহে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে লইট্টা। এই মাছ শুঁটকি করার সময় এর পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র কেটে ফেলা হয় না। ফলে প্লাস্টিক কণাসহ সেটি শুঁটকিতে পরিণত হয়। খাবারের সঙ্গে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

যদিও সার্ডিন রান্না করার ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্র ফেলে দেওয়া হয়। তবে হোটেলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বড় চিংড়ি রান্না করার ক্ষেত্রে খোলস রেখে দেওয়া হয়। ফলে প্লাস্টিক কণা ওই খোলসের মধ্যে থেকে যায়। রান্নার সঙ্গে সেটিও প্রবেশ করে মানবদেহে।

সরকারের সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরিফ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সামুদ্রিক মাছের পরিমাণ ও ধরন নিয়ে জরিপ করছি। তাই সেখানকার মাছের মধ্যে যাতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমাদের আগে থেকে সাবধান হতে হবে। জেলেরা যাতে নৌকায় করে প্লাস্টিক সামগ্রী না নেয়, জাহাজ থেকে প্লাস্টিক সামগ্রী সাগরে ফেলা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লইট্টা মাছের ভরা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জেলেরা নৌকা ভর্তি করে লইট্টা নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছেন। এর বেশির ভাগেরই গন্তব্য শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত কারখানা। দেশের একদল গবেষক জানাচ্ছেন, অনেকের পছন্দের এই মাছের মধ্যে নতুন এক বিপদ লুকিয়ে আছে। এর পরিপাকতন্ত্রে পাওয়া গেছে প্লাস্টিক কণা, যা মানুষসহ যেকোনো প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার গবেষক বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত ওই মাছের পেটে খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিক কণা পেয়েছেন। ক্ষতিকর এই বস্তুটি পাওয়া গেছে সামুদ্রিক মাছ সার্ডিন ও চিংড়ির দেহেও। সামুদ্রিক সবুজ শামুক ও কাঁকড়ার পাকস্থলীতেও প্লাস্টিক কণা পেয়েছে গবেষক দলটি।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক কণা যেকোনো প্রাণীর জন্যই ক্ষতিকারক। ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, হজমের সমস্যাসহ নানা ধরনের রোগের কারণ হতে পারে কৃত্রিম উপাদানটি, যা নিয়মিতভাবে খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে আরও নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

লইট্টা ও সার্ডিনের ওপর করা গবেষণাটি সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট আর চিংড়ির ওপর করা গবেষণাটি ক্যামোস্ফেয়ার নামের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি গবেষণা দুটি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

গবেষক দলটি জানিয়েছে, প্লাস্টিক কণা মাছসহ অন্যান্য জৈব উপাদানের মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে, যা জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, মেক্সিকোসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের উপকূল থেকে আহরিত মাছে মাত্রাতিরিক্ত পাওয়া গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এত দিন এ বিষয়ে কোনো গবেষণা ছিল না। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক গবেষণা শুরু হলেও শেষ হয়নি।

ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। পণ্যের মোড়কসহ নানা কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের সামগ্রী যাতে যত্রতত্র ফেলা না হয় এবং তা সংগ্রহ করে যাতে পুনর্ব্যবহার করা যায়, সে ব্যাপারে কাজ করছি। এসব পণ্যের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কাজে আমাদের সহযোগিতার পরামর্শ দিচ্ছি।’

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারওপ্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com