আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

গায়ে আগুন লাগলে সাথে সাথে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি

বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরণের অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষ হতাহত হয়।
বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরণের অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষ হতাহত হয়।

২০০৪ সালে রান্না করতে গিয়ে গ্যাস স্টোভ থেকে গায়ের কাপড়ে আগুন লাগে সোমা দত্তের।

বিবিসি বাংলাকে সোমা দত্ত বলেন, কাপড়ে আগুন লাগার পর নিজেই সেটি নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন যখন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না তখন সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে শুরু করেন।

ওই সময়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী। তিনিও আগুন নেভাতে চেষ্টা করেন।

“কিন্তু ওই মুহূর্তে আসলে কি তাৎক্ষণিক বোধ শক্তি কাজ করে না। রান্নাঘরের সামনেই জল ছিল। আমরা কেউই নজর করিনি। আমার হাজবেন্ড দৌড়ে বাথরুম গিয়ে জল এনে ঢালতে শুরু করে। ততক্ষণে আগুনে অনেকটা পুড়ে যায়।”

সোমা দত্ত বলেন, তার শরীরের ২৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল মারাত্মক ক্ষত।

তিনি জানান, অন্তত দুটি হাসপাতাল ঘুরে শেষমেশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে।

তবে এর মধ্যে আগুন লাগার পর তার শরীরে অনেক ঠাণ্ডা পানি ঢালা হয়েছিল।

“জ্বলুনিটা কমানোর জন্য আর শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য প্রচুর ঠাণ্ডা পানি ঢালা হয়েছিল। এর ফলে যেটা হয়েছিল সেটা হচ্ছে ভেতরে মাংস সেদ্ধ হওয়াটা রোধ করা গিয়েছিল,” সোমা দত্ত বলেন।

শুধু তিনি নন, বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরণের অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষ হতাহত হয়।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব মতে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ২৪ হাজার ৭৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আবাসিক গৃহে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে আট হাজারের বেশি।

এই সময়ে আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৮৪ জন। আর আহত হয়েছে ৫৬০ জন।

কতটুকু পোড়াটা বিপজ্জনক?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য মতে, বড়দের ক্ষেত্রে শরীরের ১৫ শতাংশ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে যদি শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যায় তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়।

তবে খুব কম বয়সী শিশু বা নবজাতক এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরিমাপ সব সময় খাটে না। এসব এক্ষেত্রে ১০ কিংবা ১৫ ভাগের চেয়ে কম পুড়ে গেলেও অনেক সময় তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

পোড়া অংশের পরিমাণ যত বেশি হবে মৃত্যুর আশঙ্কা তত বেড়ে যাবে। এছাড়া এটা বয়সের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে কম পরিমাণ পোড়াও প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি’র সহকারি অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে ৩০% এর কম পোড়াটাও বিপদজনক।

“যখন পোড়াটা অনেক গভীর হয়, রোগী যখন অনেক বেশি বয়স্ক থাকে কিংবা খুব কম বয়সী থাকে, রোগীর যদি অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা থাকে, যারা অনেক মোটা থাকে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, এসব ক্ষেত্রে পোড়ার পরিমাণ খুব বেশি না থাকলেও অবস্থা অনেক বেশি খারাপ হয়ে যায়।”

শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।

শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।
শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।

মানবদেহকে ১০০ ভাগ ধরা হয়। এর মধ্যে ১৫% এর বেশি পুড়ে গেলে অবস্থা খারাপ হওয়া শুরু হয়। এটা ৩০ ভাগের বেশি হলে সেখানে এক্সটেনসিভ ট্রিটমেন্ট (বিশেষ চিকিৎসা) দরকার হয়।

শরীরের ৪০ ভাগের বেশি পুড়ে গেলে সেই রোগীকে ক্রিটিক্যাল বা সংকটাপন্ন বলে ধরা হয়।

“আর ৭০ ভাগের বেশি হলে ধরে নেয়া হয় যে তার বাঁচার আশা নেই বললেই চলে।”

আগুনে পোড়ার হিসাব কিভাবে হয়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পুড়ে যাওয়া পরিমাপ করতে পুরো দেহকে ১০০ ভাগ ধরা হয়। এর পর বিভিন্ন অংশকে আলাদা ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন, আঙুল খোলা রেখে পুরো হাতের তালু মিলে এক ভাগ ধরা হয়।

পোড়া যদি ছোট আকারের হয় তাহলে তা পরিমাপের ক্ষেত্রে ওই অংশটি হাতের তালুর কতগুণ সেটা হিসাব করা হয়।

সংস্থাটির মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মানুষের পুরো দেহকে ৯% হিসেবে বা ৯ এর গুণিতক ধরে ভাগ করে হিসাব করা হয়।

এবিষয়ে ডা. শারমিন আক্তার সুমি বলেন, প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাতের আঙুল থেকে শুরু করে ঘাড় পর্যন্ত সামনের এবং পেছনের অংশ মিলে ৯%। আবার পায়ের সামনের অংশ ৯% এবং পেছনের অংশ ৯%। অর্থাৎ পুরো পা মিলে ১৮% ধরা হয়।

“চিকিৎসা বিজ্ঞানে এগুলো পরিমাপ করার আলাদা চার্ট আছে। সে অনুযায়ী এগুলো পরিমাপ করা হয়।”

তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই হিসাবটি একটু আলাদা। শিশুদের মাথার সামনে এবং পেছনের অংশ মিলে ২০% ধরা হয়। কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে মাথার সামনে এবং পেছনের অংশ মিলে ৯% ধরা হয়।

কী ধরণের পোড়া কতটা মারাত্মক?

একটা জিনিস কতখানি গভীর হয়ে পুড়বে তা নির্ভর করে কতক্ষণ সময় ধরে আগুনের সংস্পর্শে থাকলে, কোন ধরণের আগুনে পুড়লো এবং যে জিনিসে পুড়লো সেটার তাপমাত্রা কত ছিল।

এগুলো মিলে পোড়াকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হচ্ছে-

কন্টাক্ট বার্ন: এটা হচ্ছে কোন কিছুর সাথে লেগে পোড়া। তরল পদার্থ বা শক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা। যেমন গরম পাতিল বা কয়েনে পোড়া।

ফ্লেম বার্ন: সরাসরি আগুনের সংস্পর্শে পোড়া। অর্থাৎ আগুন জামায় লাগলো বা গায়ে লাগলো।

কেমিকেল বার্ন: বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসলে পুড়ে গেলে সেটাকে কেমিকেল বার্ন ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।

বাংলাদেশে ফ্লেম বার্ন সবচেয়ে বেশি হয় বলে জানান ডা. শারমিন আক্তার সুমি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গভীরতা বা মাত্রা অনুযায়ী পোড়া তিন ধরণের হয়।

ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন: এটি মূলত সূর্যের তাপের কারণে হয়। এতে চামড়া লাল হয়ে যেতে পারে, ব্যথা থাকতে পারে, কিন্তু ফোস্কা পড়ে না।

সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন: গরম কোন তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসলে এ ধরণের পোড়া হতে পারে। এতে চামড়া লাল বা ধূসর হয়ে পুড়ে বা ঝলসে যায়।

থার্ড ডিগ্রি বার্ন: এতে চামড়া কালো হয়ে পুড়ে যায় এবং মারাত্মক আকার ধারণ করে। আগুন, বিদ্যুৎ বা বজ্রপাত, দীর্ঘ সময় গরম তরল বা ধাতব পদার্থের সংস্পর্শে আসলে এধরণের পোড়ার ঘটনা ঘটে।

শ্বাসনালী পোড়া খারাপ কেন?

অনেক সময় দেখা যায় যে, আগুনের সংস্পর্শে আসলে শ্বাসনালী পুরে যায়। এ ধরণের পোড়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান ডা. শারমিন আক্তার সুমি।

পেট্রোল বা কোন দাহ্য পদার্থ দিয়ে যদি আগুন লাগানো হয়, কিংবা গ্যাস থেকে আগুন লাগলে বা বদ্ধ কোন জায়গায় আগুন লাগলে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ার শঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

তিনি বলেন, শ্বাসনালীর পোড়াটা সরাসরি ফুসফুসে প্রভাব সৃষ্টি করে বলে এই পোড়া সবচেয়ে মারাত্মক।

আমরা যে শ্বাস নেই সেটি একটি নালীর মাধ্যমে ফুসফুসে যায়। এই বাতাসের সাথে ছোট ছোট উপাদান থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। এগুলো ফুসফুসে গিয়ে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

“পরিবেশে বা বাতাসে যে মাইক্রোঅর্গানিজম থাকে সেগুলো চামড়া বা ত্বক ভেদ করে ঢুকতে পারে না। কিন্তু চামড়া পুরো গেলে সেগুলো সহজেই ফুসফুস এবং মাংসপেশিকে সংক্রমণ তৈরি করে।”

এই মাইক্রোঅর্গানিজমগুলো পোড়া শ্বাসনালীর ভেতর দিয়ে ফুসফুসে সংক্রমণ তৈরি করে। যার কারণে নিউমোনিয়া দেখা দেয়। এ কারণে এটি একটি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে বলে জানান ডা. শারমিন আক্তার সুমি।

প্রাথমিক অবস্থায় কী কী ব্যবস্থা নেয়া যায়?

কেউ অগ্নিকান্ডের শিকার হলে সাথে সাথে কী কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে সে বিষয়ে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ-এনএইচএস-ও কিছু পরামর্শের কথা উল্লেখ করেছে। এগুলো হচ্ছে-

১. প্রচুর পানি ঢালুন

শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি’র সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি বলেন, আগুনে পোড়ার প্রথম আধাঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসময় রোগীর শরীরে যত বেশি সম্ভব পানি ঢালতে হবে।

শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।

“যেখানে ২০% পুড়তো সেটাকে হয়তো ১৫ বা ১০% এ নামিয়ে আনা যেতে পারে।”

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বহমান ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পোড়া জায়গা অন্তত ২০ মিনিট ধরে ধুতে হবে। তবে বরফ, বরফ শীতল পানি কোন ধরণের ক্রিম ও তৈলাক্ত পদার্থ যেমন মাখন দেয়া যাবে না।

২. কাপড় ও গহনা খুলে ফেলুন

কেউ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলে তার পরিহিত কাপড় ও গহনা যত দ্রুত সম্ভব খুলে ফেলতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ন্যাপি কিংবা ডায়াপার থাকলে সেটি খুলে ফেলতে হবে।

কিন্তু পোড়া চামড়া বা পেশীর সাথে যদি কোন ধাতব পদার্থ বা কাপড়ের টুকরো আটকে গিয়ে থাকে তাহলে তা সরানোর চেষ্টা করা যাবে না। এক্ষেত্রে ক্ষত আরো বেশি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

পানি ঢালার পর রোগীর শরীর গরম রাখার চেষ্টা করতে হবে যাতে হাইপোথারমিয়া না হয়। সেক্ষেত্রে কম্বল দিয়ে তাকে জড়িয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে শরীরের যে অংশ পুড়ে গেছে সেখানে যাতে কোন ধরণের কাপড় না থাকে সেটি খেয়াল রাখতে হবে।

৩. যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে

আগুনে পোড়োর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে মধ্যে হাসপাতালে নেয়া গেলে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ডা. শারমিন আক্তার সুমি বলেন, প্রথমত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নেয়া হলে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে ২০-৩০ লিটার পর্যন্ত স্যালাইন দেয়া যায়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে ৩-৪ লিটারের বেশি দেয়া সম্ভব নয়। ফলে তার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রথম ২৪ ঘণ্টায় স্যালাইন দেয়ার কারণে যে উপকার পাওয়া যায় পরে আর সেটি পাওয়া যায় না। এজন্য এই ২৪ ঘণ্টাকে পোড়া রোগীর জন্য গোল্ডেন আওয়ার বলা হয়।

৪. টুথপেস্ট, লবণ, ডিমের সাদা অংশ দেয়া যাবে না

পোড়া রোগীকে তার ক্ষত স্থানের উপর টুথপেস্ট, লবণ বা ডিমের সাদা অংশ দেয়া যাবে না। এটি প্রাথমিকভাবে জীবাণুমুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে এটাকে সংক্রমণের দিকে ঠেলে দেয়।

হাসপাতালে নেয়ার পর এই জিনিসগুলোকে পরিষ্কার করা হয়। আর তখন এগুলো জমাট বেঁধে থাকে বলে চামড়া উঠে আসার শঙ্কা থাকে। অর্থাৎ তার ক্ষত আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যদি রোগীর মুখ কিংবা চোখ পুড়ে যায় তাহলে রোগীকে যতক্ষণ সম্ভব সোজা করে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতে ফোস্কা পড়া বা ফুলে যাওয়া কমে যায়।

৫. বেশি করে তরল খাওয়াতে হবে

পোড়া রোগীকে স্যালাইন দেয়া সম্ভব না হলে মুখে অন্তত স্যালাইন, ডাবের পানি বা তরল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে।

এছাড়া ক্যালরি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডিম বা মুরগি খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

  • বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।

  • শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।

    শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।

  • বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরণের অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষ হতাহত হয়।

    বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরণের অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষ হতাহত হয়।

  • বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি ঢাললেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।
  • শরীরের কত ভাগ পুড়লো তার সাথেও বিপদের মাত্রাটা জড়িত বলে মনে করেন তিনি।
  • বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরণের অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষ হতাহত হয়।

দৈনন্দিন

‘অক্সিমিটার’ অ্যাপ বিপজ্জনক

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সাইবার দুর্বৃত্তরা নানাভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ছদ্মবেশে ক্ষতিকর অ্যাপ ডাউনলোড করাতে পারলে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। প্রয়োজনীয় অক্সিমিটার যন্ত্রটিকে এবার প্রতারণার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মোবাইল অ্যাপে অক্সিমিটারের সুবিধার কথা বলে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ডাউনলোডের জন্য প্রলুব্ধ করছে তারা।

পালস অক্সিমিটার হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্র। সহজে বহনযোগ্য ছোট যন্ত্রটি এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন। আঙুলের মাথায় লাগিয়ে জানা যায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ। ব্যবহার করতেও নিতে হয় না বিশেষ প্রশিক্ষণ। অক্ষরজ্ঞান থাকলে সহজেই ব্যবহার করতে পারেন এই পালস অক্সিমিটার।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ রয়েছে—এমন মানুষের জন্য পালস অক্সিমিটার সাহায্যকারী একটি যন্ত্র। এতে কার হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, কখন ভর্তি হতে হবে, কার অক্সিজেন থেরাপির দরকার এবং কাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে কিংবা ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে, তা সহজেই জানা যায় পরীক্ষার মাধ্যমে। এ সুবিধা নিতে চেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা। তারা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পালস অক্সিমিটারের সুবিধা দেওয়ার কথা বলছে।

ইতিমধ্যে ‘অক্সিমিটার’ সুবিধা দেয়—এমন অ্যাপ ডাউনলোডের বিষয়ে সতর্ক করেছে ভারতের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাইবার সুরক্ষায় চালানো ‘সাইবার দোস্ত’ নামের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অচেনা উৎস থেকে পাওয়া লিংকে ক্লিক করে অক্সিমিটার অ্যাপ ডাউনলোডের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয়ের কথা বলে এসব অ্যাপ মোবাইল থেকে কন্টাক্ট, বায়োমেট্রিক তথ্যসহ নানা তথ্য চুরি করে নেয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের ক্ষেত্র। গোপনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে তা দুর্বৃত্তদের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারে। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইন্টারনেটে কয়েকটি ইউআরএল লিংক থেকে অক্সিজেনের স্তর যাচাই করার জন্য ভুয়া মোবাইল অক্সিমিটার অ্যাপ্লিকেশন সরবরাহ করার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। মোবাইলে এ–জাতীয় ভুয়া অক্সিমিটার অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করবেন না, কারণ এই অ্যাপ্লিকেশন আপনার মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত বা বায়োমেট্রিক ডেটা চুরি করতে পারে।

এর আগে সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন, যেসব পেমেন্ট অ্যাপ ই–মেইল, এসএমএস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ করে, তা ইনস্টল করবেন না। অ্যাপ স্টোরের বাইরে কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোডের আগে সতর্ক থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকেরাও রক্তের অক্সিজেন মাপার অ্যাপ সম্পর্কে সতর্ক করেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষক বলেছেন, যেসব অ্যাপ রক্তে অক্সিজেন মাপার কথা বলে, তা নিখুঁত পর্যবেক্ষণের ডিভাইস হিসেবে নির্ভর করা ঠিক হবে না। রক্তে অক্সিজেন মাপার জন্য কোনো স্মার্টফোন প্রযুক্তি নিখুঁত বলে প্রমাণিত হয়নি।

লিওনেল তারাশেঙ্কো ও তৃষা গ্রিনহাফ এ প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। তাঁরা দেখছেন, অ্যাপে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটুকু উন্নত?

উন্নয়ন অর্থনীতিতে রস্টের তত্ত্ব খুবই আলোচিত। ১৯৬০ সালে ওয়াল্ট হুইটম্যান রস্ট (১৯১৬-২০০৩) দ্য স্টেজেস অব ইকোনমিক গ্রোথ: এ নন-কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো শিরোনামে একটি বই লেখেন। বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘প্রবৃদ্ধির পাঁচ স্তর’ শীর্ষক বিষয়ে তিনি উন্নয়ন ধারণার সম্যক আলোচনা করেন। রস্ট অবশ্য এ ক্ষেত্রে ঔপন্যাসিক থমাস মান–এর ১৯০১ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত উপন্যাস দ্য বাডেনব্রুকস–এর কাছে ঋণী বলা যায়। থমাস মান তাঁর বাডেনব্রুকস–এ এমন তিন প্রজন্মের কাহিনি লেখেন যাদের প্রথম প্রজন্ম অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়। দ্বিতীয় প্রজন্ম সমাজে তাদের অবস্থানের জন্য লড়াই করে। আর থমাস মান এর তৃতীয় প্রজন্ম যাদের ইতিমধ্যে অর্থবিত্ত আছে, তারা জাগতিক-মহাজাগতিক যেকোনো কিছুর ওপরে সংগীত ও কলাচর্চায় মনোযোগী থাকে; অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতি বা সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি তাদের কাছে একেবারেই গৌণ বিষয়।

রস্টের মতে, যেকোনো দেশ বা জাতির প্রবৃদ্ধি মূলত পাঁচটি স্তর অতিক্রম করে থাকে। এগুলো হলো এক, ‘ট্র্যাডিশনাল’ বা প্রথাগত সমাজ, দুই, ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব অবস্থা, তিন, ‘টেক-অব’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন অবস্থা, চার, ‘ড্রাইভ টু ম্যাচুরিটি’ বা উন্নয়ন পরিপক্ব স্তর এবং পাঁচ, ‘এজেস অব মাস-কঞ্জাম্পসন’ বা গণ-ভোগ স্তর।

অতীতে অনেক দেশ ও জাতি তাদের অর্থনীতি উন্নয়নের কোন স্তরে অবস্থান করছে তা রস্টের ‘প্রবৃদ্ধির পাঁচ স্তর’ তত্ত্ব অনুযায়ী মিলিয়ে নিয়েছে। আমাদের দেশেও বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন ধারণা ব্যবহার করে আমরা কতটুকু উন্নত, তা বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকে বর্তমান ‘উন্নত’ অবস্থার পক্ষে–বিপক্ষে কথা বলছেন, বিতর্ক করছেন। আমাদের সমাজ-অর্থনীতি কতটুকু উন্নত সে বিষয়ে অনুমান করার আগে প্রথমে অর্থনীতিবিদ রস্টের প্রবৃদ্ধির পাঁচ ধাপ সংক্ষেপে আলোচনা করে নেওয়া যাক।

এক.

প্রচলিত সমাজ-অর্থনীতি। প্রচলিত সমাজ-অর্থনীতি মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থনীতি। এ ধরনের সমাজ বাস্তবতায় অর্থনীতির উপজীব্যরা জীবিকা নির্বাহের জন্য সনাতন পদ্ধতির কৃষিকাজ, পশুপাখি ও মৎস্য শিকারসহ এ জাতীয় কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। এ ধরনের সমাজে প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রযুক্তির ব্যবহার অস্থায়ী এবং পূর্বপরিকল্পিত নয়। প্রক্রিয়াজাতকরণে কিছু উন্নতি ও অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও সক্ষমতা খুবই কম। কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা শ্রেণির অর্থনৈতিক গতিশীলতা থাকে না। অগ্রাধিকারের স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। এ ধরনের সমাজ-অর্থনীতিতে কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সেভাবে কাজ করে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ, মহামারি এ সমাজের নৈমিত্তিক বিষয়। শ্রমের উৎপাদনশীলতা খুবই কম এবং মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনে বিনিয়োগের অবদান শতকরা ৫ ভাগ বা তার কম হয়ে থাকে।

দুই.

উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তর। ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তরে কোনো দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কাঁচামালের প্রভূত চাহিদা সৃষ্টি হয়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি ও শিল্প পণ্যের উৎপাদন এবং রপ্তানি যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি কৃষিতে অর্থকরী ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। দেশে সেচ, নালা, বন্দর ইত্যাদি নির্মাণের তাগাদা বাড়ে। বর্তমান ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে প্রভূত পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে ঝোঁক বৃদ্ধি পায়। ব্যক্তি ও শ্রেণি উভয় খাতেই অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ে। এ ধরনের অর্থনীতিতে জাতীয় পরিচয় ধারণার ব্যাপকতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পদের বিভাজিত ব্যবহারে সমাজ উদ্যমী হয়। মোট উৎপাদনে বিনিয়োগের অবদান শতকরা ৫ ভাগ অতিক্রম করে। রস্টের মতে, সামাজিক উপরি মূলধন তৈরি ও বিনিয়োগে সরকার সম্যক ভূমিকা গ্রহণ ও পালন করে থাকে।

তিন.

উন্নয়ন উড্ডয়ন স্তর। ‘টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন স্তর খুব গতিশীল। সমাজ, রাজনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দ্রুত গতিশীলতা স্পষ্ট। সমাজ-অর্থনীতিতে নগরায়ণ বাড়বে। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ঝোঁক এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলপূর্বক শিল্পায়নও পরিলক্ষিত হয়। শিল্পবিপ্লবের এ স্তরে পোশাক ও বুনন শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। প্রাথমিক খাতের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ খুব দ্রুত মাধ্যমিক স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে নিমজ্জিত হয়। কৃষিতে সবুজ বিপ্লব আসতে পারে। অর্থনীতিতে প্রতিটা সেক্টর উপর্যুপরি অবদান রেখে চলে। সমাজে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে প্রক্রিয়াগত ধারণার ব্যাপকতা ও রূপান্তর লাভ করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটি স্থিতিশীল স্থায়ী ধারণায় পরিণত হয়। রস্টের মতে, কোনো দেশের অর্থনীতি টেক-অফ স্তরে নিট দেশজ উৎপাদনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে। এ ধরনের অর্থনীতিতে একাধিক উৎপাদন চ্যানেল পরিপক্বতা পায়। কোনো দেশের উড্ডয়ন স্তরের অর্থনীতি পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণে পারিপার্শ্বিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধেও সজাগ থাকে।

চার.

পরিপক্বতার স্তর। রস্টের মতে, কোনো দেশের অর্থনীতি ‘টেক-অফ’ স্তর থেকে পরিপক্বতার স্তরে উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অপেক্ষা করতে হয়। কোনো কোনো দেশের এই দুই স্তরের মাঝে অপেক্ষাধীন সময় এমনকি ৬০ বছর পর্যন্ত হয়েছিল। অপেক্ষাধীন এ সময়কালে ওই অর্থনীতি টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রা অর্জন করে। ‘ড্রাইভ টু ম্যাচুরিটি’ বা উন্নয়নের পরিপক্বতার স্তরে কোনো দেশের অর্থনীতিতে বহুবিধ শিল্পের বিস্তার লক্ষণীয়। শিল্পভিত্তি বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য পায়। নতুন কোনো শিল্পও অতি দ্রুত শিকড় বিস্তার করে।

অর্থনৈতিক পরিপক্বতার এ পর্যায়ে বিনিয়োগ রূপান্তর প্রণিধানযোগ্য। এ পর্যায়ে মূলধন জাতীয় পণ্য উৎপাদনের চেয়ে ভোগ্যপণ্য এবং গৃহস্থালি-খরচ-পণ্যে বিনিয়োগ প্রাধান্য পায়। গণপরিবহনের অবকাঠামো নির্মাণ প্রভূত অগ্রাধিকার পায় এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। সমাজের বিভিন্ন খাতে যেমন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পার্ক ইত্যাদি নির্মাণে বড় বড় বিনিয়োগ হয়ে থাকে। বিকাশমান, দ্রুত ও নিশ্চিত গণপরিবহন খাত, উন্নত টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি সেবা নির্বিঘ্ন করা যায়। উৎপাদনের সব স্তরে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে নিশ্চয়তা থাকায় কৃষিতে শ্রমের ব্যবহার শতকরা ৭৫ ভাগ থেকে ২০ ভাগ্যে নেমে আসতে পারে, যদিও কৃষি শ্রমে প্রকৃত মজুরি নিশ্চিত থাকে। উৎপাদনের এ পর্যায়ে পরিবেশের ক্ষতি নিরূপণ ও তা পোষানোর যথেষ্ট দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়।

পরিপক্ব অর্থনীতিতে ইতিপূর্বে আমদানি করা পণ্যগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। রপ্তানিমুখী উৎপাদন ব্যবস্থায় ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এ পর্যায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ থেকে ২০ শতাংশ পুনঃ বিনিয়োগের সক্ষমতা অর্জন করে কোনো কোনো দেশ।

পাঁচ.

গণ-ভোগ স্তর। অর্থনীতির ‘এজেস অব মাস কঞ্জাম্পসন’ বা গণ-ভোগ স্তরে শিল্প খাত প্রধান নিয়ামক শক্তি। প্রাথমিক ধাঁচের শিল্প বিলুপ্ত প্রায় হয়ে যায়। উচ্চ মূল্য আর আদর্শিক ভোগ্যপণ্য প্রাধান্য বিস্তার করে। ভোক্তা সাধারণের খরচযোগ্য আয় বৃদ্ধি পায়। মৌলিক ব্যয় নির্বাহের পরেও ভোক্তাদের কাছে প্রচুর অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে। ভোক্তারা ভোগের প্রতিটি স্তরে পছন্দের স্বাধীনতা উপভোগ করে, কারণ প্রতি ক্ষেত্রেই বিকল্প ভোগের অফার থাকে। নগরকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রাধান্য বিস্তার করে। সমাজ-অর্থনীতির এ স্তরে অর্থনীতির উপজীব্যরা পছন্দের ক্রমঃ উপভোগ করতে পারে। তারা সমরাস্ত্র না নিরাপত্তা, সমতা ও মঙ্গল প্রভৃতি বিষয়ে খরচ বিশ্লেষণ করে সম্পদ ব্যবহার করতে পারে। এ স্তরে উপনীত জাতি একটি সমতাবাদী সমাজ বিনির্মাণ করে।

রস্ট অবশ্য পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত পলিটিকস অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ শীর্ষক বইতে ‘গণ-ভোগ’ স্তরের বাইরে আরও একটি উন্নয়ন স্তর নিয়ে আলোচনা করেন। ‘বিয়ন্ড কঞ্জাম্পসন’ শীর্ষক স্তরে ভোক্তা জল্পনা বা কল্প স্তরের প্রসারণ ও ভোগবাদের বিস্তার ঘটতে পারে। অর্থনীতির উপজীব্যরা এ স্তরে আরাম–আয়েশ, মনঃপ্রশান্তি ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করবে। ভোক্তারা ভোগ্যপণ্যের চেয়ে সেবা ও বিলাসী পণ্যে বেশি খরচ করবে।

ছয়.

তুলনামূলক আলোচনা।

সংক্ষেপে আলোচিত রস্টের ‘উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির পাঁচ ধাপ’ এখনকার সময়ে তথাকথিত উন্নত বা অনুন্নত অনেক দেশের উন্নয়ন ইতিহাসের ক্ষেত্রেই প্রায়োগিক আলোচ্য বিষয়। আফ্রিকার কিছু পশ্চাৎপদ দেশ যেমন ঘানা বা টঙ্গা প্রভৃতি দেশে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার অর্থনীতি পরিলক্ষিত হয়। এসব দেশে কিছু ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেলেও তা তাদের প্রচুর অনুর্বর অনাবাদি কৃষি ভূমিতে কিছু অতিরিক্ত উৎপাদন বৈ কি।

ইউরোপ, মধ্য এশিয়ার অনেক দেশের মতো আজকের উন্নত দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক বিকাশ উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তর অতিক্রম করে গেছে। এমনকি গ্রেট ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবও ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ স্তরের উদাহরণ বলে স্মরণ করা হয়।

রস্ট সংখ্যা তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে গ্রেট ব্রিটেন ১৮০০ সালের গোড়ার দিকেও অর্থনৈতিক উড্ডয়ন বা ‘টেক-অফ’ স্তরে ছিল এবং ১৮৫০ সালে এসে তারা ‘ম্যাচিউরিটি’ বা পরিপক্বতার পর্যায়ে পৌঁছায়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৮৪৩ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত ‘টেক-অফ’ স্তরে ছিল এবং ঠিক ১৯০০ সালে এসে পরিপক্ব অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়। রাশিয়া ১৮৯০ সাল থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত টেক-অফ স্তরে থেকে ১৯৫০ সালে এসে পরিপক্ব অর্থনীতির ধাপে উপনীত হয়। ১৯৫২ সালে ভারতীয় অর্থনীতি তথাকথিত টেক-অফ স্তরে থাকলেও তাদের অর্থনীতির ম্যাচিউরিটি এখনো অর্জিত কি না, তা মূল্যায়ন সাপেক্ষ।

বিয়ন্ড কঞ্জাম্পসন স্তরে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের অর্থনীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। দেশ দুটির অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে ভোগ্যপণ্যের চেয়ে সেবা পণ্য বেশি চাহিদাসম্পন্ন। এসব দেশের অর্থনীতির উপজীব্যরা অর্থনীতিবিদ রস্ট উল্লেখিত সব স্তর অতিক্রম করে ভোগ মানের অভীষ্ট লক্ষ্যে ব্যয় করে থাকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোন পর্যায়ে অবস্থান করছে তার সঠিক মূল্যায়নের ভার পাঠকের ওপরেই রইল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নতুন রেকর্ড: সমুদ্রপথে আসছে পৌনে ছয় লাখ টন পেঁয়াজ

  • ভারতের বিকল্প দেশগুলো থেকে পৌনে ছয় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
  • চলতি মাসে প্রথম ২০ দিনে এসব পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেন তাঁরা।
  • এত কম সময়ে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সংগ্রহে এটি রেকর্ড বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভারতের বিকল্প দেশগুলো থেকে পৌনে ছয় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি মাসে প্রথম ২০ দিনে এসব পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেন তাঁরা। এত কম সময়ে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সংগ্রহে এটি রেকর্ড বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামী মাসের শুরু থেকে এসব পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর থেকেই এ মাসের শুরুতে ব্যবসায়ীরা বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেওয়া শুরু করেন। এ মাসের শুরু থেকে ভারত রপ্তানি বন্ধের দিন (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা দুই লাখ ২৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেন। রপ্তানি বন্ধের পর রোববার পর্যন্ত চার কর্মদিবসে আরও সাড়ে তিন লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেন তাঁরা।

ঢাকার অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেওয়া হয়েছে তা রেকর্ড। এই পেঁয়াজ আমদানি হলে বাজার সয়লাব হয়ে যাবে। কোনো সংকট থাকবে না।

পেঁয়াজের মতো কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রথমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে আমদানির অনুমতি নিতে হয়। এটি কৃষিপণ্য আমদানির প্রাথমিক ধাপ। এই অনুমতি নেওয়ার আগে ব্যবসায়ীরা রপ্তানিকারক দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেন। আর অনুমতি নেওয়ার পর ব্যাংকে ঋণপত্র খোলা হয়। আমদানির অনুমতি নেওয়া হলেও সব পণ্য দেশে আসার নিশ্চয়তা নেই। জাহাজে পণ্য ওঠানোর পরই মূলত নিশ্চিত হওয়া যায় আমদানি পণ্য দেশে আসছে কি না। এরপরও আমদানির অনুমতি নেওয়া পেঁয়াজের সিংহভাগই দেশে আনা হবে এটি বলা যায়।

ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার, পাকিস্তান, চীন, মিশর, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খুলেছেন। ঋণপত্র খোলার পর এসব পেঁয়াজ কনটেইনারবাহী জাহাজে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে করে সমুদ্রপথে আনা হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। বিকল্প দেশের বন্দরে জাহাজে বোঝাই করার পর পেঁয়াজ আমদানিতে দেশভেদে ন্যূনতম ১৫ থেকে এক মাস সময় লাগতে পারে বলে জাহাজ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অর্থাৎ এ মাসের ২০ দিনে মোট ৫ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৫ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একদিনে সর্বোচ্চ বা এক লাখ ৫৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। মোট ৮৩৫টি চালানে এসব পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনার কথা রয়েছে। এ সপ্তাহেই আমদানি অনুমতির পরিমাণ ছয় লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর ভারত রপ্তানি বন্ধের প্রায় এক মাস পর আমদানির অনুমতি নেওয়ার হিড়িক পড়ে। তবে এবার রপ্তানি বন্ধের আগে থেকেই বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিতে শুরু করেন তারা। এখন দিন দিন রেকর্ড হচ্ছে।

এবার পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ছোট ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি। বড়দের মধ্যে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ গত রোববার নেদারল্যান্ডস থেকে এক চালানে ২২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সংগ্রহ করেছে। এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক কাজী সালাহউদ্দিন আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, নেদারল্যান্ডস থেকে দ্রুততম সময়ে এই পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা চলছে। এটা মাত্র শুরু বলা যায়। পর্যায়ক্রমে আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রপ্তানি বন্ধের আগে ভারত থেকে এ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রায় ৪৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। স্থলবন্দরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ এখন খালাস হচ্ছে। এ হিসেবে এ মাসে পেঁয়াজের আর সংকট হবে না। পেঁয়াজ সংকট শুরু হওয়ার আগে আগামী মাসের শুরুতে বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করবে বিকল্প দেশের পেঁয়াজ। ভারত রপ্তানি বন্ধ রাখলেও বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহে ঘাটতি হবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ভারতের প্রায় সব ব্যাংকই জড়িত

ভারতে সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক–নির্বিশেষে প্রায় সব কটি ব্যাংকই সন্দেহজনক লেনদেনে জড়িত। তাদের মাধ্যমে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মোট ৪০৬টি অবৈধ লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। এতে আদান–প্রদান হয়েছে ৪৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকার মতো।

এসব লেনদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিন–সেন) ‘রেড–ফ্ল্যাগড’ বা ‘বিপজ্জনক লেনদেন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা লেনদেনগুলোকে অবৈধ উপায়ে পাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থায়ন, মাদক বেচাকেনার অর্থ এবং আর্থিক প্রতারণা বা জালিয়াতি বলে সন্দেহ করছে।

ফিন–সেনের এসব তথ্য ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (আইসিআইজে) প্রকাশ করেছে। আইসিআইজে বিশ্বব্যাপী ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করে

আইসিআইজের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ভারতে ব্যবসারত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪০৬টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে ভারতে এসেছে ৪৮ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ২২৬ কোটি ডলার। আর ভারত থেকে বিদেশে গেছে ৪০ কোটি ৬২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬২ ডলার।

আইসিআইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতে যেসব ব্যাংক জড়িত সেগুলো হচ্ছে—স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, এইচডিএফসি ব্যাংক, ইন্দুসিন্দ ব্যাংক, অ্যাক্সিস ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইয়েস ব্যাংক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক, কানাড়া ব্যাংক, ব্যাংক অব মহারাষ্ট্র, কারুর বিশ্বব্যাংক, তামিলন্যাড মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ব্যাংক অব বরোদা, ডিবিএস ব্যাংক, ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, এলাহাবাদ ব্যাংক, ইন্ডিয়ান ব্যাংক, দয়েশে ব্যাংক, ইউসিও ব্যাংক, কর্ণাটক ব্যাংক, আরবিএস, অন্ধ্র ব্যাংক ও বিজয়া ব্যাংক।

  • স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে একটি সিঙ্গেল বা একক লেনদেনে মেরিল লিঞ্চ সুইসিতে স্থানান্তর হয়েছে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার।
  • ডিবিএস ব্যাংক থেকে ২০১৫–১৬ সালে মাত্র চার মাসে ১৯ বারে ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় এসেছে ১১ কোটি ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার ডলার।
  • ডিবিএস থেকে এলাহাবাদ ব্যাংকে চার মাসে ২৬ বারে ১৪ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ডলার এসেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

সার্বিকভাবে উৎসবের এ গল্প ৩০ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে আমাদের জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশের ওপরে। এই পরিমাণটা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো সম্ভব, অন্তত বিজ্ঞান সেটাই বলছে। পৃথিবীজুড়ে বাঙালিকে পরিচয় করানোর পঞ্চম আইকনখ্যাত বাংলাদেশি পেটেন্ট (জিআই) পাওয়া জলের রুপালি শস্য ইলিশের কথা বলছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এক গবেষণা বলছে, ইলিশই পৃথিবীর একমাত্র মাছ, যার ধর্মীয়, সামাজিক ও লোকসাংস্কৃতিক মূল্যমান আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে।

যুগে যুগে ইতিহাসের পাতায় পাতায় বাঙালিদের নানান উৎসবে ইলিশের ম-ম গন্ধে মেতে ওঠা গল্পের শেষ নেই। মাছে-ভাতে বাঙালিখ্যাত জাতিটি রকমারি মৎস্য, বিশেষ করে ইলিশ আহারে বুঁদ হয়ে ভোজনরসিক থেকে ভোজনশিল্পীতে খ্যাতি পেয়েছে। এ জাতির খাওয়াখাদাওয়ার রসিকতা আর ঐতিহ্য দেখে বিখ্যাত লেখক বুদ্ধদেব বসু ‘ভোজনশিল্পী বাঙালি’ নামে একটা বই-ই রচনা করে ফেলেছেন। সেখানে তিনি ইলিশের গুণগান আর উৎসবে–ইতিহাসে ইলিশের নানান অনুষঙ্গ পেড়ে বসেছেন।

যশোরের চৌগাছার ইলিশমারি নীলকুঠির অত্যাচার-পীড়নের গল্প সর্বজনবিদিত। বাংলার মসনদে ছোটলাটের আবির্ভাব-পরবর্তী সময়ে ইলিশমারি নীলকুঠিকেন্দ্রিক এই অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় ছোটলাট-পত্নী লেডি কেসি ইলিশের ভক্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কলকাতার গভর্নর হাউসে এক প্রীতিভোজ উৎসবে দাওয়াত পেয়েছিলেন। সেখানে অনেক কিছু খেয়েছেন, সঙ্গে ছিল বাংলার বিখ্যাত ইলিশ। পরবর্তীকালে তাঁর লেখনীতে বাংলার ইলিশ ও সুগন্ধি চালের বিস্তর প্রশংসার গল্প শুনতে পাই।

ইতিহাসের আরও এক ইলিশ-প্রীতিভোজের গল্প শুনতে পাই বিখ্যাত প্রাবন্ধিক বুদ্ধদেব বসুর লেখনীতে। সেখানে তিনি নিজেই আপ্যায়িত হয়ে বলেছেন ‘রজতবর্ণ মনোহরদর্শন মৎস্যকুলরাজ মহান ইলিশ। একদেহে এতটা প্রতিভা ধারণ করে যে শুধু তাকে দিয়েই তৈরি হতে পারে একটি পঞ্চপদি নানা স্বাদযুক্ত ভোজনের মতো ভোজন।—অর্থাৎ এই ভোজন উৎসবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই ইলিশ।’ বুদ্ধদেব বসুর পঞ্চপদি ইলিশ এখন পঞ্চাশ পদ পেরিয়ে শতপদ ব্যঞ্জনের উপাখ্যান ছড়াচ্ছে বাংলার আনাচকানাচে।

ইলিশই একমাত্র উৎসবের মাছ, যাকে ঘিরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এককভাবে বিখ্যাত তিন-তিনটি রন্ধন প্রণালির বই, যার প্রতিটিতেই শতপদের ইলিশ রান্নার পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭১-পরবর্তী ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রায় সমস্ত রাষ্ট্র প্রধান ইলিশের রাজকীয় প্রীতিভোজ করিয়েছেন এবং নিজেও করেছেন। এমনি এক ইলিশ উৎসবের ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্যে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ উৎসবে শেখ হাসিনা নিজ হাতে রাষ্ট্রপতির অনেক পছন্দের খাবার ভাপা ইলিশ রান্না করেছিলেন। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ওই সব ইলিশ ছিল ঢাকা থেকে বয়ে নেওয়া পদ্মার ইলিশ। রাজকীয় ভোজন উৎসবে ইলিশের জন্য এটি এক গর্বের সংযোজন, ভালোবাসার ইতিহাস।

রাজকীয় ইতিহাস ছেড়ে এবার বাংলার ধর্মীয় ও লোকসাংস্কৃতিক উৎসবে ইলিশ উপাখ্যানের দিকে একটু নজর দিই। বাঙালি হিন্দু পরিবার সরস্বতী, লক্ষ্মী ও দুর্গাপূজায় জোড়া ইলিশ কেনাকে অতি শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখে। তারা এসব পূজায় দেবীকে জোড়া ইলিশ উৎসর্গ করে। অনেকে আবার রান্না ইলিশে ভোগ দিয়ে থাকেন। লেখিকা আলপনা ঘোষ ‘ভোজনবিলাসে কলকাতা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কলকাতার উল্লেখযোগ্য প্রাচীনতম দুর্গাপূজার মধ্যে একটি ১০৮২ সালে কেদারনাথ চট্টোপাধ্যায় আগরপাড়ায় মাটির ঠাকুরদালানে চালু হয়। এ ছাড়া ৫৫০ বছরেরও অধিককাল আগে নদীয়া জেলার চাঁদনিবাড়িতে এবং ১৬৬২ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী নদীর তীরের জঙ্গপুরের ঘোষালবাড়িতে শুরু হয় আরও দুটো প্রাচীনতম দুর্গাপূজা উৎসব। এসব উৎসবে দশমীতে পান্তা ভাত এবং ইলিশ মাছের ভোগ দেওয়ার রীতি উল্লেখ রয়েছে। দশমীর আগের রাতে ইলিশ মাছ রান্না করে সকাল সকাল দেবীকে ভোগ দিয়ে তারপর বাড়ির মেয়েরা উপোস ভাঙত।

পান্তা ভাত আর ইলিশের প্রসঙ্গ এলে চলে আসে বাংলা নববর্ষের কথা। ১৯৮৩ সালে কতিপয় আগ্রহী সাংবাদিক বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পান্তা ভাত ও ইলিশ ভাজি খাওয়ার রীতি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলা নববর্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়া এক বিরাট উৎসবে রূপ নেয়। এ দেশের মানুষ বাছবিচারহীনভাবে নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে জাটকা ও মা ইলিশ নিধনের যজ্ঞে মেতে ওঠে। ইলিশের বাজার গরম হতে থাকে। মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যায় বাঙালির রসনাতৃপ্তির এই মহান ইলিশ।

যা-ই হোক, বাঙালি উৎসবপ্রবণ জাতি বলেই বারো মাসে তেরো পার্বণ পেরিয়ে আরও নতুন নতুন উৎসব-পার্বণে মেতে ওঠে। সব পার্বণ বা উৎসবে ইলিশ খাওয়ার রীতি চালু না থাকলেও বিবাহ উৎসব, দুর্গা-সরস্বতী-লক্ষ্মীপূজা, জামাইষষ্ঠী, বর্ষাপার্বণ ইত্যাকার সব আয়োজনে ইলিশ নিয়ে মাতামাতি দুই বাংলাতেই দেখা যায়। ড. অতুল সুর ‘ভারতে বিবাহের ইতিহাস’ গ্রন্থের মাধ্যমে জানাচ্ছেন, বাঙালির বিয়েতে মাছ অপরিহার্য। ভোজপর্বে পাঁচ ‘ম’-এর মধ্যে মাছ হলো অন্যতম। আদিকালে ধনিকশ্রেণির রোহিত মৎস্য বা রুই মাছ ছিল প্রিয়। আর ইলিশ ছিল সবার জন্য।

তারা বংশপরম্পরায় বিবাহতত্ত্বে, পাকাদেখা অনুষ্ঠানে, গায়েহলুদ, ক্ষীর খাওয়া ও বরযাত্রী প্রীতিভোজে এই মাছ খাওয়ানোর রীতি পালন করে আসছে। বিশেষ করে বরযাত্রীভোজ অনুষ্ঠানে বরকে একটি প্রমাণ সাইজের ইলিশ ভাজি করে খেতে দেওয়া; এ রীতির মানানসই অঙ্গ। বৃহত্তর বরিশাল, নদীয়া জেলাসহ পদ্মা অববাহিকার মানুষের মধ্যে এই রীতি এখনো দেখা যায়। আর পশ্চিমবঙ্গে জামাইষষ্ঠী উৎসব ইলিশ ছাড়া অচল। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে টেলিভিশনের রান্নাবিষয়ক বড় বড় অনুষ্ঠানে ইলিশের রাজকীয় দখলদারিত্ব কেউই নজর এড়িয়ে যেতে পারে না।

ইলিশ আসলে শুধুই মাছ নয়, ইলিশ সংস্কৃতিও বটে। বর্ষার রিমঝিম শব্দে বাঙালি ইলিশ নিয়ে চিরকালই মেতেছে আর আড্ডা দিয়েছে। বর্ষার ইলিশ ভাজি আর খিচুড়ির গন্ধে গ্রামবাংলা ‘মৎস্যগন্ধা নারী’র খ্যাতি পেয়েছে সেই অনাদিকাল থেকে। মাতাল করা বর্ষাদিনে ঝাল ঝাল করে ভাপা ইলিশ দিয়ে ধোঁয়া ওঠা গরম-গরম সফেদ ভাত বাঙালির চিরায়ত খাদ্যসংস্কৃতিরই অঙ্গ। ইলিশের এসব ব্যঞ্জন আসলে স্বর্গসুখের ডাকনাম।

ইলিশ উৎসব এখন আর বাঙালি হেঁশেলেই আবদ্ধ নেই। আটপৌরে হেঁশেল থেকে বেরিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিংবা পাঁচতারকা হোটেল-রেস্তোরাঁর জাঁকালো সব আয়োজন নিয়ে ভোজনরসিকদের ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে এক লোলুপ তাড়না সৃষ্টি করে চলেছে। তাই সময় কাটানোর বাহানা নিয়ে এসব রেস্তোরাঁয় বাঙালি বাঙালিতে মাথায় ঠোকর খেয়ে বলে ওঠে, আরে ভাই ইলিশ বলে কথা! পশ্চিমবঙ্গে চটকদার আর আকর্ষণীয় নাম (যেমন সুন্দরবন ইলিশ উৎসব) দিয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ইলিশ উৎসব করতে দেখা যাচ্ছে। এসব আয়োজন এক থেকে পনেরো দিন, এমনকি মাসব্যাপীও চলতে দেখা যায়।

উৎসবের এসব গল্প চলমান রাখতে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ইলিশের অন্য রকম এক উৎসব। বর্তমানে চাঁদপুর ও বরগুনা জেলা আলাদা আলাদাভাবে ইলিশ উৎসব উদ্‌যাপন করছে।

‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর জেলা’ ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জেলা প্রশাসন সপ্তাহব্যাপী ইলিশ উৎসব উদ্‌যাপন করে আসছে। গত বছর তারা ১১তম ইলিশ উৎসব উদ্‌যাপন করে।

‘ইলিশের জেলা বরগুনা’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসন ও জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম প্রথমবারের মতো ইলিশ উৎসব আয়োজন করে। এ দুটি ইলিশ উৎসবের মূল টার্গেট হলো জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ইলিশ মাছসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আলোচনা, সাহিত্যপঠন ও লিখন এবং বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকাল শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে এই দুটি উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে। এখানে ইলিশ–জেলে থেকে শুরু করে সব ধরনের স্টেকহোল্ডার, এমনকি ব্যাপক মাত্রায় ভোক্তার উপস্থিতি দেখা যায়। আর ভোজনরসিকদের তাৎক্ষণিক তৃপ্তি মেটানোর অবারিত সুযোগ থাকে। এ দুটি জেলা তাদের মতো করে মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় নতুন এক ইলিশের উৎসব শুরু করেছে। কাজেই উৎসব এখন আর কেবল ভোগেই সীমাবদ্ধ নেই, সংরক্ষণের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলার মধ্যে কমপক্ষে ১০টি ‘অধিক’ গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ইলিশের এই কার্যক্রম অচিরেই শুরু করা উচিত। বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ডফিশ যৌথভাবে ‘ইলিশ প্রজনন উৎসব’ নামে নতুন একটি উৎসব শুরু করেছে। ২০১৬ সাল থেকে এই উৎসব শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত এটি চলছে। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকাল অবধি এটি চলতে থাকে, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইলিশ সংরক্ষণ আইন কঠোর হাতে কার্যকর করা।

মৎস্য অধিদপ্তর ‘হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ নামে একটি বৃহৎ কর্মকৌশল হাতে নিয়ে তার বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে ৪৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয়টি অভয়াশ্রম, ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রগুলোয় ২২ দিন পর্যন্ত (অক্টোবর মাসের ভরা পূর্ণিমাতে) ইলিশ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ পরিবহন, সরবরাহ, বিক্রয় ও সংরক্ষণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এটির কঠোর বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বাদল দিনের মাতাল করা ইলশেগুঁড়ির রিমঝিম শব্দের আয়োজন প্রায় শেষ প্রান্তে। জেলের জালভরে উঠছে প্রচুর ইলিশ। ইলিশে ইলিশে বাজার সয়লাব। বাঙালি দাঁতে ধার দিয়ে বসেছে ইলিশ খাওয়ার হরেক আয়োজন নিয়ে। ঠিক যেভাবে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্য সিরাজগঞ্জের আসাদউদ্দৌলা সিরাজীর বাড়িতে ঘটা করে ইলিশ খাওয়ার আয়োজনটা করা হয়েছিল। যা–ই হোক, যে গল্পটা শুরু হয়েছিল ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্ক দিয়ে, অনতিবিলম্বে সেটা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার বিজ্ঞানটাও আমাদের হাতেই রয়েছে। ২০১৫ সালের একটা গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা গেছে, ১৫ দিন মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ইলিশের প্রজনন সফলতা পাওয়া গেছে। যার ফলে ৩০ হাজার ৮৯৭ কোটি জাটকার উৎপাদন নতুনভাবে হিলশা ফিশারিতে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ এবং এই সময়ে যদি একই হারে প্রজনন–সফলতা পাওয়া যায়, তাহলে নতুন সংযুক্ত জাটকার পরিমাণ হবে দেড় গুণ।

ফিশ পপুলেশন ডিনামিক্স এবং হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্টের অনেক ফ্যাক্টর, কো-ফ্যাক্টরকে হিসাবের মধ্যে রাখলেও ইলিশের উৎপাদন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমেয়। ২০০২-০৩ অর্থবছরে আমাদের ইলিশের উৎপাদন ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। বিগত ১৬ বছরের নানামুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে বর্তমানে ৫ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টনে (মৎস্য অধিদপ্তর ২০২০) উন্নীত হতে পেরেছি আমরা। সুতরাং সময় এসেছে আরও এগিয়ে যাওয়ার।

উৎসবে ইলিশ পেতে ইলিশের উৎসবে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কেবল আমাদের পাত আর ইলিশের জাত রক্ষা হবে। মৎসগন্ধা গ্রামে হবে ইলিশের উৎসব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com