আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ গাজীপুরে, চমক দেখালেন দেলোয়ার

দেলোয়ারের বাগানে ফুটেছে টিউলিপ ফুল
দেলোয়ারের বাগানে ফুটেছে টিউলিপ ফুল

তুরস্কের জাতীয় ফুলের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডসেও টিউলিপ ফুলের ব্যাপক আবাদ হয়। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস টিউলিপ ফুল উৎপাদনকারী প্রধান দেশ। টিউলিপকে নিয়েই সেখানে গড়ে উঠেছে শিল্প। তাই দেশটি প্রতি বছর পালন করে টিউলিপ উৎসব।

শীত আবহাওয়ার দেশ ছাড়া এশিয়া মহাদেশের ভারত, আফগানিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ ছাড়া এমন দৃষ্টি জুড়ানো টিউলিপ ফুলের দেখা মেলে না। তবে টিউলিপ ফুলের প্রতি সবার হৃদয়ে রয়েছে অগাধ ভালোবাসা।

টিউলিপ ফুলের রাজ্য যেন এক স্বর্গ উদ্যান
টিউলিপ ফুলের রাজ্য যেন এক স্বর্গ উদ্যান

ছয় ঋতুর বাংলাদেশে একসময় এই ফুল চাষের কথা কল্পনাও করা যেত না। মনের মাধুরী মেশানো এই ফুলের ছোঁয়া পেত না কেউ। তবে এখন দুয়ার খুলে দিয়েছেন গাজীপুরের এক ফুল চাষি। টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে দেশজুড়ে চাষের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তিনি।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেনের বাগানে ফুটেছে টিউলিপ ফুল। স্বর্গীয় এক অনুভূতি বিরাজমান দেলোয়ারের ফুল বাগানে। ফুলের রাজ্য যেন এক স্বর্গ উদ্যান। দৃষ্টিনন্দন এই টিউলিপ বাগান দেখতে মানুষের বেড়েছে ভিড়। তার বাগানজুড়ে এখন টিউলিপময় ভালোবাসার গল্প।

বাগানজুড়ে এখন টিউলিপময় ভালোবাসার গল্প
বাগানজুড়ে এখন টিউলিপময় ভালোবাসার গল্প

ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন তার টিউলিপ ফুল বাগানের নাম দিয়েছেন ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’। এর আগে জার্বেরা, চায়না গোলাপ ও বিদেশি বিভিন্ন ফুল চাষে সফল হয়েছেন তিনি। সফল ফুল চাষি হিসেবে ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পান দেলোয়ার। দেশে প্রথমবারের মতো ভাইরাসমুক্ত সবজির চারা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন তিনি।

ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মিটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফুল আমদানি করা হয়। ফুল চাষে জড়িয়ে আছে কৃষি অর্থনীতির একটি অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠলেও আমরা পিছিয়ে। অর্থনীতি ও চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিদেশি ফুল দিয়ে আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়। নানা প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে থাকিনি। এরই মধ্যে পেয়ে যাই একটির পর একটি সফলতা। জার্বেরা, চায়না গোলাপের পর টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে এবার পেলাম নতুন সফলতা। পরীক্ষামূলককাজ শেষে টিউলিপ ফুল চাষ সম্প্রসারণের কাজ করব। টিউলিপ বর্ষজীবী ও বসন্তকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত। প্রজাতি অনুযায়ী এর উচ্চতাও ভিন্ন।

বাগানে ফুটেছে নানা রকম টিউলিপ
বাগানে ফুটেছে নানা রকম টিউলিপ

দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির টিউলিপ থাকলেও গত ৮ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডস থেকে এক প্রজাতির চার রঙের এক হাজার টিউলিপ বাল্ব এনে ১৫ ডিসেম্বর বাগানে রোপণ করি। ৪৫ দিন পরিচর্যা শেষে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে টিউলিপ ফুল ফোটা শুরু হয়। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ২০-২২ দিনেই ফুটে টিউলিপ ফুল।

তার মতে, টিউলিপ ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শীতের গভীরতা। সাধারণত টিউলিপ ফুল চাষে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার প্রয়োজন। আমাদের দেশে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীত মৌসুমে তাপমাত্রা কম থাকে বিধায় সেখানে টিউলিপ ফুল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

টিউলিপ ফুলের বাগান পরিচর্যা করছেন চাষি দেলোয়ার হোসেন
টিউলিপ ফুলের বাগান পরিচর্যা করছেন চাষি দেলোয়ার হোসেন

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের ফুল গবেষক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন খান বলেন, টিউলিপ সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফুল। আমাদের দেশে শীত মৌসুমে অনেকেই বাসাবাড়ির টবে বা শখের বশে টিউলিপ ফুলের চাষ করেন। তবে ফুল পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক। তবে দেলোয়ারের বাগানে টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে এখনও এই ফুল চাষ শুরু হয়নি। তবে শীত মৌসুমে আবহাওয়া ফুলের অনুকূলে থাকলে টিউলিপ ফুলের চাষ করা যায়। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে এই ফুল চাষ উপযোগী। দেশের কৃষকদের মনে নতুন করে টিউলিপ ফুল চাষের স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন ফুল চাষি দেলোয়ার।

দেলোয়ার হোসেন টিউলিপ ফুল বাগানের নাম দিয়েছেন ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’
দেলোয়ার হোসেন টিউলিপ ফুল বাগানের নাম দিয়েছেন ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে উচ্চমূল্যে টিউলিপ ফুল আমদানি করে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে হয়। সফল ফুল চাষি দেলোয়ারের বাগানে টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টিউলিপ ফুল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে দারুণ ছোঁয়া লাগবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

ফুল

অর্কিডের যত্ন নিবেন যেভাবে

অর্কিডের যত্ন নিবেন যেভাবে
অর্কিডের যত্ন নিবেন যেভাবে

বেশি স্থায়িত্বের ফুল ও সতেজ গাছ পেতে অর্কিডের জন্য দরকার সঠিক যত্ন। তাই অর্কিডপ্রেমীর জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস দেয়া হলো। যা আপনাকে সহায়তা করবে সঠিকভাবে অর্কিডের যত্ন নিতে। আসুন জেনে নেই কিভাবে পরিচর্যা করবেন অর্কিড গাছ ও ফুলের।

পানি দেয়া
অর্কিডের উপরে পানি দেয়া যাবে না। এতে ফুলের কুড়িতে ও পাতার ফাঁকে পানি জমে থাকে। যা পচন ধরাতে পারে। পানি দিতে গিয়ে গাছ সম্পূর্ণ ভিজে গেলে সাথে সাথেই টিস্যু দিয়ে তা মুছে শুকনো করে দিতে হবে।

পানি অপসারণ
অর্কিড বেশি পানি সহ্য করতে পারে না। ফুটন্ত অর্কিডের টব বা পাত্রে কোনভাবেই অতিরিক্ত পানি জমতে দেয়া যাবে না। অতিরিক্ত পানি যাতে খুব সহজেই বেরিয়ে যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

ঠান্ডা পানি নয়
খুব ঠান্ডা পানি অর্কিডের মূলের ক্ষতি করে থাকে। অর্কিডে সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ পানি সরবরাহ করুন। বরফ টুকরো দিয়ে ইন্ডোর প্লান্টে পানি দেয়ার পদ্ধতি অর্কিডের ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়।

অর্কিডের যত্ন নিবেন যেভাবে
অর্কিডের যত্ন নিবেন যেভাবে

উপযুক্ত খাবার
উপযুক্ত খাবার অর্কিডের গাছ ও ফুলের জন্য অপরিহার্য। যা অর্কিডের জীবনকাল ও লাবণ্য বাড়িয়ে দেয়। মাসে অন্তত একবার অর্কিডের গাছে খাবার দিন। সুপার শপ বা অনলাইন শপে খাবার পেতে পারেন।

ডাল আলাদা নয়
অর্কিডের গোড়ার দিকে ডালগুলো একসাথে চাপাচাপি করে লেগে থাকে। এগুলো অর্কিডের পাওয়ার হাউস বা ব্যাটারির মত কাজ করে। কখনোই এগুলো আলাদা করা যাবে না।

টবের মাটি
সচরাচর টবে চাষ করার জন্য যে মাটি ব্যবহার করা হয়, তা অর্কিডের জন্য উপযোগী নয়। তাই প্রচলিত টবের মাটি বাদ দেয়াই ভালো। এর জন্য নারিকেলের ছোঁবড়া, ইটের খোয়া ইত্যাদি উপযুক্ত জিনিস।

আলোতে না রাখা
সরাসরি সূর্যের আলোতে অর্কিডের টব বা পাত্র না রাখা ভালো। কম তাপমাত্রা আর ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন শখের অর্কিড।

অর্কিডের যত্ন নিবেন যেভাবে
অর্কিডের যত্ন নিবেন যেভাবে

ফুল না ভেজানো
অর্কিডের পাতা অল্প সময়ের জন্য ভিজিয়ে দেয়া ভালো। তবে ফুল ভেজানো অর্কিডের জন্য ক্ষতিকর। ফুল ভেজালে তার স্থায়িত্ব কমে যায় এবং এতে দ্রুত ফুলে পচন ধরে।

শেকড় না কাটা
অর্কিড আদি শেকড় দিয়ে শ্বাসকার্য চালায়। তাই এগুলোকে না কাটাই ভালো।

পাত্র পরিবর্তন
অর্কিড দুই বছর একই পাত্রে থাকতে পারে। কারণ শেকড় বাড়ার সাথে সাথে এর ভেতরের জায়গার পরিমাণ কমে আসে। তাই পাত্র পরিবর্তনের সময় মরা শেকড় কেটে বাদ দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

‘কাঠ গোলাপ’ নামের ফুলটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। গোলাপের মত নয়, আবার কাঠের সঙ্গেও সে ধরনের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ফুলটির নাম ‘কাঠ গোলাপ’ দেওয়া হয়েছে। সে যা-ই হোক, আমরা বরং জেনে নেব কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

কাটিং: কাটিং করার জন্য নেওয়া ডাল কমপক্ষে ১২ ইঞ্চি লম্বা হওয়া উচিত। নির্বাচিত ডালটি ধারালো কিছু দিয়ে কেটে নিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, কাঁটা অংশে যেন ময়লা না থাকে। তাতে কাটিং পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরপর ডালের পাতাগুলো গোড়ার কাছ থেকে কেটে দিন। টেনে একদম গোড়া থেকে ছিঁড়ে ফেলবেন না। ডালটিকে ছায়াযুক্ত স্থানে ৭-৮ দিন রেখে দিন। এ কয়দিনে ডালের কাটা অংশ শুকিয়ে কালো বা খয়েরি হয়ে যাবে এবং কেটে দেওয়া পাতার বোঁটার থেকে যাওয়া অংশও ঝরে যাবে।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

রোপণ: এবার ডালটি রোপণের জন্য উপযুক্ত। রোপণের জন্য মাটি প্রস্তুত করে যে পাত্রে লাগাবেন তা ভরাট করুন। মিনারেল ওয়াটারের পাঁচশ’ মিলির বোতলের মাথা কেটে এবং তার নিচে বেশকিছু ছিদ্র করে পাত্র তৈরি করা যায়। স্বচ্ছ পাত্র নিলে সুবিধা হচ্ছে- রুটিং হলে দেখতে পাবেন। এবার ডালটির গোড়ার চার ইঞ্চি মতো রুটিং হরমোন মাখিয়ে মাটিতে রোপণ করে দিন। রুটিং হরমোন না থাকলে মধু ও দারচিনি গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

পরিচর্যা: রোপণ করা ডালটি আলো-বাতাস যুক্ত স্থানে রেখে দিন। পানি এমন মাত্রায় দিবেন যেন পানি জমে না থাকে। এক মাসের মধ্যেই রুট আর পাতার দেখা পাবেন। তিন-চার মাস পর গাছটি বড় কোনো পাত্রে বা মাটিতে রোপণ করে দিন। ফুল ফোটার জন্য কাঠ গোলাপের প্রচুর রোদের প্রয়োজন হয়। দৈনিক কমপক্ষে চার-পাঁচ ঘণ্টা সরাসরি রোদ লাগে এমন জায়গায় গাছ লাগানো উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মানিকগঞ্জের সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা

মানিকগঞ্জের সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা
মানিকগঞ্জের সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা

কৃষকদের কাছ থেকে কোম্পানি সরাসরি ফুলটির বীজ কিনবেন। ফলে কৃষকরা এটি কোথায় বিক্রি করবেন তা নিয়ে চিন্তা থাকছে না। আশা করছি চাষিরা প্রতি বিঘায় অন্তত ৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন

মানিকগঞ্জে প্রথমবারের মত বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুল চাষ হচ্ছে। জেলার হরিরামপুরে কৃষি অফিসের সহায়তায় ১০ বিঘা জমিতে এই ফুলের আবাদ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষককের মাঝে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় জেলার হরিরমাপুরে প্রথমবারের মত আবাদ হচ্ছে সূর্যমুখী। উপজেলার ১০ বিঘা জমিতে ১০ জন কৃষক কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় ফুলটির আবাদ শুরু করেছেন। 

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক জানান, বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবছর ১৪ থেকে ২০ লক্ষ মেট্রিকটন ভোজ্য তেল দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। যে কারণে আমাদের দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যায়। সরকার সেটি নিরসনে রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় হরিরামপুরে প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে এর চাষ শুরু করেছে। প্যাসিফিক হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুল এখানে চাষ হচ্ছে। ১০ জন কৃষককে বীজ, সার, আন্তঃপরিচর্যাসহ বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়তই প্লটগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকরা এবার প্রতি বিঘায় অন্তত ৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন। 

মানিকগঞ্জের সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা
মানিকগঞ্জের সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা

উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, সার, বীজ, সেচ ও কীটনাশক মিলিয়ে বিঘাপ্রতি জমিতে সূর্যমুখী চাষে খরচ হবে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। খরচ বাদে বিঘা প্রতি আয় হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই এর ফলন পাওয়া যাবে। 

তিনি আরও জানান, সূর্যমুখীর কাণ্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ও বিক্রি করা যাবে। যা থেকে বাড়তি একটা লাভ মিলবে। তাছাড়া এটি চাষে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। মাত্র দুটি সেচ দিলে এবং ফুলগুলো একটু পর্যবেক্ষণ করলেই হলো। 

একই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, ধান-পাট চাষে প্রচুর পরিশ্রম এবং খরচ হয় কিন্তু সূর্যমুখী চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। যে কারণে আগামীতে অনেক কৃষকই সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকবে।

মানিকগঞ্জের সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা
মানিকগঞ্জের সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা

জেলা পরিষদের সদস্য চায়না বেগম জানান, জেলার হরিরামপুরেই প্রথমবারের মত সূর্যমুখী ফুলের চাষ হচ্ছে। এর আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হয়নি। অনেকেই সৌন্দর্যবর্ধনকারী ফুল হিসেবে বাড়ির আঙিনায় এটা লাগিয়ে থাকতো। কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী এই প্লটের মাধ্যমে স্থানীয়দের মাঝে এটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অনেক কৃষকই এটার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামীতে স্থানীয়ভাবে এর ব্যাপকতা অনেক বাড়বে এবং কৃষকরাও সূর্যমুখী চাষে লাভবান হবেন।

এদিকে হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, “কৃষকদের কাছ থেকে কোম্পানি সরাসরি ফুলটির বীজ কিনে নিবেন। কৃষকদের সাথে কোম্পানির প্রতিনিধিদের আন্তঃসর্ম্পক তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে কৃষকরা এটি কোথায় বিক্রি করবে সেটি নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ থাকবে না। আগামী বছরই এই এলাকায় হাজার বিঘা জমিতে এর চাষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল

সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল
সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল: নিজ ক্ষেতে সৈয়দ জামাল হোসেন।

একরের হিসেবে খরচ বাদ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। যা অন্য কোনো ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয়

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক সৈয়দ জামাল হোসেন। চলতি মৌসুমে তিনি এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামাল হোসেনের জমিতে এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য। এ সৈন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও তার জমিতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলছেন।

কমলগঞ্জ পৌর এলাকার কামারগাও গ্রামে বাড়ি সৈয়দ জামাল হোসেনের (৩৮)। সামাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কৃষিকাজও করেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে চলতি বছর পানিশালা গ্রামে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন তিনি।

সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল
সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল: এক বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ মণ ফসল পাওয়ার আশা করছেন জামাল হোসেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন ও ভালো দাম পাওয়া যায় বলে কৃষকরা এখন সূর্যমুখী চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ১ কেজি বীজ দিতে হয়। দেড় ফুট অন্তর অন্তর একটি করে বীজ বপণ করতে হয়। একটি সারি থেকে আরেকটি সারির দূরত্ব রাখতে হয় দেড় ফুট। মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বীজ বপণ থেকে শুরু করে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। সূর্যমুখীর বিঘাপ্রতি ফলন ৬ থেকে ৭ মণ। একরের হিসেবে খরচ বাদ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। যা অন্য কোনো ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয়।

জামাল হোসেন বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশা করছেন ভালো আয় হবে।”

কমলগঞ্জ পৌরসভা দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কনক লাল সিংহ বলেন, “সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। যদি সফল হওয়া যায় আগামীতে সূর্যমুখীর চাষ অনেক বাড়বে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

নানা রঙের ফুল আমরা দেখতে পাই। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সাদা- কত রঙের ফুল আছে। এর মধ্যে নীল ফুল মানেই অপরাজিতা। আরও চমকপ্রদ নাম রয়েছে ফুলটির। এর বৈশিষ্ট্যও অনেক। আসুন জেনে নেই অপরাজিতার চাষ সম্পর্কে-

পরিচয়: অপরাজিতা ফুলটি Popilionaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর ইংরেজি নাম ‘বাটারফ্লাই পি’। গাঢ় নীল বলে একে ‘নীলকণ্ঠ’ নামেও ডাকা হয়। এই ফুল এসেছে মালাক্কা দ্বীপ থেকে। টারনেটি বা মালাক্কা থেকে এসেছে বলে অপরাজিতার বৈজ্ঞানিক নাম ক্লিটোরিয়া টারনেটিকা। ক্লিটোরিয়া অর্থ যোনীপুষ্প। ফুলের ভেতরের আকৃতির জন্যই এ নাম। কেরালায় একে বলে ‘শঙ্খপুষ্পী’।

যত রং: নীল ছাড়াও সাদা এবং হালকা বেগুনি রঙের ফুল হয়ে থাকে। ফুলের ভেতরের দিকটা সাদা বা ঈষৎ হলুদ রঙের হয়ে থাকে।

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

বৈশিষ্ট্য: লতানো এবং সবুজ পাতা বিশিষ্ট গাছে এ ফুল হয়ে থাকে। তবে ফুলে কোনো গন্ধ নেই। তবু রঙের বাহারে ফুলটি অনন্য। হালকা সবুজ রঙের পাতার গড়ন উপবৃত্তাকার। ঝোপজাতীয় গাছে প্রায় সারা বছর ফুল ফোটে। বহুবর্ষজীবী এ লতা ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। লতা জাতীয় গাছে এক পাপড়ি ও দুই স্তর পাপড়িতে এই ফুল হয়।

রোপণ: অপরাজিত ফুল গাছের ডাল বর্ষাকালে স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে রোপণ করতে হয়। ছোট ছোট ধূসর ও কালো বর্ণের বিচি রোদে শুকিয়ে নরম মাটিতে রোপণ করতে হয়। বাড়ির আঙিনায়, টবে বা বাগানেও এ গাছ লাগানো যায়। আশেপাশের উঁচু গাছ বেয়ে এটি বেড়ে ওঠে।

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

প্রাপ্তিস্থান: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঢাকায় রমনা পার্ক, শিশু একাডেমির বাগান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, বলধা গার্ডেন ও কোনো কোনো অফিসের বাগানে এই ফুলের গাছ রয়েছে।

গুণাবলী: অপরাজিতা কেবল সৌন্দর্যে নয়, ওষুধি গুণেও অতুলনীয়। এর ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতা নানা ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। হিন্দুদের কাছে অপরাজিতা পবিত্র উদ্ভিদ। শারদীয় দুর্গোৎসবে ষষ্ঠীতে এবং বিজয়া দশমীর পূজায় এ ফুল ব্যবহার করা হয়।

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

সময়কাল: এই ফুলের বয়স অন্তত ৫ কোটি বছর। নীল অপরাজিতা বারো মাস ফোটে। তবে শীতে কমে যায়। নীল ফুলের গাছ যত তাড়াতাড়ি শাখা-প্রশাখা ছড়ায় সাদা তত তাড়াতাড়ি ছড়ায় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com