আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

গাছে নারকেল নেই, ভিয়েতনামের চারা রোপণের পরামর্শ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নারকেল গাছের অধিকাংশে ফলন নেই। আবার কিছু গাছে ফলন থাকলেও নারকেলের আকার ছোট ও দাগযুক্ত। গাছ থেকে পাড়ার পর দেখা যায় অর্ধকের বেশি নারকেল নষ্ট। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনায় এর প্রভাব বেশি।

প্রয়োজনীয় খাদ্য তালিকার মধ্যে নারকেল একটি। একদিকে যেমন অর্থকারি ফসল হিসেবে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দেয় অন্যদিকে নারকেল থেকে তেল তৈরি হয়। পিঠাপুলি তৈরিতে নারকেল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে বর্তমানে নারকেলের গাছগুলোতে ফলন নেই। আবার কিছু কিছু গাছে ফলন হলেও নারকেলের আকার ছোট।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে এসব এলাকার গাছগুলোতে আগের মতো নারকেল হওয়া সম্ভব নয়। সেজন্য নতুন জাতের সাগর পাড়ের জাত ভিয়েতনামের নারকেল গাছের চারা রোপণের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে এটিতে কৃষকদের খুব বেশি আগ্রহ নেই।

সাতক্ষীরা সদরের তালার শিবপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ খাঁ জাগো নিউজকে বলেন, আমার ৪০-৫০টি নারকেল গাছ রয়েছে। গাছগুলো অনেক বড়। ১০-১৫ বছর আগে নারকেল গাছের ফলন হতো অধিক। নারকেলের আকার ছিল বড়।বর্তমানে এখন আর গাছে ফলন ধরে না। কয়রকটি গাছে ফলন ধরলেও ভেতরে নষ্ট। নারকেলের আকার ছোট ও দাগযুক্ত।

কোনো কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়েছন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনো কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন মানুষ পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

মাঝিয়াড়া এলাকার রাজীব হোসেন বলেন, এলাকায় কয়েক হাজার নারকেল গাছ আছে। হাতেগোনা কিছু গাছে ছাড়া কোনো গাছে ফলন নেই। স্থানীয়দের ধারণা মোবাইল টাওয়ারের কারণে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে এমন হচ্ছে।

সুন্দরবন উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, আমার নিজের কয়েকশ নারকেল গাছ রয়েছে। এলাকাতে রয়েছে কয়েক হাজার। কোনো নারকেল গাছেই ফলন নেই। কিছু গাছে ফলন হলেও নারকেলের আকার খুব ছোট ও ভেতরে নষ্ট। এমনটা কেন হচ্ছে সঠিক কারণ জানা নেই।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ফারুক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পুষ্টির অভাবে নারকেল গাছগুলোতে ফলন নেই। কিছু গাছে ফলন হলেও সেগুলোর আকার হয় ছোট ও ভেতরে নষ্ট। নারকেল গাছের গোড়ায় মাটির দরকার হয়। কিন্তু অধিকাংশ গাছের গোড়ায় দেখা যায় মাটি নেই। যার কারণে পুষ্টি পায় না গাছগুলো। গাছের জন্য পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন হয়, সেগুলো কৃষকরা ব্যবহার করেন না। ফলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে নারকেল গাছে।

তবে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ির উপপরিচালক অরবিন্দু বিশ্বাস বলেন, ৯০’র দশক থেকে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনাতে নারকেল গাছগুলোতে ফলন কমতে শুরু করে। এর মূল কারণ হচ্ছে মাকড় অর্থাৎ মাকশার আক্রমণ। ২০০০ সালের পরে বিষয়টি নজরে আসে কৃষি অধিদফতরের। বর্তমানে এটি মহামারি আকারে ধারণ করেছে। ফলশ্রুতিতে নারকেল গাছগুলো আক্রান্ত ও সেই সঙ্গে ফলনে দেখা দিয়েছে প্রভাব।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নারকেল গাছে মাকড় নিধনের স্প্রে ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে কৃষকদের আগ্রহ নেই। পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবনী ছোট জাতের নারকেল গাছের চারা রোপণের জন্য বলা হচ্ছে। যেগুলো সাগর পাড়ের দেশ ভিয়েতনাম থেকে আনা হয়েছে। এসব নারকেল গাছে একদিকে যেমন ফলন বেশি হবে অন্যদিকে নিচে দাঁড়িয়েও নারকেল পাড়া যাবে। সেজন্য কৃষকদের নতুন জাতের নারকেল গাছের চারা রোপণের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ফল

৫ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন ফারুক

৫ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন ফারুক

দেখতে অনেকটা ছোট আকৃতির আপেলের মতো। রঙও আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক মিষ্টি। এ বরই অনেকটা বাউকুলের মতো দেখা গেলেও এটি মূলত আপেল কুল। এ বছর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আপেল কুলের পাশাপাশি নতুন জাতের কাশ্মিরি আপেল কুল চাষে এসেছে সাফল্য। ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক।

পাঁচ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া গ্রামের কৃষক মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, এবছর কুল প্রথম বিক্রি করেছি ১৮০ টাকা কেজি করে। এখন ১৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাদের ফলন ও বিক্রি খুব ভালো। কৃষি অফিস থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।

এ বছর উপজেলায় কুল চাষির সংখ্যা বেড়েছে। ফলনও বেড়েছে। কোনো প্রকার সমস্যা না হলে এবার ৫ লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

স্থানীয় আরেক কৃষক তুষার বিশ্বাস। তিনি বলেন, কুল চাষের জন্য উপযুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে ডুমুরিয়া অন্যতম। যেখান সূর্যের আলো পায়, সেসব জায়গায় আপেল কুল ভালো হয়।

jagonews24

ভিটা জমিতে যে কুলগুলো চাষ হয়, তার চেয়ে ঘেরের বেড়ির আইলে যে কুলটা হয়, সেই কুলের রং, স্বাদ, উৎপাদন ও বাজারের চাহিদা খুবই ভালো। কুল গাছ থেকে সংগ্রহ বাছাই ও প্যাকেজিং করে পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকার কারওয়ান বাজারে আড়তে বিক্রি করেন তারা।

ডুমুরিয়ার শোলমারি গ্রামের কৃষক হোসেন সরদার এ বছর তার জমিতে ব্যাপক পরিমাণের কুল চাষ হয়েছে। তিনি ১৮ বছর ধরে কুল চাষ করছেন। ফলন বেশি হওয়াতে ফলের ওজনে তার গাছ ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে কুলের চাষ করেছেন। আশা করছেন এবার চার লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে।

ডুমুরিয়ার জিলেরডাঙ্গী গ্রামের মৎস চাষি নিমাই চন্দ্র তার নিজস্ব মৎস ঘেরের বেড়িতে প্রায় একশত আপেল কুলের গাছ রোপণ করেন। তিনি বলেন, শীতের কারণে তার কুল ভালো হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কুল বিক্রয় হবে বলে তিনি আশা করেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ায় এবার ১০০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। অধিকাংশ কুলই ঘেরের পাড়ে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ উপায়ে উৎপাদন হয়েছে। এখানের উৎপাদিত কুল দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এখান থেকে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কুল দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি হয়।

এখানে যে জাতগুলো করা হয়েছে তার মধ্যে আপেল কুল, বাউকুল, নারকেল কুল। ইতোমধ্যে আপেল কুল ও কাশ্মিরি আপেল কুলের হারভেস্টিং (গাছ থেকে কুল সংগ্রহ) চলছে। এখান থেকে কুল সরাসরি ঢাকায় যাচ্ছে। এ বছর কুলের বাজার মূল্য বেশ ভালো।

jagonews24

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চল লবণাক্ত এলাকা। কুল লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এ উপজেলায় ঘেরের পাড়ে ও বাণিজ্যিকভাবে আরো বাগান তৈরি হচ্ছে। তারা কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের মাঠের যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, সেগুলো মাঠে গিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলা ১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে পাঁচ হেক্টর বেশি। এ বছর এ উপজেলা থেকে এক কোটি টাকার কুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

যে কারণে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করবেন

যে কারণে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করবেন

ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করতে ছাঁটাইয়ের বিকল্প নেই। আমাদের দেশের শহর-নগর-গ্রামে যেদিকেই তাকানো যায় ফলের গাছ চোখে পড়বেই। এসব গাছের অধিকাংশই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা। খুব কমসংখ্যক ফলগাছ অঙ্গ ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধির সুযোগ পায়। ফলগাছ রোপণই আসল কথা নয়।

রোপণ থেকে শুরু করে ফল ধারণ পযর্ন্ত ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ ছাঁটাই ফল গাছ ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম কাজ। মূলত দুটি উদ্দেশ্যে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। প্রথমত, অফলন্ত ফলগাছকে একটি নিদির্ষ্ট আকার আকৃতি দেয়া, দ্বিতীয়ত, অফলন্ত ও ফলন্ত ফলগাছের অপ্রয়োজনীয় দুবর্ল, চিকন, নরম, ভাঙ্গা ও মরা ডাল-পালা এবং রোগ ও পোকা আক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করে গাছের ভেতরের দিকে আলো-বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এ দুটি উদ্দেশ্য ছাড়াও আরো কিছু কারণে ফল গাছ ছাঁটাই করতে হয়। যেমন-

jagonews24

১. ফলগাছটি যদি মাতৃর্গাছ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ফলগাছ থেকে বেশি পরিমাণে সায়ন উৎপাদন করা।
২. ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করা।
৩. ঝড় বা প্রবল বাতাসে যেন ফলগাছ সহজে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য গাছকে সুগঠিত ও মজবুত অবকাঠামো প্রদান করা।

৪. ফল গাছের বিভিন্ন পরিচর্যার যেমন- বালাইনাশক স্প্রে করা, সায়ন সংগ্রহ করা ইত্যাদি কাজ সহজ করা।
৫. যেসব ফল গাছে ফল ধারণ সমস্যা আছে, সেসব গাছের ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নতুন শাখা-প্রশাখা গজানোর ব্যবস্থা করা।

৬. এক বছর পর পর যেসব গাছে ফল ধরে সেসব গাছের একান্তর ক্রমিক ফলনের প্রভাব কমানো বা ফল ধরার ব্যবস্থা করা।
৭. যেসব শাখা-প্রশাখা অন্য শাখা-প্রশাখার ভেতরে ঢুকে যায় বা নিন্মমুখী হয় সেগুলো ছাঁটাই করে গাছকে ঝোপালো অবস্থা থেকে মুক্ত রাখা।

jagonews24

ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন,- ডাল, পাতা, ছাল বা বাকল, ফুল, ফল ও শিকড় বিভিন্ন কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন ফল গাছের বিভিন্ন বয়সে জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব অনুযায়ী ছাঁটাই করতে হয়। ফল ধরার আগেই ফল গাছের কাঠামোগত আকৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য হচ্ছে গাছের শীর্ষ ছাঁটাই করে গাছকে খাটো রাখা।

এতে গাছে সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, স্প্রে করা এবং সহজে ফল সংগ্রহসহ অন্যান্য পরিচর্যা করা যায়। এ ছাড়া গাছে যদি ৪ থেকে ৭টি শাখা-প্রশাখা থাকে তাহলে গাছ যান্ত্রিকভাবেও দৃঢ় ও খোলা-মেলা হয়।

গাছের ভেতরের দিকে এমন কিছু শাখা-প্রশাখা গজায় যেগুলো থেকে কোন ফলন পাওয়া যায় না, সেগুলোও ছাঁটাই করা উচিত। কোন কোন ফল গাছের গোড়ার দিকে কিছু কিছু কুশি বা নতুন শাখা বের হতে দেখা যায়, সেগুলো নিয়মিতভাবে ছাঁটাই করতে হয়। যেমন- ডালিম, পেয়ারা, লেবু ও কাঁঠাল গাছের গোড়ায় দুই-তিন সপ্তাহ পর পর বের হওয়া কুশিগুলো ছাঁটাই করতে হয়।

ছাঁটাই করার সময় লক্ষ্য রাখতে হয়, গাছের সতেজতা কেমন, বয়স কত এবং জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব কেমন। কম বয়সী ফল গাছে যথাসম্ভব কম ছাঁটাই বা হালকা ছাঁটাই করতে হয়। তবে কম বা বেশি যে বয়সেরই হোক না কেন গাছে মরা বা ডাঙ্গা এবং রোগ-পোকা আক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাইয়ের সময় কিছুটা সুস্থ অংশসহ ছাঁটাই করতে হয়। মূল কাণ্ড এবং মোটা শাখা কখনোই ছাঁটাই করা ঠিক নয়।

বড় মোটা শাখা কাটার সময় নিদির্ষ্ট জায়গা থেকে প্রায় ১ ফুট বা ৩০ সেন্টিমিটার দূরে নিচের দিক থেকে কাটা শুরু করতে হয়। কাটার গভীরতা নিভর্র করে কাটা শাখার অংশ নিচের দিকে বেঁকে আসা পযর্ন্ত। এর পর শাখার উপরের দিকে প্রথম কাটার স্থান থেকে ১ ইঞ্চি বা আড়াই সেন্টিমিটার দূরে দ্বিতীয় কাটা দিতে হয়। এতে কাটা শাখা বাকল বা ছালের সাথে ঝুলে থাকে না।

jagonews24

কাটা জায়গায় আলকাতরা বা ছত্রাকনাশক লাগাতে হয়। চিকন শাখাও নিচের দিক থেকে কাটলে অকতির্ত অংশের ছাল বা বাকল উঠে আসে না। কাটার সময় সুস্থ-সবল কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির ঠিক উপরেই শাখা কাটা উচিত। তবে গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য শাখার কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির নিচেই কাটতে হয়।

ফল গাছ ছাঁইয়ের জন্য নিদির্ষ্ট সময় ও মৌসুমের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়। কারণ অসময়ে ছাঁটাই করলে সুফল পাওয়ার বদলে গাছে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফলন নাও পাওয়া যেতে পারে। বষার্র শেষে এবং শীতের আগে ফল গাছে ছাঁটাই করা উচিত। তবে ফল সংগ্রহের পরই ছাঁটাই করা সবচেয়ে ভালো।

গাছে ফুল আসার আগে আগে বা ফল ধরা অবস্থায় শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করা ঠিক নয়। তবে নিদির্ষ্টসংখ্যক ফলধারণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ফুল ও ফল ছাঁটাই করা যেতে পারে। এ ছাড়া খরা, দীর্ঘ শুকনো মৌসুম বা শীতের সময় কখনোই ছাঁটাই করা উচিত নয়। বষার্র সময় বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ছাঁটাই না করাই ভালো।

আমাদের দেশে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর অথবা শীতের আগেই অথবা যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। এতে সুস্থ-সবল ফল গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কয়েকটি জনপ্রিয় ও প্রচলিত ফলগাছের অঙ্গ ছাঁটাই সম্পর্কে সবারই কিছুটা ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ফলগাছের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

ফলগাছের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

দেশের সব জায়গায়ই মৌসুমি ফলগাছে অনেক রোগ ও পোকা-মাকড়ের সমস্যা ছাড়াও বেশকিছু সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। সেসব সমস্যার মধ্যে প্রধান প্রধান কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকারে কী করণীয় সেসব বিষয়ে জানা থাকলে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, কুল, নারিকেল, কলা, পেঁপে, লেবু, আমড়া, বেল, কতবেল, জামরুল, লটকন, জলপাই অন্যতম। এসব ফলে সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- অনিয়মিত ফল ধারণ, ফল ঝরেপড়া রোগ এবং পোকা-মাকড়ের উপদ্রব।

বাংলাদেশে প্রায় ৫০ ধরনের দেশি-বিদেশি ফলের চাষ হয়। এসব ফলের অর্ধেকেরও বেশি ফল পাওয়া যায় গরমকালে অর্থাৎ এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। বর্ষার পর শীতের শুরুতে বা শীতেও বেশকিছু ফল পাওয়া যায়। আবার এ সময়ের মধ্যে গরমকালের ফলগাছগুলোয় মুকুল বা ফুল বা কুঁড়ি আসাও শুরু হয়।

এসব ফলগাছে অনেক রোগ ও পোকা-মাকড়ের সমস্যা ছাড়াও আরো বেশকিছু সমস্যা দেখা যায়। সেসব সমস্যার মধ্যে প্রধান কিছু সমস্যা ও সমস্যার প্রতিকারে কি কি করণীয় সে বিষয়ে জানা থাকলে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।

অনিয়মিত ফল ধারণ সমস্যাটি প্রধানত দেখা যায় আমগাছে। নিয়মমাফিক ছাঁটাই ও সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সেচ প্রদান করে এ সমস্যা অনেকটাই দূর করা যায়। কোথাও কোথাও বিশেষ কিছু হরমোন ব্যবহার করে প্রতি বছর ফল ধরানোর ব্যবস্থা করা হয়। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা, এতে গাছের বেশ ক্ষতি হয় ও দ্রুত গাছ ফল ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ না করলে বা মাটিতে বোরনের ঘাটতি হলে বা মাটিতে রসের অভাব হলে বা বাতাসের আর্দ্রতা কম ও তাপমাত্রা বেশি হলে অনেক সময় ফলের মুকুল ও গুটি ঝরা সমস্যা দেখা যায়। আম, লিচু, পেয়ারায় ফল ঝরা সমস্যা বেশি দেখা যায়। বোরনের অভাবে পেঁপে, নারিকেলের গুটিও ঝরে পড়ে। প্রতি লিটার পানিতে ১ থেকে ২ মিলিলিটার হারে বোরিক এসিড বা সলুবর মিশিয়ে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যায়।

নারিকেলের ভেতরে অনেক সময় পানি হয় না বা নারিকেল ফেটে যায়। এটি গাছে পটাশের অভাবজনিত কারণে হয়। নিয়মিত বছরে দুবার সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগের সময় পটাশ কিছু পরিমাণে বেশি প্রয়োগ করলে এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিভিন্ন ফলে বিভিন্ন রোগের কারণে ফল উৎপাদন কমে যায় বা ফলনে বিপর্যয় দেখা দেয়।

ফলগাছের কচি পাতায় ফোস্কা পড়া রোগ বা এনথ্রাকনোজ রোগ দেখা দিলে কচি পাতা কালো হয়ে কুঁকড়ে যায় এবং গাছের শাখার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কলায় এনথ্রাকনোজ রোগ দেখা যায়। এ রোগে প্রথমে পাতা আক্রান্ত হলেও পরে তা কচি শাখা বা ডালে আগামরা ও পরে ফলে ফলপচা হিসেবে দেখা যায়। মেনকোজেব বা প্রপিকোনাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আম ও কাঁঠাল গাছের পাতা লাল মরিচা রোগে প্রথমে বাদামি রং ধারণ করে পরে কালো হয়ে ছোট ছোট ছিদ্র হয়ে যায়। কপার যুক্ত ছত্রাকনাশক স্প্রে করে লালমরিচা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলগাছে সাদাগুঁড়া রোগ বেশ সমস্যার সৃষ্টি করে। আম ও কুল গাছে যখন ফুল আসে এবং ফল যখন কচি অবস্থায় থাকে তখন সাদাগুঁড়া রোগে ফলের বেশ ক্ষতি হয়ে থাকে। ৮০% সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

কাঁঠালের মুচিপচা একটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও অনেক সময় এ কারণে গাছে কাঁঠালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। আসলে পুরুষ মুচিগুলোতে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে পরাগরেণু নষ্ট হয়ে পচন শুরু হয়। কাঁঠাল গাছে বয়স অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং ফল সংগ্রহের পর পুরোনো মরা, চিকন ও গাছের ভেতরের দিকের ডাল হালকা ছাঁটাই করলে গাছে পুরুষ ও স্ত্রী মুচি মোটামুটি একই সময়ে আসে এবং পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ধারণ হয়।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের পর পচামুচি গাছ ও গাছের নিচ থেকে সংগ্রহ করে পুঁতে ফেলতে হয়। পেয়ারা, লেবু ফল স্ক্যাব ও ক্যাংকার রোগে আক্রান্ত দেখা যায়। স্ক্যাব ও ক্যাংকার রোগে ফলে দাগ পড়ে ও ক্ষত তৈরি হয়। এতে ফলের বাজারমূল্য কমে যায়। কপার যুক্ত ছত্রাকনাশক স্প্রে করে লালমরিচা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আম, কাঁঠাল, লিচু, কুল, ডালিম ও পেয়ারাসহ অনেক ফলেই ফল ছিদ্রকারী পোকার উপদ্রব দেখা যায়। ফল যখন ছোট থাকে তখন পোকা ফলের গায়ে ডিম পেড়ে যায় এবং ডিম থেকে কীড়া বের হয়েই কচি ফলের ভেতরে ঢুকে শাঁস খেয়ে নষ্ট করে। গাছের মরা বাকল, ডাল ও গাছের নিচের আবর্জনার মধ্যে এ পোকার কীড়া সুপ্তকাল কাটায়।

এ জন্য ফল সংগ্রহের পর ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে গাছের ভেতরে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে এবং গাছের নিচের আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কার করলে এ পোকার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কচি ফল আক্রান্ত হলে ও ঝরে পড়লে গাছে প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ২ মিলিলিটার হারে ফেনিট্রথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ১৫ দিন পর পর দুইবার স্প্রে করতে হয়। কাঁঠাল গাছে এ সমস্যা দেখা দিলে ঘন হয়ে থাকা কাঁঠাল ফল ছাঁটাই করে পাতলা করে দিলে এ পোকার আক্রমণ কমে।

আম যখন পুষ্ট হয় তখন ফলে মাছি ও পোকার আক্রমণ দেখা যায়। এ মাছি ও পোকার আক্রমণে প্রায় সংগ্রহযোগ্য আম নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট বা পোকা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হয়। বিষটোপ বা ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এ পোকা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্রীষ্মকালে গরম বেশি পড়লে লিচু ও নারিকেল গাছে মাকড়ের সমস্যা দেখা যায়।

লিচুর পাতা বাদামি রংয়ের হয়ে কুঁকড়ে যায়। পাতার নিচের দিকে মখমলের মতো হয়। ৮০% সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে মাকড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কলার বিটল পোকা থেকে ফলকে রক্ষা করতে কাঁদি বের হওয়ার পর পরই ফলের কচি অবস্থায় সাদা বা নীল রংয়ের পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়।

পেয়ারা গাছের পাতার নিচে সাদামাছি পোকা জালের মতো আস্তরণ তৈরি করে পাতা থেকে রস চুষে খায়। এতে পাতা বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে ও গাছ দুর্বল হয়। আক্রান্ত গাছে ফুল ও ফল কম হয়। প্রাথমিক অবস্থায় পাতা ছিঁড়ে পায়ের তলায় পিষে এ পোকা মেরে ফেলা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সামান্য কেরোসিন মিশ্রিত পানি পাতার নিচের দিকে খুব জোরে স্প্রে করে এ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ পোকা আলোক ফাঁদ স্থাপন করেও মেরে ফেলা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

যে কারণে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করবেন

ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করতে ছাঁটাইয়ের বিকল্প নেই। আমাদের দেশের শহর-নগর-গ্রামে যেদিকেই তাকানো যায় ফলের গাছ চোখে পড়বেই। এসব গাছের অধিকাংশই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা। খুব কমসংখ্যক ফলগাছ অঙ্গ ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধির সুযোগ পায়। ফলগাছ রোপণই আসল কথা নয়।

রোপণ থেকে শুরু করে ফল ধারণ পযর্ন্ত ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ ছাঁটাই ফল গাছ ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম কাজ। মূলত দুটি উদ্দেশ্যে ফল গাছের অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। প্রথমত, অফলন্ত ফলগাছকে একটি নিদির্ষ্ট আকার আকৃতি দেয়া, দ্বিতীয়ত, অফলন্ত ও ফলন্ত ফলগাছের অপ্রয়োজনীয় দুবর্ল, চিকন, নরম, ভাঙ্গা ও মরা ডাল-পালা এবং রোগ ও পোকা আক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করে গাছের ভেতরের দিকে আলো-বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এ দুটি উদ্দেশ্য ছাড়াও আরো কিছু কারণে ফল গাছ ছাঁটাই করতে হয়। যেমন-

১. ফলগাছটি যদি মাতৃর্গাছ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ফলগাছ থেকে বেশি পরিমাণে সায়ন উৎপাদন করা।
২. ফল গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল-ফল উৎপাদনক্ষম শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বাড়ানো এবং ফলের গুণগতমান বৃদ্ধি করা।
৩. ঝড় বা প্রবল বাতাসে যেন ফলগাছ সহজে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য গাছকে সুগঠিত ও মজবুত অবকাঠামো প্রদান করা।

৪. ফল গাছের বিভিন্ন পরিচর্যার যেমন- বালাইনাশক স্প্রে করা, সায়ন সংগ্রহ করা ইত্যাদি কাজ সহজ করা।
৫. যেসব ফল গাছে ফল ধারণ সমস্যা আছে, সেসব গাছের ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নতুন শাখা-প্রশাখা গজানোর ব্যবস্থা করা।

৬. এক বছর পর পর যেসব গাছে ফল ধরে সেসব গাছের একান্তর ক্রমিক ফলনের প্রভাব কমানো বা ফল ধরার ব্যবস্থা করা।
৭. যেসব শাখা-প্রশাখা অন্য শাখা-প্রশাখার ভেতরে ঢুকে যায় বা নিন্মমুখী হয় সেগুলো ছাঁটাই করে গাছকে ঝোপালো অবস্থা থেকে মুক্ত রাখা।

ফল গাছের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন,- ডাল, পাতা, ছাল বা বাকল, ফুল, ফল ও শিকড় বিভিন্ন কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন ফল গাছের বিভিন্ন বয়সে জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব অনুযায়ী ছাঁটাই করতে হয়। ফল ধরার আগেই ফল গাছের কাঠামোগত আকৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য হচ্ছে গাছের শীর্ষ ছাঁটাই করে গাছকে খাটো রাখা।

এতে গাছে সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, স্প্রে করা এবং সহজে ফল সংগ্রহসহ অন্যান্য পরিচর্যা করা যায়। এ ছাড়া গাছে যদি ৪ থেকে ৭টি শাখা-প্রশাখা থাকে তাহলে গাছ যান্ত্রিকভাবেও দৃঢ় ও খোলা-মেলা হয়।

গাছের ভেতরের দিকে এমন কিছু শাখা-প্রশাখা গজায় যেগুলো থেকে কোন ফলন পাওয়া যায় না, সেগুলোও ছাঁটাই করা উচিত। কোন কোন ফল গাছের গোড়ার দিকে কিছু কিছু কুশি বা নতুন শাখা বের হতে দেখা যায়, সেগুলো নিয়মিতভাবে ছাঁটাই করতে হয়। যেমন- ডালিম, পেয়ারা, লেবু ও কাঁঠাল গাছের গোড়ায় দুই-তিন সপ্তাহ পর পর বের হওয়া কুশিগুলো ছাঁটাই করতে হয়।

ছাঁটাই করার সময় লক্ষ্য রাখতে হয়, গাছের সতেজতা কেমন, বয়স কত এবং জাত ও বৃদ্ধির স্বভাব কেমন। কম বয়সী ফল গাছে যথাসম্ভব কম ছাঁটাই বা হালকা ছাঁটাই করতে হয়। তবে কম বা বেশি যে বয়সেরই হোক না কেন গাছে মরা বা ডাঙ্গা এবং রোগ-পোকা আক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাইয়ের সময় কিছুটা সুস্থ অংশসহ ছাঁটাই করতে হয়। মূল কাণ্ড এবং মোটা শাখা কখনোই ছাঁটাই করা ঠিক নয়।

বড় মোটা শাখা কাটার সময় নিদির্ষ্ট জায়গা থেকে প্রায় ১ ফুট বা ৩০ সেন্টিমিটার দূরে নিচের দিক থেকে কাটা শুরু করতে হয়। কাটার গভীরতা নিভর্র করে কাটা শাখার অংশ নিচের দিকে বেঁকে আসা পযর্ন্ত। এর পর শাখার উপরের দিকে প্রথম কাটার স্থান থেকে ১ ইঞ্চি বা আড়াই সেন্টিমিটার দূরে দ্বিতীয় কাটা দিতে হয়। এতে কাটা শাখা বাকল বা ছালের সাথে ঝুলে থাকে না।

কাটা জায়গায় আলকাতরা বা ছত্রাকনাশক লাগাতে হয়। চিকন শাখাও নিচের দিক থেকে কাটলে অকতির্ত অংশের ছাল বা বাকল উঠে আসে না। কাটার সময় সুস্থ-সবল কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির ঠিক উপরেই শাখা কাটা উচিত। তবে গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য শাখার কুঁড়ি বা পবর্সন্ধির নিচেই কাটতে হয়।

ফল গাছ ছাঁইয়ের জন্য নিদির্ষ্ট সময় ও মৌসুমের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়। কারণ অসময়ে ছাঁটাই করলে সুফল পাওয়ার বদলে গাছে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফলন নাও পাওয়া যেতে পারে। বষার্র শেষে এবং শীতের আগে ফল গাছে ছাঁটাই করা উচিত। তবে ফল সংগ্রহের পরই ছাঁটাই করা সবচেয়ে ভালো।

গাছে ফুল আসার আগে আগে বা ফল ধরা অবস্থায় শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করা ঠিক নয়। তবে নিদির্ষ্টসংখ্যক ফলধারণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ফুল ও ফল ছাঁটাই করা যেতে পারে। এ ছাড়া খরা, দীর্ঘ শুকনো মৌসুম বা শীতের সময় কখনোই ছাঁটাই করা উচিত নয়। বষার্র সময় বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ছাঁটাই না করাই ভালো।

আমাদের দেশে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর অথবা শীতের আগেই অথবা যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। এতে সুস্থ-সবল ফল গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কয়েকটি জনপ্রিয় ও প্রচলিত ফলগাছের অঙ্গ ছাঁটাই সম্পর্কে সবারই কিছুটা ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

হঠাৎ সাদা হয়ে যাচ্ছে ফল গাছের পাতা

পটুয়াখালীতে হঠাৎ করেই নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছের সবুজ পাতা সাদা হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার তেলিখালী এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ বলেন, গত দুই মাস যাবৎ হঠাৎ করেই নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন ফল গাছের সবুজ পাতা প্রথমে সাদা এরপর একেবারে কালো হয়ে মারা যাচ্ছে।

গলাচিপার কলাগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা নিমাই চক্রবর্তী বলেন, এ জীবনে এখন পর্যন্ত পাতা সাদা হতে দেখিনি। পাতায় পোকা হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা আমাদের কোনো পরামর্শ দেয়নি। অনেক গাছের পাতা মরে যাচ্ছে। একটা অজানা আতঙ্ক কাজ করছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মার্জিন আরা মুক্তা বলেন, সম্প্রতি নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন ফল গাছে কালো রঙের আবরণ তৈরি হয়েছে। এটি মূলত কোনো রোগ নয়, এটি একটি পোকার আক্রমণ।

ক্ষতিকারক পোকাটির নাম রুগোজ স্পাইরালিং হোয়াইট ফ্লাই। এটি আকৃতিতে ছোট হয়। এরা মূলত পাতার রস শুষে খায়। পরে গাছের পাতার নিচে সাদা মোমের আস্তরণ পড়ে। সেখানেই এরা ডিম পাড়ে ও সেখান থেকে বের হয়।

যেহেতু এরা রস শুষে খায় ফলে পাতা কালো রঙের হয়ে যায়। ফলে পাতার সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হওয়ার কারণে পাতা এবং গাছটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যেতে পারে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এর আক্রমণ দেখা দেয়া মাত্রই হাই প্রেশারে সাবান পানি স্প্রে করতে হবে। এর পরবর্তীতে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com