আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

গাছপালার সবুজে সুসজ্জিত যে মসজিদ

শিশুদেরকে মসজিদের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে মসজিদের ইমাম পুরো মসজিদকে বনায়ন হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন প্রজাতির ফুল-ফল সমৃদ্ধ অসংখ্য গাছপালায় সুসজ্জিত এ মসজিদ। দেখুন তুরস্কের এই নজরকাড়া মসজিদের ছবি। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

সকালবেলা নিয়মিত যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি

সুন্নাতি জীবন-যাপন মানুষের মুক্তিরএকমাত্র পথ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে দেখিয়েছেন সঠিক পথের সন্ধান। সুখ ও বরকতময় জীবন লাভের পাথেয় ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিজে আমল করেছেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমলগুলো মুমিন মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মতি ফজরের নামাজের পরপরই আল্লাহর কাছে হালাল রিজিক কামনা করতেন। এমন জ্ঞান কামনা করতেন, যাতে মানুষের উপকার হয়। আর নিজের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্যও প্রার্থনা করতেন। এটি মূলত উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো একটি দোয়া ও নসিহত। হাদিসে এসেছে-

হজরত উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজ পড়ে সালাম ফিরিয়ে বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ ওয়া রিযকান তায়্যিবা ওয়া আমালান মুতাকাব্বিলা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি, উত্তম-পবিত্র রিজিক কামনা করছি এবং কবুল হওয়ার মতো কর্ম তৎপরতা কামনা করছি।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

দিনের শুরুতে ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর এ দোয়া পড়তেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ আমলটি প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার। কেননা মুমিন মুসলমানের তো হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমলই জীবনে একমাত্র চাওয়া-পাওয়া।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর হাদিসে নির্দেশনা অনুযায়ী এ আমল ও দোয়াটি যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান এবং নেক আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সালাম দিলে দুনিয়াতেই মিলবে ৪ উপকার

সালাম হোক মুমিন মুসলমানের অভিভাদনের একমাত্র মাধ্যম। সুন্নাতই হোক জীবন পরিচালনা একমাত্র উৎস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা মানুষকে খাওয়াবে আর চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেবে।’ সালাম দেয়া নবির সুন্নাত ও নির্দেশ। আর সালামে বাধা দেয়া শয়তানের কাজ। কারণ সালাম-এর ৪ ধরনের উপকারিতা থেকে বিরত রাখতেই শয়তান মানুষকে সালাম দিতে নিরুৎসাহিত করে।

সালাম কেন দেবেন?
আল্লাহ তাআলা সালাম দিতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাম দেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু কখন এ সালাম দেবেন? যখন কারও সঙ্গে দেখা হয় তখন সালাম দিতে হয়। এ সালাম দেয়া রয়েছে অনেক উপকার ও সাওয়াব।

শুধু দেখা-সাক্ষাতেই সালাম সীমাবদ্ধ নয় বরং কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে প্রবেশের আগে সালাম দেয়া জরুরি। আবার বাহিরের কাজ শেষে নিজ বাড়িতে গিয়ে ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেয়া। সালাম দেয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُون
অতপর যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও। [ সুরা নুর ২৪:৬১ ]

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা সালামকে কল্যাণ ও পবিত্রতার দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় সালামের অনেক উপকারিতার কথা উঠে এসেছে। হাদিসের বর্ণনায় সেগুলো হলো-

> সালামে বরকত লাভ হয়
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, ‘হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাবে, তখন সালাম দেবে। তাতে তোমার ও তোমার পরিবার-পরিজনের কল্যাণ হবে।’ (তিরমিজি)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে নিজ পরিবার-পরিজনকে সালাম দেয়ার কথা বলেছেন। স্বামী তার স্ত্রী, সন্তান, বাবা, মা, ভাই, বোনকে সালাম দেবে। আবার স্ত্রীও পরিবেরর লোকদের সালাম দেবে। সন্তান-সন্তুতিও তার বাবা-মা এবং পরিবারের ছোট-বড়দের সালাম দেবে, তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত তথা কল্যাণ নেমে আসবে।

> সালামকারীকে আল্লাহ হেফাজত করেন
আল্লাহ তাআলা সালামের প্রচলকারীর জন্য জিম্মাদার হয়ে যান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তিন শ্রেণির লোকের জিম্মাদার হন-
– যে ব্যক্তি সালাম দিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ ঘরে স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন, ছোট-বড় যেই থাকুক না কেন; তাদের সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। আল্লাহ তাআলা ওই বাড়িকে ওই ব্যক্তিকে হেফাজত করেন।’ (আদাবুল মুফরাদ)

> সালাম দিলে সাওয়াব হয়
পরস্পর সাক্ষাতে সালাম বিনিময়ে রয়েছে অনেক সাওয়াব। সালামের সাওয়াব লাভের নমুনা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে পাকে উঠে এসেছে-
হজরত ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’। তখন তিনি বললেন, লোকটির জন্য ১০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসে (একটু বাড়িয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা ‘। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, তার জন্য ২০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসে (আরও একটি শব্দ বাড়িয়ে) বললেন- ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু’। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার (সালামের) উত্তর দিয়ে বললেন, লোকটির জন্য ৩০টি নেকি লেখা হয়েছে।’ (তালিকুর রাগিব, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ, মেশকাত)

> সালাম হলো দোয়া
পরস্পরের সালাম বিনিময় বা একে অপরকে অভিভাদন করাটা মূলত দোয়া। সালামের অর্থের দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সালামের মাধ্যমে কি বলা হয়? সালামে বলা-
– السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ অর্থাৎ আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটি একটি দোয়া। আর সালামের উত্তরে বলা হয়-
– وَعَلَيْكُمُ السَّلاَم অর্থাৎ আপনারও উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটি একটি দোয়া। সালামকারী যেভাবে দোয়া করে, সালামের উত্তরদানকারীও সালাম প্রদানকারীর জন্য এভাবে দোয়া করে। এভাবে সালামের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের জন্য শান্তির দোয়া করে।

মানুষ যখন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের পরিচিতদের মধ্যে বার বার সালামের ব্যাপক প্রচলন করবে, বার বার সালাম দিতে থাকবে। আর আল্লাহ তাআলা বারবার সালাম দেয়ার মধ্য থেকে একবারের দোয়া কবুল করে নেয়, তাতেই সালামের আদান-প্রদান স্বার্থক হবে। বান্দা জীবনের সব কাজে পাবে বরকত, হেফাজত, সাওয়াব ও দোয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সালামের গুরুত্ব বোঝার তাওফিক দান করুন। সালামের মাধ্যমে বরকত লাভ, হেফাজত লাভ ও সাওয়াব লাভ এবং দোয়া কবুল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ’ লিটার সুগন্ধি!

মহামারি করোনায় কাবা শরিফে দীর্ঘদিন ওমরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর এখন সবার নামাজের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ওমরাহ পালনকারী ও মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন ৪ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এ কাজে নিয়োজিত। প্রতিদিন স্প্রে করা হয় ১ হাজার ২০০ লিটার সুগন্ধি। খবর আল-আরাবিয়া আরবি।

প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দীর্ঘ সাড়ে ৭ মাস ওমরাহ বন্ধ থাকার পর গত ৪ অক্টোবর থেকে প্রথম ধাপে সীমিত পরিসরে তা আবার শুরু হয়েছে। এখন চলছে দ্বিতীয় ধাপে ওমরাহ পালন। এ ধাপে ওমরাহকারীদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে তৃতীয় ধাপে বহির্বিশ্বের ওমরাহ পালনকারীদের গ্রহণে সৌদি আরব প্রস্তুত বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে কাবা শরিফে সবার জন্য নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে চলছে ওমরাহ কার্যক্রম। ওমরাহ পালনকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হারামাইন কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সচেতনার সঙ্গে কাজ করছে। ওমরাহ পালনকারী ও মুসল্লিদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মসজিদের হারাম এলাকায় প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ লিটার আতর স্প্রে করছে। পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে ৪ হাজার কর্মী।

হারামাইন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মসজিদে হারামে ওমরাহ আদায়ের লক্ষ্যে আগত মুসল্লিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, মসজিদুল হারামের অভ্যন্তর, বহিরাংশ ও মাতআফসহ পুরো এলাকা পরিচ্ছন্নতায় এবং সুগন্ধি ছিটানোর কাজে ৪ হাজার কর্মী নিয়োজিত। বিশাল এ বহরে পুরুষের পাশাপাশি নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীও রয়েছেন। বিশাল কর্মী বাহিনী পরিচালনায় ১৮০ জন সুপারভাইজার নিরলস তদারকির কাজ করে যাচ্ছেন। সুপারভাইজারদের দক্ষ পরিচালনায় তিন শিফটে ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা এ সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

প্রতিদিন কাবা শরিফ তথা পুরো মসজিদে হারাম এলাকা রাত-দিন মিলিয়ে ১০ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এ কাজে ডিজিটাল মেশিনে পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত উন্নত প্রযুক্তির ডিটারজেন্ট এবং জীবাণুনাশকও ব্যবহার করা হয়। সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিদিন ১২ লিটার বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পবিত্র সুগন্ধি ছিটানো হয়।

উল্লেখ্য, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিচালক জাবের ওদাআনি জানান, পুরো মসজিদে হারাম এলাকা ছাড়াও পবিত্র কাবা শরিফ, মাতআফ, রোকনে ইয়ামেনি, হাজরে আসওয়াদ, মুলতাজেম, হাতিমে কাবা, মাকামে ইবরাহিম, সাফা-মারওয়া পাহাড় সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অব্যাহত রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ওমরাহ পালনে বিদেশিদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত সৌদি

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের পর ধাপে ধাপে সবার জন্য ওমরাহ পালনে পবিত্র কাবা শরিফ খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় সৌদি। তৃতীয় ধাপে আগামী ১ নভেম্বর থেকে বিদেশি ওমরাহ পালনকারীদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত অনুমোদিত ৫৩১ ওমরাহ কোম্পানি। আগের ঘোষণা অনুযায়ী গত ৪ অক্টোবর থেকে প্রথম ধাপে ওমরাহ কার্যক্রম শুরু হয়। এখন চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওমরাহ। খবর সৌদি গেজেট।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদেশিদের জন্য ওমরাহ পালনের সুযোগ ঘনিয়ে আসছে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত তৃতীয় ধাপে আগামী ১ নভেম্বর থেকে বিদেশিরা ওমরাহ পালন ও দুই পবিত্র মসজিদ মক্কার কাবা শরিফ, মদিনার মসজিদে নববি ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা জেয়ারত করতে পারবেন। বিদেশিদের ওমরাহ পালনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন। বিদেশি ওমরাহ পালনকারীদের সেবা দিতে প্রস্তুত ৫৩১ ওমরাহ কোম্পানি।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, পবিত্র ওমরাহ পালনে বিদেশ থেকে আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করোনভাইরাস সংক্রান্ত সব ধরনের সাবধানতা এবং নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

সৌদি আরবের জাতীয় হজ ও ওমরাহ কমিটির সদস্য এবং মক্কায় অবস্থিত হোটেল কর্তৃপক্ষ কমিটির সদস্য হানি আল-ওমাইরি বলেছেন, ‘ওমরাহ পালনকারীদের যারা গ্রহণ করবেন, সেসব ওমরাহ সংস্থা ও তাদের কর্মী বাহিনীকে ওমরাহ পালন বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।’

ওমরাহ সংস্থার সদস্যদের প্রশিক্ষণে ছিল-
– সংকট মোকাবিলার উপায়;
– ভিড় নিয়ন্ত্রণ;
– ওমরাহ পালনকারীদের বিমানবন্দর ও হোটেলে অভ্যর্থনা এবং সর্বোত্তম পরিষেবা নিশ্চিত করা।
– পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফ আঙিনায় প্রবেশ ও বাইরে তদারকি করা।
– ‘ইতামারনা’ অ্যাপের মাধ্যমে পবিত্র নগরী মক্কায় ওমরাহ পালন এবং মদিনায় রওজা জেয়ারত ও রিয়াজুল জান্নাহতে নামাজ পড়ার সুযোগ লাভের কার্যক্রম সম্পাদনের সহায়তা করা।

ওমরাহ পালনকারীদের সুবিধার্থে উল্লেখিত বিষয়গুলো ওমরাহ কোম্পানির সদ্যদের সরাসরি তদারকির মাধ্যমে সম্পাদন করা হবে। তা সম্পাদনে ৫৩১ ওমরাহ সংস্থার সদস্যরা প্রশিক্ষণ গ্রহণপূর্বক প্রস্তুত রয়েছে।

আল-ওমাইরি আরও বলেন, ‘বহির্বিশ্বের লোকদের ওমরাহ সম্পাদনের সহায়তা অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ওমরাহ এজেন্সি রয়েছে। তাদের পাঠানো ওমরাহ পালনকারীদের সহায়তায় সৌদি আরবের অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫৩১টি ওমরাহ সংস্থা রয়েছে। যারা লাখ লাখ ওমরাহ সম্পাদনকারীর সহায়তা দিতে এ ওমরাহ সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।’

বিদেশি ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ওমরাহ সম্পাদনের সেবা পেতে ৩২টি সাইট ও প্লাটফর্ম প্রস্তুত রয়েছে।

বিদেশি ওমরাহ পালনকারীদের সেবা দিতে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় ১ হাজার ২০০ হোটেল প্রস্তুত। এর মধ্যে পবিত্র নগরী মক্কায় রয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুম। মদিনায় ৭৫ হাজার রুম প্রস্তুত।

এছাড়া বিদেশি ওমরাহ পালনকারীদের সহায়তা দিতে ১৪ হাজার সৌদি যুবক ও নারী প্রস্তুত। এবারের ওমরাহ মৌসুমের বাকি সময়ে হোটেল, পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে প্রায় ১০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল উপার্জন হবে বলে আশা করছেন আল-ওমাইরি।

উল্লেখ্য, হারামাইন ডটইনফোর তথ্য মতে, চার ধাপে ওমরাহ পালনের সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব। এখন চলছে দ্বিতীয় ধাপ। এ ধাপে প্রতিদিন ১৫ থেকে ৪০ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ পালন করছেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে তৃতীয় ধাপে প্রতিদিন ২০ থেকে ৬০ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ পালন করবেন। সর্বশেষ ধাপে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় শতভাগ ওমরাহ পালন করবে মুসলিম উম্মাহ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইরান

ভাষা বিতর্ক: খোদা হাফেজ-এর জায়গায় আল্লাহ হাফেজ-এর প্রচলন কখন, কীভাবে হলো? আরবদের মাঝে বিদায়ী সম্ভাষণের ভাষা কী?

উপমহাদেশে ও তার বাইরেও মুসলিম রীতিতে সম্ভাষণ জানানো হয় 'আসসালামু আলাইকুম' বলে
উপমহাদেশে ও তার বাইরেও মুসলিম রীতিতে সম্ভাষণ জানানো হয় ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে

বাংলাদেশের এক টিভি অনুষ্ঠানে ‘আল্লাহ হাফেজ’ নিয়ে একজন অধ্যাপকের মন্তব্য নিয়ে অনলাইনে তুমুল আলোচনা-বিতর্ক চলছে।

টিভি চ্যানেল ডিবিসির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন,”আগে আমরা ‘স্লামালেকুম’ বলতাম … এখন যেভাবে স্ট্রেস দিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে এটা এই পুরো বিএনপি-জামাত মাসলার মধ্যে শেখানো হয়েছে। কিংবা ‘আল্লাহ হাফেজ’ …. যে ‘খোদা হাফেজ’ আমরা বলতাম খুব সহজে, এটা আল্লাহ হাফেজ… এগুলো দিয়ে কিন্তু একটা ডিসকোর্স তৈরি করা হয়েছে।”

অধ্যাপক জিয়া রহমানের এই মন্তব্য প্রচার হবার পরই শুরু হয় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা-বিতর্ক।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলছেন, স্পষ্ট করে আসসালামু আলাইকুম বলায় দোষের কিছুই নেই, শুদ্ধ উচ্চারণে ইংরেজি বলা দোষের না হলে শুদ্ধভাবে এই ঐতিহ্যগত সম্ভাষণ উচ্চারণ করা দোষের হবে কেন? তারা বলছেন, ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাটাও তাদের মতে ‘খোদা হাফেজ’ বলার চাইতে ধর্মীয় দিক থেকে অধিকতর সংগত।

অন্য অনেকের মত, বাঙালি মুসলিমদের সম্ভাষণ ও বিদায় জানানোর যে চিরাচরিত রীতি তা থেকে মানুষ বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে – এবং তার পেছনে আছে সৌদি-অনুপ্রাণিত ওয়াহাবি ভাবধারার ইসলামী মতাদর্শের উত্থান। এর সাথে কেউ কেউ উগ্রপন্থা বা জঙ্গিবাদের সম্পর্কও দেখছেন।

কিন্তু পরস্পরকে সম্ভাষণ ও বিদায় জানাবার এই মুসলিম রীতিগুলো আসলে কোন পটভূমিতে সৃষ্টি হয়েছে?

পৃথিবীর অন্য মুসলিম দেশে কি ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা হয়?

মুসলমানরা কীভাবে পরস্পরকে সম্ভাষণ করেন

সাধারণভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মুসলমানদের মাতৃভাষা যাই হোক না কেন সাধারণত: তারা পরস্পরকে সম্ভাষণ করেন ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে।

এটা ঠিক যে কথাটা আগে যেমন একটু সংক্ষেপ করে স্লামালেকুম বলা হতো, আজকাল অনেকে তা না করে পুরো কথাটা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করেন।

আরব দেশগুলোতে সাধারণত সম্ভাষণ ও বিদায়ের সময় যথাক্রমে আসসালামু আলাইকুম ও মা'সালামা বলা হয়
আরব দেশগুলোতে সাধারণত সম্ভাষণ ও বিদায়ের সময় যথাক্রমে আসসালামু আলাইকুম ও মা’সালামা বলা হয়

তা ছাড়া অনেককে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহে ওয়া বারাকাতাহু’ বলতেও শোনা যায়, তবে এটাকে একটু ‘আনুষ্ঠানিক’ বলা যেতে পারে – সাধারণ কথোপকথনের সময় এটা কমই বলতে শোনা যায়।

আর বিদায়ের সময় এ অঞ্চলে ‘খোদা হাফেজ’ বা ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা হয়।

মরক্কো থেকে ইরাক পর্যন্ত বিশ্বের যে বিস্তীর্ণ ভুখন্ডে আরবি ভাষাভাষীরা বাস করেন – তারা একে অপরের সাথে দেখা হলে ‘আসসালামু আলাইকুম’, এবং বিদায় নেবার সময় ‘মা’সালামা’ বলেন, তবে অঞ্চলভেদে কিছু স্থানীয় রীতিও আছে।

ফারসি-ভাষী ইরানে সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে ‘সালাম’ এবং বিদায় নেবার সময় ‘খোদা হাফেজ’ বলা হয়।

আল্লাহ হাফেজ-এর উৎপত্তি কোথায়, কখন, কীভাবে?

বলা যেতে পারে, মুসলিমদের মধ্যে বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার রীতি শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই আছে। এখান থেকেই হয়তো তা এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন, ‘আল্লাহ হাফেজের’ উৎপত্তি হলো কোথায়, কখন, কীভাবে?

বাংলাদেশে ১৯৮০র দশকে প্রথম ‘আল্লাহ হাফেজ’ কথাটি শোনা যেতে থাকে। এর আগে বাঙালি মুসলমানরা প্রায় সার্বজনীনভাবেই বিদায়ের সময় খোদা হাফেজ বলতেন।

‘আল্লাহ হাফেজ’ কথাটির উৎপত্তি নিয়ে অনেক লেখক-গবেষকই বিভিন্ন সময় লিখেছেন।

পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়া বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক সৈয়দ হামাদ আলি ২০১২ সালে ব্রিটিশ দৈনিক দি গার্ডিয়ানে এক নিবন্ধে লিখেছেন, পাকিস্তানে ১৯৯০এর দশকেও অধিকাংশ লোকই বিদায় নেবার সময় ‘খুদা হাফিজ’ বলতেন, কিন্তু এখন সবাই – ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে ফ্যাশন মডেল বা টিভির উপস্থাপক পর্যন্ত – সবাই ‘আল্লাহ হাফিজ’ বলছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, এ পরিবর্তন পাকিস্তানের উদারপন্থীদের অস্বস্তির কারণ হয়েছে, তাদের মতে এটা পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটা পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

সৈয়দ হামাদ আলি বলছেন, ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটা প্রথম ব্যবহার শুরু হয় পাকিস্তানে ১৯৮০র দশকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের শাসনকালে।

জিয়া-উল-হক ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক ছিলেন
জিয়া-উল-হক ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসক ছিলেন

তার মতে, ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল পিটিভিতে একজন সুপরিচিত উপস্থাপক প্রথম ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটা ব্যবহার করেন। তবে জনসাধারণের মধ্যে এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে আরো অনেক পরে।

মি. আলি লিখেছেন, এর পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, ফারসি শব্দ ‘খোদা’র অর্থ ‘ঈশ্বর’ যা যেকোন ধর্মের ঈশ্বর বোঝাতে পারে, তাই আল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনে উক্ত সৃষ্টিকর্তার নাম।

তবে তিনি আরো লেখেন, মধ্যপ্রাচ্যের এক কোটি আরবি-ভাষী খ্রিস্টানও ঈশ্বর বোঝাতে ‘আল্লাহ’ শব্দটিই ব্যবহার করেন এবং আরবরা কখনোই পরস্পরকে বিদায় জানানোর সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলেন না।

আরবরা সম্ভাষণের সময় কি বলেন?

এ নিয়ে কথা হয় বিবিসির আরবি বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-কাসিরের সাথে।

তিনি বলছিলেন, মরক্কো থেকে শুরু করে ইরাক পর্যন্ত এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অনেকগুলো দেশের অভিন্ন ভাষা আরবি, কিন্তু প্রতিটি দেশেই আরবি ভাষা কিছুটা আঞ্চলিক রূপ নিয়েছে। সেটা উচ্চারণের টান এবং শব্দ-বাক্য ব্যবহারের ভিন্নতা থেকেও বোঝা যায়।

কিন্তু সাধারণভাবে সব আরবের মধ্যেই পরস্পরকে প্রথম সম্ভাষণের রীতি হলো ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা এবং বিদায় জানাবার সময় ‘মা’সালামা’ বলা।

মোহাম্মদ আল-কাসির নিজে মিশরের লোক।

তিনি বলছিলেন, মিশরে এমনকি আরব খ্রিস্টানরাও পরস্পরের সাথে দেখা হলে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেন। সে হিসেবে হয়তো এটাকে কোন বিশেষ ধর্মীয় রীতি না বলে ‘আরব রীতি’ বলা যায়।

আরব বিশ্বের কোথাও কোথাও অন্যভাবেও স্থানীয় রীতিতে সম্ভাষণ বা বিদায় জানানো হয়।

বিদায় নেবার সময় ‘মা’সালামা’ বলা মোটামুটি সব আরব দেশেই প্রচলিত।

আরবরা কেউই বিদায় নেবার সময় 'আল্লাহ হাফেজ' ব্যবহার করেন না।
আরবরা কেউই বিদায় নেবার সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ ব্যবহার করেন না।

বিদায় নেবার সময় ‘মা’সালামা’ বলা ছাড়াও আরবি ভাষাতে ভিন্নভাবে বিদায় জানানোর রীতিও আছে।

মোহাম্মদ আল-কাসির বলছিলেন, বিদায় নেবার সময় আরবরা কখনো কখনো “আল্লাহ ইয়া’আতিক আল’আসিয়া” – এটাও বলে থাকেন।

তবে তারা কেউই বিদায় নেবার সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ ব্যবহার করেন না।

কিন্তু ‘আল্লাহ আপনার হেফাজত করুন’ এরকম বাক্য কথাবার্তার মধ্যে প্রাসঙ্গিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়।

আরবদের মধ্যে সম্ভাষণ হিসেবে ‘আহ্লান’ বা ‘আহ্লান ওয়া সাহ্লান’ (অনেকটা ইংরেজি হ্যালো’র মত), বা সাবাহ্ আল-খায়ের (সুপ্রভাত), বা মাসা আল-খায়ের (শুভ সন্ধ্যা) – এগুলোও বলা হয়ে থাকে।

বিদায় নেবার সময় মা’সালামা ছাড়াও আরবে ইলা’লিকা-ও বলা হয় – যার অর্থ খানিকটা ‘আবার দেখা হবে’-র মতো।

ফারসি ভাষীরা কি বলেন?

এ নিয়ে কথা হয় বিবিসি ফারসি বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক আলি কাদিমির সাথে।

তিনি বলছিলেন, ইরানের সর্বত্রই দুজন ব্যক্তির দেখা হলে সম্ভাষণ হিসেবে একে অপরকে বলেন ‘সালাম’, আর বিদায় নেবার সময় বলেন ‘খোদা হাফেজ’।

তবে তিনি বলছিলেন, ইরানে খুব কমসংখ্যক কিছু লোক আছেন – যাদের তিনি বিদায় জানানোর সময় আল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করতে শুনেছেন। তারা ফারসি ভাষায় ‘আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও শান্তিতে রাখুন’ এমন একটা বাক্য বলে বিদায় জানিয়ে থাকেন।

তেহরানের একটি বাজার: ইরানীরা বিদায়ের সময় বলেন খোদা হাফেজ
তেহরানের একটি বাজার: ইরানীরা বিদায়ের সময় বলেন খোদা হাফেজ

ইরানে এবং ফারসি ভাষায় ‘খোদা’ এমন একটি শব্দ – যা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং তা যে কোন ধর্মের ঈশ্বরকে বোঝাতেই ব্যবহৃত হতে পারে।

মধ্য এশিয়ার যেসব দেশে ফারসি বা তার কাছাকাছি ভাষাগুলো বলা হয়, যেমন আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান ইত্যাদি দেশেও বিদায়ের সময় ‘খোদা হাফেজ’ বলার প্রচলন আছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন কায়েম হবার পর থেকে ১৮৩০-এর দশক পর্যন্ত রাজদরবার ও আইন-আদালতের ভাষা ছিল প্রধানত ফারসি।

তাই ফারসি আদব-কায়দার প্রভাবেই হয়তো উপমহাদেশের মুসলিমদের মধ্যে বিদায়ী শুভেচ্ছা হিসেবে ‘খোদা হাফেজ’ বলার’ প্রথা চালু হয়।

১৯৮০র দশকে ‘আল্লাহ হাফেজ’ চালু?

প্রশ্ন হলো, ১৯৮০র দশকে পাকিস্তানে ‘আল্লাহ হাফেজ’ চালু হবার কথাই বা কতটা সঠিক?

পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং উর্দু ভাষাবিদ ড. রউফ পারেখের মতে, ১৮০ বছর আগেও উর্দু ভাষায় ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটি ছিল ।

মুসলিমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দেশে আচার আচরণের বেশ কিচু পার্থক্য আছে
মুসলিমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দেশে আচার আচরণের বেশ কিচু পার্থক্য আছে

সম্প্রতি ডন পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লেখেন, উর্দু ভাষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিধান উর্দু লুঘাতে বলা হচ্ছে, বিদায়ী শুভেচ্ছা অর্থে ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটি প্রথম ব্যবহারের নজির পাওয়া যায় ১৯০১ সালে।

ড. পারেখ বলছেন, তারও আগে ১৮৮০ এবং ১৮৪৫ সালের পুরোনো উর্দু অভিধানেও ‘আল্লাহ আপনাকে সুরক্ষা দিন’ অর্থে ‘আল্লাহ হাফিজ’ বাক্যবন্ধটির উল্লেখ আছে, এবং উর্দু কবি হাজিম ১৮৬৮ সালে তার কবিতায় ‘আল্লাহ হাফিজ’ ব্যবহার করেছেন।

ড. পারেখের সাথে আমার যোগাযোগ হয় ইমেইলে।

তিনি জানালেন, উনিশশ’ আশির দশকে ‘আল্লাহ হাফিজ’ কথাটা প্রথম ব্যবহার হয় এমন কথা ভুল, কারণ লোকের মুখে কথাটা ব্যবহৃত না হলে উনবিংশ শতাব্দীর কবি এটা ব্যবহার করতেন না, অভিধানেও তা থাকতো না।

ড. পারেখের কথায় মনে হয়, ‘আল্লাহ হাফেজ’ কথাটার উৎপত্তি সম্ভবত পাকিস্তানেই – উর্দু ভাষার পরিমণ্ডলের মধ্যে।

তবে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয় সেদেশে প্রেসিডেন্ট জিয়া-উল-হকের সময় থেকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com