আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

গলাব্যথা আমাদের কাছে খুব সাধারণ একটি অসুখ। বেশির ভাগ সময় ঠান্ডার কারণে গলাব্যথা হয়। তবে আরও অনেক মারাত্মক কারণেও এটি হতে পারে। গলাব্যথার বিভিন্ন কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলো স্বাস্থ্যবিষয়ক সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘ডিজিটাল হসপিটাল লাইভ: হ্যালো ডক্টর’–এর চতুর্থ পর্বে।
ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ডিজিটাল হেলথ কেয়ার সলিউশনসের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল কনসালট্যান্ট ডা. মো. কায়ছারুল আলম। অনুষ্ঠানটি ৩১ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডিজিটাল হসপিটালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

দাঁতের পেছনের অংশ থেকে জিবের গোড়া পর্যন্ত থাকে ওরাল ক্যাভিটি। এরপর থেকেই শুরু হয় গলা, যাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ফ্যারিংস। ফ্যারিংসকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমে আছে নাজো ফ্যারিংস (নাকের পেছন দিকে গলার ওপরের নরম তালু)। এর পেছনে ওরো ফ্যারিংস যেখানে টনসিলের অবস্থান। এই অংশে কোনো ইনফেকশন হলেই টনসিলে ব্যথা অনুভূত হয়। এর নিচে আছে ল্যারিঙ্গো ফ্যারিংস। এই অংশকে ল্যারিংস বা ভয়েস বক্সও বলা হয়। এখানে ইনফেকশন, ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ হলে ব্যথা হয়ে থাকে। ফ্যারিঞ্জাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিস আর টনসিলাইটিস—এ তিন রকমের সমস্যা হলে গলাব্যথা হয়।বিজ্ঞাপন

ডা. কায়ছারুল আলম জানান, বাংলাদেশ বা অন্যান্য দেশে গলাব্যথা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভাইরাস ইনফেকশন। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দিয়ে গলাব্যথা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশনও দায়ী। এ ছাড়া অ্যালার্জির জন্যও হতে পারে গলাব্যথা। অতিরিক্ত ধূমপানের জন্য ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া জারদ (GERD) নামে পাকস্থলীর একটি রোগ আছে যেখানে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসে। এটি হলে গলাব্যথা হয়। গলার কোনো অংশে টিউমার বা ক্যানসারও গলা ব্যথার অন্যতম কারণ।

ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদা, সঞ্চালক
ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদা, সঞ্চালক

কোভিডের অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে গলাব্যথা। কিন্তু সব গলাব্যথাই কোভিড নয়। ডা. কায়ছারুল আলম বলেন, ‘গলাব্যথার সঙ্গে যদি অতিরিক্ত জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তিবোধ, খুসখুসে কাশি, শ্বাসকষ্ট, ঘ্রাণশক্তি চলে যাওয়ার মতো সমস্যা না থাকে তাহলে সাধারণ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন বা ইনফ্ল্যামেশনজনিত ব্যথা ধরে নিতে হবে।’ এই লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করাতে হবে।

বিশেষজ্ঞের আলোচনা থেকে জানা যায় যে গলাব্যথার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। কারণ, তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে, আর তারা ধুলাবালুর ভেতরে খেলাধুলা করে থাকে। ঠান্ডা, ধুলাবালুর জন্য শিশুরা বেশি গলাব্যথায় আক্রান্ত হয়। বয়স্কদেরও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। তাঁদেরও বিভিন্ন কারণে গলাব্যথা হতে পারে।

গলাব্যথা কেন হয়

গলাব্যথার চিকিৎসায় সবার আগে রোগীর রোগের ইতিহাস সম্পর্কে জানা হয়। এটি জানার পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথমে রোগীকে কুসুম গরম পানি দিয়ে গারগল করতে বলা হয়। ডায়াবেটিস না থাকলে মধু, আদা, তুলসীপাতা দিয়ে চা বা স্যুপজাতীয় খাবার এবং কুসুম গরম পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল আর ঠান্ডা থাকলে অ্যান্টিভিটামিন ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়ে থাকে। এরপর যদি ব্যথা না কমে তাহলে ৫-৭ দিন পর অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এ ধরনের রোগীকে ফলোআপে রাখতে হয়। ডা. কায়ছারুল আলম জানালেন, ‘গলাব্যথা যদি এক মাস বা তিন মাসের বেশি থাকে, তা থেকে হার্ট বা কিডনিতে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন হলে আর্থ্রাইটিস পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।বিজ্ঞাপন

মহামারি এসে আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে জীবাণু থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা যায়। গলাব্যথা যেহেতু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বেশি হয়, এটি এড়াতেও ভালোভাবে কিছুক্ষণ পরপর হাত ধুতে হবে। যখন ঠান্ডা বা সর্দি–কাশি লাগবে তখন নিজেদের আইসোলেট করে রাখতে হবে। আর এখন যেহেতু শীতকাল। এ সময় কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। গারগল করার অভ্যাস করা যেতে পারে। দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচবার কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে এটি করা যায়। ডা. কায়ছারুল আলম যেকোনো ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সব সময় মাস্ক পরার অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

গলাব্যথা কেন হয়

গলার সঙ্গে নাক ও কানের একটা সম্পর্ক আছে। গলাব্যথা হলে নাক ও কানেও ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে, জীবাণু নাক আর কানে ছড়িয়ে যেতে পারে। এ জন্য গলাব্যথা ১-২ দিনের ভেতর না সারলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

গলাব্যথা হলে অনেকের কণ্ঠস্বর পাল্টে যায়। তখন গলাকে বিশ্রাম দিতে হবে এবং হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, ভায়োডিন দিয়ে গারগল করা যেতে পারে। এভাবে যদি না সারে তখন অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।

গলায় ক্যানসার বা টিউমার হলে ব্যথা হয়ে থাকে। পাশাপাশি কণ্ঠস্বর একদমই পাল্টে যায় এবং গলায় কিছু একটা বিঁধে আছে, এমন বোধ হয়। তখন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ব্যাপারে ডা. আকছারুল আলম বলেন, ব্যাকটেরিয়ার কারণে ব্যথা হলে থ্রোট সোয়াব কালচার এবং সিবিসি টেস্ট করা হয়।

গলাব্যথার খুব প্রচলিত কারণ হচ্ছে টনসিলাইটিস। বিশেষজ্ঞের মতে, বছরে যদি ৪ থেকে ৫ বারের বেশি টনসিল ইনফেকশন হয় তাহলে অপারেশন করাতে হবে।

দৈনন্দিন

বয়সভেদে পুষ্টির চাহিদা

লেখক

শিশুর পুষ্টি: শিশু জন্মের প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ পান করাতে হবে। এমনকি এ সময় এক ফোঁটা পানিও দেওয়া যাবে না। শিশুকে মায়ের প্রথম যে দুধ দেওয়া হয় তাকে শালদুধ বা কোলোস্ট্রাম বলে। এটির রং হলুদ এবং এটি রোগ প্রতিরোধ করে। এরপর থেকে শিশুকে নতুন খাদ্যে অভ্যস্ত করাতে হবে। প্রথমে তরল খাবার যেমন- বিভিন্ন ফলের রস, সবজির পাতলা স্যুপ ইত্যাদি দিতে হবে। তারপর তরল খাবার কিছুটা ঘন করে দিতে হবে। এ সময় ভাত, ডাল, সবজি ব্লেন্ড করে দেওয়া যাবে। ধীরে ধীরে নরম খাবারের অভ্যাস করাতে হবে। এ সময় নরম সিদ্ধ মাছ, নরম ভাত, ডিমের কুসুম দেওয়া যাবে। দুধ-সুজিও দেওয়া যাবে।

শিশুর অন্যতম পরিপূরক খাবার হলো খিচুড়ি। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যদি খাদ্যশস্য ও ডালের পরিমাণ ৫ :১ অনুপাতে থাকে তাহলে এদের মিলিত প্রোটিন দেহ গঠনে বিশেষ সহায়তা করে। সুতরাং খিচুড়ি একটি পুষ্টিকর ও উপাদেয় খাবার। এটি রান্নার সময় সামান্য তেল, সবজি ও ছোট মাছ কেটে দেওয়া যেতে পারে। খাওয়ানোর সময় লেবুর রস দিলে ভিটামিন সিও পাওয়া যাবে।

কৈশোরের পুষ্টি :কৈশোরে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে বলে এ সময় সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এ জন্য খাবারে থাকতে হবে আমিষ, শর্করা, চর্বি, খনিজ লবণ ও ভিটামিনযুক্ত খাবার। আজকাল দেখা যায়, এ  বয়সের ছেলেমেয়ে বাইরের খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয় অথচ এ খাবারগুলোতে তেল, চর্বি, লবণ অনেক বেশি থাকে; যা শরীরের জন্য ভালো নয়। এ কারণে কিশোর-কিশোরীর মধ্যে দেখা যায় ওজন বেশি ও অপুষ্টি।

মেয়েদের ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতার ঘাটতি প্রায়ই হয়ে থাকে। এ কারণে আয়রনের জন্য তাদের নিয়মিত ডিম, মাংস, কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, সবুজ শাকসবজি খেতে হবে। এ ছাড়া ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ খাওয়া প্রয়োজন। কিশোরদের খেলাধুলা, বাইরে ছোটাছুটির জন্যও প্রোটিন-ভিটামিন ও আয়রন বা লৌহের দিকে নজর দিতে হবে। প্রতিদিন একটি ডিম তাদের দেহ গঠন ও কর্মক্ষমতার জন্য প্রয়োজন। মধ্য বয়সের মানুষের কাজের পরিধি বেড়ে যায়। এ কারণে তাদের শক্তির প্রয়োজন। কারণ, এ সময় ক্যালরি খরচ বেশি হয়। আবার এ সময় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি দেখা যায়। এ জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ যুক্ত খাবার খেতে হয়। এ বয়সে এ দুটি খাদ্য উপাদানের অভাবে হাড়ের রোগ দেখা যায়। হাড় সহজেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

বার্ধক্যে পুষ্টি: বার্ধক্যে কায়িক শ্রম কমে যায়, কিন্তু পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের প্রয়োজনীয়তা কমে না। এদিকে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায় তারা ভুগে থাকেন। যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, বাতের সমস্যা ইত্যাদি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হজমশক্তিও কমে যায়। এ কারণে গুরুপাক ও বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার তাদের না খাওয়াই ভালো। বয়স্ক ব্যক্তিদের উপযোগী খাবার হলো নরম খিচুড়ি, দুধ বা দই দিয়ে চিড়া, মুড়ি, স্যুপ, দুধ-রুটি, পাতলা ডাল-রুটি, দুধ-সাগু, দুধ-সুজি ইত্যাদি। এ ছাড়া ফলের রস, পুডিং, হালুয়া, কাস্টার্ড খাওয়া যেতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

সারা দিনই ক্লান্ত লাগে যেসব কারণে

লেখক

বিভিন্ন কারণেই ক্লান্তি আসতে পারে শরীর ও মনে। কারও আবার ঘুমের আগে ক্লান্তি, ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্তি এমনকী সারা দিনই ক্লান্ত লাগে।

সাধারণত গ্রামের তুলনায় শহুরে মানুষদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। যেসব কারণে সারাদিন শরীর ক্লান্ত লাগতে পারে-

খাওয়া
: খাওয়াদাওয়া ঠিক মতো না হলে ক্লান্তি কাটানো কঠিন। অনেকেই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসেছেন। যখন খিদে পেল বা সময় হল, তখনই খেয়ে নেন। তাতে শরীর সময় মতো পুষ্টি পায় না। এতে কর্মশক্তিও কমতে থাকে।



ঘুম
: একসময় অনেকেই ঘুমানোর আগে টিভি দেখে সময় কাটাতেন। এখন তার সঙ্গে ফোন, কম্পিউটারের মতো নানা ধরনের জিনিস যোগ হয়েছে। এ সবের কারণে অনেকেরই ঘুমের সময় কমছে। তাই প্রয়োজন মতো বিশ্রাম পাচ্ছে না শরীর। ক্লান্তিও কাটছে না।

ওজন
: শরীরের ওজন যত বেশি হবে, যে কোনও কাজেই তত বেশি খাটনি হবে। ফলে অনেক বেশি শক্তি ক্ষয় হবে। তাই স্থূলতার কারণেও ক্লান্তি কাটতে চায় না।

মানসিক চাপ: মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও ক্লান্তি নির্ভর করে । টানা মানসিক চাপ থাকলে তার চাপ গিয়ে পড়ে পেশিতেও। মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যাও লেগে থাকে। সব মিলে শরীর ক্লান্ত লাগে।

ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকলেও শরীর জানান দেয়। ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর উপসর্গ হলো ক্লান্তি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বছরজুড়েই হাঁচি-সর্দি

লেখক

অ্যালার্জি সর্দি নাকের একটি সমস্যা, যা নাসিকা ঝিল্লির প্রদাহের ফলে হয়ে থাকে। যেহেতু এর ব্যাপ্তি চারদিকে; তাই বলা যায় এটি বিশ্বময় স্বাস্থ্য সমস্যা। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০-২৫ ভাগ জনসমষ্টি নাকের এ রোগের শিকার। যদিও নাকের অ্যালার্জি সর্দি কোনো মারাত্মক রোগ নয়, তবে এ রোগের কারণে দৈনন্দিন জীবন প্রবাহ ব্যাহত হয়। যেমন শিশুদের স্কুলের শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হয়, আবার অন্যদিকে পেশাজীবীদের কর্মস্থলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। মাঝেমধ্যে অ্যালার্জিজনিত সর্দি ও হাঁচি জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ।

নাকের অ্যালার্জির কারণ

যদিও অতিসংবেদনশীলতা অ্যালার্জির মূল কারণ; তবে ব্যক্তিবিশেষে তা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

মাইট (এক ধরনের কিট), যা পুরোনো বইপত্র বা পত্রিকায় থাকে, বাসার পুরোনো ধুলা (ঘুণে ধরা), কসমেটিকস, ফুলের রেণু ও পশুপাখির লোমে অ্যালার্জেন (যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করে) থাকে। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার বিভিন্ন উপাদানও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। কিছু খাবার যেমন- ইলিশ মাছ, বোয়াল মাছ, চিংড়ি, বেগুন, হাঁসের ডিম কারও কারও ক্ষেত্রবিশেষে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এখানে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, শীতকালে এ ধরনের সমস্যা বেশি হলেও কারও কারও সারা বছরই এ সমস্যাগুলো রয়ে যায়, বিশেষ করে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে এমনটা হতে পারে। শীতকালে শুস্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকে, তাই এই সময় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। বাসস্থান পরিবর্তন করে নতুন পরিবেশে গেলেও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হানা দিতে পারে। শতকরা ১২ ভাগ শহরবাসী নিঃশ্বাসের সঙ্গে পথের ধুলা/বায়ুবাহিত অ্যালার্জেন দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

নাকের অ্যালার্জি কীভাবে হয়?

যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তারা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে রক্তে আইজিইর মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং এই আইজিই নাকের ভেতরে থাকা মাস্ট সেল নামক কোষকে ভেঙে দেয়। ফলে এই কোষ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে নাকে প্রদাহ ঘটায়। শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া নাসারন্ধের স্নায়ুকোষের রিসেপ্টরকে উদ্দীপ্ত করার ফলে হাঁচির উদ্রেক করে।

নাকের অ্যালার্জিজনিত সমস্যার লক্ষণ

নাক চুলকানো, একনাগাড়ে কয়েকটি হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাঝেমধ্যে এর সঙ্গে মাথাব্যথা। অনেক সময় এসবের সঙ্গে কারও কারও চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। অনেক দিন ধরে এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীদের নাসারল্প্রেব্দর পার্শ্ববর্তী মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) ফুলে গিয়ে থলির মতো বড় এবং বিবর্ণ হয়ে যায়।

অ্যালার্জি প্রতিরোধ

অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো কারণ শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা। এ জন্য রোগীকে সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের করতে হবে, তার শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি হয়। এ জন্য বলা হয়ে থাকে অ্যালার্জি চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো হেলথ এডুকেশন। যাদের এই সমস্যা আছে তারা শীতের ধুলাবালি এড়িয়ে চলতে অথবা রাস্তায় গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে মুখবন্ধনী বা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

চিকিৎসা

যে যে পরিস্থিতিতে অ্যালার্জির উদ্ভব হতে পারে, তা এড়িয়ে চলতে হবে অর্থাৎ অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জির কারণ এড়িয়ে চলাই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা। তবে এর সঙ্গে ওষুধ প্রয়োগ করে অনেকটাই উপশম বা মুক্তি পাওয়া যায়। মনে রাখবেন ওষুধপত্র দেওয়া হয় উপসর্গ অনুযায়ী। এ রোগের চিকিৎসায় প্রধান ওষুধ হলো অ্যান্টি-হিস্টামিন, স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে। এ ছাড়া বয়সভেদে মন্টেলুকাস্ট জাতীয় ট্যাবলেট বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে এই ক্ষেত্রে একনাগাড়ে অনেকদিন (৩ মাস বা এর অধিক) ব্যবহার করলে নাকের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই অবশ্যই নাকের স্প্রে একজন নাক-কান-গলা রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতে, ব্যবহার করবেন। কোনোভাবেই নাক-কান-গলা রোগের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে থেকে কিনে ব্যবহার করা যাবে না।

দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে যারা অনেকদিন ধরে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভুগছেন এবং ওষুধ দ্বারাও কোনো ফলাফল পান না, তাদের ক্ষেত্রে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জনরা নাকের ভেতরে ফুলে যাওয়া মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) পুড়িয়ে দিয়ে (Electrocauterization) চিকিৎসা করে থাকেন; তবে সেটা খুব কম। সুখবর হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা অ্যালার্জির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি পদ্ধতি চালু হতে পারে।

নাকের অ্যালার্জিজনিত হাঁচি-সর্দির সুচিকিৎসা না হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থেকে শতকরা ২৫ ভাগ রোগীর হাঁপানি হতে পারে। এ ছাড়া নাকের অ্যালার্জিজনিত সর্দি থেকে সাইনোসাইটিস, নাকের পলিপও হতে পারে। ঘর, পর্দা, বিছানার চাদর ভালোভাবে পরিস্কার রাখুন এবং রাস্তায় বের হলে নাকে রুমাল অথবা মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসার ব্যবস্থা রাখুন। কারও হাঁচিজনিত অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে, হাঁচির উদ্রেক এলে অবশ্যই চেষ্টা করবেন নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে শিষ্টাচার মেনে হাঁচি দিতে। নিয়ম মেনে চললে ভালো থাকা কোনো কঠিন বিষয় নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ভিটামিন সি’র অভাব হলে বুঝবেন কীভাবে

লেখক

ভিটামিন সি স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি। ভিটামিন সি এমন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকেও আমাদের রক্ষা করে। ভিটামিন-সি ত্বকের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। শরীরে ভিটামিন সি’র ঘাটতি হলে, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে ভিটামিন-সি এর অভাবজনিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে সতর্ক থাকা উচিত।

ভিটামিন-সি এর অভাবে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়-

শুষ্ক ত্বক
 : ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন-সি এর অভাব, ত্বককে শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে ত্বক নিস্তেজ এবং প্রাণহীন হয়ে ওঠার পাশাপাশি কুঁচকে যায়।

ক্ষতের নিরাময় ধীর গতি : ভিটামিন-সি কোলাজেন উৎপাদনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই শরীরে ভিটামিন-সি এর ঘাটতি দেখা দিলে, ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরে হয়ে যায়। তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবে, সংক্রমণের বিস্তারও বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি ভিটামিন-সি এর গুরুতর অভাবজনিত লক্ষণের মধ্যে অন্যতম।

দাঁত এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া : ভিটামিন-সি কেবলমাত্র ত্বকের ক্ষেত্রে নয়, দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের ভিটামিন-সি এর ঘাটতির কারণে কোলাজেনের গঠন দুর্বল হয়, ফলে মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তাছাড়া এই ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে, দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অস্থিসন্ধির ব্যথা :  অস্থিসন্ধির কার্টিলেজ প্রাথমিকভাবে কোলাজেন দিয়েই তৈরি। তাই ভিটামিন-সি এর অভাবে, হাড়ের চারপাশের কম প্যাডিং হয়। এর ফলে একটুতেই অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবে, অস্থিসন্ধি এবং হাড়ের চারপাশে প্রদাহ ও ফোলাভাবও দেখা দিতে পারে।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
 : ভিটামিন-সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে অত্যন্ত সহায়ক। তাই শরীরে ভিটামিন-সি এর অভাব দেখা দিলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।


ওজন বৃদ্ধি
 : অনেক সময় হঠাৎ করে ওজন বৃদ্ধির পেছনেও ভিটামিন-সি এর অভাব থাকে। ভিটামিন-সি এর অভাবে, বিশেষ করে পেটে চর্বি জমা হয়।

অবিরাম ক্লান্তি 
: ভিটামিন-সি এর অন্যতম অভাবজনিত লক্ষণ হল, সবসময় ক্লান্তি বোধ করা। এর অভাবে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে রক্তাল্পতাও হতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন সি এর অভাবে, কাজ করায় অনীহা, আলস্য এবং খিটখিটে মেজাজ হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে রোগের উপসর্গ

লেখক

চারদিকে ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি হলেও গরমভাব তেমন কমছে না। এই অতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা অস্বস্তিকর ব্যাপার। বাইরে বের হওয়ার পর কাপড়-চোপড় ভিজে একাকার। আপাতদৃষ্টিতে এ সমস্যাটিকে বিরক্তিকর মনে হলেও এই ঘামের মাধ্যমে তাপ ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আপনার শরীরকে ভয়ংকর তাপমাত্রার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করছে।

আসলে লোমকূপের গোড়ায় লুকিয়ে থাকা ঘর্মগ্রন্থি আমাদের দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করার কাজটি গোপনে করে যাচ্ছে। এ ছাড়া শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম, জ্বর, ব্যথা বা দুশ্চিন্তায় দেহের সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত হওয়ার মাধ্যমে প্রচুর ঘাম সৃষ্টি করে। এসবই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তিক ঘটনা। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া কোনো সমস্যা বা রোগের উপসর্গও হতে পারে।

নারীরা গর্ভাবস্থায় বেশি ঘামেন। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নারীরা হঠাৎ গরমে অস্থির হন, ঘাম হয়, সঙ্গে বুক ধড়ফড়ও করতে পারে। এই বিশেষ সমস্যার নাম হট ফ্লাশ। এমনিতে সেরে না গেলেও এর জন্য হরমোন থেরাপি লাগতে পারে। থাইরয়েড বা গ্রোথ হরমোনজনিত জটিলতায় অনেক ঘাম হতে পারে। রাতে ঘাম হয় যক্ষ্ণা রোগীদেরও। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঘাম হতে পারে।

ডায়াবেটিক রোগী যারা ওষুধ খাচ্ছেন বা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তাদের রক্তের শর্করা হঠাৎ কমে গেলে ঘামতে পারেন। সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, অস্থির লাগা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন। এটি একটি বিপদসংকেত। সঙ্গে সঙ্গে চিনির শরবত বা মিষ্টি কিছু খেয়ে নিলে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ঘামের সঙ্গে বুকে চাপ বা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকেরও লক্ষণ হতে পারে। রাতে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে কিনা, কেবল এক পাশে বেশি হচ্ছে কিনা। বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড়ানি, কাশি, জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ আছে কিনা। ডায়াবেটিক রোগী হলে খেতে অনেক দেরি হয়ে গেছে কিনা।

শিশুদের কাশি-সর্দি থাকাকালে মাথা ঘেমে গেলে এবং তার সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে গেলে তা হার্ট ফেইলুরের অশনিসংকেত বহন করতে পারে। বড়দেরও মাথা ঘামার সঙ্গে বুকে ব্যথা, ব্যথা ঘাড় বা হাতে নেমে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। এ ক্ষেত্রে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com