আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে কোরবানির গরু বিক্রি

জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে কোরবানির গরু বিক্রি
জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে কোরবানির গরু বিক্রি

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হাটে, বাজারে, খামারে ও অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে এবার কোরবানির গরু কিনতে হাটের ভিড় এড়াতে চাইছেন অনেকে। করোনা মহামারির এই সংক্রমণের কালে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না তারা। এতে করে অন্য সব পণ্যের মতো অনলাইনে বেড়েছে কোরবানির পশু বিক্রিও। খামারিরা ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে অনলাইনে ক্রেতাদের কাছে গরু বিক্রি করছেন।

গজ বা ফিতার মাধ্যমে গরুর ওজন মেপে বিক্রির এই পদ্ধতিকে ‘লাইভ ওয়েট’ বলছেন খামারিরা। খামারি এবং ক্রেতা উভয়ই বলছেন, ওজন পদ্ধতিতে কেজি দরে পশু ক্রয় করলে ঠকার সম্ভাবনা কম।

ফিতা দিয়ে গরু মেপে ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচলনটা বেশ কয়েক বছর ধরে চলে আসছে। বিশেষ করে ব্যাপারী ও খামারিরা ওজন ছাড়া যখন গরু ক্রয় -বিক্রয় করতেন তখন গরুর ওজন কত? কী পরিমাণ মাংস হবে? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন উঠত এবং এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট বার্গেনিং চলত। এক পর্যায়ে হয়তো পশু বিক্রিই হতো না। কিন্তু এখন সে সময় নেই। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু মাপার ওজন এসেছে। এখন ব্যাপারীরা হাটে-বাজারেও ফিতা নিয়ে যান। এতে ঠকার সম্ভাবনাও থাকে না।

দেশের সর্ববৃহৎ ও পুরাতন খামার সাদেক এগ্রো অনেক আগে থেকেই ‘লাইভ ওয়েট’ হিসাব করে পশু বিক্রি করছে। তবে এবার বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এই পদ্ধতিতে পশু কিনে মাংসের পরিমাপটা পাওয়া যায়। সাদেক এগ্রোর কর্মকর্তা শাহরিয়ার পরশ এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে বলেন, ‘লাইভ ওয়েটে ২০০ কেজি থেকে ৩৯০ কেজি ওজনের গরু ৩৭৫ টাকা কেজি, ৪০০ কেজি থেকে ৪৯০ কেজি পর্যন্ত ৪২৫ টাকা কেজি, ৫০০ কেজি থেকে ৫৯০ কেজি ৪৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আর ৬০০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১৩৫০ কেজির পশুগুলোর কেজি দরে নয়; এগুলো পছন্দের ওপর নির্ভর করে বিক্রি হয়।’

গত কয়েক বছর থেকেই লাইভ ওয়েটের মাধ্যমে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। যদিও তখন এই ব্যবস্থা তেমন জনপ্রিয় ছিল না। কিন্তু চলতি বছর করোনাভাইরাসের কারণে এই মাধ্যম বেশ সাড়া ফেলেছে। ক্রেতারা ঘরে বসেই গরুর ওজন জেনে দরদাম করতে পারছেন। অনলাইনে ওজন এবং নিট মাংস কত কেজি হবে এসব বের করে দেয়ার কারণে অনেকে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার দিকে ঝুঁকছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গাবতলী হাট থেকে গরু কিনেছেন মিরপুরের আবদুল কাদের। গরু কেনার সময় তিনি ফিতা দিয়ে মেপে নিয়েছেন। ব্যাপারী এবং ক্রেতা দুজনই ফিতার হিসাব বোঝেন। গরুর লাইভ ওয়েট মাপার পর তারা হিসাব করে দেখলেন, গরুটির সাড়ে তিন মণ মাংস হবে। পরে ৭০ হাজার টাকায় গরুটি কেনেন আবদুল কাদের। তিনি বলেন, আমার গরুর মাংসের কেজি পড়ল ৫০০ টাকা। এতে তিনি জিতেছেন বলে মনে করেন। কারণ কোরবানির গরু মাংস হিসাবে ও বছরভেদে কেজি ৭০০-৮০০ টাকাও পড়ে।

ওজন পদ্ধতির বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দিনেশ চন্দ্র বলেন, ‘ওজন দরে গরু বিক্রির ধারণাটি নতুন হলেও এটি বেশ চমৎকার ও গরু কেনার একটি ঝামেলাবিহীন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ক্রেতাদের ঠকার সুযোগ থাকছে না। সাধারণত ১০০ কেজি ওজনের একটি গরু থেকে ৬০ কেজি মাংস পাওয়া যায়। বাকিটা নাড়িভুঁড়ি। তাই এটা মাথায় রেখেই মাপটা করতে হয়।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন, ক্রেতাদের সুবিধার্থে লাইভ ওয়েটে অনেকেই বিক্রি করছে। তবে এই পদ্ধতিতে যদি ক্রেতারা সন্তুষ্ট না থাকেন সরাসরি দেখেও কিনতে পারেন। বর্তমানে সকল খামারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু প্রদর্শন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখন গরু কিনলে দুই সপ্তাহ খামারেই পরিচর্যা করা হবে। ফলে আরও বাড়তি ৫-১০ কেজি ওজন যোগ হবে। তাই এখন গরু ক্রয় করাই সুবিধাজনক।

পশুর লাইভ ওজন বের করার নিয়ম জানা থাকলে একজন খামারি ও ক্রেতা বুঝতে পারেন পশুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে। কীভাবে গরুর লাইভ ওজন নির্ণয় করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ডা. মো. জাকের উল্লাহ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গরুর আনুমানিক ওজন বের করতে আপনার প্রয়োজনীয় উপকরণ যা যা লাগবে, তা হলো-এক. গজ বা ফিতা, দুই. ক্যালকুলেটর। এই দুইটা জিনিস থাকলেই আপনি বের করে নিতে পারবেন আপনার গরুটির আনুমানিক ওজন। গরুর ওজন নির্ণয়ের জন্য আপনাকে কয়েকটি কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে।

যেভাবে শুরু করবেন-

আপনি যে গরুটার ওজন নির্ণয় করতে চাচ্ছেন, সেই গরুকে প্রথমে সোজা করে দাঁড় করান। সকালে গরুকে খাবার দেয়ার আগে ওজন নেয়া উত্তম। এতে সঠিক ওজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। গরুর বুকের বেড় কত ইঞ্চি তা বের করতে হবে এবং লেজের কাছে হাড় থেকে শুরু করে সামনের পায়ের জোড়ার গিট পর্যন্ত ফিতা ধরে দৈর্ঘ্য বের করতে হবে।

গরুর ওজন মাপার সূত্র : গরুর দৈর্ঘ্য X বুকের বেড় X বুকের বেড়/৬৬০

ধরুন, আপনার গরুটির দৈর্ঘ্য ৫১ ইঞ্চি এবং বেড় ৫৬ ইঞ্চি। তাহলে গরুর আনুমানিক ওজন হবে (৫১X৫৬X৫৬)/৬৬০ = ২৪২.৩৩ কেজি.

ডা. মো. জাকের উল্লাহ বলেন, একটি পশুর যে লাইভ ওয়েট হবে তা থেকে ৫৫ থেকে ৬০ ভাগ মাংস পাওয়া সম্ভব। তবে অভিজ্ঞ কসাই দিয়ে গরু কাটলে লাইভ ওয়েটের ৬০ ভাগ মাংস নিশ্চিত পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

এগ্রোবিজ

মাটিহীন ঘাস চাষে লাভ বেশি

মাটিহীন ঘাস চাষে লাভ বেশি
মাটিহীন ঘাস চাষে লাভ বেশি

বাঁশের তৈরি মাচা। সে মাচার ওপর স্তরে স্তরে ৩২টি ট্রে সারি বেঁধে পাতা। ট্রেগুলোতে এক ছটাক মাটিও নেই। অথচ প্রতিটি ট্রে থেকে দিনে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৯ কেজি ঘাস। কীটনাশক ও পরজীবীমুক্ত সেই ঘাস খেয়েই খামারের গবাদিপশুর নিরাপদ খাদ্য যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি দুধের উৎপাদনও গেছে বেড়ে।

এভাবে মাটি ছাড়াই ঘাস চাষ করছেন রাজধানীর কল্যাণপুরের খামারি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তাঁর খামারে আছে ২২টি গাভি। বাজারে পাওয়া গবাদিপশুর খাবার কিংবা সাইলেজ খাবারের চেয়ে মাটি ছাড়া ঘাস গাভিকে খাওয়ালে ভালো মানের দুধ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। বললেন, ‘আমি এক বছর ধরে এভাবে ঘাস উৎপাদন করছি। ফলে আমার গরুগুলোর স্বাস্থ্যও ভালো আছে। দুধের উৎপাদনও বেড়েছে। আমি তো ক্রেতাদের এই দুধ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছি।’

খামারি মাহবুব উদ্দিন জানান, গবাদিপশুকে হাইড্রোপনিক ঘাস খাওয়ানোর পর থেকে তাঁর খামারের দুধ উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশ। আগে যে গাভি থেকে দিনে ১০ লিটার দুধ মিলত, এখন সেই গাভি দিনে ১২ লিটার পর্যন্ত দুধ দিচ্ছে। পশুর কৃত্রিম প্রজনন ক্ষমতাও বেড়েছে। তবে ভালো মানের ঘাস পেতে খামারিদের ভালো মানের ভুট্টার বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে আনেন। সে বছরের ১৭ মে থেকে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালা করে আগ্রহী খামারিদের কাছে এই প্রযুক্তি হস্তান্তর শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৬৫ জন খামারি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং ১৫ জন খামারি এই পদ্ধতিতে ঘাস উৎপাদন করছেন। বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় খামারি মাহতাব উদ্দিন নিজেই তাঁর খামারে মাটিহীন ঘাস উৎপাদন করছেন।

খামারিরা জানিয়েছেন, বাজারে প্রচলিত খড়, চিটাগুড় ও ইস্টমিশ্রিত গবাদিপশুর খাবার সাইলেজের দাম পড়ে কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা। গবাদিপশু মোটাতাজা করতে অনেকে সেই খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর হরমোন ও স্টেরয়েড মিশিয়ে থাকেন। অথচ হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে প্রতি কেজি মাটিহীন ঘাসের উৎপাদন খরচ পড়ছে নন–এসি পদ্ধতিতে ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকা এবং এসি পদ্ধতিতে সাড়ে ৫ থেকে ৬ টাকা।

গবাদিপশুর খাবার হিসেবে হাইড্রোপনিক ঘাস খুবই উপকারী বলে জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আনয়ারুল হক বেগ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কীটনাশক, কৃমি ও পরজীবীমুক্ত উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ হাইড্রোপনিক ঘাস খেয়ে গবাদিপশু ভালো মানের দুধ দেবে। বাজারে পাওয়া গরুর খাবার বা ঘাসে অনেক সময় কীটনাশক, পোকামাকড় থাকে। তাতে পশু পুষ্টি কম পায়, উৎপাদনও কম হয়। কিন্তু হাইড্রোপনিক ঘাস খনিজ পদার্থ ও নিউট্রিয়েন্টসমৃদ্ধ, একই সঙ্গে ফাঙ্গাস ও ছত্রাকমুক্ত।

মাটিহীন ঘাস চাষে খামারিদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন বিসিএসআইআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম। তিনি বলেন, চীন থেকে আনা ট্রে এবং এসি পদ্ধতিতে হাইড্রোপনিক ঘাস উৎপাদন কিছুটা ব্যয়বহুল। তবে কোনো খামারি চাইলে অবশ্য একদম কম খরচেও এই পদ্ধতিতে পশুর খাবার উৎপাদন করতে পারবেন। সেই সফল উদাহরণও আছে। তবে দেশের খামারিদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাস উৎপাদন সম্পর্কে আরও জানা উচিত।

যেভাবে ঘাস চাষ হয়

বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইট, টিনের তৈরি বা আলো–বাতাসসমৃদ্ধ যেকোনো ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বা নন–এসিতে এই
প্রযুক্তি স্থাপন করা যাবে। সেই ঘরে ড্রয়ার পদ্ধতি বা দেশীয় পদ্ধতিতে বাঁশের তৈরি মাচায় প্রথমে ট্রে বসাতে হয়। এসব ট্রে চীন থেকে আমদানি করে আনতে হয় বা দেশীয় মুরগির খামারে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ট্রেতেও কাজ চলে। গম, ভুট্টা বা বার্লি যেকোনো একটির ভালোমানের বীজগুলো এক দিন পানিতে ভিজিয়ে পরে জাগ দিয়ে মাচার ট্রেগুলোতে পাতা হয়। কক্ষের তাপমাত্রা রাখতে হয় ২২ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর পানি সঞ্চালন পদ্ধতিতে ৮ দিনে বীজ থেকে জন্মানো ঘাসগুলো প্রাণীর খাওয়ার উপযোগী হয়। প্রতি কেজি ভুট্টার বীজ থেকে ৫ থেকে ৭ কেজি ঘাস হয়। প্রতি ৩০০ বর্গফুট জায়গায় ৮০টি ট্রে রাখলে দিনে ১৫০ কেজি মাটিহীন ঘাস উৎপাদন সম্ভব। ম্যাট আকারে সে ঘাস তুলে গবাদিপশুকে খাওয়াতে হয়।

বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা মাটিহীন ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক ও খামারিদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আকারে প্রযুক্তিটি স্থাপনে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাগবে। তবে প্রযুক্তিটির কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কোনো খামারি নন–এসি পদ্ধতিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে মাটিহীন ঘাস চাষ করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

৯০ টাকার কলায় ১৪ টাকা কর

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বান্দরবানের থানচিতে কৃষকেরা আকার ভেদে এক ছড়া কলা বিক্রি করেন ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। কিন্তু সেই কলা ট্রাকে পরিবহন করে শহরে আনার সময় চার দফায় কর দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। এতে প্রতি ছড়া কলায় কর দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৪ টাকার মতো। কেবল কলা নয়, থানচিতে উৎপাদিত সব কৃষিপণ্য পরিবহনের সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চার দফা কর আদায় করা হয়। এতে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কৃষিপণ্য কিনে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। করের বোঝা এসে পড়ছে দরিদ্র কৃষক ও বাগানিদের ওপর। 

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত উদ্যোগে কেবল জেলা পরিষদের কর আদায়ের সরকারি নির্দেশনা আছে। তবে থানচিতে প্রতি ট্রাক কৃষিপণ্যের জন্য প্রথমে এক দফা কর আদায় করে জেলা পরিষদ। এরপর উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে আরও এক দফা কর দিতে হয়। বান্দরবান জেলার সীমানা পার হওয়ার সময় সুয়ালক এলাকায় আবারও জেলা পরিষদ ও পৌরসভাকে দুই দফা কর দিতে হয়। সব মিলিয়ে ট্রাক প্রতি কৃষিপণ্যের জন্য কর আদায় হয় সাড়ে নয় হাজার টাকা। বাড়তি এই করের কারণে ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য কিনছেন কম দামে। এতে ন্যায্য দাম থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। 

উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতি ট্রাক কলা, কাজুবাদাম, জাম্বুরা, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের জন্য জেলা পরিষদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ ৪ হাজার টাকা নিচ্ছে। এতে এক ট্রাক কৃষিপণ্যের জন্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা কর থানচি উপজেলায় দিতে হচ্ছে। সেই একই পণ্যের ট্রাক জেলার সীমানা অতিক্রমের সময় সুয়ালকে আবার জেলা পরিষদ ও পৌরসভা ১ হাজার করে ২ হাজার টাকা আদায় করছে। 

থানচির কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী মাহমুদ আলী ও তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, এক ট্রাক পণ্যে থানচি থেকে চট্টগ্রামে পরিবহন করতে সাড়ে ৯ হাজার টাকা কর দিতে হচ্ছে। একটি ট্রাকে ৭০০ থেকে ৯০০ ছড়া কলা পরিবহন করা সম্ভব। সেই হিসাবে এক ছড়া কলায় সাড়ে ১০ টাকা থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। ভাড়া বাবদে প্রতি ছড়া কলায় ১৫ থেকে ২২ টাকা খরচ হয়ে যায়।

কৃষকদের দাবি, করের টাকা ও ট্রাকের পরিবহন ভাড়া পরোক্ষভাবে দিচ্ছেন পণ্য উৎপাদনকারী কৃষকেরা। কারণ, পণ্য কেনার সময় ব্যবসায়ীরা সেই টাকা বাদ দিয়ে ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেন। এতে কৃষক পণ্যের দাম কম পাচ্ছেন। 

থানচি বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল হক বলেছেন, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় কৃষকেরা এখন কৃষি উৎপাদনে মনযোগ দিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে কলা, পেঁপে, জাম্বুরা পাওয়া যায় বেশি। বর্ষা শেষে কলা ছাড়াও আদা, হলুদ, কাজুবাদাম, তিল, তুলা, ভুট্টাসহ কৃষিপণ্য থানচি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। পরিবহন কর কমালে কৃষকেরা আরও বেশি উৎপাদনে উৎসাহী হবেন। 

থানচি উপজেলা সদর বাজারে গত শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, রেমাক্রি, বড়মদক, তিন্দু, বোর্ডিংপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কলা, জাম্বুরাসহ কৃষিপণ্য ছোট গাড়ি ও যন্ত্রচালিত নৌকায় করে বাজারে এনেছেন কৃষকেরা। 

কৃষক মংম্যা মারমা বলেছেন, তিনি রেমাক্রি থেকে কলা নিয়ে এসেছেন। আকার ভেদে প্রতি ছড়া কলা গড়ে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করেন। আগে গড়ে প্রতি ছড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকায় ব্যবসায়ীরা কিনতেন। কিন্তু গত বছর থেকে করের হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও দাম কমিয়ে দিয়েছেন। এতে করের বোঝা কৃষকদের বহন করতে হচ্ছে। 

রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংপ্রু মারমা বলেছেন, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কর আদায়ের দায়িত্ব জেলা পরিষদের। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে করের একাংশ দেওয়ার কথা। কিন্তু জেলা পরিষদ কর আদায় করলেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের অংশ দেয়নি। এ জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আলাদাভাবে একসঙ্গে কর আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চার ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের টোলপয়েন্ট প্রায় ২৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামং মারমা বলেছেন, দুটি সংস্থা থেকে কর আদায় করা হলেও অতিরিক্ত করের বিষয়টি সঠিক নয়। সব দিক বিবেচনা করে করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। 

জেলা পরিষদের সদস্য ও কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ক্যসাপ্রু মারমা বলেছেন, জেলা পরিষদেরই কর আদায় করার কথা। তবে উপজেলা পরিষদের কর আদায়ের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি খবর নিয়ে কী করা যায় তা দেখবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা
কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

আর ৩ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামারপল্লীগুলোতে চিরাচরিত সেই হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দ এখন নেই। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এবার অনেকেরই পশু কোরবানি দেয়ার সামর্থ নেই। ফলে ব্যস্ততাও নেই চাঁদপুরের কামার শিল্পীদের মাঝে। এ বছর ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

চাঁদপুরে প্রায় ৭শ দোকানে ৪ সহস্রাধিক কামার রয়েছেন। শহরের তালতলা, নতুনবাজার, বাসস্টেশন এলাকা, পুরানবাজার ও বাবুরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কামার শিল্পীরা ছুরি, বটি, দা, চাপাতিসহ ধারালো নানা জিনিস বানাতে কাজ করে যাচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই কামার শিল্পীদের কাছ থেকে এসব জিনিস ক্রয় করতেন। আবার কেউ কেউ ঘরে থাকা পুরনো দা, ছুরি ধার করার জন্য আসতেন। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম। প্রতিবছর কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেশি হলেও এ বছর মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দোকানে ক্রেতা তেমন একটা আসছে না।

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা
কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

চাঁদপুর শহরের তালতলা এলাকার কামার বিনয় কর্মকার ও গোপাল কর্মকার বলেন, সারা বছর আমরা দা, ছুরি তৈরি করলেও কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। এই সময়টাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি বেচা কেনা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সংখ্যা অনেক কম। তারপরও আশা করি ঈদের আগের দিন হয়ত ক্রেতা আসবে।

তারা জানান, বর্তমানে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের মধ্যে প্রতি পিস বটি প্রকারভেদে ৩শ-৮শ, দা সাড়ে ৩শ-৮শ, বড় আকৃতির ছুরি ৪শ-১ হাজার, ছোট আকৃতির ছুরি ৫০-২শ এবং চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৭শ-১২শ টাকায়।

কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা
কামারপল্লীর রূপ পাল্টে দিয়েছে করোনা

দোকানে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, আর ৩ দিন পর ঈদুল আজহা। তাই আগে থেকে কোরবানি দেয়ার জন্য ছুরি, দা কিনতে এসেছি। পাশাপাশি পুরনোগুলোও সান দেয়ার জন্য নিয়ে এলাম। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দা, ছুরির দাম অনেক বেশি রাখছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদপুর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, চাঁদপুরের আট উপজেলার মধ্যে হাজীগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কামারশালা রয়েছে। সেখানে কামার পল্লীতে শত শত কামার কাজ করছেন। আগে অনেকেই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেউ ঋণ নিতে চাইলে আমরা তাদের ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করব। আমরা চাই এ শিল্প যেন কখনও হারিয়ে না যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে জাপানে পাতাকপি চাষ

জাপানে পাতাকপি চাষ সর্বাধুনিক পদ্ধতি জানতে ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঁধাকপি, যা পাতাকপি নামে বাংলাদেশে বেশি প্রচলিত। বহু গুণসম্পন্ন এই বাঁধাকপি শুধু সবজি হিসেবে নয়, জুস হিসেবেও খাওয়া যায়। এতে আছে ভিটামিন-এ, বি১, বি২, বি৬, ই, সি, কে, ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন, পটাশিয়াম, সালফারসহ আরও নানা ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিক দেশে একাধিক রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হত বাঁধাকপির রসকে। বিশেষত কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতে গ্রিক চিকিৎসকেরা এই সবজির উপরই মূলত ভরসা করতেন। একই রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলতেন মিশরীয় মানুষরাও। তারাও শরীরে টক্সিনের পরিমাণ কমাতে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধাকপি খেতেন।

আধুনিক চিকিৎসায় এই সবুজ গোলাকার সবজিটির প্রবেশ ঘটে ইংরেজদের হাত ধরে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ব্রিটিশরাই সারা বিশ্বে বাঁধাকপির জয়গান গেয়ে বেড়িয়েছে। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই সবজিটি খেলে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। রক্তে সুগারের মাত্রাকে বেঁধে রেখে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার পথকেও প্রশস্ত করে।

পাতাকপি চাষ ২
পাতাকপি চাষ ২

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম বাঁধাকপিতে রয়েছে ১.৩ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৭ গ্রাম শর্করা, ০.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি ও ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। তা ছাড়া ক্যালসিয়াম ০.৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ৬০০ মাইক্রোগ্রাম, ক্যারোটিন ও ২৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি।

ব্রিটেনের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, বাঁধাকপি পাকস্থলীতে গিয়ে যখন হজম হতে থাকে, তখন এগুলো থেকে ক্যান্সার প্রতিরোধী রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয়।

ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের এই গবেষকরা বলছেন- বাঁধাকপি, ব্রোকোলি বা কেইল শাকের মত কিছু সবজি বাউয়েল বা মলাশয়ের ক্যান্সার ঠেকাতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com