আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- দ্বিতীয় পর্ব

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- দ্বিতীয় পর্ব
গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- দ্বিতীয় পর্ব

আমাদের গৃহপালিত বা খামারের গবাদি পশুর মাঝে মাঝে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। এতে গবাদি পশুর উৎপাদন কমে যায়। এসব বিষয়ে সবারই প্রাথমিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আসুন জেনে নেই গবাদি পশুর রোগ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে। আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব-

পোকাপড়া রোগ
প্রধানত কচলিওওমায়া হোমিনিভোরাক্স ও ক্রিসোমায়া বেজিয়ানা দ্বারা পোকাপড়া রোগ বা স্ক্রুওয়ার্ম মিয়াসিস হয়ে থাকে। এটি একটি মাছি ঘটিত রোগ। এসব মাছির লার্ভা ত্বকের ক্ষত আক্রান্ত করে এ রোগ সৃষ্টি করে। তাই এ রোগকে ক্ষত মিয়াসিস বলে।

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- দ্বিতীয় পর্ব
গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- দ্বিতীয় পর্ব

লক্ষণ
১. লার্ভা ক্ষত ছিদ্র করে গর্তের সৃষ্টি করে।
২. আক্রান্ত টিস্যুতে ক্রমশ নিক্রোসিস (পঁচা) ও রক্ত ক্ষরণ হয়।
৩. ক্ষতে রক্ত ক্ষরণের কারণে অ্যামোনিয়া ও প্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস পায়।
৪. ক্ষত থেকে বাদামি বর্ণের দুর্গন্ধযুক্ত নিঃস্রাব পড়ে, যা অন্যান্য প্রজাতির মাছিকে আকৃষ্ট করে।
৫. এই ক্ষতে অন্যান্য মাছিও ডিম দেয় এবং একই সাথে বহু প্রজাতির মাছির আক্রমণ ঘটে।
৬. জ্বর, টকসেমিয়া ও ডিহাইড্রেশন দেখা যায়।
৭. চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় পশু মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- দ্বিতীয় পর্ব
গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- দ্বিতীয় পর্ব

চিকিৎসা
লার্ভানাশক ও জীবাণুনাশক পদার্থ দ্বারা পোকাপড়া ক্ষতের চিকিৎসা করা হয়। প্রথমে ক্ষতস্থান থেকে লার্ভাগুলো চিমটার সাহায্যে তুলে ৭০% অ্যালকোহলযুক্ত বোতলে সংগ্রহ করতে হয়। সমপরিমাণ তারপিন তেল ও ক্লোলফর্মে গজ চুবিয়ে ক্ষতের একেবারে ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে পরদিন গজ টানলে গজের প্রান্তে লার্ভাগুলো দেখা যাবে। পরে ক্ষত পরিষ্কার করে ডাস্টিং পাউডার দিয়ে ক্ষত ড্রেসিং করতে হবে। এছাড়া ক্রেসল ও তারপিন তেল প্রয়োগে কার্যকর হয়।

লার্ভানাশক হিসেবে ৫% লিনোডন অথবা ৩% কোয়ামাকোস ব্যবহার কার্যকরী। আইভারমেকটিন ০.২ মিলিগ্রাম বা কেজি হিসেবে ত্বকের নিচে একবার ইনজেকশন দিলে ২ দিনের মধ্যে সব লার্ভা মারা যায় এবং ১৬-২০ দিন প্রতিরোধ করে।

প্রতিরোধ
• মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
• দেহে যাতে ক্ষত সৃষ্টি না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
• সম্ভব হলে ক্ষতস্থান পলিথিন বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যাতে মাছি না পড়ে। যথাসম্ভব ক্ষতস্থানের চিকিৎসা করতে হবে।
• আইভারমেকটিন ০.২ মিলিগ্রাম বা কেজি হিসেবে খোঁজা করার সময় ত্বকের নিচে ইনজেকশন দিলে ১৬-২০ দিন এ রোগ থেকে প্রতিকার সম্ভব।
• বায়োলজিক্যাল প্রতিরোধ-পিউপাকে কালচার করে কোবাল্ট ৬০ দ্বারা ইরেডিয়েশনের মাধ্যমে পুরুষ মাছিকে বন্ধা করে ছেড়ে দিলে স্ত্রী মাছির সাথে মিলন হয়ে অনুর্বব ডিম সৃষ্টি হয়, ফলে মাছির বংশ বিস্তার রোধ হয়।

লাইভস্টক

উল্লম্ব চাষ ও ছাদ বাগানের সাথে কৃষির ক্রমবিকাশ

একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব কৃষি তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে; যথা কিভাবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায়, কিভাবে গ্রামীণ দারিদ্র্যের উচ্চ বিস্তার হ্রাসে অবদান রাখা যায় এবং কিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে বর্ধিত উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া জানানো যায় । এই সমস্ত সমস্যা মোকাবিলায় নতুন, উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন । বর্তমান যুগের কৃষকদের দক্ষতা এবং ক্রমাগত উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । নতুন প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা কৃষকদের কাজ করার পদ্ধতি পরিবর্তন করার একটি অভিনব উপায় যা তাদের আরও ভাল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে, আরও দক্ষ হতে ও ভাল পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করে ।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত পৃথিবীর জনসংখ্যায় আরও প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষের সংযোজন আশা করেন । অন্যদিকে, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি । দ্য ল্যান্ড কমোডিটিস গ্লোবাল এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্মল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট (২০০৯) অনুযায়ী নগরায়ণ, লবণাক্তকরণ এবং  মরুভূমির কারণে ভবিষ্যতেও এটি খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই । নিম্নগামী উৎপাদনশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জলের অভাব, ক্ষুদ্র ও খণ্ডিত চাষযোগ্য জমি, পুষ্টির খনন, একাধিক পুষ্টির ঘাটতি, ভূগর্ভস্থ জলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নিবিড় চাষের কারণে মাটির অবনতি ও মাটির জৈব কার্বন হ্রাস ইত্যাদি হল কিছু সাধারণ উদ্বেগ যা উৎপাদনে স্থবিরতা সৃষ্টি করে । আধুনিক কৃষির দ্বারা উদ্ভূত এই ধরনের উদ্বেগ এবং সমস্যাগুলি কৃষিতে নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে, যেমন জৈব চাষ, প্রাকৃতিক চাষ, জৈব-গতিশীল কৃষি, কিছুই না করা কৃষি, ইকো-চাষ, নির্ভুল কৃষি, টেকসই কৃষি, উল্লম্ব চাষ ইত্যাদি ।

এই ধরনের চাষ পদ্ধতির সারাংশ সহজভাবে বোঝায় যে মাটি-উদ্ভিদ-প্রাণীর ধারাবাহিকতার দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে প্রকৃতির কাছে ফিরে আসুন । এই প্রেক্ষাপটে, অভ্যন্তরীণ উল্লম্ব চাষ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটিকে একটি বন্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্তূপীকৃত উপায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পদ্ধতি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে । উল্লম্ব চাষের ধারণা শহুরে এলাকায় প্রথম প্রচার পেয়েছে এবং পদ্ধতিগুলি পরিমার্জন করার জন্য চাষীদের ক্ষমতা এই অভ্যাসকে একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত করছে ।

উল্লম্ব চাষ কি?

উল্লম্ব চাষ হল ফসল উৎপাদনের একটি পদ্ধতি যা আমরা সাধারণত চাষাবাদ বলে যাকে মনে করি তার থেকে একেবারেই আলাদা । বিস্তীর্ণ মাঠের পরিবর্তে ফসল উল্লম্বভাবে বা বাতাসে উত্থিত হয় । এটি উল্লম্বভাবে ঝুঁকে থাকা কোন পৃষ্ঠতলে খাদ্য উৎপাদনের অভ্যাস । এই পদ্ধতিটি একক স্তর যেমন মাঠ বা গ্রিনহাউসের পরিবর্তে উল্লম্বভাবে স্তুপীকৃত স্তরে শাকসবজি এবং অন্যান্য ফসল উৎপন্ন করে যা সাধারণত অন্যান্য কাঠামোর মধ্যে সংহত হয় যেমন একটি আকাশচুম্বী, শিপিং কন্টেইনার বা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গুদামে । উল্লম্ব কৃষি আমাদের শহরের মেট্রোপলিটন এলাকায় বিভিন্ন ভবনের অভ্যন্তরে কার্যকর উৎপাদনের সুবিধা দান করে । তাই এটি শহুরে কৃষির একটি রূপ যার কৃতিত্ব কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুশাস্ত্রের অধ্যাপক ডিকসন ডেসপোমিয়ারকে দেওয়া হয়, যিনি শহুরে ছাদ বাগানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং বাড়ির মধ্যে উল্লম্ব কৃষি টাওয়ার তৈরির ধারণা নিয়ে এসেছিলেন, যা শুধুমাত্র ছাদ নয়, একটি ভবনের সম্পূর্ণ মেঝে ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেবে ।

উল্লম্ব চাষের উপকারিতা

১. উল্লম্ব কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি হল সর্বনিম্ন জমি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ উৎপাদন লাভ করা । এটি প্রায় সমস্ত অবস্থায় উদ্ভিদ জন্মানোর যথোপযুক্ত পরিস্থিতি প্রদান করে । অতএব, ফসল ফলানোর জন্য নির্দিষ্ট ঋতুর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই ।

২. এটি ভবিষ্যতে খাদ্যের চাহিদা সামলানোর জন্য একটি পরিকল্পনা প্রদান করে যা ক্রমাগত উন্নত গুনমান সমৃদ্ধ ফসল সরবরাহ করে ।

৩. এই ধরণের চাষের পদ্ধতি ফসলকে সারা বছর বাড়তে দেয় যা আবহাওয়া এবং ঋতুর ওপর নির্ভরশীল নয় ।

৪. এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম জল ব্যবহার করে বা প্রায় ৯৫% পর্যন্ত জল সাশ্রয় করে ।

৫. এই উপায়ে বেশি জৈব ফসল চাষ করা যায় যাতে রাসায়নিক ও রোগের সংস্পর্শ কম থাকে ।

৬. এটি কৃষি জমির ব্যবহার ও খাদ্যের অপচয় বা নষ্ট হওয়াকে ব্যাপকভাবে কমাতে পারে এবং শহরে সর্বাধিক সতেজতা আনতে পারে ।

৭. উল্লম্ব চাষ ক্রেতাদের কাছে পরিবহনের খরচ কমায়; কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন সীমিত করে; জলবায়ুর উপর কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং কৃষিকে শহুরে মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে ফিরিয়ে আনে । 

৮. উপরন্তু, উল্লম্ব খামার থেকে খাবার সাধারণত স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয় যার ফলে পরিবহনের মাধ্যমে সৃষ্ট নির্গমন এবং খামার থেকে টেবিলে পৌঁছানোর সময় হ্রাস পায় । এটি কোন বিলম্ব ছাড়াই টাটকা বা বিশুদ্ধ ফলনের সরবরাহ সহজ করে তোলে অথবা খামার থেকে বাজারজাত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কয়েক দিন থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত হ্রাস করে ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

জেনে নিন ডিমের খোসা দিয়ে সার তৈরী করার অভিনব পদ্ধতি

আমরা ডিমের খোসা অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেই। কিন্তু এই ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার তৈরি করতে পারলে তা হতে পারে উৎকৃষ্টমানের সার। এজন্য সার তৈরির পদ্ধতি জেনে নিতে হবে। গাছের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস-এর চাহিদা পূরণ করে ডিমের খোসা। ডিমের খোসার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। গাছের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট পাওয়া যায় এই উপকরণ থেকে। এ ছাড়া ডিমের খোসায় আছে আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফ্লোরিন, ক্রোমিয়াম ও মলিবডেনাম। ক্যালসিয়ামের অভাবে ফুল, কাণ্ড ও শিকড়ের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর অভাবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিকৃতি, পাতা ও ফলে কালো দাগ দেখা দেয়। পাতার ধার ঘেঁষে হলুদ রং দেখা দেয়।

কম্পোস্ট সার বা জৈব সার তৈরি করার পদ্ধতি(Procedure):

প্রথমেই ডিমের খোসাকে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ডিমের খোসা সংগ্রহ করতে হবে, সংগ্রহকৃত ডিমের খোসা ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকনো ডিমের খোসাগুলকে গুঁড়ো করে পাউডারে রূপান্তর করতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্লেন্ডার, মিক্সচার ব্যবহার করা যেতে পারে বা পাটায় পিশেও তৈরি করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে খোসাগুলো যেন ভালোভাবে মিহি হয়, দানা দানা যেন না থেকে যায়।

বড় দানার চেয়ে পাউডার দ্রুত মাটির সাথে মিশতে পারে, ফলে সহজেই তার মিনারেলসগুলো গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়ে উঠে। দানা দানা থেকে গেলে এগুলো ব্যবহারে বা গাছে প্রয়োগের পর তা মাটির সাথে মিশতে অনেক সময় লাগে, পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই এমন পাউডার তৈরি করতে হবে যাতে পিঁপড়ে বা পোকামাকড় তাতে আক্রমণ করে সেগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে না পারে। ডিমের খোসা থেকে তৈরিকৃত সার যেকোনো ধরনের গাছে ব্যবহার করা যায়।

গাছে বা টবে ডিমের খোসার প্রয়োগের পরিমাণ:

৮ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ

১০ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ

১২ ইঞ্চি টবে ১.৫ টেবিল চামচ

ডিমের খোসার গুঁড়া পানি দিয়ে পাতলা করে গাছের নিচে ব্যবহার করতে পারি। এই সার টমেটো এবং বেগুনের মতো শাক-সবজি পানিজনিত রোগ এবং পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করা- এরমতো রোগের চিকিৎসা করতে কার্যকর। এছাড়া এই কম্পোস্ট গোলাপ গাছে প্রয়োগ করলে ফুল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গাছ বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। টবে মাটির মিশ্রণ প্রস্তুত করার সময় ১-৪ ডিমের খোসার চূর্ণ দিয়ে একটি গাছ লাগানো যেতে পারে।

টবের মাটিতে ডিমের খোসার সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে টবের মাটিকে নিড়ানি দিয়ে বা খুঁচিয়ে আলগা করে দিতে হবে। তারপর পরিমাণমতো ডিমের খোসার সার টবের চারিদিকে খুঁচানো মাটির উপর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

এগ শেল বা ডিমের খোসা সিদ্ধ পানি গাছের দ্রুত বর্ধনশীলতার জন্য পৃথিবীর অন্যতম এক সার। এক লিটার পানিতে ৫টি ডিমের খোসা সিদ্ধ করুন। এই পানি উষ্ণ আবহাওয়ায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখুন। পরের দিন মিশ্রণটি মাটিতে প্রয়োগ করুন অথবা গাছে স্প্রে করতে পারেন। এতে আরও বেশি ফল পাওয়া যায়। যদি ফুলের গাছ হয় তবে এর প্রয়োগে আরও বেশি ফুল পাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

পোল্ট্রি ফিডের বস্তায় ৩৫০ টাকা কমানোর দাবি

ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া পোল্ট্রি ফিডের ৫০ কেজির বস্তায় ৩৫০ টাকা কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বিপিকেআরজেপি)।

খামারিদের দাবি আদায়ে সরব প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মহসিন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, পোল্ট্রি খাদ্যের প্রতিকেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা কমানো সময়ের দাবি। ভারতে সয়াবিন রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার ১দিনে সয়াবিন মিল ৪৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে গাজীপুরে পৌছানো পর্যন্ত ৪৪ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। ভুট্টা ৩২ থেকে ৪ টাকা কমে ২৮ টাকায় নেমে এসেছে। সে হিসাবে খাদ্যের দাম কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা কমানো উচিৎ। ফিড মিলারদের কাছে দাবী, খাদ্যের দাম কমানো হোক।

তিনি আরো বলেন, ক্রমাগত পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ার কারণে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। ফিড মিলাররা সংঘবদ্ধ হয়ে খামারিদের চুষে খাচ্ছে। তারা যদি সামান্য ছাড় দেয় তাহলে খামারিরা রক্ষা পায়। তাদের লাভের সামান্য অংশ খামারিদের দিলে প্রতিবস্তায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা কমানো সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি ফিডের দাম আগের মতো রয়েছে। নারিশ কোম্পানির ৫০ কেজি লেয়ার ফিডের আজকের বাজারদর ২২২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির ২৬১০ টাকা. সোনালী ২৪০০ টাকা এবং স্টার্টার ফিডের দাম ২৪০০ টাকা। সিপি কোম্পানির ৫০ কেজি ব্রয়লার ফিডের দাম ২৫২৬ টাকা।

এছাড়া, সোনালী ২৩৪০ টাকা এবং লেয়ার সিপি ফিডের দাম ২১৪০ টাকা। সগুণা কোম্পানির প্রতি এক বস্তা ফিডের দাম ব্রয়লার ২৫৪০ টাকা, সোনালী ২৩৪০ এবং লেয়ার ২১৬০ টাকা। বিশ্বাস কোম্পানির এক বস্তা ব্রয়লার ফিডের দাম ২৫৭০ টাকা, সোনালী ২৩৪০ টাকা, এবং লেয়ার ২১৭৫ টাকা। আমান কোম্পানির ব্রয়লার খাদ্যের দাম ২৭৫০ টাকা এবং সোনালী মুরগির এক বস্তা খাদ্যের দাম ধরা হয়েছে ২৫২৫ টাকা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ আরোও জানিয়েছে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেটে পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্য কমানোর ঘোষণা থাকলেও তা মানা হয়রি। বাজেটের ঘোষণা উপেক্ষা করে বাজেট ঘোষণার পর তিন দফায় পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। যথাক্রমে প্রথমে ৫০ টাকা বছরের শুরুতেই, এরপর ৭৫ টাকা এবং সর্বশেষ ১০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। বাজেটের আগে ২৭৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। মোট একবস্তা খাদ্যে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন দ্রুত কমানোর দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, দেরীতে হলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত ও ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করবো, ভবিষ্যতে শিল্পের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমাদের এসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে পরামর্শ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। কারণ, প্রথম থেকেই আমাদের পোলট্রি সংশ্লিষ্ট এসোসিয়েশন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতামতকে উপেক্ষা করে সয়াবিন মিল রপ্তানির সিদ্ধান্ত দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর ফলে ফিডের দাম কমার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে বিপিআইসিসি সভাপতি বলেন, আমরা আশা করছি এতে করে ফিডের দাম কমানো সহনীয় হবে, তবে কিছুটা সময় লাগবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড তৈরির অন্যান্য কাঁচামালের দাম আগামী এক দু মাসের মধ্যেই কমবে বলে আশা করি, মোদ্দা কথা কাঁচামালের দাম কমলে আমরা অবশ্যই ফিডের দাম কমিয়ে সমন্বয় করবো। কারণ, ব্যবসার পাশাপাশি খামারি ও ভোক্তার স্বার্থ দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে স্থানায় বাজারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভুট্টার দাম বিগত ছয় বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। চীনে চাহিদা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভুট্টার দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। এ বিষয়ে খরব প্রকাম করেছে অ্যাগ্রিকালচার ডটকম।

দক্ষিণ আমেরিকার বিরূপ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের দামও ভালো অবস্থানে ছিল এবং গমের দাম উচ্চ ছিল। সয়াবিনের দামও বুশেলপ্রতি দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৩ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত বৃষ্টির কারণে ব্রাজিলের উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে সয়াবিনের চাহিদা বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভুট্টার দাম বাড়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। যেখানে বুশেলপ্রতি ৫ দশমিক ৫০ ডলার থেকে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ ডলারে এবং সেশনে গিয়ে সেটি বুশেলপ্রতি ৫ দশমিক ৫৫ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ ডলারে। যা কিনা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভুট্টা চীনের চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভালোই সহায়তা পাচ্ছে। এ চিত্র মূলত সামনে আসে গত সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ থেকে চীনে ২ দশমিক ১০৮ মিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিক্রি নিশ্চিত করা হয়।

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার কৃষি কৌশল বিভাগের পরিচালক টবিন গোরেই বলেন, এ বিক্রির অর্থ হচ্ছে চীন সম্ভবত গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছয় মিলিয়ন টন ভুট্টা নিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

দুধ দিচ্ছে ১৫ দিনের বাছুর!

জন্মানোর দুই সপ্তাহ পেরিয়েছে মাত্র। এ বয়স থেকে নিয়মিত ৫০০ থেকে ৭৫০ মিলিলিটার দুধ দিচ্ছে একটি বকনা বাছুর! 

এমনি ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের কিশামত সর্বানন্দ গ্রামে কৃষক আফছার আলীর খামারের।বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অলৌকিক বাছুরটিকে একনজর দেখতে ওই খামারে দিনভর ভিড় করছেন উৎসুক সব বয়সী মানুষজন।

রোববার (১০ অক্টোবর) বিকেলে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা হয় বাছুরটির মালিক কৃষক আফছার আলী সঙ্গে। তিনি বলেন, ৪০ দিন আগে বাছুরটি স্বাভাবিক প্রসব করে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী। জন্মের পর থেকে নিয়মিত গরু-বাছুরের যত্ন করা হচ্ছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে দেখতে পাই ১৫ দিন বয়সের বাছুরটির ওলান ফুলে গেছে। সাধারণত গরুর ওলানে দুধ জমলে যেমনটা হয়ে থাকে তেমন। পরে পশু চিকিৎসককে এনে বিষয়টি দেখানো হয়। কিন্তু কোনো সমাধান না মেলায় বাছুরটির ওলানে হাত দিয়ে দুধ দোহনের মতো টানি। সে সময় দেখা যায় ওলান থেকে দুধ বের হচ্ছে। প্রথমে অবাক হলেও পরে নিয়মিত বাছুটির দুধ দোহন করা শুরু করি। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭৫০ মিলিলিটার দুধ দিচ্ছে বাছুরটি।

আফছার আলী আরও বলেন, কৃষি কাজের পাশাপাশি ছয়টি গরু লালন-পালন করে স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। গাভিটি প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ লিটার দুধ দিচ্ছে। এর সঙ্গে বাছুরের দুধ দেওয়ার বিষয়টি বেশ উৎসাহিত করছে।  

প্রতিবেশী শাহ আলী ও শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, এ ধরনের ঘটনা আগে দেখা কিংবা শোনা যায়নি। সে কারণে উৎসুক সব বয়সী মানুষজন প্রতিদিন আফছার আলীর বাড়িতে ভিড় করছেন বাছুরটিকে একনজর দেখার জন্য।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেবা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি জানতে পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বকনা বাছুরটির স্বাস্থ্য বর্তমানে ভালো আছে। ৪৫-৫০ কেজি ওজনের এ বাছুরের দুধও স্বাভাবিক আছে। তবে বাছুরটির দুধ আসা বন্ধে চিকিৎসা প্রয়োজন। নতুবা বাছুরের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে।  



সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বাংলানিউজকে বলেন, হরমোনজনিত কারণে এমনটা হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না।  

বাছুরটি থেকে পাওয়া দুধ বিষয়ে তিনি বলেন, রঙ-স্বাদ ও গুণগত মান ঠিক থাকলে যে কেউ দুধ পান করতে পারবেন

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

সাত পা নিয়ে গরুর বাছুরের জন্ম

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় সাত পা নিয়ে একটি গরুর বাছুরের জন্ম হয়েছে। বাছুরটি দেখতে আশপাশের মানুষ ভিড় জমিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর মধ্যপাড়ার রূপধন মিয়ার গাভিটি বাছুরটির জন্ম দেয়। সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

[৩] স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর মধ্যপাড়ার বক্স আলী ভূঞা বাড়ির রূপধন মিয়া প্রায় ১০ বছর ধরে গাভিটি লালনপালন করে আসছিলেন। এর আগেও গাভিটি তিনটি স্বাভাবিক বাছুর জন্ম দিয়েছে। তবে শনিবার বিকেল যে বাছুরটির জন্ম দিয়েছে, সেটির পা সাতটি। চারটি স্বাভাবিক পা থাকা সত্ত্বেও বাছুরের পিঠের ওপরের অংশে ছোট ছোট তিনটি পা আছে। সাত পা নিয়ে গরুর বাছুর জন্মের খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাছুরটিকে দেখতে শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণির মানুষ ভিড় করছে।

[৪] গাভির মালিক রূপধন মিয়া বলেন, বাছুরটি জন্মের পর মায়ের দুধ পান করছে না। তবে ফিডারের মাধ্যমে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

[৫] উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. তারেক মাহমুদ বলেন, এটি বিরল আকৃতির বাছুর। প্রাণিসম্পদ বিভাগের একজন মাঠকর্মী সরেজমিন বাছুরটি দেখেন ও খোঁজ খবর নেন। এটি একটি জন্মগত ত্রুটি। অপারেশন না করা হলেও বাছুরের চার পায়ের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ছোট পা তিনটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে অকেজো হয়ে যেতে পারে।

[৬] এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপজেলা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। যেহেতু বাছুরটির জন্মগত ত্রুটি আছে, সে কারণে এটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বাছুরটি কিছুটা সবল হয়ে উঠলে চিকিৎসার কথা ভাবা যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com