আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

খেজুর মোতালেবের বাগানে এখন শতাধিক গাছে সুমিষ্ট খেজুর

ফল

বাংলার মাটিতে বাড়ছে বিদেশি ফলের চাষ

ঢাকা: বাংলাদেশের মাটিতে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি ফলের চাষ। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পর্যাপ্ত সেবা ও স্থানীয় উদ্যোক্তা-চাষিদের উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে এই খাত। সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে উল্টো বিদেশি ফল বিদেশে রপ্তানির কথা ভাবছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বেশ কয়েকজন বিদেশি ফলচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ড্রাগন ফল চাষের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে শুরু হয় বিদেশি ফলের চাষ। বর্তমানে ড্রাগন ফলের পাশাপাশি স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, পার্সিমন, টক আতা, প্যাসন ফলসহ নাশপাতি, আলু বোখারা ও পিচের মতো বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে দেশে।


দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই চাষ করা যায় এসব ফলের কোনো না কোনোটি। উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে চাষ হচ্ছে রাম্বুটান। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, নাটোরের মতো জেলাগুলোতে ব্যাপক চাষ ও ফলন হচ্ছে স্ট্রবেরির। আর সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার উঁচু এলাকাগুলোতে ভালো ফলন হয় অ্যাভোকাডোর।

বিদেশি ফল চাষ করে সফলতাও পাচ্ছেন দেশি চাষি ও উদ্যোক্তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরাও আগ্রহী হচ্ছেন এ খাতে ক্যারিয়ার গড়তে। তেমনই দুই উদ্যোক্তা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মামা-ভাগ্নে আতাউর রহমান ও আবদুল আজিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে চাকরি-বাকরির বদলে দু’জনে মিলে শুরু করেন বিদেশি ফলের চাষ। পরামর্শ নেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কৃষি বিশেষজ্ঞের। ২০১৩ সালে স্ট্রবেরির চাষ শুরু করে সেবছরই আয় করেন ১১ লাখ টাকা।
ড্রাগন ফল।  ছবি: ডিএইচ বাদল নিজেদের উদ্যোগ সম্পর্কে আতাউর রহমান বলেন, বাবা কৃষক ছিলেন্। ছোটবেলায় তার সঙ্গে কাজ করতে করতে কৃষি নিয়ে আগ্রহ জন্মায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ভাগ্নে আজিজকে নিয়ে শুরু করলাম এই বিদেশি ফলের চাষ। প্রথমে কিছুটা সন্দিহান ছিলাম তবে বাজারে যখন এর চাহিদা দেখলাম তখন আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। বছর ঘুরতেই যখন ভালো অংকের লাভ আসা শুরু করলো তখন এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার আর ভাবিনি। এই খাতেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

এদিকে দেশি ফল চাষের পাশাপাশি বিদেশি ফলের চাষ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে রপ্তানি হচ্ছে দেশীয় ফলমূল। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশি ফল বিদেশেই রপ্তানি করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের। আর সেকারণেই চাষিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কৃষিতথ্য সেবা বিভাগের পরিচালক ও কৃষিবিদ ড. মো. নুরুল ইসলাম।


বাংলানিউজকে নুরুল ইসলাম বলেন, ফলের জন্য প্রথমত দরকার আবহাওয়া। আবহাওয়া যদি ম্যাচ না করে তাহলে হবে না। আমাদের জন্য সৌভাগ্য যে, আমাদের দেশের আবহাওয়া বেশ কয়েকটি সুস্বাদু ও চাহিদাসম্পন্ন বিদেশি ফলের চাষের জন্য সহায়ক।


কৃষিতথ্য সেবা দপ্তর বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ফলের পরিমাণ ছিল ১২১ দশমিক ১৩ লাখ মেট্রিক টন। সঠিক হিসাব না থাকলেও, এর মধ্যে প্রায় দুই শতাংশ বিদেশি ফল রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়াতে ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ‘ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ শীর্ষক এক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২০ সালে। প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ কৃষককে বিদেশি ফল চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০২০ সালে এসে এই প্রকল্প থেকে দারুণ ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় ফলাফল মিলবে।


অন্যদিকে ‘সারা বছর ফল উৎপাদন’ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। চালুর পর ২০২৬ সালে গিয়ে শেষ হবে এ প্রকল্প। এ বিষয়ে কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বিদেশি ফল চাষের দু’টি বড় উপকারিতা রয়েছে। এক, পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিদেশি ফল কম দামেই দেশে উৎপাদন করা যাচ্ছে। ফলে লাভবান হচ্ছে দেশের জনগণ। দুই, বিদেশি ফল চাষে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক দিকগুলো।  

‘একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়ছে অন্যদিকে পরিকল্পনা করে এগোলে বিদেশেই বিদেশি ফল রপ্তানির আরেকটি বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে নতুন কিছু করে দেখানোর আগ্রহ রয়েছে। অনেকেই আছেন যারা তরুণ ও এই খাতে কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে দারুণ কিছু করে দেখানোর তাগিদ রয়েছে। আমরা সেটিকে যতটা সম্ভব সাহায্য করতে চাই।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী ঘোড়াঘাটের আবু সায়াদ

দিনাজপুর: পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত মাল্টা। তবে সমতল ভূমিতেও এ ফলের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ‘শস্য ভান্ডার’খ্যাত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মাল্টার। ‘মাটির গুণাগুণ ঠিক থাকলে সমতল এলাকাতেও মাল্টা চাষ করে লাভবান হতে পারেন যে কেউ-ই’-এমনটিই জানিয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সফল মাল্টাচাষি কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী।

বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল হচ্ছে মাল্টা। এ ফলটি সারা বছরই পাওয়া যায়।

তাছাড়া দামেও বেশ সস্তা। পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিনসহ মাল্টার অনেক পুষ্টিগুণও রয়েছে।  

মাল্টা চাষ করে সফল হয়ে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঘোড়াঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী। তার বাগানে থাকা প্রত্যেক গাছেই ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা।  

সায়াদ চৌধুরীর বাগানে শতাধিক মাল্টা গাছ রয়েছে। শুধু তাই নয়, মাল্টার পাশাপাশি তার বাগানে আরও রয়েছে লেবু, পেঁপে ও লিচু গাছ। কাজী আবু সায়াদের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার বেকার যুবকরাও ঝুঁকছেন মাল্টা বাগান গড়ে তোলার দিকে।

২০১৭ সালে আগস্টে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার পালশা ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামে পৈত্রিক দেড় একর পরিমাণ পরিত্যক্ত পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাশের দুই বিঘা জমিতে মাল্টা গাছের (বারি-১) চারা রোপণ করেন কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী। প্রায় দুই বছরেই মাল্টা গাছে ফল ধরেছে। বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের মাল্টা। সবুজ পাতার আড়ালে কিংবা পাতা ঝরা ডালেও ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা।  

মাল্টাচাষি কাজী আবু সায়াদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। তিনি জানান, প্রথম গাছে মাল্টা ধরার পর থেকে ফল চাষের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগে তার। এখন চলছে স্বপ্ন পূরণের পালা। স্থানীয় কৃষকরা এসব ফলমূল চাষে এগিয়ে এলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। ফলগুলো সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে মাল্টা ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি মাল্টা ১১০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এখলাস হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ঘোড়াঘাটসহ দিনাজপুর জেলায় ধান চাষের পাশাপাশি মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ধান উৎপাদনের চেয়ে মাল্টা চাষে ১০ গুণ বেশি লাভবান হতে পারে এ অঞ্চলের কৃষক।  

‘কম খরচে ফলজ বাগান তৈরি করে এখানকার কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সবুজ মাল্টায় নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

রাজশাহী: পাহাড়ে মাল্টা চাষের সফলতা এসেছে অনেক আগেই। আর সেই স্বপ্নের হাত ধরে এখন সমতলেও পুষ্টিকর এই সুস্বাদু ফল চাষ হচ্ছে সমানভাবে। শখের বসে বাড়ির ছাদে মাল্টা চাষ করছেন অনেকেই। তবে এখন বাণিজ্যিকভাবেও মাল্টা চাষে সফলতা পাচ্ছেন সমতলের কৃষকরা।

বিশেষ করে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত গোদাগাড়ী, তানোর ছাড়াও দুর্গাপুর উপজেলার রুক্ষ মাটিতে এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা চাষ বেড়েছে। এতে সফলতাও এসেছে আশানুরূপ।

তাই আম ও পেয়ারার পর এখন মাল্টা চাষ বাড়ছে রাজশাহী অঞ্চলজুড়েই। বাড়ির ছাদ থেকে শখের মাল্টা তাই নেমে এসেছে উত্তরের এই উর্বর কৃষি জমিতে। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাড়িয়াপাড়ার কৃষক আইনাল হক।  সফলতা পাওয়ায় গত তিনবছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করছেন। বর্তমানে তিন বিঘা জমিজুড়ে মাল্টার বাগান রয়েছে তার। লাভজনক হওয়ায় অন্য ফসল ছেড়ে তিনি এখন মাল্টা চাষি।

কম খরচে অধিক লাভের কথা উল্লেখ করে কৃষক আইনাল হক বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিটি গাছ তিনি ১শ টাকা দরে কিনেছেন। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে একেকটি গাছ ১০ বছর বেঁচে থাকে ও ফল দেয়। এতে বছর বছর চারা কেনার খরচ লাগে না। তাছাড়া মাল্টার জমিতে একইসঙ্গে ফসলও  রোপণ করা যায়। তাই একই জমিতে তিনি এবার রসুনও বুনেছেন। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

খরচের প্রশ্নে আইনাল হক বাংলানিউজকে বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমি থেকে এক লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারেন। এজন্য তার দেখা দেখি অন্য কৃষকরাও এখন মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানান আইনাল হক।

জানতে চাইলে কৃষিবিদ শরীফ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, দেশে প্রথম মাল্টা চাষ শুরু হয় পাহাড়ি অঞ্চলে। তখন ধারণা জন্মেছিল এই ফলটি বুঝি কেবল পাহাড়েই ভালো হয়। কিন্তু সেই বিভ্রম কাটতে বেশি সময় লাগেনি। বাড়ির বেলকুনি ও ছাদে টবের মধ্যে মাল্টা লাগান শৌখিন মানুষরা। এরপর অল্প সময়ে ফল পেয়ে অবাকও হন। তার পরে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সমতলের কৃষকরাও। উদ্ভাবিত বারী-১ জাতের মাল্টার চারা নিয়ে অল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করেন। এতে সফলতা আসায় মাল্টায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন রাজশাহীর উঁচুতে থাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা। ধীরে ধীরে এখন সম্ভাবনাময়ী মাল্টা চাষ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। লাভজনক হওয়ায় আম প্রধান রাজশাহীতে জায়গা নিতে শুরু করেছে পাহাড়ের ‘মাল্টা’। বাণিজ্যিকভাবে বিঘার পর বিঘা মাল্টা চাষ হচ্ছে।  

এক প্রশ্নের জবাবে শরীফ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, রোগ প্রতিরোধকারী মাল্টার ফলন পাওয়া যায় বছরে দু’বার। এটি নিয়মিত ফল দানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ খাটো, ছড়ানো ও ঝোপালো। মধ্য ফাল্গুন থেকে ফুল আসে। বৈশাখ মাসে ফল ভাঙার উপযোগী হয়। আবারও শ্রাবণ মাসে ফুল আসে। কার্তিক মাসে দ্বিতীয়বার ফল পাওয়া যায়।

ফলটি গোলাকার ও মাঝারি (১৫০ গ্রাম) আকৃতির। পাকা ফলের রঙ সবুজ। ফলের পুষ্প প্রান্তে পয়সা সদৃশ সামান্য নিচু বৃত্ত বিদ্যমান। বারী মাল্টা-১ ফলটির নিচের দিকে পয়সা সদৃশ একটি গোলাকার দাগ থাকে। শাস হলুদ ভাব, রসালো, খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছ প্রতি ৭০-৮০টি ফল ধরে। এখন সব অঞ্চলেই এটি চাষপোযোগী।

উত্তরের সম্ভাবনাময়ী মাল্টা চাষের প্রশ্নে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) শামসুল হক বাংলানিউজকে বারী-১ জাতের মাল্টা এখন সমতলেই ভালো হচ্ছে। স্বাদেও বেশ মিষ্ট। উচ্চ ফলনশীল জাতের এই মাল্টা বছরে দু’বার হয়। এজন্য কৃষকদের ঘরে লাভের অংকটাই বেশি। তবে এই ফলের জন্য খুব সতর্ক থাকতে হয়। অন্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি পরিচর্যাও করতে হয়। না হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান রাজশাহী কৃষি বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কুলে কপাল খুলছে চরের চাষিদের

রাজশাহী: বাজারে এখন প্রায় সারা বছরই দেখা মেলে কুল বা বরই। দেশি ফল হিসেবে বরইয়ের চাহিদা সব সময়ই তাই থাকে তুঙ্গে। এখন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবিত আপেল কুল, বাউকুলসহ কয়েকটি জাতের কুল চাষ করছেন কৃষক।

মাত্র চার মাসের ফসল। বছরে ফলন পাওয়া যায় তিনবার।

এতেই কৃষকের ঘরে ঢোকে কোটি টাকা। বিশেষ করে লাভ বেশি হওয়ায় চরের কৃষকরা এখন কুল চাষে ঝুকেছেন৷ তাই বছর বছর বাগান বাড়ছেই। কুলে কপাল খুলছে চরের কৃষকদের। কুলেই জীবন বদলের স্বপ্ন দেখছেন তারা।  

রাজশাহীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল রয়েছে বাঘায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগে সেখানে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। মৌসুমি ফসল ছাড়া সে অর্থে সেখানে কোনো চাষাবাদই হতো না। সেই চরাঞ্চলেই এখন কুল চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষক।

রোদের তীব্রতা ও বালুর কারণে অন্যসব ফসব উৎপাদনে ব্যর্থ হলেও কুল চাষে সফল হয়েছেন চাষিরা। চরাঞ্চলে এখন পেঁয়াজ, রসুন, মসুর, গম, সরিষা, আখ ও শাকসবজির পাশাপাশি আপেল, বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করা হচ্ছে।

শীত থেকে গরমের শুরু অবধি সময়টা দেশি ফলের অভাব মেটায় প্রধানত দেশি কুল বা বরই। বাজারে টক-মিষ্টি গোল বরই ও নারকেল কুলের পাশে আপেল কুল এবং বাউকুল আছে স্বাদ মেটাতে। দাম হাতের নাগালেই। পুষ্টিবিদরা বলেন, কুলে আছে প্রচুর ভিটামিন আর খনিজ উপাদান। এটি দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্য হজমজনিত সমস্যার সমাধান করে। ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া আরও অনেক গুণ রয়েছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে নবগঠিত ইউনিয়ন চকরাজাপুর। প্রায় ৫ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমি এর অন্তর্ভুক্ত। তবে দাবদাহে অন্যসব ফসল উৎপাদনে হিমশিম খেতে হয় চকরাজাপুরের কৃষকদের। সেই রুক্ষ চরেই কুল চাষে সাফল হয়েছেন চাষিরা। তাই কুল চাষে আত্মনিয়োগ করেছেন শিক্ষিত বেকার যুবকও। পরিত্যক্ত জমিতে কুল চাষ করে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন তারা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় যতই দিন যাচ্ছে কুলের আবাদ ততই বাড়ছে।

পদ্মার এই চরে কুল চাষ করে বর্তমানে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন স্থানীয় শফিকুল ইসলাম, সোনা মিঞা ও জামাল উদ্দিনের মতো অনেকে। পদ্মার চরেও যে সোনার ফসল ফলানো যায়, তা প্রমাণ করছেন এই শিক্ষিত বেকার যুবকরাই।  

কুলচাষি শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মার চরের ১০৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। গড়ে বিঘা প্রতি প্রায় দেড়শ মণ করে ফলন হবে বলে আশা করছেন।  

অপর কুলচাষি জামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাজারে পাইকারি দুই হাজার টাকা মণ দরে বাউকুল বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০ টাকা কেজি পড়ছে৷ তবে খুচরা বাজারে কুল বরই ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪শ টাকা থেকে ২ হাজার ৮শ টাকা দরে।  

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, সাধারণত চরাঞ্চল এ ধরনের কুল বা আম চাষের জন্য উপযোগী। তাই পদ্মার চরেই কুল চাষ বেশি চাষ হচ্ছে।  

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় শিক্ষিত বেকার যুবকরা চরাঞ্চলে কুল চাষে ঝুঁকেছেন। এতে কুল চাষে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। প্রতি বছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। আর তাদের চাষবাসের জন্য ঋণ ছাড়া সব ধরনের সহযোগিতা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। অল্প চাষে বেশি উৎপাদনের ব্যাপারে আগামীতে আর নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে।  

তাহলে অন্য ফসলের পাশাপাশি কুল চাষ করেও স্থানীয় চাষিরা আরও লাভবান হতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন এই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মিষ্টি রসে মন ভোলাবে বারোমাসি ‘হলুদ তরমুজ’

গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুর (রাজশাহী) থেকে ফিরে: গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। তৃষ্ণা মেটাতে এর কোনো জুড়ি নেই। আছে অনেক স্বাস্থ্য গুণও।

তবে ফলটি যদি বারোমাসই পাওয়া যায়? আর তার ভেতরটা যদি লাল নাহয়ে হলুদ হয়? কী শুনতেই ভালো লাগছে, তাইনা? বিশ্বাস না হলেও এটাই সত্য।

মন ভালো করে দেওয়ার খবর হচ্ছে- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামে বারোমাসি তরমুজ চাষ হচ্ছে।

এছাড়া প্রচলিত লাল তরমুজের পাশাপাশি এখানে শুরু হয়েছে নতুন জাতের হলুদ রঙের তরমুজের চাষ। এ তরমুজের ভেতরেও সম্পূর্ণ হলুদ। তবে রঙ বদলালেও স্বাদ বদলায়নি।

বরং এ তরমুজ আরও মিষ্টি। আরও সুস্বাদু। যারা তরমুজ পছন্দ করেন তাদের কাছে নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। বাণিজ্যিকভাবে এখানে বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার আদিবাসী পল্লী হিসেবে পরিচিত চৈতন্যপুরের রঙিন তরমুজ এখন বছরজুড়েই মানুষদের মুখে স্বাদের ভিন্নতা ছড়াবে।

রাজশাহীর স্বপ্নবাজ তরুণ কৃষক মনিরুজ্জামান মনির তার মোট ১৭ বিঘা জমির মধ্যে তিন বিঘার ওপর ব্যতিক্রমী এ তরমুজের চাষ শুরু করেছেন। থাই পেয়ারা ও স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন জাতের নতুন নতুন ফসল চাষের নেশা চেপে বসেছে এ তরুণের ওপর। যেই ফসলই নতুন মনে হয় তাই চাষ শুরু করেন মনিরুজ্জামান।

জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, সব সময় নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি থাকে। এর পরও তিনি বরাবরই নতুনের পেছনেই ছোটেন। এতে কষ্ট বেশি থাকলেও যখন সফলতা আসে, তখন ভালো লাগার মাত্রাটাও থাকে অন্যরকম। সাত বছর ধরে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ চেতনা থেকেই বরেন্দ্রের মাটিতে বারোমাসি এবং হলুদ রাঙা তরমুজের চাষ শুরু করেছেন।
তিনি আরও জানান, তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর মহিষাবাথান এলাকায়। তিনি একজন শৌখিন চাষি। নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। জমি ইজারা নিয়ে আবাদ করে থাকেন। এর আগে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে বীজ আলু চাষ করেছেন। স্ট্রেবেরি চাষ করেছেন। অন্য জমিতে এখনও স্ট্রেবেরি, পেঁপে ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গাছে পাকানো টমেটো চাষ করছেন তিনি।

আর স্পেশালভাবে চাষ করছেন বারোমাসি তরমুজ। এর মধ্যে হলুদ তরমুজটার আকর্ষণ বেশি। ক’দিন আগে এ তরমুজ কেটেছেন। বর্তমানে লাল তরমুজও পরিপক্ক হয়ে ওঠেছে। কয়েকদিনের মধ্যে তাও কাটবেন। এ তরমুজ ৭৫ দিনের ফসল। তাই বছরে তিন থেকে চারবার চাষ করা যায়।

বাজারে সাধারণত সবুজ কিংবা গাঢ় সবুজ বর্ণের তরমুজ দেখা যায়। কিন্তু এবার একেবারেই ভিন্ন রঙের তরমুজ চাষ হয়েছে। এটি প্রথম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। তার পর সিলেটে। সর্বশেষ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। বারোমাসি হলুদ জাতের ব্যতিক্রমী এ ফলের বীজ এসেছে তাইওয়ান থেকে। ঢাকার এগ্রি কনসার্ন কোম্পানি এ বীজ আমদানি করে। সেখান থেকে তরমুজের বীজগুলো এনেছেন। এ বীজ রোপন করে ভালো ফলনও পেয়েছেন। নতুন জাতের এ তরমুজের দামও সন্তোষজনক।

এক বিঘা জমিতে এ তরমুজ চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এক বিঘায় ৬৪-৬৫ মণ এ তরমুজের ফলন হয়। আর পাইকারি বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হয় দুই থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।
তরমুজ ক্ষেত, ছবি: বাংলানিউজমাল্চিং পদ্ধতিতে এ তরমুজ চাষ করা হয়। বর্ষাকালীন সময়ে তরমুজ চাষ করতে মাচান তৈরি করতে হয়। আর শীতকাল বা অন্য সময়ে মাটিতেই তরমুজ চাষ করা যায়। প্রথমবার মাচা তৈরি করলে সেই মাচা এক বছর ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয়বারের উৎপাদন খরচ কম হবে।

মাল্চিং সেটে একটি বিশেষ ধরনের পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর এক দিকে কালো এক দিকে সিলভার রঙ রয়েছে। সিলভার রঙটা ওপরে থাকবে এবং কালোটা নিচে। এ সেটের গায়ে সূর্য কিরণ এসে তার ওপরে পড়ার পর আবার ফেরত পাঠাবে। এটি মাটি ভেতরে ঢুকে উত্তপ্ত করতে পারবে না। এটির কাজ হচ্ছে আমরা জমিতে যেই সার দেই তা নষ্ট হবে না, আগাছা তৈরি হবে না।

মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০০৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকও পেয়েছেন। নতুন ফসল চাষ করা তার নেশা৷ ঝুঁকি থাকলেও সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বাংলানিউজকে বলেন, বাইরে থেকে এ তরমুজ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এর ভেতরে হলুদ। তবে কাটলে তার রঙ বেরিয়ে আসবে।

খেতেও দারুণ মিষ্টি। মনিরুজ্জামানের জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। সারা বছরই বিশেষ এ জাতের তরমুজ চাষ করা যায়। তাই বাণিজ্যিকভাবে চাষের ব্যাপকতা সৃষ্টি হলে বারোমাসি তরমুজ কৃষকের জন্য লাভজনক হবে বলেও মন্তব্য করেন উপ-সহকারী এ কৃষি কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com