আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

পশু নেই হাটে, ইজারাদার-খামারির মাথায় হাত

পশু নেই হাটে, ইজারাদার-খামারির মাথায় হাত
পশু নেই হাটে, ইজারাদার-খামারির মাথায় হাত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাটের ইজারাদারসহ হাট সংশ্লিষ্ট কয়েকশ মানুষকে। করোনার আগে প্রতি হাটে ৫ হাজার পশু কেনাবেচা হলেও এখন তা ১০০-২০০-তে নেমে এসেছে। চার কোটি ৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে হাট ইজারা নিয়ে এখন ভয়ানক আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন ইজারাদার।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে তিন মাস বন্ধ থাকার পর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে পশুর হাট খোলা রাখলেও ক্রেতা বিক্রেতার অভাবে এখন লগ্নির টাকা কীভাবে পাবেন-এই চিন্তায় দিশেহারা ইজারাদার। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হাটের ইজারা মূল্য ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন ইজারাদার।

এই হাটের ইজারাদার নাজমুল হাসান বলেন, ‘করোনাভাইরাস আমাদেরকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। আগে প্রতি হাটে অন্তত ৫ হাজার পশু বেচাকেনা হলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ২০০ তে। প্রতি হাটে খরচ ৫০ হাজার টাকা ধরে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় হলে বছর শেষে হাট ডাকের (ইজারার) মূল টাকা তোলা সম্ভব। অথচ গত দুই সপ্তাহে চার হাটে উঠেছে যথাক্রমে ৩৮ হাজার, ৫৯ হাজার, এক লাখ ও এক লাখ ১৮ হাজার টাকা। মোট তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১০ বছর ধরে গরু হাট চালাচ্ছি, এরকম অবস্থাতে কখনও পড়িনি। দুই ঈদের আগে একমাস ধরে হাটে সর্বোচ্চ বেচাকেনা হয়। একটা ঈদ গেল, করোনায় তখন হাট বন্ধ ছিল। আর এখন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা নেই। এই অবস্থা চলতে থাকলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোনো গতি নেই।’

শনি ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দু’দিন এই হাট বসে। যে হাটে জমজমাট পশু কেনাবেচা হতো করোনার থাবায় এখন এই হাটটি প্রায় পশুশূন্য। যশোর জেলা শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে বসে জেলার বৃহৎ বাগআঁচড়া সাতমাইল হাট। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এই হাটে থেকে গরু কিনে নিয়ে যান।

পশু নেই হাটে, ইজারাদার-খামারির মাথায় হাত
পশু নেই হাটে, ইজারাদার-খামারির মাথায় হাত

যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ঝিনাইদাহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে বিক্রির জন্য পশু আনা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাপারীরা এই হাট থেকে পশু কিনে নিয়ে যান।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘করোনায় হাট বন্ধ ছিল, তাই পশুর হাটের সঙ্গে জীবিকায় নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েন। ইদানীং হাট চালু করা হলেও ক্রেতা বিক্রেতার অভাবে হাট জমজমাট হচ্ছে না।’

পশুর হাটে কথা হয় চট্টগ্রামের ব্যাপারী মফিজুর রহমান ও সিলেটের আবু তাহেরের সঙ্গে। মফিজুর প্রতি হাটে অন্তত পাঁচ ট্রাক গরু কিনলেও মঙ্গলবার তিনি মাত্র এক ট্রাক গরু কিনেছেন বলে জানান। করোনার কারণে এবার বিভিন্ন এলাকায় পশুর চাহিদা কম। দামও তুলনামূলক অনেক কম। তবে পরিবহন খরচটা আগের চেয়ে বেশি।

অপর ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, ‘ব্যবসায় এখন ভাটা চলছে। গরু কিনে হাটে নিয়ে বিক্রি করতে না পারলে পুঁজি হারাতে হবে, তাই সাহস করে গরু কিনতে পারছি না।’

সামটা গ্রামের মাছুম বিল্লাহ গরুর খামার করে এখন বেকায়দায় পড়েছেন। ঈদুল ফিতরের সময় তার ১২টা গরুর মধ্যে অন্তত ১০টা বিক্রির আশা ছিল। করোনায় হাট বন্ধ ছিল, তাই একটিও বিক্রি করতে পারেননি।

মাছুম বলেন, ‘গরু নিয়ে পড়েছি মহা বিপদে। এখন হাটে নিয়ে আইছি। ব্যাপারী আসছে না, তাই গরুও বিক্রি করতি পাচ্ছি নে। ব্যবসার সব টাকা গরুর খাদ্যের জোগান দিতে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন পশুখাদ্য কিনতি যেয়ে হিমশিম খাচ্ছি।’

হাট কমিটির সদস্য আবু তালেব বলেন, ‘হাটে গরু বেচাবিক্রি নেই। বাইরের পার্টি না আসলি কেনবে কিডা ? ব্যাপারী না আসায় অনেক খেতোয়াল খরচ খরচা করে গরু হাটে আনছে না। দায় ঠেকে কিছু খেতোয়াল হাটে গরু তোলছে, কিন্তু দাম পাচ্ছে না বলে ছাড়ছে না।’ তবে ঈদ আসার আগে কিছু গরু হাটে উঠবে বলে জানান অনেকে।

পশু নেই হাটে, ইজারাদার-খামারির মাথায় হাত
পশু নেই হাটে, ইজারাদার-খামারির মাথায় হাত

হাটে হাটে পশু বেচাকেনায় সম্পৃক্ত পশু ব্যবসায়ী সাতমাইলের মন্টু মিয়া, আনসার আলী ও সোহরাব হোসেন জানান, তারা এক হাট থেকে পশু কিনে অন্য অন্য হাটে বিক্রি করেন। হঠাৎ করেই হাট বন্ধের পর আগেই কেনা পশু নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন তারা। এগুলো বিক্রি করতে পারছেন না।

সোহরাব হোসেন বলেন, ‘করোনায় নিজের সংসারের খাদ্যের জোগান দিতে গিয়ে যেখানে হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে পশুখাদ্য কিনব কীভাবে? ওদের খাদ্য দিতি না পারলি আবার দামও পাওয়া যাবে না। পড়িছি উভয় সংকটে। করোনার ভয়ে হাটে ব্যাপারী আসছে না। তাই বেচাবিক্রি নেই।’

হাট কমিটির সহ-সভাপতি ইয়াকুব হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্তত ২০টি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা আসেন এ হাটে। করোনায় তিন মাস ধরে হাট বন্ধ, এখন খোলা থাকলেও হাটে নামমাত্র পশু উঠছে, বেচাকেনা নেই, পুঁজিও হারিয়ে যাচ্ছে। হাটের খরচের টাকা দিয়ে যা পাচ্ছি তাতে কয়েক বছরেও লগ্নি করা টাকা তোলা সম্ভব নয়।’

হাট কমিটির সভাপতি বাগআঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সব ধরনের নিরাপত্তা পায় বলেই হাটটি এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এলাকার তিন হাজার উপকারভোগী হাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ব্যবসায়ীদের থাকা খাওয়াসহ নিরাপত্তা, পশুখাদ্য সরবরাহ, ট্রাক বন্দোবস্ত ও হাটের শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে জড়িয়ে থাকার মাধ্যমে এদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। কিন্তু তিন মাস তারা কর্মহীন। মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।’

হাটের শুরু হয় বৈশাখ মাসে আর শেষ হয় চৈত্র মাসে। প্রতি বছর ১০০টি হাট পাওয়া যায়। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় তিনটি মাস শেষ হচ্ছে। আয় হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। সপ্তাহে ১০ লাখ টাকা আয় হলে তবে আসল টাকা তোলা সম্ভব। করোনার কারণে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে এখন সবাই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সরকারি সহযোগিতা না পেলে হাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পথে বসতে হবে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন, ‘ওনাদের আবেদন পেয়েছি, কিন্তু আমাদের তো বিবেচনার সুযোগ নেই। এটা হাট ইজারা কমিটির বিষয়। আবেদনটা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে, সরকার বিবেচনা করলে আমরা সেটার বাস্তবায়ন করব। ওনাদের লস হচ্ছে সেটা তো আমরা বুঝছি। তবে দেশ করোনা বিপদমুক্ত হলে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত সব সেক্টরের পাশে দাঁড়াবে সরকার।’

লাইভস্টক

দেশসেরা খামারি আমিরুল

দেশসেরা খামারি আমিরুল
দেশসেরা খামারি আমিরুল

হতে চেয়েছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। কিন্তু বাবার মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। একমাত্র ছেলেসন্তান হওয়ায় হাল ধরতে হলো সংসারের। চৈত্রের বিকেলে গ্রামের মেঠো পথ ধরে হেঁটে ও কিছু দূর মোটরসাইকেলে চড়ে আসতে হলো আমিরুল ইসলামের গরুর খামারে, গ্রামের পাকা সড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বরমপুর গ্রামে আমিরুল ইসলামের এই খামারের নাম ‘তন্ময় ডেইরি ফার্ম’।

চার বিঘা জমির ওপর এই খামার একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা। শুধু দুধ নয়, গরুর গোবর থেকে তৈরি হচ্ছে বায়োগ্যাসও। তাতেই মিটছে নিজ বাড়ির রান্না ও গৃহস্থালি কাজে জ্বালানির চাহিদা। আবার গোবর থেকে তৈরি করা হচ্ছে কেঁচো কম্পোস্ট জৈব সার।

আমিরুলের খামারে সব মিলিয়ে ১২৮টি সংকর জাতের গরু রয়েছে। বর্তমান বাজারদর হিসাবে আমিরুলের খামারে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। প্রতিদিন তিনি ৪৬০ থেকে ৫৫০ লিটার দুধ উৎপাদন ও বিক্রি করেন। প্রতি লিটার ৪০ টাকা হিসাবে তাঁর দৈনিক গড় বিক্রি ২২ হাজার টাকা। বছরে খামার থেকে ৫০টির বেশি বাছুর বিক্রি করেন তিনি। এ থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা আয় হয়। শুধু গরুর খামার নয়, পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ছাগলের একটি খামার। এ খামারে বর্তমানে ছাগল আছে ২৪টি।

তবে বিশাল এই খামার খুব সহজে হয়নি। বাবার মৃত্যুতে বন্ধ হয়ে যায় কৃষির আয়ের উৎসও। আমিরুল ইসলাম তাঁর মায়ের প্রেরণায় গরুর খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। ১৯৯৪ সালে উপজেলার পাকশীর রূপপুর থেকে ১৪ হাজার ৬০০ টাকায় একটি সংকর জাতের গাভি কেনেন। গাভিটি বাড়িতে নিয়ে আসার কয়েক মাস পর একটি ষাঁড় বাচ্চা প্রসব করে। সে সময় গাভি থেকে প্রতিদিন ১৩-১৪ লিটার দুধ পেতেন। এরই মধ্যে ষাঁড়টি ২৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। জমিয়ে রাখেন সেই টাকা। গাভিটি দুই বছরে দুটি বকনা বাচ্চা প্রসব করে। এভাবেই আমিরুলের গরুর খামার বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। গচ্ছিত টাকার সঙ্গে মায়ের দেওয়া আরও কিছু টাকা যুক্ত করে আমিরুল তাঁর বাড়িতে তৈরি করেন খামারের শেড। এভাবে শুরু হয় আমিরুলের বাণিজ্যিক খামারের যাত্রা।

খামারে গরুর পরিচর্যা করছেন আমিরুল ইসলাম। ছবি: প্রথম আলো
খামারে গরুর পরিচর্যা করছেন আমিরুল ইসলাম। ছবি: প্রথম আলো

খামারি আমিরুল ইসলামের স্বপ্ন এলাকায় একটি বৃহৎ পরিসরে দুধের পল্লি গড়ে তোলা। ওই পল্লির বৈশিষ্ট্য হবে স্বল্প মূল্যে দুগ্ধজাতীয় ও শিশুদের পুষ্টি মেটাতে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা।

আমিরুল একজন আদর্শ গবেষকের মতো সংরক্ষণ করেন বিভিন্ন গরুর জাতের ইতিহাস। এই জ্ঞান কাজে আসে গবেষকদেরও। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে তাঁর এ খামার থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা নেন।

সম্প্রতি সেরা খামারি (গরু) ক্যাটাগরিতে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন দেশসেরা এই গরুর খামারি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

হাঁস–মুরগির খামারে ঘুরল ভাগ্যের চাকা

মুরগির খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করছেন খামারি আবদুর রাজ্জাক। প্রথম আলো
মুরগির খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করছেন খামারি আবদুর রাজ্জাক। প্রথম আলো

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের চণ্ডীভোগ গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। আগে অভাবের তাড়নায় কোনো রকম দিন পার করতেন। এখন তাঁর সুখের সংসার। মুরগির খামার বদলে দিয়েছে ভাগ্যের চাকা। শুধু আবদুর রাজ্জাকই নন, হাঁস-মুরগি পালন করে আরও অনেকের কপাল খুলেছে ওই গ্রামে।

সম্প্রতি একদিন বেলা ১১টার দিকে আবদুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বর্ণনা করেন তাঁর কষ্ট আর সাফল্যের কথা। আবদুর রাজ্জাক বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে প্রায় ২৫ বছর ধরে মুরগির খামার গড়ে তোলেন তিনি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দীপশিখা থেকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ ব্যবসায় আসেন। মাত্র তিন হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৩০০ মুরগির বাচ্চা নিয়ে এ যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ২ হাজার ২০০টি লেয়ার মুরগি আর ৪ হাজার সোনালি মুরগি। প্রতিদিন ডিম পান ২ হাজার ১০০টি করে। বাজারে প্রতি শ ডিম ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজার অনেক সময় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে বলে জানান তিনি।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, মুরগির এই খামার তাঁর জীবন পাল্টে দিয়েছে। এ ব্যবসার আয় থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে বাড়ি করেন, সাত বিঘা জমি কেনেন। এ ছাড়া খামারে কাজ করা দুজন শ্রমিকের সংসারও চলে এই আয় থেকে। তিন ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচ থেকে শুরু করে সবকিছুই করা হয় এই আয় থেকে। তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম বলেন, খামারটি তাঁদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে।

পাশের বাড়ির আবু বক্কার গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। হাঁসের বাচ্চা কিনে বড় করে ডিম সংগ্রহ করেন। এরপর সেই হাঁস বিক্রি করে আবার বাচ্চা হাঁস নিয়ে আসেন। আবু বক্কার বলেন, তিনি এ ব্যবসা করছেন ২০ বছর ধরে। পাশের হ্যাচারি থেকে ২৬ টাকায় প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা কিনে আনেন। বর্তমানে তাঁর ৪০০টি হাঁসের বাচ্চা রয়েছে। চার-পাঁচ মাস পর এসব হাঁসের ডিম দেওয়ার কথা। তখন প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৩৭০টি ডিম পাওয়া যাবে। প্রতিটি ডিম হ্যাচারিতেই ১১ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কয়েক দিন আগেও তিনি ২০০টি বড় হাঁস বিক্রি করেছেন ৭০ হাজার টাকায়। হাঁসের ব্যবসা তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একসময় ভ্যানগাড়ি চালাতাম। ধানের মৌসুমে কামলা খাটতাম। কিন্তু দীপশিখায় প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁসের খামার করে এখন ভালো আছি।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দীপশিখার রায়গঞ্জ প্রকল্প এলাকার ব্যবস্থাপক এরশাদ আলী বলেন, অনেকেই এখান থেকে হাঁস ও মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ জন খামার করেছেন। তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৮০ জন সফল হয়েছেন বলে জানান তিনি।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস বলেন, সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগে মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে, বিষয়টি সুখের।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান বলেন, সরকারি নানা উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেসরকারি উদ্যোগে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এমন চেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ভিন্ন রকম গরু পালনে লাভের পাল্লা ভারী

ভিন্ন রকম গরু পালনে লাভের পাল্লা ভারী
নরসিংদীর রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আমিন তালুকদার ওরফে রুবেলের গরুর খামার।

ভিন্ন পন্থায় খামার গড়ে এলাকায় তিনি বেশ পরিচিত। অন্য খামারিদের মতো গৎবাঁধা নিয়মে আবদ্ধ জায়গায় গরু বেঁধে রাখেন না। তাঁর খামারের গরু ঘুরে বেড়ায় নির্দিষ্ট বেষ্টনীর চারপাশে। তিনি নরসিংদীর রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আল আমিন তালুকদার ওরফে রুবেল। প্রথম আলোকে জানালেন, এভাবে গরু পালনে বিপুল লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখেছেন।

২০০৩ সালে লেখাপড়ার পর্ব শেষ করে রুবেল ভেবেছিলেন, দুই ধরনের খামার গড়ে তুললে হয়তো লাভের দেখা সহজেই মিলবে। তাই সবজির পাশাপাশি ১৪টি গরু নিয়ে খামার গড়েন পৈতৃক জায়গায়। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। পাঁচ বছরের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা লোকসানের বোঝা চেপে বসে তাঁর কাঁধে। বাধ্য হয়ে গরুর খামার বন্ধ করে দেন। তবে কৃষিপ্রধান এলাকা লক্ষ্মীপুরে সবারই যেন কৃষিকাজে রয়েছে দুর্বলতা। সেই দুর্বলতা থেকে ২০১১ সালে আবারও গরুর খামার শুরু করেন। তবে এবার তাড়াহুড়া নয়, ভাবনা-চিন্তা করেন রুবেল। গো-খামার নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিন বছরের মধ্যে লোকসানের বোঝা সরিয়ে লাভের দেখা পান।

বেষ্টনীতে ছেড়ে রেখে গরু পালন
আমিন তালুকদার জানান, কয়েক বছর আগে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের খামার দেখতে যান। ভারতের বিহার, হরিয়ানা, পাঞ্জাবের খামার দেখে গরু পালনের ধরন বদলে ফেলেন। দেখতে পান, সেসব রাজ্যে গরু-মহিষগুলো খামারের একটি বেষ্টনীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যখন খিদে লাগছে, পশুগুলো খেয়ে নিচ্ছে নিজের মতো করে। কোনো আবদ্ধ জায়গায় গরু-মহিষকে গলায়-মুখে দড়ি বেঁধে ঠায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসিয়ে রাখা হয় না। পশুগুলোর স্বাস্থ্য বেশ ভালো, প্রচুর দুধও দিচ্ছে। মাত্র দুই-তিনজন রাখাল দিয়ে শতাধিক গরু লালন-পালন করানো হয়। ঘাস, ভুসি, গমই খেতে দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফিরে আরও কয়েকজন খামারির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন। এবার নিজের খামারে বেষ্টনী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এক বিঘার খামারের মধ্যে পাঁচ কাঠা জায়গায় গড়েন এই বেষ্টনী। একপাশে ঢেউটিন দিয়ে ছোট্ট একটু শেড। গোটা বিশেক গাভি ও বাছুর বেষ্টনীর ভেতরে ছেড়ে দেন।

আমিন বলেন, বেষ্টনীর ভেতর গরু ছেড়ে দিয়ে তিনি বেশ উপকার পাচ্ছেন। এ কৌশল খাঁটিয়ে গরুগুলোর কাছ থেকে প্রচুর দুধ মিলছে। তবে দুধের দাম খুব একটা না পাওয়ায় এবার দুধের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উন্নত জাতের বাছুর প্রজননে মনোযোগ দেন তিনি। উন্নত জাতের সিমেন (বীজ) বাইরে থেকে আমদানি করেন। এর মধ্যে গিরল্যান্ডো নামের একটি জাত রয়েছে।

আমিন বলেন, ‘২০০৩ সালে আমাকে ১৪টি গরু দেখাশোনা করাতে দুজন শ্রমিককে বেতন দিতে হতো। এখন ৪০টি গরু রয়েছে আমার খামারে। কিন্তু লোকবল এখন আগের মতো দুজনই রয়েছে।’

ভিন্ন রকম গরু পালনে লাভের পাল্লা ভারী
বেষ্টনীর ভেতরে ছাড়া অবস্থায় থাকে আমিনের খামারের গরুগুলো।

বেষ্টনীর ভেতর গরু ছেড়ে পালন করলে তিন ধরনের সুবিধা রয়েছে বলে মনে করেন আমিন। তিনি বলেন, প্রথমত গরুর মধ্যে চাঞ্চল্য থাকে। মনমরা হয়ে থাকে না। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, বেশি গরু পালন করা যায়, গোবর দিনে দুবার পরিষ্কার করলেই হয়। তাই শ্রমিক খরচ অনেকটাই কমে যায়। তৃতীয়ত, প্রাণচাঞ্চল্য থাকায় গরুর রোগ–বালাই কম হয়। এর ফলে চিকিৎসার ব্যয় কমে যায়। সব মিলিয়ে গরুর দুধ উৎপাদন বেশি হয়।

আমিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গিরল্যান্ডো জাতের বীজ এনেছেন। বেষ্টনীর মধ্যে থাকা গাভিগুলোর মাধ্যমে নতুন জাতের বাছুর পাওয়ার আশা করছেন। বাছুরের সঙ্গে প্রতিটি গাভি থেকে বছরে প্রায় ১৩ হাজার লিটার দুধ পাওয়া যাবে বলে তাঁর আশা। তাঁর মতে, গরু বেঁধে পালন করতে হলে জায়গা তুলনামূলক বেশি প্রয়োজন হয়। বর্জ্য সরানোর জন্য আলাদা নালা করতে হয়। কিন্তু খোলা জায়গায় ছেড়ে দিয়ে রাখলে কম জায়গায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেশিসংখ্যক গরু পালন করা যায়।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন পন্থায় বেষ্টনীতে ছেড়ে দিয়ে রেখে গরু পালন করছেন আমিন। তিনি বলেন, প্রতিদিন এক শ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি লিটার দুধ ৫৪ টাকায় বিক্রি করে দৈনিক আয় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিবছর সাত–আটটি বাছুর বিক্রি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় হয় তাঁর।

ভিন্ন রকম গরু পালনে লাভের পাল্লা ভারী
নিজের খামারে আমিন তালুকদার।

গোবর থেকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট
আমিন তালুকদারের খামারের গরু থেকে প্রচুর পরিমাণে গোবর পাওয়া যায়। ওই গোবরগুলো কাজে লাগানোর জন্য খামারে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণ করেছেন তিনি। এই প্ল্যান্ট থেকে পাঁচটি লাইনে প্রতিবেশীদের বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি লাইন থেকে মাসে আট শ টাকা পাচ্ছেন। গ্যাস পাওয়ার পর গোবর ফেলে দেন না তিনি। সবজির খামারের জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করেন। তাই দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে কৃষি খামারের পরিধি বাড়িয়েছেন। চার বিঘা আয়তনের খামারে কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করছেন। এ ছাড়া খামারের আরেক অংশে ভুট্টা, নেপিয়ার ঘাসের চাষ করা হচ্ছে। এই ঘাস ও ভুট্টা দিয়ে খামারে গো–খাদ্যের জোগানও পাচ্ছেন। শুধু দুধ ও গ্যাস বিক্রি করে তাঁর বছরে আয় ২০ লাখ টাকা।

আমিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আল হাদি পাভেল গরুগুলোকে দেখাশোনা করে, চিকিৎসা দেয়। সে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছে। নিজের ভাই হলেও পাভেলকে মাসে ২৫ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছি। এই টাকা দিয়ে পাভেল তার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছে।’

আমিনের আশা, গিরল্যান্ডো জাতের বাছুরের জন্ম হলে, তাঁর খামারে দুধ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই আয় আরও বেড়ে যাবে। খামার ঘিরে তাঁর স্বপ্ন, প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে, তাই খামারের নাম রেখেছেন ‘হোপ অ্যাগ্রো’।

আমিনের পথে ইমরান
আমিন তালুকদারের মতো বেষ্টনীতে গরু ছেড়ে পালন করছেন আরেক খামারি শাহ ইমরান। তবে তিনি মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য খামার করেছেন। তাঁর ৫০টি গরুর একটি খামার রয়েছে গাজীপুর জেলার মাওনায়। এর মধ্যে রয়েছে দেশি জাতের উন্নত ও শাহিওয়াল ক্রস জাতের গরু। কোরবানির ঈদসহ যেকোনো উপলক্ষ সামনে রেখে শাহ ইমরান এসব গরু পালন করেন।

ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেষ্টনীতে ছেড়ে গরু পালন আমাদের দেশে এক নতুন অভিজ্ঞতা। ২৪ দিনে শাহিওয়াল ও ফ্রিজিয়ান ক্রস গরুর ওজন বৃদ্ধি পাওয়া গেছে ৪৪ কেজি। ৪৪৫ কেজি থেকে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮৯ কেজি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন ওজন বেড়েছে ১৮৩০ গ্রাম করে।

তবে এ ক্ষেত্রে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় কিছুটা পরিবর্তন আনার কথা জানান ইমরান। তিনি বলেন, গমের ভুসি ১০ শতাংশ কমিয়ে ভুট্টা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সয়াবিন ও রাইস ব্রান দেওয়া হয়। একইভাবে অন্যান্য গরুর ওজন দৈনিক সোয়া কেজি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

খাবার থাকে বেষ্টনীর মধ্যেই। ঘুরেফিরে খাবার খায় গরুগুলো।

ইমরান জানান, এভাবে বেষ্টনীতে ছেড়ে দিয়ে গরু পালন করলে গরুর মাংসে চর্বি কম জমে। মাংস সুস্বাদু হয়। হাঁটাচলা করায় গরুর পেটে গ্যাস কম জমে। তাই অসুখ-বিসুখ কম হয়। তবে এক বছর সময় ধরে বেষ্টনীতে গরু ছেড়ে দিয়ে পালতে হবে। বেষ্টনীর চারপাশে খাবারের পাত্র থাকবে। সেখান থেকে গরুগুলো নিজের মতো করে খেয়ে নেবে। এভাবে গরু পালন করলে শেড নির্মাণে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হবে না। তিনি বলেন, ‘অনেকে আছেন ৫০টি গরুর জন্য ২৫ লাখ টাকা দিয়ে খামারের শেড নির্মাণ করেন। এ জন্য অনেক সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। এভাবে খামারের কাঠামো পাওয়া যায়, কিন্তু গরু আর পালন করা যায় না। উঁচু স্থানে বেষ্টনী করা ভালো। তবে পানি জমে গেলে বালু বা মাটি ফেলে জায়গা উঁচু করা যেতে পারে। অবশ্য অল্প কাদায় গরুর হাঁটাচলায় সমস্যা হয় না।’

বেষ্টনীতে ছেড়ে দিয়ে গরু পালনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, ছেড়ে দিলে গরু-মহিষ হাঁটাচলা করতে পারে। এতে গরুগুলোর ব্যায়াম হয়। স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গবেষণাও আছে।

মহাপরিচালক বলেন, ‘এভাবে পালনের সমস্যা হচ্ছে আমাদের ভূমি–সংকট। অন্য দেশে খামারে গবাদিপশু ছেড়ে দিয়ে পালন করা হয়। আমাদের দেশে এই সুযোগ কম। এটি পাওয়া গেলে আমাদের খামারিরা মাংস ও দুধ উৎপাদনে আরও এগিয়ে যেতে পারতেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত

জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত
জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত

মহামারি করোনা ভীতি এবং আর্থিক সংকটের কারণে কোরবানি দিতে না পারায় জেলায় এবার অবিক্রিত গরু রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার।

জয়পুরহাটে এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ৪৭ হাজার গরু প্রস্তত করেছিল খামারি ও কৃষকরা। এ লক্ষে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণও করেছেন তারা কিন্তু করোনার কু-প্রভাব ও বিভিন্ন জেলায় বন্যা, অবিরাম বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাট-বাজারগুলোতে আশানুরুপ খুচরা ও পাইকারি গরু ব্যবসায়ী না আসায় ক্রেতা সংকট ও দরপতনে দেশীয় গরু বিক্রি করতে পারেনি কৃষক ও খামারিরা।

অন্যদিকে, ঈদকে সামনে রেখে বেশি লাভের আশায় দেশীয় গো-খাদ্য কিনে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করেছেন জয়পুরহাটের ছোট বড় বেশ কিছু খামারি এবং এলাকার দরিদ্র ও গৃহস্থ পরিবারের প্রায় ১২ হাজার খামারি ও কৃষক।

আটা, গম, ভুষি, খড়, ঘাসসহ অন্যান্য গো-খাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে খরচ বেশি হলেও করোনার কারণে চরম আর্থিক সংকট এবং ফেরত গরুকে নতুন করে খাবার জোগান দেয়া এতসব দুশ্চিন্তায় গরুর খামারিরা ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান হলেও গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত
জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত

জয়পুরহাট সদর উপজেলার নতুনহাট, পাঁচবিবি গরুর হাট, হোপের হাট, দূর্গাদহ গরুর হাট, আক্কেলপুর তিলকপুর ও গোপীনাথপুর গরুর হাট, কালাইয়ের পুনট গরুর হাট, ক্ষেতলাল গরুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে জানা যায়, হাট-বাজারগুলোতে ঢাকা, চট্টগাম, নোয়াখালি, কুমিল্লা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আশানুরুপ পাইকারি গরু ব্যবসায়ী না আসায় হাট-বাজারগুলোতে বড় গরুর চাহিদা ছিল খুবই কম। ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা ছিল খুবই বেশি।

করোনার বিস্তার, বিড়ম্বনা ও গো-হাটের ভিড় এড়াতে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন বে-সরকারি সংস্থা ও অনেক খামারী অনলাইনে পশু কেনা-বেঁচা করলেও তা সাড়া ফেলেনি।

এদিকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে আসা অসংখ্য ভারতীয় গরু ছাড়াও ৩-৪ মাস আগে থেকে ভারতীয় গরু সংগ্রহ করে লালন-পালন কারীরাও খরচের চেয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা কম বলায় তা আর বিক্রি করেননি।

পাঁচবিবির বালিয়াতৈর এলাকার আব্দুল খালেক জানান, দুই জোড়া শাহীওয়াল জাতের বাছুর আড়াই বছর ধরে লালন-পালন করেছেন। বেশ কিছুদিন আগে বাড়িতেই গরু দুটির দাম বলেন ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। পরে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু দুটি বিক্রি করেছেন তিনি।

জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত
জয়পুরহাটের খামারিদের ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত

পাঁচবিবি কোরিয়া বাজার এলাকার মিনহাজ হোসেন বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের বাছুর ৩ বছর লালন পালন করে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। গরু লালন-পালন করতে প্রায় খরচই হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার আব্দুল ওহাব, মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন,ভূটিয়াপাড়ার নাজমুল, চেঁচড়ার নাজমুলসহ অনেক খামারি বলেন, দাম ঠিকমতো না পাওয়ায় গরু বিক্রি করতে পারিনি। গরু নিয়ে বিপদে আছি।

আক্কেলপুর পৌরসভার গ্রামের বাসিন্দা ছাইদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে কোরবানি দিয়ে আসছি। এ বছর করোনার কারণে আর্থিক সংকটে রয়েছি। তাই নিজ বাড়িতে পালন-পালন করা একটা ষাঁড় গরু হাটে বিক্রি করে কোরবারি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্ত দাম না পাওয়ায় আর বিক্রি করা হয়নি।

জয়পুরহাট পৌর এলাকার পল্লব হোসেন ও শান্তিনগর এলাকার আবু তাহেরসহ অনেক ক্রেতা বলেন, করোনায় আর্থিক সংকটের কারণে ৬০ হাজার টাকায় ছোট গরু কিনেছি।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন এর রাজশাহী বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও জয়পুরহাট জেলা ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাদমান আলিফ মীম রায়হান বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে এমন সময়ে অনলাইনে গরু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে যে ওই সময় কোনো সাড়া নেই। এ উদ্যোগটি আরও আগে নেয়া উচিত ছিল। বাইরে থেকে পাইকার না আসায় মাত্র আমার ফার্ম থেকে ১৫টি ছোট গরু বিক্রি করতে পেরেছি। ২৫ মণ মাংসের গরুসহ ৩৫টি বড় গরু বিক্রি করতে পারেনি। এ গরুগুলোতে যে খরচ হয়েছে তার চেয়ে ২০-৩০ হাজার কমে গরুর দাম বলে। মাংস হিসেবে বিক্রি করলেও দাম বলার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হবে।

জয়পুরহাট জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজার রহমান জানান, জেলায় কোররবানি উপযোগী পশু এক লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি প্রস্তুত করেছিল খামারিরা। কোরবানির পরও ২৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা ছিল কিন্ত করোনার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় গরু না যাওয়া ও অর্থনৈতিককালে অনেকেই কোরবানি দিতে না পারায় প্রায় ৪০ হাজার গরু অবিক্রিত রয়ে গিয়েছে খামারিদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

২৭ হাজার কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি

২৭ হাজার কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি
২৭ হাজার কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি

করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চালু হওয়া অনলাইন কোরবানির পশুর হাট থেকে ২৭ হাজার গরু-ছাগল ও অন্যান্য পশু বেচাকেনা হয়েছে।

ডিজিটাল হাট ও ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-ক্যাব ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গত ১১ জুলাই থেকে চালু হয় ডিজিটাল হাট।

সেখানে আরও জানানো হয়, অনলাইন থেকে ছবি দেখে পরে সরাসরি কৃষকের বাড়ি ও খামার থেকে এর তিনগুণের বেশি গরু কিনেছেন ক্রেতারা।

এর মধ্যে ডিজিটাল হাট এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ও ই-ক্যাব সদস্যদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া গরু, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ছয় হাজার ৮০০টি। কোরবানি ঈদের একদিন বাকি থাকতে জেলাভিত্তিক সরকারি প্ল্যাটফর্মে কমপক্ষে পাঁচ হাজার ৫০০টি গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে। সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে বেশি ৫১৭টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে নরসিংদী জেলায়।

২৭ হাজার কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি
২৭ হাজার কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি

ই-ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত কোম্পানির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিক্রি হয়েছে প্রায় নয় হাজার এবং ফুড ফর নেশন থেকে চার হাজার কোরবানির পশু। এছাড়া অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও ৫০০ গরু বিক্রি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ডিজিটাল হাট বাস্তবায়ন করায় ডিএনসিসি, আইসিটি ডিভিশন, ই-ক্যাব, আইএসএসএল, ধানসিঁড়ি ও সাদিক এগ্রোসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির ক্ষেত্রে সবসময় পশুর মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেন, নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ক্রেতাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধা এবং উদ্যোক্তাদের সুবিধা— দুটোই আমাদের দেখতে হয়েছে। শুধুমাত্র ডিজিটাল হাট প্লাটফর্ম ঘিরে এবার বেশ কয়েকজন নতুন অনলাইন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট অনেকেই অংশ নেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com