আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

যেসব খাবার প্রতি পাঁচ জন লোকের মধ্যে একজনের অকাল মৃত্যু ডেকে আনছে

স্বাস্থ্যকর খাবারে মনোযোগ দেয়ার কথা বলছেন গবেষকরা
স্বাস্থ্যকর খাবারে মনোযোগ দেয়ার কথা বলছেন গবেষকরা

ডায়েটের কারণেই প্রতি পাঁচ জনে একজনের জীবনের আয়ু কমে যাচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে শুধু খাবারের কারণেই।

ল্যানসেটে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে দৈনন্দিন যে খাদ্য তালিকা সেটিই ধূমপানের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটায় এবং বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য এই ডায়েট বা খাবারই দায়ী।

যেমন ধরুন লবণ- তা রুটি, সস বা মাংস- যেটার সাথেই দেয়া হোক না কেন -এটিই জীবনের আয়ু কমিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

গবেষকরা বলছেন, এই গবেষণা শুধু মাত্র স্থূলতার বিষয়ে নয় বরং দেখা হয়েছে কিভাবে নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাস (পুওর কোয়ালিটি) হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে বা ক্যান্সারের কারণ হচ্ছে।

কোন খাবার নিয়ে চিন্তার কারণ আছে?

দ্যা গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজেস স্টাডি হলো গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ যেখানে দেখা হয়েছে কিভাবে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মানুষ মারা যাচ্ছে।

বিপদজনক খাদ্য হিসেবে যেসব উপাদানের কথা বলা হচ্ছে :

১. অতিরিক্ত লবণ- ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ

২. কম দানাদার শস্য খাওয়া- ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ

৩. ফলমূল কম খাওয়া- ২০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ

এছাড়া বাদাম, বীজ, শাক-সবজী, সামুদ্রিক থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ এবং আঁশ জাতীয় খাবারের পরিমাণ কম হওয়াটাও মৃত্যুর বড় কারণগুলোর অন্যতম।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার মুরে বিবিসিকে বলছেন, “ডায়েটকেই আমরা স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান পরিচালক হিসেবে পেয়েছি। এটা সত্যিই অনেক গভীর।”

লবণ অনেক খাবারের সাথেই ব্যবহৃত হচ্ছে
লবণ অনেক খাবারের সাথেই ব্যবহৃত হচ্ছে

কিভাবে মানুষকে হত্যা করছে?

এক কোটি দশ লাখ ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যুর মধ্যে এক কোটির মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।

অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় যা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

হার্টে ও রক্ত বহনকারী ধমনীর ওপর লবণের প্রভাব পড়ে সরাসরি যা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধের ঝুঁকি তৈরি করে।

সঠিক ডায়েট থেকে কত দূরে বিশ্ব?

সঠিক ডায়েট থেকে কত দূরে বিশ্ব
সঠিক ডায়েট থেকে কত দূরে বিশ্ব

আমরা কি সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাচ্ছি- এটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যেমন, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার দিনে ২৫ গ্রাম খাওয়ার কথা বলা হলেও গড়ে মানুষ খাচ্ছে মাত্র ৩ গ্রাম। আবার দুধ খাওয়া উচিত ৪৪৩ গ্রাম অথচ মানুষ গ্রহণ করছে ৭১ গ্রাম।

একই ভাবে দানাদার শস্য জাতীয় খাবার ১২৬ গ্রামের জায়গায় ২৯ গ্রাম খাচ্ছে।

অথচ লাল মাংস ২২ গ্রাম খাওয়া উচিত হলেও সেটি খাচ্ছে ২৭ গ্রাম, লবণ ৩.২ গ্রামের ওপর খাওয়া উচিত নয় কিন্তু সেটি গ্রহণ করছে ৬ গ্রাম আর প্রক্রিয়াজাত মাংস ২.১ গ্রামের স্থানে ৪ গ্রাম।

এই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী যে স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বেশি বাদ যাচ্ছে তা হলো – বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নিতা ফরোউহি বলছেন, ধারণা করা হয় যে এসব খাবারের ছোট একটি প্যাকেটে একজনকে মোটা বানাতে পারে অথচ এগুলো সব ভালো ফ্যাটে ভর্তি।

আর বেশিরভাগ লোকই এটাকে প্রধান খাবার ভাবতে পারেনা, তিনি বলেন।

রেড মিট বা লাল মাংস আর প্রক্রিয়াজাত করা মাংসের সাথে ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবছর অনেক সংবাদ হয়।

প্রফেসর মারে বলছেন, কিন্তু সেটা শস্য, দানাদার ও আঁশজাতীয় খাবার ও ফলমূল কম খাওয়ার চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষকরা তাই মনে করছেন, স্বাস্থ্য নিয়ে যারা সচেতনতা তৈরি করেন তাদের চর্বি কিংবা সুগারের কথা কম বলে স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা বেশি বলা উচিত।

খারাপ ডায়েট মানুষের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে বিশ্বজুড়ে এটি এখন গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে বলে বলছেন গবেষকরা।

ভালো থাকার জন্য বাদাম জাতীয় খাবার গুরুত্বপূর্ণ
ভালো থাকার জন্য বাদাম জাতীয় খাবার গুরুত্বপূর্ণ

কোনো দেশ ভালো করছে?

ফ্রান্স, স্পেন এবং ইসরায়েলের মতো কিছু দেশ ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম।

আর দক্ষিণ পূর্ব, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার চিত্র উল্টো।

প্রচুর পরিমাণে লবণ
প্রচুর পরিমাণে লবণ

ইসরায়েলে যেখানে প্রতি এক লাখে এ ধরণের মৃত্যুর হার মাত্র ৮৯, সেখানে উজবেকিস্তানে ৪৯২ জন।

তবে প্রফেসর মারে বলছেন, জাপানে আগে ব্যাপক লবণ খাওয়ার প্রবণতা থাকলেও সেটি এখন নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।

তবে চীনারা প্রচুর পরিমাণে লবণ খায় এবং খাদ্য তালিকায় লবণ দিয়ে সস বেশি পছন্দ করে তারা।

আর যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে এখনো ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামের পেছনে আছে।

তবে এজন্য ফলমূল বা দানাদার ও শস্যজাতীয় খাবারের স্বল্পতাও কম দায়ী নয়।

দেশটিতে ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যু প্রতি লাখে ১২৭ জন।

বেশি লবণ ব্যবহার করে তৈরি খাবার
বেশি লবণ ব্যবহার করে তৈরি খাবার

কোনো পরামর্শ?

প্রফেসর মারে বলছেন, “কোয়ালিটি ডায়েট হলো আসল কথা, আপনার ওজন কতো সেটা এখানে বিবেচ্য নয়।”

তিনি সবজি, আঁশজাতীয় খাবার ও ফলমূল খাওয়া বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে বড় বিষয় হলো টাকা।

প্রফেসর ফরউহি বলছেন, লোকজন জানলে আর রিসোর্স থাকলে মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে পারে।

তবে তারা দুজনই একমত যে ফ্যাট, সুগার বা সল্ট এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে মানুষের উচিত ভালো খাবারের দিকে মনোযোগ দেয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

দৈনন্দিন

ভরপেট খেতে পেলেও কেন অপুষ্টিতে ভোগে বাংলাদেশিরা?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই নারী
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই নারী

বাংলাদেশে এখনও দুই কোটি ১০ লাখ মানুষ অর্থাৎ প্রতি আটজনের মধ্যে একজনের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতা নেই।

খাদ্যের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতার ব্যাপারে এক যৌথ সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। যৌথভাবে সমীক্ষাটি চালিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী (ডাব্লিউএফপি) এবং বাংলাদেশ সরকার।

এতে বলা হচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং অসচেতনতার কারণে বাংলাদেশে প্রচুর মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আর এসব কারণে এখনও ৩১ শতাংশ শিশুর শারীরিক বিকাশ ঠিকমত হচ্ছেনা।

পুষ্টিকর খাদ্য বলতে ছয় ধরণের খাদ্য উপাদানের সমন্বয়কে বোঝায়
পুষ্টিকর খাদ্য বলতে ছয় ধরণের খাদ্য উপাদানের সমন্বয়কে বোঝায়

পুষ্টিকর খাদ্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে

পুষ্টিকর খাবার বলতে বুঝায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন ছয়টি গ্রুপের খাবার থাকে।

ছয়টি গ্রুপ হল, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, পানি ও চর্বি।

কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় মানুষ এখনও অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত ও অপর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান সম্বলিত খাদ্যের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অন্য যে পুষ্টিকর খাবারগুলো আছে যেমন শাক-সবজি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ-ডাল এগুলো খাওয়ার ব্যাপারে খুব একটা জোর দেন না।

দরিদ্রতার পাশাপাশি সচতেনতার অভাব, পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ
দরিদ্রতার পাশাপাশি সচতেনতার অভাব, পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ

পুষ্টিহীনতার কারণগুলো কী

দারিদ্র্য, সেইসঙ্গে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে মানুষের সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্যতার অভাব এই পুষ্টিহীনতার প্রধান কারণ বলে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনেকে মাছ-মাংস, শাক-সবজি ফলমূলের মতো পুষ্টিকর খাবার পয়সার অভাবে কিনতে পারছেন না।

আবার অনেকে এসব খাবার কেনার ক্ষমতা আছে ঠিকই, কিন্তু তারা জানেন না কোন খাবারগুলো, কী পরিমাণে খেতে হবে।

গড়ে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দিনে ২১০০ কিলোক্যালোরির প্রয়োজন।

তাই দেখা যায় যে, মানুষ তিন/চার বেলা পেট ভরে খাচ্ছেন ঠিকই, প্রয়োজনীয় ক্যালরিও পূরণ করছেন। কিন্তু এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ডব্লিউএফপির তনিমা শারমিন বলেন, “পেট পুরে শর্করা খেলেও সেখানে যদি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান না থাকে তাহলে সেটাও পুষ্টিহীনতা।”

এছাড়া খাদ্যে ভেজালের আতঙ্কে অনেকে জেনে বুঝেও পুষ্টিকর খাবার এড়িয়ে চলেন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে যে উপায়ে রান্না করা হয়, তার কারণে খাবারের পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির দিকটি সেভাবে নজরে আনা হয়না
বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির দিকটি সেভাবে নজরে আনা হয়না

কারা পুষ্টিহীনতায় বেশি ভোগেন এবং কেন

সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের দরিদ্র সীমার নীচে যে ১১.৯০% জনগোষ্ঠী রয়েছে তারাই মূলত পুষ্টিহীনতায় ভোগেন বেশি।

তবে ক্রয়ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন একটি বড় জনগোষ্ঠী।

পুষ্টিবিদদের মতে, একেক বয়সে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা একেক রকম থাকে।

এরমধ্যে বয়ঃসন্ধিকালে এবং গর্ভ ধারণের সময় নারীদের পুষ্টির চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে।

বাংলাদেশে মা শিশুর পুষ্টির দিকটি যেভাবে নজরে রাখা হয় বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলে-মেয়ের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব পায় না।

এছাড়া প্রবীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির দিকটিও অবহেলিত বলে গবেষণায় জানা গেছে।

এছাড়া কম বয়সী মেয়েরা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে যখন তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল লিঙ্গভিত্তিক নিয়মকানুন এবং প্রথা, যেমন বাল্য-বিবাহ, গর্ভধারণ ইত্যাদির, সম্মুখীন হতে হয়।

মা ও শিশু
মা ও শিশু

এই গবেষণা কতোটা উদ্বেগের

গবেষণায় বলা হয়েছে বাংলাদেশে এখনও দু কোটি ১০ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতা নেই।

শতাংশের হিসেবে এটি বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩%।

এই হারকে খুব একটা উদ্বেগজনক ভাবছেন না ডব্লিউএফপির পুষ্টিবিদ তনিমা শারমিন।

উদ্বেগের বিষয় হল যে ৮৭% মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রয়েছে, তাদেরও একটি বড় অংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। সেটা শুধুমাত্র সচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্যতার অভাবে।

এই গবেষণা বাংলাদেশের খাদ্যরীতি, খাদ্যের পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বিষয়ে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হয়।

শারীরিক বিকাশজনিত বিভিন্ন রোগ যেমন শারীরিক বৃদ্ধি থেমে যাওয়া বা স্টান্টিং (৩১%) ও খাদ্য অপচয় (৮%), প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-এর ঘাটতি এবং অন্যদিকে জনগণের ভিতরে ওজন এবং স্থূলতার ক্রমাগত বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় রেখে বলা হয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির আরও অনেক সুযোগ রয়েছে।

বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছের উৎপাদন বাড়ানোয় মনযোগ দিতে হবে
বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছের উৎপাদন বাড়ানোয় মনযোগ দিতে হবে

কী করা প্রয়োজন

পুষ্টিহীনতা দূর করতে গবেষণায় মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রথমত, নানাবিধ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো।

আমিষের ঘাটতি পূরণে বড় মাছের উৎপাদন বাড়ানো হলেও এর চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ছোট মাছের উৎপাদন বাড়ানো হয়নি।

এই ধরণের সহজলভ্য পুষ্টিকর খাবার সব শ্রেণীর মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন মিস শারমিন।

সমাজের সকল স্তরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনের জন্য এমনভাবে প্রচারণা চালানো যেন বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।

এজন্য ব্যক্তি পর্যায়ে অভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনের দরকার আছে। এবং এর পেছনে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের খাদ্যনীতি, কৃষিনীতিতে খাদ্য উৎপাদনে যতো জোর দেয়া হয়েছে সে তুলনায় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে গেছে।

তাই সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যক্তি পর্যায়ে অভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক পরিবর্তন দরকার বলে জানিয়েছেন মিস শারমিন।

এছাড়া কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের পুষ্টিজনিত অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো এবং এর মাধ্যমে উন্নত মানব সম্পদ হিসেবে তৈরি করার ওপরও গবেষণায় জোর দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

পটকা মাছ থেকে জায়ফল: যে পাঁচটি খাবার অসুস্থতা এমনকি আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে

অনেক খাবার নিরীহ দেখতে হলেও সেগুলোর মানব শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে
অনেক খাবার নিরীহ দেখতে হলেও সেগুলোর মানব শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খাবারে ক্ষতির কোন কারণ নেই বলে মনে করা হয়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো সতর্কতা, বাছাই আর রান্নায় যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া সব খাবার নিরাপদে খাওয়া সম্ভব নয়। কারণ খাওয়ার আগে সেসব খাবার থেকে বিষাক্ত অংশটি সঠিকভাবে দূর করা প্রয়োজন।

এসব পদক্ষেপ ঠিক ভাবে নেয়া না হলে কিছু-কিছু খাবার খাওয়ার কারণে গুরুতর অসুস্থতার তৈরি হতে পারে। বমি বমি ভাব থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট, বিকারগ্রস্ত এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

এখানে এমন পাঁচটি খাবারের উল্লেখ করা হলো যেসব খাবার খাওয়ার আগে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া দরকার।

আসলে আপনি যদি নিশ্চিত হতে না পারেন যে নীচের পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে নেয়া হয়েছে, তাহলে এসব খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

১. পটকা মাছ

বিপদজনক হলেও পটকা মাছ জাপানে অত্যন্ত দামী ও জনপ্রিয়
বিপদজনক হলেও পটকা মাছ জাপানে অত্যন্ত দামী ও জনপ্রিয়

পটকা মাছ খুবই ভয়ঙ্কর হতে পারে।

এই মাছের শরীরে টেট্রোডোটক্সিন নামের একটি বিষাক্ত জিনিস থাকে, যা সায়ানাইডের চেয়েও মারাত্মক বলে মনে করা হয়।

তবে এই ঝুঁকি সত্ত্বেও পাফার ফিশ বা পটকা মাছটি অনেক দেশে দামী একটি খাবার হিসাবে পরিচিত।

জাপানে ফুজু (পটকা মাছ দিয়ে তৈরি খাবার) অনেক সময় কাঁচা অথবা সুপের মধ্যে পরিবেশন করা হয়।

এই মাছ দিয়ে খাবার তৈরি এবং গ্রাহকদের পরিবেশন করার আগে কয়েক বছর ধরে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিতে হয় জাপানের পাচকদের।

এজন্য প্রধান কৌশল হলো পটকা মাছের খাবারটি গ্রাহকের প্লেটে দেয়ার আগে এর বিষাক্ত অংশগুলো, যার মধ্যে আছে মস্তিষ্ক, চামড়া, চোখ, ডিম্বাশয়, যকৃত এবং অন্ত্র দূর করে ফেলতে হবে।

পটকা মাছ দিয়ে খাবার তৈরি এবং গ্রাহকদের পরিবেশন করার আগে কয়েক বছর ধরে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিতে হয় জাপানের পাচকদের
পটকা মাছ দিয়ে খাবার তৈরি এবং গ্রাহকদের পরিবেশন করার আগে কয়েক বছর ধরে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিতে হয় জাপানের পাচকদের

২. কাসু মারজু পনির

এই খাবারের অবাক করার মতো বিশেষত্ব হলো- এর ভেতরে থাকে পোকামাকড়।

শুনতে হয়তো রুচিকর কিছু শোনাবে না, কিন্তু ইটালির সারডিনিয়ায় এর অনেক ভক্ত রয়েছে।

পেকোরিনো পনিরের সঙ্গে কীটের লার্ভা মিশিয়ে কাসু মারজু পনির তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে পারমায় তৈরি করা পনিরের সঙ্গে ঘ্রাণ ও ঘনত্বের দিক থেকে মিল রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পনিরটিকে নরম করে তোলে কীটগুলো। সুতরাং যখন এটি খাওয়ার জন্য দেয়া হয়, তখন পনিরের ভেতরটা অনেকটা ঘন তরল হয়ে থাকে।

অনেক সময় বলা হয়, এর স্বাদ অনেকটা গর্জনজোলা পনিরের মতো।

কীটপতঙ্গের উপাদান যুক্ত হওয়ার কারণে কাসু মারজুর শক্তিশালী এবং স্বাতন্ত্র্য স্বাদ রয়েছে। কিন্তু এটির স্বাদ নেয়ার সময় কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার।

প্রথমত: পোকাগুলোকে ধরতে আপনাকে ত্বরিতগতি সম্পন্ন হতে হবে। পনিরের কোন অংশ খাওয়ার সময় এসব পোকা ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাতাসে লাফ দিতে পারে।

কাসু মারজু পনিরের মাঝে থাকে কীটপতঙ্গ, যা এই পনিরকে আলাদা স্বাদ এনে দেয়
কাসু মারজু পনিরের মাঝে থাকে কীটপতঙ্গ, যা এই পনিরকে আলাদা স্বাদ এনে দেয়

দ্বিতীয়ত: এটা খুবই কঠিন খুঁজে পাওয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমোদিত খাদ্য তালিকার ভেতরে কাসু মারজু নেই, ফলে এটি রপ্তানি করা যায় না।

তৃতীয়ত: কাসু মারজুকে অনেক সময় বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পনির বলে বর্ণনা করা হয় কারণ এটায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।

এটা বিশেষভাবে সত্যি হবে যদি পনিরের পোকাগুলো মরে যায়, (ফ্রিজে রাখার মতো কারণ বাদে) যার মানে হলো এই পনিরটি বাতিল হয়ে গেছে।

খারাপ অবস্থায় এটা খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে গণ্ডগোল, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে।

কাসু মারজু পনিরকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পনির বলে মনে করা হয়
কাসু মারজু পনিরকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পনির বলে মনে করা হয়

৩. রুবার্ব

ব্রিটিশ রন্ধন শিল্পের মতো অনেক রান্নাতেই রুবার্ব ডাঁটা বেশ জনপ্রিয়।

অনেক জনপ্রিয় ব্রিটিশ মিষ্টান্ন অথবা পানীয় প্রস্ততকারক তাদের খাবারের উপাদান হিসাবে এটি ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু রুবার্ব ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। কারণ ডাঁটার সঙ্গে যে সবুজ পাতাগুলো আসে, সেটার ভেতর বিষ থাকে।

ব্রিটিশ রন্ধন শিল্পে রুবার্ব ডাঁটা বেশ জনপ্রিয়
ব্রিটিশ রন্ধন শিল্পে রুবার্ব ডাঁটা বেশ জনপ্রিয়

আরো বিশেষভাবে বললে, এটি হলো অক্সালিক অ্যাসিড যা অধিক পরিমাণে মানুষের শরীরে গেলে বমি বমি ভাব, শরীরের খনিজ শোষণ প্রক্রিয়া কমিয়ে দেয়া এবং কিডনিতে পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

রুবার্ব পাতাগুলোয় অক্সালিক অ্যাসিডের মাত্রা আসলে কতটা থাকে, আর সেটি আসলে কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে যদিও বিতর্ক আছে।

ডাঁটার ভেতরেও অক্সালিক অ্যাসিড থাকে, কিন্তু পাতায় এর পরিমাণ অনেক বেশি।

মারা যেতে হলে আপনাকে এর অনেক পাতা খেতে হবে, কিন্তু অসুস্থতা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

৪. সয়াবিনের সঙ্গে রেড বিনস

কাঁচা রেড বিনে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা দূর করা না হলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে
কাঁচা রেড বিনে এমন একটি উপাদান রয়েছে যা দূর করা না হলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে

মটরশুঁটি আর শিম জাতীয় খাবারগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলেই সাধারণত মনে করা হয়। কিন্তু বেশ কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে, যদি আপনি সেগুলো ভালোভাবে প্রস্তুত না করেন, তাহলে আপনাকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় রেড বিনস আর মজাদার সয়াবিনও এই জাতের মধ্যেই পড়ে।

তবে ভালো দিক হলো, এগুলো প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন আর খনিজ পদার্থে ভরপুর।

খারাপ দিক হলো, কাঁচা মটরশুঁটিতে ফাইটোহেম্যাগিলুটিনিন নামের এক ধরণে ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় পদার্থ থাকে যা উচ্চারণ করা যতটা কঠিন, হজমের জন্য তার চেয়েও খারাপ।

আপনি যদি কখনো এটা পরীক্ষা করে দেখতে চান, তাহলে পাকস্থলীর ব্যথা আর বমি ভাবের জন্যও প্রস্তুত থাকবেন।

তবে ভালো খবর হলো যে ভালো ভাবে এটি রান্না করা হলে এই বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া যেতে পারে।

রেড বিনের মতো সয়াবিনও প্রোটিনে ভরপুর এবং উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এগুলো প্রাকৃতিকভাবে একটি বিষাক্ত জিনিস নিয়ে আসে- এনজাইম ট্রিপসিন-যা আপনার হজমে বাধা তৈরি করতে পারে।

উভয় খাবারের ক্ষেত্রে কিছু পূর্ব প্রস্তুতির ব্যাপার আছে, যেখানে অন্ততপক্ষে ১২ ঘণ্টা পানিতে চুবিয়ে রাখার পর ভালো করে আবার ধুয়ে নিয়ে পানি ঝড়িয়ে নিতে হবে। তারপরে এগুলোকে সেদ্ধ করা এবং রান্না করা যেতে পারে।

৫. জায়ফল

বেশি পরিমাণে জায়ফল খেলে মনোরোগ দেখা দিতে পারে
বেশি পরিমাণে জায়ফল খেলে মনোরোগ দেখা দিতে পারে

বিখ্যাত এই মসলাটি আসে ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় একটি গাছ থেকে।

অনেক রান্নার প্রস্তুতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান এবং পুডিংয়ের ক্ষেত্রে এটি চমৎকার স্বাদ যোগ করে।

মিষ্টান্নের বাইরে জায়ফল আলু, মাংস, সসেজ, সবজি রান্না এমনকি অনেক পানীয় তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

তবে এটি যদি অনেক বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, তাহলে ভীতিকর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন বমি বমি ভাব, ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হওয়া এমনকি মূর্ছা যাওয়া-মানসিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

জায়ফলের কারণে মৃত্যুর ঘটনা খুব বিরল, কিন্তু এর ফলে যেসব অসুস্থতা তৈরি হয়, সেগুলোতে ভোগাও কোন ভালো অভিজ্ঞতা নয়।

আসলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মায়া বা ভ্রম তৈরি করার ক্ষেত্রে জনপ্রিয় উপাদান হিসাবে জায়ফল ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করলে সেরকম চেষ্টা না করাটাই ভালো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খাদ্য অপচয় রোধের সাত উপায়

বেশিরভাগ মানুষ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কেনাকাটা করে, তাই এক্ষেত্রে স্মার্ট হতে হবে
বেশিরভাগ মানুষ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কেনাকাটা করে, তাই এক্ষেত্রে স্মার্ট হতে হবে

প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাবার অপচয় হয়, যার বেশিরভাগেরই স্থান হয় ভাগাড়ে এবং শেষমেশ যা জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।

খাদ্যের অপচয় “এই মুহূর্তে মানবতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ,” বলেন নিউ ইয়র্কের শেফ ম্যাক্স লা মান্না।

“বেশি উদ্ভিদ, কম অপচয়” নামে একটি বই লিখেছেন তিনি। এখানে তিনি বলেছেন যে, কেউ কিভাবে চাইলেই এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে সহায়তা করতে পারে।

জীবন ধারণের সবচেয়ে বড় উপাদান হচ্ছে খাবার।

“বাবা একজন শেফ ছিলেন বিধায় বলতে গেলে অনেকটা খাদ্যের দুনিয়ায় বড় হয়েছি আমি। আমার বাবা-মা সবসময় আমাকে খাবার নষ্ট না করতে শেখাতেন,” বলেন মি: মান্না।

“৯শ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে, প্রায় প্রতিটি স্তরেই আমরা খাদ্যে অনিরাপত্তার মুখোমুখি হচ্ছি এবং ৮২ কোটিরও বেশি মানুষের খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নেই।”

ম্যাক্স লা মান্না নিউ ইয়র্কের খাদ্য অপচয় বিরোধী একজন শেফ যিনি জিরো-ওয়েস্ট নীতি অনুসরণ করেন
ম্যাক্স লা মান্না নিউ ইয়র্কের খাদ্য অপচয় বিরোধী একজন শেফ যিনি জিরো-ওয়েস্ট নীতি অনুসরণ করেন

আজ খাদ্য সংকট মানবতার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা- বিশ্বে উৎপাদিত খাবারের মধ্যে আনুমানিক প্রায় এক তৃতীয়াংশই হারিয়ে যায় বা নষ্ট বা অপচয় হয়।

খাদ্যের অপচয় শুধু খাবারের অপচয় নয়, এর মানে হচ্ছে অর্থের অপচয়, পানির অপচয়, জ্বালানির অপচয়, ভূমির অপচয় এবং পরিবহণের অপচয়।

এমনকি আপনার ফেলে দেয়া খাবার জলবায়ু পরিবর্তনেও নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ফেলে দেয়া খাবারের স্থান হয় ভাগাড়ে যেখানে এগুলো পচে মিথেন গ্যাস তৈরি করে।

খাদ্য অপচয় যদি কোন দেশ হতো তাহলে এটি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে আমেরিকা ও চীনের পর তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হতো।

এটি ঠেকাতে আপনি যা করতে পারেন তা হলো-

কেনাকাটায় স্মার্ট হোন

অনেক মানুষই চাহিদার তুলনায় বেশি কেনাকাটা করে।

বিশ্বে মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অপচয় হয়
বিশ্বে মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অপচয় হয়

স্মার্ট কেনাকাটার ক্ষেত্রে আগে একটি তালিকা তৈরি করুন এবং যা যা আপনার দরকার শুধু সেগুলোই কিনুন।

বোনাস: আরেকবার বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করার আগে, আগের বার কেনা সব জিনিস ব্যবহারের জন্য একটি পয়েন্ট হিসাব করুন।

খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন

ভুল ধরণের খাবার ফ্রিজে রাখলে অপচয় বাড়ে
ভুল ধরণের খাবার ফ্রিজে রাখলে অপচয় বাড়ে

খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে অনেক বেশি পরিমাণ খাবার অপচয় হয়। অনেকেই জানেন না যে সবজি এবং ফলমূল কিভাবে সংরক্ষণ করতে হয়।

এজন্য অনেক সময় ভালোভাবে পাকার আগে কিংবা বেশি পেকে গেলে তারপর সেগুলো সংগ্রহ করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় – আলু, টমেটো, রসুন, শশা এবং পেঁয়াজ কখনোই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। এগুলো ঘরের তাপমাত্রায় রাখা উচিত।

পাতাযুক্ত কাণ্ড বা শাক এবং লতানো খাবার পানি দিয়ে রাখতে হবে।

রুটি ফ্রিজে রাখা যেতে পারে যদি মনে হয় যে সেগুলো একবারে খেয়ে শেষ করা সম্ভব নয়।

সম্ভব হলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনাকাটা করার চেষ্টা করুন।

উদ্বৃত্ত খাবার সংরক্ষণ করুন(আসলে সেগুলোও খেয়ে ফেলুন)

বেচে যাওয়া খাবার আবারো খাওয়ার উপযোগী করার অনেক উপায় রয়েছে- যেমন সবজির বেচে যাওয়া অংশগুলো একসাথে মিশিয়ে ভেজে ফেলুন
বেচে যাওয়া খাবার আবারো খাওয়ার উপযোগী করার অনেক উপায় রয়েছে- যেমন সবজির বেচে যাওয়া অংশগুলো একসাথে মিশিয়ে ভেজে ফেলুন

উদ্বৃত্ত খাবার শুধু ছুটির দিনের জন্য রেখে দেয়া উচিত নয়।

যদি আপনি অনেক রান্না করেন এবং নিয়মিতই খাবার উদ্বৃত্ত থাকে, তাহলে একটি দিন ঠিক করুন যেদিন আপনি রান্না না করে ফ্রিজে জমে থাকা খাবার খাবেন।

খাবার ফেলে দেয়া রোধে এটি অনেক ভালো একটি উপায়।

এছাড়া এটি আপনার সময় এবং অর্থ-দুটিই বাঁচাবে।

ফ্রিজের সাথে সখ্যতা গড়ুন

ফ্রোজেন খাবার সবসময় অপরোধ রোধ করে এবং এগুলো স্বাস্থ্য সম্মতও বটে
ফ্রোজেন খাবার সবসময় অপরোধ রোধ করে এবং এগুলো স্বাস্থ্য সম্মতও বটে

খাবার সংরক্ষণের সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তা ফ্রিজে রাখা। আর ফ্রিজে রাখলে ভাল থাকে এমন খাবারের তালিকাও বেশ লম্বা।

যেমন, সালাদ হিসেবে যেসব সবুজ সবজি খাওয়া হয় সেগুলো সহজেই ফ্রিজে রাখা যায়। ব্যাগ কিংবা কন্টেইনারে করে এসব সবজি রেখে দিন এবং পরে সেগুলো স্মুদি বা অন্য রেসিপির জন্য ব্যবহার করুন।

শাক বা লতানো খাবার অলিভ অয়েল আর টুকরো রসুনে মিশিয়ে বরফ তৈরির ট্রেতে করে সংরক্ষণ করা যায়। যা পরে ভেঁজে খাওয়া যায় বা অন্যান্য খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

অতিরিক্ত খাবার যেমন ফার্মে বেশি পরিমাণে উৎপাদিত কোন খাদ্য পণ্য, স্যুপ বা মরিচের মতো পরিমাণে বেশি হয় এমন খাবারও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়।

এর মাধ্যমে সব সময় স্বাস্থ্যকর এবং ঘরে রান্না করা খাবারের চাহিদা পূরণও সম্ভব হয়।

দুপুরের খাবার বাসা থেকেই নিয়ে যান

বেচে যাওয়া খাবার প্যাকেট করা লাঞ্চ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এতে অপচয় কম হবে
বেচে যাওয়া খাবার প্যাকেট করা লাঞ্চ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এতে অপচয় কম হবে

যদিও সহকর্মীদের সাথে খাবার খেতে বাইরে যাওয়া কিংবা পছন্দের কোন রেস্টুরেন্টে গিয়ে পছন্দের খাবারটি খাওয়া বেশ আনন্দদায়ক, কিন্তু এগুলো বেশ দামি এবং এতে খাবার অপচয়ের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

অফিসের মধ্যাহ্নভোজ হিসেবে সাথে করে নিয়ে যাওয়া খাবার অর্থ সাশ্রয় এবং সেই সাথে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করে

সকালে যদি হাতে সময় কম থাকে, তাহলে আগেই উদ্বৃত্ত খাবার ছোট-ছোট কন্টেইনারে করে ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করুন।

এভাবে, আগে রান্না করা এবং মুখরোচক খাবার মধ্যাহ্নভোজ হিসেবে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালে আপনার হাতের কাছেই থাকবে।

বাড়িতেই স্টক তৈরি করুন

বাসায় বেচে যাওয়া সবজি দিয়ে স্যুপ রান্না করলে খরচও বেশ কমে আসে
বাসায় বেচে যাওয়া সবজি দিয়ে স্যুপ রান্না করলে খরচও বেশ কমে আসে

খাদ্য অপচয় কমানোর একটি সহজ উপায় হচ্ছে ঘরেই স্টক তৈরি করা।

সবজির বিভিন্ন অংশ যেমন উপরের অংশ, ডাটা, খোসা বা অন্য যে কোন অংশ ছোট টুকরা করে কেটে অলিভ অয়েল বা মাখন দিয়ে মেখে তারপর পানি মেশান এবং পরে ফুটিয়ে এগুলো দিয়ে মজাদার সবজি ব্রথ বা স্যুপ তৈরি করা যায়।

পারলে সার তৈরি করুন

বেচে যাওয়া খাবার দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা যায় জৈব সার
বেচে যাওয়া খাবার দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা যায় জৈব সার

উদ্বৃত্ত খাবার পুনরায় ব্যবহার করার একটি অন্যতম উপায় হচ্ছে এগুলো দিয়ে সার তৈরি করা ,যা গাছের জন্য শক্তির যোগান দেয়।

সবার যেহেতু বাড়ির বাইরে সার তৈরির ব্যবস্থা নেই, তাই রান্না ঘর বা অল্প জায়গাতেই সার তৈরির এক ধরণের ব্যবস্থা বা কাউন্টার-টপ কম্পোস্টার রয়েছে যা প্রায় সবাই চাইলে ব্যবহার করতে পারে।

যাদের বড় বাগান রয়েছে তারা চাইলে বাইরেই একটি কম্পোস্টার ব্যবহার করতে পারেন। আর কাউন্টার-টপ কম্পোস্টার শহরের বাসিন্দা বিশেষ করে যাদের ছোট বাগান বা গাছ রয়েছে তাদের জন্য উপযোগী।

ছোট পদক্ষেপ, বড় অর্জন

টিকে থাকার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খাদ্য অপচয় কমানো, বলেন শেফ ম্যাক্স লা মান্না
টিকে থাকার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খাদ্য অপচয় কমানো, বলেন শেফ ম্যাক্স লা মান্না

সবশেষে যেটি বলতে হয় তা হলো, আমরা সবাই চাইলেই খাদ্য অপচয় কমাতে পারি কারণ এর হাজারো রকম উপায় রয়েছে।

আপনার বাড়ি থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার অপচয় হয় সে সম্পর্কে পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান এই সম্পদ বাঁচাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আপনি সহায়তা করতে পারেন।

আপনার কেনাকাটা, রান্না এবং খাওয়ার বিষয়ে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে পরিবেশের উপর চাপ কমানো যেতে পারে। আর এটা তেমন কঠিন কিছুই নয়।

ছোট ছোট প্রচেষ্টার মাধ্যমে আপনি আপনার খাদ্য অপচয় বহুলাংশে কমিয়ে আনতে পারেন, অর্থ ও সময় সাশ্রয় করতে পারেন, আর কমাতে পারেন প্রকৃতির উপর থেকে কিছুটা চাপ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উজ্জ্বল হলুদের গুঁড়া না কেনার পরামর্শ, রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ

নয়টি জেলার বাজার থেকে সংগ্রহ করা হলুদের নমুনার ২০ শতাংশে সীসা সনাক্ত করেছে
নয়টি জেলার বাজার থেকে সংগ্রহ করা হলুদের নমুনার ২০ শতাংশে সীসা সনাক্ত করেছে

বাংলাদেশে বাজারে যে হলুদের গুঁড়ো বিক্রি হয় তাতে অতিমাত্রায় ক্ষতিকারক সীসার উপস্থিতি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে হলুদ রপ্তানি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা সংস্থা আইসিডিডিআর’বি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক গবেষণায় হলুদে সীসা সনাক্ত হয়েছে যা মানবদেহের ক্ষতি করে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও তার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

সেই পটভূমিতে আজ (সোমবার) সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশের মশলা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সাথে এক সভা করেছে।

কীভাবে হলুদে সীসা মেশানো হয়?

বাজারে গিয়ে খালি চোখে আপনি কী বুঝতে পারবেন কোন হলুদটি আসলে ভালো?

আইসিডিডিআর, বি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গবেষণায় বাংলাদেশের নয়টি জেলার বাজার থেকে গুঁড়ো করার আগে সংগ্রহ করা হলুদের নমুনার ২০ শতাংশে সীসা বা লেড ক্রোমেট সনাক্ত করেছে।

সীসার উপস্থিতি প্রথম সনাক্ত করেছিলেন আইসিডিডিআর’বি সংস্থাটির গবেষক ড: মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলছেন, বিক্রির আগে হলুদের গায়ে ঘষে সেটি উজ্জ্বল করা হয়। আর এটি হচ্ছে আড়তদার পর্যায়ে।

বিক্রির আগে হলুদের গায়ে ঘষে সেটি উজ্জ্বল করা হচ্ছে আড়তদার পর্যায়ে
বিক্রির আগে হলুদের গায়ে ঘষে সেটি উজ্জ্বল করা হচ্ছে আড়তদার পর্যায়ে

তিনি বলছেন, “হলুদকে আরও উজ্জ্বল করার জন্য সীসা ব্যবহৃত হচ্ছে। আস্ত হলুদের গায়ে সীসা ঘষা হয়। জেলা পর্যায়ে যে আড়তদার বা পাইকারি ব্যবসায়ী আছেন তাদের কাছে এমনকি হলুদ পাঠানো হয় যে আমাকে সীসা দিয়ে এটা আরও উজ্জ্বল করে দাও।”

একটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে কিভাবে বড় ঝুড়িতে এক ধরনের গুঁড়ো ছিটিয়ে পায়ে এক ধরনের বিশেষ জুতো পরে হলুদগুলো ঘষা হচ্ছে।

আর তাতে রঙ পরিবর্তন হয়ে হলুদের বাইরের দিক উজ্জ্বল হলুদ হয়ে যাচ্ছে।

আড়তদারদের চাহিদার কারণে কৃষক পর্যায়েও এটি কিছুক্ষেত্রে মেশানো হচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় এর অনেক নামে পরিচিত।

যেমন পিউরি, বাসন্তী রং, কাঁঠালি বা ফুল রং। এসব হলুদ উজ্জ্বল করে পাইকারি বিক্রির পরই গুঁড়ো করা হয়। যাতে রয়ে যায় মাত্রারিক্ত সীসা।

উজ্জ্বল হলুদ নয় বরং তার রং কিছুটা হালকা হওয়াই স্বাভাবিক।

এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করা ১৭ টি ব্রান্ডের প্যাকেট-জাত হলুদের গুড়ো নয়বার ফেরত দিয়েছে।

এসব কোম্পানির বেশিরভাগই ভারত ও বাংলাদেশের।

ফেরত আসা পণ্য কী করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে আবার বিক্রি করা হয়েছে কিনা সেটি স্পষ্ট নয়।

হলুদে সীসা গর্ভবতী নারী ও তার শিশুকে তা বিশেষভাবে আক্রান্ত করে
হলুদে সীসা গর্ভবতী নারী ও তার শিশুকে তা বিশেষভাবে আক্রান্ত করে

স্বাস্থ্যগত প্রভাব: গর্ভবতী মা ও শিশুর যে ক্ষতি

শরীরে সহনীয় পরিমাপ হল প্রতি গ্রামে ২.৫ মাইক্রোগ্রাম। গবেষণায় ৬ হাজারের মতো নারীর রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

ড: রহমান বলছিলেন এমন সীসাযুক্ত হলুদের গুঁড়ো স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও তার শিশুকে তা বিশেষভাবে আক্রান্ত করে।

তিনি বলছেন, “গর্ভবতী মায়ের রক্তে যদি অতিরিক্ত সীসা পাওয়া যায় তা শিশুর শরীরে চলে যায়। এতে শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শিশুর বুদ্ধি কম হয়।”

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও শিশুর ওজন কম হওয়া সহ অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। মায়ের গর্ভকালীন জটিলতা হতে পারে।

তিনি আরও বলছেন, এটি মানবদেহে হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করতে পারে, রক্তের উচ্চচাপ দেখা দিতে পারে, মস্তিষ্কের স্নায়ু-জনিত রোগ দেখা দিতে পারে।

ঠেকাতে কী করছে কর্তৃপক্ষ?

গবেষক ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ছাড়াও এসিআই, স্কয়ার, প্রাণ ফুডস সহ দেশের প্যাকেট-জাত গুড়ো মশলা উৎপাদনকারী বড় কোম্পানিগুলোর প্রায় সবার প্রতিনিধি সোমবারের সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সীসার ব্যবহার ঠেকাতে কী করা যায় সেজন্য এটি একটি মত বিনিময় সভা ছিল।

তাদের সবার বক্তব্য মোটামুটি একই রকম – পরীক্ষা করে সীসার নমুনা পাওয়া গেলে পুরো লট ধরে হলুদ ফিরিয়ে দেয়া হয়।

প্রাণ গ্রুপের মান নিয়ন্ত্রণ শাখার প্রধান এস এম মারুফ কবির বলছেন, “প্রতিটা স্যাম্পল আমাদের ল্যাবে পরীক্ষা হবে। সেটি করার পর হলুদ গুলো নেয়া হবে। আমরা কালার দেয়া নেই শুধু এমন হলুদই আমরা নেই। সীসা পাওয়া গেলে আমরা ভেন্ডরের কাছে তা ফেরত দেই।”

কিন্তু যা তারা ফিরিয়ে দিচ্ছেন তার কী হচ্ছে? সেই প্রশ্নের জবাবে প্রতিনিধিরা বলেন এটি তাদের কাছে যারা বিক্রি করেন তাদের দায়িত্ব। এরপর তাদের আর কিছু করার নেই।

তাহলে সেই হলুদ কী আবারো বাজারেই চলে যাচ্ছে?

সভা থেকে যে তথ্য উঠে এলো তা হচ্ছে বিভিন্ন জেলায় ছোট কোম্পানি বা বাজারে খোলা গুঁড়ো মশলা হিসেবেই এগুলো বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে বাজারে যে কেউই সীসা কিনতে পারছে যদিও এটির মুল ব্যাবহার শিল্প খাতে হওয়ার কথা।

কৃষক পর্যায়ে সীসা খুব একটা মেশানো হচ্ছে না
কৃষক পর্যায়ে সীসা খুব একটা মেশানো হচ্ছে না

সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের প্রধান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলছেন তারা এই বিষয়টি বন্ধ করতে চান।

তিনি বলছেন, “আমরা চিঠি দিয়েছি, এটা যাতে কমার্শিয়ালি বিক্রি না হয়। যতদূর জানি বাজারে দশ টাকা দিলেই অনেকগুলো লেড ক্রোমেটের গুড়া কিনতে পাওয়া যায়।”

কোম্পানিগুলোর বাতিল হলুদগুলো বাজারে পৌঁছানোর আগেই তারা নষ্ট করে ফেলতে চান।

তিনি বলছেন, “কোম্পানিগুলোর উচিৎ হবে টেস্ট করে যদি কিছু পায় তাহলে যেন আমাদের খবর দেয়। একেবারে কিছুই যদি তারা না করতে চায় তাহলে হলুদগুলো আটকে রেখে আমাদের খবর দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও বলছেন শুরুতে আড়তদার, বিক্রেতা ও কোম্পানি পর্যায়ে সচেতন ও সতর্ক করা হচ্ছে। তবে এরপর থেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হবে যা তারা ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

নিরাপদ খাদ্য: হলুদে লেড ক্রোমেট মিশ্রণের ফলে গর্ভবতী মায়েদের রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসা

রান্নায় ব্যবহৃত হলুদে ক্ষতিকারক সীসা বা লেড ক্রোমেট পাওয়া গেছে
রান্নায় ব্যবহৃত হলুদে ক্ষতিকারক সীসা বা লেড ক্রোমেট পাওয়া গেছে

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার এক সতর্কবার্তায় বলেছে রান্না করার জন্য যে হলুদ ব্যবহার করা হয় তাতে ক্ষতিকারক সীসা বা লেড ক্রোমেট পাওয়া গেছে।

আইসিডিডিআরবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে আসার পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে এই হলুদ ব্যবসার সাথে জড়িত সব পক্ষের বিরুদ্ধে নজরদারী করতে আগামী সপ্তাহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আইসিডিডিআরবির গবেষণায় বলা হচ্ছে ২০১২-১৩ সালের দিকে বাংলাদেশের নয়টা জেলায় গর্ভবতী মায়েদের রক্তে সীসার পরিমাণ মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে সংস্থাটি এই সীসার উৎস খোঁজার জন্য নানা ধরণের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে হলুদে সীসার মিশ্রণ খুঁজে পায় তারা।

পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে দেখা যায় এই সীসার উৎস অবৈধভাবে ব্যবহৃত রং বা উজ্জলকারক লেড ক্রোমেট। স্থানভেদে এই লেড ক্রোমেট কে স্থানীয়ভাবে পিউরি, বাসন্তী রং, কাঁঠালি বা সরষে ফুল রং রামে পরিচিত।

আইসিডিডিআরবির একজন গবেষক ড.মাহাবুবুর রহমান বলছিলেন হলুদের রং কে আরো উজ্জ্বল করার জন্য এই লেড ক্রোমেট ব্যবহার করা হয়।

মি. রহমান বলেন ” এটার উৎস খুঁজতে যেয়ে আমরা বিভিন্ন ধরণের নমুনা সংগ্রহ করি যে কী কী সোর্স হতে পারে”।

“এক্সপ্লোর করতে যেয়ে আমরা দেখি হলুদটা যখন প্রসেস করা হয় তখন সেটাকে আরও শাইনি এবং ব্রাইট করার জন্য, চকচকে করার জন্য এরা এই লেড ক্রোমেট ব্যবহার করে” বলেন মি. রহমান।

হলুদ বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত মসলা
হলুদ বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত মসলা

২০১৮ সালে একই সংস্থা একটি গবেষণা প্রতিবেদন দিয়েছিল যেখানে তারা বলেছিল গর্ভবতী মায়ের শরীরের তারা সীসার উচ্চমাত্রা পেয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে এই সীসার উৎস আবিষ্কার এবং সর্বশেষটাতে মায়ের রক্তে যে সীসা সেটা এবং হলুদের মধ্যে মিশ্রিত সীসা যে এক সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

ড.মাহাবুবুর রহমান বলছিলেন যদি একজন গর্ভবতী মায়ের রক্তে এই সীসা ক্রোমেট থাকে তাহলে কী ধরণের ক্ষতি হতে পারে।

মি. রহমান বলছিলেন ” গর্ভবতী মা যদি লেড ক্রোমেটের দ্বারা কন্টামিনেশন হয় তাহলে শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্ট, বা আমরা যেটাকে বলি বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ সঠিকভাবে হয় না”।

এছাড়া হরমোন জনিত রোগ বৃদ্ধি, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে।

২৩ শে সেপ্টেম্বর এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে সবচেয়ে বেশি হলুদ উৎপাদন করা হয় এমন নয়টি জেলা থেকে ১৪০টি নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে সাতটি জেলা থেকে হলুদে সীসা ক্রোমেট পাওয়া গেছে।

এদিকে এসব তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ঢাকায় প্রকাশিত ৬টি পত্রিকাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করেছে।

খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, শুধুমাত্র সতর্ক করে ক্ষতিকারক এই সীসা ক্রোমেট মিশ্রণ ঠেকানো কি সম্ভব?

তিনি বলেন “আইসিডিডিআরবি-এর কাছে একটা লেড ক্রোমেট ডিটেক্টর মেশিন আছে। সেটা আমরা তাদের কাছ থেকে নেব। সাথে তাদের কর্মকর্তারা থাকবেন”।

“আগামী সপ্তাহে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ থাকবেন এসব নিয়ে আমরা মোবাইল কোর্ট করবো। যেই ফ্যাক্টরি বা উৎপাদনকারীদের কাছে পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব” বলছিলেন তিনি।

কর্তৃপক্ষ বলছে যদি দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন অনুযায়ী ১২ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং তিনবছরের জেল বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com