আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

যেসব খাবারে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে

মানুষের শরীরের জন্য ভিটামিন ‘সি’ জরুরি। বিশেষ করে করোনাভাইরাস আক্রমণের এই সময়ে শরীরের জন্য খুবই উপকারি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ কারণে ভিটামিন ‘সি’ এর অন্যতম লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। এবার জেনে নিন লেবু ছাড়াও যেসব ৮ খাবারে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে।

  • পেয়ারা: ভিটামিন সি-র সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস পেয়ারা। শুধুমাত্র একটা পেয়ারাতেই ভিটামিন সি-র পরিমাণ ১২৫ মিলিগ্রাম।

    পেয়ারা: ভিটামিন সি-র সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস পেয়ারা। শুধুমাত্র একটা পেয়ারাতেই ভিটামিন সি-র পরিমাণ ১২৫ মিলিগ্রাম।

  • পেয়ারা: ভিটামিন সি-র সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস পেয়ারা। শুধুমাত্র একটা পেয়ারাতেই ভিটামিন সি-র পরিমাণ ১২৫ মিলিগ্রাম।

    পেয়ারা: ভিটামিন সি-র সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস পেয়ারা। শুধুমাত্র একটা পেয়ারাতেই ভিটামিন সি-র পরিমাণ ১২৫ মিলিগ্রাম।

  • গ্রেপফ্রুট: আধ কাপ গ্রেপফ্রুটের মধ্যেই থাকে ৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

    গ্রেপফ্রুট: আধ কাপ গ্রেপফ্রুটের মধ্যেই থাকে ৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

  • ট্রবেরি: আধ কাপ স্ট্রবেরিতে ৪২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

    ট্রবেরি: আধ কাপ স্ট্রবেরিতে ৪২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

  • ব্রকোলি: আধ কাপ সিদ্ধ ব্রকোলিতে ভিটামিন সি-র পরিমাণ ৫১ গ্রাম।

    ব্রকোলি: আধ কাপ সিদ্ধ ব্রকোলিতে ভিটামিন সি-র পরিমাণ ৫১ গ্রাম।

  • কচি বাঁধাকপি: আধা কাপ কচি সিদ্ধ বাঁধাকপিতে ৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

    কচি বাঁধাকপি: আধা কাপ কচি সিদ্ধ বাঁধাকপিতে ৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

  • লাল ক্যাপসিকাম: আধ কাপ কাঁচা লাল ক্যাপসিকাম কুচি খাওয়া মানে শরীরে ৯৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পৌঁছে যাওয়া।

    লাল ক্যাপসিকাম: আধ কাপ কাঁচা লাল ক্যাপসিকাম কুচি খাওয়া মানে শরীরে ৯৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পৌঁছে যাওয়া।

  • কমলালেবু: একটা বড় কমলালেবুতে থাকে ৮২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি-র অভাব দূর করতে কমলালেবু অসাধারণ।

    কমলালেবু: একটা বড় কমলালেবুতে থাকে ৮২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি-র অভাব দূর করতে কমলালেবু অসাধারণ।

  • পেয়ারা: ভিটামিন সি-র সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস পেয়ারা। শুধুমাত্র একটা পেয়ারাতেই ভিটামিন সি-র পরিমাণ ১২৫ মিলিগ্রাম।
  • পেয়ারা: ভিটামিন সি-র সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস পেয়ারা। শুধুমাত্র একটা পেয়ারাতেই ভিটামিন সি-র পরিমাণ ১২৫ মিলিগ্রাম।
  • গ্রেপফ্রুট: আধ কাপ গ্রেপফ্রুটের মধ্যেই থাকে ৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।
  • ট্রবেরি: আধ কাপ স্ট্রবেরিতে ৪২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।
  • ব্রকোলি: আধ কাপ সিদ্ধ ব্রকোলিতে ভিটামিন সি-র পরিমাণ ৫১ গ্রাম।
  • কচি বাঁধাকপি: আধা কাপ কচি সিদ্ধ বাঁধাকপিতে ৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।
  • লাল ক্যাপসিকাম: আধ কাপ কাঁচা লাল ক্যাপসিকাম কুচি খাওয়া মানে শরীরে ৯৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পৌঁছে যাওয়া।
  • কমলালেবু: একটা বড় কমলালেবুতে থাকে ৮২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি-র অভাব দূর করতে কমলালেবু অসাধারণ।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের পর বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থগুলো বলছে। তাই দুর্ভিক্ষের মহামারি যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। 

এজন্য নিজে উদ্যেক্তা হয়ে যে যতটুকু পারেন চাষাবাদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন একখণ্ড জমি ফেলে না রাখে। খাদ্য একমাত্র সমাধান, কৃষিই একমাত্র বাঁচাতে পারে।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেন কোনো খাদ্য সমস্যা না হয় এজন্য ধান কাটার পর আমরা কোনো ফসল ফলাতে পারি সেটা দেখতে হবে। কেউ যেন একখণ্ড জমিও ফেলে না রাখে। তরকারি ফলমূল যা হোক উৎপাদন করা ও বাড়ির আঙিনায় যেখানেই পারেন চাষ করবেন। এজন্য করোনা মহামারির পর যে দুর্ভিক্ষের মহামারি দেখা দেবে তা যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি বলেন, এখন সবাই ঘরে বসে আছি, কাজেই একটু বাগান করা ও গাছ লাগাতে পারেন সবাই। আর রোদে করোনাভাইরাস বেশিক্ষণ টিকতে পারে না, এজন্য এটা স্বাস্থ্য রক্ষাও করবে। শুধু এখানে না অন্য দেশেও খাদ্য চাহিদা থাকলে আমরা যেন সরবরাহ করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, এজন্য একমাত্র খাদ্য মানুষকে বাঁচাতে পারবে। খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা পোল্ট্রি-ডায়েরির ব্যবসা করেন, তারা এখন এসব বিক্রি করতে পারছেন না। এজন্য কম দামে বিক্রি করুন, ফেলে না দিয়ে দান করুন।

কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তোলার আভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এখন কিছু কিছু ফসল উঠছে, এরপর ফসল লাগাতে হবে। কিছু কিছু জীবন যাপন আমাদের আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানেও সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবেন, সেটাই আমরা অনুরোধ করব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষকের লাভই সবচেয়ে কম

সবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।


চট্টগ্রামের শঙ্খ নদের তীরে দোহাজারী ও সাতকানিয়ার নলুয়া, চাগাচর, মুন্সিজরসহ বেশ কিছু এলাকায় চাষ হয় নানা জাতের সবজি। এসব সবজি নৌকায় করে পাইকারি বিক্রির জন্য কৃষকেরা নিয়ে যান দোহাজারীর সবজিবাজারে। গত বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: সৌরভ দাশসবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কৃষক যে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৯ টাকারও কম পান, সেটি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম হয় ২২ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৩৮ লাখ টনের কিছু বেশি সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখ টন শীত ও ১৫ লাখ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি। অবশ্য হিসাবের মধ্যে আলু নেই। বিবিএসের হিসাবে, গত অর্থবছরে প্রায় ৯৭ লাখ টন আলু উৎপাদন করেছেন দেশের কৃষকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হয় ৭ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে ওই আলু কৃষক বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী একই আলু কিনে বিক্রি করেন ১২ টাকা ২০ পয়সা দরে। এতে তাঁর ব্যয় হয় ১ টাকা ১০ পয়সা, লাভ হয় সোয়া ২ টাকা। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হয় ১৭ টাকা ১৫ পয়সা কেজিতে। পাইকার ১ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করে লাভ করেন ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। খুচরা বিক্রেতা কেজিতে ৯০ পয়সা ব্যয় ও ৩ টাকা ৯৫ পয়সা লাভ করে আলু বিক্রি করেন প্রতি কেজি ২২ টাকায়।

একইভাবে প্রতি কেজি বেগুনে কৃষকের ১ টাকা ৮৯ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর আড়াই টাকা, পাইকারের ৪ টাকা ১৩ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার ৯ টাকা ৩৬ পয়সা লাভ থাকে। প্রতি কেজি টমেটোতে কৃষকের লাভ ২ টাকা ১০ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর লাভ ৩ টাকা, পাইকারের লাভ ৬ টাকা ৬০ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার লাভ ৭ টাকা ২৮ পয়সা।

জানতে চাইলে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন ফুলকপি ৫ টাকা দরে বিক্রি করি, বগুড়া শহরে গিয়ে সেই ফুলকপিই ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখি।’ তিনি বলেন, কৃষিতে যে পরিমাণ ঝুঁকি, বিনিয়োগ ও পরিশ্রম, তাতে লাভ বেশি নয়। পরিবারের কেউ চাকরি না করলে, অথবা বিদেশে না থাকলে কৃষিকাজ করে মোটামুটি সচ্ছল জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।  

বেগুনে লাভ বেশি

অবশ্য সার্বিকভাবে সবজি চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমীক্ষায় বিভিন্ন ফসলে কৃষকের মুনাফার চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৫ সাল থেকে ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা চাষের ওপর সমীক্ষা করে দেখেছে, এসব ফসল আবাদে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে প্রায় শতভাগ লাভ হয়।

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭–১৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। বিপরীতে তাঁর মুনাফা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৬ টাকা। এক একর জমিতে রসুন আবাদ করলে মুনাফা হয় ৫৪ হাজার ৪৯৮ টাকা। আলুতে লাভ কম, ৩৫ হাজার টাকার মতো। বেগুনে অবশ্য মুনাফা বেশি, একরে প্রায় ৯৯ হাজার টাকা। টমেটো চাষে লাভ একরপ্রতি ৬৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

এবার শীত খারাপ কাটল

এবার শীত মৌসুমে বাড়তি সবজি আবাদ করে মন্দ সময় কেটেছে চাষিদের। প্রতিবার শীতে কখনো দাম বেশ বেড়ে যায়, কখনো কম থাকে। এবার পুরো শীতেই সবজির দর তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আলুচাষিরা খরচের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক, ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুমে আগাম ও স্বাভাবিক সময় মিলিয়ে এ বছর সবজির আবাদ আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এ কারণে শীত মৌসুমের পুরোটা সময়ই বাড়তি সরবরাহ ছিল। ফলে দামের খুব একটা ওঠানামা হয়নি। পুরোটা সময় দাম বেশ কম ছিল।

রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির দর কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কারওয়ান বাজারের আড়তে এসব সবজি মিলছে আরও কম দামে। কৃষক পর্যায়ে দাম একেবারেই নগণ্য। বগুড়ার মহাস্থানহাটে গত রোববার পাইকারি দোকানে প্রতিটি ফুলকপি ৭–৯ টাকা, বাঁধাকপি ৫–৬ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০ টাকা, শিম ১২–১৫ টাকা, মুলা ৫–৬ টাকা, আলু ৫–৬ টাকা ও ক্ষীরা ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মহাস্থানহাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছুদিন আগে দাম আরও অনেক কম ছিল। সে তুলনায় এখন কিছুটা বাড়তি। কারণ মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। জানতে চাইলে মহাস্থানহাটের আড়ত মালিক মো. ফারুক মিয়া বলেন, হাটে যে দামে সবজি বিক্রি হয়, তার চেয়েও কিছুটা কম দাম পান কৃষক। কারণ, তাঁর পরিবহন ও তোলার খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে এবার বাজার খারাপ গেছে। চাষিরা দাম পাননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ


• কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি
• একই সঙ্গে সুলভ দামে নিরাপদ খাদ্য দিতে হবে ভোক্তাকে


কৃষকের চাই ফসলের ন্যায্যমূল্য। ভোক্তার চাই সুলভ মূল্যে নিরাপদ খাদ্য। মোটা দাগে এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেশ অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে।

উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।

কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।

কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।

সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’

দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।

আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।

কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।

মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।

কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।

২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।

সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।

আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।

২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।

সবজিতে লাভ বেশি, তবে…
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।

দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।

পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।

সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।

বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
কৃষির নতুন প্রযুক্তিতে নজর দিতে হবে
কে এ এস মুরশিদ
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি এখনো বড় ভূমিকা রাখে। কৃষির যে উন্নতি আমরা ১০-১২ বছর ধরে দেখছি, তার গতি এখন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

চালের দাম নিয়ে নীতি নির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রথাগত মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনে করে, চালের দাম কম থাকলে ভালো। চালের দাম নিয়ে এত সংবেদনশীল হওয়ার কিছু নেই। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিষয় আলাদা। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাওয়া দরকার। সাধারণভাবে বাজারে চালের দাম দু-এক টাকা বেড়ে গেলেই উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এটি ঠিক নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করাটা জরুরি।

গ্রামে কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন থেকে শুরু করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বড় ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি কৃষকের জন্য সংযোগ ও নানা সুবিধা এনে দিচ্ছে। এমন কোনো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে কৃষকের সুযোগগুলো সংকুচিত হয়। সরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।

আমাদের জাতীয় ও গৃহস্থ পর্যায়ে খাদ্যসংকট একসময় নিয়মিত ব্যাপার ছিল। এখন আমরা সেই স্তর অতিক্রম করেছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বস্তির পরিস্থিতি দিয়েছে, যার ওপর ভর করে আমরা এখন আরও সামনের দিকে এগোচ্ছি। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্যের কথা চিন্তা করতে হবে। খাদ্যে যাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু না থাকে। অনিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দেবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও এখন সময় উপযোগী করতে হবে। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যে কাজ করছে না তার বড় প্রমাণ হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কৃষকের ধান চাষে ভর্তুকি দেব, না অন্য কোথাও দেব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

৬ ফুট দূরত্বেও করোনার ঝুঁকি থাকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

 ৬ ফুট দূরত্বেও করোনার ঝুঁকি থাকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
৬ ফুট দূরত্বেও করোনার ঝুঁকি থাকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৬ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট নয়। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু পর থেকেই সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রথম থেকেই লোকজনকে ৬ ফুট দূরত্বে অবস্থানের জন্য বলে আসছেন। তারা বলছেন, এভাবে দূরত্ব বজায় রাখলে করোনার সংক্রমণের গতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সংক্রমণ রোধে ৬ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে তারা বলছেন যে, বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে। বিশ্বকে এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

বিজ্ঞানভিত্তিক একটি জার্নালে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেই সামাজিক দূরত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, উপসর্গহীন রোগীদের খুঁজে বের করতে প্রতিদিন ব্যাপকহারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন ওই বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সব পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত গাইডলাইনই যথেষ্ট নয়।

 ৬ ফুট দূরত্বেও করোনার ঝুঁকি থাকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
৬ ফুট দূরত্বেও করোনার ঝুঁকি থাকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

তাইওয়ানের ন্যাশনাল সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটির চিয়া ওয়াং এবং সান ডিয়েগোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার কিমবার্লি প্রাথার এবং ডা. রবার্ট স্কুলি জানিয়েছেন, নভেল করোনাভাইরাসের ওপর করা বেশ কিছু গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য থেকে এটা জানা যায় যে, নীরবে উপসর্গ ছাড়াই দ্রুত গতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

তারা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত ছয় ফুট দূরত্ব অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে, যেসব স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জীবানুগুলো বাতাসে ভেসে থাকতে সক্ষম সেখানে ছয় ফুট দূরত্বে থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

ওই তিনজন রসায়ন এবং সংক্রামক রোগের বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, আক্রান্ত রোগীদের নিঃশ্বাস ও কথা বলার সময় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কয়েক ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। পরবর্তীতেতে এগুলো নাক-মুখ দিয়ে সহজেই ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। সে কারণে লোকজনের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও মুখে সব সময় মাস্ক পরে থাকাটা জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তামাক পাতা থেকে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির দাবি করেছে সিগারেট কোম্পানি

এবার তামাক পাতা থেকে করোনার প্রতিষেধক তৈরির কথা জানিয়েছে সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ‌–আমেরিকান টোবাকো।

তারা দাবি করেছে, ইতিমধ্যে তারা করোনার প্রতিষেধক তৈরি করেছে। এখন শুধু বাকি মানুষের শরীরে পরীক্ষা চালানো। সূত্র: খালিজ টাইমস।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিখ্যাত লাকি স্ট্রাইক সিগারেট উৎপাদনকারী সংস্থাটি দাবি করেছে, প্রি–ক্লিনিক্যাল টেস্টে সুফল দেখিয়েছে এই প্রতিষেধক। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) অনুমতি পেলেই জুন মাসের শুরু থেকে এটি মানুষের শরীরে পরীক্ষার কাজ শুরু করতে পারে এই সংস্থাটি। সাফল্য পেলে মানব সভ্যতারই এক বড় সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছে তারা।

সারা পৃথিবীর ওষুধ তৈরির সংস্থাগুলি এখন দিনরাত করোনা প্রতিষেধক তৈরির কাজ করে চলেছে। আমেরিকা, ইউরোপ, চীন ও অন্যান্য অংশে কাজ করছে ১০০–এর বেশি সংস্থা। তবে করোনা প্রতিরোধে তামাক পাতার ব্যবহারের কথা তেমন একটি শোনা যায়নি। ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর দাবি, প্রথাগত পদ্ধতির থেকে এই পথে দ্রুত করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব। কয়েকমাসের বদলে এক্ষেত্রে লাগতে পারে মাত্র কয়েক সপ্তাহ।

তবে তামাক পাতা থেকে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে মানে তামাকজাত দ্রব্য করোনা মোকাবিলায় সাহায্য করবে, এমনটা কিন্তু নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই জানিয়েছিল, তামাকজাত দ্রব্য করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

গত এপ্রিলে এ সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি যখন জানিয়েছিল, তামাক পাতা থেকে তারা করোনা টিকা তৈরি করছে তখন বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তবে, কোম্পানিটির দাবি তারা সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী। সপ্তাহে ১ থেকে ৩ মিলিয়ন টিকা তৈরি করার প্রস্তুতি আছে তাদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com