আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

খাদ্য নিরাপত্তা বনাম লুকায়িত ক্ষুধা

এই মুহূর্তে বিশ্বের ক্ষুধার হিসাব হলো, প্রতিদিন ১৭ হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটছে শুধু খাদ্যের অভাবে। আর ৮০ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার অভিশাপ নিয়ে বেঁচে আছে। এ যাবৎকালে পরিচালিত সব গবেষণার ফলাফল একটাই। তা হচ্ছে ক্ষুধার প্রধান কারণ দারিদ্র। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক হিসেবে দেখা যায়, পৃথিবীতে সামগ্রিকভাবে মাথাপিছু প্রতিদিনের খাদ্যের যোগান ১৯৬০ সালে ছিল ২ হাজার ২’শ ২০ কিলোক্যালরি। ২০০৮ সালে এই যোগান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭’শ ৯০ কিলো ক্যালরিতে। খাদ্য যোগানের প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়েছে, কিন্তু খাদ্য বন্টন ব্যবস্থার ত্রুটি, বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট করাসহ নানা কারণেই পৃথিবীর বিশাল অংশের মানুষকে ক্ষুধার্ত থাকতে হয়।

ইউরোপিয় ইউনিয়নের একটি হিসেবে দেখা গেছে, বছরে ১০ কোটি টন খাদ্য ইউরোপের দেশগুলো নষ্ট করে। বছরে পৃথিবীতে উৎপাদিত এক তৃতীয়াংশ খাদ্য নষ্ট হয়। বছরে নষ্ট হওয়া এক তৃতীয়াংশ খাদ্য পৃথিবীর ২৮ ভাগ আবাদি জমিতে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমাণের সমান।  বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন খাবার নষ্টের হার আরো অনেক বেশি। আমি স্বচক্ষেই আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেন্ট ও মানুষের বাড়িতে যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হতে দেখেছি তা রীতিমত অবাক করার মতোই। খোদ সৌদি আরবে রমজান মাস তো বটেই বছরের যে কোন সময়েই যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয় তা অনুন্নত বা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দিনের খাবার। ইউ এ ই থেকে প্রকাশিত দ্য ন্যাশনালের গত ৮ মার্চ প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বছরে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন খাবার নষ্ট করে। অর্থাৎ ১০৩ কোটি টন খাদ্য। যা আমাদের দেশের এক’শ বছরের খাদ্যের সমান।

পৃথিবীর ১০০ কোটি দরিদ্র মানুষের দৈনিক উপার্জন ১ দশমিক ২৪ ডলার বা বাংলাদেশী ১০০ টাকার নীচে। এই দলে পড়েন পৃথিবীর ১৭ ভাগ মানুষ। অবশ্য, এই দরিদ্রের কাতারে গত ১৯৯০ সালে ছিল ৪৩ শতাংশ, ১৯৮১ সালে ছিল ৫২ ভাগ মানুষ। পরিস্থিতি দিনের পর দিন ভালোর দিকে যাচ্ছে একথা বলাই যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিবেচনায় সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার হিসেবে ক্ষুধা নির্মূলের প্রশ্নে গত আড়াই দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে। গত ১ দশকে ১৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র ও ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু তারপরও খাদ্য ও ক্ষুধার প্রশ্নে আজকের বিশ্ব পরিস্থিতিও যথেষ্টই নাজুক। কারণ, পৃথিবীরর উষ্ণায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাগুলোয় হুমকি আর বাঁধা এসে ভর করছে। বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে সবাই। ক্ষুধাপীড়িত আফ্রিকা থেকে শুরু করে খনিজ তেলের অর্থে দীর্ঘকাল নিশ্চিন্তে থাকা মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত। তারাও এখন মরুভূমির বুকে কৃষি উৎপাদনের অসাধ্য সাধনের জটিল পরীক্ষায় নেমেছেন। সাফল্যও অর্জন করছেন বেশ।

ডব্লিউএফপি বা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ক্ষুধার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৃথিবীর ৭৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য থেকে বঞ্চিত। এর সিংহভাগ মানুষ বাস করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। প্রধানত এশিয়ায়। তবে জনসংখ্যার গড় বিবেচনায় পৃথিবীতে বেশি সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের বাস আফ্রিকা সাহারা অঞ্চলে। সেখানে চার জনের একজন পুষ্টিকর খাদ্য পায় না। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি ছয়টি শিশুর মধ্যে একটি নিম্ন ওজনের। পৃথিবীর চারটি শিশুর একটি খর্বাকৃতির। আর উন্নয়নশীল বিশ্বে তিনটি শিশুর একটি খর্বাকৃতির। ডব্লিউ এফ পি’র মতে যদি নারী কৃষকদের পুরুষের মতো সম্পদ ও সম্পত্তি ব্যবহারের নিজের ক্ষমতায় কৃষি আবাদে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করার সুযোগ পেত তাহলে বিশ্বের এই ক্ষুধা-দারিদ্র এক ধাক্কায় ১৫ কোটি কমে যেত। আফ্রিকার দেশগুলোতে নারীদের এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তারা কৃষিতে সিংহভাগ অবদান রাখছে, কিন্তু সম্পদ ও সম্পত্তি ব্যবহারে তাদের মালিকানাসত্ত বা পুরোপুরি স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। গ্রামীন জীবন ব্যবস্থার এই সংকট দারিদ্র ও ক্ষুধাকে স্থায়ী রূপ দিয়ে রাখছে। সংকটটি আমাদের দেশেও ছিল। তবে এখানকার নারীরা এখন সে অর্গল ভেঙে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে আমাদের নারীদের অগ্রযাত্রা একটি আলোচিত ইস্যু। এটিও এক ধরণের ক্ষমতায়ন।  

উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষুধা পেটে ক্লাসে অংশ নেয়। এর মধ্যে আফ্রিকাতেই এককভাবে রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ শিশু। পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডার রাকাই জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম লুটির সেন্ট হেনরিস প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলাম সম্প্রতি। সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমে এক যাদুকরি উন্নতির সন্ধান পাওয়া গেছে শুধু মধ্যাহ্নের খাবার বা মিড মে মিল এর ব্যবস্থা করার কারণে। সেখানে শিক্ষিতের হার অনেক বেশি। বর্তমান সময়ে প্রবৃদ্ধির হারও বেশি। স্কুলগুলোতে অভিভাভক ও শিক্ষকদের যৌথ উদ্যোগে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করার কারণেই এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাফল্য আসছে।

গ্লোবাল মাল্টিডাইমেনশনাল প্রোভার্টি ইনডেস্ক অনুযায়ী পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্ঠির ৮৫ ভাগেরই বাস গ্রামাঞ্চলে। এই ৮৫ ভাগের সিংহভাগই ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠি। এবার বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য গ্রামীন দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি। আজকের দিনে কৃষি অর্থ-বাণিজ্য ও বিনিয়োগমুখি হয়ে ওঠার কারণে গ্রামীন জীবনে কৃষি আবাদে কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন সাধারণ কৃষক। আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলো থেকে শুরু করে এই সত্য আমাদের বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের অধিকাংশ এলাকার কৃষিজীবী পরিবারগুলো পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে শহরমুখি হচ্ছে ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে। এর অনেকগুলি কারণ রয়েছে। প্রধাণত. কৃষিতে ব্যয় বাড়ছে। যারা কৃষি শ্রমিকের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন করেন, তাদের কাছে ফসলের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হচ্ছে। এ কারণে, অনেকে স্থানীয় ভূমিহীন ও কৃষি শ্রমিকদের কাছে জমি ভাড়া বা ইজারা দিয়ে শহরমুখি হচ্ছেন ও অন্যপেশায় যুক্ত হচ্ছেন। কৃষিশ্রমিক বা বর্গাচাষীর কাছে কৃষি আবাদ অপেক্ষাকৃত লাভজনক হচ্ছে, ক্ষেতে নিজে শ্রম দেবার কারণে। তাকে কৃষিশ্রমিক বাবদ বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। অন্যদিকে বছরের তিনটি বা চারটি মৌসুমে ফসল আবাদ করতে পারছে। এতে কোনো মৌসুমে লোকসান গুনলেও আরেক মৌসুমে পুষিয়ে যাচ্ছে।

দিনে দিনে কৃষি যাচ্ছে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি নির্ভরতার দিকে। উপকরণে, বীজে, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে কৃষি  যে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল একটি কার্যক্রম সেকথাই জানান দিচ্ছে ইউরোপের কৃষক। কয়েক মাসে আগে সর্বাধুনিকতম কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের দেশ নেদারল্যান্ডে গিয়ে আমি দেখেছি সুপরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত কৃষি কোথায় পৌঁছে গেছে। সেখানকার গ্রীন কিউ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কৃষি আবাদ চলছে এলইডি লাইট ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে। একইভাবে আধুনিকতম উইন্ড টারবাইন ব্যবহার হচ্ছে কৃষিতে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার করা হচ্ছে সর্বোত্তম প্রযুক্তি। যা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব এখনও চিন্তা করে উঠতে পারছে না।  

কৃষির উৎকর্ষ যখন এখানে, তখন গ্রামীন দারিদ্র নিরসনের জন্য সবচেয়ে আগে শক্তিশালী করার দরকার সাধারণ কৃষকদের হাতকে। যাতে প্রচলিত সম্পদ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা অব্যাহতভাবে খাদ্য নিরাপত্তায় রেখে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। হাইব্রিড ধানের জনক চীনের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ইয়াং লংপিং এই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দিতে চান আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে।

সময়ের বিবর্তনে বিশ্বব্যাপীই কৃষি আজ পেয়েছে বহু মাত্রিকতা। কৃষি উৎপাদনের গতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের অনিবার্যভাবে ভাবতে হচ্ছে পরিবেশের কথা। ভাবতে হচ্ছে পারিবারিক কৃষি, মাটির স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের ইসু্যু এমনকি বিশ্ববাণিজ্য এমনকি রাজনীতির কথাও। স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত অর্গানিক খামারের স্বত্তাধিকারী পেটি রিচি বলছিলেন সে কথাই।

তিনি বলছিলেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা কারোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য পৃথিবীর বড় দেশগুলোকে এক হতে হবে। ভূমিকা রাখতে হবে জাতিসংঘকে। সবার ঐক্যমতই আজকের বিশ্বকে রেহাই দিতে পারে জলবায়ুর বৈরী প্রভাব মোকাবিলার প্রয়োজনীয় শক্তি।

ষাটের দশকের সবুজ বিপ্লবের ডাক দেয়া এশিয়ার নায়ক ড. সোয়ামী নাথান আজকের দিনে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন মাটির স্বাস্থ্যকে। গত বছর পূর্ব আফ্রিকার রুয়ান্ডায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয় আমার। একান্তে কথাও হয় অনেক বিষয় নিয়ে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, আজকের দিনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে আগে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন মাটির স্বাস্থ্যের দিকে। মাটির স্বাস্থ্যই কৃষির পূর্বশর্ত। যেখানে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার সবকিছু। অন্যদিকে আজকের পৃথিবী যখন খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি পুরণের বার্তা দিচ্ছে তখন আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে এসডিজি  টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) পুরণের দিকে। সেই সঙ্গে চিন্তা করতে হচ্ছে পুষ্টির বিষয়টি। বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রায় যোগ করেছে পুষ্টি উন্নয়নের বিষয়টি।

এত পরিকল্পনা, সাফল্য-ব্যর্থতা, শঙ্কার ভেতরেই বিশ্ববাসীর সামনে খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সাফল্য আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতি বছরের প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ হওয়ার পরও খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। মাছ উৎপাদনে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ, সবজি উৎপাদনেও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। সামগ্রিকভাবেই খাদ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে আমাদের অর্জন দৃষ্টান্তমূলক। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসেবে দেশের ৫ বছরের নীচে ৪১ শতাংশ শিশু খর্বাকৃত্রির, ৩৬ শতাংশ শিশু নিম্ন ওজন ও ৫১ শতাংশ শিশু রক্তাল্পতায় ভুগছে। ৪১ শতাংশ মানুষ খাদ্য গ্রহণ করছে ২ হাজার ১’শ ২২ কিলোক্যালরির নীচে এবং সব মিলিয়ে ৫৭ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠি পুষ্টিকর খাবার পায় না।

তারপরও আমরা আত্মবিশ্বাসী হয়েছি সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ শীর্ষক জাতীয় লক্ষ্যমাত্রায়। যেখানে আমরা স্বপ্ন দেখছি, একটি টেকসই ও স্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমাদের জন্য এটি অনেক বড় পুরস্কার। আর এ বছর বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারও অর্জন করেছি আমরা। অর্থাৎ বাংলাদেশভিত্তিক বিশ্বের বৃহৎ উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ পেয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এটি জাতির জন্য অনেক বড় অর্জন। এবারের খাদ্য দিবস ও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কার্যক্রমও আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে।

প্রিয় পাঠক, ঘুরেফিরে বিশ্বচিন্তাও আজ গ্রামমুখি হচ্ছে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ পথচলার শুরু থেকেই যে কথা দর্শকদের সামনে বারবার উচ্চারণ করেছে। গ্রামই আমাদের গন্তব্য, গ্রামই বাঁচাতে পারে এই বিশ্বসভ্যতাকে। সে কারণে আজ গ্রামীন দারিদ্র মোকাবিলাই বিশ্বের খাদ্য পরিকল্পনার প্রধান ইস্যু। তাই এবারের বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছে, গ্রামীন দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি।

shykhs@gmail.com

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে হতে পারে সারের সংকট

সারের সংকট
সারের সংকট
সারের সংকট

চলতি বোরো মৌসুমে সার কিনতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে। আর সরকারকেও সার বাবদ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বাজেটে বরাদ্দের তিন গুণের বেশি—প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ এখন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ধান, আলু ও সবজি চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমওপি সারের ৬০ শতাংশ আনা হতো রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে। ওই দুই দেশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এখন বাংলাদেশকে এমওপি কিনতে হচ্ছে কানাডা থেকে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও আমদানিতে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে সারের সংকট হতে পারে। ভর্তুকির চাপ সামলাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সারের খুচরা মূল্য বাড়াতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে সার সরবরাহ ও ব্যবহারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এমওপি সারের ২০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হলে সামনের বোরো মৌসুমে ধান, গম ও রবি মৌসুমের অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ এম এম শওকত আলী, সাবেক কৃষিসচিব

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দেশে চলতি বোরো মৌসুমে নতুন করে আর সারের দরকার হবে না। সামনে আলুর মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা বাড়বে। ওই সময়ের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের সার সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কানাডা থেকে মোট আট লাখ টন এমওপি সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে ওই দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। ফলে এই সার নিয়ে সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তবে সার বাবদ সরকারের বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি বাড়ছে। এই চাপ নিয়েও সরকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওই ভর্তুকি দিয়ে যাবে।’

কমানো হয়েছে চাহিদা

বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে ৬৯ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সার ব্যবহার হয় ৫৭ লাখ টন। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের ওই চার ধরনের সারের চাহিদা কমিয়ে ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

দেশে প্রয়োজনীয় সারের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে এমওপি সারের বড় অংশ আসে রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে।

প্রসঙ্গত, ওই চারটি প্রধান সার কৃষকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে সরকার প্রাথমিকভাবে সারে ভর্তুকি বাবদ ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বেশির ভাগ সারের দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভর্তুকির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করতে হয়। কিন্তু অর্থবছরের শেষের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে হিসাব করে দেখা হয়েছে, ভর্তুকির পরিমাণ এবার বেড়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা গিয়ে দাঁড়াবে।

জিপসাম, জিংক সালফেট ও অ্যামোনিয়াম সালফেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সারে সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিনে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে তা বিক্রি করে থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষককেও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

সাবেক কৃষিসচিব এ এম এম শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সরকারের অন্যান্য খাতের ভর্তুকি কমিয়ে প্রয়োজনে সারে ভর্তুকি বাড়াতে হবে, যাতে সারের দাম কম থাকে। কারণ, কৃষকের হাতে এখন টাকা কম। বিশ্ববাজার থেকেও খাদ্য আমদানি করা সামনের দিনে আরও কঠিন হতে পারে। ফলে দেশের উৎপাদন ঠিক রাখতে সারের দাম ও জোগান ঠিক রাখা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তারা এক সঙ্গে কাজ করতে রাজি

ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি
ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি

ডাচ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

গতকাল সোমবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অনুষ্ঠিত কৃষি খাতের ব্যবসাবিষয়ক এক সম্মেলনে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এগ্রি বিজনেস কনক্লেভে বাংলাদেশের প্রায় ৪০জন উদ্যোক্তা ডাচ কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে ওয়েগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচনায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে রাজি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ডাচরা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া ডাচ সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বীজ, পশু খাদ্য, পোলট্রি, হর্টিকালচার ও এ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করেছে, যা ওই দেশের বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করেছে।

আলোচনায় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে তৈরি আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্কয়ার, ইস্পাহানি এগ্রো, একে খান অ্যান্ড কোম্পানি, প্যারাগন গ্রুপ, এসিআই, জেমকন গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োগ সরেজমিনে দেখতে যাবেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের পোল্ট্রিখাতে সহযোগিতার আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে উল্লেখ করে মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে মৎস্য, পশুপালন ও হর্টিকালচারে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা আছে।

কনক্লেভ আয়োজনে প্রথমবারের মতো দূতাবাসের সঙ্গে অংশীদার হয়েছে নেদারল্যান্ডসের কৃষি মন্ত্রণালয়, নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি, নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ, ডাচ-গ্রিন-হাইজডেল্টা, লারিভ ইন্টারন্যাশনাল, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ।

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থানকারী নেদারল্যান্ডসের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কম। ২০২১-এ কৃষিপণ্য ও খাদ্য রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পতিত জমিতে চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

মেহেরপুর: পতিত ও অনুর্বর বেলে মাটির জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ফলন ও বাজার দর ভালো এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদামের চাষ। 

সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা, শ্যামপুর, টেংগারমাঠ ও গোপালপুর গ্রামের অধিকাংশ জমির মাটি বেলে। ফলে এই এলাকার চাষিরা ধান, গম, পাটসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে খুব একটা লাভবান হতে পারেন না।

ধান কাটার পর এ সব জমি সাধারণত পতিত থাকে। এজন্য ৯০ দিনের ফসল হিসেবে অল্প খরচে বাদাম চাষ করছেন এলাকার চাষিরা।  

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার বাদাম চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। এবার এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা সেক্ষেত্রে বাদামের ফলন হয়েছে ৬ থেকে ৭ মণ। আর এ  ফলনে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঘরে তুলছেন তারা। বাজারে প্রতিমণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।  সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের বাদাম চাষি খাঁজা আহমেদ, কাওছার আলী ও ফিরোজ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এলাকার মাটি বেলে হওয়ায় সাধারণত সবজি, আলু ও অন্যান্য ফসল চাষ করার পর জমি পতিত থাকে। সে সময়ে চিনা বাদামের চাষ করা হয়। বাদাম চাষে খরচ কম এবং উৎপাদন ও বাজার দর ভাল। তাই দিন দিন চাষিরা তাদের পতিত জমিতে চিনা বাদামের চাষ শুরু করছেন।  

এছাড়া বাদাম ছাড়ানো, শুকানোসহ যাবতীয় কাজ করে থাকেন এখানকার নারীরা। বাদামের গাছ আবার শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করছেন গৃহিণীরা।  

নারী শ্রমিক সাহানা খাতুন ও জরিমন নেছা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বাদাম ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করে থাকি। এলাকার ২৫/৩০ জন নারী শ্রমিক এ কাজ করে আসছেন।  
গৃহিণী সাজেদা খাতুন ও জামেলা খাতুন জানান, বাদামের লতা জালানি হিসেবে বেশ ভাল। তাই লতাও বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, চিনা বাদামের চাষ সাধারণত পতিত জমিতে হয়ে থাকে। এলাকার চাষিরা এই জমিতে বাদামের চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। তাই বাদাম চাষ যাতে আরও সম্প্রসারিত হয় সেজন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা

সিলেট বিভাগের উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানিরা মৌলভীবাজারের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন। এ ফুল চাষ মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, যশোরে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়। যার বাজার দর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যশোরের ফুল সারাদেশের পাশাপাশি সিলেটেও আসে প্রচুর। সিলেটে ফুলের বাজার শত কোটি টাকার উপরে। কিন্তু সিলেটে ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয় না।

সিলেট বিভাগের মাটি অ্যাসিডিক হওয়ায় ফুল চাষ করা যাবে না, সেটাই ছিল প্রচলিক ধারণা। কিন্তু এ ধারণাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভুল প্রমাণ করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল গবেষক। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। এ পরীক্ষামূলক চাষে ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে অনেক জায়গা অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এ জমিকে আবাদের আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর এ অঞ্চলের অনেক জমি পতিত থাকে। ফলে ফুল চাষ করে অনাবাদি জমি থেকে কোটি টাকা উপার্জন সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার সুমি জানান, চাষিরা প্রশিক্ষণ শেষে অনেক কিছু শিখেছেন। কী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হয়, তা জেনেছেন। ধানের চেয়ে যেহেতু ফুলের দাম বেশি, তাই ফুল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভালোভাবে জমি চাষ করে নির্দেশিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্য ফসলের মতোই এর চাষ পদ্ধতি সহজ। বেড তৈরি করে ফুল চাষ করতে হয়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ যে কোন মাপের হতে পারে। তবে প্রস্থে ১.২-১.৫ মিটার হলে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘কলম (বীজ) লাগানো থেকে তিন মাস পর স্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা যাবে পরবর্তী ২৫ দিন। গ্লাডিওলাস ৫টি জাতসহ মোট ১২টি প্রজাতির ফুলের পরীক্ষা করে আমরা সফল হয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব পদ্ধতিতে ফসলের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ

সবুজ বিপ্লবের সময়ে পেস্টিসাইড ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীব বৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণমানতা। এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে, এত রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? এ প্রশ্ন শুধু ভারতে নয়, সারাবিশ্বের কৃষকসমাজ ও শস্যবিজ্ঞানীদের কাছে। তাই মনে হয় জৈব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনে একমাত্র সমাধানের রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চলমান খরিফ মরসুমে আমাদের রাজ্যে প্রধানত ধান, খরিফ পেঁয়াজ, জুট, ইক্ষু, তিল ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এ রাজ্যে ধানে ঝলসা রোগের আক্রমণ একটি গুরুতর বিষয়।

জৈব পদ্ধতিতে এই রোগ দমন করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার কেরোসিন তেলে ৮৫ গ্রাম থেঁতলানো রসুন মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ৯৫০ মিলি. জল ও ১০ মিলি. তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে বোতলে রেখে দিতে হবে। ১৯ লিটার জলের সাথে ১ ভাগ মিশ্রণ মিশিয়ে সকালে/বিকেলে স্প্রেয়ার দিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

এই মিশ্রণটি আমেরিকান বোল ওয়ার্ম, আর্মি ওয়ার্ম, পেঁয়াজ-এর চিরুনি পোকা, আলুর টিউবার মথ, রুট নট নিমাটোড (কৃমি), আখের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, ডাউনি মিলডিউ ও ধানের ঝলসা রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাতা খেকো পোকা ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ১ কেজি পেঁয়াজ থেঁতো করে ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দেবার পর কচলিয়ে রস নিংড়ে নিতে হবে। প্রাপ্ত নির্যাসের সাথে ১০ লিটার জল মিশিয়ে আক্রান্ত ফসলে স্প্রে করতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার, শাকসব্জী ও অন্যান্য ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম-এর সাথে অণুখাদ্যের যোগান দেয়।

জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকগুলি ফসলে কোনওরকম দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ব্যতিরেকে, পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

বন্ধুপোকা মাকড়ের (পরজীবি ও পরভোজী) সংরক্ষণের জন্য জমির পাশে অব্যবহৃত জায়গায় ত্রিধারা, উঁচুটি, শালিঞ্চে ইত্যাদি আগাছা জাতীয় গাছের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ বৈচিত্র্য নির্ভর জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব আনা সম্ভব। তাই জৈব কৃষির পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে কৃষিবিষমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সমাজ গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com