আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

খাদ্য নিরাপত্তা বনাম লুকায়িত ক্ষুধা

এই মুহূর্তে বিশ্বের ক্ষুধার হিসাব হলো, প্রতিদিন ১৭ হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটছে শুধু খাদ্যের অভাবে। আর ৮০ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার অভিশাপ নিয়ে বেঁচে আছে। এ যাবৎকালে পরিচালিত সব গবেষণার ফলাফল একটাই। তা হচ্ছে ক্ষুধার প্রধান কারণ দারিদ্র। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক হিসেবে দেখা যায়, পৃথিবীতে সামগ্রিকভাবে মাথাপিছু প্রতিদিনের খাদ্যের যোগান ১৯৬০ সালে ছিল ২ হাজার ২’শ ২০ কিলোক্যালরি। ২০০৮ সালে এই যোগান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭’শ ৯০ কিলো ক্যালরিতে। খাদ্য যোগানের প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়েছে, কিন্তু খাদ্য বন্টন ব্যবস্থার ত্রুটি, বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট করাসহ নানা কারণেই পৃথিবীর বিশাল অংশের মানুষকে ক্ষুধার্ত থাকতে হয়।

ইউরোপিয় ইউনিয়নের একটি হিসেবে দেখা গেছে, বছরে ১০ কোটি টন খাদ্য ইউরোপের দেশগুলো নষ্ট করে। বছরে পৃথিবীতে উৎপাদিত এক তৃতীয়াংশ খাদ্য নষ্ট হয়। বছরে নষ্ট হওয়া এক তৃতীয়াংশ খাদ্য পৃথিবীর ২৮ ভাগ আবাদি জমিতে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমাণের সমান।  বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন খাবার নষ্টের হার আরো অনেক বেশি। আমি স্বচক্ষেই আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেন্ট ও মানুষের বাড়িতে যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হতে দেখেছি তা রীতিমত অবাক করার মতোই। খোদ সৌদি আরবে রমজান মাস তো বটেই বছরের যে কোন সময়েই যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয় তা অনুন্নত বা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দিনের খাবার। ইউ এ ই থেকে প্রকাশিত দ্য ন্যাশনালের গত ৮ মার্চ প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বছরে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন খাবার নষ্ট করে। অর্থাৎ ১০৩ কোটি টন খাদ্য। যা আমাদের দেশের এক’শ বছরের খাদ্যের সমান।

পৃথিবীর ১০০ কোটি দরিদ্র মানুষের দৈনিক উপার্জন ১ দশমিক ২৪ ডলার বা বাংলাদেশী ১০০ টাকার নীচে। এই দলে পড়েন পৃথিবীর ১৭ ভাগ মানুষ। অবশ্য, এই দরিদ্রের কাতারে গত ১৯৯০ সালে ছিল ৪৩ শতাংশ, ১৯৮১ সালে ছিল ৫২ ভাগ মানুষ। পরিস্থিতি দিনের পর দিন ভালোর দিকে যাচ্ছে একথা বলাই যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিবেচনায় সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার হিসেবে ক্ষুধা নির্মূলের প্রশ্নে গত আড়াই দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে। গত ১ দশকে ১৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র ও ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু তারপরও খাদ্য ও ক্ষুধার প্রশ্নে আজকের বিশ্ব পরিস্থিতিও যথেষ্টই নাজুক। কারণ, পৃথিবীরর উষ্ণায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাগুলোয় হুমকি আর বাঁধা এসে ভর করছে। বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে সবাই। ক্ষুধাপীড়িত আফ্রিকা থেকে শুরু করে খনিজ তেলের অর্থে দীর্ঘকাল নিশ্চিন্তে থাকা মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত। তারাও এখন মরুভূমির বুকে কৃষি উৎপাদনের অসাধ্য সাধনের জটিল পরীক্ষায় নেমেছেন। সাফল্যও অর্জন করছেন বেশ।

ডব্লিউএফপি বা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ক্ষুধার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৃথিবীর ৭৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য থেকে বঞ্চিত। এর সিংহভাগ মানুষ বাস করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। প্রধানত এশিয়ায়। তবে জনসংখ্যার গড় বিবেচনায় পৃথিবীতে বেশি সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের বাস আফ্রিকা সাহারা অঞ্চলে। সেখানে চার জনের একজন পুষ্টিকর খাদ্য পায় না। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি ছয়টি শিশুর মধ্যে একটি নিম্ন ওজনের। পৃথিবীর চারটি শিশুর একটি খর্বাকৃতির। আর উন্নয়নশীল বিশ্বে তিনটি শিশুর একটি খর্বাকৃতির। ডব্লিউ এফ পি’র মতে যদি নারী কৃষকদের পুরুষের মতো সম্পদ ও সম্পত্তি ব্যবহারের নিজের ক্ষমতায় কৃষি আবাদে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করার সুযোগ পেত তাহলে বিশ্বের এই ক্ষুধা-দারিদ্র এক ধাক্কায় ১৫ কোটি কমে যেত। আফ্রিকার দেশগুলোতে নারীদের এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তারা কৃষিতে সিংহভাগ অবদান রাখছে, কিন্তু সম্পদ ও সম্পত্তি ব্যবহারে তাদের মালিকানাসত্ত বা পুরোপুরি স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। গ্রামীন জীবন ব্যবস্থার এই সংকট দারিদ্র ও ক্ষুধাকে স্থায়ী রূপ দিয়ে রাখছে। সংকটটি আমাদের দেশেও ছিল। তবে এখানকার নারীরা এখন সে অর্গল ভেঙে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে আমাদের নারীদের অগ্রযাত্রা একটি আলোচিত ইস্যু। এটিও এক ধরণের ক্ষমতায়ন।  

উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষুধা পেটে ক্লাসে অংশ নেয়। এর মধ্যে আফ্রিকাতেই এককভাবে রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ শিশু। পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডার রাকাই জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম লুটির সেন্ট হেনরিস প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলাম সম্প্রতি। সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমে এক যাদুকরি উন্নতির সন্ধান পাওয়া গেছে শুধু মধ্যাহ্নের খাবার বা মিড মে মিল এর ব্যবস্থা করার কারণে। সেখানে শিক্ষিতের হার অনেক বেশি। বর্তমান সময়ে প্রবৃদ্ধির হারও বেশি। স্কুলগুলোতে অভিভাভক ও শিক্ষকদের যৌথ উদ্যোগে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করার কারণেই এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাফল্য আসছে।

গ্লোবাল মাল্টিডাইমেনশনাল প্রোভার্টি ইনডেস্ক অনুযায়ী পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্ঠির ৮৫ ভাগেরই বাস গ্রামাঞ্চলে। এই ৮৫ ভাগের সিংহভাগই ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠি। এবার বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য গ্রামীন দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি। আজকের দিনে কৃষি অর্থ-বাণিজ্য ও বিনিয়োগমুখি হয়ে ওঠার কারণে গ্রামীন জীবনে কৃষি আবাদে কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন সাধারণ কৃষক। আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলো থেকে শুরু করে এই সত্য আমাদের বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের অধিকাংশ এলাকার কৃষিজীবী পরিবারগুলো পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে শহরমুখি হচ্ছে ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে। এর অনেকগুলি কারণ রয়েছে। প্রধাণত. কৃষিতে ব্যয় বাড়ছে। যারা কৃষি শ্রমিকের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন করেন, তাদের কাছে ফসলের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হচ্ছে। এ কারণে, অনেকে স্থানীয় ভূমিহীন ও কৃষি শ্রমিকদের কাছে জমি ভাড়া বা ইজারা দিয়ে শহরমুখি হচ্ছেন ও অন্যপেশায় যুক্ত হচ্ছেন। কৃষিশ্রমিক বা বর্গাচাষীর কাছে কৃষি আবাদ অপেক্ষাকৃত লাভজনক হচ্ছে, ক্ষেতে নিজে শ্রম দেবার কারণে। তাকে কৃষিশ্রমিক বাবদ বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। অন্যদিকে বছরের তিনটি বা চারটি মৌসুমে ফসল আবাদ করতে পারছে। এতে কোনো মৌসুমে লোকসান গুনলেও আরেক মৌসুমে পুষিয়ে যাচ্ছে।

দিনে দিনে কৃষি যাচ্ছে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি নির্ভরতার দিকে। উপকরণে, বীজে, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে কৃষি  যে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল একটি কার্যক্রম সেকথাই জানান দিচ্ছে ইউরোপের কৃষক। কয়েক মাসে আগে সর্বাধুনিকতম কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের দেশ নেদারল্যান্ডে গিয়ে আমি দেখেছি সুপরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত কৃষি কোথায় পৌঁছে গেছে। সেখানকার গ্রীন কিউ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কৃষি আবাদ চলছে এলইডি লাইট ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে। একইভাবে আধুনিকতম উইন্ড টারবাইন ব্যবহার হচ্ছে কৃষিতে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার করা হচ্ছে সর্বোত্তম প্রযুক্তি। যা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব এখনও চিন্তা করে উঠতে পারছে না।  

কৃষির উৎকর্ষ যখন এখানে, তখন গ্রামীন দারিদ্র নিরসনের জন্য সবচেয়ে আগে শক্তিশালী করার দরকার সাধারণ কৃষকদের হাতকে। যাতে প্রচলিত সম্পদ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা অব্যাহতভাবে খাদ্য নিরাপত্তায় রেখে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। হাইব্রিড ধানের জনক চীনের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ইয়াং লংপিং এই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দিতে চান আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে।

সময়ের বিবর্তনে বিশ্বব্যাপীই কৃষি আজ পেয়েছে বহু মাত্রিকতা। কৃষি উৎপাদনের গতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের অনিবার্যভাবে ভাবতে হচ্ছে পরিবেশের কথা। ভাবতে হচ্ছে পারিবারিক কৃষি, মাটির স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের ইসু্যু এমনকি বিশ্ববাণিজ্য এমনকি রাজনীতির কথাও। স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত অর্গানিক খামারের স্বত্তাধিকারী পেটি রিচি বলছিলেন সে কথাই।

তিনি বলছিলেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা কারোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য পৃথিবীর বড় দেশগুলোকে এক হতে হবে। ভূমিকা রাখতে হবে জাতিসংঘকে। সবার ঐক্যমতই আজকের বিশ্বকে রেহাই দিতে পারে জলবায়ুর বৈরী প্রভাব মোকাবিলার প্রয়োজনীয় শক্তি।

ষাটের দশকের সবুজ বিপ্লবের ডাক দেয়া এশিয়ার নায়ক ড. সোয়ামী নাথান আজকের দিনে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন মাটির স্বাস্থ্যকে। গত বছর পূর্ব আফ্রিকার রুয়ান্ডায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয় আমার। একান্তে কথাও হয় অনেক বিষয় নিয়ে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, আজকের দিনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে আগে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন মাটির স্বাস্থ্যের দিকে। মাটির স্বাস্থ্যই কৃষির পূর্বশর্ত। যেখানে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার সবকিছু। অন্যদিকে আজকের পৃথিবী যখন খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি পুরণের বার্তা দিচ্ছে তখন আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে এসডিজি  টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) পুরণের দিকে। সেই সঙ্গে চিন্তা করতে হচ্ছে পুষ্টির বিষয়টি। বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রায় যোগ করেছে পুষ্টি উন্নয়নের বিষয়টি।

এত পরিকল্পনা, সাফল্য-ব্যর্থতা, শঙ্কার ভেতরেই বিশ্ববাসীর সামনে খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সাফল্য আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতি বছরের প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ হওয়ার পরও খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। মাছ উৎপাদনে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ, সবজি উৎপাদনেও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। সামগ্রিকভাবেই খাদ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে আমাদের অর্জন দৃষ্টান্তমূলক। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসেবে দেশের ৫ বছরের নীচে ৪১ শতাংশ শিশু খর্বাকৃত্রির, ৩৬ শতাংশ শিশু নিম্ন ওজন ও ৫১ শতাংশ শিশু রক্তাল্পতায় ভুগছে। ৪১ শতাংশ মানুষ খাদ্য গ্রহণ করছে ২ হাজার ১’শ ২২ কিলোক্যালরির নীচে এবং সব মিলিয়ে ৫৭ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠি পুষ্টিকর খাবার পায় না।

তারপরও আমরা আত্মবিশ্বাসী হয়েছি সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ শীর্ষক জাতীয় লক্ষ্যমাত্রায়। যেখানে আমরা স্বপ্ন দেখছি, একটি টেকসই ও স্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমাদের জন্য এটি অনেক বড় পুরস্কার। আর এ বছর বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারও অর্জন করেছি আমরা। অর্থাৎ বাংলাদেশভিত্তিক বিশ্বের বৃহৎ উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ পেয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এটি জাতির জন্য অনেক বড় অর্জন। এবারের খাদ্য দিবস ও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কার্যক্রমও আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে।

প্রিয় পাঠক, ঘুরেফিরে বিশ্বচিন্তাও আজ গ্রামমুখি হচ্ছে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ পথচলার শুরু থেকেই যে কথা দর্শকদের সামনে বারবার উচ্চারণ করেছে। গ্রামই আমাদের গন্তব্য, গ্রামই বাঁচাতে পারে এই বিশ্বসভ্যতাকে। সে কারণে আজ গ্রামীন দারিদ্র মোকাবিলাই বিশ্বের খাদ্য পরিকল্পনার প্রধান ইস্যু। তাই এবারের বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছে, গ্রামীন দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি।

shykhs@gmail.com

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

মিষ্টি আলু চাষে হয়ে উঠুন লাভবান

খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ছেলে থেকে বুড়ো সবার প্রিয় এই সবজি পিঠে-পুলি বানানোর জন্য আদর্শ এক সবজি। সিদ্ধ করেও যেমন খাওয়া যায়, তেমনই পুড়িয়েও এই সবজি খাওয়া যায়। বাজারে এই সবজি সহজলভ্যও বটে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মিষ্টি আলু চাষ করে বর্তমানে অনেক চাষি লাভের মুখ দেখছেন।

মিষ্টি আলুর স্বাস্থ্যসম্মত দিক (Health Benefit)

মিষ্টি আলু নিয়মিত খেলে শরীরে শ্বেতকণিকার পরিমান বাড়ে। এছাড়াও এই সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ থাকায়, নার্ভ ভালো রাখতে এবং ধমনী ও হার্ট ভালো রাখতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। মিষ্টি আলু ভিটামিন বি৬-এর আধার। আমাদের শরীরে হোমোসাইস্টিন নামের কেমিক্যাল এই সবজি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়, এবং হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকায়, এটি খেলে মানব শরীরের হৃদস্পন্দন ঠিক থাকে সাথে সাথে কিডনির রোগও দূর হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মৌ চাষ

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে স্বল্প শ্রম ও স্বল্প পুঁজি সংবলিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাড়তি আয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, মৌ চাষের যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ, পুষ্টির উন্নয়ন, ফল ও ফসলের ফলন বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যতা ও উন্নয়নে মৌ চাষ অনন্য। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌ চাষ কার্যক্রম গ্রহণে আগ্রহী লক্ষ জনগোষ্ঠীকে মৌ চাষে উদ্বুদ্ধকরণসহ অধিক মধু উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশে খাঁটি মধুর চাহিদা পূরণ, সফল পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি তথা দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশে মৌ চাষের ইতিহাস
মৌমাছি সাধারণত বনে জঙ্গলে, গাছের ডালে, গাছের কোটরে, মাটির গর্তে, দালানের সুবিধামতো জায়গায় মৌচাক তৈরি করে থাকে। সুন্দরবনে মৌয়ালরা বাঘের ভয়কে তুচ্ছ করে মধু সংগ্রহ করে থাকে এভাবে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক মৌমাছি ধ্বংস হয়ে যায়।বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে অনেক কিছু সহজসাধ্য হয়েছে। প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৌমাছিকে পোষ মানানো সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই এখন কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মৌ কলোনি সংগ্রহ করে বা কৃত্রিম উপায়ে বিভাজনের মাধ্যমে রানী উৎপাদন করে প্রযুক্তিগত এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কাঠের তৈরি বাক্সে প্রতিপালন করা হয়।

মৌমাছির পরিচিতি
– মৌমাছি এক ধরনের  সামাজিক ও উপকারী পতঙ্গ;
– সংঘবদ্ধভাবে রানী, শ্রমিক ও পুরুষ সমন্বয়ে একটি কলোনিতে বসবাস করে;
– স্বভাবসিদ্ধভাবে প্রকৃতিতে বসবাস করে;
– প্রধানত ফুল থেকে নেকটার ও পোলেন সংগ্রহ করে;
– সময় ও ক্ষেত্র বিশেষ কচিপাতা, উদ্ভিদের কাণ্ড, মিষ্টি ফল এবং চিনিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করে;
– নেকটার অথবা মিষ্টি রস সংগ্রহ করে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের  তাৎক্ষণিক খাবার ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসাবে মধু উৎপাদন করে;
– সংগৃহীত পোলেন থেকে মৌমাছি বিশেষ করে অল্প বয়সের মৌমাছির প্রোটিন জাতীয় খাবারের চাহিদা পূরণ করে।

মৌমাছির প্রকারভেদ
প্রকৃতিতে চার প্রকারের মৌমাছি পাওয়া যায়। সেগুলো হলো- অ্যাপিস মেলিফেরা, অ্যাপিস ডরসেটা, অ্যাপিস সেরানা ও অ্যাপিস ফ্লোরিয়া। তবে অ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির চাষাবাদ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে লাভজনক।

অ্যাপিস  মেলিফেরার বৈশিষ্ট্য
– ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি;
– আকারে বড় ও শান্ত প্রকৃতির;
– অধিক মধু উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন (প্রতি কলোনিতে বছরে মধু উৎপাদন ক্ষমতা কমপক্ষে ৫০ কেজি) বাক্সে পোষ মানে এবং কখনই বাক্স বা কলোনি পরিত্যাগ করে না।  পরাগায়নে মৌ চাষ
মৌমাছির মাধ্যমে সফল পরাগায়ন সম্ভব এটি সর্বজনস্বীকৃত। বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে মৌমাছি দ্বারা পরাগায়ত ফসলের ১০ থেকে ১৫ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত বাড়তি ফসলের মূল্য মোট উৎপাদিত মধু ও মোমের মূল্যের ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষিদের পাশাপাশি কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার ও প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অধিক মধু এবং ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষি এবং কৃষক উভয়ই উপকৃত হবেন। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদনের ফলে দেশের জিডিপিতে আরও অবদান রাখা সম্ভব।

মৌ চাষে সতর্কতা

মৌবাক্সে বসানোর আশপাশের জমিতে বালাইনাশক সব সময়ই বিকেলের পরে স্প্রে করা প্রয়োজন। না হলে বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছি মারা যাবে।

মৌ চাষের সুফল
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মৌ চাষের উল্লেখযোগ্য সুফল নিম্নরূপ
– নিয়মিত বিশুদ্ধ মধু সেবনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ;
– বিশেষ বিশেষ রোগ নিরাময়;
– বাড়তি আয়;
– খাদ্যে পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও উন্নয়ন;
– মোম ব্যবহারের মাধ্যমে বহুবিধ প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন;
– স্বাদ ও রুচির দিক থেকে খাদ্যের মান উন্নয়ন;
– কৃষিভিত্তিক কুটির শিল্পের উন্নয়ন;
– দেশজ সম্পদের  ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান;
– বনজ সম্পদের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা;
– ফল ও ফসলের সফল পরাগায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি;
– আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডর মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা;
– মৌ চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উপকারী ফুলকপির পাঁচ পদ

চলছে শীতকাল। বাজারে গেলেই এখন দেখা যায় টাটকা ফুলকপি। বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজিটি আমাদের রান্নাঘরে দীর্ঘদিনের বন্ধু। ভেজে, ভাপিয়ে, ঝোল ঝোল করে, অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে, বিভিন্নভাবেই খাওয়া যায় এটি। ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন খাদ্য উপাদান আমাদের সর্দি-কাশি, জ্বর জ্বর ভাব থেকে যেমন বাঁচায়, তেমনি বাঁচায় অকালে দাঁত লাল হয়ে যাওয়া, মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকেও। এ ছাড়া এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

তাই এই শীতকালে যত ইচ্ছা ফুলকপি খান। এখন এটি দামেও সস্তা। রেসিপি দিয়েছেন কবিতা গোস্বামীজিনাত নাজিয়া

ফুলকপির ফুলকারি

উপকরণ:

মাঝারি আকারের ফুলকপি ১টি, আলু ২টি, তেল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, জিরা ২ চা-চামচ, শুকনা মরিচ ২টা, তেজপাতা ২টা, জিরাবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, কাজু বাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, কাঁচা মরিচবাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, পানি পরিমাণমতো, সাজানোর জন্য কিশমিশ ও ভাজা কাজুবাদাম।

প্রণালি

ফুলকপির ফুলগুলো সমানভাবে কেটে লবণপানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর লবণ ও হলুদ দিয়ে মেখে নিন।

কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে লবণ-হলুদ মাখানো ফুলকপির টুকরা লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। ওই তেলে শুকনা মরিচ, জিরা, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে আলু ভাজতে হবে। লবণ ও হলুদ দিয়ে এরপর জিরা, ধনে, আদাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, শুকনো মরিচগুঁড়া, চিনি এবং অল্প পানি দিয়ে কষাতে হবে। কপি নরম হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে কাজুবাদামবাটা, গরমমসলা দিয়ে ঢেকে রাখুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে ভাজা কাজু দিয়ে সাজিয়ে নিন।

মালাই ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপি ১টি, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, কাজুবাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, টমেটোকুচি আধা কাপ। হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ করে। এলাচ ও কাঁচা মরিচবাটা আধা চা-চামচ করে। তেজপাতা ও দারুচিনি ২-৩টি করে, দুধ দেড় কাপ, ক্রিম আধা কাপ, ঘি আধা কাপ, টক দই আধা কাপ, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, কিশমিশ অল্প পরিমাণে।

প্রণালি

ফুলকপির ফুল ছাড়িয়ে নিন। প্যানে অল্প ঘি দিয়ে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার এতে বাকি ঘি দিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজকুচি ভেজে নিন। এতে কাজুবাদাম ছাড়া অন্য সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। তিন মিনিট পর দই দিন। আরেকটু কষিয়ে অল্প দুধ দিন। মসলা ভাজা-ভাজা হলে টমেটো ও ভাজা ফুলকপি দিয়ে আবার একটু দুধ দিয়ে কষান। একটু পর বাকি দুধ দিয়ে ঝোল ঝোল করে নিন। ফুটে উঠলে অল্প দুধে কাজুবাদামবাটা গুলে দিন। এই রান্নায় পানি দেওয়া যাবে না। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে এলে ক্রিম দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে চিনি ও কিশমিশ দিয়ে নামান।

ফুলকপির ফুলবাহার

উপকরণ:

ছোট করে কাটা ফুলকপির ফুল ৩ কাপ, কালোজিরা ১ চা-চামচ, শুকনো মরিচ ২-৩টি, মাখন ৪ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ করে। টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, সয়া সস ২ টেবিল চামচ। লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, জিরার গুঁড়া সামান্য, ধনেপাতা সামান্য।

প্রণালি

অল্প মাখনে ফুলগুলো এক মিনিট ভেজে নামান। এবার মাখনে শুকনা মরিচ ও কালোজিরা ফোড়ন দিয়ে আদা ও রসুনকুচি ভেজে নিন। এতে ফুলগুলো দিয়ে লবণ দিন। আধা সেদ্ধ হয়ে এলে সস ও সয়া সস দিয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে দিন। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হলে কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও জিরার গুঁড়া দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ওপরে একটু মাখন দিয়ে নামান।

মচমচে ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপির ফুল ১০-১২টি, সবুজ ক্যাপসিকাম ১টি, গাজর ১টি, আলু ১টি, ডিম ২টি, কর্নফ্লাওয়ার ও চালের গুঁড়া আধা কাপ করে, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, আদা ও রসুনকুচি ১ চা-চামচ করে, টমেটো সস, চিলি সস ও সয়া সস ২ টেবিল চামচ করে, মাখন আধা কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

ফোটানো লবণপানিতে ফুলকপিগুলো এক মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একইভাবে লম্বা করে কেটে আলু, ক্যাপসিকাম ও গাজর অল্প সেদ্ধ করে নিন। এবার ফুলকপিতে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, চালের গুঁড়া, গোলমরিচ ও চাট মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ডুবোতেলে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই প্যানে মাখন গরম করে আদা ও রসুন ফোড়ন দিয়ে সস ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষান। কষানো হলে সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ভাজা ফুলকপি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলকপির রাজ কোফতা

উপকরণ:

কুচি করা ফুলকপি ৪ কাপ, গরু বা খাসির মাংসের কিমা বাটা ১ কাপ, মিহি পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, আদাকুচি ১ চা-চামচ। কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও লবণ স্বাদমতো। গোলমরিচ গুঁড়া ও চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ করে। টমেটোকুচি আধা কাপ, ব্রেড ক্রাম্ব ও কর্নফ্লাওয়ার আধা কাপ বা পরিমাণমতো। ডিম ২টি, কাজুবাদাম ও কিশমিশকুচি ২ টেবিল চামচ করে, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

তেল ছাড়া সব উপকরণ ফুলকপির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। হাতে অল্প তেল নিয়ে কোফতা বানিয়ে ডুবোতেলে মচমচে করে ভেজে তুলুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ওষধি উদ্ভিদ কালমেঘ চাষে ব্যাপক আয়

ওষধি উদ্ভিদ কালমেঘ নিয়ে মোটামুটি সবাই বর্তমানে ওয়াকিবহাল। বীরুৎ-জাতীয় এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণ প্রচুর পরিমানে থাকায় বর্তমানে আমাদের রাজ্যে কালমেঘ চাষ প্রচুর পরিমানে হচ্ছে। শারীরিক সমস্যা দূর করতে কালমেঘের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কালমেঘ পাতার রস রক্ত আমাশা দূর করা ছাড়াও, কৃমির সমস্যা রোধ করতেও ভীষণ কার্যকরী। মূলত বীজ থেকে এই কালমেঘের চাষ হয়। জন্ডিস, কৃমি, ম্যালেরিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, যকৃতের সমস্যার জন্য কালমেঘ খুবই উপকারী। সর্দি-কাশি ও চামড়ার রোগ দূর করতেও কালমেঘের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। জুন-জুলাই মাসে মূলত এই ফসলের চাষ হয় এবং মার্চ-ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এর বীজ সংগ্রহ করা হয়।

মাটি ও জলবায়ু: (Soil and Climate)

যে কোনও ধরণের জলবায়ুতেই এই গাছের চাষ সম্ভব যেমন, তেমনই বিভিন্ন মাটিতেও এটি বেড়ে উঠতে পারে। তবে বেলে-দোআঁশ মাটি এই চাষের জন্য আদর্শ৷ কালমেঘ চাষের আগে জমি ভালো করে কর্ষণ করে নিতে হবে। ১৫ সেন্টিমিটার দূরত্ব রেখে কালমেঘের বীজ বপন করা উচিত। ঠান্ডা আবহাওয়ায় মূলত কালমেঘের চাষ ভালো হয়।

সার প্রয়োগ ও সেচ (Fertilizer and Irrigation)

প্রথমে মাটি, বালি, জৈব সার মিশিয়ে বীজের জন্য মাটি প্রস্তুত করে নেওয়া উচিত। বীজ থেকে চারা বেরোলে তা চাষের জমিতে পোঁতা হয়।  কালমেঘের ভালো ফসলের জন্য জমিতে গোবর সার ব্যবহার করেন অনেকে।  মূলত বর্ষাকালে এটি চাষ করা হয় তাই সেচ কার্যের তেমন প্রয়োজনীয়তা পড়ে না৷ তবে প্রথম প্রথম তিন-চার দিন পর পর প্রয়োজনাসুরে জল দিতে হয়।  এরপর আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী সপ্তাহে সপ্তাহে জলসেচ দেওয়া যেতে পারে৷

পরিচর্যা (Caring)

অন্যান্য চাষের মতন কালমেঘেরও পরিচর্যা করা উচিত। আগাছা থাকলে তা যত্নের সঙ্গে কেটে দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে জমিতে যাতে জল না জমে। চারা রোপনের তিন মাসের মাথায় ফসল সংগ্রহ করে নেওয়া উচিত। বাজারে কালমেঘের প্রচুর পরিমানে চাহিদা থাকায়, এই চাষ করে কৃষকরা অধিক উপার্জন সহজেই করতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অসম, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশে কালমেঘের চাষ প্রচুর পরিমানে হয়। কৃষকরা এই ওষধি উদ্ভিদ চাষ করে ভালোই উপার্জন করছেন, তা এই রাজ্যগুলিতে কালমেঘের ব্যাপক চাষই প্রমাণ করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাড়ছে মিল্কফিশ চাষ, জেনে নিন এর সহজ চাষ পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে মাছের অন্যতম জনপ্রিয় জাত মিল্কফিশ। এটি তাজা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চিনিডে পরিবারে মিল্কফিশ একমাত্র প্রজাতি। মিল্কফিশ শুধুমাত্র সম্পূর্ণ লবণাক্ত জলে ডিম পাড়ে। যদি আপনি একটি পুকুরে মিল্কফিশ বাড়াতে চান তবে আপনাকে পুকুরের ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে পোনাদের ধরতে হবে।

জায়গা নির্বাচন(Site selection):

যে কোনও উন্নত ও কার্যকর ব্র্যাকিশ জলের মাছের খামারে মিল্কফিশ চাষ শুরু করা যেতে পারে। সর্বনিম্ন ০.৮ থেকে ১ মিটার জলের গভীরতা থাকতে হবে; ১০ থেকে ৩০ পিপিটি এর সর্বোত্তম লবণাক্ততা, ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রা, সারা বছরে ৪.০ থেকে ৫.০ পিপিএমের জল পিএইচ মান ৭.৫ থেকে ৮.৫ ডিগ্রি অক্সিজেন (ডিও) সহ মানের জল প্রয়োজন | পুকুরের মাটি বেলে বা  কাদামাটি হতে হবে। বাজারে পৌঁছানোর জন্য মিল্কফিশ চাষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রয়োজনীয়।

মিল্কফিশের জন্য বীজ সংগ্রহ(Seed collection):

মিল্কফিশ পুকুর এবং সীমাবদ্ধ জলে প্রজনন করে না; হ্যাচারি প্রযুক্তির উন্নয়ন কঠিন ছিল। যদিও এই প্রজাতিতে প্ররোচিত প্রজনন সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে, চূড়ান্ত বেঁচে থাকার হার কম হয়েছে এবং হ্যাচারি অপারেশনগুলি অর্থনৈতিক নয়। ভারতে ওড়িশা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা এবং কর্ণাটক উপকূলে ২ থেকে ৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের মিল্কফিশের বীজ দেখা যায়। শান্ত উপকূলীয় জলের প্রয়োজন যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ২৩  থেকে ২৫  ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং লবণাক্ততা ১০ থেকে ৩২ পিপিটির মধ্যে পরিবর্তিত হয়।

জল সরবরাহ ও হ্যাচারি উৎপাদন(Water supply):

ফিশপন্ড সাইটের উপযুক্ততার জন্য জল সরবরাহ হ’ল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | সাধারণত, জল সরবরাহ একটি নদী, সমুদ্র, বা খাঁড়ি থেকে আসে। এটি অবশ্যই সারা বছর ধরে পুকুরের প্রয়োজনীয়তার গুণমান এবং পরিমাণ পূরণ করতে হবে। যদি জলের উৎস দূষিত হয় এবং আয়তন অপর্যাপ্ত হয় তবে মাছ চাষ করা ব্যৰ্থ হবে |

হ্যাচারি অপারেশনগুলি আধা-নিবিড় (কম মজুদ ঘনত্ব, ন্যূনতম জল বিনিময়, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, মিশ্র খাদ্যের সাথে খাওয়ানো) বা নিবিড় (উচ্চ স্টকিং ঘনত্ব, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, দৈনিক খাওয়ানো এবং জল বিনিময়) সিস্টেম ব্যবহার করে, যার গড় বেঁচে থাকার হার ৩০% (মজুদ করা সদ্য-ফুটে থাকা লার্ভা থেকে)। ডিম ছাড়ার পর, লার্ভা আদর্শভাবে ৫০/লিটারে হ্যাচারি ট্যাঙ্কে রাখা হয় (ফাইবারগ্লাস, কংক্রিট, ক্যানভাস, অথবা পলিপ্রোপিলিন-আচ্ছাদিত মাটির ট্যাঙ্ক) ক্লোরেলার সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোটিফার খাওয়ানো হয় এবং পরবর্তীতে মোট চিংড়ি দিয়ে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ।

মাছ সংগ্রহ(Harvest):

পুকুরগুলি সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করা বা পুরো নেট খাঁচার কাঠামো বন্ধ করে দেওয়া, সাইনিং বা কলমে গিলনেটের ব্যবহার)। এই পর্যায়ে ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের মাছ পাওয়া যায় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com