আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন ভোলার চাষিরা

নিজ খেতের ক্যাপসিকাম পরিচর্যায় ব্যস্ত এক চাষি
নিজ খেতের ক্যাপসিকাম পরিচর্যায় ব্যস্ত এক চাষি

শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, ওষুধ ও জমির লগ্নিসহ সব মিলিয়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি এরইমধ্যে ৭ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। আরও ৫ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন

মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন ভোলার কৃষকেরা। ফলে প্রচলিত ফসলের তুলনায় দিন দিন বাড়ছে ক্যাপসিকামের আবাদ।

ভোলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এই বছর দ্বিগুণ ক্যাপসিকামের চাষ হয়েছে। এ সবজি চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন এখানকার অনেক চাষি। সরকারি সহযোগিতা পেলে ক্যাপসিকাম চাষে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই।

কৃষকরা জানান, ভোলা সদরের মাঝের চরে প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগে কাচিয়া ইউনিয়নের মনির পাঠান নামের এক ব্যক্তি ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন। তাতে ব্যাপক সফলতা পান তিনি। পরের বছরই তিনি বড় পরিসরে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি অন্য চাষিরাও সবজিটি চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ভোলার মাঝের চরে বর্তমানে ১৫০ থেকে ২০০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। এ বছরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ব্যাপক ফলন হয়েছে। আর পাইকারি বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

ভোলা সদরের কাচিয়া মাঝের চরের ক্যাপসিকাম চাষি হাসেম কেরানী জানান, বিদেশি সবজি চাষ করে অনেক লাভ হয় শুনে তিনি এ বছর ৩ একর জমিতে চাষ করেছেন। শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, ওষুধ ও জমির লগ্নিসহ সব মিলিয়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি এরইমধ্যে ৭ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। আরও ৫ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

চাষি মো. আবদুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ২ একর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছেন। খেতে যে ফসল আছে তাতে আরও ৫ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন।

চাষি মো. সিদ্দিক জানান, আগে ভোলার এ চরে ২৫ থেকে ৩০ জন ক্যাপসিকামের চাষ করতেন। এখন ১৫০ থেকে ২০০ জন রয়েছেন। দিন দিন চাষির সংখ্যা বাড়ছে।

কৃষক হাসেম ব্যাপারী জানান, পাইকারি বাজারে এর চাহিদা অনেক। প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এটি রফতানি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলায় ক্যাপসিকাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হেক্টর। আবাদ হয়েছে প্রায় ৪০ হেক্টর। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও দৌলতখান উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হয়েছে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, “এ বছর খেতে কোনো প্রকার পোকার আক্রমণ নেই। তাই চাষিরা আগের চেয়ে অনেক লাভবান হবেন। ক্যাপসিকাম চাষ করে অনেকেই তাদের ভাগ্য বদল করেছেন। আমার ধারণা আগামী মৌসুমে জেলায় ক্যাপসিকাম চাষ একশত হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

শাকসবজি

যেভাবে সফল হলেন ‘কমলা ফারুক’

যেভাবে সফল হলেন ‘কমলা ফারুক’
যেভাবে সফল হলেন ‘কমলা ফারুক’

আমাদের দেশে কমলা চাষ নিয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মনে দীর্ঘদিন ধরে সংশয় ছিল। তবে সে সংশয় দূর করে দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার ওমর ফারুক। পাহাড়ি এলাকার পরিবর্তে সমতল জমিতে কমলা চাষে সফল হয়েছেন তিনি। সুমিষ্ট চায়না কমলা উৎপাদিত হয়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। ওমর ফারুকের কমলা দেখতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। নার্সারি মালিক ফারুক এখন ‘কমলা ফারুক’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নিধিকুন্ড গ্রামের ওমর ফারুক জানান, তিনি মূলত একজন ক্ষুদ্র নার্সারি ব্যবসায়ী। অনেকটা আগ্রহের বশে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিধিকুন্ড গ্রামের মাঠে নিজের ১ বিঘা জমিতে চায়না কমলার বাগান করেন। ১০০টি চারা ধরে এক বিঘায়। পরিচর্যার পর ২ বছরের মাথায় ২০১৮ সালের নভেম্বরে গাছে কমলা ধরে। এ কমলা অবিকল চায়না কমলার মত দেখতে। রং ও স্বাদ একই রকম।

ফারুক জানান, ওই বছর তিনি আড়াই লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেন। বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ার জন্য ৩০ হাজার কলম চারা বাঁধেন। এ বছর প্রতিটি গাছে গড়ে ৫০-৫৫ কেজি করে কমলা ধরেছে। গাছে থোকায়-থোকায় ঝুলছে কেবল কমলা আর কমলা। ওমর ফারুকের কমলা বাগানের এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মী, আগ্রহী চাষি ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় কমলা বাগানে লেগেই আছে।

ওমর ফারুক আরও জানান, কমলা চাষে খরচ অত্যন্ত কম। এ বছর তিনি ৮ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। দর্শনার্থীদের দেখার জন্য কমলা গাছেই রেখে দিয়েছেন। খেতে দিচ্ছেন কমলা। এতে তারা খুশি হয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কমলার চারা। অনেকেই বাগান তৈরির জন্য দিচ্ছেন চারার অর্ডার। প্রতি পিচ চারা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দেড় মাসে ১৪ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন। এখনো ১৬ লাখ টাকার চারা বিক্রি হবে।

ওমর ফারুক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘কেবল পাহাড় নয়; প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমতল জমিতেও সুমিষ্ট কমলার চাষ সম্ভব। বিদেশ থেকে কমলা আমদানির দিন শেষ হতে চলেছে। বাণিজ্যিকভাবে বাগান করলে দেশীয় কমলা দিয়ে বাৎসরিক চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘কৃষি বিভাগ থেকে ওমর ফারুককে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আগ্রহী কমলা চাষিদের এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

বছরের ৬ মাস ৪৮ শতাংশ জমিতে লাভজনক সবজি লাউ চাষ করতে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। সেই লাউ বিক্রি করা হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। লাউ বিক্রি করে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের লেখাপড়া চলছে। সব মিলিয়ে লাউ বিক্রি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। বলছি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের কানাই নগর গ্রামের মো. ফারুকের কথা। তার দেখাদেখি গ্রামের অনেক কৃষক লাউ চাষ শুরু করেছেন। ফলে বাড়ছে লাউ চাষির সংখ্যা।

সরেজমিনে জানা যায়, সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কানাই নগর গ্রামের কৃষক মো. ফারুক (৪০)। তিনি গত ৫ বছর আগে ১৮ শতাংশ জমিতে বছরের আশ্বিন মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত লাউ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরই সফলতা পেয়েছেন। পরের বছর থেকে বড় পরিসরে লাউ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ৪৮ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করছেন। এতে বছরের ৬ মাসে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। বছরে সেই লাউ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। বাকি ৬ মাস ধান চাষ করেন।

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

মো. ফারুক জানান, লাউ বিক্রির টাকা দিয়ে ৩ সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার ভালোভাবে পরিচালনা করছেন। কয়েকটি গরু কিনেছেন। কয়েক শতাংশ জমিও কিনেছেন। এ সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।

ফারুকের ছোট ছেলে আলম জানায়, সে এ বছর দশম শ্রেণিতে পড়ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি লাউ ক্ষেতে পরিচর্যাসহ নানা কাজ করছে। ফলে কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। এতে তার বাবার টাকা বেঁচে যায়।

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

স্থানীয় কৃষক মো. আলাউদ্দিন মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে ফারুক লাউ চাষ করে অনেক টাকা লাভ করেছে। তার ঘর-বাড়ি ও চলাফেরায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তা দেখে গ্রামের অনেক চাষি এখন লাউ চাষ করছেন। অনেকেই সফল হচ্ছেন।

স্থানীয় লাউ চাষি মো. সেলিম (৪৫) জানান, তিনি ফারুকের দেখাদেখি ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ৪৪ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সঠিকভাবে ক্ষেতে সার-ওষুধ দিয়েছেন। ক্ষেতে অনেক লাউ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। যে লাউ আছে তাতে আরও ১ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন।

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগ সব কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। ফলে অনেক কৃষক আমাদের দিক-নির্দেশনা ও সঠিক পরামর্শে সাবলম্বী হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতজাতের লাউ উদ্ভাবন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতজাতের লাউ উদ্ভাবন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতজাতের লাউ উদ্ভাবন

লাউ প্রধানত শীতকালীন সবজি হলেও কৃষি বিজ্ঞানীদের কল্যাণে আলোক অসংবেদনশীল উন্নতজাতের উদ্ভাবনের ফলে লাউ এখন সারা বছরই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

লাউ একটি লতানো ও অধিক অঙ্গজবৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্রকৃতির গাছ বিধায় আধুনিক বাণিজ্যিক চাষ, ছাদকৃষি বা ভার্টিক্যাল এগ্রিকালচারের জন্য কিছুটা বেমানান।

এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি বিইউ হাইব্রিড লাউ-১ ও বিইউ লাউ-১ নামের লাউয়ের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। যা লাউ ফসলের আধুনিক ও বাণিজ্যিক চাষাবাদের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতজাতের লাউ উদ্ভাবন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতজাতের লাউ উদ্ভাবন

ড. আমিনুল ইসলাম জানান, উচ্চফলনশীল এ জাত দুটির মধ্যে একটি হাইব্রিড এবং অন্যটি উন্মুক্ত পরাগায়িত (ওপি)। দুটিরই ফলনের তুলনায় অঙ্গজবৃদ্ধি খুব কম যা আধুনিক বা স্মার্ট কৃষির জন্য একেবারে লাগসই। তাছাড়াও পুং ও স্ত্রী ফুলের অনুপাত কম হওয়ায় গাছে খাদ্যের যে জোগান দেয়া হয় তা অত্যন্ত মিতব্যায়িতার সঙ্গেই সরাসরি ফলোৎপাদনে ব্যবহার হয়। অর্থাৎ অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় অপচয় কম হয় এবং ফল কম ঝরে পড়ে।

হাইব্রিড জাতটি আলোক অসংবেদনশীল হওয়ায় সারা বছরই চাষযোগ্য, খেতে খুব সুস্বাদু এবং গ্রীষ্মকালীন স্বাদেও খুব একটা হেরফের হয় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

পাবনার সুজানগরে পদ্মার চরে শীতকালীন টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে কয়েকশ’ কৃষকের। ওই চরে এবার শুধু টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয় করবেন কৃষকরা। এতে একসময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন কৃষকদের সংসারে স্বচ্ছলতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সুজানগর উপজেলা মূলত পেঁয়াজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ এলাকা। দেশের মধ্যে ২য় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনা। জেলার মধ্যে সুজানগরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। উপজেলার সাগরকান্দী ইউনিয়নের খলিলপুর, চরখলিলপুর এবং কালিকাপুর গ্রামে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। সেসব চরাঞ্চলের জমিতে ধান-পাট তেমন ভালো হয় না। কৃষকরা বেশিরভাগ সময় সেসব জমিতে ধান-পাট চাষ করে লোকসানে পড়েন।

সূত্র আরও জানায়, ওই জমিতে প্রথমবারের মত শীতকালীন টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন চাষিরা। এ বছর প্রায় ৩শ কৃষক মিন্টু সুপার ও হিরো সুপারসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড টমেটো চাষ করেন। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক সময়ে সার-কীটনাশক দেওয়ায় অধিকাংশ জমিতে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

খলিলপুর গ্রামের চাষি ইয়াছিন আলী বলেন, ‘এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে ১২০-১৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বাজারে টমেটোর দামও বেশ ভালো।’

কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ মণ্ডল বলেন, ‘১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭-৮শ টাকা দরে। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতিবিঘা জমির টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ হাজার টাকা।’

কৃষক আক্কাছ আলী বলেন, ‘আগে সংসারে অভাব-অনটন ছিল। চরাঞ্চলের ওই জমিতে চাষ করা টমেটো বিক্রি করে বর্তমানে সংসার বেশ ভালোভাবে চলছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল হক সরকার বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কৃষকরা চরের খাস জমিতে টমেটো চাষ করে চমক দেখিয়েছেন। এতে কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। এরপর থেকে টমেটো চাষে কৃষকদের সাপোর্ট দেওয়া হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস
মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

দেশের সড়ক-মহাসড়কের দু’ধারে বেশিরভাগ পরিত্যক্ত জায়গা ভরে আছে আগাছায়। অন্যদিকে জনবসতি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কমছে দেশের কৃষি জমি। তাই দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও যেন পরিত্যক্ত পড়ে না থাকে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। তার ওই নির্দেশনার আলোকে ‘অব্যবহৃত জায়গায় সবজি ও ফলের চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারোমাস’ শীর্ষক ইনোভেশন আইডিয়া বাস্তবায়নে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

এই উদ্ভাবনী আইডিয়ার দারুণ ফল মিলছে গাইবান্ধা-সাঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’ধারে। সড়কটির কয়েক কিলোমিটার এলাকায় অব্যবহৃত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে সবজি বাগান। চাষ করা হয়েছে শিম, লাউ, করলা, বেগুন, মরিচসহ বিভিন্ন জাতের সবজি।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় স্থানীয়রা এ সবজি চাষ করে যেমন নিজেরা খেতে পারছেন, তেমনি বাজারে বেচে করতে পারছেন আয়ও। আগামীতে দেশের সবজি চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানাচ্ছেন কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস
মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

সূত্র জানায়, দেশে ৩ হাজার ৭৯০ কিলোমিটার জাতীয়, ৪ হাজার ২০৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক, ১৩ হাজার ১২১ কিলোমিটার জেলা এবং ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯ কিলোমিটার স্থানীয় সড়ক আছে। এই সড়কগুলোর দু’ধারে পরিত্যক্ত জায়গা ভরে থাকে আগাছায়। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব জায়গাও চাষবাসের জন্য কাজে লাগাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

মহাসড়কের পাশের সবজি চাষি সাঘাটার যাদুরতাইর গ্রামের আসাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি যে মহাসড়কের পাশে সবজি চাষ করে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে।

একই গ্রামের চাষি আইজ উদ্দিন বলেন, এ বছর শিম, লাউ, করলা, বেগুন, মরিচসহ হরেক রকমের সবজির চাষ করে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়েছি। বিক্রি করেছি বাজারেও। আগামীতে আরও মনোযোগ দিয়ে সবজি চাষ করব।

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস
মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার গোলাম মওলা জাগো নিউজকে জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ইনোভেশন আইডিয়াদাতা কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ব্লুগোল্ড প্রোগ্রাম অফিসার মো. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, দেশের উত্তরের জেলা রংপুরের মিঠাপুর উপজেলার পরে গাইবান্ধার সাঘাটায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অনেক খুশি। আসলে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ঘরবাড়িও বাড়ছে, পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কমে যাচ্ছে দেশের কৃষি জমি। এই পরিস্থিতিতে দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও যেন পরিত্যক্ত না থাকে, এমন নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশনার আলোকেই দেশের সড়ক-মহাসড়কের পাশে সবজি চাষের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com