আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

চাকরি হারিয়ে কোয়েল চাষ করছেন ঢাবি ছাত্র

চাকরি হারিয়ে কোয়েল চাষ করছেন ঢাবি ছাত্র
চাকরি হারিয়ে কোয়েল চাষ করছেন ঢাবি ছাত্র

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখির খামার গড়ে উঠেছে। অনেকটা শখের বশেই বাড়িতে কোয়েল পাখি পালন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহাবুবুল আলম নাঈম।

মাত্র নয় মাস যেতে না যেতেই তিনি দেখেন লাভের মুখ। এরপর পৌর শহরের সিকদার সড়ক এলাকার নিজবাড়িতে গড়ে তোলেন নূর জাহান লাইভস্টক অ্যান্ড এগ্রো নামের একটি খামার।

শুধু কোয়েল পাখি নয় তার খামারে রয়েছে দেশি হাঁস, মুরগি ও কবুতর। পাশাপাশি নিজের পুকুরে পাঙ্গাস মাছ চাষ করছেন তিনি। তবে কোয়েল পাখি পালন লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলেন খামার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পাখি পালনের উপযোগী। কোয়েলের মাংস ও ডিম মুরগির মাংস ও ডিমের মতো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এটি গৃহপালিত পাখি। কোয়েল পাখির আদি জন্মস্থান জাপানে। পরবর্তীতে এটা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

কোয়েল খামারি মাহাবুবুল আলম নাঈম বলেন, মাত্র নয় মাস আগে নরসিংদীর একটি খামার থেকে ৬০০ কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে আনি। তখন অনেকেই বলেছে বাচ্চাগুলো বাঁচবে না, মারা যাবে। তাদের কথা শুনে অনেক কষ্ট হয়েছিল তখন। যখন বাচ্চাগুলো একটু বড় হতে শুরু করেছে তখন খুশিতে মনটা ভরে যায়। ধীরে ধীরে বড় হয় বাচ্চাগুলো সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে বড় হয় আমার স্বপ্নগুলো। একপর্যায়ে বাচ্চাগুলো বড় হয়ে ডিম পাড়া শুরু করে। তখন আমার কষ্ট দূর হয়ে যায়।

মাহাবুবুল আলম নাঈম বলেন, প্রথমে বাচ্চাগুলো কিনতে আমার সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমার খামারে ১২০০ কোয়েল পাখি রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮০০ ডিম দেয়। ডিমগুলো স্থানীয় বাজারে ২ টাকা পিস বিক্রি করি। সেই হিসাবে আমার প্রতিদিন আয় ১৬০০ টাকা। মাস শেষে দেখা যায়, কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করে আমার আয় হয় ৫০ হাজার টাকা।

নাঈম আরও বলেন, দিন দিন কোয়েল পাখির ডিম ও মাংসের চাহিদা বাড়ছে। কম পুঁজি নিয়ে কোয়েলের খামার তৈরি করা যায়। কোয়েলের আকার ছোট বলে এদের লালন-পালনের জন্য জায়গাও কম লাগে। একটি মুরগি পালনের স্থানে মোটামুটিভাবে ১০ থেকে ১২টি কোয়েল পাখি পালন করা যায়। এই পাখির রোগব্যাধি নেই বললেই চলে। সাধারণত ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ বয়সেই একটি কোয়েল পাখি ডিম দিতে শুরু করে। এরা ৩৬৫ দিনে ৩২০ ডিম দেয়।

চাকরি হারিয়ে কোয়েল চাষ করছেন ঢাবি ছাত্র
চাকরি হারিয়ে কোয়েল চাষ করছেন ঢাবি ছাত্র

নাঈমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন মাহাবুবুল আলম নাঈম। এরপর একটি ইন্টারন্যাশনাল এনজিওতে প্রজেক্টের আওতায় চাকরি করেন। পরে বেকার হয়ে যান নাঈম। কিছুদিন পর বাজার থেকে শখের বসে দুটি কোয়েল পাখি কিনে লালন-পালন শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মাথায় আসে, অধিকহারে এই পাখি পালন করলে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। সেই থেকেই তার পথ চলা শুরু। এখন তার মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা ফোরকানুল ইসলাম বলেন, নাঈমের কোয়েল চাষ দেখে অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এই পাখির ডিম ও মাংস পুষ্টিকর হওয়ায় এলাকার অনেকে খাওয়ার জন্য বাসায় নিয়ে যান। এছাড়া দামও খুব কম। আমার মতে, কোয়েলের খামার করে বেকার যুবকেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কোয়েলের ডিম ও মাংসে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। কোয়েলের ডিম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাঝে মাঝে নাঈম তার খামারের বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন। আমরা তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি। অল্প পুঁজি ও স্বল্প পরিসরে কোয়েল পালন করা যায়। এর মাংস, ডিম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এ কারণে দিন দিন কোয়েল পালনে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বাংলাদেশ

বাছুরটির দুই মাথা, দুই মুখ

সদ্য জন্ম নেওয়া বাছুর‌টির মাথা দুটি, মুখও দুটি, আর চোখ চার‌টি। জন্মের পর দুই মুখ দি‌য়েই মা গাভির দুধ পান করেছে বাছুরটি। এমন আকৃতির বাছুর‌টি দেখ‌তে আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন গরুর মালিকের বাড়িতে।

শ‌নিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের আরাজি মিলনপুর গ্রা‌মে বাছুরটির জন্ম হয়। গরুর মা‌লিক মিলনপুর বাজারের পশ্চিমে জসিম উদ্দিনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁর বা‌ড়ি‌তে মোট ১৫টি গরু আছে। এর ম‌ধ্যে ১০টি দেশি ও ফ্রি‌জিয়ান জা‌তের পাঁচটি। ফ্রি‌জিয়ান জা‌তের একটি গাভির বাছুর হয়েছে। সেই বাছুরের দুটি মাথা, মুখ দুটি ও চোখ চার‌টি।বিজ্ঞাপন

মোসলেম উদ্দিন আরও বলেন, ‘এপ্রিল মা‌সের শে‌ষে গরু‌টি ডাক দি‌লে ডাক্তার দেখাই। সাধারণত গাভিন হওয়ার ৯ মাস প‌রে বাচ্চা হয়। কিন্তু সাত মা‌সের ম‌ধ্যেই বাচ্চা হ‌য়ে গেল। গরুর এমন বাছুর জন্মাতে পারে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। ফ্রিজিয়ান জাতের বাছুরটির জন্মের পর থেকে কিছুটা দুর্বল। ত‌বে বাছুরটি এখন পর্যন্ত জীবিত আছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বল‌ছেন, এটি বিরল ঘটনা। এ ধর‌নের ঘটনা আগে কখনো দেখেননি তাঁরা। আসল মাথা কোনটি, কোন মুখ দি‌য়ে ঘাস খা‌বে বাছুর‌টি এই নিয়ে চল‌ছে নানা জল্পনাকল্পনা।

এ বিষয়ে জান‌তে চাইলে বীরগঞ্জ উপ‌জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ইউনুস আলী ব‌লেন, ‘এটা একটা জন্মগত সমস্যা; যা কনজেনিটাল অ্যাবনরমালিস (congenital abnormalis) এবং টেরাটোজেনিক ইফেক্টের (teratogenic effect) কারণে হয়ে থাকে। এতে সাত মাসে গাভির গর্ভপাত হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

দেশে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুরগি

লেখক

দেশে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগির। তবে এসবের বাইরে যে অনেক মুরগি আছে তা সচরাচর দেখা মেলে না। এমনই এক প্রজাতির মুরগির নাম হচ্ছে কালো মুরগি। 

বাংলাদেশে এই মুরগি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। আর পোল্ট্রি মালিকেরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে খামারীদের কাছে তা ক্রমে জনপ্রিয়ও হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

কালো মুরগির বৈশিষ্ট্য হলো- মাথার ঝুঁটি থেকে পা পর্যন্ত সব অঙ্গের রং কালো। এমনকি পালক, চামড়া, ঠোঁট, নখ, ঝুঁটি, জিভ, মাংস, হাড়ও কালো। 

এই মুরগির আসল নাম আয়্যাম কেমানি, ইন্দোনেশীয় ভাষায় আয়্যাম মানে মুরগি এবং কেমানি অর্থ পুরোপুরি কালো। ভারতের মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এই মুরগির নাম কাদাকনাথ বা কালোমাসি। ভারতের মধ্য প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে কালো মুরগি।

কালো মুরগি বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা কালো মুরগিকে কেদারনাথ ব্রিড বা কালোমাসি নামে চেনেন। এটি প্রথম দেশে আসে ২০১৬ সালে। 

বাংলাদেশে নরসিংদী জেলার কামরুল ইসলাম মাসুদ এটির উৎপাদন শুরু করেন। কাজের সূত্রে ভারতে গিয়ে কালো মুরগি খেয়ে তিনি অবাক হন। এরপর তিনি দেশে নিয়ে এসে উৎপাদন শুরু করেন।

তিনি বলেন, এর গুনাগুণ সম্পর্কে জানতে পেরে উৎপাদনের কথা ভাবি। শুরুতে ৩০০ মোরগ ও মুরগি নিয়ে আসি। এখন  খামারে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার কালো মুরগির বাচ্চা ফোটে। এই মুরগি বা মোরগের ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে। একটি মুরগি ডিম পাড়ার উপযোগী হতে ছয় মাসের মত সময় লাগে। 

একজোড়া কালো মুরগি ও মোরগের দাম চার হাজার টাকা। ২০১৬ সালে একজোড়া মুরগি ও মোরগের দাম ছিল দশ হাজার টাকা।

কালো মুরগির পুষ্টিগুণ

অনেকে মনে করেন কালো মুরগি নানা ধরনের রোগ সারায়। ঔষধি গুনাগুণের জন্য দেশে এই মুরগির অনেক কদর।

এ বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, দেশি মুরগির চেয়ে এই মুরগির মাংসের স্বাদ বেশি। খাদ্যগুণের বিচারে কালো মুরগির মাংসে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আয়রন রয়েছে। সাধারণ মুরগির তুলনায় এই মুরগির মাংসে কোলেস্টরেলের মাত্রাও অনেক কম থাকে। এই মুরগি রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এই মুরগির মাংসে ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদান অনেক বেশি থাকে। কিন্তু প্রোটিনের মাত্রা অন্য সব মুরগির মাংস থেকে কয়েক গুণ বেশি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মধ্যপ্রদেশে গরু মন্ত্রণালয়

লেখক

বাঘ, সিংহ, হাতি, গন্ডারের জন্য অভয়ারণ্য আছে। কুমির প্রকল্প আছে। কিন্তু গরুর জন্য অভয়ারণ্য? হ্যাঁ! চমকে উঠবেন না। ভারতই এ ক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। আর ভারতকে পথ দেখাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ। 

তাদের উদ্যোগে সে রাজ্যে গরুদের জন্য হতে চলেছে অভয়ারণ্য, কাউ ক্যাবিনেটও! গৌ ক্যাবিনেট দেশে কেন, দেখতে গেলে বিশ্বে প্রথম। মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই আশ্চর্য পদক্ষেপে রীতিমতো সাড়া পড়ে গেছে। 

এই ক্যাবিনেটের প্রথম মিটিংও হয়ে গেছে রোববার। প্রথম বৈঠকে রাজ্য জুড়ে গোশালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানই এই ক্যাবিনেটের নেতৃত্বে। গো-রক্ষাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। দেশ জুড়ে এখন যে গরু-রাজনীতি চলছে তাতে যাতে পিছিয়ে পড়তে না হয় সেজন্য মধ্যপ্রদেশের এমন পরিকল্পনা।

গরু ক্যাবিনেটে মোট ছ’টি মন্ত্রণালয় রাখা হয়েছে। পশুপালন, বন, পঞ্চায়েত, কৃষি, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, গরুর রক্ষণাবেক্ষণ ও কল্যাণের বিষয়টি দেখবে গরু মন্ত্রিসভা। 

কিন্তু গো-কল্যাণের জন্য টাকা কোথায়? গোশালা তৈরি, গরুদের খাবার দেওয়া, গরু অভয়ারণ্যের কাজ করতে কম টাকা তো লাগবে না! সমাধান বের করেছেন শিবরাজই। তিনি জানান, গোমাতার কল্যাণ ও গোশালা তৈরির জন্য সামান্য কর বসানো হতে পারে রাজ্যে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রদেশের মানুষকে গরু-করও দিতে হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

চরে জমে থাকা পানিতে হাঁস পালন

মাদারীপুর: বর্ষা মৌসুম শেষে চর জেগেছে আড়িয়াল খাঁ নদে। আগামী বর্ষার আগ পর্যন্ত জেগে থাকবে এ চর। চরের একপাশে কিছু জায়গাজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

শিবচরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের আড়িয়াল খাঁ নদের হাজী শরিয়তউল্লাহ সেতুর উত্তর প্রান্তে নদীর জেগে ওঠা চরের একপাশে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে সেখানে হাঁস পালন করছেন বিপ্লব নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

প্রায় তিন মাস আগে গড়ে ওঠা খামারটিতে হাঁস রয়েছে এক হাজারের বেশি।

ইউটিউবে হাঁসের খামার দেখে এরকম খোলা স্থানে নদীর জলাবদ্ধতায় হাঁসের খামার তৈরি করেছেন তিনি।

সরেজমিনে হাঁসের খামার ঘুরে দেখা গেছে, আড়িয়াল খাঁ সেতুর উত্তর-পূর্ব পাড়ে চর জেগে পানি শুকিয়ে গেলেও নদীর ঠিক পাড়েই কিছু গভীর অংশে পানি আটকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ওই অংশটুকু বেশ গভীর থাকায় শুকনো মৌসুমেও শুকায় না পানি। মূল নদীর সঙ্গে এর কোনো সংযোগও নেই। এরকম একটি স্থানের চারপাশে হালকা নীল রঙের জাল দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে পালন করা হচ্ছে হাঁস। জলাবদ্ধ ওই জায়গার মধ্যেই সাঁতরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য হাঁস। তার পাশেই চরের উপর নিচু করে তৈরি করা হয়েছে আলাদা তিনটি ঘর। দু’টিতে রাতে হাঁস রাখা হয়। অন্যটিতে হাঁস দেখাশোনা করার লোক থাকে।

১০ দিন বয়সী ‘খাঁকি ক্যাম্বল’ জাতের প্রায় দেড় হাজার হাঁস নিয়ে খামারটি শুরু করেন বিপ্লব। বর্তমানে হাঁসের বয়স প্রায় তিন মাস। এই হাঁসের বয়স সাড়ে তিন মাস হলে ডিম পাড়া শুরু করে, জানান তিনি।

আলাপকালে হাঁসের খামারি বিপ্লব জানান, নদীর স্থানটি খোলামেলা। পর্যাপ্ত রোদ, বাতাস আছে। আর জলাবদ্ধ অংশে পানিও রয়েছে পর্যাপ্ত। এরকম খোলামেলা পরিবেশে বেশ দ্রুত বেড়ে উঠছে হাঁসগুলো। হাঁস পালনের জন্য এরকম স্থান উপযুক্ত বলে জানান তিনি।

‘খাঁকি ক্যাম্বল’ প্রজাতির এ হাঁস পুকুর, জলাশয়, ডোবা-নালা যেকোনো স্থানেই পালনের উপযুক্ত। তবে নদীর খোলা চর হলে পরিবেশ ভালো থাকে। প্রাকৃতিক খাবারও পানিতে থাকে। এ প্রজাতির হাঁস সাড়ে তিন মাস বয়স থেকে একটানা আড়াই বছরের বেশি সময় পর্যন্ত ডিম দেয়। ঠিকমত যত্ন নিলে রোগ-বালাইও কম হয় এ হাঁসের।

খামারি বিপ্লব বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়ে নদীর চরে খামারটি তৈরি করেছি। ৪৫ টাকা দরে হাঁসের বাচ্চা কিনে আনি। হাঁসের বয়স এখন তিন মাসের মতো। সাড়ে তিন থেকে চারমাসেই ডিম পাড়া শুরু করবে। স্থানটি খোলামেলা হওয়ায় হাঁস পালনের জন্য আদর্শ স্থান বলে মনে হয়েছে। এজন্যই এখানে খামারটি তৈরি করেছি।

তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানিতেই থাকে হাঁস। উপরে উঠে হাঁটাহাঁটি করে। রোদ পোহায়। রাতে হাঁস ঘরে ঢুকে পড়ে। খাবার হিসেবে হাঁসকে সকাল ও বিকেলে ধান দেওয়া হয়। দুপুরে কুড়া-ভুষি একত্র করে মিশিয়ে দেই।

বিপ্লব বলেন, আগামী বর্ষায় যদি চর ডুবে যায় সেসময় হাঁসগুলো বাড়িতে নিয়ে রাখবো। শুকনো মৌসুমে এখানেই থাকবে। শিয়াল বা হিংস্র প্রাণী থেকে রক্ষার জন্য নীল রংয়ের জাল দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

হাঁসের খামারের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার আশা ব্যক্ত করে বিপ্লব হোসেন বলেন, কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইউটিউব দেখে আগ্রহী হয়ে হাঁসের খামার করেছি। হাঁসগুলো বেশ সুস্থ রয়েছে। তেমন কোনো সমস্যা এখনো হয়নি। আমি মনে করি হাঁস পালন করেও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব, কারণ এ হাঁস দীর্ঘদিন পর্যন্ত একটানা ডিম দেয়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সাকিবের কাঁকড়া খামারে রপ্তানি ছাড়িয়েছে ৪শ মে. টন

সাতক্ষীরা: আইলা দুর্গত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা মাথায় রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালীতে ৫০ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে কাঁকড়া উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খামার। খামারটিতে ৩০ হাজার বাক্সে কাঁকড়া মোটাতাজা শুরু করলেও এখন তা চার লাখে উন্নীত হয়েছে। কাজ করছে দুইশ শ্রমিক। গত দুই বছরে এ খামার থেকে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, ব্রিটেন ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪শ মেট্রিক টন কাঁকড়া।

চার বছর আগে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালীতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ‘পোস্টার বয়’ সাকিব আল হাসান গড়ে তোলেন ‘সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’ নামে কাঁকড়ার খামার। যা বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখছে।

চার বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখনো পূর্ণতা পায়নি খামারটির। চলছে নির্মাণকাজ। আর তা শেষ হলেই আগামী বছরের যেকোন সময় সাকিব আল হাসান নিজে উপস্থিত হয়ে খামারটির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

‘সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’র চারজন উদ্যোক্তার মধ্যে অন্যতম জাতীয় দলের আরেক সাবেক ক্রিকেটার সগীর হোসেন পাভেল।

উপকূলে খামারটি গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, সাকিব নিজেই আমেরিকাতে দেখেছে সফট সেল কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা। তাই একবার খুলনাতে খেলতে এলে ওর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তখন ও আইলা দুর্গত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা মাথায় রেখে শ্যামনগরেই খামারটি গড়ে তোলার পক্ষে মত দেয়। সে অনুযায়ীই খামারটি গড়ে তোলা হয়।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবন থেকে আহরিত ও হ্যাচারি থেকে সংগ্রহকরা রেণু খামারে এনে মোটাতাজা করা হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।  

কাঁকড়া রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাকিব আল হাসান বড় ভূমিকা পালন করেন। কারণ রপ্তানির জন্য ভালো বায়ার পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

সম্প্রতি বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ওপর আইসিসি দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে দুই বছরের মধ্যে এক বছর পুরোপুরি নিষিদ্ধ, আর বাকি ১ এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ খেলতে পারবেন কিন্তু আবারও অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে।

এ নিষেধাজ্ঞার পরই সাকিব আল হাসান এখন কি করবেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আর ঠিক তখনই প্রকাশ্যে আসে সাকিব আল হাসান প্রতিষ্ঠিত ‘সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com