আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

কোরবানির পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে নেকি জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ান

পবিত্র কোরবানির শিক্ষা ত্যাগের শিক্ষা। কোরবানির শিক্ষা আল্লাহর হুকুমের সামনে বান্দার নিজের সোপর্দ করার শিক্ষা। লোক দেখানো কোরবানি বর্জন করে ইখলাস ওয়ালা কোরবানি করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন ও কোরবানি করুন। ( সুরা কাউছার, আয়াত নং ৩)। সুতরাং সক্ষমতা ও সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যদি কেউ কোরবানি না করে তবে সে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। বিভিন্ন মসজিদে আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমাম ও খতিবরা এসব কথা বলেন। জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পবিত্র কোরবানির গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলত সর্ম্পকে বিভিন্ন মসজিদের পেশ ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নগরীর মসজিদগুলোর জুমার নামাজে উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষীত হয়। করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য মসজিদগুলোতে বিষেশ দোয়া করা হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি এহেসানুল হক জিলানী আজ জুমার বয়ানে বলেন, কোরবানি হলো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য মাধ্যম। কোরবানির শুরু হয়েছিল হযরত আদম আলাইহিস সালামের দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের মধ্যে সংঘটিত কোরবানির মাধ্যমে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে রাসুল! আপনি তাদেরকে আদমের পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হয়েছিল এবং অন্যজনের কোরবানি কবুল হয় নাই। সে (কাবিল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কোরবানি কবুল করেন। সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হস্ত প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার প্রতি হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি” কোরবানির ইতিহাস হযরত আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে শুরু হলেও মুসলিম উম্মাহর প্রচলিত কোরবানি মূলতঃ হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পরীক্ষায় হযরত ইসমাইল আলাইহি সালামকে কোরবানির স্মৃতিময় ঘটনার মাধ্যমেই সূচনা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন”যখন ইসমাইল আলাইহিস সালাম চলাফেরা করার বয়সে উপণীত হলেন; তখন হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানির জন্য স্বপ্নে আদিষ্ট হন। (আর নবীদের স্বপ্ন কোনো কল্পনা প্রসূত ঘটনা নয় বরং তা আল্লাহ প্রদত্ত ওহী) হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পুত্র ইসমাইলকে বললেন, ‘হে ছেলে ! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবেহ করছি। এ বিষয়ে তোমার অভিমত কি? সে (হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম) বললেন, পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তা পালন করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন”। পেশ ইমাম বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোরবানি তোমাদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নত। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন হে আল্লাহর রাসুল এই কোরবানি দ্বারা আমাদের কি লাভ ? তিনি কোরবানির ফযিলত সম্পর্কে বললেন,কোরবানির পশুর প্রত্যেকটা চুলের বিনিময়ে একটি করে নেকি দান করবেন। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন পশমের বিনিময়েও কি নেকি দিবেন? তিনি বললেন, প্রত্যেক টি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকি দান করবেন”। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে লোক দেখানো কোরবানি বর্জন করে ইখলাছ ওয়ালা কোরবানি করার তৌফিক দান করুন। আমীন ।

ঢাকার ডেমরার ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা জামে মসজিদে জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কোরবানির শিক্ষা ইখলাসের শিক্ষা। শুধু ইখলাসের কারণে হযরত আদম আলাইহিস সালামের পুত্র হাবিলের কোরবানি কবুল হয়েছিল। তার অপর পুত্র কাবিলের ইখলাস না থাকার কারণে তার কোরবানি কবুল হয়নি। কোরবানির শিক্ষা ত্যাগের শিক্ষা। কোরবানির শিক্ষা আল্লারহ হুকুমের সামনে বান্দার নিজের সোপর্দ করার শিক্ষা। প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কোরবানরি শিক্ষা তাকওয়ার শিক্ষা। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আল্লাহর দরবারে না উহার (কোরবানির) গোশত পৌঁছে, না উহার রক্ত পৌঁছে; বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে।

হযরত আয়শা রাদি.বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বনী আদম কোরবানির দিন এমন কোন আমল করে না যে আমলটি কোরবানি করার চেয়েও আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয়। কিয়ামতের দিন ঐ পশু তার শিং, খুর ও পশমসহ উঠবে। আর কোরবানির পশুর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ দরবারে তা কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা এর দ্বারা আত্মতৃপ্তি লাভ কর।

তিনি বলেন, কোরবানি করা ওয়াজিব। কারণ হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্বেও কোরবানি করবে না, সে যেন আমার ঈদগাহের নিকটবর্তিও না হয়। (আহমাদ, ইবনে মাজা)। ঢাকার বাংলা মটরস্থ বাইতুল মোবারক জামে মসজিদের অনারারী খতিব অধ্যাপক ড. মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ আজ জুমার বয়ানে বলেন, আরবি ‘কোরবান’ ও ‘কোরবাতুন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে নৈকট্য লাভ করা, নেক আমল দ্বারা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। বাংলা ভাষায়, ‘কোরবানি’ মানে ত্যাগ, উৎসর্গ করা, পশু কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকল্পে কোরবানির দিনে যে পশু জবাই করা হয়, তারই নাম ‘কোরবানি’। একই কারণে কোরবানির দিনকে ‘ইয়াওমুল-আদ্বহা’ ও কোরবানির ঈদকে ঈদুল-আদ্বহা বলা হয়।
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আদম সন্তান কোরবানির দিন যত নেক আমল করে তার মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে (পশু কোরবানির মাধ্যমে) রক্ত প্রবাহিত করা। কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু (জীবিত হয়ে) তার শিং, খুর এবং পশম সহকারে উঠবে। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে তা কবুল হয়ে যায়। বিখ্যাত সাহাবি হযরত জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) বলেন, একদিন সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই কোরবানি কি? হুজুর (সা.) উত্তর দিলেন, তোমাদের পিতা হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত (নিয়ম)। তারা পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, হে রাসুল! এতে আমাদের জন্য কি রয়েছে? হুজুর (সা.) বললেন, কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকি রয়েছে। তারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, হে রাসুল! পশমওয়ালা পশুদের (অর্থাৎ যেসব পশুর পশম বেশি হয় যেমন ভেড়া ইত্যাদির) পরিবর্তে কি সওয়াব পাওয়া যাবে? হুজুর (সা.) বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকি রয়েছে (চাই পশম যত বেশিই হোক না কেন)। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ)। প্রিয়নবী (সা.) বলেন, হে লোক সকল! জেনে রাখ তোমাদের প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) পরিবারের পক্ষে প্রতি বছরই কোরবানি করা আবশ্যক। (আবু দাউদ, নাসায়ী)

আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছেই ঈদের খুশী পৌঁছে যায়। পথশিশু, দিনমজুর, গরীব, দুঃখী, অসহায় কেউ যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। এ ব্যপারে আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন কেউ যদি অভাবে থাকে, তার অভাব পূরণের আমাদের চেষ্টা করতে হবে। ঈদের দিনে সবাই যাতে আনন্দচিত্তে এ দিনটি উদযাপন করতে পারে সে ব্যপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন, যাবতীয় বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

ঢাকা উত্তরা ৩নং সেক্টরের মসজিদ আল-মাগফিরাহ এর খতিব মুফতি ওয়াহিদুল আলম জুমার খুৎবায় বলেন, মহিমান্বিত জিলহজ মাসের আসন্ন ঈদুল আযহার কোরবানি মুলত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর কোরবানির অনুসরণ। আজ হতে প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে ইরাকের উর নামক স্থানে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা, পরিবার ও রাষ্ট্র শক্তির প্রচন্ড বিরোধীতা ও প্রতিরোধের মুখে তিনি তাওহীদ প্রচারে অনড় থাকেন। একপর্যায় তিনি ফিলিস্তিনে হিজরত করেন। ৮৬ বছর বয়সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হযরত হাজেরার গর্ভে প্রথম পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তায়ালা পরীক্ষা স্বরুপ বৃদ্ধ বয়সে ১৩ বছর বয়স্ক অতি প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করার হুকুম দেন। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং শিশু ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও আল্লাহর হুকুম পুরা করতে শতভাগ রাজি হয়ে যান, যা সুরা সফফাতের ৮৪ নং আয়াত থেকে ১০৭ আয়াত পর্যন্ত বর্নিত হয়েছে।

সুরা হজ্জের ৩৭নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন কোরবানিকৃত পশুগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহ তায়ালার নিকট পৌছে না বরং তোমাদের তাক্বওয়া তাঁর নিকট পৌছে। সুতরাং কোরবানি শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করার নিয়তে করতে হবে। সামাজিকতা রক্ষা বা মানুষ দেখান কিংবা গোশত খাওয়ার নিয়ত হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। কোরবানির গোশত এক ভাগ গরীবদের এক ভাগ আত্মীয় স্বজনদের আর এবং ভাগ নিজেদের জন্য রাখলে ভালো হয়।
মিরপুরের বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, যে কোনো আমল আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য শর্ত হল রিয়া বা লৌকিকতামুক্ত হতে হবে। কোরআন সুন্নাহর নির্দেশিত পন্থায় হতে হবে। লোক দেখানো বা দুনিয়াবী কোন স্বার্থের জন্য হতে পারবে না। কেননা যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করবে, সে ছোট শিরক করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে। তার সব আমল বরবাদ হয়ে যাবে। চাই সেটা ছোট আমল হোক বা বড় আমল। যেমন, মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ, রোজা, হজ, কোরবানি ও দান করা প্রভৃতি।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে বলেন, নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহ তায়ালাকে ধোঁকা দেয় অর্থাৎ তার সাথে প্রতারণা করে। অথচ (এর মাধ্যমে) তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। আর যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তখন আলস্যভরে দাঁড়ায়, মানুষকে দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহ তায়ালাকে খুব কমই স্মরণ করে। সুরা আন নিসা, আয়াত ১৪২। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য কোন কাজ করে আল্লাহ তায়ালা তার পরিবর্তে কেয়ামতের দিন তাকে শুনিয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তায়ালা তার পরিবর্তে কেয়ামতের দিন তাকে দেখিয়ে দিবেন (অর্থাৎ ে তার আমলের কোন বিনিময় পাবে না বরং এটা তার শাস্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে)। – বুখারি, হাদিস নং ৬৪৯৯। সুতরাং আমাদের সব আমল লৌকিকতামুক্ত হওয়া চাই। আসছে কোরবানিকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। কে কার চেয়ে সুন্দর গরু কিনতে পারে, কার গরু মহল্লার মধ্যে সবচেয়ে দামি। অনেকে আবার ক্রয়কৃত গরুকে সাজিয়ে মহল্লায় চক্কর দেয়। যাতে এলাকাবাসী জানে যে, তার গরু এত টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। কেউবা নতুন জামাইয়ের বাড়িতে আস্ত রানের গোশত পাঠাতে কোরবানি দেন। এগুলো অনুচিত। এর মাধ্যমে কোরবানির মতো সওয়াবপূর্ণ ইবাদতকে আমরা নষ্ট করে ফেলি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার সন্তুষ্টি অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহীম কাসেমী আজ জুমার খুৎবা পুর্ব বয়ানে বলেন, মুসলিম মিল্লাতের নিকট পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কোরবানিী ঈদ সমাগত। পশু জবাহের মাধ্যমে আল্লাহ নৈকট্য অর্জনের অপর নাম কোরবানি। ইসলামী শরীয়তে ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত সময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট পশু জবাহ করাকে কোরবানি বলা হয়। যার নিকট কোরবানির দিন সমূহে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য (প্রায় ৬১৩ গ্রাম) অথবা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন (প্রায় ৮৮ গ্রাম) কিংবা তৎ সমমূল্যের টাকা বা সম্পদ থাকে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব। (ফাতাওয়ায়ে শামী, খন্ড নং ৫, পৃষ্ঠা নং ১৯৮ এর বর্ননা মতে যার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব তার উপর কোরবানি ওয়াজিব) । কোরবানি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত একটি গুরুত্বপূর্ন ইবাদাত। সক্ষমতা ও সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যদি কেউ কোরবানি না করে তবে সে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত হবে।

খতিব আরও বলেন, শুধু পশু কোরবানিই নয় বরং কোরবানির থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ত্যাগ বিসর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ইখলাসের সাথে আঞ্জাম দিতে হবে। আল্লাহ সকলকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

ইসলাম

শয়তানের ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার ছোট্ট আমল

শয়তানের সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ হলো মানুষের মাঝে ফেতনা সৃষ্টি করা। কুরআনের ভাষায় ফেতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। আর এ কাজেই শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। তাহলে শয়তানের বেশি খুশি হওয়া কাজ ‘ফেতনা’ থেকে বাঁচার উপায় কী?

ছোট্ট একটি আমল তাউজ। ছোট্ট এ আমলেই শয়তানের সব বড় বড় ক্ষতি ও ধোঁকা থেকে মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাহলো-
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম’
অর্থ : ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের ৯টি সুরার ৯ স্থানে ঘোষণা করেছেন- ‘আর শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে সতর্ক করতে শয়তানের সবচেয়ে খুশি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন হাদিসের বর্ণনায়। যাতে মানুষ শয়তানের এ জঘন্য আক্রমণ ও ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। তাহলো-

হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান পানির ওপর তার সিংহাসন স্থাপন করে, তারপর (সারা দুনিয়াব্যাপী) তার বাহিনী পাঠিয়ে দেয়। আর (ওই শয়তান) সবচেয়ে বেশি নৈকট্যপ্রাপ্ত, যে (মানুষের মাঝে) সবচেয়ে বেশি ফেতনা সৃষ্টি করে। শয়তান সিংহাসনে বসে সবার ঘটানো ফেতনার বর্ণনা শোনে।

একজন এসে বলে আমি অমুক কাজ করেছি, শয়তান বলে তুমি তেমন কোনো কাজ করনি। এভাবে শয়তান তার পাঠানো অন্যদের (শয়তানের) মন্দ কাজের বিবরণ শুনতে থাকে।
অতঃপর একজন এসে বলে- ‘আমি অমুকের সঙ্গে ধোঁকার আচরণ করেছি, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছি। এ (ফেতনার) কথা শুনে শয়তান তাকে তার কাছাকাছি (বুকে) টেনে নেয়। আর বলে তুমিই বড় কাজ করেছ। হাদিস বর্ণনাকারী আমাশ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, অতপর শয়তান তাকে তার বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নেয়।’ (মুসলিম)

শয়তানের সব ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার উপায়
শয়তানের সব ফেতনা ও ধোঁকা থেকে বাঁচার কার্যকরী আমল ও দোয়া রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শয়তানের সব ফেতনা থেকে ‍মুক্ত থাকতে ছোট ছোট আমলের কথা বলেছেন। তাহলো-
> তাউজ
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম’
অর্থ : ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’
নিয়ম : ফেতনা বা অন্যায়ের সঙ্কল্প মনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাউজ (আউজুবিল্লাহ…) পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শয়তানের ফেতনা ও ধোঁকা থেকে আশ্রয় চাওয়া।

> সবসময় ইসতেগফার পড়া-
১. أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন।’ (মিশকাত)
২.- أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করতেন।’ (বুখারি)

৩. رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

৪. أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’
অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

নামাজের শেষ বৈঠকে নিয়মিত এ দোয়া পড়া-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদেরকে এই দোয়াটি এভাবে শেখাতেন, যেভাবে কুরআনের সুরা শেখাতেন। তিনি বলতেন-
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّم- وَأعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ- وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ – وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَ فِتْنَةِ الْمَمَاتِ – اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَ الْمَغْرَم
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি ঝাহান্নাম। ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্ববর। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাঝ্‌ঝাল। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল্ মাছামি ওয়া মিনাল মাগরাম।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আজাব থেকে আশ্রয় চাই, কবরের আজাব হতে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই দাজ্জালের ফিতনার পরীক্ষা থেকে। তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে এবং তোমার কাছে আশ্রয় চাই পাপ ও ঋণের বোঝা থেকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

বিশেষ করে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের বিখ্যাত ইসতেগফার পড়া। যা কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তুলে ধরেছেন-
رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
অর্থ : হে আমার রব! নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’

মনে রাখা জরুরি
দুনিয়া হলো আখেরাতের কর্মক্ষেত্র। শয়তানের প্রতারণা ও ধোঁকা অতিক্রম করে কে বেশি সফল? নেক আমল করায় কে উত্তম?- তা জানার জন্য আল্লাহ তাআলা মানুষকে দুনিয়ার এ পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন। আর মানুষের পেছনে পেছনে শয়তানও এ মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, সে মানুষ সর্বনাশ করেই ছাড়বে।

মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি এতই দয়াশীল ও ক্ষমাকারী যে, বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে কিংবা তাওবাহ করলেই তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহর দরবারে উত্তম আমলকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন। কুরআনের ঘোষণায় তা প্রমাণিত-
‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন; যাতে তোমাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, উত্তম আমল বা কর্ম সম্পাদনে কে উত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক : আয়াত ২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শয়তানের যাবতীয় ফেতনা থেকে হেফাজত করুন। হাদিসে বর্ণিত ঘটনা স্মরণ করে অন্যায় ও ফেতনার সম্মুখীন হলে বেশি তাউজ পড়ে শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার ফজিলত

নামাজসহ অনেক ইবাদত-বন্দেগির জন্য অজু করা শর্ত। অজু ছাড়া অনেক ইবাদত করা মারাত্মক গোনাহ। বিশেষ করে নামাজের জন্য ৪টি ফরজ নির্দেশনা মেনে অজু করতে হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার কথা বলেছেন। অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা কী? এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনাই বা কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ নামাজকি অজু করার সঙ্গে সঙ্গেই পড়তে হবে না বিলম্ব হলেও চলবে? অজুর পর এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে যা জানা যায়; তাহলো-

১. হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করে দেওয়া গোলাম হজরত হুমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন যে, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু (অজুর জন্য) পানির পাত্র আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি দুই কব্জির ওপর তিনবার পানি ঢেলে উভয়টি (হাত কব্জি পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রের ভেতর প্রবেশ করিয়ে কুলি ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিলেন। দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। এরপর উভয় পা তিনবার ধুয়ে নিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

 مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যাক্তি আমার মত অজু করে এমনভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে, সে যাতে মনে মনে ভিন্ন কোনও চিন্তা-ভাবনা না করবে; তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের সময় বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন-

‏ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عِنْدَكَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِي الْجَنَّةِ

‘হে বেলাল! তুমি আমাকে বল, ইসলামের পর তুমি এমন কোনো আমল করেছ; যার উপকারের ব্যাপারে তুমি বেশি আশাবাদী? কেননা আজ রাতে (মেরাজের রাতে) আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-

مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِي الإِسْلاَمِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّي لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّيَ ‏

ইসলামের মধ্যে এর চেয়ে বেশি লাভের আশা আমি অন্য কোনো আমলে করতে পারি না যেআমি দিন-রাত যখনই পূর্ণ অজু করিতখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেনততক্ষণ ওই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করে থাকি।’ (মুসলিম)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, অজুর পর ২ রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। তবে হাদিস বিশারদ ও ইসলামিক স্কলারগণ এ ২ রাকাআত নামাজ পড়াকে মোস্তাহাব বলেছেন।

১. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাহিয়্যাতুল অজু সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ্য করার পর বলেন, ‘এই হাদিসে অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব হওয়ার দলিল রয়েছে।’

২. ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস থাকায় প্রমাণিত হয়, অজুর পরপরই দুই রাকাত নামাজ পড়া মোস্তাহাব।’ (আল মাজমু শারহিল মুহাযযাব)

৩. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ عَقِبَ الْوُضُوءِ وَلَوْ كَانَ وَقْتَ النَّهْيِ ، وَقَالَهُ الشَّافِعِيَّةُ ” انتهى . (الفتاوى الكبرى)

‘অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব যদিও তা নিষিদ্ধ সময়ে হয়। শাফেয়ীগণও এমনটি বলেছেন।’ (আল ফাতাওয়া আল কুবরা)

৪. আল্লামা জাকারিয়া আল আনসারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করবে তার জন্য অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব; তা যে কোনও সময় হোক না কেন।’ (আসনাল মাতালিব)

৫. হজরত তানাজি শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘এই হাদিস থেকে অজু শেষ করার পর এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অমনোযোগী (অন্য কাজে ব্যস্ত) হওয়ার আগে অজুর দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’ (নেহায়তুয যায়ন)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, অজু করার পর মসজিদে প্রবেশ করে (দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদের) দুই রাকাআত নামাজের নিয়ত করলে আল্লাহ তাআলা উভয় নামাজের সাওয়াব দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অজু করার পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কোনো কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হলে যে দোয়া পড়বেন

মানুষ এখন মহামারি করোনার কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। একদিকে মহামারি করোনার ভয়াল থাবা অন্যদিকে মানুষ জীবন-জীবিকার টানে না বসে থাকতে পারছে, না কাজে যেতে পারছে। মানুষের জন্য সব দিক বিবেচনায় এটি এক কঠিন পরিস্থিতি।

হ্যাঁ, মানুষের এ রকম কঠিন বিপদের মুহূর্ত কিংবা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ই আসতে পারে। কঠিন পরিস্থিতি যে শুধু ক্ষতিকর বিপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটি নয়; বরং দুনিয়ার রোগ-ব্যাধি, মহামারি, ঝড়-তুফান, বন্যা-বজ্রপাত, চাকরি-বাকরি, পড়া-শোনা, পরীক্ষা-ইন্টারভিউ, ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ কিংবা দেশ-বিদেশে যে কোনো বিষয়েই হতে পারে।

তাই যদি কেউ যে কোনো বিষয়ে কঠিন পরিস্থিতি বা বিপদে পড়ে যায়; তবে তার উচিত হাদিসের অনুসরণে এ দোয়াটি বেশি পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। যা পড়তেন স্বয়ং বিশ্বনবি। কারণ তিনি নিজেও এ রকম অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
اَللَّهُمَّ لَا سَهْلَ اِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهُلَا وَ أَنْتَ تَجْعَلُ الْحُزْنَ اِذَا شِئْتَ سَهْلَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা ঝাআলতাহু সাহলা ওয়া আংতা তাঝআলুল হাযনা ইজা শিতা সাহলা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! কোনো কিছুই সহজ নয়; তুমি যেটিকে সহজ করে দাও; সেটি ছাড়া। তুমি যখন চাও, পেরেশানিকে সহজ করে দাও।’ (ইবনু হিব্বান)

সুতরাং পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার বিকল্প নেই। মানুষ যত বড় ক্ষমতার অধিকারীই হোক না কেন; মহান আল্লাহর ক্ষমতার কাছে কিছুই নয়; আবার আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিকল্প কোনো ক্ষমতা বা সাহায্যও নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব কঠিন পরিস্থিতি ও বিষয়ে তাঁর কাছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো ভাষায় সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যে আমল-ইসতেগফারে আসবে না অভাব

ইসতেগফার বা ক্ষমা জীবিকা অর্জনের অন্যতম উপায়। এটি উত্তম রিজিক লাভের দুর্দান্ত কার্যকরী আমল হিসেবেও বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে জীবিকা বা রিজিক লাভে ইসতেগফারের বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন-
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّاراً*يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَاراً*وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَاراً
অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

হাদিসে পাকে এসেছে, ‘অভাব মানুষকে কখনও কখনও কুফরের কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ অনেক সময় এ অভাব মানুষের ঈমান-আকিদাকেও দুর্বল করে দেয়। শুধু ক্ষমা প্রার্থনাই নয় বরং উত্তম রিজিক দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা ফর্মুলা ও আমল বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাহলো-
১. বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতেগফার করা
তাওবাহ-ইসতেগফারে বান্দার অভাব মোচন হয়। গোনাহ মাফ হয়। সন্তান-সন্তুতির অভাব যেমন থাকে না তেমিন রিজিকেও আসে পরিপূর্ণ বরকত। অভাবমুক্ত থাকতে কুরআনুল কারিমে বেশি বেশি ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করার এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আল্লাহ তাআলা মানুষকে উত্তম রিজিকসহ অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য করবেন বলেও জানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘অতপর বলেছি- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

> أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

> أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

> رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

> أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’
অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

> رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
অর্থ : হে আমার রব! নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’

২. যথা সময়ে জাকাত আদায়
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে জাকাত ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তাই অভাবমুক্ত সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে যথা সময়ে নিজ উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় তথা নির্ভরযোগ্য জাকাত ফাণ্ডে জাকাতের টাকা জমা দেওয়া। জাকাতের অর্থ সুষম বণ্টনের জন্য কারা এ অর্থ পাবে তার সুস্পষ্ট বর্ণনাও এসেছে কুরআনে।
যাদের সম্পদ অর্জনের কোনো যোগ্যতা বা সামর্থ্য নেই। জীবন পরিচালনায় উত্তরাধিকার সূত্রেও কোনো সম্পদ পায়নি। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য ধনী-সম্পদশালীর অর্থে অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। এসব লোক সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
’জাকাত হল কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন (নব মুসলিম) তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৬০)

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত বিধান গরিবের অধিকার জাকাত আদায়ে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা যারা জাকাত আদায় করবে না তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,(কিছু কথপোকথনের পর) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন! যে ব্যক্তি এ ধরনের উট অথবা গরু রেখে মৃত্যুবরণ করল, যার জাকাত সে দেয়নি, কেয়ামতের দিন সেগুলো পূর্বাবস্থা থেকে বেশি মোটাতাজা হয়ে তার কাছে আসবে এবং নিজেদের পায়ের ক্ষুরা দ্বারা তাকে দলিত (আঘাত) করবে এবং শিং দ্বারা গুঁতা মারবে। (এভাবে) শেষের জন্তুটি চলে যাওয়ার পর আবার প্রথম জন্তুটি ফিরে আসবে। মানুষের সম্পূর্ণ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তির এ ধারা চলতে থাকবে।’ (তিরমিজি)

আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। আর সে কারণেই ইসলামি খেলাফতের সফল খলিফা দ্বিতীয় ওমর খ্যাত হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের সময়ে এসে জাকাতের অর্থ গ্রহণের জন্য কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৩. সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়াও অন্যতম একটি। মদিনায় হিজরতকালীন সময়ে মহাজিরদের আর্থিক সংকটে আনসারদের সহযোগিতাই এর অন্যতম উদাহরণ। সর্ব কালের সর্ব যুগের জন্য এ সহযোগিতার উদ্যোগ প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হাদিসে সে সময়ের একটি ঘটনা এভাবে উঠে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার আনসার সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাদের ও আমাদের ভাই (মুহাজির)-দের মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ’না’। তখন তাঁরা (মুহাজিরদের) বললেন, আপনারা আমাদের (আনসারদের) বাগানে (আমাদের সঙ্গে) কাজ করুন, আমরা আপনাদের (মুহাজিরদের) ফল-ফলাদির অংশীদার করব। তাঁরা বলল, আমরা শুনলাম এবং মানলাম।’ (বুখারি)

৪. আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা
অভাবমুক্ত সমাজ গঠনে একে অন্যের প্রতি সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা। আত্মীয়তার বন্ধ ঠিক রাখা কুরআনুল কারিমের নির্দেশও বটে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যক্তিদের রিজিক বেড়ে যাবে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, সে যেন আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করে।’ (বুখারি)

৫. দোয়ার আমল
অভাব থেকে মুক্তি ও উত্তম রিজিকের জন্য বেশি বেশি দোয়া করার বিকল্প নেই। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে অভাবমুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিশেষ আবেদন শিখিয়েছেন। যাতে তাঁর উম্মত অভাবের কারণে কুফরির দিকে চলে না যায়। হাদিসে এসেছে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফিকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনা আজিবল ক্বাবরি লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (আবু দাউদ)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার নিকট কুফরী ও দরিদ্রতা হতে আশ্রয় চাইছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আজাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই।’

অভাবমুক্ত থাকতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকনির্দেশনা মুমিন মুসলমানসহ সবার জন্য খুবই জরুরি। আর তা পালনে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র হবে নিঃসন্দেহে অভাবমুক্ত।

আল্লাহ তাআলা কুরআন-সুন্নাহর এসব দিকনির্দেশনা মেনে অভাবমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের তাওফিক দিন। অভাবের কারণে মুমিন মুসলমানকে কুফরির দিকে ধাবিত হওয়া থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বিদেশিদের ওমরাহ শুরু হলেও নিষেধাজ্ঞায় থাকবে ৯ দেশ

সৌদি আরব আগামী ১ মুহাররম (১০ আগস্ট) থেকে বিদেশিদের জন্য ওমরাহ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ৯টি দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এবারও ৯ দেশের উপর ওমরাহ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

আল আরাবিয়া সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ সংস্থা ও ঠিকাদারকে আগামী মহররম মাসের ১ তারিখ থেকে বিদেশিদের ওমরাহ পালনের সুবিধার্থে নিজেদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে যারা মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়া সম্পন্ন করেছে তারাই কেবল ওমরাহ করার অনুমতি পাবে।

তবে এবারও ওমরাহ করতে বিশ্বের ৯টি দেশের ওপর থাকছে নিষেধাজ্ঞা। ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং লেবানন থেকে কোনো ওমরাহ পালনকারী ওমরাহ পালনে যেতে পারবে না।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমরাহ করার সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়ম-কানুন নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য সফলভাবে ১৪৪২ হিজরির পবিত্র হজ সম্পন্ন হওয়ার পর যথারীতি গত ২৫ জুলাই মোতাবেক ১৫ জিলহজ (সৌদিতে) রোববার শুরু হয়েছে পবিত্র ওমরাহ। এ ধারাবাহিকতায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১ মহররম ১৪৪৩ হিজরি মোতাবেক সম্ভাব্য ১০ আগস্ট থেকে মুসলিমরা করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ ও শর্তসাপেক্ষে ওমরাহ পালন করতে পারবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com