আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

কোটি ডলার ব্যয়ে প্রচারণা, নতুন জাতের এই আপেল কি বিশ্ব বাজার দখল নিতে পারে?

কোটি ডলার ব্যয়ে প্রচারণা, নতুন জাতের এই আপেল কি বিশ্ব বাজার দখল নিতে পারে?

আপনি যদি শোনেন যে কোটি কোটি ডলারের প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে একটি নতুন ধরণের অ্যাপল বাজারে আসছে, আপনি ভাবতে পারেন যে আপনি হয়ত কানে ঠিকঠাক শোনেননি।

এবং পণ্যটি আসলে অ্যাপল আইফোন কিনা, এমন প্রশ্নও আসতে পারে।

তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রে যে নতুন ধরণের আপেল বাজারে এসেছে সেগুলো পাড়ার মুদি দোকান থেকে শুরু করে বিদেশে নতুন গ্লোবাল বেস্টসেলার বা ‘কসমিক ক্রিস্প’ হয়ে উঠবে বলে আশা আপেল সমর্থকদের।

“তারকারা এই আপেলের জন্য লাইন ধরেছে,” মার্কিন ফল সংস্থা প্রোপ্রাইটারি ভ্যারাইটি ম্যানেজমেন্ট এর বিপণন পরিচালক ক্যাথরিন গ্র্যান্ডি বলেছেন।

কী এই নতুন আপেল?

নতুন জাতের আপেলটি বাজারে আনতে অন্তত এক কোটি ডলার নিয়ে কাজ করেছে প্রোপ্রাইটারি ভ্যারাইটি ম্যানেজমেন্ট।

হানিক্রিস্প এবং এন্টারপ্রাইজ নামের বিদ্যমান দুটি আপেলের মধ্যে ক্রস-ব্রিড বা প্রজনন ঘটিয়ে আপেলের নতুন এই জাতটি চাষ করা হয়েছে।

ক্রিস্পের প্রবক্তারা এই আপেলকে হলি গ্রেইল হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

বলা হয় এটি মিষ্টি, কচকচে এবং রসালো।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শীতল পরিবেশে এই আপেল এক বছর পর্যন্ত তাজা থাকবে।

কোটি ডলার ব্যয়ে প্রচারণা, নতুন জাতের এই আপেল কি বিশ্ব বাজার দখল নিতে পারে?
কেট ইভান্স এবং ব্রুস ব্যারিট ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের কসমিক ক্রিস্পের বিকাশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহ-পরিচালক কেট ইভান্স বলেছেন, “কসমিক ক্রিস্প সহজেই ১০ থেকে ১২ মাসের জন্য রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা সম্ভব। যেখানে আপেলের মূল স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে।”

আপনি ভাবতে পারেন যে এগুলো বেশি বেশি শোনাচ্ছে।

তবে ক্রিস্প হোম স্টেটের কয়েক শো আপেল চাষী চার কোটি ডলার বাজি ধরেছেন যে এই আপেল জনপ্রিয় হতে চলেছে।

যেভাবে শুরু

ক্রিস্পের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রজনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল।

লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের তৎকালীন দুর্দশাগ্রস্ত আপেল কৃষকদের সহায়তা করার জন্য একটি নতুন জাতের আপেল উদ্ভাবন করা।

ওয়াশিংটন রাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে আপেলের সবচেয়ে বড় উৎপাদক।

তাদের ফলন করা দুটি জাত – গোল্ডেন ডেলিশিয়াস এবং এবং রেড ডেলিশিয়াসের বিক্রি হঠাৎ করে কমতে শুরু করে।

কারণ গ্রাহকরা নতুন ধরণের আপেলের দিকে ঝুঁকে পড়ছিলেন, যা একইসঙ্গে মিষ্টি এবং দীর্ঘসময় টাটকা থাকে। যেমন পিঙ্ক লেডি, রয়্যাল গালা।

মূলত ডাব্লিউএ-থার্টিএইট হিসাবে পরিচিত, কসমিক ক্রিস্প জাতের এই আপেলকে ডাকা হয় ক্রিস্প নামে।

কেননা এর গাঢ় লাল জমিনের মধ্যে সাদা দাগ রয়েছে, অনেকটা রাতের আকাশের তারার মতো।

এখন কসমিক নামটিকেই ওই আপেলের ট্রেডমার্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।

কোটি ডলার ব্যয়ে প্রচারণা, নতুন জাতের এই আপেল কি বিশ্ব বাজার দখল নিতে পারে?
অধ্যাপক জেমস লুবি বলেছেন যে কসমিক ক্রিস্পের সম্প্রসারণ “নজিরবিহীন”

২০১৭ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এই আপেল চাষ করা শুরু হয়।

ওয়াশিংটনের আপেল চাষীদের মধ্যে ক্রিস্পের চাহিদা এত বেশি ছিল যে কৃষকদের প্রথম চারা হাতে পেতে লটারি করতে হয়েছিল।

পরবর্তীতে ক্রিস্পের চারাগুলো বিশাল আকারে বিক্রি হতে শুরু করে।

ওয়াশিংটনে এখন প্রায় ১২ হাজার একর জমি এক কোটি ২০ লাখেরও বেশি ক্রিস্প গাছ বেড়ে উঠছে।

ধারণা করা হয়, এই ফলন প্রকল্পটি বিশ্বের আপেল ইতিহাসের মধ্যে বৃহত্তম এবং দ্রুততম, যে কারণে চাষিদের সম্মিলিতভাবে তিন কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়।

এই আত্মবিশ্বাসের বিনিময়ে, ওয়াশিংটন কৃষকদের ২০২২ অবধি বিশ্বব্যাপী ক্রিস্পের উৎপাদন ও বিক্রয় করার একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হয়েছে।

এবং ক্রিস্পটি প্রিমিয়াম জাত হিসাবে বিক্রি হচ্ছে, যা এর দাম দেখলে বোঝা যায়।

প্রথম ফলনের আপেল এখন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হচ্ছে প্রচলিত জাতের আপেলের চাইতে তিনগুণ বেশি দামে।

কোটি ডলার ব্যয়ে প্রচারণা, নতুন জাতের এই আপেল কি বিশ্ব বাজার দখল নিতে পারে?
ওয়াশিংটন রাজ্য জুড়ে কয়েক শতাধিক আপেল চাষি, ক্রিস্প ফলানোর দিকে ঝুঁকছেন।

ওয়াশিংটন রাজ্য জুড়ে কয়েক শতাধিক আপেল চাষি, ক্রিস্প ফলানোর দিকে ঝুঁকছেন।
ওয়াশিংটন রাজ্যের পশ্চিমে, স্টেমিল্ট গ্রোয়ার্সের প্রধান পশ্চিম ওয়েস্ট ম্যাথিসন এখন তার বাগান থেকে আপেল তুলছেন।

তিনি বলেছিলেন যে নতুন জাতটি সম্পর্কে একটি নেতিবাচক দিক হলো এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপেল প্রিয় মানুষকে বিভক্ত করে দিতে পারে – যারা এটি কিনতে শুরু করেছেন, এবং যারা করেননি।

“তবে তারা যদি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ব্র্যান্ডগুলোয় আটকে থাকেন, যেখান থেকে কিনা সাধারণ ভোক্তারা সরে যাচ্ছে, তাহলে তাদের লাভের পরিমাণ অনেক কম এবং কখনও কখনও নেতিবাচক হয়।”

যাইহোক, অধ্যাপক ইভান্স ক্রিস্পের বাণিজ্যিক বিপণন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। এত বেশি যে তিনি অ্যাপল কোম্পানির উপমা অনুসরণ করেন।

“আমি বলবো না যে এটি প্রথম আইফোন প্রবর্তনের মতো। বরং এটি আইফোনের সর্বশেষ আধুনিক সংস্করণের মতো”।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

যেসব ফল খেলে ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকে

ত্বকের তারুণ ধরে রাখতে চাইলে সবজির পাশাপাশি ফল খান। কিছু কিছু ফল আছে যেগুলো খেলে তারুণ দীর্ঘদিন বজায় থাকে। জেনে নিন সেসব ফল সম্পর্কে।

আতা

এই ফলে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। যা চামড়াকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

পেঁপে

এতে রয়েছে এনজাইম। এই ফল চামড়াকে চকচকে রাখতে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো

চামড়ার নমনীয়তা রক্ষা করে অ্যাভোকাডো

কিউই

এই ফল ভিটামিন সি-তে পূর্ণ। যা চামড়াকে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।

কলা

এই ফলে রয়েছে পটাসিয়াম। যা চামড়াকে উজ্জ্বল রাখে।

গুজবেরি

পুষ্টিগত গুণের জন্য় পরিচিত এই ফল। চামড়া পরিষ্কার রাখে।

আনারস

এই ফলও চামড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে।

বেদানা

চামড়ায় ভাঁজ পড়া রোধে সাহায্য করে এই ফল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

গোল্ডেন ক্রাউনে ভাগ্যবদল

লেখক

তাইওয়ান গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ। দেখতে চমৎকার, রসে ভরপুর, খেতেও সুস্বাদু। নতুন জাতের বিদেশি তরমুজের চাষাবাদ চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে। প্রথমবার চাষেই দুই লাখ টাকা খরচ করে তিন ভাই আয় করেছেন আট লাখ। এবার পাঁচ ভাই ১৪ লাখ টাকা খরচ করে ৬০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এক গোল্ডেন ক্রাউনেই ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে পাঁচ ভাইয়ের। কিছুদিন আগেও প্রবাসে চাকরি করে কোনো রকম জীবনযাপন করলেও এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা।
তাইওয়ান থেকে গোল্ডেন ক্রাউন বীজ দেশে আমদানি করে এগ্রি কনসার্ন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ১০ গ্রাম বীজ এক হাজার দুইশ টাকায় কিনতে হয় কৃষককে। ১০ গ্রামে ২৫০ থেকে ৩০০টি বীজ থাকে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় সমকালকে বলেন, দেশের কৃষি খাতে নতুন আশা জাগালো বারোমাসি তাইওয়ান গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ। চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বারোমাসি তরমুজ চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। আট একরে চাষ হলেও চার একরের তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। পাঁচ ভাই এ তরমুজ চাষ করে বিনিয়োগের পাঁচ থেকে থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন। তাদের দেখে অনেকেরই আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষক আবুল হাশেম বলেন, চলতি বছর জুনের দিকে প্রথম ৪০ শতক জমিতে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করেছিলাম। ৬০ হাজার টাকার মতো খরচ করে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো আয় করেছি। তাই এবার আরও বেশি জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। পাঁচ ভাই মিলে আট একর জমিতে আবাদ করেছি। ১০-১২ লাখ টাকা খরচ হলেও ভালো ফলন হওয়ায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয় করতে পারব বলে আশা করছি।


বছরে ফলন দেয় তিনবার, ৩০ ডিগ্রিতে মেলে বাম্পার ফলন :তাইওয়ান জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন হয় ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। যদিও আমাদের দেশের আবহাওয়ায় শীতে তরমুজ আবাদ হয়। তখন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি থাকে। এ সময়ে তাইওয়ান গোল্ডেন ক্রাউনের ফলন ভালো হয় না। কৃষিবিদ প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, তাইওয়ান জাতের তরমুজ বছরে নয় মাস ভালো ফলন দেয়। তবে শীতে এ জাত আবাদ করা গেলেও তাপমাত্রা কম থাকায় ফলন তেমন একটা ভালো হয় না। এ ছাড়া শীতে রোগবালাই বেশি থাকায় এ তরমুজের জন্য সহায়ক নয়। তাই শীত ছাড়া অন্য সময় আবাদ করার পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ। ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাস গরম থাকায় এ সময়ের মধ্যে তিনবার আবাদ হয়ে থাকে। বীজ লাগানোর ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়।


কানিতে খরচ ৬০ হাজার, আয় তিন লাখ টাকা :গোল্ডেন ক্রাউন এক কানি জমিতে চাষ করতে প্রথমবার খরচ পড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার আবাদে সেই খরচ নেমে আসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। এক কানি জমিতে আয় হচ্ছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। চাষাবাদের খরচ বাদ দিয়ে গড়ে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছেন কৃষক পাঁচ ভাই। চলতি বছরের জুনে প্রথমবারের মতো চাষ করেন তারা। তিন ভাই আবুল হাশেম ৪০ শতক, আবুল হোসেন ৪২ শতক ও আবুল কাশেম ১৬ শতক জমিতে আবাদ করেন। সেখান থেকে তারা প্রতি জন প্রায় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন। প্রথমবার সাফল্য পেয়ে এবার পাঁচ ভাই আবুল হাশেম দুইশ শতক, আবুল হোসেন তিনশ শতক, আবুল কাশেম ১৬০ শতক, আমির হোসেন ১২০ শতক এবং শামসুল ইসলাম ১০ শতক জমিতে আবাদ করেন। আগস্টে আট একর জমিতে তারা ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে চাষাবাদ করলেও এখন ফলন উঠতে শুরু করেছে। আট একর থেকে তারা ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় আড়তে কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। সেই হিসাবে এক কানি জমিতে সাড়ে ছয় হাজার কেজি তরমুজের ফলন হয়ে থাকে। তাতে কানিতে তাদের সোয়া তিন লাখ টাকা করে আয় হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন বলে জানান কৃষকরা।


চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথমবার আবাদেই বাজিমাত :তাইওয়ান থেকে আমদানি করে আনা বীজে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ আবাদ করে প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন চট্টগ্রাম সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকার বাসিন্দা পাঁচ ভাই আবুল হাশেম, আবুল কাশেম, আবুল হোসেন, আমির হোসেন ও শামসুল ইসলাম। তাদের মধ্যে আবুল হোসেন কৃষক হলেও অন্য চার ভাই ছিলেন সৌদি আরব। প্রবাসে গিয়ে চাকরি করে সংসার চালালেও তাদের ভাগ্যের তেমন বদল হয়নি। তবে এবার বিদেশি তরমুজ আবাদ করে তাদের ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে। ছদাহার মিঠার দোকান এলাকার মৃত মোস্তাক আহমদের ছেলে তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবুজ মাল্টা ঝুলছে বাগানে, ভাগ্যবদলের হাসি কৃষকদের

তৌহিদুর রহমান: [২] যতই দিন যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় বাগানে রসে ভরা সবুজ মাল্টা ঝুলছে। এযেন এক অরুপ প্রকৃতির খেলা। এতে করে কৃষকরা ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন, আনন্দে ভরে উঠছে তাদের মন। এর মর্ধ্যে স্বাদ ও মানে অনন্য সবুজ রঙের মাল্টা সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে। দেখতে বাইরের অংশ গাঢ়ো সবুজ আর ভেতরটা মিষ্টি রসে ভরপুর।

[৩] কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগরের মাটি মাল্টা চাষের জন্য উত্তম। ফলন ও মুনাফা ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই মাল্টার আবাদ বাড়ছে। তিন উপজেলার ১৩৫ হেক্টর জমিতে বারি-১ ও বারি-২ জাতের মাল্টার চাষ হয়েছে। গাছে গাছে ঝুলছে রসালো সবুজ মাল্টা। আর কদিন পরই পরিপক্ক হবে মাল্টাগুলো

[৪] খোঁজ নিয়ে ঘুরে জানা যায়, বিগত ছয়/সাত বছর ধরে জেলার তিন উপজেলায় চাষ হচ্ছে মাল্টা। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন নতুন কৃষক সবুজ মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন। কোনো ধরনের কেমিকেল ছাড়া সবুজ রঙের মাল্টা স্বাদে ও মানে ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। প্রতি কেজি সবুজ মাল্টা পাইকারদের কাছে ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন কৃষকরা। অধিকাংশ পাইকার সরাসরি কৃষকের বাগান থেকে মাল্টা কেনেন। পাইকারদের মাধ্যমেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাল্টা বাজারজাত হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

[৫] মাল্টা চাষি রফিক মিয়া বলেন, এবার দুই কানি জমিতে মাল্টা চাষ করেছি। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। তবে আমি পাইকারদের কাছে পুরো বাগানটি সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। তারা সাড়ে ৪-৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবে।

[৬] আরেক চাষি শিপন মিয়া জানান, বাড়ির পাশে ৪০ শতাংশ জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন। এবছর ফলন কিছুটা বেশি হয়েছে। অন্তত এক টন মাল্টা পাবেন বলে আশা করছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। পুরো বাগান পরিচর্যায় তার খরচ হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা।

[৭] ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, এ বছর ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের আবাদ কৌশল ও পোকা-মাকড় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মরুভূমির সাম্মাম ফলছে সাতকানিয়ায়

মরুভূমির সাম্মাম ফলছে সাতকানিয়ায়

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পলাশবাড়ীতে পেঁপের ফলনে শিক্ষিত কৃষক আজাদের আর্থিক অবস্থা ফুলে-ফেঁপে উঠছে

আরিফ উদ্দিন: গ্রামীণ আবহে জন্ম নেয়ার পাশাপাশি বেড়ে উঠা একজন মানুষ আবুল কালাম আজাদ। পড়াশুনা করেছেন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অর্জন করেছেন সর্বোচ্চ ডিগ্রী এমএসএস। চাকুরীর পেছনে ছুটেনি কখনো।
সবসময় নিজের

মুলত শিক্ষিত হওয়া সত্যেও পৈত্রিক জমি আঁকড়েই সাবলম্বী হতে চেয়েছিলেন তিনি। এমন প্রত্যাশা থেকেই কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। বিভিন্ন সময় জমিতে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে ভাগ্যের চাকা সচল করার চেষ্টা করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের সিধনগ্রামের আব্দুস সামাদ মাষ্টারের ছেলে আবুল কালাম আজাদ পৈত্রিক জমিতে শুরু করেন হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ। প্রথম দিকে স্বল্প পরিসরে এ চাষ শুরু করলেও এ বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ৫ বিঘা জমিতে প্রায় ১ হাজার পেঁপের চারা রোপন করেন তিনি। আর তাতেই পেয়ে যান সাফল্য। পেঁপের বাম্পার ফলনে উঠতে থাকে তার আর্থিক অবস্থা।
চারা রোপনের ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যেই ফলন পেতে শুরু করেন তিনি।

একেকটি পেঁপে ২ থেকে ৫ কেজি ওজনের। বিশাল আকৃতির এই পেঁপে চাষ করে এলাকার সবার দৃষ্টি কুড়েছেন আজাদ। প্রতিদিন লোকজন আসছেন পেঁপে বাগান দেখতে। অনেকেই এখন তার সাথে কথা বলে পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন। অনেকে বাগান করা শুরুও করেছেন।

এ ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদ বলেন, যে কেউ পেঁপে চাষ করে স্বল্প সময়ে স্বল্প পরিশ্রমে বেকারত্ব দুর করার পাশাপাশি সাবলম্বীও হতে পারবেন। জমি তৈরী, চারা রোপন, সার, বালাইনাশক, আগাছা পরিস্কার ও শ্রমিকের টাকাসহ প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার। এখন গাছ থেকে প্রায় প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ মন কাঁচা-পাকা পেঁপে সংগ্রহ করা যাচ্ছে। তবে লাভের অংক বেশি হওয়ায় তিনি পাকা পেঁপেই বেশি বিক্রি করছেন। প্রতিমন পাকা পেঁপে বাগান থেকে ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে পাকা পেঁপে সংগ্রহ করে এ জেলা ছাড়াও রংপুর-বগুড়াসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করছেন। বাগান করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বিক্রি করে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক টাকার লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। তার মুখেও সেই ছাপ স্পষ্ট। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছরে আরো ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে আগামী বছরেও প্রায় এমন ফলনই আশা করছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আরো বেশি ফলন ঘরে তুলতে পারতেন বলে আজাদ জানান।

পেঁপে বাগান দেখতে আসা স্থানীয় মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পরিশ্রম ও লক্ষ্য অটুট থাকলে কৃষি কাজে সফল হওয়া সম্ভব। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো আবুল কালাম আজাদ। তিনি পেঁপে বাগান করে বাজিমাত করেছেন। তার বাগান দেখে এলাকার অনেকেই উৎসাহ পাচ্ছেন পেঁপে চাষে।

পলাশবাড়ীর অনেক গ্রামেই এখন সবুজ-হলুদ পেঁপের সারিবদ্ধ গাছের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য সকলের চোখ টানছে। কৃষকরাও পাচ্ছেন লাভের পরশ। সেইসাথে অভাব নামক শব্দটি উধাও হচ্ছে গ্রামীণ জনপথ থেকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা.ফাতেমা কাওসার মিশু’র সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ উপজেলায় অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান প্রচুর পরিমাণে হাইব্রিড জাতের পেঁপের চাষ বেড়েছে। উন্নত জাতের পেঁপে চাষ করে স্বল্পসময়ে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। তিনি বলেন পেঁপে চাষে অনেক কৃষকই এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ পেঁপে চাষে রোগবালাইসহ বিভিন্ন ভাইরাস ও সংক্রোমন মোকাবেলায় চাষীদের সবসময় সবধরনের নিরলস সহযোগিতা করে আসছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com