আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

বছরে চার হাজার কোটি টাকার দুধ উৎপাদন

দুগ্ধ বিপ্লব বা শ্বেত বিপ্লব হয়েছে বৃহত্তর পাবনায় (পাবনা ও সিরাজগঞ্জ)। স্বাধীনতার পর এ অঞ্চলে দেড় হাজার গ্রামের ৩২ হাজার খামারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কমপক্ষে ২০ হাজার পরিবার দুধেল গাভী পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এভাবেই বৃহত্তর পাবনায় বছরে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার দুধ উৎপাদনের এক বিশাল বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যা দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সুখবর। বৃহত্তর পাবনার দুগ্ধ খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ থেকে সাড়ে ৬ লাখ লিটার দুধ উদ্বৃত্ত থাকছে। এই শিল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। সবচেয়ে ভালো খবর হল এই দুগ্ধ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ৭৫ শতাংশই নারী। এতে নারীর ক্ষমতায়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এ যেন অন্য বাংলদেশের সন্ধান দিয়েছে পাবনার দুগ্ধ শিল্প। তবে এই সেক্টরে নানা সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা সমস্যা। সুষম গো-খাদ্য ও গো-খাদ্য সংরক্ষণের অভাব, গাভীর নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাদ্যের অভাব, খামারিদের আর্থিক সমস্যা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এসবের অন্যতম।

স্বাধীনতার পর দেশের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই ব্যক্তিগত অথবা গ্রুপভিত্তিক নানা বিষয়ে উন্নয়নের খবর পাওয়া যায়। যা দেশকে পুনর্গঠনে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার আগে পাবনা ব্রিড (পাবনা জাত) গাভীর মধ্য দিয়ে পাবনা অঞ্চলে এই শিল্পের শুরু হয়। স্বাধীনতার পর এই গাভী পালন ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দেয় এই গাভী পালনে। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৩-৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারতের আমল দুধের আদলে শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ীতে বড়াল নদী পাড়ে স্থাপন করা হয় সরকারি দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী সমবায়ী প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও অনেক বেসরকারি কোম্পানি তাদের দুগ্ধ ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে। এরপরই এ অঞ্চলে এই শিল্পের নতুন সম্ভাবনা আরো একধাপ এগিয়ে যায়। গাভী পালন খুবই লাভজনক হওয়ায় বেকার যুবকরা গো-খামার স্থাপনে ঝুঁকে পড়ে।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর পাবনায় এক সময় পাবনা ফ্রিডের (পাবনা জাত) গাভী পালন করা হতো। সেটি এখন প্রায় বিলুপ্ত। পরবর্তীতে বিভিন্ন বেশি দুগ্ধ উৎপাদনকারী শংকরজাত যেমন বাংলাদেশি হাইব্রিড, জার্সি, ফ্রিজিয়ান, এফএস, শাহিওয়াল, অস্ট্রেলিয়ান ও সিন্ধিসহ হরেক জাতের শঙ্কর গাভী পালন করা হচ্ছে। এসব জাতের প্রতিটি গাভী থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২২ লিটার পর্যন্ত দুধ উৎপাদন হচ্ছে। এত উৎপাদনের পরও দিন দিন তরল দুধের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই সম্ভাবনাময় এ খাতে নতুন নতুন উদোক্তা তাদের পুঁজি বিনিযোগ করছেন। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, খামার এবং ব্যক্তিগতভাবে গাভী পালন করে ভালো লাভ পাওয়ায় পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, আটঘড়িয়া, ঈশ্বরদী, সানিলা, করমজা, টলট, বড়পায়না, সোনাতলা, বৈরাগীসোনাতলা, ভিটাপাড়া, শরিষা, সেলন্দা, পাথালিয়াহাট, ডেমরা, রতনপুর, হাটুরিয়া, নাকালিয়া, জগন্নাথপুর, ছোটপায়না, চাকলা, সোনাপদ্মা, বড়গ্রাম, পুণ্ডুরিয়া, পাটগাড়ী, বাউষগাড়ী, নাকডেমরা, হাদল, পারফরিদপুর বনোয়ারিনগর, বেড়হাউলিয়া, খাঁনমাহমুদপুর, মনমথপুর, বিলসলঙ্গী, আফতাবনগর, গাগড়াখালী, মাসুমদিয়া, রূপপুর, বোয়লমারি, বরাট, নারিয়াগদাই, হলুদগর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, বাঘাবাড়ী, রাউতরা, আঙ্গারু, শাকতোলা, পোতাজিয়া, উল্লাপাড়া, শেলাচাপরী, বেতিল, চৌহালীসহ শত শত গ্রামের হাজার হাজার পরিবার বাণিজ্যিকভাবে দুগ্ধজাত গাভী পালন করছেন।

দুগ্ধ খামার করে বা ব্যক্তিগত পর্যায়েও সফল হয়েছেন এসব এলাকার অনেক মানুষ। এদের ৭৫ শতাংশ নারী। পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অনেক নারী এই গাভী পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এদের মধ্যে পুঙ্গলী গ্রামের মৃত মোমিন হোসেনের স্ত্রী রোজিনা খাতুন, পার ফরিদপুর গ্রামের মৃত আবদুল মতিনের স্ত্রী শিল্পী খাতুন, বিল বকরী গ্রামের মৃত আহাদের স্ত্রী রিতা খাতুন, চাটমোহর উপজেলার উথুলি গ্রামের হযরত আলীর স্ত্রী কুলসুম, রামনগর গ্রামের সানোয়ারের স্ত্রী সুলতানা।

সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলায় ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ১১৪টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে শাহজাদপুর উপজেলায় মোট গরু রয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮৫টি, উল্লাপাড়া উপজেলায় গরু ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৫টি, রায়গঞ্জ উপজেলায় গরু রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৬টি, তাড়াশ উপজেলায় মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮৯টি, কামারখন্দ উপজেলায় মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৮৮টি, বেলকুচি উপজেলায় মোট গরুর পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার ১১২টি, চৌহালি উপজেলায় মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৩টি, কাজিপুর উপজেলায় মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪২টি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৯টি। এসব গরুর মধ্যে ৪০ শতাংশ গাভী। সেখানেও এসব গাভী পালনের সঙ্গে বেশিসংখ্যক নারী যুক্ত রয়েছেন পুরুষের চেয়ে।

এগ্রোবিজ

কীভাবে কেঁচো সার তৈরি করছেন নারীরা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি বাজেটের সুপারিশমালা অর্থমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মুরগির সরবরাহে টান, দাম লাফাচ্ছে

রাজধানীর বাজারে যে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১১০ টাকায় নেমেছিল, সেটা এখন ১৬০ টাকায় উঠেছে। হঠাৎ করে লাফিয়ে লাফিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণ সরবরাহ–সংকট।

সাধারণ ছুটির শুরুর দিকে, অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ ও এপ্রিলের শুরুর দিকে খামারের মালিকেরা চাহিদা না থাকায় মুরগি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছিলেন। হ্যাচারির মালিকেরা এক দিনের বাচ্চা বিক্রি করতে না পেরে মেরে ফেলেছিলেন। এখন তৈরি হয়েছে ঘাটতি।

গাজীপুর এলাকার খামার পর্যায়েই ব্রয়লার মুরগির কেজিপ্রতি দর ১৩০ টাকা। এটা হাতবদল হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এক মাসে দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।

পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সভাপতি ও গাজীপুরের শ্রীপুরের খামারি খন্দকার মো. মহসিন প্রথম আলোকে বলেন, খামারিরা লোকসান ও মুরগি বিক্রি করতে না পারায় নতুন বাচ্চা ওঠাতে পারেননি। সে কারণেই এখন ঘাটতি। এটা সাময়িক।

বাজারে কক মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২২০ টাকা। এ ক্ষেত্রে দামের তেমন কোনো হেরফের হয়নি। আর দেশি মুরগির কেজিপ্রতি দর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। এ দামটি অনেক দিন ধরেই চড়া।

গরুর মাংসের দামও আর কমেনি। বাজারে এখন গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৫৭০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যবসায়ীরা পাইকারি পর্যায়ে গরমমসলার সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে জিরা (ভারত) প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, দারুচিনি (চীন) কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, দারুচিনি (ভিয়েতনাম) কেজি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকা, এলাচি কেজি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, গোলমরিচ (সাদা) ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং গোলমরিচ (কালো) ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা দরে কেনাবেচা হবে।


  • সাধারণ ছুটির শুরুর দিকে মুরগির দাম তলানিতে নেমেছিল
  • ক্রেতা না থাকায় বাচ্চা ফেলে দিতে হয়

ঢাকার কাজীপাড়া, পীরেরবাগ ও মিরপুর-১ নম্বর সেকশন বাজার এবং দুটি জনপ্রিয় অনলাইন পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে, বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামেই মসলাজাতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘যে দরটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা আগে থেকেই কার্যকর। আগে থেকেই আমরা এ দামে বিক্রি করছি।’

খুচরা বাজারে দাম এত বেশি কেন, জানতে চাইলে এনায়েত উল্লাহ বলেন, খুচরা দোকানে মসলা বিক্রি হয় অল্প অল্প করে। পাইকারি বাজার থেকে কিনে নিতেও পরিবহন খরচ আছে।

পেঁয়াজের দাম আরও কিছুটা কমেছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আর চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে। এক মাস আগে যে আদা ৩০০ টাকা কেজির বেশি ছিল, সেটা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমতির দিকে। কিন্তু সমস্যা হলো চাহিদা ও মানুষের আয় কমে গেছে। কাজীপাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়া শামসুজ্জামান  বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। বেশির ভাগ মানুষের হাতে টাকা নেই। অনেকে বোনাস পাবেন না। এ সময় দাম কমলেও কিনবে কতজন।’ 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

কৃষকের ঈদ আনন্দ

কৃষকের ঈদ আনন্দ ২০২০,ঈদ উল ফিতর

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তৌফিকুজ্জামান আজমান প্রাণিসম্পদ ঘাস উত্পাদন করেন

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com