আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

কেজিতে ১০ টাকা কমে‌ছে আলুর দাম

সরকারের হস্তক্ষেপে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আলুর দাম এখন কমতে শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ কমসহ নানা অজুহাত দেখিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তিন দিনের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে এ পণ্যের দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র।

আলু ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ আলুর দাম দ্বিগুণ বেড়ে ৬০ টাকায় ওঠে। পরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেঁধে দেয়। তা কার্যকর করতে পারেনি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আবারো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। এবার দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৫ টাকা। এরপর থেকে বাজারে আলুর সরবরাহ বাড়তে থাকায় দামও কমছে। এখন পর্যন্ত খুচরা বাজারে সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে ৭ থেকে ৮ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকা‌রি ব্যবসায়ীরা বলছেন, তিন-চার দিনের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা কমেছে। এখন সরবরাহ ভালো, এটা অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে।

রাজধানী কারওয়ান বাজারের পাইকারি আলু ব্যবসায়ী মো. হাফিজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজ বাজারের একের মালের (সবচেয়ে ভালো মান) আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা। এছাড়া মান অনুযায়ী ৩০ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোল্ডস্টোরেজগুলো এখন আলু ছাড়ছে। গতকাল থেকে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এটা অব্যাহত থাকলে সামনে দাম আরও কমবে।’

এদিকে মুগদার খুচরা ব্যবসায়ী আল-আমিন জানান, আলুর দাম কমেছে। তবে মিডিয়ায় যেভাবে শুনছি আলুর দাম ৩৫ টাকায় নেমে যাবে। বাস্তবে দাম এত কমেনি।

তিনি বলেন, ‘আজ আলু বিক্রি করছি ৪২ টাকায়। বাছাই আলু বিক্রি করছে হচ্ছে ৪৪ টাকায়। যেহেতু পাইকারি বাজারে দাম কমছে দু-একদিনে খুচরা বাজারে দাম আরও কমবে।’

মুগদা কাঁচাবাজারে আসা আবুল বাশার নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আলু প্রতিদিনই লাগে। প্রতি বছরই এ সময় আলুর দাম একটু বাড়ে কিন্তু ৬০ টাকা জীবনে কখনও দেখিনি, শুনিওনি। গত পরশু খবরে দেখলাম, সরকার আলুর দাম পুনর্নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু আজও বাজারে এক কেজি আলু কিনলাম ৪৪ টাকায়। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো মুনাফা লুটে, যার বলি সবসময় হয় ক্রেতা। ৬০ টাকা আলু বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে‌ছে। তা‌দের কিছুই হয়নি।’

এদি‌কে গত মঙ্গলবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। ওইদিন খামারবাড়িতে কৃষি বিপণন অধিদফতরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাম নির্ধারণ করা হয়। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, কারওয়ান বাজার এবং শ্যামবাজারের আলুর পাইকার ও আড়তদাররা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রতি কেজি আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা বেঁধে দেয় কৃষি বিপণন অধিদফতর। এই দাম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু এই দামের বিষয়ে আপত্তি জানান ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে তারা আলু বিক্রি বন্ধ করে দেন।

মঙ্গলবার সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি ২৭ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে কেজি ৩০ এবং খুচরা পর্যায়ে কেজি ৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

নির্ধারিত মূল্যে কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা যেন আলু বিক্রি করেন সেজন্য কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

এগ্রোবিজ

৮০ হাজার টন ইউরিয়া ক্রয় প্রস্তাবে সায়

রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৪৯ টাকায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে সৌদি আরব ও কাতার থেকে ৫০ হাজার এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩২তম বৈঠকে এ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য আটটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে আটটি প্রস্তাবেরই অনুমোদন দেয়া হয়। তার মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তিনটি, বিদ্যুৎ বিভাগের তিনটি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (এসএবিআইসি) থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৭ টাকা।

এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে কাতার কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোস্পানি (মুনতাজা) কিউ, পি জে,এস,সি কাতার থেকে ষষ্ঠ লটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ৫৬২ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ডিমের দাম কমেছে, আলু আগের মতোই

লেখক

বাজার আসছে শীতের নানা সবজি। বাজারে এসব সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে আলু কিনতে আগের মতোই চড়া দাম গুনছেন ক্রেতারা। মাছ, ডিম ও মুরগির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম, বরবটি, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমসহ নতুন অনেক শীতের সবজি বাজারে এসেছে। এসব সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এতে সবজির দামও কমে এসেছে বলে জানান বিক্রেতারা।

আগের সপ্তাহে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়া করলা, শিম ও বরবটির কেজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। বৃহস্পতিবার মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে শিমের কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বেগুন ও কাঁচা টমেটোর দাম কমে এদিন বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির মুলা ও পেঁপের দাম কমে ২০ থেকে ৩০ টাকায় নেমেছে। একইভাবে অন্যান্য সবজির দামও কিছুটা কমেছে। প্রতিটি লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি এখন ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালশাক, পালংশাক ও লাউশাকের আঁটি আগে ১৫ থেকে ৩০ টাকা ছিল। এখন তা কমে পাঁচ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। প্রতি কেজি পুরোনো গোল আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় স্থির রয়েছে। নতুন আলুর দাম কিছুটা কমে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কলি বাজারে এসেছে।

মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভালো দাম পেতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগাম তুলে বাজারে ছাড়ছেন চাষিরা। এ পেঁয়াজ গাছসহ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৫০ টাকা কেজিতে। মিরপুরের উত্তর পিরেরবাগ বাজারে এই পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নতুন পেঁয়াজ গাছ বাজারে আসার আগেই আমদানি পেঁয়াজের চাপে দাম কমেছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে আমদানি করা চীনা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কমেছে। প্রতি ডজন ডিম এখন ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এ ছাড়া মাছের দামও তুলনামূলক কম। প্রতি কেজি মাঝারি রুই ২২৫ থেকে ৩০০ টাকা ও কাতলা ২২০ থেকে ২৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। পাঙাশের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। খালবিল শুকিয়ে আসায় অন্য মাছও বাজারে প্রচুর আসায় তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

১ কেজি নতুন আলুর দাম ৮০ টাকা

নীলফামারীতে জমি থেকে আগাম আলু উত্তোলনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখানকার আগাম আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আগাম আলু চাষের জন্য বিখ্যাত নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলা। দেশের আগাম আলুর সিংহভাগ উৎপাদন হয় এখানে। আগাম আমন ধান কাটার পর এখানকার কৃষকরা এক খণ্ড জমিও পতিত রাখেন না। মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উৎপাদিত সেভেন গ্র্যানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করেছে এখানকার কৃষকরা। মাঠে এখন আগাম আলু তোলার ধুম পড়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার। শুরুতে দাম ভালো পাচ্ছেন আলু চাষিরা। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একদিকে চলছে আলু উত্তোলনের কাজ, অন্যদিকে কেউ কেউ মৌসুমি আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত, আবার কেউবা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষি স্বপন বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে আগাম আলু উৎপাদন করে পেয়েছেন ৭৮০ কেজি, যা ৮০ টাকা কেজি দরে ফসলের মাঠেই বিক্রি করেছেন। আগাম আলু আবাদে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি এই আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। এতে তার লাভ হয়েছে ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের খালিশা খুটামারা গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে এ বছর আলু চাষ করেছি। আলুর বয়স এখন ৫৫ দিন। আরও ১০ দিন পরে আলু তুলবো। এবার আলু দাম বেশ ভালো। তিনি বলেন, দুদিন আগে দেড় বিঘা জমির আলু তুলে বিক্রি করেছি ৯০ টাকা কেজি দরে। ওই আলু একদিনের ব্যবধানে কমেছে ১০ টাকা কেজিতে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার পোড়াকোট গ্রামের আলু চাষি লুৎফর রহমান (৪২) বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে এবার আলু চাষ করেছি। আগাম আলুর দাম ভালো থাকায় এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করেছি ৮৫ টাকা কেজি দরে। এতে তার ব্যাপক লাভ হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা খেতে এসে নগদ টাকায় আলু নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী রোস্তম আলী জানান, নীলফামারীতে আগাম আলু উঠতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও এখন আলুর প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হচ্ছে। আগাম আলু ট্রাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার আগেই নীলফামারীর আগাম আলু উঠে এবং আগাম বাজারদরে লাভবান হন এখানকার কৃষকরা।

চলতি বছর এ জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ২৫ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন। এ জেলায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম আলু উঠবে। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আলুর ভরা মৌসুমে বাম্পার আলু বেশি পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিলাররা সহযোগিতা না করলে মজুত আইনে পরিবর্তন আনবে সরকার

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, সরকারি গুদামে চাল না দিলে মিলারদের (চালকলমালিক) বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রয় নীতিমালা ও খাদ্যপণ্য মজুত আইনে পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং ধান-চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, বাংলাদেশ চালকল ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি লায়েক আলী, নওগাঁ জেলা ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোধ বরণ সাহা, নওগাঁ জেলা চালমালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার। এ ছাড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ধান-চাল ব্যবসায়ীরাও সভায় বক্তব্য দেন।

সরকারিভাবে চালের মজুত ঠিক রাখতে ইতিমধ্যে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এখনো অনেক মিলমালিক সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার জন্য চুক্তি করেননি। ইতিমধ্যে দেড় লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও চাল আমদানি করা হবে। তবে চাল আমদানির ফলে কৃষকেরা ক্ষতির শিকার হন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

বর্তমানে একটি মিলে পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতার পাঁচগুণ ধান-চাল মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে। এর জায়গায় ধান-চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি মিল পাক্ষিক ছাঁটাইক্ষমতার তিনগুণ ধান-চাল মজুত রাখতে পারবে, এ ধরনের আইন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার, খাদ্যমন্ত্রীবিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের লাভ-ক্ষতির কথা চিন্তা করে চাল আমদানি যাতে বেশি না হয়, সে জন্য সরকার বেসরকারিভাবে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করছে। এ জন্য সরকার নিজেই এবার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল আমদানি করা হবে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মিলাররা সরকারকে চাল দিয়ে সহযোগিতা না করলে সরকার ধান-চাল ক্রয়ে নীতিমালায় পরিবর্তন আনবে। ইতিমধ্যে ভারতের ধান-চাল সংগ্রহ নীতিমালা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারতের সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী মিলারদের পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতা অনুযায়ী সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল দিতে বাধ্য করা হবে। এ ছাড়া মিলে ধান-চাল মজুত আইনেও পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমানে একটি মিলে পাক্ষিক চাল ছাঁটাইক্ষমতার পাঁচগুণ ধান-চাল মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে। এর জায়গায় ধান-চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি মিল পাক্ষিক ছাঁটাইক্ষমতার তিনগুণ ধান-চাল মজুত রাখতে পারবে, এ ধরনের আইন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সভায় মিলমালিকদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে চালের ক্রয়মূল্য ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং আমন চাল ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২৬ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার দাবি তোলা হয়।

কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মৌসুমের শুরুতেই ধান-চালের দর বেঁধে দেওয়া এবং সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করায় সুফল পাচ্ছেন কৃষকেরা। কয়েক বছর ধরে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যুগোপযোগী ও সময়মতো উদ্যোগ নেওয়ায় কৃষকেরা এখন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

এদিকে সভায় মিলমালিকদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে চালের ক্রয়মূল্য ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং আমন চাল ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২৬ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার দাবি তোলা হয়। চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, ধানের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১ কেজি চাল আমদানি করতে ৩৮-৪০ টাকা পর্যন্ত উৎপাদন খরচ পড়ছে। সেই জায়গায় সরকারকে ৩৭ টাকা দরে চাল দিতে গিয়ে পরিবহন খরচসহ মিলমালিকদের ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com