আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী

কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী তানিয়া পারভীন ঢাকা ট্রিবিউন

প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন ৩ থেকে ৪ টন সার। সার বিক্রি করে প্রতি মাসে আয় করছেন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্য নারীদেরকেও করেছেন স্বাবলম্বী

কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ফরিদপুরের তানিয়া পারভীন। গুণগত মান ভালো হওয়ায় তার উৎপাদিত সারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। স্থানীয়দের পাশাপাশি কিনছেন দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা। এছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে সার।

প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন ৩ থেকে ৪ টন সার। এতে আয় হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সার উৎপাদন করে তানিয়া নিজে যেমন হয়েছেন স্বাবলম্বী পাশাপাশি অন্য নারীদেরকেও করেছেন স্বাবলম্বী। বর্তমানে তার খামারে কাজ করছেন তিন জন। তার সাফল্য দেখে অন্য নারীরাও পরামর্শ নিয়ে গড়ে তুলেছেন কেঁচো সারের খামার।

ফরিদপুর পৌরসভার শোভাররামপুর মহল্লার বাসিন্দা তানিয়া পারভীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে ৩টি রিং স্লাব দিয়ে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। ধীরে ধীরে সার উৎপাদনের পরিধি বাড়িয়েছেন। এখন রিং স্লাবে সিমাবদ্ধ নেই তিনি। বাড়ির আঙিনায় বিশাল টিনের শেড ও আরেক পাশে ছাপড়া বানিয়ে তৈরি করেছেন ২৬টি হাউস (চৌবাচ্চা)। প্রতিটি হাউজে ৪০ মণ গোবর, শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশ ও কলাগাছ টুকরো টুকরো করে কেটে মিশ্রণ করে তার মধ্যে ১০ কেজি কেঁচো ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর চটের বস্তা দিয়ে হাউজ ঢেকে রাখা হয় এক মাস। এরপর তৈরী হয় কেঁচো সার। এভাবে প্রতি মাসে ২৬টি হাউস থেকে তিন থেকে চার টন সার উৎপাদন করে থাকেন এই নারী। বর্তমানে স্থানীয় চাষিরা রাসয়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন তানিয়া পারভীনের কেঁচো সার। 

স্থানীয় কৃষি উদ্যোগক্তা বক্তার খান বলেন, “রাসায়নিক সারের কুফল আছে যেমন, তেমনি ফসলের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়। তেমনি জমির প্রাকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট, মাটির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে। আর কেঁচো সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, কম খরচে অধিক ফলন হয়। তাই আমরা তানিয়া পারভীনের কেঁচো সার ব্যবহার করছি।”

তানিয়া পারভীনের কেঁচো সারের কথা জানতে পেরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সার নিয়ে নিজের বাগানে ব্যবহার করেছেন ঢাকার শেওড়া পাড়ার জোহরা খানম। তার বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন ফুল, ফল ও সবজির বাগান।

জোহরা বেগম বলেন, “আগে আমি ঢাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি সার কিনে বাগানে ব্যবহার করেছি। পরে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি ফরিদপুরের তানিয়া পারভীনের কেঁচো সারের কথা। তানিয়ার থেকে সারা এনে বাগানে ব্যবহার করছি। সারের গুনগত মান অনেক ভালো, দামেও কম ১৫ টাকা কেজি।”

তানিয়া পারভীন বলেন, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রথমে স্বল্পপরিসরে শুরু করি কেঁচো সারের উৎপাদন। প্রথম দিকে নিজের জমিতে প্রয়োগ শুরু করে ভালো ফল পাই। এরপর এলাকার চাষিদের মধ্যে সরবরাহ করতে থাকি। এলাকার চাষিরা সার ব্যবহার করে অধিক ফলন ও কম খরচে ফসল ও সবজি উৎপাদন করতে পেরে তারাও খুশি। এরই মধ্যে সারের চাহিদা বাড়তে থাকায় বড় পরিসরে শুরু করেছি। আগে একাই সব কাজ করতাম। এখন আমার খামারে নিয়মিত ৩ জন নারী কাজ করছেন। জেলার কৃষকদের চাহিদা পূরণ করে, দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের পাঠাচ্ছি। উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশী। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি আরও বড় পরিসরে সার উৎপাদন করতে পারবো।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হজরত আলী বলেন, “কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে অনেকেই সার তৈরি করছে। কেঁচো সার উৎপাদন করে অনেকেই সাবলম্বী হয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম তানিয়া পারভীন। ফরিদপুর প্রায় শতাধিক নারী এই সার তৈরি করছেন। পরিবেশবান্ধব এই সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে। ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ছে।”

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

জৈব

ভোলার লালমোহনে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট সার

লেখক

জেলার লালমোহন উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও ব্যবহার। যা স্থানীয়ভাবে কেঁচো সার হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে উপজেলা কৃষি অফিসের এসএসিপি প্রকল্পের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৩০ জন কৃষক-কৃষাণীকে নিয়ে প্রাথমিকভাবে এ সার উৎপাদন শুরু করা হয়। বর্তমানে উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারীর সংখ্যা রয়েছে তিন শতাধিক এবং ব্যবহার করছে আট শাতাধিক কৃষক। 
শীতের সময় প্রতি মাসে এ উপজেলায় ৮ থেকে ৯ মেট্রিকটন ও বর্ষাকালে ২ থেকে ৩ মেট্রিকটন সার উৎপাদন করা হয়। ভোলার বাইরের অন্য জেলায় এখান থেকে সার বিক্রি হচ্ছে। ধানের জমিতেও এ সার ব্যবহার করার জন্য কৃষি অফিস থেকে উদ্বোদ্ধ করা হচ্ছে। অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে এ সার উৎপাদনের।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোবর, গৃহস্থলীর আবর্জনা ও কেঁচো দিয়ে এ সার উৎপাদন করা হয়। পরিপূর্ণ সার হতে সময় লাগে ২০-২৫ দিন। আর প্রতি কেজি ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো) সার বিক্রি করা হচ্ছে ১০-১৫ টাকা। প্রতি কেজি এ সার উৎপাদন করতে কৃষকদের খরচ হয় মাত্র ২-৩ টাকা। ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরশক্তি ও পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পায়, পরবর্তী ফসলে সারের পরিমাণ তুলনামূলক কম প্রয়োজন হয় ও এ সার ব্যবহারে পরিবেশ থাকে দূষণমুক্ত।
গজারীয়া এলাকার মাসুদ, আক্তার হোসেন ও ধীরেন মজুমদার জানান, প্রথমে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ সারের উৎপাদন শুরু করি আমরা। বর্তমানে এ সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যা জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে বিক্রি করা যাচ্ছে। এখানে সল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। সরকারিভাবে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ সার উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা যাবে বলে জানান তারা। 
উপজেলার ধৌলিগরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাসেল রহমান ও মামুন আলী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করছি। ফসলের ফলনও ভালো পাচ্ছি। তাই আমরা নিজেরাই এটা উৎপাদনের কথা ভাবছি।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম শাহাবুদ্দিন বাসস’কে বলেন, আমাদের এসএসিপি প্রকল্পের মাধ্যমে এখানের মোট ১২০ জন কৃষক-কৃষাণীকে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ প্রদান করা হয়। যার ফলে পরবর্তীতে এ উপজেলায় ব্যাপক জনপ্রিয় উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট সারের উৎপাদন ও ব্যবহার। উপজেলার চর উমেদ গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট পল্লী। 
তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে এ সার। গত এক বছরে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি ও ব্যবহার। মূলত সবজি চাষে এ সার বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন টেকসই করতে ঋণ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাষিরা আনারস আকারে বড় ও এর রং আকর্ষণীয় করতে রাসায়নিক ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, এলাকার বাইরে থেকে বিনিয়োগকারীরা এসে জমি বর্গা নিয়ে আনারস চাষ করছেন। তাঁদের মধ্যে রাসায়নিক প্রয়োগের প্রবণতা বেশি। আনারসে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করায় মানুষের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ মৌসুমে মধুপুরে ৫ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। গত বছর উপজেলার ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টরে আনারস চাষ করা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মধুপুর বনাঞ্চলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের লোকজন আনারস চাষ শুরু করেন। গারো সম্প্রদায়ের অজয় এ মৃ বলেন, পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে এ অঞ্চলে তাঁদের সম্প্রদায়ের লোকজন আনারস চাষ শুরু করেন। কয়েক বছরের মধ্যে এ আনারসের সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।বিজ্ঞাপন

গত দুই দশকে এ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। ফলে আনারস বাজারজাতকরণ অনেক সহজ হয়েছে। এখন বাইরে থেকেও বিনিয়োগকারীরা এসে জমি বর্গা নিয়ে আনারস চাষ করছেন। এসব বিনিয়োগকারীর মধ্যে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। ফলে যাঁরা রাসায়নিক ছাড়া চাষ করছেন, তাঁরা লোকসান গুনছেন।

কৃষক, কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং আনারস চাষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বাইরের বিনিয়োগকারীরা জমি বর্গা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের দিয়ে জমি চাষ করান। তাঁরা কৃষকদের দ্রুত পাকাতে ও রং সুন্দর করতে আনারসে রাসায়নিক ব্যবহারের নির্দেশ দেন।বিজ্ঞাপন

সূত্রগুলো আরও জানায়, আনারসের চারা রোপণের পর থেকে দ্রুত ফল আসা, ফল বড় করা, দ্রুত পাকানো ও রং আকর্ষণীয় করতে কয়েক ধাপে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত গাছে ৬০টি পাতা হওয়ার পর আনারস ধরে। কিন্তু ২৮টি পাতা হওয়ার পরেই ফল ধরার জন্য আনারসে রাইপেন, ইথিপ্লাসসহ ইথোফেন গ্রুপের রাসায়নিক দেওয়া হয়। এতে ফল আসার পর তা বড় করার জন্য প্লানোফিক্স, সুপারফিক্সসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দেওয়া হয়। এ ছাড়া আনারস পাকানোর জন্য এবং রং আকর্ষণীয় করতে আবার রাইপেন, ইথিপ্লাসসহ ইথোফেন গ্রুপের নানা রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়।

মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার

মধুপুর উপজেলা সদরের অধিবাসী হীরা তালুকদার গড় এলাকায় জমি বর্গা নিয়ে আনারস চাষ করেন। তিনি জানান, ক্রেতারা বড় এবং ভালো রঙের আনারস বেশি কেনেন। তাই বাধ্য হয়ে রাসায়নিক ব্যবহার করেন। এতে মুনাফা বেশি হয়। বিভিন্ন সার ও কীটনাশক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসব রাসায়নিক সরবরাহ করছে। এসব রাসায়নিকের বোতলের গায়ে পাকানোর জন্য ব্যবহারের নিয়ম লেখা থাকে না। কিন্তু কৃষকেরা পাকানোর জন্য সব সময় এগুলো ব্যবহার করেন। একাধিক কৃষক জানান, দ্রুত ফল ধরা এবং ফল বড় হওয়ার জন্য ১০ লিটার পানিতে ২ থেকে ৩ মিলিলিটার রাসায়নিক ব্যবহারের কথা বলা হয়। তবে কোনো কোনো কৃষক ১০ লিটার পানিতে ২ থেকে ৩ মিলিলিটারের স্থলে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পর্যন্ত রাসায়নিক মিশিয়ে আনারসে ছিটান। এতে আনারস দ্রুত পেকে যায় ও রং সুন্দর হয় এবং একসঙ্গে পুরো জমির আনারস বাজারজাত করা যায়।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য সংরক্ষণ) আরিফুর রহমান জানান, ব্যবহারবিধি অনুযায়ী রাসায়নিক প্রয়োগ করলে কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।

গত শুক্রবার বেরিবাইদ, গাছাবাড়ি, জয়নশাহী, পীরগাছা, মহিষমারা এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আনারসের বাগানে অনেকে রাসায়নিক ছিটাচ্ছেন। তাঁরা বলেন, রাসায়নিক ছাড়া চাষ করা আনারস আকারে ছোট হয়। সম্পূর্ণ হলুদ হয়ে পাকে না। অপরদিকে রাসায়নিক ব্যবহার করলে রং আকর্ষণীয় হয় ও ফলও বড় হয়। ক্রেতারা এসব বড় ফল ও হলুদ রং দেখে আকৃষ্ট হন।বিজ্ঞাপন

এসব রাসায়নিক কোথা থেকে কেনেন? জানতে চাইলে চাষিরা বলেন, মধুপুর অঞ্চলে শতাধিক দোকানে এসব রাসায়নিক বিক্রি হচ্ছে। এগুলো সব সময় কিনতে পাওয়া যায়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএম) শফিকুল ইসলাম বলেন, আনারস বড় করা ও পাকানোর জন্য যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে নানা জটিল রোগ হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এসব রাসায়নিক ব্যবহার করলে ওজন কমে যেতে পারে এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কোকোডাস্ট দিয়ে কিভাবে জৈব সার তৈরি করা হয়

বাংলাদেশে নারিকেলকে বলা হয় গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তি। ঐতিহ্যগতভাবে এদেশে নারিকেল চাষ হয় বাড়ির আঙিনায়। নারিকেল চাষে তাই বাড়তি কোনো জায়গা জমির দরকার হয় না। নারিকেল গাছের ছায়া বসতবাড়িতে সাথী ফসল হিসেবে অন্যান্য ফল ও শাকসবজি চাষ করতেও সহযোগিতা করে। রোপণ করার ৬-৭ বছর পর ফল আসে এবং বিরামহীনভাবে ৫০-৬০ বছর তা চলতে থাকে। বিস্ময়কর এ ফলদ বৃক্ষের ফুল, ফল, কাণ্ড পাতা বছরব্যাপী কোনো না কোনোভাবে আমাদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। কৃষকের কাছে তাই নারিকেল সবচেয়ে সমাদৃত গাছ। নারিকেল থেকে উত্তম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ডাবের পানি পাওয়া যায়। নারিকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ এবং আঁশজাত দ্রব্য তৈরি করা যায়।

সবশেষে নারিকেলের তুষ (কোকোডাস্ট) থেকে ভালোমানের জৈব সার তৈরি হয়ে থাকে। বরিশাল অঞ্চলের স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর), খুলনার ফুলতলা, বাগেরহাট ও যশোর জেলার মনিরামপুর অঞ্চলে নারিকেলের ছোবড়া বা খোসা থেকে বংশানুক্রমে নারিকেলের খোসা, আঁশ ও আঁশজাত দ্রব্য করা হয়ে থাকে।

নারিকেলের খোসা

নারিকেলের খোসা থেকে আঁশ তৈরির সময় খোসার ৬৬% তুষ বা Cocodust বের হয়। নারিকেলের তুষে ৩১% সেলুলোজ ও ২৭% লিগনিন জাতীয় জৈব পদার্থ আছে এবং এর কার্বন ও নাইট্রোজেনের অনুপাত ১০৪:১ (Shekar, 1999)। সেলুলোজ খুব শক্ত বা Stable পদার্থ এবং এ কারণে নারিকেলের তুষ ১০-১৫ বছর পরও মাটিতে অক্ষতাবস্থায় থাকে। লিগনিন পচন-সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা অনুজীবের কার্যক্ষমতা কমায়। নারিকেলের তুষে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় সব রকম পুষ্টি থাকে বলে তুষ পচালে উৎকৃষ্ট জৈব সারে রূপান্তরিত হয়। ভারত, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে নারিকেলের তুষের সাথে চুন (প্রতি ১০০০ কেজি তুষে ৫ কেজি চুন) ও মাশরুম স্পন (Spawn) বা বীজ মিশিয়ে পচানো হয়। নারিকেলের তুষের মধ্যে মাশরুম চাষ করেও তা পচানো যায়। মাশরুমে ক্লোরোফিল না থাকায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। দৈহিক বাড়-বাড়তির জন্য মাশরুম নারিকেলের তুষের সেলুলোজ হতে শর্করা জাতীয় খাদ্য সংগ্রহ করে, ফলে নারিকেলের তুষের সেলুলোজ কঠিন পদার্থ হতে সরলতম পদার্থে রূপান্তরিত হয় ও সহজে পচে যায়। তুষে মাশরুম spawn ও চুন প্রয়োগ করলে ১ মাসের মধ্যে হিউমাস জাতীয় কালো পদার্থে পরিণত হয়।

হিউমাস রাসায়নিক সারের মতো পুষ্টি সমৃদ্ধ নয়, তবে মাটিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থেকে মাটির অনুজীবের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, মাটির ভৌত গুণাবলি ধরে রাখে এবং গাছের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য ও গৌণ সব ধরনের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে। হিউমাস মাটির Ca++, Zn++, Cu++ Fe++ ধাতব আয়ন ধরে রাখতে সাহায্য করে। এসব আয়নগুলো গাছের আয়ন বিনিময় ক্ষমতা বাড়ায়, মাটি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ফ্রি-রেডিকেল অপসারণ করে গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। ফ্রি-রেডিকেল এক ধরনের ক্রিয়াশীল যৌগমূলক যা গাছের ক্লোরোফিল নষ্ট করে দেয়। গাছের স্বাভাবিক রেচন প্রক্রিয়া (Metabolism) থেকেই ফ্রি-রেডিকেল তৈরি হয়। জমিতে বেশি বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে ফ্রি-রেডিকেলও বেশি তৈরি হয়। ফল জাতীয় সবজি যেমন টমেটো, করলার ক্ষেত্রে ফ্রি-রেডিকেলের কারণে একবার ফল আসলেই গাছের পাতা শুকিয়ে মারা যায়। এসব ধাতব আয়ন গুলো Super oxide dismutage (SOD) নামে এক ধরনের এনজাইম তৈরির মাধ্যমে ফ্রি-রেডিকেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

নারিকেলের তুষের বিশেষ গুণ হচ্ছে ওজনের ৮-১০ গুণ পানি ধারণক্ষমতা। তাই সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি জানা থাকলে নারিকেলের অব্যবহৃত এ তুষ সরাসরি নার্সারি ব্যবসা ও ফুল চাষে ব্যবহার করে যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণ কেন্দ্র যশোরের কর্মরত বিজ্ঞানীরা ২০০৮ সালে যশোর শহরতলীর চাচড়া এলাকায় কোকো ফাইবার মিল নামক কোম্পানির সহায়তায় নারিকেলের আঁশ তৈরি ও তুষ পচানোর ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করেন। ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাশরুমের বীজ ও চুন প্রয়োগ করে দ্রুত নারিকেলের তুষ পচানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। হাইড্রোলিক মেশিনে নারিকেলে তুষের ব্লক তৈরি করে তাতে চারা লাগানোর ওপরও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন।

নারিকেল থেকে জৈব সার তৈরি

নারিকেলের তুষ ফলের অংশ হওয়ায় গাছের বৃদ্ধির জন্য দরকারি সব পরিমাণ পুষ্টি বিশেষ করে পটাশিয়াম জাতীয় পদার্থ থাকে। পচানোর পর মাটিতে প্রয়োগ করলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য ভৌতিক গুণাবলি বৃদ্ধিসহ অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে দীর্ঘমেয়াদে গাছের পুষ্টি সরবরাহ ও বৃদ্ধি-সহায়তা প্রদান করে। তাছাড়া নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে অনেক রকমের এনজাইম (Enzyme) ও কোষীয় পদার্থ যা শিকড় দিয়ে গাছের মধ্যে প্রবেশ করে ও গাছের রোগ প্রতিরোধ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার বাড়তি ক্ষমতা প্রদান করে। নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে ৬০৭৫% জৈব পদার্থ, ০.৭৬/ নাইট্রোজেন, ০.৪% হারে ফসফরাস ও পটাশ, ০.২% সালফার ও ০.০০৪ বোরন।

কোকোপিটের ব্যবহার

০ ক্রমবর্ধমান হাইড্রোপোনিকউপায়ে সবজি চাষের জন্য কোকোপিট ব্যবহার করা হয় যেন কোনোভাবেই গাছ বা চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়;
০ কোকোপিট উদ্ভিদের শিকড় উন্নয়নের জন্য একটি চমৎকার স্তর এবং গাছ বা চারা রোপণ করার সময় কোনো এজেন্ট প্রয়োজন হলে জৈব সারের সাথে কোকোপিটের সংমিশ্রণে একটি গ্রোয়ার মিডিয়া তৈরি করে সরাসরি চারা তৈরি করা যেতে পারে;
০ কোকোপিট মাটির তুলনায় অনেক হালকা এবং টবে ব্যবহারের সময় খুব সহজেই কোকোপিটের ভেতর বাতাস চলাচল করতে পারে যার ফলে গাছ বেশি বেশি অক্সিজেন নিতে পারে;
০ কোকোপিট শোষক সময়কাল অনেক : ফলে এটা গাছে ধীরে ধীরে শোষিত হয়;
০ কোকোপিট একটি উচ্চ বাফার ক্ষমতাসম্পন্ন জৈব পদার্থ যা মাটির গুণাগুণ বজায় রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। কাকোপিটের পিএইচ (pH) সবসময় ৫.৫ থেকে ৭ থাকে যা সুস্থ উদ্ভিদ তৈরি করে এবং খুব সহজেই উন্নত মানের গাছপালা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং এর ফলে অনেক বেশি পরিমাণে ফসল সংগ্রহ করা যায়;
০ টবে মাটি ব্যবহার করলে ওজন বেশি হয়, কিন্তু কোকোপিট ব্যবহার করলে কম হয়। ছাদের ওপর অনেক টব ব্যবহার করলে লোড ক্যাপাসিটি কম হয়;
০ কোকোপিট দিয়ে যে কোনো প্রকার চারা তৈরি বা গাছ লাগানো যেতে পারে, নির্দিষ্ট কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। আধুনিক গ্রিন হাউসে কোকোপিটকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে

ফসল উৎপাদন করে থাকে:

০ কোকোপিট দিয়ে টবে গাছপালা লাগালে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পানি দিলে টবের ভেতর কখনও জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না, পানি সাথে সাথে দ্রুত সব জায়গাতে ছড়িয়ে দেয় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণমতো পানি ধরে রেখে গাছকে সতেজ রাখে এবং কখনও পানি আবদ্ধ হয়ে গাছ মারা যায় না ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব চাহিদার জোগান দিলেও আমাদের দেশে নারিকেল অনেকটা অবহেলিত রয়ে গেছে। নারিকেল গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে নারিকেলের ফলন ও উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। একই সাথে নার্সারির চারা তৈরি কলম লাগানোর ক্ষেত্রে কোকোডাস্ট নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। একে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির প্রক্রিয়া

কেঁচো মানুষের একটি অন্যতম উপকারী প্রাকৃতিক ক্ষুদ্র প্রাণী। এ প্রাণী যে মাটি চাষাবাদের কাজে উপকারে আসে তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করিনি। প্রধানত কেঁচো উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে তুলে থাকে। এসব কাজের সাথেই কেঁচোর সারও তৈরি হয়। কেঁচোর দ্বারা জৈব সার তৈরির জন্য এ সাথে তরকারির খোসা, গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও নাড়িভুড়ি, পাতাসহ পচা আবর্জনারও প্রয়োজন হয়।

কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করতে হলে প্রথমে গর্ত তৈরি করতে হয়। এরপর এসব গর্তে ঘাস, আমের পাতা বা খামারের ফেলে দেয়া অংশ এসবের যেকোনো একটি ছোট ছোট করে কেটে এর প্রায় ২৫ কেজি হিসেবে নিতে হয়। তবে আবর্জনা গর্তে ফেলার আগে গর্তেও তলদেশসহ চারপাশে পলিথিন দিয়ে মুড়ে দিতে হবে। এতে করে গর্তের কেঁচো পিট থেকে বাইরে যেতে পারবে না।

কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির জন্য প্রথমেই পলিথিন বিছানোর পরে গর্তের নিচে ১৫ সে. মিটার পুরু করে বেড বানাতে হবে। এ বেড তৈরির জন্য ভাল মাটি ও গোবর সমপরিমাণে মিশাতে হবে এবং এসব মিশানো গোবর ও মাটি পরে কেঁচোর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সাধারণত এসব কম্পোস্ট তৈরির কাজে দুই ধরনের কেঁচোর জাত রয়েছে। তাহলো-এপিজিক ও এন্ডোজিক নামের। এপিজিক জাতগুলো দেখতে লাল রঙের এরা মাটির উপরের স্তরেই বিচরণ করে থাকে। এরা সাধারণত সার উৎপাদন করতে পারে না তবে এরা মাটির ভৌত ও জৈব গুণাবলির উন্নতি করে।

কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির জন্য এসব গর্ত গোবর ও মাটি দিয়ে ভর্তি করার পর এতে প্রায় ২ হাজার কেঁচো প্রয়োগ করতে হয়। কেঁচো প্রয়োগের পর গর্তের উপরিভাগ পাটের ভিজানো চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং সারের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য গর্তেও উপরিভাগে ছায়া প্রদানের ব্যবস্থা খুবই জরুরি।

এসব কেঁচো যেসব খাবার খায় তা গর্তে নিয়মিতভাবে সরবরাহ করতে হবে। কেঁচোর খাবারের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ঘাস, খামারজাত পদার্থ, আখের ও কলার ফেলে দেয়া অংশ এসব। এছাড়া এসব অংশ মাটিতে পচে জৈব সারও তৈরি হয়।

অন্যান্য কম্পোস্ট তৈরির চেয়ে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করতে সময় কম লাগে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে একটি আদর্শ ভার্মিকম্পোস্ট ১.৫৭% নাইট্রোজেন, ১.২৬% ফসফরাস, ২.৬০% পটাশ, ০.৭৪% সালফার, ০.৬৬% ম্যাগনেশিয়াম, ০.০৬% বোরণ রয়েছে। এছাড়া কেঁচো কম্পোস্টে অন্যান্য কম্পোস্টের চেয়ে প্রায় ৭-১০ ভাগ পুষ্টিমান বেশি থাকে।

সাধারণত পিপঁড়া, উইপোকা, তেলেপোকা, মুরগি, ইঁদুর পানি এসব কেঁচোর বড় শত্রু। এরা যেন কেঁচোর কাছে আসতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

কেঁচো কম্পোস্টের উপাদান:

উপাদান  ও শতকরা হার
নাইট্রোজেন ১.০
ফসফেট ১.০
পটাশিয়াম ১.০
জৈব কার্বন ১৮.০
পানি ১৫-২৫

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কেঁচো সারে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে মর্জিনারা

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। সৃষ্টির শুরু থেকেই দেশের কৃষকদের লক্ষ্য ছিল কিভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্র অনেকটাই দখল করেছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। দেশে ঘটেছে কৃষি বিপ্লব। তথাপি বিলুপ্ত হয়নি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। আবার কখনো কখনো প্রকৃতির সঙ্গে বিজ্ঞানের মিশেলে কৃষি পদ্ধতি হয়েছে আরো সমৃদ্ধ। যেমন কেঁচো সার একটি যথার্থ উদাহরণ।

বর্তমানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে উৎপাদন করা হচ্ছে কেঁচো সার। আধুনিক যুগে যা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম বাংলায়। বৈজ্ঞানিক উপায়ে কেঁচো সার উৎপাদন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। একজনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এমন পেশায় নিজেকে শামিল করছেন। এতে পরিবারগুলোর মধ্যে ফিরছে স্বচ্ছলতা।

তাদেরই একজন মিনতি রাণী সরকার; বয়স ত্রিশের কোটায়। যিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে এনেছেন পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা। দিনাজপুর জেলার বিরলে কেঁচো সার উৎপাদনের ধুম পড়েছে। আর এর অনেকটাই করছেন নারীরা। ঘরে ঘরে কেঁচো সার তৈরি করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি তারা সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতাও। কেবলমাত্র মিনতি রাণীই নন। এলাকার অনেকেই এখন নিজেদেরকে কেঁচো সার তৈরিতে নিয়োগ করেছেন।

সম্প্রতি দিনাজপুরের ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথমে উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাঁচ নারী কেঁচো সার তৈরিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নেন। এর মধ্যে গ্রামের বিলপাড়ার পুতুল চন্দ্র দেবশর্মার স্ত্রী লিপা রাণী একজন।

লিপা রাণী জানান, প্রথমে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থেকে ঋণ নিয়ে তারা কেঁচো সার তৈরির কাজ শুরু করেন। সাত মাস আগে ছয়টি রিং, কেঁচোসহ যাবতীয় উপকরণের জন্য খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু এরই মধ্যে পর্যায়ক্রমে তারা ৩০ হাজার টাকার কেঁচো সার বিক্রি করেছেন।
প্রথম ৬টি রিং দিয়ে শুরু করলেও এখন ২২টি রিংয়ে কেঁচো সার তৈরির কাজ চলছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, স্বাবলম্বী হতে বিরল উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামের বিলপাড়ার ঘরে ঘরে নারীরা কেঁচো উৎপাদন করছেন। তবে তাদের প্রত্যাশা, সরকারিভাবে এ কাজে বিনাসুদে ঋণ পেলে আরও বড় আকারের খামার তৈরিসহ সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

এভাবে হতে পারে শত শত নারীর ভাগ্যোন্নয়ন। বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এই প্রতিবেদককে জানান, বিরলের নারীদের ভাগ্যোন্নয়ন ও কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে। এক্ষেত্রে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও কাজ করছি আমরা।

এদিকে লিপা কিংবা মিনতি নয়, তাদের দেখাদেখি এ কাজে এগিয়ে এসেছেন দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শতাধিক নারী-পুরুষ। এ কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বাইরেও।

পার্শ্ববর্তী বিজোড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামেও তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার। স্থানীয় আবদুল আলীম বলেন, যারা আগে কেঁচো সার তৈরি করেছেন তাদের থেকে আমরা সহযোগিতা নিয়েছি। পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে এলাকায় কেঁচো সার তৈরি ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে বিজোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম কাদির বলেন, কেঁচো সার তৈরির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এতে শুধু নারীরাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে না, কৃষিতে কমে যাবে রাসায়নিক সারের চাহিদাও।

এদিকে পরিবেশবান্ধব জৈব কম্পোস্ট সার ও সবজি উৎপাদনে এলাকার নারীদের নিয়ে কাজ করছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের চুহড় গ্রামের মর্জিনা খাতুন।

তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের কম্পোস্ট সার, কেঁচো সার তৈরি করে ধান, ভুট্টা, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, আলু, শিম, শশা উৎপাদনে ব্যবহার করেছেন। এতে তার সাফল্যও এসেছে। গত একবছরে তার সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মর্জিনা বেগম এ এলাকার মডেল চাষী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আমরা তার মতো অন্যদেরও নানা ধরনের সহযোগিতা করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com