আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

কেঁচো সারে কর্মসংস্থান হচ্ছে যুবক ও নারীদের

এই সার উৎপাদনের মাধ্যমে একজন কৃষক মাসে ন্যূনতম ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন

সিলেট অঞ্চলে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)। সবজি চাষে ব্যবহারে সফলতা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় কৃষকেরা এখন রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো সার ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। 

কৃষি বিভাগ জানায়, ভার্মি কম্পোস্ট রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে সার ফল, ফুল ও সবজি কিংবা রবিশস্য চাষে ব্যবহার হয়। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদন হচ্ছে এ সার। গত কিছুদিন ধরে দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। সারটি ইতোমধ্যেই শিক্ষিত যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আপাতত প্রতিমাসে বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন কেঁচো সারের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে স্থানীয়ভাবে “পঞ্চখ- সার” নামে তা বাজারজাত করে একজন কৃষকের প্রতিমাসে আয় হচ্ছে কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে রাসায়নিক সার ছাড়াই ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে পারছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট-এর উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন আহমদ জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) এর মাধ্যমে সিলেটের ১৩ উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও মাটির উত্তম স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবছর একদিনের এ প্রশিক্ষণে বিভিন্ন উপজেলার ৯০-১২০ জন কৃষক অংশ নেন। তাদের নিয়েই বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে “উপজেলা প্রডিউসার অর্গানাইজেশন”। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় শাহীন নামের একজন কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। বিয়ানীবাজারেও অনেকে এ ক্ষেত্রে সাফল্য পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষিত সদস্যরা উষ্ণ স্থানে ২০টি পাকা রিংয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেঁচো, ১৫ দিনের পুরনো গোবর এবং কলা গাছ/কচুরিপানা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে রাখেন। এ থেকে ৩০-৪৫ দিনে উৎপাদন হবে এক থেকে দেড় মেট্রিক টন কেঁচো সার। এ সার বিক্রির বাজার মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। প্রথমবার এতে সর্বোচ্চ খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে প্রতিমাসে কেঁচো বিক্রি করে আরও ৮-১০ হাজার টাকাসহ কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব। এভাবে যত বেশি রিং ব্যবহার করা হবে কৃষক তত বেশি লাভবান হবেন। রিং হলে ভালো, নতুবা পলিস্টারের বস্তায় ভরেও কেঁচো সার উৎপাদন করা যায়। 

উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের পুরুষপাল গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুছ জানান, গত দুই বছর শুধুমাত্র নিজের জমিতে রবিশস্যের জন্য ৪টি রিংয়ে কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহার করেছেন। এবার কৃষি কর্মকর্তার উৎসাহে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ২০টি রিং ব্যবহার করছেন। এ থেকে তার কমপক্ষে এক মেট্রিক টন কেঁচো সার উৎপাদন হবে। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় তার মতো আরও ২০-২৫ জন প্রশিক্ষিত কৃষক এ সার উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন। 

সরকারি একটি প্রকল্পে কাজ করেন শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগর গ্রামের শিক্ষিত তরুণী রিতাঞ্জলী। কেঁচো সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াতে তিনি চাকুরির ফাঁকে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদনে হাত দিয়েছেন। গোলাপগঞ্জের এক কৃষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকায় তিন কেজি কেঁচো কিনেছেন। এবার ২০টি রিংয়ের কেঁচো সার বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। 

উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দুবাগ গ্রামের কৃষাণী পারুল বেগম জানান, প্রথমে ৬টি রিং দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করলেও পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আরও ৬টি রিং যুক্ত করেছেন। সম্প্রতি ২১০ কেজি সার ও ৭ হাজার টাকার কেঁচো বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। 

একইভাবে বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃষক আব্দুর রব, ময়নুল ইসলাম, মঈন উদ্দিনসহ আরও অনেকেই “পঞ্চখ- সার” বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন। তারা এ সার দিয়ে নিজের ফসল ফলানোর পাশাপাশি বিপণনের মাধ্যমে আয় করতে চান মোটা অংকের টাকা। 

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান বলেন, কেঁচো সার দিলে ফসলের উৎপাদন বেশি ও ফল বা সবজি সুস্বাদু হয় । এ জন্য আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার উৎপাদনে কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করছি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা গুণগত মান বজায় রেখে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। এ থেকে কৃষক মাসে ন্যূনতম ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, “বিয়ানীবাজারে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে মাসে ৫০ মেট্রিক টন কেঁচো সার বা ‘পঞ্চখ- সার’ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আবুল কাশেম বলেন, “গবেষণায় সিলেট অঞ্চলে ফসল উৎপাদনে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এ সার ব্যবহারে বাঁধা কপি, ফুলকপি ও টমেটোর ভালো ফল হয়। পাশাপাশি মাটিতে জিংক ও আর্সেনিকের দূষণ রোধেও সহায়ক এ সার। এ নিয়ে সিকৃবিতে তার অধীনে একজন শিক্ষার্থী পিএইচডি করেছেন। অপরজন পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ করছেন।”

জৈব

আবর্জনা যখন উৎকৃষ্ট জৈব সার

যে বস্তুকে মানুষ বর্জন করতে চায়, সেটাই বর্জ্য। এই সরল সংজ্ঞাকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিয়ে আমরা এতকাল আবর্জনাকে ‘আবর্জনা’ই মনে করে এসেছি। বর্জ্যও যে সম্পদ, সেটি আমরা বুঝতে চাইনি। সে কারণে আবর্জনা এখন বোঝা হয়ে বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপকে বিপন্ন করে চলেছে। বিঘ্ন ঘটাচ্ছে জীবমণ্ডলের স্থিতাবস্থায়। বর্জ্য মোকাবিলা এখন পরিবেশ রক্ষার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া যেকোন সবজির খোসা, মাছের আঁশ- কাটা, মোরগ-মুরগির নাড়িভুঁড়ি-হাড়, ভাত, ডাল, রুটি, চা, তরিতরকারি থেকে শুরু করে গাছের পাতা, পুরোনো কাগজ, খড়খুটো, ঘাস সবকিছু থেকে এই জৈব সার তৈরি করা যায়। এ সারকে আবর্জনা সারও বলা যায়। তবে আবর্জনা থেকে এ সার তৈরির বেলায় কিছু নিয়ম কিন্ত আপনাকে মানতে হবে। আর সে নিয়মকানুন কি ? সেটাই নীচে আলোচনা করার চেস্টা করবো । আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে একটা নির্দিষ্ট গর্তে ফেলতে হবে। এক মিটার লস্বা X এক মিটার প্রস্থ X এক মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরী করে সেখানে আবর্জনা সংরক্ষণ করতে হবে। এই আবর্জনা থেকে যদি জৈব সার তৈরি করা যায়, তাহলে একদিকে যেমন উৎকৃষ্ট সার পাবো অন্যদিকে আমাদের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর থাকবে । আবর্জনা থেকে তৈরি জৈব সারে নাইট্রোজেন কম থাকে। এ জন্য এক লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে আবর্জনায় ছিটিয়ে দিলে সেই ঘাটতি পূরণ হবে। এটা এমনভাবে ছিটাতে হবে, যেন আবর্জনা থেকে দরদর করে পানি না পড়ে, বরং হাতে দিয়ে চাপ দিলে আঙুলের ফাঁকে পানি জমে। সারের গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য গর্তে দুই কেজি ফসফেট সার ভালো করে ছিটিয়ে দিতে পারেন।

এরপর গর্তে জমানো আবর্জনার ওপর মাটি দিয়ে তিন মাস আটকে রাখতে হবে। তিন মাস পর গর্তের আবর্জনাগুলো একই মাপের অন্য একটি গর্তে বদল করে দিতে হবে। এর ৬ সপ্তাহ পর থেকে এই সার ব্যবহার করার উপযোগী হয়ে যাবে। রোদে শুকিয়ে বস্তায় ভরে এই সার অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়। ( CAJ ) বিষ্ঠা থেকে কম্পোস্টঃ হাঁস -মুরগীর বিষ্ঠা প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট গর্তে ফেলতে হবে। এক মিটার প্রস্থ X এক মিটার গভীর X তিন মিটার লম্বা গর্ত করে নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত পলিথিন বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর প্রতিদিন বিষ্ঠা সংগ্রহ করে গর্তে রাখতে হবে। বিষ্ঠার পরিমাণ ১০ কেজি হলে আড়াই লিটার পানি এবং আধা কেজি চুন ছিটিয়ে দিতে হবে। একইভাবে আগের মতোই গর্তে জমানোর প্রথম ১৫ দিন, প্রতি ৩ দিন পরপর উল্টে পাল্টে দিতে হবে। এরপর প্রতি ৭ দিনে একবার নাড়াচাড়া করে দিলেই হবে। কম্পোষ্টের মান বাড়াতে গর্ত বিষ্ঠা দিয়ে ভর্তি হয়ে গেলে ২ কেজি ফসফেট বিষ্ঠার ওপর ছিটিয়ে দিতে হবে। এবার পলিথিন দিয়ে ২ মাস আটকে রাখতে হবে। কপোষ্ট পরীক্ষাঃ ২ মাস পর বিষ্ঠাগুলো গাছ পচাঁ গন্ধের মত গন্ধ সৃষ্টি করবে। কপোষ্ট দেখতে হবে গাঢ় বাদামি রঙের। শরীরে লাগলে গরম অনুভূত হবে না। এ রকম কপোষ্ট জমিতে সার হিসাবে প্রয়োগ করা যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কেঁচো সার তৈরি করে সফল কৃষক তসলিম

যশোরের কেশবপুরে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক শেখ তসলিম উদ্দিন। তার তৈরি এ সার জমিতে ব্যবহার করে এলাকার কৃষক বিষমুক্ত ফসল ও সবজি উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন। এছাড়া কৃষি অফিসের পরামর্শে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির গুনাগুন ঠিক রাখতে কৃষকরা তার উৎপাদিত কেঁচো সার ব্যাপকভাবে ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছেন।

উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া গ্রামের কৃষক শেখ তসলিম উদ্দিন ২০১৩ সালে কৃষি অফিসের পরামর্শে তার আবাদ করা জমিতে ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিসরে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরির উদ্যোগ নেন। চিংড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় গোবর ও কেঁচোর সমন্বয়ে এ সার তৈরি করতে প্রথম দিকে তার প্রতিবেশীদের দ্বারা বেশ সমালোচিত হন। তবে তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে কার্যক্রম চালিয়ে যান।

উৎপাদিত কেঁচো সার তসলিম উদ্দিন নিজ জমিতে ব্যবহার করে ফসলের ব্যাপক ফলন পাওয়ায় আশপাশের কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হন। তখন থেকে এ জৈব সারের চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০২০ সালে ‘চিংড়া ভার্মি কম্পোস্ট’ নামে একটি খামার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের পৃথক ৩৫টি হাউজ তৈরি করেন। প্রতি হাউজে দশ বস্তা গোবর ও পাঁচ কেজি কেঁচো থেকে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ মণ কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদিত হয়। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তার এ খামার থেকে প্রায় ১৫০ মণ কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে। যা তিনি প্রতি কেজি ১২ টাকা দরে কৃষকের কাছে বিক্রি করছেন। এ খামারে চারজনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক আসাদুল সানা ও মিজানুর রহমান বলেন, কেঁচো সার ব্যবহার করে তাদের পটল ও ধান খেতের উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার কম করায় ফসল উৎপাদনে খরচ কমেছে এবং গত বছরের থেকে খেতে পটল ও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষক তসলিম উদ্দিন বলেন, কৃষকেরা জমির গুনাগুন ঠিক রেখে অল্প খরচে নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদন করতে পারে এ লক্ষ্যে তিনি ‘চিংড়া ভার্মি কম্পোস্ট’ খামার নিয়ে কাজ করছেন। প্রতি মাসে তার খামারে উৎপাদিত কেঁচো সার ও কেঁচো বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, কৃষক তসলিম উদ্দিনের ভার্মি কম্পোস্ট খামারে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন ও দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও মাটির সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কেঁচো সারের জুড়ি নেই। এ জৈব সার মাটির পানি ধারণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে জমিতে কম খরচে অধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব। এ কারণে প্রতিনিয়ত কৃষকদের কেঁচো সার ব্যবহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, কেঁচো সার প্রতি শতকে পাঁচ থেকে ছয় কেজি দিয়ে পরপর দু’বছর ব্যবহার করার পর মাটির উর্বরতা ফিরে এলে তখন তেমন রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে কেঁচো সারের চাহিদা বাজারে ব্যাপক বেড়েছে। বেকার যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বল্প বিনিয়োগে এ সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এতে ঝুঁকি ও পরিশ্রম দুটোই কম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জীবনের গতি পাল্টাল জৈব সার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শামছুল ইসলাম। পরের জমি বর্গা নিয়ে আধুনিক জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ।

এছাড়া কয়েক বছর ধরে আশপাশের কৃষকদের জৈব সার তৈরির প্রধান উপকরণ কেঁচো ছাড়াও তার ক্ষেতে হওয়া মানবদেহের উপকারী ঔষধি গাছ রোপণের শর্তে বিনামূল্যে বিলি করছেন। তার এ কর্মকাণ্ডের জন্য ২০১৪ সালে জাপানভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাঙ্গার ফ্রি ওয়াল্ডের দেয়া বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন।

শামছুল ইসলামের জৈব প্ল্যান্টে টিনের চালা দিয়ে তৈরি করা একটি ঘরে প্রায় পাঁচ শতাধিক মাটির হাঁড়ি বসানো রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ধরনের কেঁচো ছেড়ে দিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে কেঁচো কম্পোস্ট সার। আর সামনের প্রায় ১৫ শতাংশ জমিতে চাষ করা হয়েছে ঔষধি গুণে ভরা পুদিনা গাছ। ওই ক্ষেতের একপাশে জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে পুঁইশাক, ওল, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। 
 
শামছুল ইসলাম বলেন, বাবার অভাবের সংসার হওয়ায় ছোট বেলায় অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতে হয়েছে। এক সময়ে দিন কেটেছে অনাহারে অর্ধাহারে থেকে। এখন মাঠে নিজের চাষযোগ্য জমি না থাকলেও পরের জমি বর্গা নিয়ে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি।  প্রায় ১৫ বছর ধরে বাড়িতে জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত প্রতি মণ ৪শ টাকা দরে মোট ১৫শ মণ কেঁচো সার বিক্রি করেছি। আর কেঁচোও বিক্রি করেছি প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার। জৈব সারেই জীবনের গতি পাল্টে দিয়েছে। 
তিনি বলেন, গত বছর গ্রামের উম্মত আলীর কাছ থেকে বছরে দশ হাজার টাকার চুক্তিতে মাঠের মধ্যে ২৫ শতাংশ জমি দশ বছরের জন্য বর্গা নিয়ে একপাশে কম্পোস্ট সারের বড় প্ল্যান্ট করেছি। অন্যপাশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছি জৈব পদ্ধতিতে ঔষধি গাছ পুদিনাসহ বিভিন্ন সবজির।

তিনি আরো বলেন, ক্ষেতে লাগানো পুদিনা পাতা রমজানের প্রথম দিন থেকে বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকার পুদিনা পাতা বিক্রি করেছি। 

গ্রামের বাসিন্দা সালাউদ্দীন বলেন, শামছুল নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহিত করছেন। যা অনেকে সমাজের সচেতন মানুষ হয়েও করতে পারছি না। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কেননা এ সার দিয়ে উৎপাদিত ফসল বা সবজি সব সময়ই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। এ জন্য কৃষক শামছুলের কাজ চোখে পড়ার মতো। এছাড়া তিনি নিজে পুদিনার বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। 

তিনি বলেন, পুদিনা পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতায় ভালো কাজ করে। এছাড়া অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ, শরীরের ব্যথা দূর করা, স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করা, ক্যানসার প্রতিরোধসহ নানা রোগ নিরাময়ে কাজ করে পুদিনা। ফলে বাজারে এর চাহিদা অনেক। অসুস্থতার জন্য কেউ চাইলে অথবা বাড়িতে কেউ লাগাতে চাইলে শামছুল বিনামূল্যে দেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

সারের জন্য কৃষককে কোনো কষ্ট করতে হয় না: কৃষিমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের আমলে সারের জন্য কৃষককে কোনো রকম কষ্ট করতে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।  

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকবান্ধব ও কৃষকদরদী।তার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশে সার ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। সরকার একদিকে যেমন সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে তেমনি চার দফায় সারের দামও অনেক কমিয়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে ‘সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির’ সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সারের জন্য কৃষককে এখন কোনো রকম কষ্ট করতে হয় না। অথচ এ সার ব্যবস্থাপনায় বিএনপি ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে দু’বারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। তখন সারের জন্য কৃষককে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছিল, সারের দাবিতে কৃষককে আন্দোলন করতে হয়েছিল, প্রাণ দিতে হয়েছিল।  

সভায় জানানো হয়, নিবিড় ও সম্প্রসারিত চাষাবাদের প্রয়োজনে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাসায়নিক সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ টন, টিএসপি ৭ লাখ টন, ডিএপি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন ও এমওপি ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সারের চাহিদা ছিল ইউরিয়া ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন, টিএসপি ৫ লাখ, ডিএপি ১৫ লাখ টন ও এমওপি ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

কমিটির আহ্বায়ক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হাই, সংসদ সদস্য মো. জোয়াহেরুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো. মাহবুবুল ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে কেঁচো কম্পোস্ট সারের ব্যবহার বাড়ছে

লেখক

জেলার দেলদুয়ারে কৃষি জমিতে দিনদিন বাড়ছে জৈব বা ভার্মি (কেঁচো) কম্পোস্ট সারের ব্যবহার। ফলে রাসায়নিকমুক্ত যেমন ফসল ও খাবার পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি জমির উর্বরতাও ঠিক থাকে। ফলে স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছে কৃষক।


বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য যাতে নিরাপদ হয় সেই দাবি সবার। রাসায়নিক সার ও বিষ প্রয়োগ করে উৎপাদিত ফসল ও ভেজাল খাবারের কারণে রোগব্যাধি মহামারি আকার ধারণ করেছে। সেদিক থেকে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের বিকল্প নেই। রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈব সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন ভাল হয়। তাছাড়া অর্থেরও সাশ্রয় হয়। সে কারণে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার কৃষকরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কৃষি জমিতে জৈব বা কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছেন। তাই পর্যায়ক্রমে রাসায়নিক সার ও বিষের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার যাতে বাড়ানো যায় সেই উদ্যোগ কৃষি বিভাগ।


এর আগে উপজেলা কৃষি বিভাগ রাসায়নিক সারের পরির্বতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেলক্ষ্যে উপজেলার ২০ জন কৃষককে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্র্রশিক্ষণ দেয়া হয়। জমিতে কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে তারা সাফল্য পেয়েছেন। এদের একজন রিনা বেগম। সে প্রায় দেড় বছর আগে থেকে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার শুরু করে। কম্পোস্ট ব্যবহারে সুফল পাওয়ায় তার আশে পাশের এলাকার মানুষ তাকে অনুসরণ করছে। সরেজমিনে রিনা বেগমের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বারি আলু-৮, বারি টমেটো-১৪, বারি বেগুন-৮, বারি পেয়াজ-১, বারি শিম-৬, শাহি পেপে, বারি লাউ-৪, লিচু, আম, বারি আমড়া-২, কাঠাল, আখ, বারি আম-৩, হলুদ, আদা, বারি লেবু-১, আখ (রং বিলাস, চায়না, অমৃত), চাষাবাদ করছে। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের ফলে প্রতিটি ফসলই তার ভাল চাষাবাদ হয়েছে। ফলে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।


দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আর্দশ কৃষাণী রিনা বেগম জানান, তার ৬টা স্তুপ থেকে দুই মাস পর পর ৬ মণ করে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি সার ২৫ টাকা করে বিক্রিও করেন তিনি। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে সবজি চাষ করেন। এতে তার জমিতে ফলন ভালো হয়। বর্তমানে তার সবজির চাহিদা বাজারে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনাম অর্জনের পাশাপাশি তিনি এখন ভালো মুনাফা অর্জন করেছেন। রিনা বেগমের সাফল্য দেখে উপজেলার অন্য কৃষকরাও তাদের জমিতে জৈব সার ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছেন। এতে উৎপাদনও তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে। ফলে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে বাড়ছে জৈব সার বা কেঁচো কম্পোস্ট সারের ব্যবহার। রিনা বেগমের স্বামী মাইন উদ্দিন বলেন, রিনা বেগমের সাথে আমি প্রতিটি কাজে সহযোগিতা করে থাকি। এখন আশে পাশের এলাকার মানুষ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন ফসলের বীজ, ফসল বুননের নিয়ম জেনে যায়। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে আমাদের বাড়ির প্রতিটি ফসলের ফলন ভাল হয়। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করলে জমি (ভূমি) তার প্রাণ ফিরে পায়। পাশাপাশি খরচও কম হওয়ায় লাভ বেশি হয়।


এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব মাহমুদ বলেন, কেঁচো কম্পোস্ট বা জৈব সার ব্যবহার করলে ফলন ভাল হয় ও বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়। তাছাড়া মাটির গুণাগুন ভালো থাকে এবং মাটির উর্বরতাশক্তিও বৃদ্ধি পায়। এ উপজেলায় জমিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সর্বত্র কেঁচো কম্পোস্ট বা জৈব সার ব্যবহার ছড়িয়ে দেয়া গেলে মানুষ থাকবে নিরাপদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com