আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

কেঁচো বদলে দিল ভাগ্য

কেঁচো সার তৈরির কাজে ব্যস্ত এমদাদুল হক
কেঁচো সার তৈরির কাজে ব্যস্ত এমদাদুল হক

ঢাকার দোহার উপজেলার এমদাদুল হক। সিঙ্গাপুরে ছিলেন ১২ বছর। দেশে ফিরে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। এতে সফল হতে পারেননি। তত দিনে জমানো টাকাও শেষ। চলতে হতো ধারদেনা করে। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন কেঁচো জৈব সার (ভারমিকম্পোস্ট) সম্পর্কে। সেই কেঁচো সার বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন।
এমদাদুল হকের বাড়ি উপজেলার বানাঘাটা গ্রামের নিকড়া বটতলা এলাকায়। জীবিকার তাগিদে নব্বইয়ের দশকে বিদেশে গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন বিদেশি যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবসা। কিন্তু তাতে তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি। এমদাদুল বলেন, ব্যবসায় লোকসান হলেও তিনি নতুন উদ্যমে অর্থ লগ্নি করতেন। এভাবে নয় বছরে তাঁর অনেক টাকা লোকসান হয়। এরপর শুরু হলো কষ্টের জীবন। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ একদিন তিনি জানতে পারেন কেঁচো জৈব সার সম্পর্কে। বিষয়টি কী তা জানতে তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে যান। সেখানে পরিচয় হয় একজন কৃষিবিদের সঙ্গে। এরপরের গল্প ঘুরে দাঁড়ানোর।
২০১৪ সালের শুরুতে একটি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ১০ কেজি ধারণক্ষমতার দুটি চাড়ি (মাটির তৈরি পাত্র) দিয়ে এমদাদুল শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। দুটি চাড়িতে ১৪ কেজি গোবর, চার কেজি খড়কুটো ও ২০০ গ্রাম কেঁচো দিয়ে শুরু করেন সার উৎপাদন। দুটি চাড়ি থেকে মোট সার পেয়েছিলেন ১২ কেজি। প্রথম দিকে উৎপাদিত সার কলাবাগানে দিয়ে নিজের রাসায়নিক সারের চাহিদা পূরণ করতেন এমদাদুল। এরপর আস্তে আস্তে কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হতে থাকে এ সার। তিনিও বাড়াতে থাকেন সার উৎপাদন।
বর্তমানে এমদাদুল প্রতিটি ৭০০ কেজি ধারণক্ষমতার তিনটি হাউসে (সিমেন্ট দিয়ে তৈরি বড় আধার) সার উৎপাদন করছেন। ১৫০০ কেজি গোবর, ৪০০ কেজি কলাগাছের টুকরা ও ২০০ কেজি খড়কুটো দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের জন্য রাখা হয়। আর কেঁচো দেওয়া হয়েছে ৬ কেজি। বর্তমানে ১২ কেজির বেশি কেঁচো আছে হাউসে। কেঁচো সার প্রস্তুত হতে সময় লাগে দেড় মাস।
নিকড়া বটতলা মোড়ে একটি ছোট দোকান আছে এমদাদুলের। সেখানে তিনি কীটনাশক ও কেঁচো জৈব সার বিক্রি করেন। গ্রামের যে কৃষকেরা এ সার ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন, তাঁরা সবাই তাঁর দোকান থেকে সার নিয়ে যান। অনেকে তাঁর বাড়ি থেকেও নিয়ে যান। গ্রামের সব কৃষক কমবেশি এ সারের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এমদাদুল হক বলেন, ‘এ সার উৎপাদনে খরচ খুব বেশি না। আর এটা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। এ সার আমাকে আশার আলো দেখিয়েছে।’
এমদাদুলের নিজের দেড় বিঘা জমি আছে। সেখানে তিনি নরসিংদীর অমৃতসাগর কলার চাষ করেছেন। এ জৈব সার ব্যবহার করায় কলার মান ভালো হয়। ফলনও হয় অনেক বেশি। এমদাদুলের ছোট একটি পেঁপের বাগানও আছে। সেখানেও তিনি ব্যবহার করেন জৈব সার।
নিকড়া গ্রামের কৃষক মুজাহার হোসেন বলেন, ‘আমার দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষের সময় কেঁচো সার ব্যবহার করছি। এই সার ব্যবহার কইরা সুফল পাইছি। এখন থেকে এই সারই জমিতে দিমু।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এমদাদুল উপজেলায় কেঁচো সার উৎপাদনে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। এখন কৃষকের মধ্যে এ সার জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কেউ কৃষি অফিসের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করি। যাদের কেঁচোর প্রয়োজন হয়, তাদের কেঁচোও সরবরাহ করা হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

জৈব

কেঁচো সারে স্বাবলম্বী

চট্টগ্রামের পটিয়ার হাইদগাঁও গ্রামের সোহাফ উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার কেঁচো সার তৈরির কাজ করছেন।
চট্টগ্রামের পটিয়ার হাইদগাঁও গ্রামের সোহাফ উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার কেঁচো সার তৈরির কাজ করছেন।

লেখাপড়া করেছেন মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। দারিদ্র্যের কারণে বাবার সঙ্গে খেতে কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। তবে দমে যাননি সোহাফ উদ্দীন। কিছু একটা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদ ছিল তাঁর। ছয় বছর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উন্নত চাষাবাদের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পাশাপাশি শেখেন কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরির পদ্ধতি। এই কেঁচো সারই তাঁকে স্বাবলম্বী হওয়ার রাস্তা দেখিয়েছে। এখন মাসে তিন টন করে কেঁচো সার তৈরি করছেন তিনি। দিয়েছেন সার ও বীজ বিক্রির প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রামের পটিয়ার এ উদ্যোক্তা সোহাফ উদ্দিন (৩১) কেঁচো সার তৈরি করে এলাকায় তিনি বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। পটিয়ার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব হাইদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তিনি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই বাবার সঙ্গে খেতের কাজ শুরু করেন। অষ্টম শ্রেণির পর তাঁর লেখাপড়ার পাট চুকে যায় চিরতরে। ২০১৫ সালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি কৃষি প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয় তাঁর। সেখানে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। এরপর কেঁচো সার তৈরিতে পূর্ণ মনোযোগ দেন তিনি। 

সোহাফ জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বাড়ির পাশে এক শ টাকায় সামান্য জায়গা ভাড়া নেন তিনি। সেটির ওপরে টিনের ছাউনি দিয়ে ছোট্ট একটি ঘরে তৈরি করেন ছয়টি রিং। প্রতিটি রিংয়ে ১০০ থেকে ১২০ কেজি পচা গোবর, তরিতরকারির ফেলে দেওয়া অংশ, পাকা কলার খোসা ও কৃষি বিভাগ থেকে বিনা মূল্যে পাওয়া পাঁচ শ গ্রাম কেঁচো দিয়ে সার তৈরি শুরু করেন। এতে তাঁর খরচ পড়ে মাত্র তিন শ টাকা। ৪০ দিন পর প্রতিটি রিংয়ে ৪৫ কেজি করে কেঁচো সার তৈরি হয়। প্রতি কেজি কেঁচো সার বিক্রি হয় ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকায়। ফলে ছয়টি রিং থেকে উৎপাদিত কেঁচো সার বিক্রি করে তিনি পেয়েছিলেন পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মতো। প্রতি তিন মাস অন্তর কেঁচোর বংশ বৃদ্ধি হয়। এ কারণে নতুন করে কেঁচো কিনতে হয় না। সোহাফ উদ্দিন বলেন, কেঁচো সার তৈরিতে গরু-ছাগল অথবা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও নাড়িভুঁড়ির প্রয়োজন হয়। এসব তিনি ও তাঁর স্ত্রী জোগাড় করেন। 

তিনি বলেন, সামান্য পুঁজিতে পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় ২০১৮ সালে বাড়ির পাশে প্রতিবেশী খামারি আবু নঈমও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। এখন তাঁর কাছ থেকে গোবর পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত। উৎপাদিত কেঁচো সার চট্টগ্রামের বিভিন্ন নার্সারি, বাগানি ও ছাদবাগানের উদ্যোক্তারা তাঁর কাজ থেকে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে নিয়ে যাচ্ছেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩০ ফুট দীর্ঘ ও ১২ ফুট প্রস্থের ছয়টি লম্বা আকারের হাউসে তৈরি হচ্ছে কেঁচো সার। সার তৈরির খামারে সোহাফ উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার ও খামারি আবু নঈম ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন। প্রতি মাসে তিন টন করে কেঁচো সার তৈরি করছেন তাঁরা। সার বিক্রি করে প্রতি মাসে ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেল।

সোহাফ বলেন, কেঁচো সারের জন্য ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কৃষি উন্নয়ন মেলায় পুরস্কার পান তিনি। বর্তমানে মেসার্স সাতগাছিয়া বীজ ভান্ডার নামের একটি প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। বীজের পাশাপাশি কেঁচো সারও বিক্রি করছেন এই প্রতিষ্ঠান থেকে। 

হাইদগাঁও এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আবু ছায়েম বলেন, তাঁর প্রায় তিন একর জায়গায় নানান ফলদ ও সবজি বাগান রয়েছে। আগে ব্যাপক হারে নানান রাসায়নিক সার ব্যবহার করতেন। সোহাফ উদ্দিন কেঁচো সার তৈরির পর তাঁর থেকে সার কিনছেন। এতে খরচও কমেছে। আগে সারের পেছনে খরচ হতো ৪০০ টাকা। বর্তমানে খরচ পড়ে ১৬০ টাকা। 

পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, কৃষকেরা বিভিন্ন ফসলে রাসায়নিক সার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি ও জৈবিক উপাদান কমে যাচ্ছে। যার ফলে ফলনও কমে যাচ্ছে। কেঁচো সার ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা হচ্ছে। উর্বরতাও বাড়ছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন। অন্যদিকে রাসায়নিক মুক্ত ফলন উৎপাদনে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

পরিবারের সদস্যদের জন্য ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতেই ছাদে বা বারান্দায় ফল,সবজি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন মানুষ

ফুলগাছের চেয়ে ফল বা সবজি গাছ কেনায় ক্রেতারা বেশী আগ্রহী বলে জানান বিক্রেতারা

ঢাকার নিকেতনের বাসিন্দা সামিনা হোসেন অনেকদিন ধরেই বাসার ছাদে নানাধরণের মশলা, ফল ও সবজির বাগান করছেন।

এবারের বৃক্ষমেলা থেকেও বেশকিছু নতুন ধরণের ফল ও মশলার গাছ কিনছিলেন তিনি।

মিজ. হোসেন বলেন, “এতদিন বাসার ছাদে লেবু, আঙ্গুর, চাইনিজ কমলার মত নানা ধরণের ফলের চাষ করতাম, তা দিয়ে ৩-৪ জনের পরিবারের ফলের চাহিদা পূরণ হতো।”

সুযোগ সুবিধা পেলে এতদিনের বাগান করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বড় পরিসরে ব্যবসায়িকভাবে ফল, সবজি, মশলার চাষ করারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি।

তবে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, অধিকাংশ মানুষই ছাদে বা বারান্দায় ফল,সবজির চাষ করেন পরিবারের সদস্যদের জন্য টাটকা ও ভেজালমুক্ত খাবারের যোগান নিশ্চিত করতে।

কেন ছাদে ফল চাষ করতে চায় মানুষ?

অনেকেই বলেন বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধন বা শখ পূরণ করতেই ছাদে বা বারান্দায় বাগান করে থাকেন তারা।

তবে মেলায় আসা অধিকাংশ গৃহিণীই বলেন শুধু শখের বশে কিংবা বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যেই নয়, ছাদে বা বারান্দায় ফল বা সবজির গাছ লাগিয়ে পরিবারের চাহিদাও পূরণ করেন তারা।

ঢাকার শান্তিনগরের বাসিন্দা শাহিদা শামিম জানান বাড়ির ছাদে ফুলগাছের পাশাপাশি লেবু, মরিচ, পেয়ারা, পুঁইশাকসহ নানা ধরণের ফল, সবজি ও মশলার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। এসব গাছ থেকে সংগৃহীত ফসল দিয়ে তাঁর পরিবারের ফল,সবজি ও মশলার চাহিদা অনেকাংশেই মিটে যায়।

লালমাটিয়ায় একটি ফ্ল্যাট বাসার বাসিন্দা মিজ. সুমাইয়া জানান ছাদে জায়গা না থাকায় বারান্দাতেই ফল, সবজির গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

মিজ. সুমাইয়া বলেন, “নিজের বাগানের ফল বা সবজি দিয়ে পরিবারের চাহিদার কিছুটা পূরণ হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো পরিবারের সদস্যরা ভেজালমুক্ত ও টাটকা খাবারের নিশ্চয়তা পাচ্ছে – এই তো অনেক বেশী।”

পাশাপাশি ঘরের সাথে বাগান থাকায় একধরণের মানসিক প্রশান্তির অনূভুতি তৈরী হয় বলেও বাগান করতে ভালবাসেন মিজ. সুমাইয়া।

মেলায় অধিকাংশ ক্রেতাকেই দেখা যায় ছাদ বা বারান্দায় টবে লাগানোর উপযোগী নানা ধরণের ফুল, ফল, সবজি বা মশলার গাছ কিনতে।

সাধারণত ছাদবাগানে যেসব ফল দেখা যায়, যেমন পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, পেপে, সেগুলো বাদেও অ্যাভোক্যাডো, ড্রাগনফ্রুটের মত নতুন নামের বিদেশী ফল কিনতে দেখা যায় ক্রেতাদের।

ছাদে ফল বা সবজি চাষে কতটা আগ্রহী মানুষ?

ঢাকার বৃক্ষমেলায় ফুলগাছ বা নিছক সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চেয়ে এবার ফল ও সবজির গাছের চাহিদা অপেক্ষাকৃত বেশী বলে জানান বিক্রেতারা।

সোহরাব হোসেন নামের একজন বিক্রেতা বলেন, “মেলায় ফলের গাছের চাহিদাই বেশী। আর ফলের মধ্যে চেনা দেশী ফলের চেয়ে বিদেশী ফলের দিকেই বেশী আগ্রহ মানুষের।”

সোহরাব হোসেনের মতে ইন্টারনেটে টবে লাগানোর উপযোগী নতুন নতুন বিদেশী ফল সম্পর্কে ধারণা পেয়ে সেসব ফল কিনতে বেশী আগ্রহ প্রকাশ করে ক্রেতারা।

গতবছর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনই ঘোষণা দিয়েছিল, ঢাকার ভেতরে বনায়নের চাহিদা মেটাতে যারা বাড়ির ছাদে বাগান করবে, তাদের ১০ শতাংশ কর মওকুফ করা হবে। বৃক্ষমেলায় বিক্রেতারা ধারণা করছেন সিটি কর্পোরেশনের এরকম সিদ্ধান্তে উদ্বুদ্ধ হয়েই মানুষ ছাদে বাগান তৈরীতে আগের চেয়ে বেশী আগ্রহী হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

অর্গানিক খাদ্য: বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে কী?

অর্গানিক খাদ্য: বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে কী?

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ৫২ টি পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার জন্য আদালতের আদেশের পর খাদ্যে ভেজাল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশে যারা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত অর্থাৎ অর্গানিক খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করেন তারা বলছেন সম্প্রতি তাদের ক্রেতা হঠাৎ করেই খানিকটা বেড়ে গেছে।

ফল ও সবজিতে রাসায়নিক পদার্থ বা খাদ্যে ভেজাল নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকেই এই ব্যবসাতেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কিন্তু তারা নিজেরা আদৌ অর্গানিক সামগ্রী দিচ্ছেন কিনা সেটি কি কোনভাবে নিশ্চিত হচ্ছে?

ক্রেতারা কি বলছেন?

অর্গানিক ফল, সবজি বা খাবার এমন শব্দ লিখে অনলাইনে একটু খুঁজতেই অনেকগুলো সরবরাহকারীর নাম চলে এলো।

ফেসবুকেও এরকম নানা নাম চোখে পড়লো।

ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় এরকম একটি বিপণন কেন্দ্রে সদাই করছিলেন কলাবাগানের একজন বাসিন্দা।

অর্গানিক সামগ্রীর বিক্রেতার বলছেন তাদের ক্রেতা হঠাৎ করেই খানিকটা বেড়ে গেছে।
অর্গানিক সামগ্রীর বিক্রেতার বলছেন তাদের ক্রেতা হঠাৎ করেই খানিকটা বেড়ে গেছে।

তিনি বলছিলেন কি খাচ্ছেন সেনিয়ে তিনি আজকাল রীতিমতো আতংকিত। তিনি বলছেন, “ভীষণ আতংক আমার। যেখানে যাই সেখানেই দুষিত জিনিস। আমি জানিনা বাংলাদেশে কেন এত নকল, এত ভেজাল আমার মাথায় আসে না। কেন এত ওষুধ দেয়, ইনসেক্টিসাইড দেয় আমি বুঝি না।”

কি ধরনের অর্গানিক পণ্য বিক্রি হচ্ছে?

অর্গানিক বলে যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে তার বিপণন কেন্দ্রগুলোতে একটু অন্য আকৃতির লাউ, কলা, কুমড়ো বা মৌসুমি ফল চোখে পড়লো।

একটু জীর্ণ দেখতে সবজিও রয়েছে। এসব দোকানে সরিষার তেল, ঘি বা মধুর বোতলে নেই বাণিজ্যিক পণ্যের চাকচিক্য।

মোড়কে ঝলমলে লোগো, ছবি অথবা মডেলরাও অনুপস্থিত। অর্গানিক সামগ্রীর ব্যবসা করছে এমন প্রতিষ্ঠান হার্ভেস্ট।

এর কর্মী বাসুদেব সরকার বলছেন তারা কিভাবে এসব পণ্য সংগ্রহ করেন।

তিনি বলছেন, “আমাদের নিজেদের ডেইরি খামার আছে। সেখানে দুধ, দই হয়। নিজেদের ঘানিতে সরিষার তেল, নিজেদের ফার্মে ঘি হয়। চালডাল আমরা যেগুলো বিক্রি করি সেগুলো আমরা গ্রামে কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করি।”

অর্গানিক বিপণন কেন্দ্রগুলোতে লাউ, কলা, কুমড়ো বা মৌসুমি ফল একটু অন্য আকৃতির।
অর্গানিক বিপণন কেন্দ্রগুলোতে লাউ, কলা, কুমড়ো বা মৌসুমি ফল একটু অন্য আকৃতির।

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেও সংগ্রহ করছেন অনেকে।

মি. সরকারের কাছে জানতে চাইলাম কৃষক তাদের কি দিচ্ছেন কিভাবে যাচাই করা হয়?

তিনি বলছেন, “নির্দিষ্ট কিছু কৃষক আছে আমাদের। আমরা নিজেরা মাঠে গিয়ে পরিদর্শন করি। জিনিসটা দেখে যাচাই বাছাই করেই তারপরই আমাদের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।”

অর্গানিক কিনা সেটি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছে?

যে ভোক্তাদের কথা উল্লেখ করছেন বাসুদেব সরকার তাদের একজন নাইমা খানম কাছাকাছি সময়ে খাদ্য পণ্য নিয়ে আতংকের কারণে এসব দোকানে আসতে শুরু করেছেন।

তিনি বলছেন, “দাম অনেক বেশি। তারপর সব জায়গায় পাওয়াও যায়না। যেসব দোকান অর্গানিক বলে দিচ্ছে আদৌ কি সেগুলো অর্গানিক কিনা সেটাও আমরা জানিনা। তারপরও যাচ্ছি। যেন একটু ভেজাল কম খাই। সেই চিন্তা থেকে যাই।”

নাইমা খানমের এমন সন্দেহ একেবারে অমূলক তা বলা যাবে না।

যেসব খাদ্য সামগ্রী প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত বা অর্গানিক বলে বিক্রি হচ্ছে তা পরীক্ষা করা হয়না বলে জানিয়েছে খাদ্যের মান পরীক্ষা করার সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন বা বিএসটিআই।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা আরও বলছেন ফল বা সবজির মতো সামগ্রী তাদের আওতায় পরে না।

দেলোয়ার জাহান বলছেন অর্গানিক ফল বা সবজি খাবার খেলেই বোঝা যায়।
দেলোয়ার জাহান বলছেন অর্গানিক ফল বা সবজি খাবার খেলেই বোঝা যায়।

ভোক্তারা কিভাবে বুঝবেন তিনি আসলে কি খাচ্ছেন?

প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্রের সমন্বয়কারী দেলোয়ার জাহান বলছেন, সেটি খেয়েই বুঝতে হবে।

সেটি কেমন হতে পারে তার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলছেন, “প্রথমত দেখা। বাজারের বেগুন এখানকার বেগুন দেখতে অন্যরকম। ধরুন বাজারের কলা কিভাবে পাকে আর এখানকার কলাগুলো কিভাবে পাকে তার প্রসেস দেখলেই সে বুঝতে পারবে।”

তিনি বলছেন এর পরে পরীক্ষা হবে রান্নায়। প্রচুর সার বা অন্যান্য রাসায়নিক দেয়া সবজি বা ফল রান্না করার সময় প্রচুর পানি বের হয়।

আর তার মতে শেষ পরীক্ষা হবে খাবার টেবিলে।

তিনি বলছেন, “রাসায়নিক সার যদি দেয়া থাকে তাহলে আদি স্বাদ সে পাবে না। যেমন রাসায়নিক যুক্ত পুইশাক খেতে গেলে রাবারের মতো লাগবে। কিন্তু যদি রাসায়নিক না দেয়া থাকে তাহলে সে পুইশাকের যে আদি স্বাদ যে ঘ্রাণ সেটাই সে পাবে। সে বিশ বছর বা চল্লিশ বছর আগে ফিরে যাবে।”

তিনি বলছেন বেশিরভাগ লোকে মনে করে সবজি বা ফল চক চক করলে বা তা দেখতে সুন্দর হলে সেগুলোই ভালো। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। তার মতে মানুষজনকে বিষয়টা বোঝানো মুশকিল।

দায়ভার পুরোটাই সরকারের?

কিন্তু যেখানে দেশটির খাদ্যসামগ্রীর মান পরীক্ষাকারী সরকারি সংস্থাই বিষয়টি পরীক্ষা করছে না তাহলে অর্গানিক সামগ্রীর মান নিশ্চিত হচ্ছে কিভাবে?

ফরিদা আকতার বলছেন, খাদ্যে রাসায়নিকের দায়ভার পুরোটাই সরকারের।
ফরিদা আকতার বলছেন, খাদ্যে রাসায়নিকের দায়ভার পুরোটাই সরকারের।

বেসরকারি সংস্থা উবিনীগ দেশিও বীজ ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে বহুদিন ধরে কাজ করছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আক্তার বলছেন বাংলাদেশ অর্গানিক খাদ্য সরবরাহ করা বেশ মুশকিল কেননা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারের প্রবণতা এখানকার কৃষির সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে।

আর এর দায় তিনি পুরোটাই দিচ্ছেন সরকারের উপরে।

তিনি বলছেন, “আমরা এককালে সরকারি নিতি হিসেবেই কিন্তু বিষ ব্যবহার করেছি। এক সরকার না বহু সরকার এবং স্বাধীনতার পর থেকেই হয়েছে। একসময় এটাই বলা হয়েছিলো খাদ্য উৎপাদনে এটাই জরুরী। এর দায় তাই সরকারকেই নিতে হবে।”

তিনি আরও বলছেন, “এই নিতির কারণে এমন এমন সব বিষাক্ত পেস্টিসাইড, ইনসেক্টিসাইড এমনকি হার্বিসাইড ওটা দিয়েও কিন্তু সব নষ্ট করেছে। নিরাপদ খাদ্যের একটা ফরমুলা রয়েছে যে ‘ফ্রম ফার্ম টু ফোর্ক’ অর্থাৎ কৃষকের মাঠ থেকে খাবারের পাত পর্যন্ত, সেখানে আমার যে একদম শুরুর যায়গা সেটাকেই আমরা বিষাক্ত করে রেখেছি।”

তার প্রভাব পরছে মানুষের স্বাস্থ্যে। যা থেকে মুক্ত নয় কৃষক, বিক্রেতা, ভোক্তা বা কর্তৃপক্ষ কেউই।

এখন প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত পণ্যই এর সমাধান বলছিলেন ফরিদা আক্তার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com