আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

কেঁচো বদলে দিল ভাগ্য

কেঁচো সার তৈরির কাজে ব্যস্ত এমদাদুল হক
কেঁচো সার তৈরির কাজে ব্যস্ত এমদাদুল হক

ঢাকার দোহার উপজেলার এমদাদুল হক। সিঙ্গাপুরে ছিলেন ১২ বছর। দেশে ফিরে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। এতে সফল হতে পারেননি। তত দিনে জমানো টাকাও শেষ। চলতে হতো ধারদেনা করে। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন কেঁচো জৈব সার (ভারমিকম্পোস্ট) সম্পর্কে। সেই কেঁচো সার বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন।
এমদাদুল হকের বাড়ি উপজেলার বানাঘাটা গ্রামের নিকড়া বটতলা এলাকায়। জীবিকার তাগিদে নব্বইয়ের দশকে বিদেশে গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন বিদেশি যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবসা। কিন্তু তাতে তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি। এমদাদুল বলেন, ব্যবসায় লোকসান হলেও তিনি নতুন উদ্যমে অর্থ লগ্নি করতেন। এভাবে নয় বছরে তাঁর অনেক টাকা লোকসান হয়। এরপর শুরু হলো কষ্টের জীবন। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ একদিন তিনি জানতে পারেন কেঁচো জৈব সার সম্পর্কে। বিষয়টি কী তা জানতে তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে যান। সেখানে পরিচয় হয় একজন কৃষিবিদের সঙ্গে। এরপরের গল্প ঘুরে দাঁড়ানোর।
২০১৪ সালের শুরুতে একটি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ১০ কেজি ধারণক্ষমতার দুটি চাড়ি (মাটির তৈরি পাত্র) দিয়ে এমদাদুল শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। দুটি চাড়িতে ১৪ কেজি গোবর, চার কেজি খড়কুটো ও ২০০ গ্রাম কেঁচো দিয়ে শুরু করেন সার উৎপাদন। দুটি চাড়ি থেকে মোট সার পেয়েছিলেন ১২ কেজি। প্রথম দিকে উৎপাদিত সার কলাবাগানে দিয়ে নিজের রাসায়নিক সারের চাহিদা পূরণ করতেন এমদাদুল। এরপর আস্তে আস্তে কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হতে থাকে এ সার। তিনিও বাড়াতে থাকেন সার উৎপাদন।
বর্তমানে এমদাদুল প্রতিটি ৭০০ কেজি ধারণক্ষমতার তিনটি হাউসে (সিমেন্ট দিয়ে তৈরি বড় আধার) সার উৎপাদন করছেন। ১৫০০ কেজি গোবর, ৪০০ কেজি কলাগাছের টুকরা ও ২০০ কেজি খড়কুটো দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের জন্য রাখা হয়। আর কেঁচো দেওয়া হয়েছে ৬ কেজি। বর্তমানে ১২ কেজির বেশি কেঁচো আছে হাউসে। কেঁচো সার প্রস্তুত হতে সময় লাগে দেড় মাস।
নিকড়া বটতলা মোড়ে একটি ছোট দোকান আছে এমদাদুলের। সেখানে তিনি কীটনাশক ও কেঁচো জৈব সার বিক্রি করেন। গ্রামের যে কৃষকেরা এ সার ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন, তাঁরা সবাই তাঁর দোকান থেকে সার নিয়ে যান। অনেকে তাঁর বাড়ি থেকেও নিয়ে যান। গ্রামের সব কৃষক কমবেশি এ সারের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এমদাদুল হক বলেন, ‘এ সার উৎপাদনে খরচ খুব বেশি না। আর এটা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। এ সার আমাকে আশার আলো দেখিয়েছে।’
এমদাদুলের নিজের দেড় বিঘা জমি আছে। সেখানে তিনি নরসিংদীর অমৃতসাগর কলার চাষ করেছেন। এ জৈব সার ব্যবহার করায় কলার মান ভালো হয়। ফলনও হয় অনেক বেশি। এমদাদুলের ছোট একটি পেঁপের বাগানও আছে। সেখানেও তিনি ব্যবহার করেন জৈব সার।
নিকড়া গ্রামের কৃষক মুজাহার হোসেন বলেন, ‘আমার দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষের সময় কেঁচো সার ব্যবহার করছি। এই সার ব্যবহার কইরা সুফল পাইছি। এখন থেকে এই সারই জমিতে দিমু।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এমদাদুল উপজেলায় কেঁচো সার উৎপাদনে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। এখন কৃষকের মধ্যে এ সার জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কেউ কৃষি অফিসের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করি। যাদের কেঁচোর প্রয়োজন হয়, তাদের কেঁচোও সরবরাহ করা হয়।’

জৈব

স্বল্প সময়ে জৈব সার তৈরির কলাকৌশল

জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ বা হৃদপিণ্ড। মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য জৈব পদার্থের প্রয়োজন। সাধারণভাবে জৈব পদার্থ হলো গাছপালা ও জীবজন্তুর মৃতদেহ মাটিতে পচে যে পদার্থের সৃষ্টি হয় তাই। জৈব পদার্থ হতে সংগৃহীত, প্রক্রিয়াজাতকৃত বা রূপান্তরিত সারই হলো জৈব সার। আমাদের দেশে প্রচলিত জৈব সারের মধ্যে কম্পোস্ট সার খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে চার ধরনের কম্পোস্ট সার ব্যবহার করা হয়। যেমন সাধারণ কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট এবং ট্রাইকো কম্পোস্ট।

কুইক কম্পোস্ট হলো এমন একটি জৈব সার যা স্বল্প সময়ে তৈরি করা যায় এবং এর মধ্যে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানও বেশি থাকে।

কুইক কম্পোস্ট সারের উপকারিতা :
সাধারণ কম্পোস্ট সার তৈরি করতে ২ থেকে ৩ মাস লেগে যায়। কৃষক পর্যায়ে সবসময় সাধারণ কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কুইক কস্পোস্ট সার খুব কম সময়ে এবং সহজ উপায়ে তৈরি করা যায় অর্থাৎ মাত্র ১৪-১৫ দিন সময়েই কুইক কম্পোস্ট সার তৈরি করা যায়। ইহা মাটিতে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য করে। মাটিতে থাকা অনুজীবের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি করে। গাছের শিকড় ও অঙ্গজ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সবজি ফসলে মালচিংয়ের কাজ করে। সর্বোপরি মাটির উর্বরতা সুরক্ষা করে এবং ফসল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

কুইক কম্পোস্ট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ ও অনুপাত : পচা গোবর, কাঠের গুড়া এবং খৈল। উপকরণগুলোর মিশ্রণের অনুপাত হবে পচা গোবব : কাঠের গুড়া : খৈল= ৪: ২: ১ ।

কুইক কম্পোস্ট প্রস্তুত প্রণালি :
১ ভাগ খৈল ভালোভাবে গুড়া করে ২ ভাগ কাঠের গুড়া বা চালের কুড়া এবং ৪ ভাগ পচা গোবর বা হাঁস মুরগির বিষ্ঠার সাথে ভালো করে মিশাতে হবে। পরিমিত পরিমাণ পানি এমনভাবে মিশাতে হবে যেন সব উপাদান খুব ভালোভাবে মিশে। উপাদান ভালোভাবে মিশলে এক ধরনের খামির মতো তৈরি হয়। ওই মিশ্রণের খামি দিয়ে এমন করে বল তৈরি করা যায়। বলটি কোমর পরিমাণ বা ১ মিটার ওপর থেকে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে যদি বলটি একদম ভেঙে না যায় আবার একে বারে লেপ্টে না যায় তাহলে বুঝতে হবে পানির পরিমাণ ঠিক আছে। পরবর্তীতে মিশ্রণটি স্তূপ করে রেখে দিতে হবে যেন ভেতরে জলীয় বাষ্প আটকিয়ে পচনক্রিয়া সহজতর হয়। স্তূপটির পরিমাণ ৩০০ থেকে ৪০০ কেজির মধ্যে হওয়া উত্তম।

শীতকালে স্তূপের ওপর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। স্তূপ করার ২৪ ঘণ্টা পর হতে মিশ্রণের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্তূপের তাপমাত্রা ৬০০-৭০০ সে. এ পৌঁছায়। ওই পরিমাণ তাপমাত্রা অনুভূত হলে স্তূপ ভেঙে মিশ্রণ ওলট-পালট করে ১ ঘণ্টা সময়ের জন্য মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে এবং পুনরায় স্তূপ করে রাখতে হবে। স্তূপে বেশি পরিমাণ তাপ অনুভূত হলে খৈলের সমপরিমাণ পচা গোবর বা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা পুনরায় মিশিয়ে দিতে হবে। স্তূপের এ অবস্থায় অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ বের হবে। স্তূপটি প্রতি ২-৩ দিন পর পর ওলট-পালট করে পুনরায় স্তূপ করে রেখে দিতে হবে। এভাবে ওলট-পালট করতে থাকলে ১৪-১৬ দিনের মধ্যেই ওই মিশ্র জৈবসার জমিতে প্রয়োগ করার উপযোগী হয়। সার উপযোগী হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো এ সময় কোনো রকম গরম বা গন্ধ থাকবে না এবং কালো বাদামি বর্ণ ধারণ করবে, শুকনা এবং ঝুরঝুরে হবে।

সাবধানতা :
মিশ্রণটি উঁচু ও ছায়াযুক্ত স্থানে করতে হবে। স্তূপের নিচে পলিথিন শিট দিতে হবে যেন মিশ্রণে থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুণাগুণ মাটিতে চলে না যায়।

পুষ্টি উপাদান :
কুইক কম্পোস্টের প্রতি ১০০ কেজিতে ২.৫৬% নাইট্রোজেন, ০.৯৮% ফসফরাস, ০.৭৫% পটাশিয়াম পাওয়া যায়। তাছাড়া পরিমিত মাত্রায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য গৌন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

প্রয়োগমাত্রা :
জমির উর্বরতা ও ফসলের ওপর জমিতে কুইক কম্পোস্ট প্রয়োগের মাত্রা নির্ভর করে। সাধারণভাবে সবজি ফসলের জন্য প্রতি শতকে ৬ থেকে ১০ কেজি পরিমাণ প্রয়োগ করা যায়। এক্ষেত্রে জমি শেষ চাষের সময় শতাংশপ্রতি ৬ কেজি এবং পরবর্তীতে ২ বারে ৪ কেজি হারে নালা করে দিতে হবে। ধানের জমিতেও কুইক কম্পোস্ট দেয়া যেতে পারে। ধানের কুশি স্তরে শতাংশ প্রতি ৪ কেজি হারে ছিটিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সংরক্ষণ :
কুইক কম্পোস্ট ছায়ায় এমনভাবে শুকাতে হবে যেন হাতের মুঠোয় নিয়ে চাপ দিলে তাতে কোনো রস না দেখা যায়। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য চটের/পাটের বস্তায় বা মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়।
ফসল উৎপাদনের প্রধান মাধ্যম মাটি। জৈব পদার্থ মাটির প্রাণ। কুইক কম্পোস্ট ব্যবহার করে মাটির জৈব উর্বরতা রক্ষা করুন। কারণ জীবন ও সভ্যতার বিকাশে মাটির ভূমিকা অপরিসীম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

তানোরে রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট

তানোরে খরিপ-২ মৌসুমে ইউরিয়া এবং নন ইউরিয়া টিসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) এবং এমওপি (মিউরেট অফ পটাশ) সারের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে সারের দোকানে এসব সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলে তা কেজিতে ৫-১০ টাকা বেশী দিয়ে কিনতে হচ্ছে। রোপা আমন চাষীরা জানান, এখনই তাদের  ইউরিয়া সারের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন, তা না হলে আমন ফসল বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সার সংকটে রোপা আমন প সবজিসহ আগাম শীত-কালীন শাক-সবজি এবং মৎস চাষ ব্যহত হচ্ছে। কোথাও যমুনা ইউরিয়া পাওয়া যাচ্ছে না।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় মোট ৯ জন বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন)-এর সার ডিলার রয়েছে।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বছরে তিনটি মৌসুমে কৃষকের চাহিদা বিবেচনা করে সারের চাহিদা দিয়ে থাকেন এবং

সে অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানিয় কৃষকগণের অভিযোগ, এক শ্রেণীর ডিলার যমুনা ইউরিয়া ও উন্নতমাণের ডিএপি-টিএসপি উত্তোলনের পর মিলগেটে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়।এছাড়াও মোকাম থেকে সার নিয়ে আশার পর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গুদামজাত করার কথা থাকলেও তানোরে তা মানা হয় না। যে কারণে ডিলারগণ সহজেই কালোবাজারি করতে পারে। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে সুনিদ্রিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

পাহাড়ী নারী মারজান ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে এখন সফল উদ্যোক্তা

লেখক

ভার্মি কম্পোস্ট মানে কেঁচো সার উৎপাদন করে সেগুলো বাজারজাত করে পাহাড়ী নারী মারজান এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। হ্যাঁ রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা মারজাহান বেগমের কথা বলছিলাম। তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে সুখের মুখ দেখেছেন। এখন তার চোখ-মুখ নানান স্বপ্ন আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর। আগে স্বামীর আয়ে সংসারে চলতো, তখন সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু এখন তার কোনো সমস্যা নেই। নিজের আয় করা টাকাতেই সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চলে যায়।
সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার কথা জানালেন মারজাহান। তিনি জানান, তার স্বামী একজন সরকারি চাকরিজীবী। দুইছেলে নিয়ে তাদের সংসার। বসবাস করেন জেলা শহরের সিএ অফিস পাড়া এলাকায়। ছেলেরা ঢাকায় থেকে একটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা করছে। এই কেঁচো সার বিক্রি করেই বর্তমানে তাদের লেখাপড়ার খরচের চাহিদা মেটাচ্ছেন তিনি।


মারজাহান বেগম বলেন, কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের বিষয়টি প্রথমে তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তারপর স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন।
এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি বলেন, প্রথমে একটি ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করি, কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ। প্রথমে বাড়ির পাশেই একটি জায়গায় শুরু করি। এখন পাশেই আরেকটি জায়গা নিয়ে বড় আকারে স্থান নির্বাচন করে কাজ করছি।
তিনি বলেন, যদিও বর্তমানে কেঁচো সার ও কেঁচো বিক্রি করে তার প্রতিমাসে আয় ২০ হাজার টাকা তবে, তা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।


এই সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মারজাহান বেগম বলেন, কেঁচো সার উৎপাদন করতে প্রথমে কাঁচা গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, বিষমুক্ত সবুজ লতা-পাতা, তরকারির খোসা, ফলের খোসা এবং কলাগাছের কুচি দরকার হয়। আর ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির মূল উপাদান অস্ট্রেলিয়ান অ্যাজোজিক কেঁচো সংগ্রহ করতে হয়। তিনি বলেন, এ কেঁচোগুলো সংগ্রহ করি স্থানীয় একটি এনজিও থেকে। এ কাজে স্বামীও আমাকে অনেক সহযোগিতা করছেন।
মারজাহান বলেন, অল্প পরিমাণ জায়গায় হওয়াতে বর্তমানে প্রতিমাসে যে টাকা আয় হচ্ছে ভবিষ্যতে তিনি তা আরো বাড়াবেন। বর্তমানে কেঁচো সার বিক্রি করে টানাপোড়েনের সংসারের অভাব অনেকটাই ঘুচেছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে দিন কাটছে। কেঁচো সারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার একটি নার্সারি ও হাঁসের খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন তিনি।


কেঁচো সার বিক্রির ব্যাপারে এই উদ্যোক্তা বলেন, স্থানীয় চাষিরা খুচরা ও পাইকারি দামে বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে যান। তাছাড়া বড়-বড় সারের দোকানগুলো পাইকারি দামে বাড়িতে এসে সার সংগ্রহ করে।
নতুনদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ, পরিশ্রম ছাড়া কোনো পেশায় সফল হওয়া যায় না। তাই, মনযোগ দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করা দরকার। তাহলে পরিশ্রম ফল হিসেবে সফলতা ধরা দিবে এবং অভাব ঘুচে যাবে এক নিমেষে। এক্ষেত্রে বেকার তরুণ-তরুণীরা এগিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, যে কোনো বেকার যুবক অল্প জায়গায় স্বল্প পুঁজি দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারে। এক্ষেত্রে গৃহিণী মারজাহান বেগম তাদের উদহারণ।
‘অধিক ফসল উৎপাদনে এ সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেউ কেঁচো সার উৎপাদন করতে চাইলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে সব রকমের সহযোগিতা পাওয়া যাবে,’ যোগ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

মুলার ভালো ফলন পেতে যেসব সার ব্যবহার করবেন

মুলার ভালো ফলন পেতে কী কী সার ব্যবহার করব?

মুলা রবি মৌসুমের একটি প্রধান সবজি। প্রচুর ভিটামিন এ সমৃদ্ধ এ সবজির ভালো ফলন পেতে সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। মুলার জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং বোরাক্স দিতে হয়।

প্রতি হেক্টর জমির জন্য ইউরিয়া প্রয়োজন হবে ৩৭৫ কেজি, টিএসপি ২২৫ কেজি, এমওপি ২২৫ কেজি, জিপসাম ১০০ কেজি এবং বোরাক্স ১০-১৫ কেজি। শেষ চাষের সময় টিএসপি, জিপসাম, বোরাক্স সবটুকু এবং ইউরিয়া ও এমওপি সারের অর্ধেক জমিতে দিতে হবে। সারগুলো জমিতে সমানভাবে ছিটিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

বাকি ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান দুই ভাগে ভাগ করে দুই কিস্তিতে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম কিস্তি বীজ বপনের তিন সপ্তাহ পর এবং দ্বিতীয় কিস্তি বীজ বপনের পাঁচ সপ্তাহ পর প্রয়োগ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

যেভাবে সরিষার খৈল দিয়ে গাছের জন্য হরলিক্স তৈরি করবেন

আমরা যেমন আমাদের সন্তানদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করার জন্য বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেই তেমনি আমাদের ছাদে কিংবা বারান্দাতে লাগানো গাছ এর ও মাঝে মাঝে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেচারা গাছ তা বলতে পারে না। আমাদের নিজে থেকে বুঝে নিতে হয়।প্রশ্ন হল কীভাবে বানাবো গাছের জন্য পুষ্টিকর খাবার ? গাছের জন্য ও কি হরলিক্স হয় কিনা ? হয় হয় গাছের জন্য ও হয়।সরিষা খৈল গাছের জন্য হরলিক্স এর মতো কাজ করে । গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।এতে গাছের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নাইট্রোজেন আছে।কিভাবে তৈরি করবো এই হরলিক্স? আজ আমরা জেনে নিব কিভাবে এই সরিষার খৈল কে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারি আমাদের গাছের জন্যঃ

পদ্ধতি ১

# প্রথমে সরিষার খৈল গুঁড়ো করে নিতে হবে।
# তারপর টবের মাটি নিড়ানির মাধ্যমে খুঁড়ে নিতে হবে।
# ছোট গাছ হলে মূল থেকে ৩০সে.মি দূরে আর বড় গাছ হলে মূল থেকে ৬০ সে.মি দূরে এক চামচ সরিষার খৈল গুঁড়ো প্রয়োগ করতে হবে।
# এভাবে সরিষার খৈল মাসে একবার ব্যবহার করতে হবে।

পদ্ধতি ২

# প্রথমে ২৫০গ্রাম সরিষার খৈল নিতে হবে।
# তারপর এতে ৫ লিটার পানি মেশাতে হবে।
# ১০-১২ দিন ভিজায়ে রাখতে হবে।
#২/৩ দিন পর পর নাড়া দিতে হবে।
# তার পর ভিজানো পানি ছেকে গাছের গোঁড়াতে ঢেলে দিতে হবে ।
# মনে রাখতে হবে যে মিশ্রণটি প্রখর রোদে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
# মিশ্রণটি ব্যবহারের ২ ঘণ্টা পূর্বে গাছে পানি প্রয়োগ করতে হবে।

পদ্ধতি ৩

# প্রথমে সরিষার খৈল গুঁড়ো করে নিতে হবে।
# তারপর সরিষার খৈল এর সমপরিমাণ মাটি গুঁড়ো করে তার সাথে মিশাতে হবে।
# তারপর মিশ্রণটি রোদে ৭ দিন শুকাতে হবে।
# এ প্রক্রিয়ায় এক মাস পর পর ব্যবহার করা যায়

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com