আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রির মহোৎসব, উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে উর্বর দুই/তিন ফসলি জমির টপ সয়েল (জমির উপরিভাগের মাটি) কাটার ধুম পড়েছে।

আর্থিকভাবে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় অনেক কৃষক তাদের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলা উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিলের আওতাভুক্ত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিই উর্বর পলি মাটি সমৃদ্ধ। এসব জমিতে বছরে দু’টি মৌসুমে ধান, সরিষা, রসুন ও শীতকালীন সবজি ব্যাপকভাবে উৎপাদন হয়। কিন্তু কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন।  

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি, বহুলী, ছোনগাছা, উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রঙের বাজার, পুস্তিগাছা, সলঙ্গা, রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের নইপাড়া, মালতিনগর, ঘুড়কা ইউনিয়নের জঞ্জালীপাড়া, তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ, মাধাইনগর, সগুনা, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দুই বা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বড় বড় ট্রাকে এসব মাটি পরিবহনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাটও। নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে এসব রাস্তায়।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় কিছু মাটি ব্যবসায়ী প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত মাটির ব্যবসা করেন। তারা কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমির এক থেকে দেড় ফুট মাটি কিনে নিয়ে চড়া দামে ইটভাটায় বিক্রি করেন। এছাড়া বাড়ি তৈরিতে মাটি ভরাট প্রয়োজন হলেও অনেকে এসব মাটি ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হন। অল্প সময়েই মাটি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা রোজগার করেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দর রশিদ বলেন, টপ সয়েল জমির প্রাণ। জমির উপরের আট থেকে ১০ ইঞ্চিই হলো টপ সয়েল। আর ওই অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছেন। মাটি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে তারা জমির উর্বরা শক্তিই বিক্রি করে দিচ্ছেন। জমির এ ক্ষতি ১০ বছরেও পূরণ হবে না।  

তিনি আরও বলেন, যেভাবে মাটি বিক্রি হচ্ছে তাতে করে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেতে পারে। এসব বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় কৃষক ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সময় কৃষকদের টপ সয়েল বিক্রি থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হয় রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের নইপাড়া গ্রামের বিদু আলী ও হাসান আলী, সদর উপজেলা পোটল ছোনগাছার শহীদুলসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, জমির উপরের অংশ থেকে দু-এক ফুট পরিমাণ মাটি তারা বিক্রি করছেন। এতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। জমির মাটি কেটে নিলে ফসল আরও ভালো হবে বলেও মনে করেন কৃষকেরা। তারা নিজেদের জমির মাটি আমি বিক্রি করছেন। এতে কারও কিছু করার নেই।  

কথা হয়, মাটি ব্যবসায়ী রামকৃষ্ণপর ইউনিয়নের কৈ মাঝুরিয়া গ্রামের আব্দুল করিম, আগরপুর গ্রামের আলমগীর রেজা, জালশুকার ফরিদুল ইসলাম, সদর উপজেলার শাহানগাছার লুৎফর রহমান, সেলিম মেম্বরসহ অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, অনেক দিন ধরেই মাটি কেনাবেচার ব্যবসা করছেন তারা। এতে জমির কোনো ক্ষতি হয় না। দীর্ঘদিন ধরে জমিতে পলি পড়ে পড়ে উঁচু হয়ে যায়। ওই উঁচু জমি থেকে মাটি কেটে তারা কৃষকের উপকারই করছেন। এতে কৃষক নগদ টাকাও পায়, জমির ফসলও ভালো হয়।  

সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, জমির মাটি কে বা কারা বিক্রি করেন তা আমাদের জানা নেই। এসব বিষয়ে আমাদের করারও কিছু নেই।  

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অনেকদিন ধরেই জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। গত সপ্তাহে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টপ সয়েল কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তারপরও গোপনে মাটি বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

পরিবেশ

সাদা জিরাফের শেষ বংশধর

লেখক

জিরাফ পরিচিত প্রাণী হলেও এর সাদা রঙের জাত থাকার তথ্য হয়তো অনেকেরই অজানা। পৃথিবীতে সাদা রঙের জিরাফ ছিল এবং এখনও আছে। তবে পরিবেশ ধ্বংসকারী শিকারিদের দ্বারা এই জাতটি আজ বিলুপ্তির পথে।

সম্প্রতি এমন একটি জিরাফ পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গারিসা কাউন্টির বন সংরক্ষণকারীদের নজরে এসেছে যেটির রং পুরোপুরি সাদা। ধারণা করা হচ্ছে, সাদা জিরাফের এটিই শেষ বংশধর। গত মার্চে এর সঙ্গিনী ও সাত মাস বয়সী একটি বাচ্চাকে শিকারিরা হত্যা করেছে। বন্যপ্রাণী উজাড়কারী শিকারিদের হাত থেকে জিরাফটিকে রক্ষায় এর সঙ্গে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে বিরল এই জাতের শেষ সদস্যটিকে সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে রাখা যাচ্ছে বলে দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকারীরা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।

গারিসা কাউন্টির একটি সংরক্ষিত বনে বিচরণকারী পুরুষ জিরাফটির শরীরে লিউসিজম নামে বিরল জেনেটিক অবস্থা রয়েছে। যার কারণে এই জাতের জিরাফের গায়ের স্বাভাবিক রং ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রকৃত রং হারিয়ে যায় বলে একটি প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই জিরাফটির ভাগ্যও তার জাতের অন্য দুই সদস্যের মতো হতে পারে। তাই এটিকে সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

কেনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংরক্ষিত বনগুলোর দেখভাল করে দেশটির ইশাকবিনি হিরোলা সম্প্রদায়। মোহাম্মদ আহমেদ নূর নামে এক ব্যক্তি বিরল এই জাতের সর্বশেষ সদস্যকে সংরক্ষণে সহায়তা করার জন্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

দ্য কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি জানায়, দেশটিতে সাদা জাতের জিরাফ প্রথম নজরে আসে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে। পরের বছর সাদা একটি মা জিরাফ ও বাচ্চার বিচরণ বন সংরক্ষণকারীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আফ্রিকার প্রায় ১৫টি দেশে এই জিরাফগুলোর বিচরণ ছিল। কিন্তু সবচেয়ে উচ্চতর এই প্রাণীটির ত্বক, মাংস ও অঙ্গপ্রতঙ্গের জন্য ব্যাপকভাবে শিকারে পরিণত হচ্ছে।

আফ্রিকা ওয়াইল্ডলাইফ ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জিরাফ গত ৩০ বছরের মধ্যে শিকারি এবং অন্য বন্যপ্রাণীদের দ্বারা বিলুপ্ত হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জলবায়ু সম্মেলনে আশঙ্কার কথা শোনাল শিশুরা

লেখক

বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে শিশুদের জন্য আয়োজিত এক জলবায়ু সম্মেলনে (চিলড্রেনস্‌ ক্লাইমেট সামিট) বাংলাদেশি শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তাদের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে। পাশাপাশি তারা এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার ইউনিসেফ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে শিশুদের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র গ্রহণের মাধ্যমে এই সম্মেলন শেষ হয়। এতে শিশুরা দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে; শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সবুজ অর্থনীতির পেছনে বিনিয়োগ করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানায়।

ওই সম্মেলনে ইউনিসেফ জেনারেশন পার্লামেন্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অংশ হিসেবে ১০ লাখেরও বেশি শিশু এই প্রস্তুতিতে সম্পৃক্ত ছিল। ওই ভার্চুয়াল সম্মেলনে শিশুদের ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা, নীতিমালা ও কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে বাংলাদেশের সব সংসদীয় আসনের প্রতিনিধিত্ব করা ৩০০ শিশু সাংসদকে একত্র করা হয়।

সম্মেলনে শিশুরা নেতাদের উদ্দেশে বলে, আমাদের সবার ভবিষ্যৎ এতে জড়িত এবং আমাদের গ্রহটি সবার জন্য। জলবায়ু সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমাদের, শিশুদের, অবশ্যই এতে শামিল করতে হবে।

ঢাকার শিশু সাংসদ রিদওয়ানা ইসলাম (১৫) বলেন, আমাদের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারিতে আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, দূষণ ও চরম আবহাওয়া আমাদের বেঁচে থাকা, সামগ্রিক কল্যাণ ও ভবিষ্যতকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। শিশুদের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করে এমন নীতিমালা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের পরামর্শ নিতে হবে। নষ্ট করার মতো সময় নেই।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, আমরা যেহেতু সময়ের সঙ্গে লড়াই করছি, তাই জরুরি জলবায়ু পরিস্থিতিতে সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন। অনুপ্রেরণা, সাহস ও দূরদৃষ্টির জন্য আমাদের অবশ্যই শিশু এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর দিকে তাকাতে হবে। ইউনিসেফ বাংলাদেশি শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয়গুলো যেহেতু সরাসরি শিশুদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে, তাই এ সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিশুদের সম্পৃক্ত করতে সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে ইউনিসেফ।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য এবং শিশু অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় ককাসের সভাপতি শামসুল হক টুকু। সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের পাশাপাশি শিশু জলবায়ু কর্মী, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের সংসদ সদস্য এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, আজ শিশুরা আমাদের শিখিয়েছে যে, জলবায়ু নীতিমালা গঠনে আমাদের কনিষ্ঠ নাগরিকদের মূল ভূমিকা নিতে হবে। আমি খুব আনন্দিত হবো যদি অদূর ভবিষ্যতে সংসদে শিশুদের এই জলবায়ু ঘোষণা নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারি।

ভার্চুয়াল সম্মেলনটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম লিঙ্গ-সমতাভিত্তিক শিশু সংসদ। এখানে অংশগ্রহণকারী ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে মেয়ে প্রতিনিধি ছিল ৫০ শতাংশ এবং ছেলে প্রতিনিধি ছিল ৫০ শতাংশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দেশের সাড়ে ১০ লাখ হেক্টর জমিই লবণাক্ত

লেখক

সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া সারাদেশের মৃত্তিকা জরিপ শেষ করে ৩৪ খণ্ডে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত প্রধানত কৃষি উৎপাদন পরিকল্পনা ছাড়াও স্থানভিত্তিক ফসল নির্বাচনসহ নতুন ফসল বা জাত প্রবর্তন বা সম্প্রসারণের জন্য স্থান নির্বাচন ও সার ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইতোমধ্যে দেশের ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর বা শতকরা ২৭ ভাগ জমিতে লবণাক্ততা বিস্তৃত হয়েছে।

বুধবার এসআরডিআই সভাকক্ষে ইনস্টিটিউটের চলমান গবেষণা কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য এবং বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস ২০২০ সম্পর্কে অবহিতকরণ আলোচনা সভায় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ বিধান কুমার ভান্ডার এ কথা জানান।

মহাপরিচালক বলেন, ১৯৮৫-২০০২ সালের মধ্যে আধা-বিস্তারিত জরিপের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলার জন্য আলাদাভাবে ভূমি ও ‘মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা’ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশিকাগুলো স্থানভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি, ফসল নির্বাচন, সুষম সার ব্যবহার, কৃষি উপকরণের চাহিদা নির্ধারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি নির্ধারণসহ অন্যান্য কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রণয়নের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে ২৯৫ উপজেলা নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফসল উৎপাদনে মৃত্তিকা বিশ্নেষণের ভিত্তিতে সুষম সার ব্যবহারবিষয়ক সেবা সম্প্রসারণের এবং কৃষকদের কাছে আরও সহজবোধ্য করতে ইউনিয়নভিত্তিক ৫৩০টি ইউনিয়নের ভূমি, মাটি, সার সুপারিশ সহায়িকা প্রকাশের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রায় ৩০০টি খামারের বিস্তারিত জরিপ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক মৃত্তিকা জরিপলব্ধ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সারাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল এবং ৮৮টি উপ-কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চল গঠনের চারটি উপাদানের মধ্যে তিনটি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সৃজিত ডাটাবেজ থেকে নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ২৩টি স্থায়ী গবেষণাগারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪০ হাজার মৃত্তিকা, পানি ও উদ্ভিদ নমুনা বিশ্নেষণ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সুষম সার সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে। সারের গুণগত মান নিশ্চিত করার স্বার্থে সাতটি বিভাগীয় গবেষণাগারের মাধ্যমে বছরে প্রায় তিন হাজার সারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ১০টি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের মাধ্যমে প্রতি বছর ১১২ উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার ছয়শ কৃষকের জমির মাটি পরীক্ষা করে বিভিন্ন ফসলের জন্য সার সুপারিশ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা ব্যবহার করে বছরে ৩০ হাজার কৃষককে সুষম সার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চার হাজার পাঁচশ কৃষি কর্মকর্তার মধ্যে ব্লক পর্যায়ের চার হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিধান কুমার ভান্ডার বলেন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ‘অনলাইন সার সুপারিশ’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর ফলে যে কোনো প্রান্ত থেকে কৃষক এখন অনলাইনের মাধ্যমে জমির জন্য দরকারি সারের মাত্রা নিরূপণ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের মতো এবারও ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালিত হবে। থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবলের জন্মদিনে এ দিবস পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বিজ্ঞান ইউনিয়ন ২০০২ সালে মৃত্তিকা দিবস পালনের প্রস্তাব করে। পরে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পেশ কওে, যা জাতিসংঘের ৬৮তম সভায় অনুমোদন পায়। ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ওসমানী উদ্যানে কার পার্কিং চান না পরিবেশবাদীরা

লেখক

ঢাকার ওসমানী উদ্যানে সচিবালয়ের গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থার যে পরিকল্পনা নিয়েছে সিটি করপোরেশন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের পরিবেশবাদীরা।

মঙ্গলবার সরেজমিন ওসমানী উদ্যান পরিদর্শন করে সিটি করপোরেশনকে এ প্রকল্প থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা। ১৫ নভেম্বর সমকালের প্রথম পাতায় ‘সচিবালয় ঘিরে পার্কিং পরিকল্পনা, গাড়ির দখলে যাবে ওসমানী উদ্যান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশবাদীরা ওসমানী উদ্যান পরিদর্শন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী ছাত্র-যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েসের উপদেষ্টা স্থপতি ইকবাল হাবিব, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী প্রধান জাকির হোসেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির, সহসমন্বয়ক হুমায়ন কবির সুমন, সদস্য তরিকুল ইসলাম রাতুল, আরিফুর রহমান, নড়াইল জেলার গ্রিন ভয়েসের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট কাওছার, নাগরিক উদ্যোগের কর্মকর্তা আনিছুর রহমান প্রমুখ।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসমানী উদ্যান সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। ওসমানী উদ্যানে কোনোভাবেই সচিবালয়ের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা যাবে না। উদ্যান দখল করে জনগণের অধিকার হরণের পাঁয়তারা করলে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

সাংবাদিকদের পরিবেশবাদীরা বলেন, উন্মুক্ত স্থান উন্নয়ন শর্তানুযায়ী কোনোভাবেই মোট জমির ৫ ভাগের অধিক অংশজুড়ে কংক্রিট কাঠামো তৈরি হতে পারে না। নির্বিচার গাছ নিধন করে ভূগর্ভস্থ খাবারের দোকান, পার্কিং কিংবা লাইব্রেরি বা মিউজিয়াম তৈরি কখনোই গণপরিসর উন্নয়ন হতে পারে না। ওসমানী উদ্যানে প্রস্তাবিত ২০০ এর অধিক ভূগর্ভস্থ পার্কিং তৈরির মাধ্যমে পূর্ব-উত্তর ও পূর্ব-দক্ষিণ অংশের বৃক্ষ নিধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা খুবই উদ্বেগজনক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

হুমকিতে পরিযায়ী পাখিও

লেখক

বছর শেষে আবারও শীতের আগমনী বার্তা। এবার সেপ্টেম্বরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি। ক্যাম্পাসে লাল শাপলাপূর্ণ লেকগুলোতে চলছে তাদের কিচিরমিচির আর জলকেলি। তবে করোনা প্রতিরোধে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। ক্যাম্পাসে মাস্ক ছাড়া মানুষের সমাগম বাড়ায় বাড়ছে ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা। অসচেতনভাবে মানুষ লেক ও যত্রতত্র ব্যবহূত মাস্ক-গ্লাভস ফেলায় পাখি ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট-বড় মিলিয়ে ২২টি লেক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৬টি বড় লেকে সবচেয়ে বেশি পাখি থাকে। কিন্তু এবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে ও পরিবহন চত্বর-সংলগ্ন লেকে বেশি সংখ্যক এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন লেকে অল্প পাখি দেখা গেলেও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেকে নেই কোনো পাখি। এছাড়া মীর মশাররফ হোসেন হল-সংলগ্ন বড় লেকে ও আল বেরুনী হল-সংলগ্ন লেকে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে পাখি নেই।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে বর্তমানে পাঁচ হাজারের মতো পাখি অবস্থান করছে। শীতের তীব্রতা বাড়লে তা হয়তো সাত-আট হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এখন লেকগুলোতে পাঁচ প্রজাতির পাখি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ছোট সরালি (দেশীয়), বড় সরালি, নর্দান শোভেলার, গার্গেন, আফ্রিকান কম্বডাক (১০ বছর পর এসেছে)। আশা করছি শীত বাড়লে লেঞ্জাহাঁস ও পচার্ড যোগ হবে। এদের বেশিরভাগই সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে আসে।

সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিস-সংলগ্ন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন-সংলগ্ন লেকে ব্যবহূত মাস্ক ও চা পানের প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম গ্লাস ভাসছে। বিশেষ করে পরিবহন চত্বরের দোকানগুলোর পেছনের লেকে প্লাস্টিকের গ্লাসের স্তূপ করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের প্রতিটি রাস্তা ও ভবনের পাশে পড়ে আছে ব্যবহূত মাস্ক-গ্লাভস। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, কাফেটারিয়া, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, পরিবহন চত্বর এলাকা ও উপাচার্যের বাসভবনে যাওয়ার রাস্তায় দেখা যায় এ দৃশ্য। এছাড়া পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য ঢিল ছুড়তে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।

পাখি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, প্রকৃতিগতভাবে এই জলচর পাখিতে বিভিন্ন ভাইরাস থাকে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এটা ছড়ায় প্রথমত আক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে অন্যকোনো পাখি এলে। বিশেষ করে আমাদের হাওর অঞ্চলে শীতকালে যখন অতিথি পাখি আসে তখন তাদের সংস্পর্শে আসা সেখানকার মুক্তভাবে চড়ানো হাঁস-মুরগিতে এটা ছড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত, যদি কেউ অন্যায়ভাবে পাখি খাওয়ার জন্য ধরে আনে তখন তার প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় তা মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। পাখির উচ্ছিষ্ট ফেলে দিলে এর সংস্পর্শে অন্য গৃহপালিত প্রাণী এলে আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে পাখিকে তাদের মতো থাকতে দিতে হবে।

লেক ও ক্যাম্পাসের যত্রতত্র মাস্ক ফেলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. খবির উদ্দিন বলেন, বায়ো মেডিকেল বর্জ্য আলাদা করে যেভাবে নষ্ট করা হয়, মাস্ক ও গ্লাভসের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই করতে হবে। এজন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কভিডের বর্জ্য ফেলার জন্য আলাদা বিনের পাশাপাশি সচেতনতামূলক ব্যানার-ফেস্টুন লাগাতে হবে। তা নাহলে মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এগুলো পানিতে পড়লে ক্ষতির মুখে পড়বে মাছ, পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, করোনার জন্য ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু সবার অসহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাবে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। মাস্ক-গ্লাভসের মতো আবর্জনা সরানোর জন্য সংশ্নিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাস্ক-গ্লাভসের জন্য আলাদা বিনের ব্যবস্থা করা হবে। পাখির সুরক্ষার জন্য প্রতিবছরের মতো এবারও কাজ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com