আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি: কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার’ নির্দেশ বাস্তবায়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এজন্য অর্থাৎ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রথমবারের মতো ধানের উৎপাদন বাড়াতে বীজে ২০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা পোলট্রি, কৃষি ফার্ম, ফলমূল ও মসলা জাতীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদন করবেন তারা এই তহবিল থেকে সহজ শর্তে মাত্র চার শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়াও নয় শতাংশ সুদের জায়গায় মাত্র চার শতাংশ সুদে কৃষকদের ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রণোদনা দেবে।

করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ প্রণোদনা ছাড়াও বাজেটে কৃষকের স্বার্থে সারসহ সেচ কাজে বিদ্যুৎ বিলের রিবেট বাবদ কৃষি খাতে নয় হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাজেটে সারের জন্য নয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি, বীজের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং কৃষকের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো মসলা উৎপাদকদের জন্য চার শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা চালু রয়েছে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং শাকসবজির বিপণন, সরবরাহ ঠিক রাখা ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সার্বক্ষণিক উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ইঞ্চি জমিও ফাঁকা না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আউশ এবং আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে রেকর্ড পরিমাণ আউশের আবাদ হয়েছে। ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৬ হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দুই লাখের বেশি হেক্টর জমি। আউশ ধানের আবাদ বাড়ানোর জন্য চার লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৪ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর প্রায় ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক কোটি ৫৬ লাখ টন। এজন্য উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধান চাষ বাড়ানো, পর্যাপ্ত বীজ, সার ও সেচের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমনের উৎপাদন বাড়াতে সরকার এবারই প্রথম বীজে ভর্তুকি দিচ্ছে। বিএডিসির ১৯ হাজার ৫০০ টন আমন ধান বীজ চাষি পর্যায়ে বিক্রির জন্য ২০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সবজি পুষ্টিবাগান

আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতি ইঞ্চি জায়গা চাষের আওতায় আনতে প্রতি ইউনিয়নে ৩২টি করে পারিবারিক সবজি পুষ্টিবাগান তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এজন্য ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলায় এক লাখ ৪১ হাজার ৭৯২ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, চারা ও সার দেওয়া হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পারিবারিক পুষ্টিবাগান তৈরির আওতায় ১৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলার ৪৯১টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৯৭টি ইউনিয়ন এবং ১৪০টি পৌরসভায় চার লাখ ৭৩ হাজার ৭০০ কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, চারা এবং সার সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে বোরো ধান কাটার উদ্যোগ চলছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার ২৪০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৫০০টি রিপার সরবরাহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে এবং উপকূল ও হাওর এলাকায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের মধ্যে এসব কৃষিযন্ত্র দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন হাজার ২০ কোটি টাকার ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫২ হাজার কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার নামের কৃষিযন্ত্র কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

বীজ সরবরাহ অব্যাহত

করোনার কারণে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিএডিসি ও অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির উৎপাদিত আউশ, সবজি ও পাটবীজ মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। রবি মৌসুমে উৎপাদিত আলুবীজ সংগ্রহ করে হিমাগারে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিএডিসির আলুবীজ সংগ্রহের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫০০ টন এবং বেসরকারি কোম্পানির প্রায় ৮৫ হাজার টন, যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ হাজার টন বেশি। চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এক লাখ টন বোরো বীজ ধান এবং ১০ হাজার টন হাইব্রিড ধানবীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

শাকসবজি বাজারজাতকরণ

করোনা পরিস্থিতিতে শাকসবজির বাজারজাতকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, শাকসবজি ও পচনশীল কৃষিপণ্যের চলাচল নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীতে আলু, সবজি, পেঁয়াজ ইত্যাদি কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষিপণ্যের ভ্রাম্যমাণ বাজার পরিচালনা করেছে। নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও ভোলা থেকে ট্রাকযোগে শাকসবজি অন্য জেলায় পাঠানো হয়েছে।

কৃষিপণ্য পরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থা

করোনার প্রভাবে শুরুর দিকে শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়েছিল। কৃষিপণ্য বিক্রি করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন কৃষক। বিশেষ করে তারা উৎপাদিত তরমুজের অধিকাংশই বিক্রি করতে পারেননি, যা বিক্রি হয়েছে তার ভালো দামও পাননি। আবার জনগণের আয় কমে যাওয়ায় কৃষিপণ্যের চাহিদাও কমেছিল। এসব কারণে কৃষিপণ্য কেনায় আগ্রহ হারিয়েছিলেন পাইকার ও আড়তদাররা। এ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করেছে। আম, লিচু, আনারস, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা হয়েছিল। এ ছাড়াও কৃষিপণ্য পরিবহনে ২৫ শতাংশ ভাড়া কমানো এবং আম পরিবহনে ম্যাংগো এক্সপ্রেস চালু করা হয়েছিল বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

ফুড ফর নেশন প্ল্যাটফর্ম চালু

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মহামারি করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের স্বাভাবিক পরিবহন এবং সঠিক বিপণন ব্যাহত হয়েছিল। কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্যও পাননি। কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ওই অবস্থায় প্রান্তিক কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন এবং সেই সঙ্গে ভোক্তারা যাতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সহজে, স্বল্প সময়ে এবং সঠিক মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও কৃষিপণ্য পেতে পারেন সেজন্য বিপণনের অভাবে কৃষকের উৎপাদিত শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের একটা বিরাট অংশের অপচয় ঠেকাতে ‘ফুড ফর নেশন’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

করোনাকালে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে বন্যা এসেছিল বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৩৭ জেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক লাখ ৫৮ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির প্রায় এক হাজার ৩২৩ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৫১। তবে সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় এই ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বন্যায় আউশ, আমন, শাকসবজি, পাটসহ বেশ কিছু ফসলের অনেক ক্ষতি হলেও বিকল্প বীজতলা তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প ফসল চাষের ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতি পূরণের চেষ্টা হয়েছে।

এ ছাড়াও প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে প্রায় দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার কমিউনিটি ভিত্তিক রোপা আমন ধানের চারা বিতরণ, ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে প্রায় তিন কোটি ৮২ লাখ টাকার মাষকলাই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এক লাখ ৫১ হাজার ৬০০ জন কৃষককে লালশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, বরবটি, শিম, শশা, লাউবীজ ইত্যাদি বিনামূল্যে বিতরণের কার্যক্রম চলছে। সেই সঙ্গে ৩৩ জেলায় ৩৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে প্রায় দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার চারা বিতরণ করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ জেলায় পাঁচ হাজার ৬০টি ভাসমান বেডে রোপা আমন ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে এক হাজার ২৬৫ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

সব মিলিয়ে কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরও প্রায় ৭৫ কোটি টাকার কর্মসূচি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই টাকায় নয় লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রত্যেককে গম, সরিষা, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, খেসারি, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ইত্যাদি ফসল আবাদের জন্য বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে।

আরও উদ্যোগ

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সেচের মূল্য ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ডিএপি সারের দাম প্রতি কেজি ২৫ থেকে কমিয়ে ১৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএডিসি উৎপাদিত প্রতি কেজি বীজের দাম ১০ টাকা কমানো হয়েছে। আউশের আবাদ বাড়াতে সেচ প্রণোদনা হিসেবে ১০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে দুই কোটি ৬৩ লাখ টাকার আউশ বীজ বিতরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য ১৩১ কোটি টাকার প্রণোদনা, কাজু বাদাম, ড্রাগন ফল, কফি ইত্যাদি লাভজনক ও অপ্রচলিত ফসলের আবাদ এবং উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এগ্রোবিজ

বাজারে আলু খুঁজছে প্রশাসন

আড়ত থেকে খুচরা বাজার—কুষ্টিয়ার বাজারে আলু পাওয়া যেন কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আলুর সংকট। হিমাগারে আলু থাকলেও সেখানে দাম বেশি। তাই আড়তদারেরা সেখান থেকে কিনছেন না। আবার আড়তে না থাকায় খুচরা বাজারেও মিলছে না হঠাৎ করে দামি পণ্যে পরিণত হওয়া এই সবজি।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারে অন্তত ১১টি সবজি আড়তে আলু কেনাবেচা হয়ে থাকে। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে আড়তে দুই ট্রাক আলু নিয়ে এসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলা হয়। কিছু আলু থাকলেও সেগুলোও সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি। এ নিয়ে বিপাকে পড়েন খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা। সোমবার সকালে সবগুলো আড়ত মিলে মাত্র ৩০০ বস্তা আলু ছিল। এক ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো কেজিপ্রতি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে যায়। এই আড়তে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ টন আলুর চাহিদা। আলুর বাজারে এমন অবস্থা আর কত দিন চলবে, তা বলতে পারছেন না কেউ।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কদিন ধরে আলুর দাম বেড়েছে সেটা জানা আছে। কিন্তু আজই জানতে পারলাম আলুর সংকট। আলু কোথায় আছে, খুঁজে বের করা হচ্ছে। প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রি করা হবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।’

এদিকে সকাল থেকে আলুর সন্ধানে মাঠে নামে প্রশাসনের একটি দল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান ও জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। তাঁরা কুষ্টিয়া পৌর বাজারের আড়ত, খুচরা বিক্রেতা, বড় বাজার ও কুষ্টিয়া বিআইডিসি হাট ঘুরে দেখেন।

তাঁরা দুজনেই বলেন, আড়তগুলো ফাঁকা। কোথাও কোনো আলু নেই। আলুর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। যদি জেলার কোথাও মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়, সেখানে অভিযান চালানো হবে।

হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু সরবরাহ ছিল। কিন্তু রোববার হঠাৎ করে আলুর সরবরাহ কমে যায়। সোমবার আলুশূন্য হয়ে পড়েছে আড়তগুলো।

রবিউল ইসলাম, বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা

সোমবার সকাল ৯টায় পৌর বাজারে গিয়ে আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আলুর দাম চড়া। জরিমানা দেওয়ার ভয়ে আলু কেনাবেচা বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা। পৌর বাজারের নূর ভান্ডার, সোহাগ ভান্ডার, রুপালী ভান্ডার, মিলন ভান্ডার, মোল্লা ভান্ডার গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো আলু নেই।

জানতে চাইলে আড়তে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারে দাম বেশি থাকায় সেখান থেকে কোনো আলু কিনছেন না ব্যবসায়ীরা। এ জন্য আড়তেও আলু নেই।

খুচরাতে ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগার থেকে ২৩ টাকা প্রতি কেজি আলুর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কুষ্টিয়া পৌর বাজারে গত শনিবার থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার তদারকি করে সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার হুঁশিয়ারি দেন। এরপর থেকেই আড়তে আলু আসা বন্ধ হয়ে যায়।

বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু সরবরাহ ছিল। কিন্তু রোববার হঠাৎ করে আলুর সরবরাহ কমে যায়। সোমবার আলুশূন্য হয়ে পড়েছে আড়তগুলো। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান বলেন, শনিবার দুটি ট্রাকে ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে উত্তরবঙ্গে ফেরত গেছেন। তাঁরা এখানে আসার পর বেশি দামে আড়তদারেরা আলু কিনতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা চলে যান। তাঁদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আড়ত থেকে সরে গেল আলু!

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দরে বিক্রি না করতে কুষ্টিয়া পৌর বাজারের আড়ত থেকে আলু সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু আলু থাকলেও সেগুলোও সরকারনির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়নি। এতে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।

আজ রোববার এখানকার খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচ, বেগুন, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজিও ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করা হয়। এতে ক্রেতাদের মাথায় হাত পড়েছে।

হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রবিউল ইসলাম, বাজার তদারক কর্মকর্তা

গত বুধবার তিন পর্যায়ে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কেজিপ্রতি খুচরায় ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগারে ২৩ টাকা করে আলু বিক্রি করতে বলা হয়। এরপর গত শনিবার কুষ্টিয়া পৌর বাজারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার তদারকি করেন। তিনি সরকারনির্ধারিত দামে আলু বিক্রির কড়া হুঁশিয়ারি দেন। আজ সকাল থেকে সেটা বাস্তবায়নের কথা।

আজ সকাল নয়টায় পৌর বাজারে গিয়ে আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। জানা গেল, প্রতিদিন এ বাজারে অন্তত ৩০ টন আলু কেনাবেচা হয়। সেখানে আজ মাত্র ৫ টন আলু রয়েছে। সেগুলো ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বাজারের নূর ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে কোনো আলু নেই। সেখানে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারে দাম বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা আলু আনছেন না। হিমাগারেই ৩১ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। সরকার যদি বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) থেকে আলু সরবরাহ করে, তাহলে ভালো হয়।বিজ্ঞাপন

আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

ইনসান আলী, আলুর খুচরা বিক্রেতা

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গতকাল সকালে ম্যাজিস্ট্রেট কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বিকেলে আড়ত থেকে তিনটি ট্রাকে করে আলু সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর যে পরিমাণ আলু রয়ে যায়, সেগুলো আড়তে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতারা সেই আলু ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, অনেক আড়তদার বিক্রি করা আলুর মেমো দিতে রাজি হননি। এ জন্য খুচরা বিক্রেতারা অনেকে আলু কেনেননি। অনেকে জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি করেননি।

খুচরা বিক্রেতা ইনসান আলী বলেন, আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

জানতে চাইলে বাজার তদারক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

কয়েক বছর আগেও লাভজনক মাল্টার আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। এখন সে শঙ্কা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তারা। কম জায়গায় এবং অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে বেকার যুবকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর ৬৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিন ও জাকির হোসেন নামে দুই যুবক দুই বছর আগে দুই বিঘা জমিতে শুরু করেছিলেন মাল্টার আবাদ।

এ বছর প্রথম ফল এসেছে তাদের গাছে। এ বাগানের বিক্রির উপযোগী ফলের মান ভালো রাখতে নিচ্ছেন বাড়তি পরিচর্যা। এখন পর্যন্ত বাগানে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফল বিক্রিতে লাভের আশা করছেন কয়েকগুণ। ইতিমধ্যে তারা এ বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রিও করেছেন। এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষক পেয়ারার সাথে মিশ্র পদ্ধতিতে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বাগান দেখতে আসা সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, গ্রামে বিদেশি ফল মালটার আবাদ করেছে দুই যুবক- এটা জানতে পেরে আমি বাগানটি দেখতে এসেছি। এসে দেখি খুবই সুন্দর ফল ধরেছে। একটি ফল খেয়ে দেখেছি বাজারে যে ফল পাওয়া যায় তার থেকে অনেক বেশি সুস্বাদু।

মাল্টা চাষি জাকির হোসেন জানান, মাল্টা একটা বিদেশি ফল। আমাদের দেশের ফলের মার্কেট ভালো এবং মাল্টা চাষ অনেক লাভবান। আমার বাগানে প্রথম ফল এসেছে, ফল ইতিমধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে তারা বলছেন। কিন্তু আমি চাচ্ছি আরেকটু বেশি।

মাল্টা চাষি সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা দুজন মিলে দুই বছর আগে মাল্টা বাগান করেছি। এ বছর প্রথম ফল এসেছে। ফলের মান অনেক ভালো। এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। কিছুদিন পরই এগুলো বিক্রি করার উপযুক্ত হবে। তিনি জানান, অন্যান্য ফলের তুলনায় একটা মাল্টা বাগানের খরচ খুবই কম। যেমন আপনি এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ করেন সেখানে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করতে পারেন।

এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক চাষিই মিশ্র পদ্ধতিতে এ চাষ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে মসলেম হোসেন জানান, গ্রামের পাশের দুটি ছেলে মাল্টা বাগান করেছে। পাশাপাশি তারা চারা বিক্রির জন্য নার্সারি গড়ে তুলেছে। আমি তাদের কাছ থেকে কিছু চারা কিনে আমার পেয়ারা বাগানের সাথে মিশ্র চাষ শুরু করেছি।

আরেক মাল্টা চাষি রেজুয়ান বলেন, আমি ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। চাকরি না পেয়ে গ্রামের জাকির ও সেলিম ভাইয়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা দরে মাল্টার চারা কিনে ৮ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বেলে দো-আঁশ মাটিসমৃদ্ধ এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপণ করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়।

প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

নওগাঁয় করলা চাষে সফল জলিল

এক সময় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন আব্দুল জলিল। পরিবার পরিজন ছেড়ে ঢাকায় থাকতে হতো। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর গ্রামের বাড়িতে আসতেন। আসা-যাওয়ায় কাজে মন টিকতো না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ ছেড়ে দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে নিজ গ্রাম নওগাঁর মান্দা উপজেলার বড়পই চলে আসেন।

এরপর থেকে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। জমানো টাকায় পৌনে তিন বিঘা জমি ইজারা (চুক্তি) নিয়ে রানী জাতের করলার আবাদ করে তার ভাগ্য বদলেছে। বাজারে ভালো দাম পেয়ে খুশি তিনি।

চাষি আব্দুল জলিল বলেন, গত ১৩ বছর ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেছেন। সেখানে স্বল্প পরিসরে খাবার জন্য শাক-সবজির আবাদ করতেন। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে হতো। এবার আর ঢাকায় কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জমি বন্ধক নিয়ে গ্রামে তিনি শাক-সবজি চাষ করছেন। দুই দফায় পৌনে তিন বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। ২২ কাঠা জমি ২ বছরের জন্য নিয়েছেন ৩২ হাজার টাকায়। বাকি জমি ১৪ হাজার এবং ১৬ হাজার টাকা বছর। মোট জমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এ বছর এক বিঘা জমির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জমি প্রস্তুত করে গত ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিতে করলার চারা রোপণ করেন। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে এরই মাঝে মাচা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। এক বিঘা জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাঁচা তৈরিতে এবং শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ২৬-২৭ হাজার টাকা। মোট জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে ফল ধরা শুরু হয়।

সপ্তাহে ২ দিন ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ মণ করলা উঠানো হয়। যেখানে প্রথম দিকে ৩ হাজার টাকা মণ পাইকারী দাম পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ২৪শ-২৬শ টাকা মণ। সর্বোচ্চ সাড়ে তিনমাস পর্যন্ত এ মাচায় করলা থাকবে। এরপর পটল। সব খরচ বাদ দিয়ে করলা মৌসুমে সাড়ে তিন মাসে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

ইতোমধ্যে করলার মধ্যে পটলের গাছ লাগানো হয়েছে। করলা শেষ হওয়ার পর পটলের গাছ মাচায় উঠে যাবে। একই মাচায় পটলের আবাদ করা হলে মাচা তৈরির খরচটা লাগবে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার কারণে সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া ২ কাঠা জমিতে বসত বাড়ি। ৫ জন ছেলে এবং বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৯ জন। বড় দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করে এবং ছোট তিন ছেলে পড়াশুনার পাশাপাশি তাকে সহযোগীতা করে।

তিনি মনে করেন ধানের আবাদের চেয়ে সবজির আবাদ লাভজনক। স্বল্প সময়ে সবজি বাজারজাত করা যায় এবং নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়।

মান্দা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

‘রূপভান’, ‘রানী’- দুটি আগাম জাতের শিমের নাম। চলতি মৌসুমে রূপভান ও রানীর মতো বিস্কুট, অটো, ইপসা-১,২ এবং বারী-১, ২ ও ৪ এ আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি হিসেবে শিমের আবাদ করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে শাদা ও বেগুনি ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাচা। এর মাঝে মাঝে
উঁকি দিচ্ছে নতুন শিম।

চোখ জুড়ানো দৃশ্য। আসি আসি করছে শীত। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় শীতকালীন সবজি হিসেবে শুরু হয়েছে শিমের আবাদ শিমের মাচা ভরে গেছে শাদা-বেগুনি ফুলে। আসতে শুরু করেছে শিমও। এসব আগাম জাতের শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা অনুকূল আবহাওয়ায় শিমের ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় বেশ খুশি চাষিরাও।

ইতোমধ্যেই আগাম জাতের শিম উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ভালো দামও মিলছে। পুষ্ট গাছ ও প্রচুর ফুল ফোটায় চলতি মৌসুমে শিমের ভালো ফলন হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। ফলে করোনার দুঃসময়েও তাদের মুখে এখন মিষ্টি হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ৭১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শিমের আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ৬৮ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৭১ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩০ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ১১২ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিম তুলতে ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে চাষিদের। গ্রামীণ সড়কে দাঁড়িয়ে যতো দূর চোখ যায় শুধুই শিমের সবুজ ক্ষেত। সবুজ পাতা আর বেগুনি ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে আদিগন্ত মাঠ।

ক্ষেতের পরিচর্যা ও নতুন শিম তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। শিম বিকিকিনির জন্য গ্রামে গ্রামে বসেছে অস্থায়ী বাজার। এসব বাজার থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমন ও ট্রাকবোঝাই করে শিম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে। এখানে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। প্রথম দিকে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরেও শিম বিক্রি করেছেন বলে জানান কৃষকরা।

দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরথপুর গ্রামের চাষি বাদশা মন্ডল বলেন, তার ২ বিঘা জমিতে শিমের লতায় ও ফুলে ভরে গেছে মাচা। ফুল ভরে গেছে প্রতিটি ডগা। ইতোমধ্যে শিম আসতে শুরু করেছে গাছে। প্রথম দিকে প্রচন্ড রোদ ও পোকার আক্রমণের কারণে ফুলে পঁচা লাগতো।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে কঠোর পরিশ্রম, নজরদারি, সার ও বালাইনাশক স্প্রে করার পর ফল দেখা দিয়েছে। এখন আর পঁচা লাগে না। একই উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, শিম মূলত শীতকালীন সবজি। বেশি দামের আশায় একটু আগেভাগে শিমের আবাদ করেছেন তিনি।

বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। বর্তমানে উৎপাদন বাড়ায় কিছুটা কমেছে শিমের দাম। নতিপোতা গ্রামের পাইকারি শিম ব্যবসায়ী সোলায়মান হক জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে শিম কিনে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়।

ইতোমধ্যেই নতুন শিম পাঠানো শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারেও চাহিদা ও দাম ভালো আছে শিমের। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকরা এখন সচেতন হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় সরাসরি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নেন তারা। সাধারণত আগাম সবজি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, অসময়ে এ আবাদ থেকে চাষিরা বাড়তি আয় করতে পারেন। এসময় পোকা মাকড়, শাদা মাছি, শিম ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেশি থাকে।

নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারিতে রেখে বালাই নাশক স্প্রে করলে ফলন ভালো পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও জানান, এবার চলতি মৌসুমেরর শুরুতেও শিম ক্ষেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সুষ্ঠু পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত শিমের ফলন ভালো হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার দামও ভালো। শিমের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com