আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

কৃষি ও কৃষকের জন্য কৃষি সাংবাদিকতা যে কারণে জরুরি

ইফ ইউ এট টুডে, থ্যাঙ্ক এ ফার্মার অর্থ্যাৎ আপনি যদি আজ উদরপূর্তি করে থাকেন তাহলে কৃষককে ধন্যবাদ জানান, প্রবাদটি ইউরোপে বহুল প্রচলিত। প্রত্যেক সমাজে কৃষকদের আলাদা সম্মানের চোখে দেখা হয়। আমাদের সমাজব্যাবস্থা সম্পর্কে আমরা অবহিত। কৃষকরা শুধু কৃষিকে নয় আমাদেরও বাঁচিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশ এখনও কৃষিভিত্তিক। দেশটির বৃহৎ অংশের জীবন জীবিকার উৎস কৃষি। পৃথিবীর ১০০০(এক হাজার) ভাগের এক ভাগ পরিমাণ আমাদের ভূমি। অন্যদিকে জনসংখ্যা আছে এক হাজার ভাগের ২৪ জন। আমরা দেশ ঘনবসতিপূর্ণ। তাছাড়া কিছু তথ্য সবারই জানা। প্রতিবছর এক শতাংশ হারে আবাদি জমি হারাচ্ছি।

আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো কৃষি যোগাযোগে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে। ২০০৭ সালের মার্চ মাসে ভারতের কেরালা রাজ্যে রাষ্ট্র তথ্য প্রযুক্তি মিশন টুলমুক্ত কৃষি বাণিজ্যিকভিত্তিক কল সেন্টার এবং ওয়েবসাইট চালু করে। ফলে কেরালার কৃষক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হয়েছে বিপুল উৎসাহ,উদ্দীপনা ও একতা। নেপালি ই-হাটবাজার হল ই-কৃষির একটি নিদর্শন। যেখানে কৃষি পণ্যের সঠিক দাম ভিডিও ফুটেজ দেখতে পারছে নেপালি কৃষকরা। এই উদ্যোগ নেপালি কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জনবহুল ও কৃষি উন্নত দেশ গণচীনে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একাধিক কৃষিভিত্তিক টেলিভিশন স্টেশন রয়েছে।যেগুলোতে প্রতিদিনের সর্বশেষ কৃষিতথ্য ও চিত্র প্রচার করা হয়।ফিলিপাইনের কৃষি সচিব প্রতিদিন সকালে উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড ধান আবাদ বিষয়ে কৃষকদের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য দেন। তাছড়া পৃথিবীর সব দেশই কৃষি পণ্যের প্রতিদিনের বাজারদর সংক্রান্ত আপডেট তথ্য প্রচার করে থাকে।

অন্যদিকে, চীন ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ছিল কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। তখন প্রতি আটজন নাগরিকের একজন কৃষি কাজের সাথে যুক্ত ছিল। আটাত্তরের পরবর্তীতে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি দ্রুতই পাল্টাঠে থাকে। অর্থনীতির উন্নতির শিঁখরে পৌছাতে চীনকে মূল জ্বালানি যুগিয়েছে কৃষি।

ষিজমি আমাদের অফুরান বেঁচে থাকার উৎস। যে দুটি প্রকৃতির আর্শিবাদকে জীবন ও জীবিকার উপাদান হিসেবে দেখা হয়। একটি মাটি অন্যটি পানি। পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সেচ বিভাগের একটি গবেষণা রয়েছে ১৯৭৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। গবেষণাটি গাজীপুরের পানির স্তর সম্পর্কিত। ১৯৭৯ সালে ৮ মিটার নিচে পানির স্তর পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৩ সালে পানি স্তর নামতে নামতে ৩২ মিটারে ঠেকেছে। ১৯৯৭ সালেও পানির স্তর ১২ মিটার ছিল। ১৯৯৭ পরবর্তী প্রতি বছর পানির স্তর প্রায় ২ মিটার করে নেমে যাচ্ছে।

অন্যসব জায়গায় নেমে যাওয়া পানির স্তর বর্ষা মৌসুমের পর পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু গাজীপুরের পানির স্তর বর্ষা মৌসুমের পরও পূর্বাবস্থায় ফিরছে না। এভাবে নামতে থাকলে সামনে নিশ্চয় সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। একসময় আমরা টিউবওয়েলে পানি পাব না। ভারতসহ উন্নত বিশ্বে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ রয়েছে। আমরা একটু সচেতন হলে বাড়ির ছাদ থেকে একটি পাইপ মাটির নিচে অ্যাকুফেয়ারে ঢুকিয়ে দিলে ভূ-গর্ভস্ত পানির স্তরের উন্নয়ন হয়। তাছাড়া প্রত্যেক এলাকায় একটি বিশাল উন্নুক্ত জলাধার নির্মাণ করে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের উন্নয়ন ঘটানো যায়।

বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে পেটে গেলে পিঠে সয়। বরিশাল অঞ্চলের মানুষজন মোটা চালের ভাত পছন্দ করে। তাদের যুক্তি মোটা চালের ভাত পেটে বেশি সময় ধরে থাকে। ব্যাপারটির সাথে কোন ধরনের বিজ্ঞানের যুগসূত্র আছে কিনা। নাকি শুধুই প্রবাদ। কিংবা সামাজিক অর্থনৈতিক কারণইবা কী?

বহুমাত্রিক ফসল ধান। পানিতেও বাঁচতে পারে, মরুভূমিতেও জন্মায়। ১৬ ফুট পানির নিচ থেকেও মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। ধান গাছ খরায়ও বেঁচে থাকতে পারে। পাহাড়ে ধান ফলানো যায় আবার হাওড়ের নিচু ভূমিতেও ধানের ফলন পাওয়া যায়। গাছটির উচ্চতায়ও রযেছে রকমফের।সেইসাথে ফলনেও। শীতপ্রধান দেশ থেকে গরম প্রধান দেশেও ফলন দেয়। কৃষি বিজ্ঞানের বিচিত্র মজার ব্যাপারগুলো লেখালেখিতে উঠে আসতে পারে। এতে করে কিশোর কিশোরীদের মাঝে বিজ্ঞানের আলাদা জায়গা তৈরি হবে।

কৃষির কিছু বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারস্যাপার রয়েছে। যেমন পেস্টিসাইড জমিতে প্রয়োগের সময় মাস্ক, গগজ ও এপ্রনের ব্যাবহার।পেস্টিসাইড বলতে আগাছানাশক,কীটনাশক ও জীবানুনাশককে বুঝানো হয়। সঠিক মাত্রা ও সঠিক পরিমাণ প্রয়োগের বিষয়ে কৃষকের সচেতনতা জরুরি। সেইসাথে কেমন কৃষি বাজেট চাই? কৃষি বাজেট ও কৃষি ঋণ সমন্ধে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

বর্তমানে আমরা একটা পরিবর্তনশীল সমাজে বসবাস করছি। পরিবর্তন ঘটছে দ্রুত।কৃষি পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন আসছে। কিছু নতুন নতুন ফসলের আবাদ বাড়ছে। যেমন ভুট্টা, সূর্যমুখি ইত্যাদি। কিছু ফসলের আবাদ কমছে।

তেমনি একটি ফসল পাট। অন্যদিকে কৃষকরা লাভজনক শস্যবিন্যাস ও ফসলের দিকে ঝুঁকছে। যেমন আদা, হলুদ,ফুলসহ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফসলের আবাদ বাড়ছে হু হু অভিযোজনের একটা অভিজ্ঞতা বর্ণনা তুলে আনতে পারি। গত ৮ মে,২০১৪ লবণাক্ত এলাকা খুলনার রূপসা থানার অন্তর্গত চরনন্দনপুর গ্রামে গিয়েছিলাম। খুলনা শহরের বাইরে একটি দ্বীপ বলা চলে। এই ছোট্ট চরটির চারদিকে ভৈরব, রূপসা সহ আরো নদী। সবগুলো নদীর পানিই লবণাক্ত। বছরের এ সময়টায় লবনাক্ততা সমস্যা প্রকট আকার ধারন করে। গ্রামটিতে মিঠা পানির একমাত্র অবলম্বন বৃষ্টিনির্ভরতা।

এখানে ধান চাষ অসম্ভব একটা ব্যাপার। গ্রামের কৃষকরা বিশাল একটি জমির চারপাশ ১০ হাত প্রস্থে ও ১৫-২০ হাত গভীরতার পুকুর তৈরি করেছে শুধুমাত্র যাওয়া আসার জন্য একটি কোন ছেড়ে দিয়ে। পুকুরে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা হয়। পুকুরের পানি দিয়ে মাঝখানের জমিতে চাষাবাদ হয় ধান। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন নতুন অভিযোজনের ব্যাপারগুলো কৃষকরাই আবিষ্কার করছে।

জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নদ নদীগুলো ফিবছর আমাদের ভূমিকে বিনাখরচায় উর্বরতা নবায়ন করে যাচ্ছে। আমাদের কৃষির সমস্যা, সম্ভাবনা উপলদ্ধি করতে দরকার কৃষকের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো। দেশ ও বিভূইয়ের কৃষি উদ্যোগগুলো আমাদের কলমের আঁচরে উঠে আসা উচিত। পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি ও কৃষক নিয়ে লিখালিখিতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মাধ্যমে আমি সোচ্চার রয়েছি। আরো অনেককেই কৃষির বৃহত্তর স্বার্থে কলম হাতে তুলে নিতে হবে। কৃষি বিষয়ক লেখালেখির জন্য হাওলাদার প্রকাশনীর এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করেছে। উপরের নিবন্ধটি বইটির আংশিক সংক্ষেপিত।

ফুল

গ্লাডিওলাস চাষ

মাটি ও জলবায়ুঃ

যে কোন ধরনের উর্বর মাটিতেই গ্লাডিওলাস চাষ করা যায় তবে সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ ও বেঁলে দো-আঁশ মাটি চাষের জন্য উত্তম। মাটির পি এইচ মান ৬-৭ এর মধ্যে থাকা উচিত। মাটির ঠান্ডা আবহাওয়ায় এ ফুল ভাল জন্মে। সাধাণত ১৫-২০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা এ বৃদ্ধি ও ফুল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। গ্লাডিওলাস প্রতিদিন ৮-১০ ঘন্টা আলো পছন্দ করে। তাই রৌদ্রজ্জ্বল জায়গা এবং ঝড়ো বাতাস প্রতিরোধের ব্যবস্থা আছে এমন জায়গা এই ফুল চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত।

জাতঃ

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গ্লাডিওলাস ফুলের বারি গ্লাডিওলাস-১, বারি গ্লাডিওলাস-২ ও বারি গ্লাডিওলাস-৩ জাতগুলো উদ্ভাবন করেছে। এই জাতগুলো আমাদের দেশের সব জায়গায় চাষাবাদ উপযোগী।

বংশ বিস্তারঃ

বীজ, করম ও করমেলের মাধ্যমে গ্লাডিওলাসের বংশ বিস্তার করা যায়। সাধারণভাবে চাষের জন্য করম রোপণ করা হয়। ৪-৫ সেমি ব্যাসের করম ব্যবহার করা ভাল।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগঃ

গ্লাডিওলাস চাষে উপযুক্ত সময় অক্টোবর-নভেম্বর। এসময় ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হয়। সাধারনত গ্লাডিওলাস চাষে প্রতি বর্গমিটারে ৫-৬ কেজি পচা গোবর বা জৈব সার, ১০ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০ গ্রাম টিএসপি এবং ৩০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োজন। শেষ চাষের সময় টিএসপি, এমওপি ও গোবর সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।  ইউরিয়া সারের অর্ধেক রোপনের ২০-২৫ দিন পর এবং বাকি অর্ধেক পুষ্পদন্ড বের হওয়ার পর উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।

করম রোপনঃ রোপনের আগে বীজ ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে নিলে অঙ্কুরোদগম তরান্বিত হয়। বীজকে রোগ মুক্ত করতে ডাইথেন-এম ৪৫এর মধ্যে ভিজিয়ে (১০ লি. পানিতে ৩০-৩৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে) ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হবে। সারি থেকে সারি ২০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছ ১৫ সেমি দূরত্ব রেখে মাটির ৫-৬ সেমি গভীরে রোপন করতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যাঃ

জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন মত সেচ দিতে হবে। প্রতি সেচের পর জমিতে জো আসলে নিড়ানি দিয়ে জমি আলগা করে দিতে হবে। ইউরিয়া সারের প্রথম উপি প্রয়োগের পর সেচ দিতে হবে এবং জমিতে জো আসলে মাটি ঝুরঝুরে করে দুই সারির মাঝখানের মাটি গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে।  বাতাসে গাছ হেলে পড়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য ছোট ছোট খুটি বা প্লাস্টিকের রশি টেনে দেওয়া প্রয়োজন। গ্লাডিওলাসে সীট ব্লাইট রোগে পাতা ও ফুল আক্রান্ত হয় এবং ফিজিরিয়াম রট জীবানুর আক্রমণে কান্ড ও গোড়া পচে যায়। উভয় রোগের জন্য ১৫ দিন অন্তর বেভিস্টিন (.২%) বা ডাইথেন এম ৪৫ রোগ নাশক স্প্রে করতে হবে। পোকার জন্য রাইসন বা পারহেকথিয়ন স্প্রে করতে হবে।

ফুল সংগ্রহঃ

সাধারণত স্পাইকের নিচ থেকে ১-২টি পাপড়ি ফুটলে ফুল সংগ্রহ করতে হয়। ফুল সংগ্রহের পরপরই বালতি ভর্তি পানিতে সোজা করে ডুবিয়ে রেখে পরে নিম্ন তাপমাত্রায় (৬-৭ডিগ্রী) সংরক্ষণ করা উত্তম।  স্পাইক কাটার সময় গাছের গোড়ায় ৪-৫টি পাতা রাখতে হবে তাহলে করম পুষ্ট হবে।

করম তোলা ও সংরক্ষণঃ

সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে করম তোলা হয়। ফুল ফোঁটা শেষ হলে পাতা হলুদ হয় ওে গাছ মারা যায়। এসময় গাছের গোড়া খুঁড়ে সাবধানে করমগুলি সংগ্রহ করা হয়। খেয়াল রাখতে হবে যেন করম কেটে বা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। করম সংগ্রহের পর বড় ও ছোট করম বাছাই করে ছায়ায় শুকাতে হবে। সংরক্ষণের আগে করমগুলোকে ০.১% বেনলেট বা ০.২% ক্যাপটান দ্রবণে ৩০ মিনিট শোধন করে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর করমগুলো ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগে ভরে ঘরের শকনো ও ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন

আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন

ইসলাম শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। সুদ হলো শোষণের হাতিয়ার। যে কারণে ইসলামে সুদ নিষিদ্ধ। আল কোরআনে আল্লাহতায়ালা একমাত্র সুদখোর ছাড়া আর কারও বিরুদ্ধে স্বয়ং যুদ্ধের ঘোষণা দেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর সুদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা সব পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ইমানদার হয়ে থাক। আর যদি তোমরা তা না কর তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শোনো।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২। সুদ খাওয়া যে আল্লাহর কাছে কত বড় অন্যায় তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করার জন্য উল্লিখিত আয়াতই যথেষ্ট। এ সুদব্যবস্থা সমাজে দরিদ্রতা, ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্থবিরতা বা সমস্যা, বেকারত্ব, বহু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়াত্ব ইত্যাদির মতো কত যে জঘন্য ক্ষতি ও ধ্বংসের দিকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঠেলে দিচ্ছে তা একমাত্র এ বিষয়ে গবেষণাকারীরাই যথাযথ উপলব্ধি করতে সক্ষম। একজন দিনমজুর সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে শরীরের ঘাম ঝরিয়ে যা উপার্জন করেন তা ব্যাংকে বা বিভিন্ন খাতে সুদ পরিশোধ করতে করতেই শেষ হয়ে যায়। সুদের ফলে সমাজে একটা লুটেরা শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে অধিকাংশ অর্থসম্পদ পুঞ্জীভূত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে সমাজের বা দেশের গরিব-দুঃখীরা ক্রমেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সম্ভবত এসব কারণেই আল্লাহতায়ালা সুদি-কারবারিদের বিরুদ্ধে নিজেই যুদ্ধের ঘোষণা করেছেন। সুদি-কারবারে জড়িত, মধ্যস্থতাকারী ও সহযোগিতাকারী- সবাইকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিশাপ বা বদদোয়া করেছেন। জাবির (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক আর সুদের সাক্ষীকে অভিশাপ বা বদদোয়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী। আর এ কারণেই সুদের হিসাব-নিকাশ লেখা, সুদ কাউকে দেওয়া বা নেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করা, সুদি দ্রব্য গচ্ছিত বা আমানত রাখা আর সুদি মালপত্রের পাহারা দেওয়া সবই নাজায়েজ। মোট কথা, সুদের কাজে অংশগ্রহণ করা আর যে কোনোভাবে সুদের সাহায্য-সহযোগিতা করা সবই হারাম। সুদের কঠিন ভয়াবহতা সম্পর্কে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের ৭৩টি দরজা বা স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ স্তরটি হলো আপন মায়ের সঙ্গে জেনা করার সমতুল্য। আর সবচেয়ে কঠিন স্তরটি হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে অপমান-অপদস্থ করা।’ আবদুল্লাহ বিন হানজালা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘কোনো লোক যদি ভালোভাবে জেনে-বুঝে সুদের এক টাকা খায়, তাহলে এটাই ৩৬ বার জেনা করার চেয়েও কঠিন পাপের কাজ হিসেবে গণ্য হবে।’ সুদ ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবার জন্য হারাম। সবাইকে তা পরিহার করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদ বাগানে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চাষ পদ্ধতি

ডালিমের উন্নত জাতই হলো আনার বা বেদানা। ডালিম খুবই আকর্ষণীয়, মিষ্টি, সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। বাংলাদেশের মাটি বেদানা চাষের জন্য উপযোগী বিধায় আমাদের দেশের  বসতবাটির আঙ্গিনায় ডালিমের চাষ দেখা যায়। আনার বা ডালিমের অনেক ঔষধী গুণও রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে আনার গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যাবে। ছাদ বাগানে  টবে বা ড্রামে খুব সহজেই ডালিমের তথা আনার বা বেদানার চাষ করা যায়।

ছাদে বেদানার চাষ পদ্ধতিঃ ছাদে ডালিম তথা আনার বা বেদানার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার  বা রং করা ড্রাম অথবা টব জোগাড় করতে হবে। ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে, যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকতে না পারে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টিএসপি ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ ৪০-৫০ গ্রাম এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে  আলগা করে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন আগের মতো একইভাবে রেখে দিতে হবে। মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা সেই টবে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় গাছের গোড়া মাটি থেকে কোনভাবে আলাদা হওয়া যাবে যাবে। চারা গাছটিকে সোজা করে সঠিকভাবে রোপণ করতে হবে। তারপর গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে মাটি চেপে চেপে দিতে হবে। ফলে গাছের গোড়া দিয়ে পানি বেশি ঢুকতে পারবে না। একটি সোজা চিকন লাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে। চারা রোপণের শুরুর দিকে পানি অল্প দিলেই চলবে। পরে ধীরে ধীরে পানি দেওয়া বাড়াতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমতেও দেওয়া যাবে না। মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনমতো গাছে সেচ দিতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যাঃ ডালিম তথা আনার বা বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পর পর সরিষার খৈল পচা পানি দিতে হবে। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে।  এক বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। প্রস্থে ২ ইঞ্চি এবং গভীরে ৬ ইঞ্চি শিকড়সহ  টব বা ড্রামের মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টব বা ড্রাম  ভরে দিতে হবে। মাটি পরিবর্তনের এই কাজটি সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শীতের আগে করাই উত্তম। ১০-১৫ দিন পর পর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে।

গাছে সার প্রয়োগঃচারা লাগানোর পূর্বে গর্তে সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও প্রতি বছর গাছে নিয়মিত সার দিতে হবে। গর্ত করার ৮-১০ দিন পর গর্তের মাটির সাথে নিম্নলিখিত হারে সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে দিতে হবে। গর্ত ভরাট করার ২০-২৫ দিন পর ডালিমের চারা রোপণ করতে হবে।

সারের নামসারের পরিমাণ/গর্ত
কম্পস্টের গুঁড়া৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া১৫০ গ্রাম
টিএসপি১০০ গ্রাম
এমওপি১০০ গ্রাম
জিপসাম৭০ গ্রাম

১ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে গোবর ১০ কেজি, ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম, টিএসপি ১২৫ গ্রাম এবং পটাশ সার ১২৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি বছর সারের মাত্রা একটু করে বাড়াতে হবে। পর্যায়ক্রমে পূর্ণ বয়স্ক ১ টি গাছে ৬০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি টিএসপি এবং ১.৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হবে। উপরিউক্ত পরিমাণ সার  ২ বারে গাছে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বারে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ( মে- জুন ) মাসে এবং ২য় বারে আশ্বিন-কার্তিক ( সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ) মাসে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম চাষে আগাছা দমনঃডালিম গাছের গোড়ায় কোন প্রকার আগাছা যেন লেগে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। কেননা ডালিমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ না হলে গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পানি সেচ  নিষ্কাশনঃ ফলন্ত গাছে নিয়মিত হাল্‌কা সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ার মাটিতে কখনই পানি জমে থাকবে না এবং গাছ বেশি শুকনো রাখা যাবে না। সার প্রয়োগের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে অবশ্যই সেচ প্রদান দিতে হবে।

ডালিম গাছের ডাল ছাটাইঃ ছাদের ডালিম তথা আনার গাছের ডাল নিয়মিত ছাটাই করতে হবে । ডালিম গাছের পুরাতন ডালের নতুন শাখায় ফুল আসে। পুরাতন ডালে নতুন শাখা বের করার জন্যই ডাল পালা ছাটাই করা প্রয়োজন। এছাড়াও আনার গাছের শিকড় থেকে বের হওয়া সাকারও ছেঁটে দেওয়া প্রয়োজন।

ডালিম গাছের শিকড় ছাঁটাইঃ ডালিম গাছে সারা বছরই ফুল ও ফল হয়ে থাকে। সাধারণত বসন্তে এবং বর্ষার সময় গাছে বেশি ফুল ধরে। বসন্তের ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল পাওয়া যায় এবং এর গুণাগুণ খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে। কিন্তু বর্ষার ফুল থেকে প্রাপ্ত ফল অক্টোবর-নভেম্বরে সংগ্রহ করা যায়, যার গুণগত মান খুবই ভালো হয়। তাই অসময়ে তথা বর্ষায় গাছে ফুল আসার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে ১৫ সেমি.গভীর করে মাটি খুঁড়ে শিকড়গুলোকে ১৫ দিন উন্মুক্ত করে রাখাতে হবে। পরবর্তীতে জৈব সারসহ মাটি চাপা দিয়ে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

ডালিম গাছের বিশেষ পরিচর্যাঃডালিম গাছে সারা বছরই অল্প অল্প করে ফুল আসতে থাকে। তবে সব সময়ের ফুল থেকে কিন্তু ফল উৎপন্ন হয় না। বসন্তকালে ডালিম গাছে যে ফুল হয় সেই ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল হয়। তবে এক্ষেত্রে এই ফলের গুণগত মান খুব একটা ভালো হয় না। বর্ষার শুরুতে যে ফুল আসে এবং সেই ফুল থেকে যে ফল হয় তা কার্তিক অগ্রহায়ণ ( অক্টোবর-নভেম্বর ) মাসে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। এই সময়ের ফলের মান বেশ ভালো হয়। তাই বর্ষার শুরুতে ফুল আনার জন্য পৌষ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত গাছের বিশেষ পরিচর্যা নিতে হবে।  এই সময়ে গাছে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হয়, ফলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ থাকে। চৈত্র মাসে গাছে সেচ দিতে হয় এবং কোদাল দিয়ে কুপিয়ে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। চৈত্র মাসে গাছের পাতা ঝরে যায় ও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত গাছ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে ১-২ বার সেচ দিলে ভালো হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাছের বদ্ধি ও ফুল ফল ধারণ শুরু হয়। পরবর্তীতে কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এই ফল সংগ্রহ করা যায়।

ডালিমের রোগবালাই ও প্রতিকারঃ

ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকাঃডালিম ফলের মারাত্মক শত্রু পোকা হচ্ছে ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকা। এই প্রজাতির শূঁককীট ফলের ক্ষতি করে থাকে। স্ত্রী প্রজাপতি ফুল ও ছোট ফলের ওপর ডিম পাড়ে। সেই ডিম থেকে শূঁককীট বের হয়ে বর্ধনশীল ফলে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ খেয়ে ফেলে। পরবর্তীতে  শূঁককীট থেকে মূককীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ফলের ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে ফল থেকে বের হয়ে আসে। এই পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফলে মাধ্যমিক সংক্রমণ ( Secondary Infection ) হিসেবে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।

প্রতিকারঃ

(ক) আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বা মাটিতে পড়ে থাকা  আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে।

(খ) গাছে ফল ধরার পর ফলের বৃদ্ধি শুরু হলে কাপড় বা পলিথিন বা কাগজ দিয়ে ফল ব্যাগিং করে দিলে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

(গ) এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ম্যালাথিয়ন বা কার্বারিল ( এসিকার্ব ) বা ফস্‌ফামিডন গ্রুপের কীটনাশক ১২- ১৫ দিন পর পর গাছে ও ফলে স্প্রে করতে হবে।

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে দেখা যায়। এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড ও শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে। দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এই শূঁককীট লুকিয়ে থাকে ও বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে। কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে।

(খ) গর্ত থেকে এ পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে।

রস শোষণকারী পোকাঃছাতরা পোকা, সাদা মাছি, শুল্ক বা আঁশ পোকা, থ্রিপস, জাব পোকা ও মাকড় ডালিমের রস শোষণকারী পোকা হিসেবে বিবেচিত। এসব পোকার আক্রমণে পাতা, মুকুল, ফুল ও ছোট ফল ঝরে পড়ে। সাদা মাছি ও জাব পোকা পাতা ও কচি ডগার রস চুষে খায়। ফলশ্রুতিতে আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ ও বিকৃত হয়ে যায়। এছাড়া এসব পোকার দেহ থেকে এক ধরনের মধু নিঃসৃত হয়, যা পাতায় লেগে থাকে। পরবর্তীতে পাতার গায়ে এই নিঃসৃত মধুর ওপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। মাকড় ও থ্রিপস পোকা পাতা, ফুলের বোঁটা, বৃতি ও দলমণ্ডলের অংশ ক্ষত করে এবং ক্ষত থেকে বের হওয়া কোষরস খায়। ফলে পাতার আগা কুঁকড়ে যায় এবং ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

প্রতিকারঃ

(ক) ছাতারা পোকা ও শুল্ক পোকার কীট দমনের জন্য আক্রমণের প্রথম দিকে আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর পর প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডায়াজিনন দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

(খ) জাব পোকা বা সাদামাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ডাইমেথয়েট (টাফগর ) অথবা ০.৫ মিলি হারে ইমিডাক্লোপ্রিড ( ইমিটাফ, টিডো,টিডো প্লাস ) দলীয় কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর গাছে দুই বার স্প্রে করতে হবে।

(গ) মাকড় দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ১.২৫ মিলি হারে ভার্টিমেক/ সানমেক্টিন এবং ২ গ্রাম হারে সালফার ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

ফলের দাগ রোগঃ এই রোগ ছত্রাকজনিত কারণে হয়ে থাকে। ফল গাছ এ রেগে আক্রান্ত হলে  আক্রান্ত ফলের ওপর অনেক ছোট ও অনিয়মিত দাগ পড়ে। এই দাগগুলোর চারিদিকে সবুজ হলদে দাগ থাকে। পরবর্তীতে দাগগুলো লম্বা দাগে পরিণত হয়। ফলের খোসার নিচের বীজগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। আক্রান্ত ফলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজার মূল্য কমে যায়।

প্রতিকারঃ রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মেনকোজেব (ইণ্ডোফিল এম ৪৫/ ডিইথেন এম ৪৫) বা ১ গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম( নোইন/ অটোস্টিন/এমকোজিম) ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ২-৩ বার ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

ফল পচা রোগঃছত্রাকজনিত এই রোগটি সাধারণত বর্ষাকালে দেখা যায়। এ রোগের জীবাণু দিয়ে ফুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং কচি ফল ঝরে যায়। ফলের গায়ে, বিশেষ করে বোঁটায় হলদে বা কালো দাগ দেখে এ রোগের আক্রমণ বোঝা যায়। এই রোগের আক্রমণে ফলের খোসা কুঁচকে যায় ও ফলের ওজন কমে যায়। আক্রান্ত ফল কাঁচা থাকে, আকার ছোট হয় এবংফলের উজ্জ্বলভাব নষ্ট  হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফল নরম হয়ে পচে যায়।

প্রতিকারঃ ফল পচা রোগের প্রতিকার ফলের দাগ রোগের প্রতিকারের অনুরূপ।

ফল ফেটে যাওয়াঃডালিমের ফল ফেটে যাওয়া একটি মারাত্মক সমস্যা। এটি কোন ছত্রাকজনিত রোগ নয়। এটি সাধারণত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে বা মাটিতে রসের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে। ফলের বৃদ্ধির সময় শুকনো আবহাওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দিলে ফলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য ফলের ত্বক শক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে মাটিতে রসের আধিক্য ঘটলে ফলের ভেতরের অংশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। যার কারণে ভেতরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ফলের খোসা ফেটে যায়।

প্রতিকারঃ

(ক) ডালিম গাছে ফল ধরার পর থেকে গাছে ঘন ঘন পানি সেচ দিতে হবে।

(খ) মাটিতে বোরনজনিত সার যেমন বোরিক এসিড প্রতি গাছে ৪০ গ্রাম হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে।

(গ) ফলের বৃদ্ধির সময় সলুবর বোরন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর  ফলে ও গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

(ঘ) তাছাড়া ডালিমের যেসব জাতে ফল ফাটা সমস্যা নেই সেসব জাতের ডালিমের চাষাবাদ করতে হবে।

ফল সংগ্রহঃ আনারের কলমের গাছে ৩-৪ বছর থেকেই ফলন দেওয়া শুরু হয়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৬ মাস সময় লাগে। পরিপুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে বাদামি হয়ে এলেই ফল পাড়াতে হবে। গাছে ফল বেশি দিন রেখে দিলে ফল ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব গাছে ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সেসব গাছের ফল পুষ্ট হওয়ার কিছু আগেই পেড়ে নেওয়ায় উত্তম। তবে অপুষ্ট ফলের স্বাদ ও গুণাগুণ খুব একটা ভালো হয় না। ডালিমের খোসা বেশ শক্ত এজন্য পাকা ফল অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং বাজারজাত করার সময় পরিবহনকালেও ফল সহজে নষ্ট হয় না।

ফলনঃডালিম গাছ  সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই ফল দিতে শুরু করে। তবে শুরুর দিকে ফলন তেমন একটা আশানুরূপ হয় না। সাধারণত ৮-১০ বছর বয়স থেকে ডালিম গাছ ভালো ফলন দিয়ে থাকে। প্রথম ফল ধরার সময় গাছপ্রতি ২০-২৫ টির বেশি ফল পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর বয়সের গাছে গড়ে ১০০-১৫০ টি ফল ধরে। তবে ভালো পরিচর্যা নিলে গাছপ্রতি ২০০-২৫০ টি ফল পাওয়া যেতে পারে। একটি ডালিম গাছ ত্রিশ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দিতে পারে।

চারা প্রাপ্তির স্থানঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারসমুহ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন নার্সারিগুলোতে ডালিম বা আনারের চারা পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মৌ চাষ

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে স্বল্প শ্রম ও স্বল্প পুঁজি সংবলিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাড়তি আয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, মৌ চাষের যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ, পুষ্টির উন্নয়ন, ফল ও ফসলের ফলন বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যতা ও উন্নয়নে মৌ চাষ অনন্য। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌ চাষ কার্যক্রম গ্রহণে আগ্রহী লক্ষ জনগোষ্ঠীকে মৌ চাষে উদ্বুদ্ধকরণসহ অধিক মধু উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশে খাঁটি মধুর চাহিদা পূরণ, সফল পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি তথা দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশে মৌ চাষের ইতিহাস
মৌমাছি সাধারণত বনে জঙ্গলে, গাছের ডালে, গাছের কোটরে, মাটির গর্তে, দালানের সুবিধামতো জায়গায় মৌচাক তৈরি করে থাকে। সুন্দরবনে মৌয়ালরা বাঘের ভয়কে তুচ্ছ করে মধু সংগ্রহ করে থাকে এভাবে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক মৌমাছি ধ্বংস হয়ে যায়।বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে অনেক কিছু সহজসাধ্য হয়েছে। প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৌমাছিকে পোষ মানানো সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই এখন কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মৌ কলোনি সংগ্রহ করে বা কৃত্রিম উপায়ে বিভাজনের মাধ্যমে রানী উৎপাদন করে প্রযুক্তিগত এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কাঠের তৈরি বাক্সে প্রতিপালন করা হয়।

মৌমাছির পরিচিতি
– মৌমাছি এক ধরনের  সামাজিক ও উপকারী পতঙ্গ;
– সংঘবদ্ধভাবে রানী, শ্রমিক ও পুরুষ সমন্বয়ে একটি কলোনিতে বসবাস করে;
– স্বভাবসিদ্ধভাবে প্রকৃতিতে বসবাস করে;
– প্রধানত ফুল থেকে নেকটার ও পোলেন সংগ্রহ করে;
– সময় ও ক্ষেত্র বিশেষ কচিপাতা, উদ্ভিদের কাণ্ড, মিষ্টি ফল এবং চিনিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করে;
– নেকটার অথবা মিষ্টি রস সংগ্রহ করে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের  তাৎক্ষণিক খাবার ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসাবে মধু উৎপাদন করে;
– সংগৃহীত পোলেন থেকে মৌমাছি বিশেষ করে অল্প বয়সের মৌমাছির প্রোটিন জাতীয় খাবারের চাহিদা পূরণ করে।

মৌমাছির প্রকারভেদ
প্রকৃতিতে চার প্রকারের মৌমাছি পাওয়া যায়। সেগুলো হলো- অ্যাপিস মেলিফেরা, অ্যাপিস ডরসেটা, অ্যাপিস সেরানা ও অ্যাপিস ফ্লোরিয়া। তবে অ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির চাষাবাদ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে লাভজনক।

অ্যাপিস  মেলিফেরার বৈশিষ্ট্য
– ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি;
– আকারে বড় ও শান্ত প্রকৃতির;
– অধিক মধু উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন (প্রতি কলোনিতে বছরে মধু উৎপাদন ক্ষমতা কমপক্ষে ৫০ কেজি) বাক্সে পোষ মানে এবং কখনই বাক্স বা কলোনি পরিত্যাগ করে না।  পরাগায়নে মৌ চাষ
মৌমাছির মাধ্যমে সফল পরাগায়ন সম্ভব এটি সর্বজনস্বীকৃত। বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে মৌমাছি দ্বারা পরাগায়ত ফসলের ১০ থেকে ১৫ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত বাড়তি ফসলের মূল্য মোট উৎপাদিত মধু ও মোমের মূল্যের ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষিদের পাশাপাশি কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার ও প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অধিক মধু এবং ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষি এবং কৃষক উভয়ই উপকৃত হবেন। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদনের ফলে দেশের জিডিপিতে আরও অবদান রাখা সম্ভব।

মৌ চাষে সতর্কতা

মৌবাক্সে বসানোর আশপাশের জমিতে বালাইনাশক সব সময়ই বিকেলের পরে স্প্রে করা প্রয়োজন। না হলে বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছি মারা যাবে।

মৌ চাষের সুফল
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মৌ চাষের উল্লেখযোগ্য সুফল নিম্নরূপ
– নিয়মিত বিশুদ্ধ মধু সেবনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ;
– বিশেষ বিশেষ রোগ নিরাময়;
– বাড়তি আয়;
– খাদ্যে পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও উন্নয়ন;
– মোম ব্যবহারের মাধ্যমে বহুবিধ প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন;
– স্বাদ ও রুচির দিক থেকে খাদ্যের মান উন্নয়ন;
– কৃষিভিত্তিক কুটির শিল্পের উন্নয়ন;
– দেশজ সম্পদের  ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান;
– বনজ সম্পদের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা;
– ফল ও ফসলের সফল পরাগায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি;
– আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডর মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা;
– মৌ চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বগুড়ায় বর্ষাকালে নৌকা তৈরির ধুম

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগররা যেন দম ফেলানোর সময় পাচ্ছে না। কেউ আবার পুরাতন নৌকায় আলকাতরা ও জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে যোগাযোগের উপযোগী করে তুলছেন। বন্যায় অনেকেই শুধু নিজ পরিবারের লোকদের চলাচলের জন্য নৌকা তৈরি করছেন।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা ও বাঙ্গালী নদী বেষ্টিত সারিয়াকান্দি উপজেলা বর্ষাকালে বিশাল এলাকা জুড়ে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে মাছ শিকার করে থাকেন। পণ্য পরিবহনে নৌকা প্রধান বাহন হয়। এক চর থেকে অন্য চরে চলাচল করা ছাড়াও খেয়া পারাপারের ক্ষেত্রে প্রধান বাহন হিসাবে কাজ করে নৌকা।রকমভেদে এই নৌকা তৈরিতে খরচ পড়ে ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত। এরই মধ্যে যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এ জন্য নৌকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে ব্যাপক হারে। সে জন্য নদী পারের মানুষেরা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ১০ হাত লম্বা থেকে ৭০ হাত পর্যন্ত লম্বা নৌকা তৈরি করছেন এ এলাকার বাসিন্দারা।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ইন্দুর মারা চরের বাসিন্দা আলমগীর জানান, এবার আমি ২৪ হাত একটি নৌকা তৈরি করিয়ে নিচ্ছি। তিনি ছাড়াও উপজেলার অনেকেই নতুন নৌকা তৈরি করছেন আগামী বর্ষায় ব্যবহার করার জন্য। নৌকা তৈরির সাথে জড়িত নান্দিয়ার পাড়া গ্রামের সাজু মিস্ত্রী বলেন, আমি ১০ হাত নৌকা তৈরি করে ১১ হাজার টাকায় বিক্রয় করি। গত বর্ষা মৌসুমে ৭০ থেকে ৭৫টি নৌকা তৈরি করেছিলাম।

এবারও সেরকম নৌকা তৈরি ও মেরামত করার অর্ডার পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে এগুলো তৈরি করব। এজন্য আমাকে দিনরাত কাজ করতে হবে। ছোট নৌকা বেশির ভাগই যমুনা নদীতে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করার জন্য নেয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, কৃষি পণ্য আনা নেয়া করার জন্য বর্ষাকালে নৌকা ব্যবহার করা হয়। নৌকা ছাড়া নদী পাড়ের মানুষের চলাচল অসম্ভব। তাই এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে এখন পুরাতন নৌকা মেরামত ও নতুন নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com