আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

অ্যামাজনের শুরুটা ঠিক যেভাবে হয়েছিল

অ্যামাজনের শুরুটা ঠিক যেভাবে হয়েছিল

তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইন ব্যবসা এখন জমজমাট। উন্নত দেশ থেকে শুরু করে তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যেও। অনুন্নত দেশগুলোও হয়তো একদিন অনলাইন ব্যবসায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নেবে। তা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

তারই হাত ধরে অনলাইন শপিং প্লাটফর্ম ‘অ্যামাজন’ বিশ্বে একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। যেখান থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে পছন্দমতো কেনাকাটা করা যায়। বিশ্বের অন্য সব অনলাইন শপিং প্লাটফর্মের মধ্যে অ্যামাজন বহুল আলোচিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

তবে একদিনেই পরিচিত বা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি অ্যামাজন। এর পেছনে রয়েছে ২৬ বছরের ইতিহাস। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের বাবা-মায়ের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। অ্যামাজনের কর্মীরাও পিছিয়ে নেই ১৯৩.৫ বিলিয়ন ডলার অর্জনের অবদান থেকে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানায়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই অ্যামাজনের অনলাইন ক্রেতা রয়েছে। যদিও অ্যামাজন মার্কিন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এর সদর দফতর ওয়াশিংটন রাজ্যের সিয়াটলে। জেফ বেজোস ১৯৯৪ সালে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেন। তখন অ্যামাজন অনলাইনে বই বিক্রি করতো।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যাবতীয় পোশাক, আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে। অ্যামাজন আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে; ২৬ বছর আগে কিন্তু তা ছিল না। অনেক প্রতিবন্ধকতা পার হয়েই প্রতিষ্ঠানটি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে

দেশটির গণমাধ্যম সিএনবিসিকে অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজোস জানান, ১৯৯৪ সালে অনলাইন বইয়ের দোকান চালু করার জন্য তিনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২৭৫,৫৭৩ ডলার নিয়েছিলেন। যদিও এতে কতটা সাফল্য আসবে তা তিনি প্রথমেই অনুমান করতে পারেননি। তার মনে হয়েছিল, একশ শতাংশের মধ্যে ত্রিশ শতাংশ সফলতা আসতে পারে।

তিনি জানান, বাবা-মায়ের টাকাগুলো নষ্ট হতে পারে ভেবে মাঝেমাঝে মন খারাপ হতো। তবে হাল ছেড়ে দেননি। এ ব্যবসায় তাকে সব সময় সাহস জুগিয়েছেন তার মা। ফলে সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন। তার সেই কষ্টের ফলে আজ তিনি পৃথিবীর অন্যতম ধনী। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৯৩.৫ বিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া, কানাডা, ভারত, ব্রাজিল, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোসহ সারা বিশ্বেই তাদের ব্যবসা রয়েছে। জেফ বেজোসের এ সফলতায় তার কর্মীদের অবদানও কম নয়। তাই তো অ্যামাজনের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৭ লাখ কর্মী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষিযন্ত্র কেনায় কৃষকদের ব্যাংকঋণ দেওয়া দরকার

দেশের কৃষির যান্ত্রিকীকরণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। জমি চাষ প্রায় পুরোপুরি যন্ত্রের মাধ্যমে হচ্ছে। এখন বাড়ছে ফসল কাটা ও রোপণে যন্ত্রের চাহিদা। কৃষিযন্ত্রের বাজার নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি মেটাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিদ জামিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজীব আহমেদ

প্রথম আলো: গত বোরো মৌসুমে ধান কাটার ক্ষেত্রে শ্রমিকসংকট কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছে বলে অনেকে মনে করছেন। আপনাদের কী মত?

সাদিদ জামিল: দেখেন, দেশের কৃষকের গড় বয়স এখন ৪৮ বছর। তরুণেরা কৃষিকাজে যাচ্ছেন না। ধান কাটার মৌসুমে তাই শ্রমিক মিলছে না। বোরোতে আবার ধান খুব দ্রুত কেটে ফেলতে হয়। সব মিলিয়ে এবার ধান কাটা নিয়ে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমরা বিনা মূল্যে অনেক জায়গায় ধান কেটে দিয়েছি। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, কৃষিতে যদি যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ে, তাহলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও কমে। এক একর জমিতে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে এখন একজন কৃষকের ১২ হাজার টাকা লাগে। যন্ত্রের ক্ষেত্রে লাগে ৭-৮ হাজার টাকা।

প্রথম আলো: এখন বাংলাদেশের কৃষিযন্ত্রের বাজার কী রকম?

সাদিদ জামিল: জমি তৈরি বা চাষাবাদের ক্ষেত্রে এখন ৯৫ শতাংশ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে হচ্ছে। সে কারণে বছরে ৮-৯ হাজার ট্রাক্টর দেশে আমদানি হচ্ছে। পাওয়ার টিলার আসছে ৫০-৬০ হাজার। সব মিলিয়ে চাষাবাদে আমরা যান্ত্রিকীকরণে এগিয়ে গেছি। এখন ধান কাটা ও মাড়াই এবং রোপণে ব্যবহার বাড়ানোর সময়। ধান কাটায় যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার কিন্তু মাত্র ১ শতাংশ বা তার কম। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আমরা কম্বাইন্ড হারভেস্টরের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এখানে অফুরন্ত সুযোগ আছে। এর পাশাপাশি রোপণযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

প্রথম আলো: সরকার তো কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে চায়। এ ক্ষেত্রে ভর্তুকিও দেওয়া হচ্ছে।

সাদিদ জামিল: হ্যাঁ। সরকার এ ক্ষেত্রে খুব সহায়তা করছে কৃষকদের। রোপণযন্ত্রে গত অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা ও হাওর এলাকায় ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকার ভর্তুকি দিয়েছে। কর্তনযন্ত্রে দামের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি ছিল (মনোনীতদের)। এবার আমরা শুনছি, কম্বাইন্ড হারভেস্টরে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হতে পারে। এক হিসাব অনুযায়ী, দেশের সব ধান কাটতে ১ লাখ কম্বাইন্ড হারভেস্টর প্রয়োজন। সরকারি হিসাবে আছে মাত্র ২ হাজার। সুতরাং বাজার অনেক বড়।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে অনেক এলাকায় ফসলের মাঠ কর্দমাক্ত থাকে। অনেক এলাকায় ধানের জমি পানিতে ডুবে থাকে। অনেক সময় ধানগাছ বাতাস অথবা ঝড়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে। এসব পরিস্থিতিতে কি যন্ত্রের মাধ্যমে ফসল কাটা সম্ভব?

সাদিদ জামিল: কম্বাইন্ড হারভেস্টর কাদার মধ্যে ধান কাটতে পারে। আবার মাটিতে নুয়ে পড়া ধানগাছও এটা দিয়ে কাটা যায়। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর ব্যবহার করে ধান কাটা ও মাড়াই করা যাবে। এর পাশাপাশি আরেকটি সুবিধা হলো, কম্বাইন্ড হারভেস্টরে কাটা ও মাড়াইয়ে ফসল নষ্ট হয় কম। এ ক্ষেত্রে হার ৩ শতাংশ। সনাতন পদ্ধতিতে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফসল নষ্ট হয়।

প্রথম আলো: এসব যন্ত্রের দাম কী রকম? কৃষকের কেনার সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে কি?

সাদিদ জামিল: একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টরের দাম ২০ লাখ টাকা। নগদ টাকায় এটা কেনা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আমরা চাই, কৃষককে ঋণ দেওয়া হোক। এখন কৃষি খাতে যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কৃষিযন্ত্রে ঋণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করলে কৃষকের জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ হবে না। কারণ, ব্যাংকঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ওই যন্ত্রটাই রাখতে পারবে। আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই এ ক্ষেত্রে দরকার সরকারি উদ্যোগ। কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে যেমন ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা থাকে, কৃষিযন্ত্রের ক্ষেত্রেও তা করা যেতে পারে।

প্রথম আলো: এখন কারা কৃষিযন্ত্র কিনছে?

সাদিদ জামিল: এ ক্ষেত্রে একটি উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে উঠছে। কিছু কিছু এলাকায় ছোট ছোট কোম্পানি গড়ে উঠছে, যারা এসব যন্ত্র কিনে অর্থের বিনিময়ে চাষাবাদ ও মাড়াই করে দেয়। গ্রামের শিক্ষিত তরুণ ও বিদেশফেরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বড় উৎস হতে পারে কৃষিযন্ত্রের ব্যবসা।

প্রথম আলো: এসব যন্ত্র কেনা কতটা লাভজনক?

সাদিদ জামিল: একটি যন্ত্র কিনলে কয়েক বছরেই তার টাকা উঠে যায়। কিন্তু যন্ত্রটি ব্যবহার করা যায় ১০ বছরের বেশি সময়। তাই যাঁরা কেনেন, তাঁদের জন্য এটা অনেক লাভজনক।

প্রথম আলো: এবার বাজেটে কৃষিযন্ত্র খাতে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে?

সাদিদ জামিল: আমরা দেখছি, কৃষিযন্ত্র আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। পরে আয়কর দেওয়ার সময় এটা সমন্বয়যোগ্য। কিন্তু সমস্যা হলো, কৃষিযন্ত্রে মুনাফার হার খুব কম। ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়করের সমপরিমাণ মুনাফা কখনোই হয় না। ফলে এটা ক্রেতার ওপর চাপার আশঙ্কা আছে। ফলে দাম বেড়ে যেতে পারে। এটা কিন্তু সরকারি নীতির বিপরীত। একদিকে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি করারোপের কারণে দাম বাড়ছে।

প্রথম আলো: কৃষক যদি ফসলের ভালো দাম না পান, তাহলে কি যন্ত্র বিক্রির ওপর প্রভাব পড়ে?

সাদিদ জামিল: হ্যাঁ। দাম না পেলে যন্ত্র বিক্রি কমে যায়।

প্রথম আলো: আপনাদের ব্যবসা নিয়ে বলেন, কবে শুরু হলো? এখন কোন কোন খাতে ব্যবসা রয়েছে?

সাদিদ জামিল: আমরা ব্যবসা শুরু করি ১৯৮৭ সালে। ওই বছরের নভেম্বর মাসে আমাদের

কোম্পানি যাত্রা শুরু করে। তখন অবশ্য কৃষি যন্ত্রপাতির বাজারে ছিলাম না। আমরা কিছু ট্রাক-বাসের চেসিস আমদানি করে বডি তৈরি করতাম। ১৯৯৩ সালে আমরা কৃষিযন্ত্রের বাজারে প্রবেশ করি। ভারতের টাফে ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর আমদানি করে আমাদের কৃষিযন্ত্রের ব্যবসা শুরু হয়। কৃষক পর্যায়ে ট্রাক্টর কিন্তু আমরাই প্রথম এনেছি। এখনো টাফে ট্রাক্টর আমদানি করছি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইশার ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর। এ ছাড়া আমাদের বীজ উৎপাদনের ব্যবসা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

দুঃসময়ে বাজারেও স্বস্তি নেই

দুঃসময়ে বাজারেও স্বস্তি নেই
দুঃসময়ে বাজারেও স্বস্তি নেই – প্রথম আলো

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বস্তিতে পরিবারসহ বাস করেন মালা বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাসার সামনের রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম ছিল ৩০ টাকা। এখন সেটা ৩৫ টাকা।

‘আমরা দুজন পাঁচ মাস ধরে ঘরে বসা’—আলাপের শুরুতেই জানালেন মালা বেগম, যিনি করোনাকালের আগে তিনটি বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ করতেন। আয় ছিল মাসে ৯ হাজার টাকা। দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে যেদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলো (২৬ মার্চ), সেদিন থেকে তিনি বেকার। দূরপাল্লার বাসের চালক স্বামীরও এত দিন কাজ ছিল না।

মালা বেগম বললেন, সংসারের খরচ থেকে একটু একটু বাঁচিয়ে ৭০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন। করোনায় সব শেষ। কয়েক দিন আগে দুই হাজার টাকা বেতনে এক বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ পেয়েছেন। এ জন্য আগারগাঁও থেকে মণিপুরীপাড়া পর্যন্ত হেঁটে যান। বাসে যান না কেন? মালার জবাব, ‘এত ভাড়া দিয়ে বাসে চললে খাব কী?’বিজ্ঞাপন

মালা নিজেই বাজার করেন। জানালেন, তাঁর সংসারে যা নিয়মিত কিনতে হয়, সবকিছুর দামই বেশি। যা এখনকার কোনোরকমে বেঁচে থাকার সময়ে তাঁর সংসারের খরচ অনেকটাই বাড়িয়েছে।

মালা বেগমের কথা যে সত্যি, তা বাজারে গেলেই টের পাওয়া যায়। এখন চালের দাম চড়া। ভোজ্যতেলের কোম্পানিগুলো প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৩–৪ টাকা বাড়িয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের অ্যাংকর ডালের দাম প্রতি কেজি ৫ টাকা বেড়েছে। বেশির ভাগের সবজির কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ডিমের দাম কোনোভাবেই কমছে না। প্রতি ডজন ১১০ টাকা। দাম কম কেবল ব্রয়লার মুরগির। কিন্তু মুরগি রান্না করতে আদা কিনতে হবে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা দরে, যা ঈদুল আজহার আগেও ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল।

নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেনাকাটা করেন, এমন দুটি বাজার (শেওড়াপাড়ার অলি মিয়ার টেক ও পশ্চিম আগারগাঁও কাঁচাবাজার) ঘুরে দেখা যায়, মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম প্রতি কেজি ৪৩ টাকা। এই চাল আবার অনেক পুরোনো ও একটু গন্ধযুক্ত। ভালো মানের মোটা চাল কিনতে লাগছে প্রতি কেজি ৪৬ টাকা। যা সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে এক বছর আগের তুলনায় দাম ২৮ শতাংশ বেশি।বিজ্ঞাপন

একদিকে বহু মানুষের আয় কমে গেছে। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।

গোলাম রহমান, সভাপতি, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

স্বস্তি নেই মাঝারি মানের বিআর–২৮ ও সরু মিনিকেট চালের দামেও। মাঝারি মানের বিভিন্ন চাল কিনতে প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫৩ টাকা লাগছে। আর সরু মিনিকেট চালের কেজি বাজারভেদে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় এখন মাঝারি মানের চালের দাম ৯ শতাংশ ও সরু চালের দাম ১৫ শতাংশ বেশি।

বাজারে দাম যখন বাড়তি, তখন মানুষের আয় পরিস্থিতি খারাপ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং ওয়াল্টার এলিজা হল ইনস্টিটিউট, অস্ট্রেলিয়ার এক যৌথ গবেষণা বলছে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকার নির্দেশনার সময়কালে ৯৬ শতাংশ পরিবারের গড় আয় কমেছে।

ওই সময় আয় কমে যাওয়া মানুষদের একজন পীরেরবাগের আফসানা সুজের বিক্রয়কর্মী আলামিন হোসেন। ওই সময় দুই মাস বেতন না পেয়ে যে ঋণ হয়েছিল, এখন বাজারে ব্যয় সাশ্রয় করে তা শোধ করছেন তিনি।

আলামিনের কৌশলটি খুব সাধারণ। সেটি হলো, ইচ্ছেমতো মাছ-মাংস কেনা বন্ধ রাখা। বললেন, ‘ধরেন আগে চিংড়ি কিনতাম, এখন তেলাপিয়া কিনি। বেশির ভাগ দিনই শাকসবজি ও ভর্তা দিয়ে খেয়ে নিই।’বিজ্ঞাপন

খরচ বাড়ার আরও খাত

একটি কোম্পানির বিপণনকর্মী আসাদুজ্জামানকে প্রতিদিন মিরপুর থেকে ধানমন্ডি যেতে হয়। করোনাকালের আগে বাসভাড়া ছিল ২৫ টাকা। এখন সেটা ৪০ টাকা। দিনে তাঁর যাতায়াত খরচ বেড়েছে ৩০ টাকা, মাসে ৭৮০ টাকা। যা তাঁর বেতনের সাড়ে ৬ শতাংশ।

বাড়তি ভাড়া আসাদুজ্জামান মেনে নিতেন, যদি স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা হতো। তিনি বলেন, প্রায়ই বাসে বাড়তি লোক নেয়। ফলে বেশি ভাড়া দেওয়ার কোনো সুফল নেই।

ঢাকার গুলশানের একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন মো. কামরুজ্জামান। তাঁর বেতন কমেছে ১০ শতাংশ। কিন্তু খরচ বেড়েছে। কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জীবাণুনাশক ও মাস্ক কেনা এবং বাসের বদলে অটোরিকশায় চলতে এই বাড়তি খরচ।

আগারগাঁওয়ের গরুর খামারি মো. মানিকের খরচ বেড়েছে অন্যভাবে। তিনি বলেন, গরুর জন্য খুদ (ভাঙা চাল) কিনতে ৫০ কেজির বস্তায় দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা, যা ছয় মাস আগে ৯০০ টাকা ছিল। ফলে ৯০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করে লাভ থাকছে না। তাঁর আয়ের উৎস গরুর দুধের ক্রেতাও এখন কম। করোনার ভয়ে ক্রেতারা তাঁকে অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে দেন না।বিজ্ঞাপন

সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে

বাজারে দাম বেড়ে গেলে সাধারণত ট্রাকে খোলাবাজারে চাল বিক্রির কর্মসূচি (ওএমএস) নেওয়া হয়। এখন তা নেই। তবে বিভাগীয় শহরের ২৮১টি দোকানে দিনে এক হাজার কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের গুদামে চালের মজুত খুব বেশি নয়। বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যের অর্ধেক। এ সময় ওএমএস চালুর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (বণ্টন) আমজাদ হোসেন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেলে উচ্চপর্যায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

টিসিবি ৫০ টাকা কেজিতে চিনি ও ডাল এবং ৮০ টাকা লিটার দরে ভোজ্যতেল বিক্রি করত। সেই কার্যক্রম গতকাল শেষ হয়েছে। টিসিবি ভালো পণ্য বিক্রি করে সুনাম কুড়িয়েছিল। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সামান্যই। টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা প্রতি মাসে ১২–১৩ দিন তেল, চিনি ও ডাল বিক্রি করেন।

বাজারে তেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর কমানোর সুপারিশ করেছিল, যা আমলে নেওয়া হয়নি। করোনাকালে বাসভাড়া বাড়ানোর বদলে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে বাস মালিকদের ক্ষতি পোষানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশ্লেষকেরা। কিন্তু তাতে কান না দিয়ে বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, একদিকে বহু মানুষের আয় কমে গেছে। অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এখন চালের মজুত বাড়িয়ে খোলাবাজারে বিক্রি বাড়ানো। টিসিবির মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে পণ্য বিক্রি করা, যাতে মানুষ স্বস্তি পায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

তেল ও সয়া কেকে বিনিয়োগ বাড়ছে

তেল ও সয়া কেকে বিনিয়োগ বাড়ছে
তেল ও সয়া কেকে বিনিয়োগ বাড়ছে – প্রথম আলো

আমদানি করেই দেশে সয়াবিন তেল বাজারজাত হচ্ছে নব্বইয়ের দশক থেকে। বিদেশ থেকে অশোধিত তেল এনে দেশে শুধু পরিশোধন হতো। আর একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেশে সয়াবিন তেল উৎপাদনে যুক্ত হয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

এ কারণে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে অশোধিত সয়াবিন আমদানিও কমছে। আবার তেল ছাড়া কারখানায় যা পাওয়া যাচ্ছে, তার পুরোটাই মুরগি, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতে খাবারের জোগানও দিচ্ছে। সয়াবিন উৎপাদিত হলেও উদ্যোক্তাদের নজর মৎস্য ও প্রাণিখাদ্য ‘সয়া কেক’ বাজারজাত নিয়ে। তৈলবীজের মধ্যে সবচেয়ে কম তেল পাওয়া যায় সয়াবিন মাড়াই করে। কারখানায় ১০০ কেজি সয়াবিন মাড়াই করে ১৭ থেকে ১৮ কেজি অপরিশোধিত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। সয়াকেক উৎপাদিত হয় ৭৮–৭৯ কেজি।

নতুন বিনিয়োগ নিয়ে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, দেশীয় বাজার ও রপ্তানির সম্ভাবনার কারণে এই খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। আগে সয়াকেক আমদানি হতো। এখন এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় আমদানির দরকার হবে না। অপরিশোধিত সয়াবিনও আসবে এই খাত থেকে। তাই এই খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা উচিত।
বিজ্ঞাপন

এক বছরে তিন কারখানা

দেশে প্রথম সয়াবিন মাড়াইয়ের কারখানা গড়ে তুলেছে সিটি গ্রুপ। ২০০৭ সালে নারায়ণগঞ্জে ‘সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামের কারখানা চালু করে গ্রুপটি।

এই গ্রুপের পর ২০১১ সালে মেঘনা গ্রুপও নারায়ণগঞ্জে চালু করে সয়াবিন মাড়াই কারখানা। এত দিন দুটি গ্রুপের কারখানায় সীমিত আকারে তেল ও সয়াকেক উৎপাদিত হতো। কারখানা দুটির প্রতিটিতে দিনে দেড়–দুই হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন মাড়াইয়ের সক্ষমতা আছে। তাই সয়াবিন ও সয়াকেকের চাহিদা বাড়তে থাকায় সিটি ও মেঘনা গ্রুপ আরও দুটি বড় কারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়। এ বছর কারখানা দুটি চালু হয়।

সিটি গ্রুপ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে চালু করেছে সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইউনিট–২ কারখানা। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কারখানায় প্রতিদিন ৫ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিনবীজ মাড়াই করার সক্ষমতা রয়েছে। আর মেঘনা গ্রুপও মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘সোনারগাঁ সিড ক্রাশিং মিলস লিমিটেড’ নামে নতুন কারখানা করেছে। এই কারখানায় বিনিয়োগ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। কারখানার উৎপাদিত তেল ও সয়াকেকের ৩০ শতাংশ রপ্তানি হবে বলে গ্রুপটি জানিয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুরে নতুন কারখানা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে ‘ডেল্টা অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। এই সমন্বিত কারখানায় সয়াবিন মাড়াই ছাড়াও গম থেকে আটা–ময়দা প্রক্রিয়াজাত, ভোজ্যতেল পরিশোধন করা হবে। এতে মোট বিনিয়োগ হচ্ছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কারখানাটিতে বছরে আট লাখ মেট্রিক টন সয়াবিনবীজ মাড়াই করার সক্ষমতা রয়েছে।

দেশীয় বাজার ও রপ্তানির সম্ভাবনার কারণে এই খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। আগে সয়াকেক আমদানি হতো। এখন এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় আমদানির দরকার হবে না।

মোস্তফা কামাল, চেয়ারম্যান, মেঘনা গ্রুপ

নতুন এই খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেল্টা অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় প্রতিবছর প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এসব খাতের খাদ্যের অন্যতম উপাদান সয়াকেক। আবার সয়াবিন তেলের চাহিদাও বাড়ছে। সব মিলিয়ে এই খাতের সম্ভাবনা আছে।

আমিরুল হক আরও বলেন, কৃষিপণ্যটির প্রক্রিয়াজাত কারখানায় বিনিয়োগের বড় সুফল পাওয়া যাবে কৃষি খাতে। এখন দেশে সয়াবিনের চাষ বাড়বে। তাতে সয়াবিন তেলের আমদানিনির্ভরতাও কমবে।

এই তিন গ্রুপের পাঁচটি কারখানা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্লোব এডিবল অয়েল নামে ভোজ্যতেল কারখানা চালু করেছে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। গ্রুপটির চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ প্রথম আলোকে জানান, ২০১৮ সাল থেকে কারখানায় সূর্যমুখীবীজের পাশাপাশি সয়াবিনবীজ মাড়াই করে সয়াবিন তেল ও সয়াকেক উৎপাদিত হচ্ছে।

বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও ধানের কুঁড়া থেকে তেল উৎপাদনকারী দুটি প্রতিষ্ঠান এখন সয়াবিনবীজ মাড়াই করে তেল ও সয়াকেক উৎপাদন করছে। এ দুটি হলো রাজশাহীতে যমুনা এডিবল অয়েল কোম্পানি ও ঢাকার ধামরাইয়ে কেবিসি অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড।বিজ্ঞাপন

আমদানিনির্ভরতা কমাবে

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এখন সিটি, মেঘনা ও গ্লোবের পাঁচটি কারখানা উৎপাদনে আছে। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান দুটির বড় দুটি কারখানা উৎপাদন শুরু করায় সয়াকেক আমদানির দরকার হবে না। আবার সয়াবিন আমদানিও ধারাবাহিকভাবে কমবে। এরই মধ্যে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি কমতে শুরু করেছে।

গত অর্থবছর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া সাত লাখ মেট্রিক টন অশোধিত সয়াবিন তেল খালাস করেছেন উদ্যোক্তারা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এ সময়ে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন পরিশোধিত সয়াবিন উৎপাদনের সমপরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করেছেন উদ্যোক্তারা। অপরিশোধিত সয়াবিন আমদানিও কমেছে তিন লাখ মেট্রিক টন।

তবে দেশে উৎপাদন হলেও সয়াকেক আমদানি খুব কমছেও না। আবার খুব বেশিও বাড়ছে না। প্রতিবছর তিন থেকে চার লাখ মেট্রিক টন সয়াকেক আমদানি হচ্ছে। গত অর্থবছরে বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন সয়াকেক আমদানি হয়।বিজ্ঞাপন

কৃষিপণ্যটির প্রক্রিয়াজাত কারখানায় বিনিয়োগের বড় সুফল পাওয়া যাবে কৃষি খাতে। এখন দেশে সয়াবিনের চাষ বাড়বে। তাতে সয়াবিন তেলের আমদানিনির্ভরতাও কমবে।

আমিরুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেল্টা অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ

কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যে একই শুল্কহার

সয়াবিন মাড়াই কারখানার উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশ এখন সয়াকেক উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এরপরও প্রস্তুত পণ্য অর্থাৎ সয়াকেক আমদানিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হয়। তেল ও সয়াকেক উৎপাদনের বড় বিনিয়োগের পর এমন সিদ্ধান্তে উদ্যোক্তারা হতাশ।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, মৎস্য ও প্রাণিখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াকেক আমদানির তালিকায় প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও নিয়মিত আমদানি করছে ১৫টি। সয়াকেক আমদানির ৬২ শতাংশই আনা হচ্ছে আর্জেন্টিনা থেকে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হচ্ছে ১৭ শতাংশ। উদ্যোক্তারা জানান, মূলত আমদানিতে এক বছরের ঋণসুবিধা পাওয়া যায়। আমদানি ও দেশে উৎপাদিত সয়াকেকের দাম প্রায় একই হলেও ঋণসুবিধার কারণেই আমদানিতে আগ্রহ বেশি আমদানিকারকদের।

জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশের চাহিদার চেয়ে সয়াকেক উৎপাদনের সক্ষমতা বেশি। আমদানির প্রয়োজন নেই। দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে আগের মতো প্রস্তুত পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক–কর বহাল রাখা উচিত। বিজ্ঞাপন

সম্ভাবনা অনেক

সয়াবিনমাড়াই কারখানা শুধু আমদানিনির্ভরতা কমাবে না। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিরও সুযোগ বাড়ছে। দেশে এখন তৈলবীজ থেকে উৎপাদিত কেকের প্রধান রপ্তানি বাজার নেপাল ও ভারত। গত অর্থবছরে সয়াবিন, শর্ষেসহ উদ্ভিজ প্রোটিন পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ডলারের। এত দিন শর্ষেসহ বিভিন্ন প্রাণিখাদ্য থাকলেও এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে সয়াবিন কেক।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, চীন ও মিয়ানমারেও রপ্তানির সম্ভাবনা আছে। আবার সয়াবিন মাড়াই কারখানার কাঁচামাল সয়াবিনের ৯৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। দেশে এখন চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ সয়াবিনবীজ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় কৃষি খাতেও সয়াবিনবীজ উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা। এর কারণ হিসেবে উদ্যোক্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম ৩৮০ থেকে ৪০০ ডলার। ভালো দাম থাকায় ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়লে এক দশক পর সয়াবিনবীজও আমদানির প্রয়োজন হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

সরকার চাল সংগ্রহে পিছিয়ে, দাম বাড়ছে

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চালের চড়া দামে বিপাকে রয়েছেন। রাজধানীর কাজীপাড়ার রাবেয়া খাতুন খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, আগে চার বাসায় কাজ করে মাসে ছয় হাজার টাকা পেতেন। করোনার কারণে এক বাসায় কাজ বন্ধ। ফলে আয় কমেছে। অন্যদিকে বাজারে চাল, ডাল, সবজি, ডিম, আলুসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া।

বোরো ধান ওঠার পরপরই গত এপ্রিলের শেষ দিকে সরকার নতুন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য ঘোষণা করে। এতে ৩৬ টাকা কেজি দরে সেদ্ধ চাল ও ৩৫ টাকা কেজিতে আতপ চাল কেনার কথা জানানো হয়। চালের হিসাবে মোট সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ১৬ লাখ টনের মতো। গত সোমবার পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে ৭ লাখ ২২ হাজার টন। সময় বাকি আর তিন কর্মদিবস।বিজ্ঞাপন

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূলত চালকলমালিকেরা চুক্তি অনুযায়ী চাল না দেওয়ায় লক্ষ্যপূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে যথেষ্ট পরিমাণে সংগ্রহ না হলে আমরা আমদানি করব। এ জন্য সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া আছে।’ তিনি জানান, সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আগামী মাসে আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় থাকবে সংগ্রহ পরিস্থিতি।
বিজ্ঞাপন

এখন সরকারের কাছে চালের মজুত আছে সাড়ে ১০ লাখ টনের মতো। অবশ্য করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে সরকারের নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরেও নতুন নতুন খাতে চাল বরাদ্দ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুত না থাকলে বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ এম আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সরকারের চালের মজুত কমে গেলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। তবে সরকারি মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে যাতে চালের সরবরাহে কোনো সংকট না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, দেশে চালের উৎপাদন যতটা হয়েছে, তাতে কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।বিজ্ঞাপন

সরকার চাল সংগ্রহে পিছিয়ে, দাম বাড়ছে
সরকার চাল সংগ্রহে পিছিয়ে, দাম বাড়ছে – প্রথম আলো

সরকার চালের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে মাঠে নামিয়েছে। গত কয়েক দিনে রাজধানীর তিনটি বড় বাজার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চালের দোকানে ৯২টি অভিযান চালিয়ে তারা ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

অভিযানের দায়িত্বে থাকা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুম আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুচরা দোকানে যদি অতিরিক্ত মুনাফা করা হয়, তাহলে আমরা জরিমানা করছি। মিলগুলোতেও অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রি হচ্ছে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’
বিজ্ঞাপন

চালের পাইকারি বাজার পরিস্থিতি সুখকর নয়। চালের বড় ব্যবসাকেন্দ্র নওগাঁ ও কুষ্টিয়ায় প্রতি সপ্তাহেই চালের দাম কিছু কিছু বাড়ছে বলে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানান। বাড়ছে ধানের দামও। মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৫০ টাকা, মাঝারি ধান ১ হাজার ১০০ টাকা ও চিকন ধান ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দামটি বেশ ভালো বলে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চালকলমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো, মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই মাস ধরেই ধানের দাম বাড়ছে। আমরা যে দামে ধান কিনছি, তাতে চাল বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে। তাই চালের দাম বাড়ার জন্য আমাদের দোষ দেওয়া ঠিক না।’
বিজ্ঞাপন

এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কি চাল আমদানি বাড়ানোর জন্য শুল্ক কমাবে? শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতকে আমদানির সুযোগ দিলে দাম কমবে। আবার প্রচুর চাল দেশে আসার ফলে দাম কমে গিয়ে আমন মৌসুমে ধান আবাদে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। চাল আমদানিতে এখন মোট করভার সাড়ে ৬২ শতাংশ। চাষিদের সুরক্ষা দিতে সর্বশেষ ২০১৯ সালের মে মাসে চালের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়।

দেশে উৎপাদনের যে পরিস্থিতি, তাতে চালের ঘাটতি থাকার কথা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) চলতি সপ্তাহের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর বাংলাদেশে চাল উৎপাদন আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি দাঁড়াবে।
বিজ্ঞাপন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বোরো মৌসুমে প্রায় ২ কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। পুরো বছরের মোট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) মনে করে, চলতি বছর আমন ওঠার আগ পর্যন্ত দেশে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবির প্রথম আলোকে বলেন, দেশে চালের কোনো সংকট নেই, বরং উদ্বৃত্ত চাল আছে। কোথাও চাল মজুত হচ্ছে কি না, অন্য কোনো কারণে দাম বাড়ছে কি না, তা সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com