আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

কৃষিতে নতুন বার্তা নিয়ে ‘ফসলি’

কৃষিতে নতুন বার্তা নিয়ে ‘ফসলি’

প্রকৃতির সঙ্গে কৃষকেরই সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। পরম্পরায় বহু বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সে বুঝতে চেষ্টা করে প্রকৃতির মেজাজ। আর সে অনুযায়ী আয়োজন করে চাষবাসের। ভুল যে হয় না, তা নয়। কখনো কখনো প্রকৃতির বৈরিতায় হারাতে হয় সর্বস্ব। কৃষককেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তার পরও সৃষ্টির উন্মাদনায়, বাঁচার তাগিদে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে, মাঠের বুক চিরে ফসল ফলায় কৃষক। একসময় বলা হতো Knowledge is Power- অর্থাৎ জ্ঞানই শক্তি। আর এখন বলা হয় Information is Power- মানে তথ্যই আপনাকে সমৃদ্ধ করবে। কৃষির ক্ষেত্রেও তাই। উন্নত বিশ্বের কৃষির দিকে তাকালে দেখতে পাই ভিন্নরকম এক চিত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে কৃষির ধরন, সমৃদ্ধ হয়েছে কৃষির ক্ষেত্র। প্রযুক্তি ও নতুন নতুন কৌশল কৃষিকে যেমন করেছে সহজ, তেমন ফলন বাড়িয়েছে বহুগুণে। আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ও এআই (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তি পাল্টে দিচ্ছে সারা বিশ্বের কৃষিকে। এর সুবাতাস লেগেছে বাংলাদেশের কৃষিতেও। অ্যাপভিত্তিক কৃষিচর্চার বিষয়টি এর আগেও ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর বহু প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি। উন্নত বিশ্বে বহু আগে থেকেই অ্যাপভিত্তিক স্মার্টকৃষির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষক ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের দেশেও অ্যাপভিত্তিক কৃষিসেবার সুবিধাদি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার বেশকিছু অ্যাপ তৈরি করেছে। তবে তার বেশির ভাগই শুধু তথ্যসেবা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মাঠপর্যায়ের কৃষকের সেই অ্যাপগুলো সম্পর্কে তেমন জানা-বোঝাও নেই। তবে অ্যাপভিত্তিক স্মার্টকৃষি যাকে বলে তার যাত্রাও হয়েছে আমাদের দেশে। সবশেষে ডিজিকাউ নামে গরুর খামারিদের জন্য একটা অ্যাপ নিয়ে প্রতিবেদনের কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে।

২০১৭ সালের আগস্টের কোনো একদিন এসিআই অ্যাগ্রিবিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ এইচ আনসারি সাহেব তার দফতরে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাদের স্মার্টকৃষির অ্যাপ নিয়ে কাজের বিষয়টি দেখানোর জন্য। অত্যাধুনিক উপগ্রহ চিত্র, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও আবহাওয়াবিষয়ক তথ্যাদির সমন্বয় এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ অ্যাপটি কৃষককে সার্বিকভাবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে তিন বছরে তৈরি করেছেন ডিজিটাল এ প্ল্যাটফরম।

গত ডিসেম্বরে আনসারি সাহেব জানালেন, অ্যাপটি তারা গুগুল প্লে স্টোরে অবমুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অ্যাপটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তাও শেখানো হচ্ছে। অ্যাপ সম্পর্কিত বিষয়াশয় জানতে পুনরায় তার দফতরে হাজির হই। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দেশের কৃষক, কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ নতুন অ্যাপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফসলি’। অ্যাপটি কীভাবে কাজ করবে তা আমাদের বিস্তারিত দেখালেন ফসলি প্ল্যাটফরমের টিম লিডার শামীম মুরাদ। তিনি জানালেন, দেশের কৃষক ও কৃষি খাতের সঙ্গে জড়িত সবার কাছে তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। আমার প্রশ্ন ছিল, যে কৃষকের স্মার্টফোন নেই তিনি কি এই সেবার বাইরে থাকবেন? আনসারি সাহেব জানালেন, ‘ফসলি’ শুধু অ্যাপ নয়, এটি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফরম। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা যে কোনো মোবাইল ফোনে এসএমএস ও ফোনকলের মাধ্যমে ফসলির কিছু সেবা পাবেন। ক্রাউড সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নানা তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

দেশের ১২ জেলায় ‘ফসলি’ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কৃষককে। প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি সত্যি প্রশংসনীয়। প্রতি বছরই ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’-এ কৃষককে তথ্যসেবা বিষয়ে প্রশ্ন করি। ২০১৮ সালের কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেটের পরিসংখ্যানে পেয়েছি শতকরা পাঁচজন কৃষক ডিজিটাল সেন্টারে কৃষি তথ্যসেবা নিতে যান। অ্যাপভিত্তিক সেবা সম্পর্কে অবহিত আছেন শতকরা দুজন কৃষক। হতাশার বিষয় হচ্ছে, শতকরা একজন কৃষকও অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্যসেবা নেন না। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিষয়টি খুব কার্যকর হবে বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি কৃষকও সচেতন হয়ে উঠবেন। ‘ফসলি’র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখার জন্য যশোরের কৃষকের কাছেও গিয়েছিলাম। এমনিতে ওই অঞ্চলের কৃষক বেশ সচেতন, প্রশিক্ষণে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। উঠান বৈঠকে কথা হয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। তারা রীতিমতো আমাকে ‘ফসলি’ অ্যাপ কীভাবে ব্যবহার করতে হয় শিখিয়ে দিলেন। দেখেও ভালো লেগেছে। তথ্যই কৃষককে ক্ষমতায়িত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

মাঠের কৃষকের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বেশ উচ্ছ্বসিত। কৃষকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কী কী উপকার পাচ্ছেন এ অ্যাপ ব্যবহার করে। তারা জানালেন, এখন অ্যাপের সাহায্যেই জানতে পারছেন কোন মাটিতে কী ফসল ভালো হবে, কোন ফসল কীভাবে চাষ করতে হবে। ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকের বড় সংকট হচ্ছে রোগবালাই। কৃষক সবসময় খোঁজেন একজন ফসলের ডাক্তার। যিনি কিনা তার সংকট মুহূর্তে দেবেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। এ অ্যাপটি সেই সংকটও দূর করছে বলে জানালেন কৃষক।

কৃষি মানেই রোদ-বৃষ্টির সম্পর্ক। কখন বৃষ্টি হবে, আবহাওয়ার কী খবরাখবর তা আগে থেকেই জানা থাকলে কৃষকের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হয়ে যায়। এ অ্যাপটি কৃষককে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে সহায়তা করছে- বললেন তরুণ কৃষক ইলিয়াস। জানালেন, এ অ্যাপ ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমেছে। বৃষ্টি হবে আগে থেকে জানতে পারলে সেচের পরিমাণ কম দিয়ে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়, তেমন ফসলের ক্ষতিও কমানো যায়।

আরেক কৃষক বাবুর সঙ্গে কথা হলো। তিনি জানালেন, এই অ্যাপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ফসল লাগানোর পর থেকে কাটার আগ পর্যন্ত কী করতে হবে তার একটা দৈনিক পরামর্শ তিনি পাচ্ছেন। এ সুবিধাটি অ্যাপে আছে ‘আমার ফসল’ নামে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্রি-২৮ ধান যদি ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে বপন করা হয় তবে সেদিন থেকে ফসল কাটার আগ পর্যন্ত প্রতিদিনের কী করণীয় তা ছোট তথ্য আকারে পেতে থাকবেন। কোন দিন সেচ দিতে হবে, কখন কী সার দিতে হবে সব তথ্যই কৃষক পাবেন।

শুধু কৃষকই নন, কৃষি বিভাগের কর্মীরাও এ অ্যাপের সহযোগিতা নিচ্ছেন। কথা হয় স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, তার কর্ম এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষক। সবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখাটা কঠিন হয়ে যায়। এ অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখাটা সহজ। তবে এ ধরনের বিষয়গুলোয় কৃষককে আরও সচেতন করতে হবে।

কৃষকের চিন্তা কৃষি ঘিরেই। তার উৎপাদিত ফলফসল নিয়ে গভীর ভাবনা থেকেই মনে জেগে ওঠে নানান প্রশ্ন। তিনি সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। কৃষকের অনেকেই বললেন তারা উন্মুক্ত অনলাইন বাজার চান। যেখানে তার উৎপাদিত ফলফসল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করতে পারবেন। পাঠক, চীনের কৃষিবাজারের উন্নয়নের বিস্ফোরণের অন্যতম উপাদান হচ্ছে উন্মুক্ত অনলাইন প্ল্যাটফরম। তারা অনলাইনেই বিক্রি করতে পারছেন উৎপাদিত ফলফসল। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থেকে কৃষক যেমন রক্ষা পাচ্ছেন, তেমন পাচ্ছেন ফসলের ভালো দাম। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, বাংলাদেশের দুটি জেলায় ইতিমধ্যে দুটি কৃষকবাজার চালু হয়েছে। যার নাম ভিএসএম। নেদারল্যান্ডসের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডার সহায়তায় যশোর ও খুলনায় এ বাজার দুটি চালু হয়েছে। সেখানে কৃষক সরাসরি তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টাচ্ছে সবকিছু, পাল্টাচ্ছে কৃষি। কৃষি আধুনিক থেকে আধুনিকতম হয়ে উঠছে প্রযুক্তির বিকাশে। উন্নয়নের স্রোতে যুক্ত হতে নতুন সব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশের কৃষককে। আধুনিক কৃষকই নির্মাণ করবেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্যের ভান্ডার। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলেকে এগিয়ে আসতে হবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ দেশের কৃষককে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে টেকসই উন্নয়নের পথে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোটেক

কৃষিতে ড্রোনের ব্যবহার ফসল উৎপাদন বাড়াতে কিভাবে সহায়তা করবে?

পুরো বাগানের ওপরে নজর রাখছে ড্রোন
পুরো বাগানের ওপরে নজর রাখছে ড্রোন

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সেখানে একটি লেবুর বাগানের গিয়েছিলেন সংবাদদাতা তুরাই মাদুনা।

বাগানটির বেশির ভাগ লেবুই রপ্তানি হয় মধ্যপ্রাচ্যে। বাকিটা চলে যাবে স্থানীয় সুপার মার্কেটে।

ইদানীং সেখানে মাথার উপর দিয়ে নিয়মিত উড়ে যায় ড্রোন। মনে হয় যেন বড় ধরনের একটি মাছি অনেক শব্দ করে ভন ভন করে উড়ে গেলো।

ড্রোনটি যেন পুরো বাগানের ওপরে নজরদারি করছে। ফার্স্ট ফ্রুট গ্রুপ নামের এই বাগানটির প্রধান নির্বাহী হাইন গার্বার বলছিলেন , “সাধারণত আপনার যতদূর চোখ যাবে আপনি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সময়েরও একটা ব্যাপার আছে। এই দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করবে আপনি দিনে আপনার বাগানের নির্দিষ্ট কতটুকুর উপর নজর রাখতে পারবেন। কিন্তু ধরুন বাগানের অন্য কোন অংশে আপনার যাওয়া হলো না আর সেখানে কোন সমস্যা হয়ে গেলো।”

সেই সমস্যারই সমাধান করছে ড্রোন। আপনি নিজে উপস্থিত না হতে পারলেও উড়ে উড়ে পুরো বাগানোর উপর নজর রাখছে দুর থেকে পরিচালিত ছোট এই উড়ন্ত যন্ত্রটি।

ড্রোন থেকে তোলা কৃষি জমির ছবি
ড্রোন থেকে তোলা কৃষি জমির ছবি

কিন্তু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে ড্রোনের কি সম্পর্ক?

দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রযুক্তির উদ্যোক্তারা বলছেন হয়ত খামারের বেড়া কোথাও ভেঙে গেলো, কোথায় পানি কমে গিয়ে ফসল শুষ্ক হয়ে গেছে, খামারের কোন অংশে ফসল কম হয়েছে অথবা কোথায় মাটির চেহারা দেখতে কেমন সবই উঠে আসবে ড্রোনের তোলা ছবি থেকে।

এরপর সে সম্পর্কিত রোজকার ডাটা আপনি পাবেন কম্পিউটারে। যা আপনি নিয়মিত বিশ্লেষণ করতে পারবেন। ৎ

হাইন গার্বার বলছিলেন ড্রোন ব্যবহার করে বেশ উপকৃত হচ্ছে তার ফার্ম।

জাতিসংঘ বলছে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়াবে দশ বিলিয়নে। এত বিপুল মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীর কৃষি উৎপাদন অন্তত ৭০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

জাতিসংঘ বলছে এজন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আফ্রিকার দেশগুলোকে কেননা পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ অব্যবহৃত চাষযোগ্য জমি রয়েছে আফ্রিকাতে।

ড্রোন দিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলের কৃষি খামারগুলোকে ড্রোন সেবা দিয়ে থাকে অ্যরোবটিকস নামের একটি কোম্পানি। এরপর ড্রোন থেকে তোলা ছবি তারা বিশ্লেষণ করে।

ড্রোন থেকে তোলা ছবির উপর ভিত্তি করে ফসলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে
ড্রোন থেকে তোলা ছবির উপর ভিত্তি করে ফসলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জেমস প্যাটারসন বলছিলেন, “এই মুহূর্তে মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করা এই অঞ্চলের জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে এই মুহূর্তে খরা বিরাজ করছে। বাগানগুলো তাই সঠিকভাবে সেচ ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছে। যেমন ধরুন কোন অংশে কম সেচ দেয়া হয়েছে। সেই বিষয়ের উপর নজর রাখা যায়। তারপর ধরুন ফসলের উৎপাদন কোথায় কতটা হলো তা বোঝা যায়। আমরা কোন কিছু সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই ধরতে পারছি”

খামারিরা মোবাইল ফোনে অ্যাপ দিয়ে নিজেরাও যাতে এসব ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন সে ব্যবস্থাও চালু করা চেষ্টা চলছে।

ড্রোনের ব্যবহার আফ্রিকার কৃষির চেহারা বদলে দিতে পারে এমন মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ইন্টারনেটের গতি একটি সমস্যা বলছিলেন জেমস প্যাটারসন।

“আফ্রিকা ভিত্তিক হওয়ার একটি বিষয় হলো সব যায়গায় আমরা ভালো ইন্টারনেট পাইনা। আমরা যে তথ্য সংগ্রহ করি সেটি ক্লাউড ভিত্তিক। ইন্টারনেটের অভাবে ক্লায়েন্টকে আমরা সবসময় অনলাইনে সংরক্ষণ করা এসব দ্রুত তথ্য পৌছাতে পারি না। এটা একটা সমস্যা বটে কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে”

ড্রোনের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার একই সাথে তরুণ প্রজন্মের কাছে কৃষিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে এমন মনে করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিকে বলাই হচ্ছে স্মার্ট ফার্মিং।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

মঙ্গল গ্রহে কি ওয়াইন উৎপাদন করা হবে

মঙ্গল গ্রহে কি ওয়াইন উৎপাদন করা হবে
মঙ্গল গ্রহে কি ওয়াইন উৎপাদন করা হবে

মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি তৈরি এখন আর কল্পকাহিনী নয়, বরং তা সময়ের ব্যাপার। অন্য একটি গ্রহে বসবাসের জন্য পৃথিবীর অনেক আরাম-আয়েশকেই ভুলে যেতে হবে বাসিন্দাদের। যেমন, পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডলের ওপর ওজোন স্তর নেই সেখানে, তাই যখন তখন রোদে বের হওয়া যাবে না। তবে পৃথিবীর একটি বিলাসিতা সেখানেও থাকতে পারে, আর তা হলো ওয়াইন।

ইউরোপীয় দেশ জর্জিয়ায় ৮ হাজার বছর ধরে তৈরি হচ্ছে ওয়াইন। সে দেশের গবেষকরা ইতোমধ্যেই মঙ্গল গ্রহে ওয়াইন তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এর প্রথম ধাপ হলো, মঙ্গলে আঙ্গুর চাষ বিষয়ক গবেষণা। জর্জিয়ার এই প্রকল্পের নাম নাইন মিলেনিয়াম। তারা কয়েক ধাপে মঙ্গলে কৃষিকাজের অবকাঠামো তৈরি করবে। পৃথিবীর কোন ধরণের আঙ্গুর মঙ্গলের রুক্ষ পরিবেশেও বেঁচে যাবে, তা বের করার চেষ্টায় আছেন তারা। ২০২৪ সাল নাগাদ মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি তৈরি হতে পারে। সে সময়ের মাঝেই তারা মঙ্গলে ওয়াইন তৈরির পন্থা আবিষ্কার করে ফেলার আশায় রয়েছেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসিতে একটি ‘ভার্টিক্যাল গ্রিনহাউজ’ তৈরি করা হতে পারে এ বছরেই। ছাদ থেকে মেঝে পর্যন্ত ছোট ছোট পাত্রে মাটি ও বীজ রাখা হবে (আঙ্গুর, স্ট্রবেরি ও আরগুলা) এবং তাদেরকে হাইড্রোপোনিক লাইটের নিচে রাখা হবে। মানুষের তেমন কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই এগুলো বাঁচে কিনা, তা দেখা হবে। আগামী কয়েক বছরে তিবলিসির এক গবেষণাগারে মঙ্গলের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করবেন গবেষকরা, আর সেখানে কোন ধরণের আঙ্গুর ভালোভাবে চাষ করা যাবে সেটাও দেখা হবে।

এসব গবেষণার ফল অন্তত ২০২২ সালের আগে পাওয়া যাবে না। তবে গবেষকরা আশা করছেন, মঙ্গল গ্রহের জন্য হোয়াইট ওয়াইন তৈরি করা সম্ভব হবে। কারণ সাদা আঙ্গুরে সহজে ভাইরাস ধরে না, আর মঙ্গল গ্রহের অতিরিক্ত রেডিয়েশনকেও এই আঙ্গুর প্রতিফলিত করতে সক্ষম হবে।

তবে জর্জিয়ার গবেষকরা মঙ্গলে আঙ্গুর চাষ করার উপায়টি বের করে দেবেন শুধু। তা থেকে ওয়াইন তৈরি করার বাকি প্রক্রিয়াটা সেখানে বসতি স্থাপনকারী মানুষদেরই করতে হবে। নাসার গবেষকরা আশা করছেন, তা সম্ভব হবে।

জর্জিয়ার এই গবেষণার আগেও মঙ্গলগ্রহে কৃষিকাজের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) এর মহাকাশচারীরা ইতোমধ্যেই সেখানে সালাদ তৈরির সবজি চাষ করছেন। অন্যদিকে চীনের চ্যাং’ই-৪ ল্যান্ডার চাঁদে আলু ও রকক্রেস নামের একটি উদ্ভিদ নিয়ে গেছে তা বাঁচে কিনা দেখার জন্য।

মহাকাশে অ্যালকোহলের উপস্থিতিও নতুন নয়। বাডওয়েইজার নামের একটি বিয়ার কোম্পানি তিনবার মহাশুন্যে বার্লি বীজ পাঠিয়েছে ‘ফার্স্ট বিয়ার অন মার্স’ হওয়ার সম্ভাবনায়। অন্যদিকে আইএসএসে তিন বছর ধরে রাখা হয়ে কয়েক বোতল স্কচ হুইস্কি। পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পর দেখা যায়, মহাশূন্যে থাকার কারণে পানীয়টির স্বাদ ও গন্ধ পাল্টে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

জৈবপ্লাস্টিক কী এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প

জৈবপ্লাস্টিক কী এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প
জৈবপ্লাস্টিক কী এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প

আমরা প্রতি দিন, প্রতি নিয়ত প্লাস্টিকের উপর যে কতটা নির্ভরশীল তা চার পাশটা ভাল ভাবে দেখলেই বুঝতে পারা যায়। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরেই প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জুড়ে গিয়েছে। যার ফল স্বরূপ, বর্তমান পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণ একটি বড়সড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই মুহূর্তে বেশ কয়েক ধরনের প্লাস্টিক বেশ জনপ্রিয়তা হয়েছে। যেমন বায়োপ্লাস্টিক বা জৈবপ্লাস্টিক, বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক বা জীবানুবিয়োজ্য প্লাস্টিক, কম্পোস্টেবল প্লাস্টিক ইত্যাদি। মনে করা হচ্ছে, বাজারে প্রচলিত প্লাস্টিকগুলির থেকে এই ধরনের প্লাস্টিকগুলি বেশি পরিবেশবান্ধব। কোনও সমস্যা ছাড়াই নাকি এগুলি প্রাকৃতিক ভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। যদিও, বাস্তবটা ততটাও সহজ নয়।

পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই হঠকারিতার বশে মানুষ এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অনেকেই জানেন না, এটি আসলে কী? কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর নেপথ্যে।

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য প্লাস্টিক আসলে কী?

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য প্লাস্টিক হল এমন ধরনের প্লাস্টিক যেটিকে জৈবিক ক্রিয়াকলাপের দ্বারা সহজেই ভেঙে ফেলা সম্ভব। কিছু ধরনের বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক কম্পোজটেবল (সব নয়) অর্থাৎ এই ধরনের প্লাস্টিকগুলি কিছু নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে বিলীন হয়ে যায়।

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য ‘পেট’ জলের বোতল

বায়োডিগ্রেডেবল বা জীবানুবিয়োজ্য ‘পেট’ জলের বোতল তৈরি করতে, প্রস্তুতকারীদের কিছু উদ্ভিদভিত্তিক অ্যাডিটিভ যৌগ ব্যবহার করেন যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অণুজীব এবং ব্যকটিরিয়ার দ্বারা প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু প্যাকেজড বা সংরক্ষিত পানীয় জল এবং খাদ্যকে ঠিক রাখতে ১-২ শতাংশ অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়। অন্য দিকে ‘পেট’-এর পলিমারে রেজিনের পরিমাণ ৯৯-৯৮ শতাংশই রাখা হয়। এই অ্যাডিটিভগুলি কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটিতে মিশে যেতে পারে এবং মাত্র ২০-৩০ শতাংশ ভাঙ্গতে সময় লাগে প্রায় ৬ মাস।

বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য:

• সাধারণ মানুষের ভাষায়, বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকই আসলে কম্পোস্টেবল প্লাস্টিক।

• সারা বিশ্বে যে পরিমাণ জৈব প্লাস্টিক তৈরি হয়, তার বেশির ভাগটাই ফসলের উপজাত অংশ দিয়ে তৈরি।

• যে কোনও ধরনের জৈব প্লাস্টিক কম্পোস্টিং বা বিলীন করার জন্য ৭৭ ডিগ্রি থেকে ১৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রার প্রয়োজন।

• সামগ্রিক ভাবে বিলীন বা কম্পোস্টিং-এর জন্য এখনও পৃথকীকরণ, কাটা, মিশ্রণ এবং নির্দিষ্ট একটি তাপমাত্রার প্রয়োজন (সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি সম্ভব নয়)।

• কোনও ভাবেই ঘরোয়া পরিস্থিতিতে জৈব প্লাস্টিককে ভেঙে ফেলা বা বিলীন করা সম্ভব নয়।

• ইন্ডাস্ট্রিয়াল কম্পোস্টিং পদ্ধতির সুবিধা না থাকলে এই প্লাস্টিককে ভাঙা সম্ভবপর হয় না। ভারতের বেশির ভাগ শহরেই এই সুবিধা বা ব্যবস্থা নেই। ফলত জৈব প্লাস্টিকের শেষ ঠাঁই হয় শহরের রাস্তায়। যা অন্য প্রচলিত প্লাস্টিকের মতোই পরিবেশের ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়।

• অনেক সময়েই গ্রাহকের কাছে প্রচলিত প্লাস্টিক বিক্রি করা হয় বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের লেবেল মেরে।

এই বিষয়গুলি ছাড়াও প্লাস্টিক দূষণ রোধে বেশ কিছু জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে। যেমন, বায়ো-প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং পরিবেশে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখার স্বাধীনতা আমাদের কারওরই নেই। এই ধরনের প্লাস্টিকগুলি সাধারণ প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় এমনিতেই বেশ দামি। পাশাপাশি, জৈব প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পদ্ধতিও বেশ খরচসাপেক্ষ। এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করুন। কিন্তু সেই সঙ্গে এটি পরিষ্কার করা, ধোয়া, পৃথকীকরণ এবং সর্বোপরি পুনর্ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বিষয়টিকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। প্লাস্টিকগুলি প্রচুর পরিমাণে কঠিন বর্জ্য তৈরি করে যা হয় জলে কিংবা স্থলে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে।

জৈবপ্লাস্টিক কী? এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প?
জৈবপ্লাস্টিক কী? এটাই কি প্লাস্টিকের একমাত্র বিকল্প?

অন্য দিকে, যদি প্লাস্টিককে ঠিক মতো পুনর্ব্যবহার করা যায় তা হলে এটি বেশ মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। যেমন পেট-এর পুনর্ব্যবহার করে সুতো বা ফাইবার তৈরি করা যায়, যা থেকে কাপড়, গদি, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি করা যায়। অন্য ধরনের প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার করে বিভিন্ন আসবাব, স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ইত্যাদি তৈরি করা যায়। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরি হয়, যা কেরোসিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সড়ক নির্মানের সময় কিংবা পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিতে অ্যডিটিভ হিসেবেও প্লাস্টিক ব্যবহার করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

মঙ্গলের মাটিতে টমেটোর ‘বাম্পার’ ফলন

মঙ্গলের মাটিতে টমেটোর ‘বাম্পার’ ফলন
মঙ্গলের মাটিতে টমেটোর ‘বাম্পার’ ফলন

মঙ্গল নিয়ে জ্যোতির্জীববিজ্ঞানীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কারণ গ্রহটির সঙ্গে পৃথিবীর তুলনামূলক মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মঙ্গলে কোনো জীবনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। টেলিস্কোপ ও বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে তার সন্ধানও চলছে। এরই মধ্যে মানুষকে মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। কিন্তু

প্রশ্ন হচ্ছে, পৌঁছানোর পর মানুষ খাবে কী?

মঙ্গলে মানুষের বসতি স্থাপন সম্ভব হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে সেখানেই খাবার উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ পৃথিবী থেকে বার বার রকেটের মাধ্যমে খাবার পাঠানো অনেক ব্যয়বহুল। বেশ কয়েক মাস আগে ওই গ্রহে পানির সন্ধান পাওয়া গেছে। এই পানি ব্যবহার করেই কৃষিকাজ করা সম্ভব বলে মনে করেন গবেষকরা। চাষাবাদের জন্য যথেষ্ট উপযোগী এই গ্রহের মাটি, জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গহবেষণা কেন্দ্র নাসা।

এরই মধ্যে মঙ্গলের মাটিতে ফসল ফলিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি পৃথিবীতে ফসল উৎপাদন না হলে, ভবিষ্যতে উপগ্রহে উৎপন্ন ফসল আমদানি করা হবে পৃথিবীতে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে দিন রাত এক করে চলছে গবেষণা। মঙ্গল ও চাঁদের মাটিতে ফসল উৎপন্ন করার কাজে মন দিয়েছে নেদারল্যান্ডের ওয়াজেনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চের গবেষকরা। তারা জানিয়েছে, মঙ্গল ও চাঁদের মাটিতে বীজ বপন করে শস্য উৎপাদন করা সম্ভব। মঙ্গল ও চাঁদ থেকে সংগৃহীত মাটির মধ্যে প্রথমে টমেটো চাষ করা হয়, দেখা যায় ফলন ভালো হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা এখন মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। মঙ্গলের মাটি দিয়ে বানানো বাগানে শাক সবজি, মুলো, পেঁয়াজ জাতীয় ফসল ও মটরশুঁটি চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন। গবেষকরা আরো জানিয়েছেন, দশটি শস্যের মধ্যে নয়টি শস্যের ফলন ভালো হয়েছে। গবেষণা এখনো জারি রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলের কথা জানানো হয়নি। সম্ভাবনার কথা বলেছেন বিজ্ঞানীরা।

মঙ্গলের মাটি হলো ‘রেগোলিথ’
মঙ্গলের মাটি হলো ‘রেগোলিথ’

মঙ্গলের মাটি কেমন?

পৃথিবীর মহাকর্ষের তুলনায় মঙ্গলের মহাকর্ষ তিনভাগের একভাগ। পৃথিবীতে যে পরিমাণ সূর্যের আলো আসে, মঙ্গলে যায় তার অর্ধেক। কিন্তু পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি এবং তেজস্ক্রিয়তা আসে। মঙ্গলের তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর এর বায়ুমণ্ডলের বেশিরভাগটাই কার্বন ডাই অক্সাইড। শুধু তাই নয়, মঙ্গলের মাটি পৃথিবীর মাটির মতো নয়। মঙ্গলের মাটি হলো ‘রেগোলিথ’। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে পারক্লোরেট রাসায়নিক যা মানুষের জন্য বিষাক্ত।

অন্ধকার আর বিরূপ এই আবহাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি পৃথিবীর গাছপালারও টিকে থাকতে সমস্যা হবে। পৃথিবীতে লাখ লাখ বছর ধরে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে গাছপালা। সেগুলোকে মঙ্গলে পাঠানো হলে তাদের বাঁচা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই মঙ্গলে খাপ খাইয়ে নিতে পারে বিজ্ঞানীরা এমন বিশেষ গাছ তৈরি করছেন সিন্থেটিক বায়োলজি পদ্ধতি ব্যবহার করে।

প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে আশা জেগেছে

প্রাণের অস্তিত্বে মঙ্গল গ্রহে পানি খোঁজছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। যদিও ৩৭০ কোটি বছর আগে সেখানে নাকি একসময় সমুদ্র ছিল। এমনকি সুনামির ভয়ংকর ঢেউও উঠেছিল। নাসার গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে সমুদ্র সৈকতের অস্তিত্ব পেয়েছেন গবেষকরা। ফলে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়েও আবারো আশা জেগেছে বিজ্ঞানীদের। 

বিজ্ঞানীরা জানান, দুইটি উল্কা আঘাত হেনেছিল লালগ্রহে। সেই উল্কা পানিতে এসে পড়ায় বিশাল ঢেউ সমুদ্র ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় উপকূলেও। সেই জলোচ্ছ্বাসের পরেই এক বিশাল এলাকাজুড়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। আর এই সুনামির ক্ষত এখনো দৃশ্যমান মঙ্গল পৃষ্ঠে। সেটাই সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

খাদ্যে ক্যান্সারের অণুজীব খুঁজে দেবে মোবাইল অ্যাপ

খাদ্যে ক্যান্সারের অণুজীব খুঁজে দেবে মোবাইল অ্যাপ
খাদ্যে ক্যান্সারের অণুজীব খুঁজে দেবে মোবাইল অ্যাপ

একটি মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশন বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের ক্যান্সার অণুজীব সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে গাজর, আখরোট এবং কমলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করা অণুজীব রয়েছে।

ড্রিমল্যাব নামের এই অ্যাপ্লিকেশনটি, এখন পর্যন্ত ৮৩ হাজারেরও বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা ঘুমিয়ে থাকার সময়, অর্থাৎ ফোনটি যখন অলস পড়ে থাকে তখনই এই অ্যাপটি কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে চিকিৎসার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বকে আরও “দীর্ঘ পথ” পাড়ি দিতে হবে।

অ্যাপটি একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রতিদিন আট হাজারেরও বেশি খাদ্যকনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে থাকে। তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় বিশদ তথ্য সম্বলিত ডাটাবেস।

মূলত এর মাধ্যমে সেই অণুজীবগুলোকে খোঁজা হয় যেগুলো বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষায় ক্যান্সার দমনে সফল প্রমাণিত হয়েছে।

আঙ্গুর, ধনেপাতা এবং বাঁধাকপিতে এই ক্যান্সার বিরোধী অণুজীবের সংখ্যা বেশি পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা যায় যে বর্তমানে প্রচলিত অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ও অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল ওষুধ ক্যান্সার নির্মূল থেরাপিতে ভূমিকা পালন করতে পারে।

কমলায় রয়েছে ক্যান্সার বিরোধী অনুজীব-বলছে গবেষণা।
কমলায় রয়েছে ক্যান্সার বিরোধী অনুজীব-বলছে গবেষণা।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অস্ত্রোপচার ও ক্যান্সার বিভাগের প্রধান গবেষক ড. কিরিল ভেসেলকভ বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। পরবর্তী ধাপে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা হবে, যে বিভিন্ন ওষুধের সমন্বয় এবং খাদ্য-ভিত্তিক অণুজীবগুলো মানুষের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে।”

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে’এর স্বাস্থ্য তথ্য কর্মকর্তা উইলিন উ বলেছেন: “এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা হয়তো নতুন ক্যান্সার থেরাপি খুঁজে বের করতে বা এর পথ পেতে সক্ষম হব। মূলত যেই থেরাপি আমাদের খাদ্য এবং পানীয়তে প্রাকৃতিকভাবে রয়েছে।”

“ক্যান্সারের চিকিৎসায় এই পদ্ধতিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। সেখানে এটা দেখা প্রয়োজন যে এটি ক্যান্সারের চিকিৎসায় আদৌ কার্যকর কিনা।”

” ক্যান্সার ঝুঁকি হ্রাস করার ক্ষেত্রে কোন একটি বিশেষ ধরনের খাদ্য খাওয়ার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস।”

“এটি প্রমাণিত যে আপনি আঁশযুক্ত খাবার বিশেষ করে ফল ও সবজি বেশি খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারবেন। সেইসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত মাংস, লাল মাংস এবং উচ্চ ক্যালরি-যুক্ত খাবার /পানীয় খাওয়ার হার কমিয়ে আনাটাও জরুরি।”

অ্যাপ্লিকেশনটি ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ভোডাফোন ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে নেচার পত্রিকায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com