আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

কৃষিতে নতুন বার্তা নিয়ে ‘ফসলি’

কৃষিতে নতুন বার্তা নিয়ে ‘ফসলি’

প্রকৃতির সঙ্গে কৃষকেরই সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। পরম্পরায় বহু বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সে বুঝতে চেষ্টা করে প্রকৃতির মেজাজ। আর সে অনুযায়ী আয়োজন করে চাষবাসের। ভুল যে হয় না, তা নয়। কখনো কখনো প্রকৃতির বৈরিতায় হারাতে হয় সর্বস্ব। কৃষককেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তার পরও সৃষ্টির উন্মাদনায়, বাঁচার তাগিদে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে, মাঠের বুক চিরে ফসল ফলায় কৃষক। একসময় বলা হতো Knowledge is Power- অর্থাৎ জ্ঞানই শক্তি। আর এখন বলা হয় Information is Power- মানে তথ্যই আপনাকে সমৃদ্ধ করবে। কৃষির ক্ষেত্রেও তাই। উন্নত বিশ্বের কৃষির দিকে তাকালে দেখতে পাই ভিন্নরকম এক চিত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে কৃষির ধরন, সমৃদ্ধ হয়েছে কৃষির ক্ষেত্র। প্রযুক্তি ও নতুন নতুন কৌশল কৃষিকে যেমন করেছে সহজ, তেমন ফলন বাড়িয়েছে বহুগুণে। আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ও এআই (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তি পাল্টে দিচ্ছে সারা বিশ্বের কৃষিকে। এর সুবাতাস লেগেছে বাংলাদেশের কৃষিতেও। অ্যাপভিত্তিক কৃষিচর্চার বিষয়টি এর আগেও ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর বহু প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি। উন্নত বিশ্বে বহু আগে থেকেই অ্যাপভিত্তিক স্মার্টকৃষির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষক ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের দেশেও অ্যাপভিত্তিক কৃষিসেবার সুবিধাদি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার বেশকিছু অ্যাপ তৈরি করেছে। তবে তার বেশির ভাগই শুধু তথ্যসেবা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মাঠপর্যায়ের কৃষকের সেই অ্যাপগুলো সম্পর্কে তেমন জানা-বোঝাও নেই। তবে অ্যাপভিত্তিক স্মার্টকৃষি যাকে বলে তার যাত্রাও হয়েছে আমাদের দেশে। সবশেষে ডিজিকাউ নামে গরুর খামারিদের জন্য একটা অ্যাপ নিয়ে প্রতিবেদনের কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে।

২০১৭ সালের আগস্টের কোনো একদিন এসিআই অ্যাগ্রিবিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ এইচ আনসারি সাহেব তার দফতরে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাদের স্মার্টকৃষির অ্যাপ নিয়ে কাজের বিষয়টি দেখানোর জন্য। অত্যাধুনিক উপগ্রহ চিত্র, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও আবহাওয়াবিষয়ক তথ্যাদির সমন্বয় এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ অ্যাপটি কৃষককে সার্বিকভাবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে তিন বছরে তৈরি করেছেন ডিজিটাল এ প্ল্যাটফরম।

গত ডিসেম্বরে আনসারি সাহেব জানালেন, অ্যাপটি তারা গুগুল প্লে স্টোরে অবমুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অ্যাপটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তাও শেখানো হচ্ছে। অ্যাপ সম্পর্কিত বিষয়াশয় জানতে পুনরায় তার দফতরে হাজির হই। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দেশের কৃষক, কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ নতুন অ্যাপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফসলি’। অ্যাপটি কীভাবে কাজ করবে তা আমাদের বিস্তারিত দেখালেন ফসলি প্ল্যাটফরমের টিম লিডার শামীম মুরাদ। তিনি জানালেন, দেশের কৃষক ও কৃষি খাতের সঙ্গে জড়িত সবার কাছে তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। আমার প্রশ্ন ছিল, যে কৃষকের স্মার্টফোন নেই তিনি কি এই সেবার বাইরে থাকবেন? আনসারি সাহেব জানালেন, ‘ফসলি’ শুধু অ্যাপ নয়, এটি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফরম। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা যে কোনো মোবাইল ফোনে এসএমএস ও ফোনকলের মাধ্যমে ফসলির কিছু সেবা পাবেন। ক্রাউড সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নানা তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

দেশের ১২ জেলায় ‘ফসলি’ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কৃষককে। প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি সত্যি প্রশংসনীয়। প্রতি বছরই ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’-এ কৃষককে তথ্যসেবা বিষয়ে প্রশ্ন করি। ২০১৮ সালের কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেটের পরিসংখ্যানে পেয়েছি শতকরা পাঁচজন কৃষক ডিজিটাল সেন্টারে কৃষি তথ্যসেবা নিতে যান। অ্যাপভিত্তিক সেবা সম্পর্কে অবহিত আছেন শতকরা দুজন কৃষক। হতাশার বিষয় হচ্ছে, শতকরা একজন কৃষকও অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্যসেবা নেন না। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিষয়টি খুব কার্যকর হবে বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি কৃষকও সচেতন হয়ে উঠবেন। ‘ফসলি’র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখার জন্য যশোরের কৃষকের কাছেও গিয়েছিলাম। এমনিতে ওই অঞ্চলের কৃষক বেশ সচেতন, প্রশিক্ষণে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। উঠান বৈঠকে কথা হয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। তারা রীতিমতো আমাকে ‘ফসলি’ অ্যাপ কীভাবে ব্যবহার করতে হয় শিখিয়ে দিলেন। দেখেও ভালো লেগেছে। তথ্যই কৃষককে ক্ষমতায়িত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

মাঠের কৃষকের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বেশ উচ্ছ্বসিত। কৃষকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কী কী উপকার পাচ্ছেন এ অ্যাপ ব্যবহার করে। তারা জানালেন, এখন অ্যাপের সাহায্যেই জানতে পারছেন কোন মাটিতে কী ফসল ভালো হবে, কোন ফসল কীভাবে চাষ করতে হবে। ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকের বড় সংকট হচ্ছে রোগবালাই। কৃষক সবসময় খোঁজেন একজন ফসলের ডাক্তার। যিনি কিনা তার সংকট মুহূর্তে দেবেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। এ অ্যাপটি সেই সংকটও দূর করছে বলে জানালেন কৃষক।

কৃষি মানেই রোদ-বৃষ্টির সম্পর্ক। কখন বৃষ্টি হবে, আবহাওয়ার কী খবরাখবর তা আগে থেকেই জানা থাকলে কৃষকের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হয়ে যায়। এ অ্যাপটি কৃষককে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে সহায়তা করছে- বললেন তরুণ কৃষক ইলিয়াস। জানালেন, এ অ্যাপ ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমেছে। বৃষ্টি হবে আগে থেকে জানতে পারলে সেচের পরিমাণ কম দিয়ে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়, তেমন ফসলের ক্ষতিও কমানো যায়।

আরেক কৃষক বাবুর সঙ্গে কথা হলো। তিনি জানালেন, এই অ্যাপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ফসল লাগানোর পর থেকে কাটার আগ পর্যন্ত কী করতে হবে তার একটা দৈনিক পরামর্শ তিনি পাচ্ছেন। এ সুবিধাটি অ্যাপে আছে ‘আমার ফসল’ নামে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্রি-২৮ ধান যদি ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে বপন করা হয় তবে সেদিন থেকে ফসল কাটার আগ পর্যন্ত প্রতিদিনের কী করণীয় তা ছোট তথ্য আকারে পেতে থাকবেন। কোন দিন সেচ দিতে হবে, কখন কী সার দিতে হবে সব তথ্যই কৃষক পাবেন।

শুধু কৃষকই নন, কৃষি বিভাগের কর্মীরাও এ অ্যাপের সহযোগিতা নিচ্ছেন। কথা হয় স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, তার কর্ম এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষক। সবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখাটা কঠিন হয়ে যায়। এ অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখাটা সহজ। তবে এ ধরনের বিষয়গুলোয় কৃষককে আরও সচেতন করতে হবে।

কৃষকের চিন্তা কৃষি ঘিরেই। তার উৎপাদিত ফলফসল নিয়ে গভীর ভাবনা থেকেই মনে জেগে ওঠে নানান প্রশ্ন। তিনি সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। কৃষকের অনেকেই বললেন তারা উন্মুক্ত অনলাইন বাজার চান। যেখানে তার উৎপাদিত ফলফসল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করতে পারবেন। পাঠক, চীনের কৃষিবাজারের উন্নয়নের বিস্ফোরণের অন্যতম উপাদান হচ্ছে উন্মুক্ত অনলাইন প্ল্যাটফরম। তারা অনলাইনেই বিক্রি করতে পারছেন উৎপাদিত ফলফসল। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থেকে কৃষক যেমন রক্ষা পাচ্ছেন, তেমন পাচ্ছেন ফসলের ভালো দাম। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, বাংলাদেশের দুটি জেলায় ইতিমধ্যে দুটি কৃষকবাজার চালু হয়েছে। যার নাম ভিএসএম। নেদারল্যান্ডসের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডার সহায়তায় যশোর ও খুলনায় এ বাজার দুটি চালু হয়েছে। সেখানে কৃষক সরাসরি তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টাচ্ছে সবকিছু, পাল্টাচ্ছে কৃষি। কৃষি আধুনিক থেকে আধুনিকতম হয়ে উঠছে প্রযুক্তির বিকাশে। উন্নয়নের স্রোতে যুক্ত হতে নতুন সব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশের কৃষককে। আধুনিক কৃষকই নির্মাণ করবেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্যের ভান্ডার। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলেকে এগিয়ে আসতে হবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ দেশের কৃষককে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে টেকসই উন্নয়নের পথে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

টানেল টেকনোলজির সাহায্যে সব্জি উৎপাদনে ফলন হবে দ্বিগুন

টানেল টেকনোলজির সাহায্যে সব্জি উৎপাদনে ফলন হবে দ্বিগুন

নানা ধরনের সবজি উৎপাদনের জন্য আমাদের মাটি খুবই উপযোগী। শীত ও গ্রীষ্মকালীন চাষ করা যায় এমন সবজির তালিকাটাও বেশ বড়। কিন্তু নানা কারণে আমাদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। সবজি চাষের জন্য বরাদ্দ থাকে রান্না বা গোয়াল ঘরের পেছনের এক চিলতে জমি। অথচ পুষ্টি চাহিদার কথা মাথায় রাখলে সবজি চাষের কথা ভাবতেই হবে। এজন্য সত্যি বলতে কি কম জমি কাজে লাগিয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণের একমাত্র উপায় সারা বছর সবজির নিবিড় চাষ

আমাদের দেশে বেশির ভাগ সবজি উৎপাদন হয় রবি মৌসুমে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে। খরিফ মৌসুম অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সবজি চাষ খুব কম হয়। ফলে বাজারে এ সময় সবজির দাম থাকে আকাশ ছোঁয়া। বিশেষ করে মে থেকে জুলাই মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে সবজির উৎপাদন কম হওয়ার জন্য বাজার মূল্য বেশি থাকে।

টানেল চাষাবাদ কি(Tunnel agriculture):

মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় চাষি ভাইয়েরা ন্যায্য মূল্য পান না। তাই মৌসুম শুরুর আগেই যদি আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারজাত করা যায়, তাহলে দ্বিগুণেরও বেশি দাম পাওয়া যায়। যে কৌশল অবলম্বন করে সারা বছর সবজি চাষ করা বা আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদন করা যায় তার নাম ‘টানেল টেকনোলজি”(Tunnel technology) ।

প্রকৃত মৌসুম ছেড়ে অন্য মৌসুমে সবজি চাষ করার জন্য এই কৌশলের কোনো জুড়ি নেই। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে শীতকালীন সবজিকে গ্রীষ্মকালে চাষ করা কঠিন। কারণ শীতকালীন সবজি চাষের জন্য যে ধরনের তাপমাত্রা প্রয়োজন সেই ধরনের তাপমাত্রা কৃত্রিম পরিবেশে তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুল। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে গ্রীষ্মকালীন সবজিকে শীতকালে চাষ করা খুবই সহজ। কারণ প্লাস্টিক ছাউনি ব্যবহারের মাধ্যমে শীতকালে খুব সহজেই সৌরশক্তি সঞ্চয় করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে নেয়া যায়, যা শীতকালে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য যথেষ্ট।

কি কি সবজি উৎপাদন করা যায়(Vegetables farming):

টানেল টেকনোলজি বা ছাউনি পদ্ধতি ব্যবহার করে যেসব সবজি খুব সহজেই চাষ করা যায় সেগুলো হলো- শসাজাতীয় সবজি, টমেটো (Tomato),পালংশাক, পাতাকপি, ফুলকপি, শিম (Bean) ইত্যাদি। এই কৌশলে একজন চাষি আগাম সবজি চাষ করে প্রকৃত মৌসুমের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আমাদের দেশের অনেক অঞ্চলের চাষি ভাইয়েরা সবজি চাষ করে আসছেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

টানেলের প্রকারভেদ(Types of tunnel):

নিচু টানেল তৈরি

এ ধরনের টানেল তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ। টানেলের দৈর্ঘ্য হতে হবে ৯৮.৪ ফুট এবং চওড়ায় হতে হবে ১৪.৭৬ ফুট। টানেলের ভেতরের মাঝ বরাবর উচ্চতা হবে ৭ ফুট এবং পাশের উচ্চতা হবে ৫ ফুট। সেচ ও পানি নিকাশের জন্য দুই বেড বা টানেলের মাঝখানে ৬ ইঞ্চি গভীরতার ২ ফুট চওড়া নালা রাখতে হয়। তারপর স্বচ্ছ কালো বা নীল রঙের পলিথিন দিয়ে টানেলটি নৌকার ছইয়ের মতো ঢেকে দিতে হয়।

উঁচু টানেল তৈরি

এ ধরনের টানেল তৈরির প্রধান উপকরণ স্টিল ফ্রেম বা বাঁশ। টানেলের দৈর্ঘ্য হতে হবে ১৩০ ফুট এবং চওড়ায় হতে হবে ৩২ ফুট। টানেলের ভেতরের মাঝ বরাবর উচ্চতা হবে ১২ ফুট এবং পাশের উচ্চতা হবে ১০ ফুট। সেচ ও পানি নিকাশের জন্য দুই বেড বা টানেলের মাঝখানে ৬ ইঞ্চি গভীরতার ৩ ফুট চওড়া নালা রাখতে হয়। চারা বা বীজ থেকে বীজের দূরত্ব রাখতে হয় ১.৫ ফুট। এরপর স্বচ্ছ কালো বা নীল রঙের পলিথিন দিয়ে টানেলটি নৌকার ছইয়ের মতো ঢেকে দিতে হয়।

টানেল পদ্ধতিতে চাষের জমি তৈরী(Land preparation):

এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য যে জমিটি বাছাই করা হয় তা অবশ্যই উর্বর হতে হয়। মাটির পিএইচ থাকতে হয় ৫ থেকে ৭ এর মধ্যে। টানেল তৈরির পর জমি কোদাল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে ভালোভাবে চাষ বা কর্ষণ করে প্রতি টানেলে পর্যাপ্ত জৈব সার, ২.৫ কেজি খৈল, ইউরিয়া ৮০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম এবং এমওপি ৭০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ও পটাশ সারের অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক চারা গজানোর দুই সপ্তাহ পরে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। এগুলো সম্পন্ন হলে চারা বা বীজ রোপণের আগে বেড তৈরি করে নিতে হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে টানেলপ্রতি ২০০ গ্রাম পালংশাকের বীজ বুনলে ১ মাস পর অর্থাৎ আষাঢ় মাসে ফসল তোলা যায়।

কৃষকদের লাভ(Farmers profit):

টানেল পদ্ধতিতে অমৌসুমে সবজি চাষ করে পৃথিবীর অনেক দেশ বিশেষ করে ভারত প্রতি বছর নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর সবজি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। আমাদের দেশের চাষিদের যদি সবজি চাষের এই কৌশল সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে তাহলে আমাদের দেশও নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা  আয় করতে পারে। এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে কৃষকবন্ধুরা আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হয়ে থাকেন অনেক

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা

লাগাতার বৃষ্টি ও জল জমে চাষের জমি প্রায় নষ্ট হয়ে যায় | এমনকি নষ্ট হয়ে যায় বীজতলাও | এগুলি পুনরায় তৈরী করাও বেশ কষ্টসাধ্য | ফলত, চাষীদের মাথায় হাত পরে যায় | তাই কৃষি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার “ড্রাম সিডার” যন্ত্র এরম অবস্থায় কৃষকদের সহায়তা করার একমাত্র পন্থা | এই যন্ত্রের মাধ্যমে নতুন করে বীজতলা তৈরী করা যায় |

 ড্রাম সিডার কি(What is Drum Seeder)?

ড্রাম সিডার প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট একটি আধুনিক কৃষি বপণ যন্ত্র। প্লাস্টিকের তৈরি ড্রামগুলো ২.৩ মিটার প্রশস্ত লোহার দন্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দন্ডের দুপ্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দুটি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দু’প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুসারি ছিদ্র আছে। প্রয়োজনে রাবারের তৈরি সংযুক্ত বেল্টের সাহায্যে এক সারি ছিদ্র বন্ধ রাখা যায়।

ড্রাম সিডারের সুবিধা(Benefits of Drum Seeder):

এ যন্ত্রের সাহায্যে কাদা মাটিতে অঙ্কুরিত বীজ সারি করে সরাসরি বপণ করা যায়। ফলে আলাদা করে আর বীজতলা তৈরি, চারা উত্তোলন ও রোপণ করতে হয় না | যার ফলে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমে যায় | এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান ও অন্যান্য সব্জি চাষ (vegetables cultivation) সহজে করা যায় | এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের বীজ বপণ করলে বীজের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কম লাগে। সারিবদ্ধ ও সার্বিক ঘনত্ব অনুযায়ী বীজ বপণের কারণে জমিতে নিড়ানিসহ অন্যান্য পরিচর্যা অনেক সহজ হয় এবং রোগপোকার উপদ্রপ কম হওয়ায় ফসলের ফলন গড়ে ২০- ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, এই যন্ত্র হালকা হওয়ায় সহজেই বহনযোগ্য | ১ জন লোক ঘণ্টায় অন্তত ১ বিঘা জমিতে বীজ বপণ করতে পারে।

আগাছা পরিষ্কার(Weed management):

ড্রাম সিডার যন্ত্রে বীজ বপণ করলে আগাছা দমন সহজ হয়। আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে। জমিতে কম জল দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং পরের ৩-৫ দিন অবশ্যই হালকা জল রাখতে হবে | যে জমিতে আগাছা কম হয় সেখানেই ড্রাম সিডার পদ্ধতি ব্যবহার করাই ভালো এবং আগাছা বেশি হলে পরিষ্কার করা জরুরি |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

‘ডিজিটাল ঢেঁকি’তে আগ্রহ ঠাকুরগাঁওয়ে

ঢেঁকিছাঁটা চালে পুষ্টিমান বেশি থাকে। খেতেও সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এই যুগে মেশিনের দাপটে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঢেঁকি। কিন্তু তাই বলে কি ঢেঁকিছাঁটা চাল পাওয়া যাবে না? এই প্রশ্নেরই জবাব তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভোরনিয়া গ্রামের যুবক ওমর ফারুক।

তিনি তৈরি করেছেন ডিজিটাল ঢেঁকি। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনছেন তিনি। ডিজিটাল ঢেঁকির মাধ্যমে ধান ভাঙিয়ে চাল তৈরি করে বাজারজাতও করেছেন। তার এই ঢেঁকিছাঁটা চাল বেশ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করছেন ওমর ফারুক।

রানীশংকৈলের ভোরনিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ওমর ফারুক। তিনি বৈদ্যুতিক মটরের মাধ্যমে ৬ মাস আগে স্থাপন করেন ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’। প্রাচীন ঢেঁকিতে ধানের তুষ ছাড়িয়ে চাল বের করা ছিল খুব কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকিতে ধানভাঙা খুবই সহজ ও স্বল্প সময়ে অধিক চাল তৈরি হয়। সনাতন পদ্ধতিতে ঢেঁকিতে এক প্রান্তে কাউকে পা দিয়ে বার বার চাপ দিতে হয়। আর ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকিতে বৈদ্যুতিক মটরের মাধ্যমে লোহার হাতল দিয়ে একইভাবে চাপ দিতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটোই কম ব্যয় হয়। এই ঢেঁকিতে দিনে ৫ থেকে ৬ মণ ধান ভাঙতে পারেন বলে শ্রমিক ও মেশিন অপারেটর মানিরুল ইসলাম জানান।

ওমর ফারুকের ‘ঢেঁকিছাঁটা চালের’ ফাইবার থাকছে অটুট, ঠিক সনাতন পদ্ধতির ঢেঁকিছাঁটা চালের মতোই বজায় থাকছে পুষ্টিমান। এ কারণে ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকির চালের চাহিদা বেড়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে আমরা যে চাল খাচ্ছি তার চেয়ে ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতে সুস্বাদু। এ ছাড়াও স্থানীয় আবুল হোসেন বলেন, আগে পুষ্টিসমৃদ্ধ ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতাম। এখনো ঢেঁকিছাঁটা চালের চাহিদা আছে।

প্রযুক্তিগত বা কারিগরি সহায়তা পেলে বৃহদাকারে এই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারবেন বলে জানান ওমর ফারুক। এ বিষয়ে নারগুন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল জলিল বলেন, ওমর ফারুক সেই ঢেঁকিকে আবার জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখা হলে আমরা পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল খেতে পারব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি আধুনিকীকরণ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয়

কৃষি আধুনিকীকরণ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয়

আয়তনে ছোট এবং বেশ ঘনবসতিপূর্ণ হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছরে সীমিত সাধ্য নিয়েই বাংলাদেশ একাধিক ক্ষেত্রে বিশ্বে গৌরবোজ্জ্বল ও ঈর্ষণীয় অবস্থান তৈরি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম, আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।

কৃষির আধুনিক সম্প্রসারণ শুরুই হয় ২০০৯ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় আর সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। এর নির্দেশকগুলো পরিসংখ্যাননির্ভর যার ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োগিক বাস্তবতায়। গত ১২ বছরে এই অর্জনের গতি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আর তা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত পদক্ষেপে। ফলে এ সম্পর্কিত নীতিগুলো যেমন হয়েছে প্রকৃষ্ট, তেমনি বাস্তবায়নও হয়েছে দুর্বার।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য কেনা দামের ওপর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে।  ২০১০ থেকে ২০২০, এই এক দশকে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

বিশ্বে সর্বপ্রথম তোষা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের কৃতিত্ব এদেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের।  তাছাড়া এই এক যুগে ‘বৈরি পরিবেশ সহনশীল’ জাতসহ মোট ৬৫৬টি উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উদ্ভাবিত হয়েছে। সেচ সুবিধা দিতে আধুনিক যন্ত্র আনা, স্থাপন, অবকাঠামোগত নির্মাণ, সংস্কারকাজেও বেশ এগিয়েছে।


খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনেও বাংলাদেশ ব্যাপক সাফল্য দেখাচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও ইন্দোনেশিয়াকে টপকে বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে, সবজি উৎপাদনেও তৃতীয়। পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত এক দশকে মাছ উৎপাদন বেড়েছে ১৬ লাখ টন বা প্রায় ৫৫ শতাংশ।  প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।


২০১৯-২০ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, মাংস উৎপাদন ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন ও ডিম উৎপাদন ১ হাজার ৭৩৬ কোটি।  সবগুলোই ১০ গুণের বেশি বেড়েছে।

জাত উন্নয়নের ফলে গরু-মহিষের দুধ উৎপাদন বেড়েছে ৬ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত।প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, চার বছর ধরে শতভাগ দেশি গরু দিয়েই মিটছে কোরবানির পশুর চাহিদা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

দিনাজপুরে রোপা আমন ধানের নমুনা শস্য কর্তন

উৎসবমুখর পরিবেশে আগাম জাতের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়। স্বল্পকালীন ধানের চাষ করে কর্তনসহ ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।

আবার কৃষি যন্ত্রের মাধ্যমে অল্প সময়ে কম খরচে ধান ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে এবং কৃষক লাভবান হচ্ছেন। ধানের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় একই সাথে দুটো লাভে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।স্বল্পকালীন জাতের ধান কর্তনের সাথে সাথে কৃষকরা আগাম সবজি চাষ করবেন। এতে স্বল্পকালীন ধান কেটে ওই জমিতে আগাম সবজি চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হচ্ছেন। এছাড়াও রবি শষ্য আলু, ভুট্টা ও সরিষা বা আউষ ধান চাষ করতে পারবে। এতেও একই জমিতে বছরে চারটি ফসল উৎপাদন করতে পারছে কৃষক।

বীরগঞ্জের শীতলাই এলাকার কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম এবছর ১ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান চাষ করেছেন এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি ফলন পাবেন বলে আশা করেন। তাছাড়া হাইব্রিড ধান কর্তনের পর আগাম সবজি চাষাবাদ করে অধিক লাভবান হবেন।

ধান কর্তনের বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে ১ একর জমির ধান কর্তন করলে কমপক্ষে  শ্রমিক লাগে ১২ জন, সময় লাগে ৮ ঘণ্টা, খরচ গড়ে ৯ হাজার টাকা। আর  কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটলে শ্রমিক ৩-৪ জন, সময় লাগে ১ ঘণ্টা, খরচ ৫-৬ হাজার টাকা এবং কমপক্ষে ৭০-৮০ কেজি ধান বেশি পাওয়া যায়। ফলে প্রতি একরে শ্রমিক, সময় সাশ্রয়সহ ৫-৬ হাজার  টাকা বেশি লাভ। তিনি কৃষকদের যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটার পরামর্শ প্রদান করেন।

শনিবার বিকালে বীরগঞ্জের শীতলাইতে আগাম জাতের নমুনা শস্য কর্তন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথি সিনিয়র কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষিকে আধুনিকায়ন করতে হলে কৃষি যন্ত্রের বিকল্প নাই। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খামার যান্ত্রিকীকরণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটার যন্ত্র প্রদান করছেন, যার মাধ্যমে অল্প সময়ে কম খরচে ধান ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে এবং কৃষকও লাভবান হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ড. মো. মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক, দিনাজপুর অঞ্চল মো. শাহআলম, প্রদীপ কুমার গুহ, উপপরিচালক, খামারবাড়ি, দিনাজপুর। এছাড়াও বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামানসহ কৃষি সম্প্রসারণ অফিসাররা, উপসহকারী কৃষি অফিসাররা ও কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর বীরগঞ্জে রোপা আমন চাষ হয়েছে উফশী ২৬০৯২ হেক্টর, হাইব্রিড ৩৫০৪ হেক্টর এবং স্থানীয় ৪ হেক্টর, সর্বমোট ২৯৬০০ হেক্টর। আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৫০০ হেক্টর আগাম জাত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com