আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি যেভাবে এলো

মনিরুজ্জামান কবির

অরণ্যচারী ও যাযাবর জনগোষ্ঠীকে আধুনিক সমাজ স্রোতে যুক্ত করেছিল কৃষি। প্রথমদিকে কৃষি ছিল বন-জঙ্গল ঘুরে ঘুরে ফসল সংগ্রহ ও পশু-পাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ। পরে যখন গুহাবাসী দেখলো ফসলের বীজ থেকে নতুন ফসল জন্মে এবং সে ফসল থেকে অনুরূপ ফলন পাওয়া যায়, বন্য পশু-পাখি পোষ মানে- তখনই মূলত আধুনিক কৃষির সূচনাকাল। প্রথমদিকে কৃষকরা জমিতে কৃষিকর্ম ও বন্য পশু-পাখি পোষ মানিয়ে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটাতো। যে উর্বর ভূমিতে ফসল উৎপাদন হতো, সেখানে মানববসতির গোড়াপত্তন ঘটতো। সে সঙ্গে স্থায়ী সমাজ ও পরিবার কাঠামোর বিকাশ ঘটতো।

পরিবারের খাদ্য চাহিদার নিশ্চয়তায় পরে সমাজের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী আধুনিক সভ্যতার বিনির্মাণ ও শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিল। আদিম, মধ্য এবং আধুনিক যুগে কৃষি ক্ষেত্রে নিত্যনতুন কলাকৌশল ও যন্ত্রপাতির আবিষ্কারে কৃষির বিকাশ বর্তমান অবস্থায় রয়েছে।

১০ হাজার বছর আগে মিসর, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতবর্ষের উর্বর ভূমিতে সর্বপ্রথম কৃষিকাজ শুরু হয়। আদিমানুষ তখন বন্য ফসলের বীজ পরিকল্পনামাফিক বপন ও ফসল সংগ্রহের কলাকৌশল আয়ত্ত করতে পেরেছিল। স্বাধীনভাবে কৃষির উন্নয়ন ঘটেছিল উত্তর-পশ্চিম চীন, আফ্রিকা, নিউগিনি ও আমেরিকার কিছু অংশে। এ অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী প্রথমে গম ও কর্নের এবং পরে বার্লি, মটর, মসুর ও ছোলার আবাদ করতো।

খ্রিস্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে মিসরের কিছু অংশ ও ভারতবর্ষের বেলুচিস্তানে ক্ষুদ্র পরিসরে গম ও বার্লির চাষাবাদ শুরু করে এ অঞ্চলের আদিবাসীরা। তখন আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর চাষাবাদ মূলত পারিবারিক চাহিদা মেটানোই মুখ্য ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ছয় হাজার বছর আগে মধ্যম আকারে কৃষির সূচনা ঘটে নীল নদের তীরকে ঘিরে। সে সময়ে দূরপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের প্রয়োজনে ধান, গম মৌলিক ফসলগুলোর আবাদ শুরু করে। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার কৃষকরা কচু, শিম, মুগডাল, সয়াবিন, আজুকির চাষাবাদ শুরু করে। তখন কার্বোহাইড্রেডের চাহিদা মোটামুটি পূরণ হলে মানুষ অন্যান্য চাহিদা পূরণের জন্য সংঘবদ্ধ হয়।

সংঘবদ্ধ মানুষ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য নদী, খাল, বিল ও সমুদ্র সৈকত থেকে জাল দিয়ে মাছ শিকার শুরু করে। নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও মাছ শিকার অতিমাত্রায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সূচনা করে, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। পাঁচ হাজার খ্রিস্টপূর্বে টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস অঞ্চলে বিশাল এলাকাজুড়ে চাষাবাদ করার জন্য কিছু মৌলিক পদ্ধতির উদ্ভাবন করা হয়েছিল। পদ্ধতিগুলো হলো একক ফসল চাষ, জমিতে সেচ দেয়া, শ্রমশক্তি ব্যবহার করা ইত্যাদি। এ অঞ্চলের কৃষকরা কৃষিকর্মের পাশাপাশি বন্য গরু ও ভেড়ার জাত পোষ মানায়। বিশাল পরিমাণে পোষ মানানো এসব পশু-পাখি তারা ব্যবহার করতো মাংস ও তন্তুর চাহিদা মেটাতে। তখন দক্ষিণ আমেরিকার পাহাড়ের ঢালুতে আলু, টমেটো, মরিচ, স্কোয়াশ ও কিছু প্রজাতির শিম, তামাক জাতের চাষ শুরু হয়।

দক্ষিণ গ্রিসের কৃষকরা তাদের অনুর্বর ভূমিতে নতুন চাষাবাদের কলাকৌশল তৈরি ও প্রয়োগ করে উচ্চ ফলন পায়। রোমানরা খাদ্যশস্য নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে কিছু পরিমাণ বিক্রি শুরু করে।

মধ্যযুগে উত্তর আফ্রিকা ও পূর্বের মুসলিম কৃষকরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেচের পদ্ধতি উদ্ভাবন করে এবং তা পরে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন যন্ত্র, ডোবা, কৃত্রিম জলাধার কৃষিজমিতে সেচের জন্য বহুল ব্যবহৃত হতে শুরু করে। মধ্যযুগে তারা অঞ্চলভিত্তিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আখ, লেবুজাতীয় ফসল, তুলা, সাফরান ইত্যাদি ফসল খাপ খাওয়ানোর ওপর বই প্রকাশ করে। মুসলমানরা লেবু, কমলা, কলার জাত স্পেন থেকে এনে চাষাবাদ শুরু করে। মধ্যযুগে এক জমিতে তিন ফসল ক্রমপরিবর্তন চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়। চীন তখন চাষাবাদ পদ্ধতি সহজতর করার জন্য মোলবোর্ড চাষাবাদ যন্ত্র উদ্ভাবন করে। মোলবোর্ড চাষাবাদ যন্ত্র পরে চাষাবাদ প্রক্রিয়া সহজ করে দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে।

১৪৯২ সালের পরে স্থানীয় ফসলের জাত ও পোষা প্রাণী এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর ঘটে। টমেটো, ভুট্টা, আলু, তামাক ইত্যাদি প্রধান ফসল অগ্রসর অঞ্চল থেকে অনগ্রসর অঞ্চলে আগমন ঘটে। অন্যদিকে গম, মসলা, কফি ও আখ অনগ্রসর থেকে অগ্রসর অঞ্চলে আগমন ঘটে। কলাম্বিয়ান আমেরিকায় কিছু কুকুরের জাত পালন করা হতো, যা বিভিন্ন কাজকর্মের উপযুক্ত ছিল না। তাই পশ্চাৎপদ অঞ্চল থেকে তারা কিছু কুকুর ও ঘোড়ার জাত আমদানি করে। ঘোড়া ও কুকুরের জাতগুলো পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ কর্তৃক চাষ সূচনাকারী আলু উত্তর ইউরোপের প্রধান খাদ্যশস্যে পরিণত হয়। সে সময়ে ভুট্টা আফ্রিকার স্থানীয় খাদ্যশস্যের জায়গা দখল করে নেয়।

অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে গঠন বা প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে কৃষিকৌশল, যন্ত্রপাতি, বীজ ও মাঠ ফসলের নামকরণ করা হয় এবং তাদের গঠনগত পরিবর্তন গঠতে থাকে। এ সময় মধ্যযুগ থেকে কয়েকগুণ মাঠ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ট্রাক্টর ও উন্নত কলাকৌশল ব্যবহার করে আমেরিকা, ইসরাইল, জার্মানি ও অগ্রসর দেশ প্রতি একর ভূমি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলন ফলায়। হেবার বোস পদ্ধতি ব্যবহার করে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উৎপাদন ফসল উৎপাদনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে কৃষিতে ফলন বৃদ্ধিতে বিপ্লব ঘটায়। ফলন বৃদ্ধি, সার, কীটনাশক, জাত উন্নতকরণ, যন্ত্রপাতির ব্যবহার, পানি দূষণ এবং কৃষিতে ভর্তুকি গত শতাব্দীর আলোচিত বিষয় ছিল।

সাম্প্রতিককালে উন্নত দেশগুলো পরিবেশের ওপর কৃষির বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা চিন্তা করে জৈব কৃষির সূচনা করছে। নতুন নতুন ফসলের জাত ও কলাকৌশল উদ্ভাবনের কারণে বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষির বিপ্লব ঘটতে থাকে। আমেরিকা তাদের সাবিনের জাত উন্নয়নের জন্য চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে। এবং চীন ও জাপান বিভিন্ন ফল ও নাটজাতীয় ফসলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে। ২০০৫ সালে কৃষির সবচেয়ে বেশি উৎপাদন ছিল চীনে। বর্তমানে সারা পৃথিবীর উৎপাদনের এক-ষষ্ঠাংশের নিয়ন্ত্রণকারী দেশ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত এবং আমেরিকা।

বর্তমানে আমেরিকার প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন ১৯৪৮ সালের উৎপাদন থেকে আড়াই গুণের বেশি। বর্তমানে সারাবিশ্বে রপ্তানিকৃত খাদ্যশস্যের নব্বই ভাগ আসে আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা এবং থাইল্যান্ড থেকে। পানির দুষ্প্রপ্যতার জন্য মধ্য আকারের দেশ আলজেরিয়া, ইরান, মিসর, মেক্সিকো এবং উন্নয়নশীল কিছু দেশের খাদ্যশস্য আমদানি করতে হচ্ছে। পরিবেশ ও মানব শরীরের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্য জিএমও এবং হাইব্রিড ফসল নিয়ে বিতর্ক চলছে। অন্যদিকে সারাবিশ্বে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ফসলের উন্নত জাত উৎপাদন কৃষি ও জিন বিজ্ঞানীদের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। একদিকে আমেরিকা ও আফ্রিকার বায়োফুয়েলের উৎপাদন প্রক্রিয়া খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছে, অন্যদিকে কিউবাসহ লাতিন আমেরিকার জৈব কৃষি চাষ প্রযুক্তি পরিবেশের জন্য আশাব্যঞ্জক।

এগ্রোটেক

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহার

আম, লিচু, নারকেলের ব্যবসায়িক ফলবাগানে সার তো নিয়মমতো পড়ে তবে বড় গাছে আর যাই হোক রোগপোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঠিকমতো স্প্রে চাষিরা করে উঠতে পারেন না। খোলা মাঠের সবজি, ধান বা ডালশস্যের সাধারণ স্প্রে যন্ত্র যেমন ন্যাপসাক স্প্রেয়ার বা হ্যান্ড কম্প্রেশন স্প্রেয়ারে কাজ হয়, যা আবার বড় ফল গাছে (আম, লিচু, নারকেল, কাঁঠাল) বা বড় বেড়ের (ডালপালা পরিধি যুক্ত) পেয়ারা, সবেদা, কুল, লেবু গাছে একেবারেই অনুপযুক্ত। চাষিরা কিন্তু একই স্প্রেয়ার ব্যবহার করেন। আর তার ফলে কীট বা রোগনাশক বা পরিচর্যার হর্মোন ইত্যাদি ব্যবহার হলেও তার কোন কাজও হয় না। রোগপোকা তো নিয়ন্ত্রণ হয়ই না, শুধু শুধুই চাষের খরচ বাড়ে।

ফলবাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহারের জন্য আমাদের চাষিভাইদের উপযোগি প্রযুক্তির আলোচনা করলাম। ফলবাগানে স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের আগে চাষিভাই বোনেদের বেশ কিছু বিষয় চিন্তাভাবনা করে স্প্রেয়ার কেনা দরকার। মনে রাখবেন, আপনার ফলবাগান হল দীর্ঘস্থায়ী লাভের বিনিয়োগ। অনেকটা ফিক্সড ডিপোজিট বা মান্থলি ইনকাম যোজনার মতো। আপনার কেনা মেশিনটিও কিন্তু সুষ্ঠুভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য।

ফলবাগানে রোগপোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্প্রেয়ার কিনতে যাওয়ার সময় দেখার বিষয় :

  • লম্বা ও বড় গাছে স্প্রে দেবার সুবিধা।
  • বাগানের আয়তন, গড় ফলন ও বছরে উৎপাদন। ভালোভাবে ওষুধ স্প্রে করার কার্যকারিতা।
  • সার্ভিসের সুবিধা ও আপনার নিকটবর্তী শহরে স্পেয়ার পার্টসের উপলব্ধতা।
  • ব্যবসায়িক ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে

এসব বিষয়গুলি চিন্তাভাবনা আগে থেকে করলে  ফলচাষি বা ফলবাগান লিজ নেওয়া ব্যবসায়িদের পক্ষে বাগানের ফল ফসলের রোগপোকা নিয়ন্ত্রণের যথোপযুক্ত কৃষিযন্ত্র কেনা সম্ভব। মাঠের ফসলের ক্ষেত্রে হ্যান্ড ন্যাপসাক স্প্রে আর এরই উন্নত সংস্করণ হাইটেক স্প্রেয়ারই বেশি চলে। এগুলির কার্যপ্রণালী হাতের মাধ্যমে হওয়ায় চারা তৈরি করে স্প্রে নির্গমনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এধরণের স্প্রেয়ারগুলি ব্যটারি ইলেক্ট্রিক বা জ্বালানি দেওয়া মোটরের মাধ্যমে চালানোর মত যন্ত্র ব্যবস্থাও আছে যাতে অল্প সময়ে বেশি জায়গায় সূক্ষতার সঙ্গে দ্রবণ ছড়ানো সম্ভব। তবে যে সমস্ত চাষিভাই বোনেরা এধরণের স্প্রেয়ারগুলি দিয়ে ফলগাছ স্প্রে দেবেন, তারা আশানুরূপ ফল পাবেন না। ছোট ফলগাছ যেমন আনারস, কলা, পেঁপে গাছে একধরণের স্প্রেয়ারগুলি দিয়ে শস্যসুরক্ষা সম্ভব হলেও আম, লিচু, পেয়ারা, কাঁঠাল, নারকেল ইত্যাদি অধিকাংশ ফলগাছে বা বাগানে এগুলি অনুপযুক্ত। ফলে আমাদের উঁচু ফলগাছের চারিদিকে সমানভাবে শস্যসুরক্ষার স্প্রে দিতে হলে অন্য ধরণের স্প্রেয়ার বেছে নিতে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

হারভেস্টর সহযোগী যন্ত্র উদ্ভাবন আনোয়ার হোসেনের

কৃষকের সময় ও খরচ বাঁচাতে ফসল হারভেস্টরকে সহযোগিতা করতে একটি সহযোগী যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন দিনাজপুরের আনোয়ার হোসেন। সরকারী সহযোগিতা পেলে কৃষকের ঘরে ঘরে এই যন্ত্র পৌঁছে দেয়ার কথা বলছেন তিনি। 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক এই আনোয়ার হোসেন তার নিজের প্রচেষ্টায় দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকের কৃষিতে সুবিধার জন্য একের পর এক সময় সাশ্রয়ী বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে ইতিপূর্বে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।এবার আনোয়ার হোসেন তৈরি করেলেন ধান কাটার হারভেষ্টার মেশিনের সহযোগী মেশিন। এই মেশিন দিয়ে কৃষকরা হারভেষ্টার মেশিন থেকে স্বল্প খরচে ধান পরিবহণ ও বস্তাজাত করতে পারছেন।

ধান কাটা মাড়াই মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা নানা সমস্যার সম্মুখিন হয়। তাই কৃষকদের কাটা মাড়াই সুবিধার্থে কৃষি দপ্তরের অধিনে ভর্তুকি মূলে ধান কাটা মাড়াইয়ের জন্য অত্যাধুনিক হারভেষ্টার মেশিন সরবরাহ করেন। ওই হারভেষ্টার দিয়ে কৃষকরা দ্রুত সময়ে জমির ধান কাটা ও মাড়াই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা মাড়াইয়ের সময় একটি মেশিনে ধান সংগ্রহের ধারণ ক্ষমতা থাকে ২৫ মন। কাটা মাড়াই’র পর জমি থেকে কৃষকের সুবিধাজনক স্থানে ওই ধান আনলোড কিংবা বস্তাজাত করতে সময়সহ হারভেষ্টারের জ্বালানী ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশী। আবার ওই ধান বস্তাজাত করতে লেবার ব্যবহারে খরচও বেশী। এই চিন্তাধারা থেকে পল্লী চিকিৎসক ও কৃষক আনোয়ার হোসেন উদ্ভাবন করেন হারভেষ্টার সহযোগী এ পরিবহণ যন্ত্র। যা দিয়ে এক একর জমির ধান হারভেষ্টার থেকে কৃষকের সুবিধাজনক স্থানে পরিবহণ করতে সময় লাগে কম এবং খরচ হয় মাত্র ৬ থেকে ৭ শত টাকা। অথচ একই পরিমাণ জমি ধান শ্রমিক দিয়ে পরিবহণ করতে খরচ হয় ৩ হাজার টাকা।

বাসুদেবপুর গ্রামের ২টি হারভেষ্টারের মালিক মো. গোলাম মোস্তফা লিখন জানান, তিনি সরকারের ভর্তুকিতে দু’টি হারভেষ্টার নিয়েছেন। কিন্তু হারভেষ্টা দিয়ে ধান কাটা মাড়াই দ্রুত হয়। তবে হারভেষ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানী খরচ অনেক বেশী। আরো ভালো হয় সরকার হারভেষ্টরের সাথে এই সহযোগী যানও যদি ভর্তুকিতে কৃষকদের সরবরাহ করতে পারে।

এ ব্যাপারে উদ্ভাবক আনোয়ার হোসেন জানান, সরকার কৃষকের লাভের কথা চিন্তা করে বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্য দিয়ে ধান কাটার কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন কিনছে। কিন্তু এ হার্ভেস্টার মেশিনের ধান সংগ্রহের ভান্ডারটি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ১০/১৫ মিনিট পর পর ধান আনলোড করতে হয়। এতে যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়। একইসাথে ধান আনলোড করতে রাস্তা কিংবা শুকনো উঁচু জমিতে যাতায়াত করতে হার্ভেস্টার মেশিনের তেল খরচ ও রক্ষণা-বেক্ষণ খরচ অনেক বেশি। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ধানের জমি থেকেই ধান সংগ্রহের বিকল্প হিসেবে এই সহযোগী মেশিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

তিনি আরো বলেন, আনোয়ার হোসেন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারিভাবে আমাকে সহযোগিতা করলে এই সহযোগী যন্ত্রটি কৃষকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারব। অন্য সময় হার্ভেস্টার সহযোগী এ মেশিনটি ধান পরিবহণ ছাড়া, জমি চাষ করা, হার্ভেস্টার মেশিনকে পরিবহন করা, ধানের বস্তা পরিবহন ইত্যাদি কাজেও ব্যবহার করা যায়। যন্ত্রটির মূল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, প্যাকেজ হিসেবে এর মূল্য সাড়ে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা মাত্র।

উল্লেখ্য, আনোয়ার হোসেন ২০১৪ সালে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্বাইড হারভেষ্টার মেশিন তৈরি করে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তার তৈরি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিনের মূল্য মাত্র ৮ লাখ টাকা। অথচ বিদেশ থেকে এই মেশিন আমদানি করতে খরচ হয় অনেক বেশী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহারে কমেছে খরচ, বেড়েছে উৎপাদন

কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহারে কমেছে খরচ, বেড়েছে উৎপাদন

চারা রোপন থেকে শুরু করে ফসল কাটা পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন  হয়েছে যন্ত্রের মাধ্যমে। ফলে খরচ কমেছে, বেড়েছে ফসলের উৎপাদনও।

কৃষিতে যন্ত্রের ছোঁয়া। কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে চলছে ফসল কাটা। একেকটি হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে প্রতি ঘন্টায় প্রায় এক একর জমির ধান কাটা সম্ভব। ফলে ধান কাটা-মাড়াইয়ের অনেক টাকার সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকের।

জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রহিমাপুর গ্রামে একই প্লটে ৭৮ জন কৃষকের ৫০ একর জমিতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে সার, বীজ ও বালাইনাশক। ট্রেতে চারা রোপন থেকে শুরু করে ধান কাটা সবই হয়েছে যন্ত্রের মাধ্যমে। আধুনিক এই চাষ পদ্ধতিতে আগের তুলনায় উৎপাদনও বেড়েছে, ফলে খুশি কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষকরা জানান, কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে ফসল কাটায় জমি থেকে রাস্তার মধ্যে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এটা অনেক ভালো একটা পদ্ধতি।

রংপুরের তারাগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুম বলেন, ‘এই পদ্ধতির মাধ্যমে বোরো মৌসুমে আমাদের শ্রমিক সংকট দুর হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ কম হচ্ছে। পাশাপাশি সময়টাও কম লাগছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে কৃষিকে সহজ, লাভজনক ও আধুনিক করতেই কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রংপুর কৃষি সস্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘এই সবকিছু আমরা সরকারি প্রণোদনা থেকেই  করে দিচ্ছি। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কম হবে এবং লাভ বেশি হবে।’

সরকারের এমন উদ্যোগ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য নষ্টও হচ্ছেনা এবং কৃষক এই পণ্য ভালোমূল্যে বাজারে বিক্রি করার একটি সুযোগ পেয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

এসিআই মটরস নিয়ে এসেছে স্মার্ট পাওয়ার টিলার

জমি চাষের পদ্ধতিকে আরও সহজ করতে এসিআই মটরস নিয়ে এসেছে স্মার্ট পাওয়ার টিলার। মেশিনটি সম্পূর্ণ নতুন লৌহ আকরিক থেকে তৈরির কারণে এর চেসিস বাজারের অন্যসব পাওয়ার টিলারের থেকে দিগুণ মজবুত ও অধিক দীর্ঘস্থায়ী।

এসিআই মটরস সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ পাওয়ার টিলার ১২ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিনে চালিত ১৮ ফলা বা লাঙ্গল। এসব হর্স-পাওয়ার গভীরভাবে জমি চাষের অনুপযোগী। ফলে জমির ৩.৫-৭ ইঞ্চি যে শক্ত স্তর রয়েছে প্রথাগত পাওয়ার টিলার সে স্তরটা চাষ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এসিআই মটরসের ২৫ হর্স-পাওয়ারের আর-২৮ মডেলের পাওয়ার টিলারে ২৮ টি ফলা বা লাঙ্গল রয়েছে। ফলে সহজেই জমির ৫-৭ ইঞ্চি গভীরে চাষ করা যায়।

আরও জানা যায়, আর-২৮ মডেলের পাওয়ার টিলার মাটির শক্ত স্তর ভেদ করার সক্ষমতা রাখে। যেটা উর্বর চাষ ও অধিক ফলনে সহায়তা করে। অন্যান্য পাওয়ার টিলার ১৮ ফলায় ৬০০ মিলিমিটার সারি ধরে চাষ করে। আর সেখানে আর-২৮ মডেলের পাওয়ার টিলার ২৮ ফলায় ৯০০ মিলিমিটার সারি চাষ করতে সক্ষম। তাই প্রচলিত পাওয়ার টিলারের তুলনায় একই সময়ে দেড় গুণ বেশি জমি চাষ করা সম্ভব।

জমি চাষে পাওয়ার টিলারের ব্যবহার সম্পর্কে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের অধ্যাপক ও জরিপের সমন্বয়ক মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, সার্বিকভাবে কৃষিতে শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন বাড়াতে কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে সঠিক যন্ত্র যেমন কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে তেমনি যন্ত্রটি যাতে সঠিকভাবে জমি চাষে ব্যবহার করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। তাই জমি চাষের জন্য এখন বেশি হর্স-পাওয়ার ইঞ্জিন চালিত পাওয়ার টিলারের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে এসিআই মটরসের পরিচালক (সার্ভিস এন্ড প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট) ইঞ্জিনিয়ার আসিফ উদ্দীন জানান, ২৫ হর্স-পাওয়ার ইঞ্জিন ডাইরেক্ট ফুয়েল ইঞ্জেকশান সিস্টেম হওয়ায় তেল খরচ কমবে প্রায় ৭ শতাংশ। আর-২৮ মডেলের পাওয়ার টিলার লিটারে চাষ করে ২৮ শতক জমি যা অন্যান্য পাওয়ার টিলারের তুলনায় দুই কিলোমিটার বেশি।

নতুনভাবে সাজানো পাওয়ার টিলারটির সারা দেশজুড়েই বিক্রয়োত্তর সেবা ও খুচরা যন্ত্রাংশের নিশ্চয়তার মাধ্যমে কৃষককে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

শ্রমিক সংকটে সর্বাধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টারের ব্যবহারে বহুমুখী ব্যয় সাশ্রয়

শ্রমিক সংকটে সর্বাধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টারের ব্যবহারে বহুমুখী ব্যয় সাশ্রয়

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com