আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

বিদ্যুৎ-জ্বালানি ছাড়াই চলবে কৃষক উদ্ভাবিত সেচযন্ত্র, খরচও লাগবে কম

ভোলার কৃষক অলিউল্যাহ উদ্ভাবিত সেচযন্ত্র ঢাকা ট্রিবিউন

সেচযন্ত্রটি পরিবেশ বান্ধব। এতে ইঞ্জিন বা বৈদ্যুতিক মটরের মতো কোনো শব্দ নেই

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ছাড়াই চলবে এমন একটি সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার এক প্রান্তিক কৃষক। অলিউল্যাহ নামে ওই কৃষকের সেচযন্ত্রটি জোয়ার-ভাটার স্রোতকে কাজে লাগিয়েই জমিতে পানি সরবরাহে সক্ষম।

উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের পেশকার হাওলা গ্রামের ওই কৃষক স্থানীয় একটি খালে সেচযন্ত্রটি বসিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পানি উত্তোলন শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তার এ সেচযন্ত্রটি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। এটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক জনতা।

কৃষক অলিউল্যাহ প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে লোহার অ্যাঙ্গেল, প্লেনশিট ও প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে তৈরি করেছেন এ সেচযন্ত্রটি। আটটি পাখার সাহায্যে  পানির স্রোতে অনবরত ঘোরে যন্ত্রটি। প্রতিটি পাখায় ইপিভিসি “ক্লাস ডি” পাইপ লাগানো হয়েছে। পাইপের ভেতরে আবার কয়েল পাইপ লাগিয়ে তা একটি কন্টেইনারে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এতে জোয়ারের প্রভাবে যখন পাখাগুলো ঘুরতে থাকে, তখন ইপিভিসি ক্লাস ডি পাইপগুলো পানি ভর্তি হয়ে কয়েল পাইপের মাধ্যমে কন্টেইনারে যায়। আর কন্টেইনার থেকে আরেকটি পাইপের সাহায্যে জমিতে অনবরত পানি সরবরাহ হতে থাকে।

অলিউল্যাহ জানান, যন্ত্রটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে জোয়ারের স্রোতনির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে, তবে এটিকে আরও আধুনিকায়ন করা হলে জোয়ার-ভাটা উভয় সময়েই পানি উত্তোলন করা যাবে।

কৃষকদের সেচকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সেচযন্ত্রটি, এমনটাই দাবি তার।

স্থানীয় কৃষক হারেছ মিয়া বলেন, বৈদ্যুতিক মোটর বা ইঞ্জিনের সাহায্যে জমিতে সেচ দিতাম। তাতে অনেক খরচ হয়, তবে এটা দেখে মনে হচ্ছে খরচ অনেকটাই কমে যাবে। তার এমন উদ্ভাবন সকল কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে।

যন্ত্রটির উদ্ভাবক অলিউল্যাহ বলেন, বিদ্যুৎ ও ইঞ্জিনের সাহায্যে সেচ ব্যবহার করে প্রতি ৮ শতক জমি চাষাবাদে কৃষকদেরকে ৬৫০ টাকা খরচ গুনতে হয়। তবে স্রোতের সাহায্যে চলা এ সেচযন্ত্র ব্যবহারে একই পরিমাণ জমিতে খরচ পড়বে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, এতে বিদ্যুৎ খরচ, তেল-মবিল খরচ, মেকানিক বা পরিচালনার জন্য কোনো লোকের খরচ বহন করা লাগবে না। এ সেচযন্ত্রটি পরিবেশ বান্ধব। এতে ইঞ্জিন বা বৈদ্যুতিক মটরের মত কোনো শব্দ নেই। খালে পানির স্রোত যত বাড়বে, এ সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানিও তত বেশি উত্তোলন হবে। জোয়ার ভাটা দু’সময়েই পানি উত্তোলন করা যাবে এ সেচযন্ত্রটি দিয়ে, সরবরাহ সম্ভব হবে ২৪ ঘণ্টা। তাই এ সেচযন্ত্রটি আরও আধুনিকায়ন করতে সরকারি বেসরকারি অনুদানের দাবি জানিয়েছেন কৃষক অলিউল্যাহ।

এদিকে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম শাহাবুদ্দিন জানান, কৃষক অলিউল্যাহরসেচযন্ত্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর কার্যকারিতা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য জেলা উপ-পরিচালক ও কৃষি প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। যাচাইয়ের পরে সেচযন্ত্রটি কার্যকর হলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেটাকে বাণিজ্যিকভাবে তৈরিতে সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। 

লালমোহন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি খবরটি শুনেছেন। সময় করে সরজমিনে দেখতে যাবেন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

সবজি উৎপাদনে যুগোপযোগী কৌশল ‘টানেল টেকনোলোজি’

প্রতিদিন আমরা যেসব খাবার খাই সেটা যদি ঠিকঠাক হজম না হয় তাহলে তা শরীরের কোনো কাজেই আসে না। আপনি যে খাবারই খান সেটাকে পরিপাকের মাধ্যমে শরীরের গ্রহণ উপযোগী করে তোলার জন্য সবজির কোনো জুড়ি নেই।

সবজি যে কেবল খাবার পরিপাক করতেই সাহায্য করে তা কিন্তু নয়। আমাদের শরীরের জন্য দরকারি অনেক পুষ্টি উপাদানও যোগান দিয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ তার অন্যতম। এ দুটি উপাদানই আমাদের শরীরের কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় !

সবজি উৎপাদনের জন্য আমাদের মাটি খুবই উপযোগী শীত ও গ্রীষ্মকালীন সময়ে চাষ করা যায় এমন সবজির তালিকাটাও বেশ বড়। কিন্তু নানান কারণে আমাদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। যে সব জমি আবাদযোগ্য আছে সেসব জমিতে প্রধান ফসল ধান, পাট কিংবা গমের চাষই প্রাধান্য পায়।

সবজি চাষের জন্য বরাদ্দ থাকে রান্না বা গোয়াল ঘরের পেছনের এক চিলতে জমি। অথচ পুষ্টি চাহিদার কথা মাথায় রাখলে সবজি চাষের কথা ভাবতেই হবে। এজন্য ধান-পাট চাষের মতো অনেক বড় জমি ব্যবহার করতে হবে তা নয়।

কম জমি কাজে লাগিয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণের একমাত্র উপায় সারা বছর সবজির নিবিড় চাষ। আমাদের দেশে বেশির ভাগ সবজি উৎপাদন হয় রবি মৌসুমে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে। খরিপ মৌসুম অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সবজি চাষ খুব কম হয়। ফলে বাজারে এ সময় সবজির দাম থাকে আকাশ ছোঁয়া। বিশেষ করে মে থেকে জুলাই মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে সবজির উৎপাদন কম হওয়ার জন্য বাজার মূল্য বেশি থাকে।

একটু কৌশল অবলম্বন করলেই কম জমিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে সারা বছর সবজি চাষ করা যায়। মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় চাষি ভাইয়েরা ন্যায্য মূল্য পান না। তাই মৌসুম শুরুর আগেই যদি আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারজাত করা যায় তাহলে দ্বিগুণেরও বেশি দাম পাওয়া যায়।

যে কৌশল অবলম্বন করে সারা বছর সবজি চাষ করা বা আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদন করা যায় তার নাম ‘টানেল টেকনোলজি’। সোজা কথায় নৌকার ছইয়ের মতো ছাউনি দিয়ে সবজি চাষ। প্রকৃত মৌসুম ছেড়ে অন্য মৌসুমে সবজি চাষ করার জন্য এই কৌশলের কোনো জুড়ি নেই। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে শীতকালীন সবজিকে গ্রীষ্মকালে চাষ করা কঠিন।

কারণ শীতকালীন সবজি চাষের জন্য যে ধরনের তাপমাত্রা প্রয়োজন সেই ধরনের তাপমাত্রা কৃত্রিম পরিবেশে তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুল। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে গ্রীষ্মকালীন সবজিকে শীতকালে চাষ করা খুবই সহজ। কারণ প্লাস্টিক ছাউনি ব্যবহারের মাধ্যমে শীতকালে খুব সহজেই সৌরশক্তি সঞ্চয় করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে নেয়া যায়, যা শীতকালে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য যথেষ্ট।

টানেল টেকনোলজি বা ছাউনি পদ্ধতি ব্যবহার করে যে সব সবজি খুব সহজেই চাষ করা যায় সেগুলো হলো- শসাজাতীয় সবজি, টমেটো, পালংশাক, পাতাকপি, ফুলকপি, সীম ইত্যাদি। এই কৌশলে এক জন চাষি আগাম সবজি চাষ করে প্রকৃত মৌসুমের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আমাদের দেশের অনেক অঞ্চলের চাষি ভাইয়েরা সবজি চাষ করে আসছেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

টানেলের ধরন ও আকার দুই রকমের হতে পারে। নিচু টানেল ও উঁচু টানেল। নিচু টানেল হয় অস্থায়ী এবং এ ধরনের টানেল তৈরিতে খরচ কম। কিন্তু যে সব এলাকয় খুব জোরে বাতাস প্রবাহিত হয় সেসব এলাকায় এ ধরনের টানেল উপযোগী নয়।

তবে আমাদের দেশে প্রধানত যেসব এলাকায় সবজি চাষ হয় সেসব এলাকায় এ ধরনের বাতাস খুব একটা প্রবাহিত হয় না। এ ধরনের টানেল তৈরিতে বাঁশ এবং পলিথিন ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের টানেলের মাধ্যমে প্রকৃত মৌসুমের চেয়ে প্রায় এক মাস আগে সবজি উৎপাদন করা যায়।

উঁচু টানেল হলো স্থায়ী টানেল। এ ধরেেনর টানেল তৈরিতে খরচ বেশি। উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় স্টিল ফ্রেম ও বাঁশ । এ ধরনের টানেল যেকোনো এলাকাতেই তৈরি করা যায়। টানেল সববজি চাষের জমি তৈরি করে বীজ বা চারা রোপণের আগেও করা যায়, পরেও করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

অন্যরকম জাপানের কৃষি

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশ জাপান। ব্যাপক শিল্পায়নসহ নানাবিধ কারণে বর্তমানে এখানকার আবাদযোগ্য ভূমি মাত্র ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে আবার বড় একটি অংশ অবস্থিত পাহাড়ি খাড়া অঞ্চলে। সেখানে ধান বা অন্যান্য ফসল উৎপাদন করতে হয় টেরেস ফার্মিং পদ্ধতিতে (পাহাড়ি জমি তাকের মতো স্তরে স্তরে কেটে সেখানে ফসল ফলানো পদ্ধতি)। তবে এখানকার আবহাওয়া বরাবরই ছিল চাষাবাদের অনুকূলে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, জমির বাড়তি উর্বরাশক্তি ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আবাদযোগ্য স্বল্প জমিতেই ব্যাপক নিবিড় আকারে শস্য উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে জাপান।

আবাদযোগ্য ভূমির পরিমাণ যত কমই হোক না কেন, প্রকৃতপক্ষে জাপানের প্রতিটি অংশেই কৃষির উপস্থিতি দেখা যাবে। দেশটির কৃষিতে উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোর এক বিশেষ অবস্থান রয়েছে। জাপানের মোট কৃষি উৎপাদনের ১০ শতাংশই আসে হোক্কাইডো থেকে।

পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার মতো জাপানের কৃষকদেরও একসময় প্রচণ্ড দারিদ্র্য আর অনটনে দিন কাটাতে হয়েছে। বিশেষ করে সামন্ত যুগের শেষ পর্যায়ে এসে জাপানজুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়, তার ঝড়ঝাপটা সেখানকার কৃষকদের ওপর দিয়েই বয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেও অভাব-অনটন আর দারিদ্র্য ছিল জাপানের কৃষকদের নিত্যসঙ্গী। সে সময়ও দেশটির কৃষিজমির পুরোটাই কুক্ষিগত ছিল গোটাকতক জমিদার ও সামন্ত ভূস্বামীর হাতে। এসব জমিদার ও সামন্ত ভূস্বামী রাজনৈতিকভাবে বেশ ক্ষমতাবান ছিল। এদের অত্যাচার আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার বিদ্রোহ করেছেন জাপানের কৃষকরা।

পরিস্থিতির বদল ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। মহাযুদ্ধে জাপান হেরে গেলেও দেশটির কৃষকদের জন্য তা শাপে বর হয়ে ওঠে। ১৯৪৬-৫২ সাল পর্যন্ত জাপানে দখলদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কার্যক্রমে হাত দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাকআর্থার প্রশাসনের অধীনে সে সময় যে কয়টি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে একটি ছিল কৃষি সংস্কার কর্মসূচি। জাপানের ক্ষুদ্র চাষীরা এ সংস্কার কর্মসূচির পূর্ণ সুফল ভোগ করেছেন।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানের আগ্রাসী ভূমিকার পেছনে সেখানকার সামন্ত ও জমিদারদের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। মহাযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর দেশটিতে ঘাঁটি গেড়ে বসল মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনী। সামন্ত ও জমিদারদের দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিল দখলদার ম্যাকআর্থার প্রশাসন। অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাপান সরকারকে দিয়ে মোট কৃষিজমির দুই-তৃতীয়াংশ কম দামে কিনিয়ে নেয়া হলো। এরপর তা কম দামেই বিক্রি করে দেয়া হলো ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে।

ম্যাকআর্থার প্রশাসনের এ সংস্কার কার্যক্রম জাপানের ক্ষুদ্র কৃষকদের ভাগ্য ফিরিয়ে দিল। যদিও অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কারণে শুরুর দিকে তাদের মুনাফা সীমিত হয়ে পড়েছিল। সংস্কারের আগে জাপানে মোট কৃষিজমির মাত্র ২৩ শতাংশের ওপর মালিকানা ছিল কৃষকের। সংস্কার কার্যক্রমের বদৌলতে ১৯৮০ সালের দিকে এসে দেখা গেল, দেশটির মোট কৃষিজমির পুরোটাই চলে গেছে কৃষকের মালিকানায়।

তবে এরও কিছু নেতিবাচক দিক ছিল। জমিদারি প্রথা যাতে কোনোভাবে ফিরে আসতে না পারে, সংস্কারের কালে সেজন্য কৃষিজমির মালিকানার ওপর সীমা আরোপ করা হয়েছিল। অর্থাৎ কারো পক্ষে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমির অতিরিক্ত কৃষিজমির মালিক হওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে জাপানের কৃষিতে বেসরকারি করপোরেশনগুলোর বৃহদায়তন বিনিয়োগের কোনো সুযোগ ছিল না। পাশাপাশি প্রতিযোগীর অভাবে জাপানের বৃহত্তম কৃষক সমিতি নোকিয়োর (ইংরেজি নাম জাপান এগ্রিকালচার বা জেএ) একচেটিয়া কর্তৃত্বে চলে যায় দেশটির কৃষি খাত। একই সঙ্গে শক্তিশালী লবি ও প্রেসার গ্রুপ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে এ কৃষক সমবায় প্রতিষ্ঠান।

পরিস্থিতিতে বদলের সূচনা দেখা দেয় ১৯৯৪ সালের দিকে। জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেডের (গ্যাট) অধীনে আয়োজিত উরুগুয়ে সম্মেলনের পর থেকেই জাপানের কৃষিতে আরেক দফা পরিবর্তনের হাওয়া বইতে থাকে। এরপর ১৯৯৯ সালের মৌলিক কৃষি আইনের অধীনে যৌথ মূলধনি কোম্পানিগুলোকে কৃষিতে বিনিয়োগের অধিকার দেয়া হয়। ওই আইনে বলা হয়, কৃষকের নেতৃত্বাধীন উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে যৌথ মূলধনি কোম্পানিগুলো। এরপর ২০০৯ সালের সংশোধিত কৃষিভূমি আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃষিজমি ভাড়া করে কৃষিকাজের (মালিকানায় নয়) অধিকার দেয়া হয়।

সাম্প্রতিক কালে শিনজো আবের সরকার যৌথ মূলধনি কোম্পানিগুলোর জন্য কৃষিতে বিনিয়োগের সুযোগকে আরো শিথিল করে দিয়েছে। অকৃষি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কৃষিতে মূলধনি বিনিয়োগের সীমা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে তুলে নেয়া হয়েছে। কৃষি উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক বোর্ডে কৃষকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। আবে সরকারের এ উদ্যোগের ফলাফল তাত্ক্ষণিকভাবেই হাতে পাওয়া যায়। শিনজো আবে ক্ষমতায় আসেন ২০১২ সালে। ২০১৪ সালের মধ্যে জাপানে কৃষি উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ হাজারের বেশিতে। রাতারাতি দেশটিতে এ ধরনের কৃষি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যায়। ২০১৪ সালেই কৃষি উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় এর পাঁচ বছর আগের অর্থাৎ ২০০৯ সালের তুলনায় সাড়ে ২৯ শতাংশ বেশিতে। পরবর্তী সময়ে দেশটির কৃষিতে পরিবর্তনের সবচেয়ে জোরালো পদধ্বনি শোনা যায় ২০১৬ সালের মে মাসে। সে সময় দেশটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্পেশাল জোন আইনে পরিবর্তন আনা হয়। এর আওতায় বেসরকারি খাতের করপোরেশনগুলোকে ইয়াবু শহরাঞ্চলের কৃষিজমির শতভাগ মালিকানা গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি

এত কিছুর পরও জাপানের কৃষি খাত দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। দেশটির কৃষি, বনায়ন ও মত্স্যসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে জাপানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষিকাজে নিয়োজিত খানার সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার। ১৯৬৫ সালেও দেশটিতে কৃষকের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। ৫০ বছরের ব্যবধানে ২০১৫ সালে তা নেমে আসে ২০ লাখেরও নিচে। দেশটির কৃষি খাতে এখন দুশ্চিন্তার আরেক বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের বয়সও। জাপানের কৃষি খাতে এ মুহূর্তে বয়স্ক ও বৃদ্ধ কৃষকের সংখ্যাই বেশি। তথ্যমতে, দেশটির প্রতি ১০ জন কৃষকের মধ্যে ছয়জনেরই বয়স এখন ৬৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে তরুণদের মধ্যেও এখন কৃষিকে সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে।

তবে এর মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষিতে করপোরেট অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি ও ব্যাপক যন্ত্রায়ণ। বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দেশটির কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। বৃহদায়তনে ধান ও সবজি উৎপাদন এবং বিনিয়োগে নিয়োজিত রয়েছে ইয়োন সুপারমার্কেট চেইন, লসন, সেভেন অ্যান্ড আই হোল্ডিংস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

জাপানের কৃষি উৎপাদন খাতে তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগের দিক থেকে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হলো ফুজিত্সু। ২০১২ সালে ক্লাউডভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা সেবা আকিসাই চালুর মাধ্যমে এ খাতে পা রাখে ফুজিত্সু। বর্তমানে ইয়োনের ফার্মিং ডিভিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আকিসাইয়ের গ্রাহক। এছাড়া এ খাতে বিনিয়োগ রয়েছে এনইসি, হিটাচি, তোশিবা ও টয়োটার মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও।

কানসাই অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ‘প্যাসিভ হাউজ’ নামে প্যানাসনিক উদ্ভাবিত এক ধরনের গ্রিনহাউজ ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্যানাসনিকের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিস্টেমস বিভাগ ও হাউজিং সিস্টেমস বিভাগ যৌথভাবে এ গ্রিনহাউজ উদ্ভাবন করেছে। এতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কোনো ব্যত্যয় ঘটলেই সেন্সরে তা ধরা পড়ে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা সমন্বয় হয়ে যায়।

কৃষি যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কুবোতা সম্প্রতি এর প্রত্যক্ষ কৃষি কার্যক্রম আরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মূলত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের খাতিরেই কৃষিকাজে সংশ্লিষ্টতা তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চারটি খামারে এ কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ সালের মধ্যে এ ধরনের খামারের সংখ্যা ১৫তে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে কুবোতা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন কৃষিজমির পরিমাণ এক হাজার হেক্টর। এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতিতে জিপিএস, সেন্সর ও ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিতে টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান এনটিটির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে কুবোতা। চলতি বছরের মধ্যেই স্বচালিত কৃষি যন্ত্রপাতি বাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। মূলত যেসব তরুণ কৃষকের কৃষিকাজে অভিজ্ঞতা কম, তাদেরই পণ্যটির জন্য ‘টার্গেট মার্কেট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিয়োটোভিত্তিক স্টার্টআপ মাইফার্মের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জাপানের জাতীয় পর্যায়ে কৃষিজমি বিক্রি বা ভাড়াসংক্রান্ত ডাটাবেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে আরেক টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক।

শিনজো আবের সর্বশেষ সংস্কার এ ধরনের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কৃষিতে বিনিয়োগের পথ খুলে দিয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সব পর্যায়ের কৃষিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। ফলে দেশটির কৃষিতে সংকোচনের যে কালো ছায়া দেখা দিয়েছে, তা সাময়িক বলে মনে করছেন অনেকে।

এছাড়া জাপানে ভার্টিক্যাল ফার্মিং পদ্ধতিও ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সনাতন পদ্ধতিতে কৃষি জমির পাশাপাশি সারি বেঁধে বপন ও রোপণের মাধ্যমে শস্য ও সবজি ফলানো হয়। একে বলা হয় হরাইজন্টাল বা আনুভূমিক কৃষি পদ্ধতি। কিন্তু ভার্টিক্যাল ফার্মিং বা উল্লম্ব পদ্ধতিতে গ্রিনহাউজে একের পর এক তাকে শস্য বা সবজি ফলানো হয়। বিশেষ করে কিয়োটো ও টোকিও অঞ্চলে এ ধরনের চাষ পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

২০ বছর আগেই, অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের দিকেই জাপানে চালু ছিল ২০ লাখেরও বেশি ট্রাক্টর। কম্বাইন হারভেস্টার চালু ছিল ১২ লাখেরও বেশি। জাপানে এসব যন্ত্রও এখন সেকেলে হয়ে পড়েছে। কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দিয়ে দেশটির কৃষিকে করে তোলা হয়েছে আধুনিক থেকে আধুনিকতর ও স্মার্ট। অন্যান্য শিল্পের ব্যাপক অগ্রগতির কারণে জাপানের অর্থনীতিতে কৃষি এখন অত্যন্ত গৌণ একটি খাত, এ কথা সত্যি। কিন্তু এর পরও বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় একটি জায়গা হতে পারে জাপানের কৃষি খাত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষকের বানানো সেচযন্ত্রে লাগবে না জ্বালানি খরচ

মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে জ্বালানি খচরবিহীন সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ভোলার লালমোহনের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক মো. অলিউল্লাহ। পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও তেল খরচবিহীন এ অভিনব সেচ যন্ত্রের উদ্ভাবন করে এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু তিনি।

কিছুদিন আগে লালমোহন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মুন্সির হাওলা গ্রামের ওই কৃষক স্থানীয় খালে সেচ যন্ত্রটি বসিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পানি উত্তোলন শুরু করেন। ইতোমধ্যে তার এ অভিনব উদ্ভাবন স্থানীয় কৃষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেচ যন্ত্রটিতে আটটি পাখা লাগানো রয়েছে। যা পানির স্রোতের সাহায্যে অনবরত ঘোরে। প্রতিটি পাখার উপরে ইউপিবিসি ক্লাস ডি পাইপ লাগানো হয়েছে এবং ওইসব পাইপের ভিতরে কয়েল পাইপ লাগিয়ে তা একটি কন্টেইনারে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এতে করে জোয়ারের প্রভাবে যখন পাখাগুলো ঘুরতে থাকে, তখন ইফপিবিসি ক্লাস ডি পাইপগুলো পানি ভর্তি হয়ে কয়েল পাইপের মাধ্যমে কন্টেইনারে ভর্তি হয়। আর কন্টেইনার থেকে আরেকটি পাইপের সাহায্যে জমিতে অনবরত পানি নির্গত হতে থাকে।

যন্ত্রটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে জোয়ারের স্রোত নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে, তবে এটিকে আরও আধুনিকায়ন করা হলে জোয়ার-ভাটা উভয় সময়েই পানি উত্তোলন করা যাবে এবং কৃষকদের সেচকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কৃষক অলিউল্লাহর।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, বৈদ্যুতিক মোটর বা ইঞ্জিনের সাহায্যে জমিতে সেচ দিতাম। তাতে ব্যাপক পরিমাণ খরচ লাগে, তবে এটা দেখে মনে হচ্ছে খরচ অনেকটাই কমে যাবে। তার এমন উদ্ভাবন সকল কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করবে।

কৃষক অলিউল্লাহ বলেন, বিদ্যুত ও ইঞ্জিনের সাহায্যে সেচ ব্যবহার করে প্রতি ৮ শতাংশ জমিতে চাষাবাদে কৃষকদের প্রায় সাড়ে ৬০০ টাকা খরচ বহন করতে হয়। তবে স্রোতের সাহায্যে চলা এ সেচযন্ত্র ব্যবহারে ৮ শতাংশ জমিতে খরচ পড়বে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। বিদ্যুত খরচ, তেল-মবিল খরচ, মেকানিক বা পরিচালনার জন্য কোনো লোকের খরচ বহন করা লাগবেনা।

তার দাবি, এ সেচ যন্ত্রটি পরিবেশবান্ধব। এতে ইঞ্জিন বা বৈদ্যুতিক মোটরের মতো কোনও শব্দ নেই। খালে পানির স্রোত যতো বাড়বে, এ সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানিও তত বেশি উত্তোলন হবে। জোয়ার-ভাটা উভয়কালেই পানি উত্তোলন করা যাবে, পানি উত্তোলন হবে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা। সেচযন্ত্রটি আরও আধুনিকায়ন করতে সরকারি বে-সরকারি অনুদানের দাবি জানিয়েছেন কৃষক অলিউল্লাহ।

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম শাহাবুদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, অলিউল্লাহ নামে এক কৃষক পানির প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে একটি সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। সেচযন্ত্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর কার্যকারিতা ও সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য জেলা উপ-পরিচালক ও কৃষি প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। যাচাইয়ের পরে সেচযন্ত্রটি কার্যকর হলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেটাকে বাণিজ্যিক আকারে তৈরিতে সহযোগিতা দেওয়ার করবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ফসল তোলা রোবট

কারখানার পর ফসল তোলার কাজেও রোবট ব্যবহারের উদ্যোগ চলছে৷ রোবট সস্তায় বড় আকারে এই কাজ করতে পারলে কৃষকদের সুবিধা হতে পারে। কিন্তু এখনো এই কাজে মানুষের দক্ষতা বেশি।

মিউনিখ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রে গবেষকরা সবজি চাষে বিপ্লব আনতে চান। এক রোবটকে দিয়ে ক্যাপসিকাম ফসল তোলানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলো, ফসল অক্ষত থাকতে হবে।
বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং ইসরায়েল ও চিলির সহযোগিতায় ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছিল।

মিউনিখ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টোবিয়াস ব্যার্নিঙার ও তার সহকর্মীরা সেই প্রোটোটাইপের সাহায্যে ল্যাবে অনুশীলন করছেন।

তিনি বলেন, ‘‘এখানে আমাদের রোবটের সামনে হাত রয়েছে আর উপরে এক ভিশন-সিস্টেম রয়েছে। সেই চোখ ক্যাপসিকাম শনাক্ত করে৷ তারভিত্তিতে সিস্টেম রোবটের নড়াচড়া স্থির করে দেয়৷তারপর রোবট গাছের কাছে গিয়ে ক্যাপসিকাম তুলে নেয়।”

কিন্তু এই ফসল তোলা রোবট কি সত্যি মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জিততে পারে? কমপক্ষে আদর্শ পরিস্থিতিতে সেটা সম্ভব হতে পারে৷ টোবিয়াস ব্যার্নিঙার বলেন, ‘‘ল্যাবের পরিবেশ সত্যি খুব ভালো। এখানে প্লাস্টিকের তৈরি ক্যাপসিকাম রয়েছে। তাদের সবার রং এক। কোনো পাতা তাদের ঢেকে রাখছে না। তাছাড়া সব ক্যাপসিকামের হুবহু একই বৃদ্ধির হার। বাস্তবে পরিস্থিতি এর ঠিক বিপরীত। কাছের বৃন্তগুলি একইরকম মোটা হয় না। কখনো সেগুলি গাছের খুব কাছে, কখনো দূরে থাকে। রং ক্যাপসিকামের থেকে আলাদা। যথেষ্ট আলো থাকে না, প্রায়ই ঝাপসা ও অন্যরকম মনে হয়।”

গাছপালার এমন জটিল জগতে এখনো পর্যন্ত চোখে দেখে নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করার কোনো সিস্টেম না থাকায় রোবটকে হাতে করে চালাতে হয়। প্রায় এক মিনিটেই ফসল তোলার কাজ শেষ। ক্যাপসিকামেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সব প্রজাতির ক্যাপসিকামের ক্ষেত্রে এত ভালো ফল পাওয়া যায় না।

কিন্তু ফসল তোলার এমন রোবটের প্রয়োজন কী? আসলে ফসল তোলার হাড়ভাঙা খাটুনির জন্য লোক পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। তাছাড়া এমন স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ফসল তুলতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যয় কমে যাবে, আরও ভালো করে পরিকল্পনা করা যাবে। ফসল তোলার কিছু রোবট উৎপাদনের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। যেমন একটি রোবট সেন্সরের সাহায্যে মাটির নীচে অ্যাসপারাগাস শনাক্ত করে তুলে নিতে পারে। ৭৫ জনের কাজ সে একাই করে ফেলতে পারে। নেদারল্যান্ডসের এক কোম্পানি আগামী বছরই এই রোবট বাজারে আনতে চলেছে।

মিউনিখের গবেষকরা এখনো এতটা অগ্রগতি করতে পারেননি। প্রায় ৪ মিনিট পর কাজ শেষ। টোবিয়াস ব্যার্নিঙার বলেন, ‘‘শেষে কাজ হয়েছে বটে, কিন্তু আমরা দু-দু’বার ছুরি দিয়ে ফলের ক্ষতি করেছি। কারণ বেশ কয়েকবার নতুন করে চালনা করতে হয়েছে। অর্থাৎ সফল হই নি। একটি ক্যাপসিকামের জন্য ৪ মিনিট–অর্থাৎ অর্থনৈতিকভাবেসফল হতে রোবটের অনেক দেরি আছে। এছাড়া এখনো ফসলের ক্ষতি এড়ানো যাচ্ছে না।

উলরিশ কাল্টেনস্টাডলার এর পরিণতি খতিয়ে দেখছেন৷ তিন সপ্তাহ আগে এক্সপেরিমেন্ট শুরুর সময় থেকেই তিনি প্রতিদিন রোবটের হাতে তোলা ফসল পরীক্ষা করছেন। সেইসঙ্গে মানুষের হাতে তোলা ক্যাপসিকামের সঙ্গে তার তুলনাও করছেন। ওজন, তাপমাত্রা ও শর্করার মাত্রাও পরিমাপ করছেন তিনি। রোবট ও মানুষের তোলা ফসলের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট তফাৎ কী?

বিশেষজ্ঞ হিসেবে উলরিশ কাল্টেনস্টাডলার বলেন, ‘‘হাতে তোলা ফসলে বৃন্ত অক্ষত রয়েছে। অন্যদিকে রোবট দিয়ে তোলার বৃন্তে ছত্রাকের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। ছাঁটার রকমফেরের কারণে এমনটা ঘটছে। ছুরি হাতে কাটলে এবং রোবটের কাঁচি দিয়ে কাটলে এই তফাত দেখা যায়। বৃন্ত চেপটে গেলে ছত্রাক গজিয়ে ওঠে। শাক সবজি উৎপাদনের সময় ছত্রাকের উৎপাত মেনে নেয়া যায় না।” সুত্র: ডি ডব্লিউ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ভোলার লালমোহনে কৃষকের অভিনব সেচযন্ত্রের উদ্ভাবন

লেখক

জেলার লালমোহন উপজেলায় জোয়ার ভাটার পানির  স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও তেলবিহীন অভিনব এক সেচযন্ত্রের উদ্ভাবন করেছেন অলিউল্যাহ নামের এক কৃষক। উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পেশকার হাওলা গ্রামের ওই কৃষক স্থানীয় একটি খালে সেচযন্ত্রটি বসিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পানি উত্তোলণ করে সফল হয়েছেন। বর্তমানে ঘন্টায় প্রায় ৩ হাজার লিটার পানি উত্তোলণ সম্ভব হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষক অলিউল্যাহর এ উদ্ভাবন স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ক্ষেতে বা মাছের ঘেরে পানি দেওয়ার জন্য অলিউল্যাহর কাছে এমন যন্ত্র তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক জনতা।
কৃষক অলিউল্যাহ বাসস’কে জানান, আমরা যখন খাল বা নদীতে নামি, তখন দেখি পানির স্রোতের অনেক শক্তি। এর মধ্যে সইকেলের চাকা রাখলে দেখা যায়, চাকা ঘুরছে। এ ভাবনা থেকে সেচযন্ত্রটি উদ্ভাবনের ধারনা পাই। পরে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচে লোহার এঙ্গেল, প্লেন সিট ও প্লাস্টিক পাইপের সাহায্যে তৈরি করি সেচযন্ত্রটি। যেখানে ৮টি পাখা লাগানো রয়েছে, যা পানির স্রোতের সাহায্যে অনবরত ঘুরতে থাকে। প্রতিটি পাখার উপরে ইফপিবিসি ক্লাস ডি পাইপ লাগানো হয়েছে এবং ওইসব পাইপের ভিতরে কয়েল পাইপ লাগিয়ে তা একটি কন্টেইনারে সন্নেবেশিত করা হয়েছে। 


তিনি জানান, এতে করে স্রোতের প্রভাবে যখন পাখাগুলো ঘুরতে থাকে, তখন ইফপিবিসি ক্লাস ডি পাইপগুলো পানি ভর্তি হয়ে কয়েল পাইপের মাধ্যমে কন্টেইনারে যায়। আর কন্টেইনার থেকে আরেকটি পাইপের সাহায্যে জমিতে অনবরত পানি নির্গত হতে থাকে। যন্ত্রটিকে আরও আধুনিকায়ন করা হলে কৃষকদের সেচকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এমনটা দাবি কৃষক অলিউল্যাহ’র।


সেচযন্ত্রটি দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে স্থানীয় কৃষক লোকমান আলী, জাবেদ মুন্সি, ও ফয়েজ হোসেন বলেন, আমরা সাধারণত বৈদ্যুতিক মোটর বা ইঞ্জিনের সাহায্যে জমিতে সেচ দেই। তাতে ব্যাপক পরিমাণ খরচ হয়, তবে এটা দেখে মনে হচ্ছে এখন খরচ অনেকটাই কমে যাবে। তার এমন উদ্ভাবন সকল কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ব করবে।
কৃষক অলিউল্যাহ আরো বলেন, বিদ্যুৎ ও ইঞ্জিনের সাহায্যে সেচ ব্যবহার করে প্রতি ৮শতাংশ জমি চাষাবাদে কৃষকদেরকে প্রায় সাড়ে ৬শত টাকা খরচ গুণতে হয়। তবে স্রোতের সাহায্যে চলা এ সেচযন্ত্র ব্যবহারে ৮শতাংশ জমিতে খরচ পড়বে সর্বোচ্চ ১০০টাকা। এতে বিদ্যুৎ খরচ, তেল-মবিল খরচ বহন করা লাগবেনা। তাঁর দাবি, অভিনব এ সেচযন্ত্রটি পরিবেশ বান্ধব। এতে ইঞ্জিন বা বৈদ্যুতিক মোটরের মত কোনও শব্দ নেই। খালে পানির স্রোত যত বাড়বে, এ সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানিও তত বেশি উত্তোলণ হবে। পানি উত্তোলণ করা সম্ভব হবে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা। তাই এ সেচযন্ত্রটি আরও আধুনিকায়ন করতে সরকারি বে-সরকারি অনুদানের দাবি জানিয়েছেন কৃষক অলিউল্যাহ।


এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ বাসস’কে বলেন, এটা কৃষক অলিউল্যাহ’র অনেক ভালো একটা উদ্যোগ। আমরা সাধুবাদ জানাই। কৃষি অফিসের একটি প্রকৌশলী দল সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হবে। এর কার্যকারিতা ও সম্ভাবতা যাচাই করে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো কিভাবে আরো ইমপ্রুভ করা যায়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com