আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

কৃষকের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ

কৃষকেরা ব্যাংকে গিয়ে জানলেন তাঁদের নামে ঋণের কথা। জালিয়াতির হোতা অগ্রণী ব্যাংকের কর্মী তবিবর।

রাজমিস্ত্রি আমিনার রহমান লোকমুখে শুনেছেন, তাঁর নামে পঞ্চগড়ের টুনিরহাট অগ্রণী ব্যাংক শাখায় একটি কৃষিঋণ আছে। এরপর তিনি ওই ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ঘটনা সত্যি। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর ওই ব্যাংক থেকে তাঁর নামে আলু চাষ বাবদ ৬৭ হাজার টাকা শস্যঋণ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোনো ঋণ নেননি, এমনকি ঋণের জন্য আবেদনও করেননি।

আমিনারের চাচাতো ভাই স মিলের শ্রমিক শরিফুলের নামেও ৬৫ হাজার টাকার ঋণ হয়েছে গত বছরের প্রায় একই সময়ে। ঋণের বিষয়টি শরিফুলেরও জানা নেই।

শুধু আমিনার ও শরিফুল নন, অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখায় এমন অনেকের নামে ঋণ জালিয়াতির খোঁজ পাওয়া গেছে। গত মাসের শেষের দিকে অন্তত ১০ ব্যক্তি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, তাঁরা ঋণ জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।

জানা গেছে, এই জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা তবিবর রহমান। তিনি ব্যাংকটির অস্থায়ী মাঠ সহকারী। কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ে কাজ করেন তিনি। অভিযোগ ওঠায় ৮ অক্টোবর তাঁকে বদলি করা হয়েছে।

যেভাবে জালিয়াতি হয়েছে

আমিনারের বাড়ি পঞ্চগড় সদরের কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের লস্করপাড়ায়। তাঁর সঙ্গে কথা হয় ৫ অক্টোবর। বললেন, ‘আমরা তিন ভাই—কেউই কৃষির সঙ্গে যুক্ত নই। রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। একদিন লোকমুখে শুনে ব্যাংকে গিয়ে দেখি, আমি নাকি ঋণ নিয়েছি।’

আমিনার জানান, গত বছর আলুর মৌসুমে তাঁর চাচা আবদুল হক ঋণ ওঠানোর জন্য তাঁকে সাক্ষী করেন। একইভাবে সাক্ষী করা হয় চাচাতো ভাই শরিফুলকে। কিন্তু এখন জানতে পারছেন, সাক্ষীর কথা বলে ঋণের কাগজে সই নেওয়া হয়েছে।

আমিনার ও শরিফুলের নামে ঋণ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আবদুল হক। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাঠ সহকারী তবিবর তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, গত কয়েক বছরে ব্যাংকটি ঘিরে ভয়ংকর একটি দালাল চক্র তৈরি হয়েছে। মাঠ সহকারী তবিবরের মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ফারুক, সামছুজ্জামান ও শরিফুল কাজ করতেন। এই চক্রের সঙ্গে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। চক্রটি অভাবী মানুষদের শস্যঋণ করে দেওয়ার নামে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

টুনিরহাট অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে দফাদার পাড়া। সেখানকার বাসিন্দা আইজুল, গোলাম, আমিনার ও আমিনুর। তাঁদেরও অভিযোগ, প্রতিবেশী হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর সাক্ষী করার কথা বলে তাঁদের প্রত্যেকের নামে ঋণ তুলেছেন।

ট্রাকচালক গোলাম হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত বছর প্রতিবেশী মোস্তাফিজুর আমাকে একটি ঋণের সাক্ষী হতে বলেন। তিনি আমাকে সই দিতে ব্যাংকে নিয়ে যান। সেখানে আমার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি সই নেওয়া হয়। এখন শুনছি, আমার নামে ঋণ তোলা হইছে।’

মোস্তাফিজুর নিজে ও তাঁর মায়ের নামে দুটি কৃষিঋণ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, মাঠ সহকারী তবিবরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো হওয়ায় তিনি অন্যদেরও ঋণ পেতে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু তিনি অন্যদের নামে ঋণের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন কি না, জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

তবে ভুক্তভোগী আমিনার বলছেন, সাক্ষী করার কথা বলে তাঁদের নামে ঋণ করেছেন মোস্তাফিজুর। ঘটনা জানাজানির পর তাঁকে চাপ দিলে তিনি এ মাসের মধ্যেই ঋণ পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে তাঁরা আইনের আশ্রয় নেবেন।

ব্যাংকটির তথ্য বলছে, শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরে শস্যঋণ বাবদ ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। আমন, আলু ও বোরো মৌসুমে মোট ৬৭২ জন এই ঋণসুবিধা পান। ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যথাক্রমে ২ কোটি ৮ লাখ, ২ কোটি ৬৩ লাখ ও ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত শস্যঋণ বাবদ বিতরণ করা হয়েছে ২৪ লাখ টাকা।

মো. সফিউল্লাহ ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। বর্তমানে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

সফিউল্লাহ তাঁর সময়কার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি থাকাকালীন এমন কর্মকাণ্ড হয়নি এবং হওয়ারও সুযোগ ছিল না।

জাফর আলীর বাড়ি একই ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়ে। তাঁর নামে গত মার্চে বোরো আবাদ বাবদ ৬৫ হাজার টাকা কৃষিঋণের টাকা তোলা হয়েছে। জাফরের দাবি, গত জানুয়ারিতে তিনি গরু ব্যবসায় লোকসানে পড়ে ঋণের আবেদন করেছেন। কিন্তু ঋণ দেওয়া হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে তিনি কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। এখন শুনছেন, তাঁর নামে ঋণ হয়েছে। এ ঘটনায় ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ অক্টোবর তিনি পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন।

জাফরের অভিযোগ, ব্যাংকটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ফারুক ও শামছুজ্জামান তাঁর নামে ঋণের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক ও শামছুজ্জামান।

ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম আলী দাবি করেন, তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নিয়েছেন। তখন থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।

তবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলছেন, তিনি বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

১১ বছর পর দেখা দিল আফ্রিকান কম্বডাক

প্রতিবছর শীতের শুরুতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করে পরিযায়ী পাখিরা। এ বছরও ক্যাম্পাসের ৪টি লেকে আশ্রয় নিয়েছে এরা। তবে এবার ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির আফ্রিকান কম্বডাকের। ক্যাম্পাসে ১১ বছর পর দেখা মিলল এই পাখির।

২০০০ সালে ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা মেলে। এরপর মাঝে মাঝেই এই পাখি দেখা যেত। তবে ২০০৯ সালের পর আর এই পাখির দেখা মেলেনি বলে জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।

গত ৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে এই পাখির একটি ঝাঁক দেখা যায়। সুদূর সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এই পাখি এসেছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

আফ্রিকান কম্বডাককে নাকতা হাঁস ও বুঁচা হাস নামেও ডাকা হয়। এটি অতি বিপন্ন প্রজাতির বড় হাঁস। এই হাঁসের দেহের উপরিভাগ নীলচে কালো। পিঠের পেছনভাগ ধূসর। মাথা ও ঘাড়ে সাদার ওপর কালো রঙের ফুটকি রয়েছে। ডানার গৌণ পালক ব্রোঞ্জ রঙের। বুকের অর্ধেক জুড়ে একটি কালো রঙের ফালি। স্ত্রী হাঁস অপেক্ষাকৃত মলিন ও ছোট। এরা উড়তে দক্ষ ও ডুবসাঁতারে নিপুণ।

ভারত, নেপাল, সাইবেরিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদের দেখা যায়। শীতে দেশের হাওর অঞ্চলের বড় বড় জলাশয়ে এদের দেখা যায়।

৮ ও ৯ নভেম্বর ক্যাম্পাসে পাখির উপর প্রাথমিকভাবে শুমারি করা হয়। এতে ক্যাম্পাসে ৭ প্রজাতির প্রায় পাঁচ হাজার পাখি এসেছে বলে জানা গেছে। গত বছর পাখির প্রজাতির সংখ্যা ছিল ৫টি। এবার আফ্রিকান কম্বডাকের সঙ্গে গার্গেনি বা জিরিয়া হাঁস জাতের পাখিও এসেছে।

অনেকদিন পর ক্যাম্পাসে আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা পাওয়ায় খুশি পাখি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ড. মো. কামরুল হাসান বলেন, বিরল প্রজাতির এই পাখি সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বড় বড় জলাভূমিতেও এদের দেখা মেলে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত ও মানুষের উৎপাত কমানো গেলে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফল রাবির গবেষকরা

প্রকৃতির মুক্তা’খ্যাত গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা দাবি করছেন, তারাই বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজনন করতে সক্ষম হলেন। এতে বিলুপ্তির পথে থাকা এ শামুক সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এ বছরের মার্চে শামুকটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার শোভনের হাত ধরে।

গবেষক ও গবেষণা সহকারী মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হিল কাফি ও রুপময় তংচঙ্গা নামের দুই শিক্ষার্থী রাজশাহী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি জায়গা থেকে দুটি গেছো শামুক সংগ্রহ করেন। গবেষণা শুরুর ৯ মাসের পরিশ্রমে এ সফলতা অর্জন হলো বলে জানান অধ্যাপক শোভন।

শামুকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর শামুকটি দিয়ে প্রজনন সফলতা পাওয়া গেছে। পাঁচটি বাচ্চা পেয়েছি আমরা। শামুকটির আদি নিবাস আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। এটি লিগ্যাস প্রজাতির হতে পারে বলে ধারণা করছি।’

অধ্যাপক শোভন বলেন, ‘এর আগে দেশি শামুকের বিষয়ে একটি সার্ভে করেছি। সেখানে দেখতে পেয়েছি, এই গেছো শামুক খুবই দুর্লভ প্রকৃতির। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু জায়গায় আছে। দু’বছর ধরে খুঁজছিলাম; তবে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজে অবশেষে পেয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এই শামুকগুলো।’

দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০১৮ থেকে কাজ করে যাচ্ছে প্রকল্পটি। এরই অংশ হিসেবে এই শামুক সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছেন অধ্যাপক শোভন ও তার গবেষক দল। এ গবেষণা কাজে সহযোগিতা করেন কয়েকজন জাপানি গবেষক।

এই শামুক সংরক্ষণে কী প্রয়োজন রয়েছে এবং এতে কী উপকার পাওয়া যাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষক শোভন বলেন, ‘উদ্ভিদের গায়ে কিছু ক্ষতিকর অণুজীব লেগে থাকে। সেগুলো খেয়ে উদ্ভিদকে রক্ষা করে এই শামুক।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ডেভিসসিসকো নামের একজন গবেষক সাধারণ শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা পান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যেসব ঔষধি গাছ রোগ সারাবে

প্রাচীন আমল থেকে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানান রকমের ঔষধি গাছ দিয়ে চিকিৎসা করা হত। এখনও হচ্ছে। এসব ও গাছের অধিকাংশই আমাদের আশপাশে অযত্নে, অবহেলায় জন্মে। অনেক গাছ আবার সংরক্ষণের অভাবে হারিয়েও যাচ্ছে। বিশেষ করে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধের ক্ষেত্রে এসব গাছের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

সজনে: উচ্চ রক্তচাপ ও লিভারের সমস্যায় সাজনার পাতা ও ফল ব্যবহার হয়। সজনে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কাঁচা রসুনের সঙ্গে সজনে গাছের পাতা একসাথে মিলিয়ে খেলে বাতের ব্যথা উপশম হয়। এছাড়া এই গাছের পাতা ও ফল অনেক পুষ্টিকর বলে গবেষণায় দেখা গেছে। রুচি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

মেন্দা: দেশের অঞ্চলভেদে চাপাইত্তা, কারজুকি, রতন, খারাজুরা নামেও পরিচিতি রয়েছে এই গাছটির। গ্রামাঞ্চলে এখনো পেটের পীড়া, রক্ত-আমাশা হলে পাতা বেটে পানিতে মিশিয়ে দুইবেলা খাওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই গাছের বাকল ও পাতা উভয়ই ব্যবহার করা হয়। একসময় হাড় ভেঙ্গে গেলে ছালের মিশ্রণ স্থানীয়ভাবে প্লাস্টারিংয়ে ব্যবহার করা হতো। অনেক সময় বুকের ব্যথার জন্য মালিশ করা হয়।

ভাট ফুল: কৃমিনাশক এবং ডায়রিয়ার জন্য কাজ করে। কাঁচা হলুদের সঙ্গে পাতার রস মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। যাদের চর্ম রোগ রয়েছে, তারা এই ফুলের রস মালিশ করে উপকার পেয়েছেন।

নিম: ডায়াবেটিসের রোগীরা অনেকে নিমের পাতা শুকিয়ে ছোট ছোট ট্যাবলেট বানিয়ে সকাল বিকেল খেয়ে থাকেন। এছাড়া বহুকাল থেকে চিকেন পক্স, চামড়ার অ্যালার্জির মতো সমস্যায় নিমের পাতা গরম পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পোকা মাকড়ের কামড়ের ক্ষত হলে, সেখানে নিম আর হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগানো হয়। দাঁতের ব্যথার জন্য নিমের ডালের রস ব্যবহার করা হয়।

তুলসী: বিশেষ করে গ্রামের অনেক বাড়িতেই দেখা যায় তুলসী গাছ। সর্দিজনিত রোগে এই গাছটির পাতা খাওয়া হয়। অনেকে চায়ের সঙ্গেও ভিজিয়ে খান। বলা হয়ে থাকে, তুলসী পাতা ভেজে ঘি দিয়ে নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

চিরতা: এটি অনেক স্থানে কালমেঘ নামেও পরিচিত। ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়ে থাকেন। পাতাগুলো গুড়ো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অনেকে খান। পেট খারাপ, ডায়রিয়া, জ্বর ও বাত ব্যথার ক্ষেত্রে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া হয়।

পাথরকুচি: গ্রামে একটা প্রচলিত ধারণা আছে, পাথরকুচি কিডনির পাথর ভাঙ্গতে সহায়তা করে, যদিও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবহারকারীরা গবেষকদের কাছে বলেছেন, জ্বর ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় পাথরকুচির পাতা বেটে খেয়ে তারা উপকার পেয়েছেন। চামড়ার অ্যালার্জির জন্যও এটি বেটে ব্যবহার করা হয়। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় পাথরকুচির পাতার রস ব্যবহার করা হয়।

কালোকেশী: প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নে এই গুল্মজাতীয় গাছটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি চুল পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে বলে বিশ্বাস করা হয়। ড. তাহমিনা হক বলছেন, গবেষণার সময় অনেকে বলেছেন, মেয়েদের মাসিকের সমস্যায় অনেকে পাতার রস খেয়ে থাকেন। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা ছত্রাকরোধী বা অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসাবে প্রমাণিত হয়।

বাসক: ঠান্ডার জন্য, ফুসফুসের নানা সমস্যায় বাসক পাতার রস ফুটিয়ে সেই রস বা পানি খাওয়ানো হয়। শ্বাসনালীর সমস্যায় লালাগ্রন্থিকে বাসকের রস সক্রিয় করে বলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে। তবে অধিক মাত্রায় খেলে বমি ভাব হতে পারে।

অর্জুন: এই গাছের মূল, ছাল, কাণ্ড, পাতা, ফল ও ফুল ওষধি হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হৃদরোগ, বুকে ব্যথার জন্য অর্জুনের ছাল গুড়ো করে খেয়ে থাকে। অর্জুনের গুড়ো বাসক পাতার সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বলে মনে করা হয়। মচকে গেলে বা হাড়ে চিড় ধরলে রসুনের সঙ্গে মিশিয়ে অর্জুনের ছাল বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

জবা: পেট খারাপের জন্য জবা গাছের পাতা ও ফুল গরম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। জন্ডিসের জন্য পাতার জুস খাওয়া হয়। ফুলের রস নারীরা মাসিক ও স্রাবজনিত সমস্যার জন্য খেয়ে থাকেন।

লজ্জাবতী: অনেকে একে লাজুক লতা বা অঞ্জলিকারিকাও বলে থাকেন। এই গাছের শেকড় বেটে গুড়ো করে ডায়রিয়ার জন্য খাওয়া হয়ে থাকে। পাতা ঘা-পাঁচড়া নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। গাছের পাতা ও ফুল বেটে শরীরের ক্ষতের স্থানে ব্যবহার করা হয়। বাতজ্বর বা হাড়ের ব্যথায়ও এই গাছটি বেটে দিলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া আমাশয়, হাত-পায় জলুনির জন্য অনেকে লজ্জাবতী গাছের মিশ্রণ ব্যবহার করেন।

দুর্বা ঘাস: মাঠে, ঘাটে, রাস্তার এই ঘাস অবাধে জন্মালেও অনেকেরই এর ওষধি গুণের কথা জানা নেই। রক্তক্ষরণ, আঘাতজনিত কেটে যাওয়া, চর্ম রোগে এই ঘাসের রস অনেক উপকারী। কোথাও কেটে গেলে এই পাতার রস লাগালে রক্তপাত তাৎক্ষণিক বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

ধুতুরা: এটা অনেকে অ্যাজমার জন্য ব্যবহার করতেন। পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে ধোয়া তৈরি করে সেটা শোকা হতো।

থানকুনি: এটি সম্ভবত বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত একটি ওষধি উদ্ভিদ। খুবই সাধারণ যেকোনো পেটের ওষুধের জন্য থানকুনি পাতা কার্যকরী। এটা পাতা বেটে রস বা ভর্তা করে খাওয়া হয়। এই পাতা হজম শক্তি বাড়ায়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, চুল পড়া কমায়, ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

স্বর্ণলতা: জন্ডিস নিরাময়, তলপেটের ব্যথা কমানো, ও ক্ষত উপশমে এই লতা কাজ করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। লতা সেদ্ধ করে পানি খাওয়া হয়। এই লতার পানি পিত্তনাশক ও কৃমি দমনে সহায়তা করে। ব্যাকটেরিয়া দমনেও এটি সহায়ক। তবে এই পাতার রস অনেক সময় গর্ভপাত, বা প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলেও

শতমূলী: শতমূলী উচ্চমানের ফলিক এসিড ও পটাশিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস। এতে ফাইবার, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি রয়েছে। এটি বন্ধ্যাত্ব নিরাময় ও শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

বিলিম্বি: কামরাঙ্গা গোত্রের একটি ফল হলেও এটি আলাদা ধরণের একটি ফল। এই ফল ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে প্রমাণিত। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ভেতরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। চুলকানি নিরাময়, মাম্পস, চামড়া ফাটা, যৌনরোগ চিকিৎসায় অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এই গাছের ফল ও পাতা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে যাদের কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের জন্য এই ফল বা পাতা ক্ষতিকর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আর কতটা পথ হাঁটলে মিলবে তার সঙ্গিনী

ভারতে ‘সঙ্গিনীর’ খোঁজে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে একটি বাঘ। তবুও তার সঙ্গিনী জোটেনি। আজ বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

ভারতে কোনো বাঘের এতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি একটি রেকর্ড। এখন বাঘটি মহারাষ্ট্রের একটি অভয়ারণ্যে আছে। সেখানে সে একা, একজন সঙ্গিনীর অপেক্ষায় আছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই পুরুষ বাঘটিকে ‘ওয়াকার’ নামে ডাকেন। তার বয়স এখন সাড়ে তিন বছর।

বাঘটি মহারাষ্ট্রের একটি অভয়ারণ্যে ছিল। গত বছরের জুনে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ে সে।

তখন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছিলেন, বাঘটি সম্ভবত শিকার, উপযুক্ত বাসস্থান বা সঙ্গিনীর খোঁজে মহারাষ্ট্রের ওই অভয়ারণ্য থেকে বেরিয়ে পড়েছে।বিজ্ঞাপন

বাঘটির গলায় রেডিও কলার লাগানো ছিল। এই রেডিও কলারের তথ্য অনুযায়ী, ৯ মাসে বাঘটি প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। এই সময়ে সে মহারাষ্ট্রের সাতটি জেলা ও পাশের তেলেঙ্গানা রাজ্য ঘুরেছে।

গত মার্চ মাসে বাঘটি মহারাষ্ট্রের আরেকটি অভয়ারণ্যে বসতি গড়ে। এ বছরের এপ্রিলে তার গলার রেডিও কলার খুলে নেওয়া হয়।

মহারাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ বন কর্মকর্তা নিতিন কাকোদকর বলেন, বাঘটির উপযুক্ত বাসস্থানের সমস্যা নেই। তার শিকারও আছে যথেষ্ট।

বন কর্মকর্তারা বলছেন, বাঘটি এখন মহারাষ্ট্রের যে অভয়ারণ্যে আছে, সেখানে সে-ই একমাত্র বাঘ। তার জন্য এই অভয়ারণ্যে কোনো বাঘিনীকে আনা যায় কি না, তা নিয়ে তাঁরা ভাবছেন। তবে কাজটি সহজ নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সেতুর মুখ বন্ধ করে ভরাট, ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা

জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর মুখ আটকে বালু দিয়ে ভরাট করায় পানিনিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার খৈয়াগাঁওয়ে একটি সেতুর এক পাশ বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে দুপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আবুল হোসেনের সহযোগিতায় গফুর শেখ নামের এক ব্যক্তি ভরাটের কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সেতুটির দুই পাশের ফসলি জমি স্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর মুখ আটকে বালু দিয়ে ভরাট করায় পানিনিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষিজমিসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সেতুটির উত্তর পাশের মুখ আটকে বালু ভরাট করা হয়। সেখানে ছোট্ট একটি নালা রাখা হয়েছে। পানিনিষ্কাশনের বেশির ভাগ অংশ বন্ধ থাকায় দক্ষিণ পাশের জমিগুলোর পানিনিষ্কাশর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে এখনো পানি আটকে আছে।

জামাল হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, বছরের এ সময় সেতুর দুই পাশে আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ হতো। সেতুর মুখ বন্ধ থাকায় এখনো জমিতে পানি আটকে আছে। আশপাশের আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।বিজ্ঞাপন

সেতুসংলগ্ন এক বাড়ির বাসিন্দা মায়া বেগম বলেন, বালু ভরাটের সময় ভরাটের কাজ বন্ধ রাখতে তাদের বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি। জোর করেই এ কাজ করা হয়েছে।

বালু ভরাটের বিষয়ে গফুর শেখের ছেলে আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, যেখানে বালু ভরাট হচ্ছে, সে জায়গাটি তাঁদের। তাঁরা সেতুর নিচ দিয়ে ছোট নালা রাখবেন। এতে জলাবদ্ধতা হবে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সহযোগিতা করিনি। তবে পানিনিষ্কাশনের জন্য একটু জায়গা রেখে মাটি ভরাটের কথা বলেছিলাম। পরে জলাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখে বালু ভরাট করতে নিষেধ করেছি। তবে তারা কথা শোনেনি।’

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রহিমা আক্তার গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেখতে বলেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর খোঁজ নিতে পারেননি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেয়া দেবনাথ জানান, সেখানে লোক পাঠিয়ে খবর নেওয়া হবে। অবৈধভাবে সেতুর মুখ বন্ধ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com