আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

অন্যান্য

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

ঈদ উল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উৎসব। বাঙালি মুসলিমের কাছে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গাম্ভীর্য ও আনন্দের সাথে যে দিনটি পালিত হয় আমাদের মুসলিমপ্রধান দেশে। ছোটবেলা থেকেই দেখছি বাঙালি ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’-এর জাতি। যেখানে সাম্প্রদায়িকতার বিন্দুমাত্র ছটা পরিলক্ষিত হয়নি। এখনো হয়না। কালের পরিক্রমায় ঈদের উৎসবের রং পাল্টেছে। বেড়েছে এর উৎসবের আকার। বাঙালি মুসলিমের প্রাণের গভীরের যে ঈদ উৎসব তা নতুন বর্ণে আনন্দ বয়ে এনেছে।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এ ধারণাটাই যেন এই উৎসবের মূলে প্রোথিত। আর ক’দিন বাদেই ঈদ উল আযহা। যা আমাদের কাছে কুরবানির ঈদ হিসেবেই বেশি পরিচিত। মহান আল্লাহ্তায়ালার রাহে মুসলিমরা তার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানি দিয়ে থাকেন।

ইতিহাস বলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলায় মুসলিমরা আসে পারস্য অঞ্চল হয়ে। ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান হয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। সারা বছরই নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান লেগে থাকতো পরিবারগুলোতে। তবে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহাই যেন সবকিছুর ওপরে। যেহেতু গ্রামবাংলার মুসলিমরা ছিলো দরিদ্র এবং প্রান্তিক তাই এ দেশে ইসলাম প্রবেশকালে ওই দুটি দিন প্রথমদিকে বড় হয়ে ওঠেনি। কালক্রমে মুসলিমরা যখন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির দেখা পায়, সমাজে একটা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। তখনই ঈদ এই জনপদে পায় সামাজিক মর্যাদা। ভারতবর্ষের নবাব-বাদশাহদের আমলে ঈদ উৎসবে রূপান্তরিত হয়। এই তথ্যগুলো ইতিহাসের পাতা থেকে সংগৃহীত।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশের মুসলিমরা ঈদকে নিয়ে এসেছে জাতীয় উৎসবের কাতারে। যোগ হয়েছে নতুন সাংস্কৃতিক মাত্রা আর নানান নতুন উপাদান। ঈদ এখন আর কেবল মুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। ঈদ ক্রমেই ধর্মীয় থেকে সামাজিক ও জাতীয় গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। হয়ে উঠেছে সর্বজনীন এক উৎসব। ঈদের এই উৎসবে সময়ের সাথে যুক্ত হয়েছে নানান উপাদান। ঈদ ফ্যাশন, পত্র-পত্রিকার ঈদ সংখ্যা, নাটক, মঞ্চানুষ্ঠান এমনকি বেতার-টেলিভিশনে ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিচিত্র সব আয়োজন ঈদকে সর্বজনীন হতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশের বাঙালিদের ঈদ উৎসবের নানা মাত্রা। এ উৎসব গ্রাম ও শহর ভেদে যেমন আলাদা। তেমন পাথর্ক্য সমাজ ভেদেও। তবে উৎসবের মূল উপাদান আনন্দ। যে কোন উৎসবেই মানুষ আনন্দ খোঁজে। আনন্দের মাত্রায় সমাজের সকলেই একই বৃত্তে এসে দাঁড়ালে তা সর্বজনীন হয়ে ওঠে। আর তাই মানুষ যুগ যুগ ধরে চিন্তা করে এসেছে মানুষের চিত্তকে আনন্দিত করে কী? কিসের জন্য মানুষ তার যাপিত জীবনের ক্লেদকে মুছে দাঁড়াতে শেখে? পায় বাঁচার নতুন অনুপ্রেরণা?

গণমাধ্যম এখন ঈদ উদযাপনের একটি বিশেষ জায়গা। যেখানে মানুষ ঈদের দিনগুলোতে খুঁজে পেতে চায় বিনোদন। টেলিভিশন, বেতার, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সিনেমা হল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল- সবাই সাজতে চায় উৎসবে। আর দর্শক বা পাঠক চায় বাড়তি একটু আনন্দ। ঈদের এই অনুষ্ঠানমালা বা লেখালেখি সাজানোর একটা বড় জায়গা জুড়েই থাকে শহরের মানুষ। শহরের মানুষ কী দেখতে বা পড়তে চায়- তা’ই যেন দেখাতে বা পড়াতে উদগ্রীব থাকে প্রকাশক বা টেলিভিশনের স্বত্ত্বাধিকারী। আর বিজ্ঞাপনের বাজারটির কথাও ভুলে গেলে চলবে না।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

ঈদ এলেই সব বিজ্ঞাপনদাতাদের চাই তারকাখচিত অনুষ্ঠান, তারকাদের ফ্যাশন, রান্না ইত্যাদি নিয়ে বহুমাত্রিক আধুনিক প্রকাশনা। তারকা না থাকলে বিজ্ঞাপনদাতা নারাজ থাকে। গণমাধ্যমের যেকোনো শাখা যেমন টিভি, রেডিও বা যা উল্লেখ করলাম একটু আগে- তাদের জন্য মুনাফা আয় করা হয়ে পড়ে কঠিন। এমন অবস্থায় টিভিতে যেখানে আমি কাজ করছি সেই আশির দশকের শুরু থেকে, সেখানে সবসময়ই দেখেছি ঈদ আনন্দে প্রান্তিক ও গ্রামীণ মানুষের বিনোদনের জন্য কিছুই নেই। নেই পত্র-পত্রিকাতেও, অনলাইন বা রেডিওতেও।

কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় গ্রামের সাধারণ মানুষদের ঈদ আনন্দে? এমন একটি প্রশ্ন এবং এক ধরণের দায়বদ্ধতা কাজ করছিল বহু আগ থেকেই। চ্যানেল আইতে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটি শুরুর পর থেকে এ ধারণা আরও বাস্তবতার পথে হাঁটতে থাকে। পরিকল্পনাগুলো ধীরে ধীরে পরিপক্ক হতে থাকে।

২০০৬ সালে, অবশেষে শুরু করি টেলিভিশনে বাংলাদেশের ঈদ বিনোদনে নতুন মাত্রা, কৃষকের ঈদ আনন্দ। যেখানে প্রান্তিক, দরিদ্র, স্বাবলম্বী কৃষকেরা অংশগ্রহণ করে। আর তাদের গ্রামীণ খেলাগুলো স্যাটেলাইটের যুগে পৌঁছে যায় শহরে, নগরে এমনকী পুরো বিশ্বে। বিপুল জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠান শুধু খেলা বা কৃষকের অংশগ্রহণের জন্যই যে জনপ্রিয় হয়েছে তা নয়। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটি মানুষের মন জয় করতে পেরেছে কারণ অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ মানুষ আর তাদের জীবনের নানান গল্পগুলো প্রামাণ্যচিত্রের আকারে খেলার ফাঁকে ফাঁকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

এই ঈদ বিনোদন অনুষ্ঠানে শুধু দেশের কৃষক নয়, বিশ্বের কৃষকরাও সংযুক্ত হয়েছে। উগান্ডার কৃষক, জার্মানির কৃষক, দেশে-বিদেশে ঐতিহাসিক স্থানগুলো থেকে কৃষকের ঈদ আনন্দ হয়ে উঠেছে একটি বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান। যখন ঈদ আনন্দ প্রচারিত হয় চ্যানেল আইয়ে সে সময়ে সর্বাধিক দর্শকের চোখ থাকে টেলিভিশনের পর্দায়। এই অর্জন শুধুমাত্র চ্যানেল আই বা হৃদয়ে মাটি ও মানুষের নয়, এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের মানুষের। ঈদ আনন্দে যদি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রেণী পুরোপুরি বাদ পড়ে যায়, তাহলে বিনোদনের সংজ্ঞা কী দাঁড়ায়? দর্শক তাই মনেপ্রাণে ভালোবেসেছে এই অনুষ্ঠান। একটু বলতে চাই পাঠক, যেমন কোন টেলিভিশনে কৃষি সংবাদের ধারণাটি ছিলো না একসময়।

আমরা প্রথম এরকম শুরু করি। শুরুর দিকে সম্পাদনা পর্ষদ বা কেউই তখন মনে করতেন না কৃষি নিয়ে সংবাদ হতে পারে। পরবর্তীতে টেলিভিশনে কৃষি সংবাদ হয়েছে এবং আমরা তার শুরুটা করেছি দক্ষতার সাথে। চ্যানেল আইয়ের বাইরে অন্যান্য টেলিভিশনও এখন প্রচার করছে কৃষি সংবাদ। আমি মনে করি কৃষকের বিনোদনের বিষয়টিও এখন তাই। পথ দেখাচ্ছে কৃষকের ঈদ আনন্দ। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এগিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে দু’চারটি টেলিভিশন কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুসরণ করে ঈদে এমন বিনোদন অনুষ্ঠান নির্মাণ শুরু করেছে। দর্শক এখন তার ঈদ অনুষ্ঠানের তালিকায় কৃষকের ঈদ আনন্দ-কে স্থান দিয়েছে ভালোবাসার জায়গা থেকে। গ্রাম-গঞ্জ-হাট-বাজার-শহর-নগর-বন্দর সবখানে মানুষই কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানটি দেখার অপেক্ষায় থাকে।

প্রিয় পাঠক, বাঙালি মুসলিমদের ঈদ উদযাপনে সংস্কৃতি একটি জরুরি বিষয়। আর টেলিভিশন সংস্কৃতি এখন মূল্যায়ন হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে, আমাদের টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং এমন গণমাধ্যমে অবশ্যই গ্রামীণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে ঈদ আনন্দে। নইলে, আমরাই পিছিয়ে পড়বো। পৃথিবী জানতে পারবে না বাংলাদেশের গ্রামীণ মানুষগুলোর শ্রমে আর ঘামেই যে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের শক্তিশালী অর্থনীতি। তারাই যে এ জাতির মেরুদন্ড, তারাই যে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আর কনকনে শীতে আমাদের জন্য ফলিয়ে চলেছে সোনার ফসল।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এবং দেশের মানুষের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করতে চাই, বিনোদনকে বৈষম্যের কাতারে না ফেলে এবং বাণিজ্যের জোয়ারে না ভেসে দেশের সাধারণ মানুষদের আনন্দকে আরও আপন করে নিই, টেলিভিশনে বা পত্র-পত্রিকায় তুলে ধরতে চেষ্টা করি আমাদের গ্রামীণ কৃষ্টি আর ঐতিহ্য, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছি আমরা। যে ভূখণ্ডে একটা সময় কৃষি সংস্কৃতি থেকেই কৃষ্টি এসেছিল; বর্ণাঢ্য একটা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে যে ভূখণ্ড বেড়ে উঠেছে, তা বর্তমান সময়ের তথাকথিত আধুনিকতার গড্ডালিকা প্রবাহে যেন হারিয়ে না যায় তাও খেয়াল রাখতে হবে আমাদের।

ঈদ আনন্দ তাই কখনোই কোথাও বৈষম্যের শিকার হতে পারে না। আমি তাই মনে করি, আসুন যে দেশে ১১ কোটি মানুষের বসবাস গ্রামাঞ্চলে, এই ঈদের সময়ে এবং ঈদ সংস্কৃতির নতুন জোয়ারে, গণমাধ্যমেও যেন আমরা জায়গা করে দিতে পারি এই সব মানুষদের। ঈদ আনন্দে জয় হোক বাংলার মেহনতি মানুষের যাদের সারা বছরের কঠিন শ্রম আর কষ্টের ভেতর, কিছুটা হলেও বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমাদের।

অন্যান্য

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মাল্টা ও কমলা চাষে সাফল্য

লেখক

প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় দুলছে মালটা, কমলা, বাদামি লেবু এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ মাল্টা বাগান দেখতে আসছেন। এমনই দৃশ্য দেখা গেছে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ করনাইট নতুন বাড়ি গ্রামের কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল সহ ঐ এলাকার কয়েকটি বাগানে।
জানা যায়, ২০১৪ সালে কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল সর্বপ্রথম ২টি কমলা গাছ লাগান। এতে তেমন কোন ফলাফল না পাওয়ায় তিনি ২০১৫ সালে রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ শুরু করেন। সে সময় রাণীশংকৈল সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট চলছিল। আগ্রহ দেখে কৃষি বিভাগ তাকে মাল্টা-কমলা চাষের প্রশিক্ষণ শেষে বারি মাল্টা-১ জাতের ৮০টি, ৬টি কমলা লেবু, ১২টি কলম্ব লেবু, ১০টি বাতাবি লেবু চারা দেয়। পরে তিনি চারাগুলো বাড়ির পেছনের চল্লিশ শতক জমিতে রোপণ করেন। গাছ লাগানোর ৩ বছরের মধ্যে তার বাগানের তিন চতুর্থাংশ থোকায় থোকায় মাল্টা, কমলা এবং লেবু ধরতে শুরু করে।


২০১৯ সালে তার বাগান থেকে প্রথম ১২ হাজার টাকা আয় করেন। পরের বছরে ২০২০ সালে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের বছর ৭৫ হাজার টাকার মাল্টা, কমলা এবং লেবু বিক্রয় করে এ ফল চাষাবাদে ব্যাপক আশাবাদী ও উদ্বুদ্ধ হন। তবে এবছর সব খরচ বাদ দিয়ে ৯০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে ধারণা করেছেন।
কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল জানান, বাণিজ্যকভাবে চাষের পরিকল্পনা থাকলেও তা প্রশিক্ষণ ও কৃষি বিভাগের সহায়তা ছাড়া সম্ভব ছিল না। প্রথমে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও এখন তা ব্যাপকভাবে চাষের পরিকল্পনা নিয়ে কমলা, মাল্টা ও বাতাবি লেবুর বাগান করে চাষ করছি। ফলন যেমন ভালো হচ্ছে,তেমনি আশানুরুপ লাভও হচ্ছে। আমার দেখে এখন এ এলাকার অনেক কৃষক ও বেকার যুবকরাও এ বাগান করার উদ্যাগে নিয়েছেন। যা দেখেই ভালো লাগছে।


তিনি আরো জানান,ফলের স্বাদ ঠিক অন্যান্য অঞ্চলের ফল গুলোর মতই সুস্বাদু ও রসালো। উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে তিনি এ ফল গুলোর চাষাবাদ করে যাচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে সর্বোপরি সব ধরনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একদিন তিনি টিভিতে ড্রাগন চাষ দেখে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। পরে তিনি ৮টি ড্রাগন গাছ লাগান এতেও তিনি আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সরেজমিন গিয়ে কথা হয় একই ইউনিয়নের কুমরগঞ্জ গ্রামের আরেক মাল্টা চাষি শিক্ষক সাদেকুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান শিক্ষকতার পাশাপাশি ৬ বিঘা জমিতে তিনি মাল্টা চাষ করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে। প্রতি বিঘা জমিতে ১ শত করে মাল্টা গাছ রোণন করেছেন। প্রতিটি গাছের ২বছর ৮মাস বয়স হয়েছে। তার ২ একর জমিতে এবার ৫০ মণের অধিক মাল্টা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। এবারই প্রথম পর্যায়ে তিনি দেড় লক্ষ টাকার মত বাগানের মাল্টা বিক্রি করবেন বলে আশা করেছেন। উৎপাদিত ফল জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পাঠানো হচ্ছে দেশের অন্যান্য স্থানেও বলে জানান তিনি ।
অপরদিকে তার মাল্টার পাশাপাশি প্রায় এক একর জমিতে ২০০ টি কমলালেবু ও ১০০ টি ড্রাগন গাছও রয়েছে। যা থেকে পরবর্তীতে বাগান পরিচর্যার মাধ্যমে আরও বেশি সাফল্যের আশা করছেন।
লাভজনক হওয়ার কারণে দিন দিন মাল্টার চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নেকমরদ ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সভাপতি রাফসান জানি সানি বলেন, শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম ও পার্শবর্তী এলাকা করনাইট গ্রামের কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল চাচার মাল্টা, কমলা ও ড্রাগন চাষ করে আমাদের এসব চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তাদের এ সফলতা দেখে আমরাও এমন ফল চাষের চিন্তা ভাবনা করছি।


রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় নতুন পুরাতন বাগান মিলে ১৬ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। অনেকে আগ্রহী হয়ে মাল্টা বাগানের কাজ শুরু করেছেন। জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ মাল্টা বাজারজাত করা হচ্ছে।
রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ জানান, আবহাওয়া ও মাটি চাষের উপযোগী হওয়ার কারণে ভালো ফলনও পাচ্ছেন চাষিরা। মার্চ-এপ্রিল মাসে বারি মাল্টা-১ গাছে ফুল আসে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল পাকে। ৫-৬টা মাল্টা ওজনে এক কেজি হয়।
তিনি আরো বলেন আমরা সাইট্রাস প্রজেক্টর আওতায় আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। মাল্টা বা লেবু জাতীয় ফল অল্প খরচে চাষিরা বেশি লাভবান হয়। কৃষকেরা যেভাবে মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন এক সময় রানীশংকৈলের মাল্টা চাষিরা দেশের অর্থনৈতিক বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

বন্যায় কৃষিতে ক্ষতি ৩১ কোটি টাকা

চলতি মৌসুমে পক্ষকালব্যাপী বন্যায় কুড়িগ্রামে শুধু কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৯ কৃষক। এ ছাড়াও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্য বিভাগের ক্ষতি হয়েছে ৭৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২২৬ মাছ চাষি। পুকুর ডুবে গেছে ২৯১টি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২১ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রোপা আমনের। জেলায় এবার ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত ছিল। ফলে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর রোপা আমন এবং আংশিক ক্ষতির পরিমাণ ২৫ হাজার ৪০০ হেক্টর। অসময়ে বন্যার কারণে শাক-সবজিচাষি কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, এবার জলমগ্ন হওয়া ১ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির সবজির মধ্যে ৬১ হেক্টরের শাকসবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়। অপরদিকে ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা পচে সম্পূর্ণ চাষের অনুপযোগী হয়ে যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, চলতি বন্যায় ৪৪ দশমিক ৬০ হেক্টর আয়তনের ২৯১টি পুকুর প্লাবিত হয়ে ৬৪ দশমিক ৬০ মে টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬২ মাছ চাষি। টাকার অংকে মোট ক্ষতি হয়েছে ৭৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার জানান, এবারের বন্যায় গো-চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গবাদি পশুর জন্য কিছুটা সমস্যা হয়েছে; বিশেষ করে সদর, চিলমারী ও নাগেশ্বরীতে এই ক্ষতি বেশি হয়েছে। সরকার ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে ৩১ লাখ ৪২ হাজার টাকার গো-খাদ্য প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২০ অক্টোবর

২০ অক্টোবর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। গতকাল ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সভাপতিত্বে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সন্ধ্যায় এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের আকাশে আজ (বৃহস্পতিবার) কোথাও ১৪৪৩ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৮ অক্টোবর শুক্রবার (আজ) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ৯ অক্টোবর থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা করা হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি, ২০ অক্টোবর বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

স্টেভিয়া চাষ করুন দেশের মাটিতেই

স্টেভিয়া চাষ করুন দেশের মাটিতেই

বকুল হাসান খান
চিনির চেয়ে ৩০০ গুন বেশি মিষ্টি। শুনে আশ্চার্য হওয়ার কিছু নেই। গাছটির নাম স্টেভিয়া। বলা যেতে পারে মধুগাছ কিংবা মিষ্টিগাছ। গাছটির আদিবাস প্যারাগুয়েতে। পরে আমেরিকা, চীন, কানাডা, কোরিয়া, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড মেক্সিকোসহ আরো অনেক দেশে চাষ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে সম্প্রতি ব্র্যাক নার্সারী গাজীপুরে বানিজ্যিকভাবে চাষের জন্য টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন শুরু করেছে। সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস প্রতিরোধক ও চিনির বিকল্প হিসেবে স্টেভিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে।

চিনির চেয়ে ৩০০ গুন বেশি মিষ্টি: পাতা সবুজ অবস্থাতেই চিনির চেয়ে ৩০০ গুন বেশি মিষ্টি। পাতা শুকিয়ে প্রসেস করলে মিষ্টির পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। স্টেভিয়া ইংরেজি নাম। বৈজ্ঞানিক নাম ংঃবারধ ৎবনধঁফরহধ এটি পড়সঢ়ড়ংরঃব পরিবারের উদ্ভিদ। এর মধ্যে কোন ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেড নেই। যার কারনে ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা অনায়াসে খেতে পারেন। এছাড়া ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ, উচ্চরক্তচাপ প্রতিরোধসহ ত্বকের ক্ষত নিরাময় করে।

জমি: দোঁয়াশ ও বেলে দোঁয়াশ মাটিতে সবচেয়ে ভাল হয়। পানি জমে না এমন জমিতে চাষ করতে হবে। শুধুমাত্র এটেল মাটিতে চাষ না করাই ভালো।

জমি তৈরি: অন্যান্য ফসলের মত ৪/৫ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও জমি সমান করে নিতে হবে।

বীজ/ চারা/ কলম রোপণ: স্টেভিয়ার বীজ ৭-৮ দিন গ্রীণ হাউসে রেখে গজিয়ে তারপর রোপণ করাই ভালো। টিস্যু কালচার চারা দিয়ে চাষ করা যায়। ব্র্যাক নার্সারী গাজীপুর বা আপনার নিকটের বিস্থস্ত কোন নার্সারী থেকে চারা কিনে চাষ করতে পারেন । তাছাড়া গাছের কাটিং বা শাখা কলম থেকে চাষ করা যায়। প্রতিশতকে প্রায় ৫০০ টি চারা লাগে। চারা থেকে চারার দুরত্ব ৬-৭ ইঞ্চি এবং লাইন থেকে লাইনের দুরত্ব ১৮-২০ ইঞ্চি হলে ভাল হয়।

সার: স্টেভিয়ার সারের চাহিদা তুলনামুলক কম। তারপরও মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনমতো সার দিতে হবে। গোবর ও খৈল পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে। তবে অনুমোদিত গড় মাত্রা হলো বিঘাপ্রতি ইউরিয়া-৩ কেজি, টিএসপি-৬ কেজি, এমপি- ৬ কেজি সারসহ অন্যান্য সার দিতে হবে।

সেচ ও নিকাশ: রোপন করার পর স্টেভিয়া ক্ষেতে বার বার সেচ দিতে হবে। শুকনো মৌসুমে একদিন পর পর সেচ দিতে হবে। গাছের কান্ডের অগ্রভাগ শুকিয়ে গেলে সেচের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। আপনাকে সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পানি জমে না থাকে । পানি জমার সাথে সাথে নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

আগাছা পরিস্কার: স্টেভিয়া ক্ষেতে আগাছা হলে তা নিড়ানী দিয়ে তুলে ফেলতে হবে। সবসময় লক্ষ্য পরিস্কার – পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

রোগ-বালাই: সেপ্টেরিকা ও স্কোরোশিয়ানা এ দুটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়ে থাকে। পেকামাকড়ের মধ্যে কাটওয়ার্ম এর আক্রমণ বেশি দেখা যায়। এরজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারনে।

অন্যান্য পরিচর্যা: কোন কারণে চারা মরে গেলে নতুন চারা রোপণ করতে হবে। যেকোন রোগ বারাই দেখা দিলে সাথে সাথে দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। বেশি শাখা হলে ছাটাই করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

পাতার কাজ: বিজ্ঞানীদের মতে, উচ্চরক্তচাপ ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। যকৃত ও প্লীহায় পুষ্টি সরবরাহ করে। ত্বকের ও দাঁতের ক্ষয়রোধসহ খাদ্য হজমে সহায়তা করে। চিনির বিকল্প হিসেবে সবাই খেতে পারেন। সম্পুর্ণ নিরাপদ। পাতা সবুজ ও শুকনো চিবিয়ে কিংবা চায়ের সংগে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে বোতলে সংরক্ষণ করা যায়। অনেকে পানের সঙ্গে মিষ্টি জর্দ্দার পরিবর্তে স্টেভিয়া গুড়ো করে ব্যবহার করেন।


বর্তমানে আমাদের দেশে স্টেভিয়ার চাহিদা বাড়ছে। তবে বিদেশে এর অনেক বড় বাজার রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এক একরে স্টেভিয়া চাষ করে বছরে ৪-৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

জেনে নিন কাঁকড়া চাষের অভিনব পদ্ধতি

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দেশের রপ্তানিকৃত মৎস্য সম্পদের মধ্যে চিংড়ির পরেই কাঁকড়ার স্থান। আমাদের দেশে বর্তমানে উৎপাদিত কাঁকড়ার পরিমাণ সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব না হলেও কাঁকড়া রপ্তানি থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৫ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। প্রজাতিভিত্তিক মিঠা ও লোনা পানির উভয় পরিবেশে কাঁকড়া বেঁচে থাকে। মিঠা পানির কাঁকড়া আকারে ছোট এবং লোনা পানির কাঁকড়া আকারে বেশ বড় হয়।কাঁকড়া চাষের অনেক সুবিধা আছে -কাঁকড়ার দ্রুত বংশ বিস্তার ঘটে। কাঁকড়া চাষে পরিশ্রম কম। অল্প উৎপাদন ব্যয়ে অধিক অর্থ আয় করা যায়।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলী জমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে দিন দিন কৃষকের আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। লবণাক্ত পানিতে কাঁকড়া চাষ করে এই সংকট অনেকাংশে কাটিয়ে উঠা সম্ভব এবং কাঁকড়া চাষ উপকূলীয় অঞ্চলে হতে পারে গরীব মানুষের বিকল্প আয়ের উৎস।

কাঁকড়ার চাষ(Crab farming) –

বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়ার চাষ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। অনেকে কাঁকড়ার চাষ করে তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন।  দেশে দুই ধরণের কাঁকড়া পাওয়া যায়। একটি লোনাপানির আর একটি মিঠা পানির।  লোনা পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ যত বেশি হয়, কাঁকড়ার উৎপাদনও  তত বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল, বিস্তৃত চিংড়ি ঘের ও সুন্দরবনের গোটা বনাঞ্চলে প্রচুর লোনা পানির কাঁকড়া পাওয়া যায়। কাঁকড়ার গড় আয়ু এক থেকে দেড় বছর।  চিংড়ি ঘেরের  ৯০ শতাংশ কাঁকড়াই  সংগ্রহ করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়া কাঁকড়ার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আহরণ করা সম্ভব। দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ জেলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।

কাঁকড়া চাষের পদ্ধতি –

বেসরকারি  উন্নয়ন সংস্থা  কেয়ারের তথ্য মতে, কেবল সুন্দরবন এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার জেলে কাঁকড়া ধরে সংসার চালায়। কাঁকড়া চাষিরা জানান, বছরের ডিসেম্বর  থেকে ফেব্রুয়ারি এবং জুন থেকে জুলাই হচ্ছে কাঁকড়ার প্রজনন কাল।

এ সময় গভীর সমুদ্রে ও সুন্দর বনের মধ্যে ডিম থেকে কাঁকড়ার জন্ম হয়। এসব পোনা  পানিতে ভেসে ভেসে নদ-নদী, খাল-বিল ও মাছের ঘেরে আশ্রয় নিয়ে বড় হয়।  প্রজননের সময় উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দর বনের  বিস্তৃত এলাকায় জলাশয় ও তীরে প্রচুর কাঁকড়ার পোনা চোখে পড়ে। বিভিন্ন পদ্ধতি কাঁকড়া চাষ করা যেতে পারে  যেমন- প্রথম পদ্ধতিতে ছোট ছোট পুকুরে রেখে কাঁকড়া মোটাতাজা করা হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বড়বড় ঘেরে বা চৌবাচ্চায় চিংড়ির সাথে কাঁকড়ার চাষ করা হয়।

আর তৃতীয় পদ্ধতিতে উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচায় আটকে রেখে কাঁকড়া চাষ করা হয়। খামারে কাঁকড়ার খাবার হিসেবে ছোট মাছ, কুঁচে, শামুকের মাংস দেওয়া হয়। এসব খাবার চাষিরা ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি  দরে কিনে থাকেন। মংলা এলাকার একজন চাষি জানান, প্রায় সারা বছরই কাঁকড়ার চাষ করা হয়। রপ্তানি উপযোগী প্রতিটি কাঁকড়ার গড় ওজন হয় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম।  এসব কাঁকড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। কোনো কোনো সময় এক কেজি কাঁকড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকাতেও বিক্রি করা হয়। বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েক হাজার কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। দুই থেকে আড়াই মাস বয়সের কাঁকড়া ঘেরে ছাড়ার পর ২০ থেকে ২৫ দিনেই তা বিক্রির উপযোগি হয়।

বিদেশে কাঁকড়ার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, তাইওয়ান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ও  থাইল্যান্ডে। ২০০৫-২০০৫ অর্থ বছরে শুধু পাইকগাছা থেকে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কাঁকড়া রপ্তানি করা হয়, যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে এই রপ্তানি  বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টনে। গত বছর সারা দক্ষিণাঞ্চল থেকে ৭০ কোটি টাকার কাঁকড়া রপ্তানি করা হয়েছে।

প্রতিবছরই বাড়ছে কাঁকড়া রপ্তানির পরিমাণ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। দেশে মোট ১৫ প্রজাতির কাঁকড়া উৎপাদিত হয়।  এর মধ্যে ১১ প্রজাতির সামুদ্রিক কাঁকড়া রয়েছে। শীলা এবং সাঁতারো কাঁকড়া বিদেশে বেশি রপ্তানি হয়। জীবন্ত ও হিমায়িত দু’ভাবেই কাঁকড়া রপ্তানি হয়।  রপ্তানিকৃত কাঁকড়ার  মধ্যে ৯২ শতাংশই যায় চীনে। 

কাঁকড়া চাষে সম্পৃক্ত  হয়ে অনেক তরুণ যুবক  নতুন আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছে। এতে করে বেকারত্ব কমছে। বাড়ছে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন। ভারত ছাড়াও থাইল্যান্ড, মায়ানমার  বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক পতিত জায়গা আছে।  এসব জায়গায় অনায়াসে কাঁকড়ার খামার গড়ে তোলা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করা হলে কাঁকড়া উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সেইসাথে রপ্তানি আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

কাঁকড়া রপ্তানিকারকগণ  বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কাঁকড়া রপ্তানিতে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র লাগে। এই অনাপত্তি পত্র পেতে রপ্তানিকারকদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া কাঁকড়া আহরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয় রপ্তানিকারকদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com