আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

কৃষকবান্ধব বজ্রপাত সুরক্ষা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ উপন্যাসের হারু ঘোষের কথা হয়তো মনে আছে আপনাদের। সেই যে হারু বটগাছে হেলান দিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়ে নিথর দাঁড়িয়ে ছিল। সে যদি বটগাছের গোড়ায় না দাঁড়িয়ে, ১০-১২ ফুট দূরে দাঁড়াত তাহলে হয়তো বজ্রপাতে মৃত্যু হতো না। ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতেই হারু গাছটির নিচে দাঁড়িয়েছিল। অনেকেই না জেনে ঝড়-বৃষ্টির সময় আশপাশে বাড়িঘর না পেলে বড় গাছের গুঁড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু এই আশ্রয় নেওয়াটিই মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৭ এই আট বছরে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০-এর বেশি। এ গবেষণায় প্রথম সারির চারটি দৈনিকে প্রকাশিত বজ্রপাতে মারা যাওয়ার খবরকে একত্র করে দেখানো হয়েছে। আমার ধারণা, বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। বিবিসির দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ২৫ মিলিয়ন বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতে মানুষ মারা যায় ৪০ থেকে ৫০ জন।

আমাদের দেশে প্রতি বছর কীসংখ্যক বজ্রপাত হয় তা রেকর্ড করার কোনো প্রযুক্তি নেই। ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২ হাজার ৪০০-এর মতো বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ২০৫, ২০১৬ সালে ২৪৫, ২০১৫ সালে ১৮৬, ২০১৪ সালে ২১০, ২০১৩ সালে ২৮৫, ২০১২ সালে ৩০১ ও ২০১১ সালে ১৭৯ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন। আর নিহতের শতকরা ৯০ জনই কৃষক ও কৃষিশ্রমিক। যুগ যুগ ধরে বৈরী প্রকৃতি আর প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করা তৃণমূল কৃষকের অনিবার্য নিয়তি। পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাপন অনেক সুরক্ষিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দেশের সাধারণ মানুষেরও জীবনযাপনের ধারা উন্নত হচ্ছে। এসেছে বিত্তবৈভব আর জীবনযাপনের বহুমুখী নিরাপত্তা। জীবনকে সহজ-সাবলীল করার অভিযান চলছে অনবরত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণনাশের হার কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য রকম। এটি সম্ভব হয়েছে সুষ্ঠু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কারণে।

কৃষককে জীবন-জীবিকার তাগিদেই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকতে হয়। প্রকৃতি যখন বিরূপ হয়ে ওঠে সেই শাস্তিও নীরবে ভোগ করতে হয় সরলপ্রাণ কৃষককে। অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েই মানুষের পূর্বপ্রস্তুতির কিছু সুযোগ আছে, কোনো কোনো দুর্যোগে সে সুযোগও নেই। ভূমিকম্প আর বজ্রপাত এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ। বজ্রপাতে এ দেশে গত সাত বছরে মৃত্যুর হিসাবটি আগেই বলেছি, ভারতে এ হিসাবটি অনেক বড়। সেখানে বছরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় প্রায় ২ হাজার মানুষের। সেখানেও বড় একটি অংশ কৃষক। বর্তমানে এ মৃত্যুহার বেড়েই চলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ তালগাছ কমে যাওয়া। আগে বজ্রপাত হলে তা তালগাছ বা অন্য কোনো বড় গাছের ওপর পড়ত। বজ্রপাত এক ধরনের বিদ্যুত্রশ্মি। তাই বজ্রপাতের ওই রশ্মি গাছ হয়ে মাটিতে চলে যেত। এতে মানুষের তেমন ক্ষতি হতো না।

দিন কয়েক আগে ঢাকার ধামরাইয়ের ফরিঙ্গা গ্রামে গিয়েছিলাম। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ওই গ্রামের মানুষের কাছে বজ্রপাত এক আতঙ্ক। শুনলাম এখানে অনেক কৃষকই প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে। প্রাণ হারিয়েছে মাঠে থাকা গবাদি পশুও। কথা হয় পিয়ার আলী নামের এক কৃষকের সঙ্গে। তিনি জানান, তার ভাই ইমান আলীর মৃত্যু হয় বজ্রপাতে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে ইমান আলীসহ চারজন একসঙ্গে একই ছাতার নিচে ছিলেন। তিনজন আহত হলেও মৃত্যু হয় ইমান আলীর। বিষয়টি অনেকের কাছে রহস্যজনক মনে হতে পারে। চারজন একসঙ্গে থাকলে সেখান থেকে একজনের মৃত্যু হয় কীভাবে? কারণটি ব্যাখ্যা করেন স্থানীয় যুবক প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন। তিনি বলেন, ছাতাটি ছিল ইমান আলীর হাতে। ছাতাটির হাতল ছিল ধাতব নির্মিত। আর ইমান আলী ছিলেন খালি পায়ে। যার কারণে বিদ্যুৎ তার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে মৃত্যু হয় ইমান আলীর।

ফরিঙা গ্রামে বজ্রপাতে স্বজন হারিয়েছেন অনেকে

বজ্রপাতে স্বজন হারানোর কষ্ট শুধু পিয়ার আলীর নয়; শামসুল আলম, ইয়াকুব আলী, শরিফুন্নেছাসহ আরও অনেকের। তারা জানালেন বজ্রপাতে মারা যাওয়া স্বজনের মৃতদেহ কবর দেওয়ার পর তাদের পোহাতে হয় আরেক যন্ত্রণা। বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ নাকি চুরি হয়ে যায়। লাশ চুরি ঠেকাতে রীতিমতো রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। কৃষক ও সাধারণ মানুষের এসব দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে শুনতে পৌঁছে যাই বিস্তীর্ণ সবুজ কৃষি খেতে। সেখানে তরুণ প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন ফরিঙ্গা গ্রামে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থাপনার একটি কার্যক্রম শুরু করেছেন। এ নিয়ে চলছে তার নানা গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা। মূলত ফরিঙ্গা গ্রামে গিয়েছিলাম তার কর্মকাণ্ড দেখতে। পাশাপাশি বজ্রপাত বিষয়ে কৃষক কতটুকু সচেতন, এ ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করাও ছিল উদ্দেশ্য। গিয়ে দেখি একদল কৃষকের সামনে বজ্রপাতে প্রাণ সুরক্ষার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে এই পর্যবেক্ষণ বা ব্যবহারিক কিছু বিষয় জানা-বোঝার আয়োজন করেছেন তরুণ প্রকৌশলনী মো. মনির হোসেন। তিনি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বজ্রপাতের বিষয়টি কৃষকদের মধ্যে তুলে ধরেন। বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষক যখন কাজ করেন তখন সাধারণত সেখানে কৃষকই থাকেন সবচেয়ে বেশি উচ্চতার (যদি আশপাশে তার উচ্চতা থেকে বড় কোনো গাছ-গাছালি বা ঘরবাড়ির কাঠামো না থাকে); আর কৃষকের হাতে থাকে কাস্তে বা ধাতব যন্ত্রপাতি। এ কারণে কৃষক বজ্রপাতে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। বজ্রপাত থেকে কৃষককে সুরক্ষা দিতে মনির হোসেন নিজেই বজ্রপাত নিরোধক একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। ৩০ ফুট লম্বা বাঁশের ওপর লোহার দণ্ড বা পাত স্থাপন করে তার ওপর একটি সিলভারের থালা বা ঢাকনার মতো কিছু একটা বসিয়েছেন। সেখান থেকে একটি অ্যালুমিনিয়াম তার সংযোগ হিসেবে টেনে এনে মাটিতে একটি রডের সঙ্গে পুঁতে দিয়েছেন। অর্থাৎ আর্থিং করে দেওয়া হয়েছে।

মনির জানালেন তারটি তামার হলে ভালো হতো। কিন্তু তামার তারের দাম বেশি আর এটি চুরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অ্যালুমিনিয়ামের তার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। ৩০ ফুট লম্বা বাঁশের এই আর্থিং সংযোগ ৩০ ফুট এলাকার মধ্যে অবস্থানকারীদের বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী মনির হোসেন। প্রকৌশলী মনির তার স্থাপিত আর্থিং ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা তা বিদু্যুৎ সুরক্ষার মাত্রা মেপে দেখালেন। জানালেন, ১০ ওহমের নিচে আর্থিং হলেই কৃষক নিরাপদ। কৃষক মাঠের যেখানে কাজ করবেন সেখানে কাজ শেষ করে অন্য যেখানে কাজ করবেন সেখানে এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেতে পারবেন। এলাকার কৃষকসহ জনসাধারণের কাছে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার এ বিষয়গুলো বেশ গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। তারাও মাঠে অনায়াসেই এমন আয়োজন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার প্রাথমিক উদ্যোগ

প্রকৌশলী মনির হোসেনের বজ্রনিরোধক এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলি অ্যাকশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়ার কনসালট্যান্ট ড. মো. শামীম হাসান ভূঁইয়ার সঙ্গে। তাকে মনির হোসেনের প্রজেক্টের কার্যক্রমের ভিডিওচিত্র সবিস্তার দেখাই। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। সাধারণ কৃষকের কথা ভেবে মনির হোসেন যে এ রকম একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন এজন্য সাধুবাদ জানান শামীম হাসান। তিনি বলেন, একটু পরিমার্জন করলে মনির হোসেনের ব্যবস্থাপনাটি কিছুটা কাজে আসবে। তবে কৃষকের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, বিজলির সময় গুনে বোঝা যায় বজ্রপাত কৃষকের দিকে আসছে কিনা। প্রথম বিজলি থেকে পরবর্তী বিজলির সময় যদি ক্রমেই কমতে থাকে তবে বুঝতে হবে বজ্রপাত ক্রমে কৃষকের দিকেই ধেয়ে আসছে। তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় কাঠ বা প্লাস্টিকের টোল সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত। বজ্রপাতের সময় সেই কাঠ বা প্লাস্টিকের টোলে নিচু হয়ে বসতে হবে। পায়ে রাবারের জুতা থাকাটা নিরাপদ। আর যদি প্রথম বিজলি থেকে পরবর্তী বিজলির সময় ক্রমে বাড়তে থাকে তবে বুঝতে হবে বজ্রপাত ক্রমে কৃষকের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে। মনির হোসেনের এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গেও।

তিনি বলেন, মনির হোসেনের এ উদ্যোগ অনেকটাই বিজ্ঞানসম্মত। তবে এ দিয়ে পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। তিনিও কৃষককে বজ্রপাতের বিষয়ে সচেতন হতে বলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ৩০ঃ৩০ ফরমুলার কথা উল্লেখ করেন। বিজলি দেখার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যদি শব্দ শোনা যায় তবে বুঝতে হবে কাছে কোথাও বজ্রপাত হচ্ছে। তখন অবশ্যই কৃষককে নিরাপদ ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে এবং শেষ বজ্রের শব্দের পর থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত তাকে নিরাপদ আশ্রয়েই অবস্থান করতে হবে। বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিলে অবশ্যই গাছের গোড়া থেকে ১০-১২ ফুট দূরে অবস্থান করতে হবে।

বজ্রপাতের মতো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামষ্টিকভাবে সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি এখনো পৃথিবীতে আসেনি। বজ্রপাত ক্ষতির কারণ হলেও এর বেশ উপকারী দিকও রয়েছে। বিজ্ঞান বলে, মাটিতে নাইট্রোজেন বা পুরোভাবে প্রোটিনের উৎস হলো বজ্রপাত ও বৃষ্টির দ্বারা তৈরি নাইট্রিক অ্যাসিড। বহু জীববিজ্ঞানীর মতে, প্রথম প্রোটোপ্লাজম সৃষ্টির পেছনেও রয়েছে বজ্রপাতের অবদান। তাই বজ্রপাতের আশীর্বাদটুকু নিতে আমাদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা পাওয়ার কৌশলগুলো শিখিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে ফাঁকা মাঠে কাজ করা কৃষকের জন্য বজ্রপাত দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে অবশ্যই জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ ছয় মাস আকাশে মেঘের অবস্থা বুঝে কৃষকের উচিত হবে আবাদি খেতে কাজ করার আগে বজ্রপাত সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা।

একটু সচেতন হলেই বৈরী আবহাওয়ায়ও প্রাণহানির মতো ঝুঁকি কৃষক অনেকটাই এড়াতে পারবেন। বজ্রপাত সুরক্ষার জন্য সামগ্রিকভাবে কার্যকর একটি সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা উচিত সংশ্লিষ্টদের। এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রকৌশলীর প্রাথমিক উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। তবে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে কৃষকের জন্য সহজ হয় এমন একটি পদ্ধতি বাতলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিনিয়তই জলবায়ু পাল্টে যাওয়া এই সময়ে যতটা সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রত্যেক কৃষকের দায়িত্ব।

এগ্রোটেক

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

দ্রুত বাঁশের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল হয়েছেন গাইবান্ধার কৃষি গবেষক মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। এখন পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিতে এ কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। ১টি বাঁশ থেকে কাটিং করে ৪০-৫০টি বাঁশঝাড় করার স্বপ্ন অবশেষে সফল হলো।

এখন দেশে বাঁশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করাও সম্ভব। তবে এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে সরকারের শুভদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। সচেতন মহল তার এ উদ্ভাবনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান। এ সফলতার পর তিনি গাইবান্ধার মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন করা সম্ভব কি-না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।

তিস্তা নদী বেষ্টিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। উপজেলায় আছে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা। এ চাহিদা কাজে লাগাতে গিয়ে সুন্দরগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বাপ-দাদার শেখানো আদি পদ্ধতিতে শিকড়সহ বাঁশের মোতা বা চারা থেকে বাঁশ চাষ করার চেষ্টা করেন। কয়েক মাসেও সফল হতে পারেননি। কিছুদিন পর বিভিন্ন সূত্রে জানার পর নজরুল ইসলামের পরামর্শে একসাথে ১২ বিঘা জমিতে বাঁশ চাষ শুরু করেন।

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল
বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উল্ল্যা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। যখন তার দাদার দাফন-কাফনে বাঁশের প্রয়োজন হয়; তখন পাড়া-পড়শির কাছে যেতে হয়। তখন থেকে বাঁশের দ্রুত বংশ বিস্তার নিয়ে চিন্তা করেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ছাত্রজীবনে শুরু করেন বাঁশের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা। কৃষিতে ডিপ্লোমা করে কর্মজীবনে সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন।

দীর্ঘ ১২ বছর গবেষণার পর উদ্ভাবন করেছেন কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ। এ পদ্ধতিতে একটি বাঁশ থেকে ৪০-৬০টির বেশি বাঁশঝাড় করা সম্ভব। ইতোমধ্যে সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এ পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত জমিতে বাঁশ চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনাবাদী জমিতে বাঁশ চাষ করে ৫-৬ বছর পর থেকেই বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছে চাষিরা।

শুধু গাইবান্ধায় নয়- নওগা, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেটসহ অনেক জেলায় বাঁশ চাষের মাধ্যমে সফলতা এনেছেন। ফলে দেশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরির মালিকরা এখন বাঁশ চাষে আগ্রহী হয়ে ছুটছেন তার কাছে। স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার, ইন্টারন্যাশনাল রোটারি ক্লাব পুরস্কারসহ জেলা-উপজেলার অসংখ্য পুরস্কার।

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল
বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

সুন্দরগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী খুশরিদ জাহান স্মৃতি বলেন, ‘নজরুল ইসলামের পরামর্শে বাঁশের কাটিং দিয়ে খুব কম খরচে একসাথে ১২ বিঘা জমিতে বাঁশ চাষ করেছি। প্রথমে অনেকটা হতাশা থাকলেও এখন বাঁশঝাড় দেখে মনে শান্তি পাই। এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করলে দ্রুত শত শত বাঁশঝাড় করা সম্ভব।

বাঁশের চারা সংগ্রহ করতে লালমনির হাট থেকে আসা মিরাজ হোসাইন বলেন, ‘ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে জানতে পারি বাঁশের বংশ বিস্তারে নজরুল ইসলামের উদ্ভাবনের কথা। আমরা তার কাছ থেকে বাঁশের চারা সংগ্রহ করতে এসেছি।’

সাঘাটার বাঁশহাটা গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন সরকার জানান, যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে পরিত্যক্ত তিন বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে এখন বছরে কয়েক লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করছেন।

বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল
বাঁশ নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

উদ্ভাবক মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি গাইবান্ধার মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন নিয়ে এখন গবেষণা করছেন। এছাড়া সৌদি আরবের খেজুর গাছ নিয়েও চিন্তা আছে। তিনি সৌদি থেকে উন্নত বারোমাসি খেজুরের চারা সংগ্রহ করে নতুনভাবে গবেষণা করেছেন বলে জানান।

সাঘাটা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, ‘গাইবান্ধায় এ পদ্ধতিতে ব্যাপক বাঁশ চাষ করে নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা সম্ভব। তার বিভিন্ন গবেষণায় আমরা মুগ্ধ। এ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন গবেষণা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

লেখক ও সাংবাদিক গোবিন্দলাল দাশ জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু বাঁশের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা নয় বরং দেশকে তিনি জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। মুক্তিযুদ্ধেও নজরুল ইসলামের অবদান আছে। তার এ প্রতিভা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

খাদ্য উৎপাদন এবং টেকসই কৃষি যান্ত্রিকীকরণে করণীয়

ড. মো. আনোয়ার হোসেন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে খাদ্যশস্য ও ধানের উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-২ তে উল্লেখ আছে ক্ষুধা থেকে মুক্তি, খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান, পুষ্টির মানোন্নয়ন এবং কৃষি ক্ষেত্রে টেকসই কর্মপদ্ধতির বিকাশ সাধন। বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে নানাবিধ উপায়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যার সঙ্গে পুষ্টি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতিগত কারণে প্রতি বছর দেশে ০.৪৩ ভাগ হারে কৃষিজমি হ্রাস পেলেও দেশে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে চালের উৎপাদন।

কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চাল উৎপাদন বাড়ছে বাংলাদেশে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস বলছে, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) উৎপাদন ৩ কোটি ৬০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চীন ও ভারতের পরই তৃতীয় স্থানটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার। তবে এবার ইন্দোনেশিয়াকে সরিয়ে সেই অবস্থানে উঠে আসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৯টি লক্ষ্যের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, সুষম খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে কৃষির টেকসই উন্নয়ন সম্পৃক্ত। এই অবস্থায় টেকসই উন্নয়নের জন্য গতিশীল কৃষির অবশ্যই প্রয়োজন আছে। আবার কৃষি এখনও ৪২.৭ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োজনের একটি নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র। জমির স্বল্পতার কারণে প্রান্তিক ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে। তারাই এখন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার একমাত্র ভরসাস্থল যারা একখণ্ড জমিকে আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে। তাদের জমিতে যথাযথ প্রযুক্তির উপস্থিতি ঘটালে এবং কর্মসংস্থান বাড়ালে তা টেকসই কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্যবান্ধব হবে। তার জন্য প্রয়োজন টেকসই কৃষি যান্ত্রিকীকরণ।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বলতে কৃষিক্ষেত্রে উৎদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কৃষি সরঞ্জাম, হস্ত ও শক্তিচালিত যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি শ্রমিকের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিকে বুঝায়। সাম্প্রতিক সময়ে, প্রচলিত শ্রমিকের মাধ্যমে পরিচালিত অনেক কৃষিকাজ শক্তিচালিত কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। কৃষিকাজের আধুনিকীকরণ কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে যা কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ চারা রোপণ, পরিচর্যা, ফসল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে উপেক্ষিত হয়েছে।

ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত সকল প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ইনপুটের কার্যকারিতা এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ভূমিকা অপরিসীম। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ বলতে কেবল কৃষিযন্ত্রপাতি বিকাশের অগ্রগতিকেই বুঝায় না বরং এটি কৃষির পরিবেশ, কৃষির মান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার মতো অনেক বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। এটি সাইট-নির্দিষ্ট এবং গতিশীল যা সময়ের সাথে সাথে কৃষি যন্ত্রপাতির বিকাশ, উদ্ভাবন এবং ব্যবহারের সাথে পরিবর্তিত হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সাথে প্রধানত ট্রাক্টর এবং মেশিনারি সম্পৃক্ত থাকলেও অন্যান্য ইনপুট যেমন উৎপাদন, নির্বাচন, বিতরণ, ব্যবহার, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৃষি কার্যক্রমের সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং তাদের পরিচালনায় বীজ, সার, পানি, কৃষি শ্রমিক এমনকি কৃষি মওসুমও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রশক্তির অভাবে সর্বদা সময়মতো জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, শ্রমিকের কর্মদক্ষতা, শস্যব্যবস্থাপনা, ফসল কর্তন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উপযুক্ত মূল্য সংযোজনের সাথে আপস করতে হয়েছে।

কৃষির যেকোনো ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা দ্বারা বোঝা যায়। কোনো দেশের বা অঞ্চলের কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা উক্ত দেশের বা অঞ্চলের হেক্টর প্রতি শক্তির (কিলোওয়াট) ব্যবহার, প্রতি এক হাজার হেক্টরের জন্য ট্রাক্টরের সংখ্যা এবং ট্রাক্টর প্রতি জমির (হেক্টর) পরিমাণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা প্রত্যাশিত মাত্রায় ত্বরান্বিত হয়েছে। এমনকি গত আড়াই দশকে দেশে কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ৫৮ বছরে কৃষিক্ষেত্রে শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৬০ সালে হেক্টর প্রতি ০.২৪ কিলোওয়াট হতে ২০১৮ সালে হেক্টর প্রতি ১.৮২ কিলোওয়াট হলেও জাপান, ইতালি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো বড় বড় শিল্পায়িত দেশের তুলনায় এখনও অনেক কম।

যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে অনেক কারণ এবং প্রতিবন্ধকতা জড়িত। কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনের সকল পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের অভাব, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নিম্নমান, ডিজাইন, রিভার্স প্রকৌশল ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনশক্তির অভাব, প্রস্তুতকারক পর্যায়ে অত্যাধুনিক মানের যন্ত্রপাতি না থাকা এবং মানসম্পন্ন ও শ্রেণিবদ্ধ উপকরণের অভাব কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন এবং প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক। কোনো একটি অঞ্চলে কৃষিযন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা উক্ত এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, পরিবেশগত কারণ, কৃষি শ্রমিকের প্রাপ্যতা এবং প্রযুক্তিগত উপকরণের ওপর নির্ভর করে।

যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম (প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি প্রদর্শন, প্রয়োজনীয় এবং গুণগত মানসম্পন্ন মেশিনে ভর্তুকি); কার্যকর সংক্ষিপ্ত, মাঝারি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন; গবেষণা ও উন্নয়নে সক্ষমতা জোরদারকরণ; বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মধ্যে কার্যকর যোগসূত্রস্থাপন; বাছাইকৃত কার্যকরী কিছু প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্প চালুকরণ; বাংলাদেশের ৩০টি কৃষি অঞ্চলের আওতায় ৮৮টি কৃষি উপ-অঞ্চলের মাটি, ফসল এবং সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি নির্বাচন, শনাক্তকরণ এবং প্রচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রতীয়মান হয়।

টেকসই ও কার্যকরী কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে প্রতিটি উপ-অঞ্চলে মাটির প্রকার, ভূমির টপোগ্রাফি, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, ফসলের ধরন, গড় ফলন, ফলন সম্ভাবনা এবং সীমাবদ্ধতা; কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য চাহিদা, ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে ফসল উৎপাদন ব্যয়, ফসলের তীব্রতা এবং শ্রমিকের কর্মসংস্থানে অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব এবং খামার যান্ত্রিকীকরণে বর্তমান অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ভবিষৎ চাহিদা, বিপণন, বিক্রয়োত্তর পরিসেবা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা, খুচরা যন্ত্রপাতি স্থানীয়বাজারে সহজলভ্যকরণ ইত্যাদি সঠিকভাবে অধ্যয়নের মাধ্যমে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

টেকসই যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি টেকসই ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকরণে সরকারি কৌশল, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন জিও এবং এনজিওর মধ্যে কার্যকর সংযোগ, অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার র্যাংকিং এবং উন্নত ও গুণগতমান সম্পন্ন কৃষিযন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি, পাশাপাশি কৃষিযন্ত্রপাতি উৎপাদন সক্ষমতাবৃদ্ধি, কৃষকদল গঠন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং সকল পর্যায়ে মানসম্পন্ন খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিতকরণ আবশ্যক। বর্ণিত বহুবিদ পন্থা সঠিকভাবে বিবেচনার মাধ্যমেই কৃষির আধুনিকায়ণ তথা টেকসই যান্ত্রিকীকরণ প্রতিষ্ঠা পাবে বলে বিশ্বাস করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

অ্যাপসের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষক

অ্যাপসের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষক
অ্যাপসের মাধ্যমে ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষক

প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল নিজেরাই সরাসরি সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারে এজন্য তৈরি করা হয়েছে অ্যাপস। প্রান্তিক কৃষকরা যাতে কোনোভাবে ধান ও চাল বিক্রয় করার ক্ষেত্রে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই প্রধানমন্ত্রী এ নতুন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

এখন থেকে কৃষকরা মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ফসল নিজেরাই সরাসরি সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘ডিজিটাল খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও কৃষকের অ্যাপ’ সংক্রান্ত কর্মশালার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে বরিশাল খাদ্য বিভাগ। কর্মশালায় বরিশাল সদর উপজেলা ও ভোলা সদর উজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে শতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা যাতে কোনোভাবে ধান, চাল বিক্রয় করার ক্ষেত্রে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনোভাবেই রাজনৈতিক কিংবা অনৈতিক চাপের মুখে কৃষকের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয় করার ক্ষেত্রে কারও কাছে নতি স্বীকার করতে না হয়।

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রিতে যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হয় এজন্য প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে কৃষকরা মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ফসল নিজেরাই সরাসরি সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এতে করে ধান ও চাল বিক্রয় করার ক্ষেত্রে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন না কৃষকরা। তাই এখন থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে ধান-চাল বিক্রি করার আহ্বান জানান কৃষকদের।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন, বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিদাশ শিকারী ও ভোলা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

সময় বাঁচাবে আর উৎপাদন ব্যয় কমাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

হাতের স্পর্শ ছাড়া চারা রোপণ

যন্ত্রের পেছনের অংশ ‘ট্রে’তে ধানের চারা। চালু হলো যন্ত্র। যন্ত্র চলছে সামনের দিকে, পেছনে সারিবদ্ধভাবে রোপণ হতে থাকল চারা—হাতের স্পর্শ ছাড়াই। এভাবে এক ঘণ্টায় এক একর জমিতে চারা লাগানো হয়ে গেল।

গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের বিরল উপজেলার চকেরহাট এলাকায় এভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়। এ উপলক্ষে সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপণ দেখতে কয়েক শ মানুষ ভিড় করেন জমির পাশে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বেলা ১১টার দিকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চারা রোপণের ওই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এগ্রিপ্লাস লিমিটেড ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের এ কাজে সহযোগিতা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কৃষক ও গ্রামের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কৃষকদের যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। বর্তমানে কৃষি আবাদ করতে যে শ্রম যায়, তাতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কৃষিকে লাভজনক করতে হলে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে জমির আল। এ জন্য সমবায় ভিত্তিতে কৃষকদের জমির আল তুলে দিয়ে চাষাবাদ করার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।’

কর্মসূচির আয়োজকেরা জানান, সাধারণ পদ্ধতিতে বিঘাপ্রতি ধানের চারা উৎপাদন ও রোপণ খরচ বাবদ অনেক খরচ হয়। এর মধ্যে বীজ বাবদ ৩০০, বীজের প্রক্রিয়াকরণে ৪০০, সার, সেচ ও কীটনাশক বাবদ ৪০০, চারা উত্তোলন ও রোপণ খরচ ১ হাজার ৬০০ এবং পরিবহন বাবদ ১০০ টাকাসহ মোট ২ হাজার ৮০০ টাকা দরকার পড়ে। সেখানে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন ও রোপণের ক্ষেত্রে বীজ বাবদ ১৮০, বীজের প্রক্রিয়াকরণে ৪০০, সার, সেচ ও কীটনাশক বাবদ ৪০০, চারা উত্তোলন ও রোপণ খরচ ১৫০ এবং জ্বালানি ৭০ টাকাসহ ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়।

চকেরহাট এলাকায় বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ চাষি মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘এলাকার অনেকের জমি ইজারা নিয়ে প্রায় দেড় শ একর জমিতে ধানের চাষ করছি। প্রতিবছর শ্রমিকের মাধ্যমে চারা রোপণ করতাম। এবার এগ্রিপ্লাস লিমিটেড ও বিএডিসির সহযোগিতায় যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ করছি। সাধারণভাবে চারা লাগানোর সময় গোড়া ভেঙে যায়। কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ করতে গিয়ে, দেখি কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এতে সময় ও অর্থ—দুটোই কম লাগছে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া অঞ্চলে বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক মো. কবিরুল হাসান, দিনাজপুরের যুগ্ম পরিচালক মোশাবের হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল, এগ্রিপ্লাস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সরদার আলী মর্তুজা, ইউএনও জিনাত রহমান প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com