আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

প্রখর রোদে মাঠে কাজ করছিলেন কৃষক। তাদের মাথায় নেই মাথাল। শুধু তাই নয়, অনেক কৃষক কীটনাশক ছিটানোর সময় মাস্ক ব্যবহার করেন না। এমন কৃষক দেখলেই তাদের কাছে ছুটে যান। তাদের মাথায় মাথাল ও মুখে মাস্ক পরিয়ে দেন। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে কৃষকের হাতে তুলে দেন সাবান। এসব তিনি দিয়ে থাকেন বিনা মূল্যে।

এভাবে বছরের পর বছর কৃষকদের রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কাজী আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে কাজী এমদাদুল হক। তিনি ১৯৮৮ সালে কোলাবাজার ইউনাইটেড হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯০ সালে খুলনা আজম খাঁন কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বিএ পরীক্ষা শেষে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে চলে যান জামালপুর। চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে আসেন। নিজে কৃষি কাজের পাশাপাশি গ্রামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। সেখানে বেতন না থাকায় বাড়িতে ছাত্র পড়িয়ে মাসে হাজার দশেক টাকা আয় করেন। এরমধ্যে ৬ হাজার টাকা সংসারের পেছনে খরচ করেন। বাকি টাকা কৃষকদের পেছনে ব্যয় করেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে তার সংসার।

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

জানা যায়, ২০০৬ সালে বাড়িতে কয়েকজন প্রতিবেশীকে ডেকে পরামর্শ করেন খেটে খাওয়া মানুষের নিরাপত্তায় কী করা যায়। সে ইচ্ছা থেকে প্রথমে পাড়ায় পাড়ায় কৃষকদের নিয়ে রাতে বৈঠক শুরু করেন। পরে বৈঠকগুলোতেই পাঠদানের ব্যবস্থা করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে কৃষকের নিরাপত্তায় নানা কাজে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রথম দিকে এমদাদুল তার নিজ ইউনিয়ন কোলার ১১টি গ্রামের মাঠ ঘুরে কৃষকের তালিকা করেন। যারা মাথায় মাথাল ব্যবহার করেন না এবং কীটনাশক ছিটানোর সময় মুখে মাস্ক দেন না, তাদেরও তালিকা করেন তিনি। সেই তালিকা ধরে তিনি কৃষকদের হাতে মাথাল ও মাস্ক তুলে দেন। ইতোমধ্যে তিনি ১ হাজারের বেশি মাথাল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। মাস্ক দিয়েছেন আরও বেশি।

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

এছাড়া এমদাদুল কৃষকদের চিকিৎসা সহায়তায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে আসছেন। এলাকায় ২০ হাজারের বেশি বনজ ও ফলদ গাছ এবং ১৫ হাজার তালের আঁটি রোপণ করেছেন। কৃষকদের অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করতে নৈশ বিদ্যালয়ে পাঠদান করান। কৃষি জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার কমাতে কেঁচো সার তৈরির পরামর্শ ও বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘একদিন মাঠে কাজ করছিলাম। করল্লা (উস্তে) ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করার সময় মুখে কোন কাপড় ছিল না। তা দেখে তিনি পকেট থেকে একটি মাস্ক বের করে পরিয়ে দেন।’

কামালহাটের মোমিনুর রহমান বলেন, ‘মাথাল ছাড়া কাজ করতে দেখলে এমদাদ ভাই ছুটে গিয়ে মাথাল পরিয়ে দেন।’

 কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

কৃষক নান্নু মিয়া বলেন, ‘রোদের মধ্যে ক্ষেতে কাজ করছি। এমন সময় এমদাদ ভাই এসে মাথাল পরিয়ে দেন। মাথাল পরে কাজ করলে কী সুবিধা হয়, বুঝিয়ে বলেন। এরপর থেকে মাথাল ছাড়া মাঠে কাজ করি না।’

শিক্ষক এমদাদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষকদের অসচেতনতা দূর করতে মাথাল, মাস্ক ও সাবান বিতরণ শুরু করি। এখন অনেকেই এগুলো ব্যবহার করছেন। এছাড়া অক্ষরজ্ঞান না থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে সচেতনতামূলক যেসব লিফলেট দেওয়া হয়, তা পড়তে পারেন না তারা। তাই পাড়ায় পাড়ায় নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৮টি গ্রামে ১৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ শতাধিক কৃষককে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে তোলা হয়েছে। স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। এখন গ্রামের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’

কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমদাদ যা করছেন, তা জনপ্রতিনিধি হয়েও আমরা করতে পারি না। তিনি যে টাকা উপার্জন করেন, তা পরিবারের পেছনে কম খরচ করে এলাকার মানুষের পেছনে ব্যয় করেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমদাদুল হকের কাজে স্থানীয় কৃষি বিভাগ মুগ্ধ। তাই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এমদাদুল হকের বাড়িতে কৃষি পাঠাগার করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি আলমারিসহ কিছু বইও দেওয়া হয়েছে।’

  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

    কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

    কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

    কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

    কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

    কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ
  • কৃষক দেখলেই ছুটে যান মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দাম কমেছে খুলনায়

শুক্রবার খুলনার খুচরা ও পাইকারি বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়।
চার দিন আগে খুলনার বাজারগুলোতে হু হু করে বেড়েছিল পেঁয়াজের দাম। সে সময় দেশি পেঁয়াজের দাম খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।


পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, বার্মা থেকে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। ২১ দিনের মধ্যে আরও কমবে।
তবে কেউ কেউ বলছেন, আসন্ন দুর্গাপূজার কারণে ভারতে থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। যে কারণে দাম বেড়েছিল। পেঁয়াজ এখন ভারত নির্ভর পণ্য। আমাদের দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো অসম্ভব। ভারত পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ করে দিলে এ পণ্যটির দাম বেড়ে যায়।


ময়লাপোতাস্থ সন্ধ্যা বাজারের সুমী স্টোরের মালিক কাউসার আলী হোসেন বলেন, দেশি জাতের পেঁয়াজ ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় উঠেছিল। এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৭ টাকা কেজি দরে।
পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা খুলনার বড় বাজারের মেসার্স ফরাজী ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মিলন ফরাজী বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল কেজি প্রতি ৩৪-৩৬ টাকা। যা শনিবার বিক্রি হয়েছে ৪০-৪২ টাকা। সোম ও মঙ্গলবার সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৭-৪৮ টাকায়। অনুরূপ ভাবে ৩৮-৩৯ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা বুধবারও অব্যাহত ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।


তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিয়ানমারের থেকে পেঁয়াজ এসেছে। যে কারণে ২-৩ টাকা কেজি দরে দাম কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পদ্মায় ইলিশ মাছ নিধনের অপরাধে ৩২ জেলেকে দণ্ড

সরকারী নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় ইলিশ মাছ নিধনের অপরাধে ৩২ জন জেলেকে ১ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

মৎস বিভাগ ও পুলিশের একটি টিম শুক্রবার গভীররাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত এ সাজা প্রদাণ করেন। এসময় ইলিশ মাছ ক্রয়ের অপরাধে ৩ নারী ক্রেতাকে মোট ২৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানকালে জব্দকৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংশ করা হয় ও ২০ কেজি ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রকিবুল হাসান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান চলছে এবং অব্যাহত থাকবে।

মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ওঝাঁ জানান, এর আগে ৩৮ জেলেসহ এ পর্যন্ত ৭০ জন জেলেকে এক বছরের দণ্ড দেয়া হয়। এরপরও অপরাধ অব্যাহত থাকলে আরো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোনভাবেই অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা মা ইলিশ রক্ষা করতে পারলে সারা বছর ইলিশ খেতে পারবো বলে কর্মকতার্র অভিমত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পারিবারিক ভেষজ বাগান

বকুল হাসান খান
আগেই বলে রাখি শত সহস্য ওষধি গাছের বর্ণনা আমরা দেব না। মোটামুটিভাবে অধিক পরিচিত প্রচলিত এবং সহজপ্রাপ্য ওষুধি গাছের বর্ণনা তুলেধরবো।

অর্জুনঃ বিশেষ বাবে ছাল ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ নরম শিকড়ও ব্যবহার করে থাকেন। হৃদরোগ, রক্ত আমাশয়, রক্তচাপ, উদরাময়, অর্শরোগ, মূত্র বর্ধক এসব রোগ সারায়। ছারের রস বা ক্বাথ খালি বা চিনি ও দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। মেছতা ও ক্ষয়কােেশ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আমলকিঃ আমলকি ত্রিফলার এক সদস্য ফল। বহুগুণে গুণান্বিত আমলকি একক বা ত্রিফলা গোত্রের অন্য দু’ সদস্যের সাথে অনেক রোগের উপশম করে। পেটের পীড়া, রক্তহীনতা, চর্মরোগ, গণোরিয়া, জ্বর, চুল উঠা, রুচিবর্ধন, আমাশয়, জন্ডিস, অজীর্ণত, কাশি, পেট ফাফা, বমির জন্য দারুণ কাজ করে। কাঁচা পাতা বা শুকনা ফল সর্বঅবস্থায়ই উপকারী।

বহেড়াঃ ত্রিফলা গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য। সাধারণত ফলই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমলকির মতো কাজ ছাড়াও হৃদরোগ ফুসফুস, চক্ষু, নাসিকা ও গলঅর রোগে ভালো উপকার করে।
হরিতকিঃ ত্রিফলা গোত্রের তৃতীয় সদস্য জন্ম বৈশিশষ্ঠ্য গুণাগুণে বহেড়ার খুব কাছাকাছি। আমলকি বহেড়ার মতো কাজ করে। তাছাড়া হাঁপানী পিত্তরোগ, ডেটেবাত, গলার রোগ, দন্তরোগ ও চক্ষুপ্রতদাহে ব্যবহৃত হয়।

আকন্দ: আকন্দ পাতা, ছাল, শিকড়, ফুল এবং কষ ব্যবহৃত হয়। বুকের সর্দি এবং অন্যান্য ব্যথায় সেক উত্তম। ফুল হাপানিতে ও যকৃত রোগে ব্যবহৃত হয়। আঠা দাদে পাতা সিদ্ধ পানি ঘায়ে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া কানব্যথা, শরীরের অন্যান্য ব্যথা, ফুলা কমাতে পাতা ব্যবহৃত হয়। পাতা ও মূলের নির্য়াস তলপেটে টিউমার, ফোঁড়া, ক্যান্সার, সিফিলিস, কুষ্ঠ, অর্শ, চর্মরোগ সারাতে সেবন করা হয়।

অশোকঃ ছাল, পাতা, ফুল ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছাল এবং পাতার রস ঋতুস্রাব, রক্তাক্ত পাইলস, রক্ত আমাশয় নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া ফুল যকৃতের অসুখ, সিফিলিস, গভাশয়ের অসুখ সারায়।

উলটকম্বল: পাতা, ছাল, কান্ড, মূল, ঋতুস্রাব, গনোরিয়া, ফোঁড়ায় ব্যবহৃত হয়। ডাটার রস, মূলের চূর্ণ ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে দিনে ২বার ৩-৭ দিনে সেব্য।

বাসক: বাসক কাশি হাপানি, যক্ষা, বক্ষব্যাধি, আমাশয়, ম্যালেরিয়া, সর্দি হাঁপানি, যক্ষপিত্তনাশক, রক্ত পরিশোধন, ক্ষয়কাশ, অম্লপিত্ত, মুখের দুর্গন্ধে দারুণ কাজ করে। বাসকের ছাল, পাতা সিদ্ধকরে মধু বা মিছরির সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কালোমেঘ: সম্পূর্ণ গাছ ব্যবহৃত হয়। পাতার রস পেটেরপীড়া, জ্বর, অরুচি, আমাশয়, কুষ্ঠ বলবর্ধক স অন্যান্য সমস্যঅয় ব্যবহৃত হয়। কালোমেধের পাতার রস, মুথাচূর্ণ, সিদ্ধ করা পানির সাথে কাঁচা হলদ মিশিয়ে দিনে ২-৩বার করে ২ থেকে ৫ দিন পর্যন্থ সেব করলে উপকার পাওয়া যায়।

সর্পগন্ধা: শিকড় পাতা ও গাছের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রক্তচাপ, অনিদ্রা, মস্তিস্ক বিকৃতি, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, আমাশয়, অনিদ্র, সর্পদংশনে মহাওেষুধ। সর্পগন্ধার মূল, ছালের গুড়া, কচি পাতার রস, মূলের রস ২-৩ চামচ দিনে ২-৩ ার ৫-৭ দিন পর্যন্ত সেব্য।

অর্শ্বগন্ধা: শ্বস রোগ, শেথরোগ, বাত, পিত্তরোগ, রিকেট রোগ, অনিদ্রা এসব রোগে উপকার পাওয়া যায়। অর্শ্বগন্ধার মূল চুর্ণ ক্বাত গাওয়া ঘি, মধু গরম পানি ও কাঁচা দধের সাথে -২-৩ চামচ দিনে ২-৩ বার ৫ থেকে ৭দিন পর্যন্ত সেবন করলে কাঙ্খিত উপকার পাওয়া যায়।

ঘৃতকুমারি/ঘৃতকাঞ্চন: পাতার নির্যাস সাধারণত ব্যবহার করা হয়। যে কোরন পোড়ায়, হাত পা জ্বালা পোড়া, মাথা ব্যথা, পেটের পীড়া, চোখের রোগ, জ্বর ও লোল রোগ, যকৃতের রোগ, রক্ত পিত্ত, পেটে বায়ূ এসব ক্ষেত্রে ঘৃতকাঞ্চন বেশ কাজ করে। ঘৃত কুমারির শাঁস, রস, প্রলেপ দিয়ে অথবা রস মিশরির সাথে সেবন করা যায়। দিনে ২-৩ বার করে ৩-৫ দিন সেব করলে উপকার পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতি

কৃষিজমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি।

যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে এক শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। বিপরীতে প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ নতুন মুখ জনসংখ্যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। এটি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রকল্প ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। আবার কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও সেগুলো কতখানি পরিবেশবান্ধব, সেগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এ ধরনের চিন্তাভাবনা একদম করা হয় না বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর। এই গবেষক বলেন, কৃষি জমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি। যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি।

বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কম আয়তনের দেশেও বর্তমানে বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে। কৃষিতে এখন অনেক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে তবে তা পরিবেশের জন্যও কিছুটা হুমকি হয়ে পড়বে যদি সেগুলো ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারি। অনেক সময় মেশিনের জন্য যে অ্যানার্জি/ফুয়েল ব্যবহার করা হয় যেমন ব্যাটারি, ডিজেল মাটির সঙ্গে মিশে মাটির ক্ষতি করে, সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে। কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কৃষকের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। আর এ দায়িত্ব তাদেরই বেশি ভূমিকা পালন করা দরকার, যারা এ প্রযুক্তিগুলো মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। দেখা যায়, কৃষকের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের যথাযথ জ্ঞান না থাকায়, একটি যন্ত্র একটানা বেশি সময় ব্যবহার করার কারণে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে। আবার একটি যন্ত্র কর্মদক্ষতা হারানোর পর ব্যবহার করা হলে সেটি তখন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো আমাদের ভাবতে হবে। কোনো প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতি মাঠপর্যায়ে ছড়ানো আগে আমাদের অবশ্যই বাজার পর্যালোচনা করতে হবে।

বাজারে অর্থাৎ কৃষকের কল্যাণে কাজে লাগবে এমন প্রযুক্তিই কেবল সম্প্রসারণ করতে হবে। নয়তো উল্টো সেটি আমাদের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাবে। অনেক সময় দেখা যায় মাটি পরীক্ষা না করেই কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন। কিন্তু এটি কোনোভাবেই ঠিক না। কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী সেটিও আমরা মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে পারি। তখন সেই ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। অন্যদিকে জমিতে অধিক উৎপাদনের জন্য মাত্রারিক্ত সার ব্যবহার করায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, একইসঙ্গে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। সার ব্যবহারের এ জ্ঞান না থাকার দরুণ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ সারেরও অপচয় হচ্ছে বলেও জানান এই গবেষক। গবেষক আরো বলেন, একটা সময় আমরা খাদ্যশস্য উৎপাদনে পরিমাণের ওপর জোর দিয়েছিলাম, সেটি বলতে গেলে আমরা সফল হয়েছি। বতর্মানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূণর্তার দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের খাদ্যমান অর্থাৎ নিরাপদ খাদ্যের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ব্যবহার করতে হবে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নিজেই তৈরি করুন বনসাই

বকুল হাসান খান
বনসাই শখের ও আয়ের উপায় হতে পারে। আসুন আমরা বনসাইয়ের পদ্ধতি জেনে নেই ।

চারা তৈরি: সাধারণত বনসাইয়ের চারা নার্সারি থেকে সংগ্রহ করতে হয। বীজসংগ্রহ করেও চারা তৈরি করে নিতে পরেন। যেসব প্রজাতির বীজ পাওয়া যায় না তাদের বেলঅয় অঙ্গজ পদ্ধতি অবলম্বন করে চারা তৈরি করতে হয়। বীজ সংগ্রহ বীজ সংগ্রহ করেও চারা তৈরি করে নিতে পারেন। অর্থাৎ কাটিং , ঝড় বিভাজন, তেউড় বিভাজন, দাবাকলম, গুটিকলম, চোখ কলম প্রভৃতি পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে চারা তৈরি করে নিতে হয। টব বাছাই ক্যাাসকেটড বা উচু বনসাই ছাাড় সবরকম বসনসাইয়োর জন্য চাই চায়ের ফেটের মরেত কিংবা চোট বাটির মতো টব। টবের আকার হওয়া উচিত গাচের শাখা প্রশাকাসহ তার বিস্তারের চেয়ে কিছুটা ছোট। আকৃতি দৃষ্টিনন্দন হওয়া চাই। টবের আকৃতি সবসময় কৃত্তকার হবে। এমন ধরণ ঠিক নয়। আয়তাকার, বর্গাকার বা ত্রিভজাকারও হতে পারে।

টবের সারমাটি প্রয়োগ: বনসাই টবের জন্য সারমাটি তৈরি করা খুব সহজ। প্রধানত দোআশ মাটির সঙ্গে জৈবসারে মিশিয়ে বনসাইয়ের মাটি তৈরি করা হয় নিম্নোক্ত ভাবে-
দোঁআশ মাটি- পরিমাণ মতো, কম্পোস্ট- ১/২ কেজি হাড়গুড়ো ৫০ গ্রাম খড়িমাটি গুড়ো ৫০ গ্রাম ইট গুড়ো ১৩০ গ্রাম, কাঠের ছাই- ৭৫গ্রাম ।

চারা লাগানো: কাটিং গুটি কলম বা বীজের চারা বনসাইয়ে সারমাটি ভরে যখারীতি লাগাতে হবে। টবে জল নিষ্কাশরে ছিদ্রের ওপর ইটের কুচির পবির্তে এক টুকরো তারের জালি রেখে তা কিছু কাঁকর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তারপর যথারীতি সারমাটি ভরে চারা লাগাতে হবে।
বনসাই তৈরির ধাপঃ বনসাই তৈরির জন্য কান্ড শেকড়, শাখা প্রশাখা ও পাতার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। টবের ছোট গেছে প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা বয়োবৃদ্ধ গাছের সুঠাম ভঙ্গিমায় আনার চেষ্ট করতে হবে।

ঘাপসমূহ: কুড়ি ভাঙ্গা: চারাকে অতিমাত্রায় বোটে করে রাখতে ও ঝোপালো করতে কুড়ি বা পত্রমুকুল ভেঙে দিতে হয়। ক্ষুদে বনসাইয়ের বেলায় তা করতে হয় বা নিরস্তর। কারণ, সবসময় বাড়ন্ত ডগা মাত্র দুটি পাতা রেখে কুটে দিতে হবে। কুড়িভঙ্গার প্রধান উদ্দেশ্যহল নিচের পাতার কাক্ষিক মুকুলকে বাড়তে বাধ্য করা। কারণ ওগুলো বাড়লে গাছের শাখার সংখ্যা বেড়ে গাছ ঝোপলো হবে।

শাখা বাছাই: বনসাইকে যে মডেলের রূপ দেয়াহবে তা স্থর করে শাখা বাছাই করা দরকার। জোড়া পাতার কক্ষ তেকে কান্ডের দু’পাশে দুিিট শাখা গজায়। বাছাই পদ্দধতি অনুসারে এর একটিকে রাখতে হবে। নিচেরটি ডানদিকে রাখলে তার ওপরেরটি বামদিকে রাখতে হবে। আসলে বনসাউয়ের কান্ডের রুপ যাতে সামনের দিকে কো ন শাখা থাকবে না। থাকবে কেবল ডান ও বাম েিদকে এবং পেছনে কান্ডের মাথার দিকেও সর্বদিকেই শাখা থাকতে হবে।

শাখা ছাটাই: প্রায়শই বনসাইয়ের বয়স ৩-৪ বছর হলে তখন প্র“নিংয়ের প্রয়োজন হয়। বাছাই করা মোটা শাখাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটতে হয়। এর জন্য যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা উচিত তার নাম কনকেভ কাটিং প্লায়ারস এর কাটার ধরন পৃথক। কাটার স্থানের চার দিকে থেকে ছাল বেড়ে তাাতাড়ি তা ঢেকে দেয়।

তার বাঁধা: কান্ড বা শাখাকে সুন্দরন সুঠাম ভঙ্গিমায় আনতে যেসব কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা হয় তার ভাঁধা তাদের মধ্যে অন্যতম। সরল শাখায় তার জড়িয়ে আঁকা বাকা রূপ দেয়া যায়। কান্ডের জন্য মোটা তার ও শাখার জন্য সরু তার প্রয়াজন। সাধারণত এজন্য তামার তার ব্যবহার করা হয। অনেকে গ্যালভানাজিংয়ের তারও ব্যবহার করেন। মনে রাখা দরকার, তার জড়ানোর ফলে গাছ বেশ দুর্বল হয়ে পড়্ তোর খোলার পর গাছকে ছায়ায় বা হালকা ছায়ায় অন্তত সপ্তাহ খানেক রাখা দরকার। প্রয়োজন রোধে দু’তিনবার তার জড়ানো যেতে পারে, কিন্তু তা অন্তত ছয় মাস অন্তর হওয়া দরকার। বনসাই তৈরির জন্য উপযুক্ত প্রজাতির গাছ। বট, পাকু, হিজল, অশ্বথ, ডুমুর, ডারিম, কদম, বাগানবিরাস, বোতল ব্রাশ, নীম, জামরুল, তেতুল ইত্যাদি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com