আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

কৃষকই কেন ঠকতে থাকবেন

ধান চাষ বাংলাদেশের ঐতিহ্য আর পরিচয়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে। দেশে-বিদেশে যেখানেই বাস করি না কেন, এক মুঠো ভাত পেটে না পড়লে বাঙালির খিদে মেটে না। আর গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিটি এখন পর্যন্ত ধান উৎপাদনকে আবর্তন করে রয়েছে। বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদন যেমন মুখ্য ভূমিকা পালন করে, তেমনি দেশের সিংহভাগ নাগরিক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বাঁচা-মরা তথা আর্থসামাজিক উন্নয়ন ধান উৎপাদন ও মূল্যের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে।

কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, এটা এখন বাংলাদেশের সর্বত্র আলোচনার বিষয়। এখন পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রী বা খাদ্যমন্ত্রী কেউই এ বিষয় নিয়ে কোনো আশাব্যঞ্জক কথা বলেননি। নতুন বছরের বাজেটেও সুসংবাদ নেই। বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদও নীরব। যে দু-একজন কথা বলছেন, তা পুরোটা বিশ্লেষণের নিরিখে বলছেন বলে ধরে নেওয়া যায় না।
বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষকের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আজকের অনেকটা খাদ্যে উদ্বৃত্ত বাংলাদেশ কোনো জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় হয়নি। এর পেছনে রয়েছে কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম। গত এক দশকে বাংলাদেশে কৃষির গর্ব করার মতো যে অর্জন হয়েছে তার পেছনে সরকারের অবদানও প্রশংসা করার মতো। এ ছাড়া রয়েছে বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের অগ্রযাত্রা আর সম্প্রসারণ কর্মীদের পরিশ্রম।
বলা হচ্ছে, এ বছর বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন বেশি হয়েছে। সূত্রমতে, এবার গত বছরের তুলনায় কম জমিতে বোরো চাষ হলেও অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাত (৮৮ শতাংশ উফশী, ১১ শতাংশ হাইব্রিড) ও প্রণোদনা দেওয়ার কারণে বোরোর উৎপাদন ৭ শতাংশ বেড়ে যাবে বলে পূর্বাভাস ছিল। তা ছাড়া আমন ও আউশের ফলনও ভালো হয়েছে। ধান উৎপাদনের এই ক্রমবর্ধিত প্রবণতা গত কয়েক বছর থেকেই দৃশ্যমান। আর গত কয়েক বছরই কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। ধান কাটার মজুর-সংকট ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবারের অবস্থা গত বছরগুলো থেকে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকেরা আজ মধ্যস্বত্বভোগী মুনাফাখোর ধান-চাল ব্যবসায়ীদের কাছে মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ হারে ধান বেচতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে এক মণ ধানের উৎপাদন খরচ নিদেনপক্ষে হাজার টাকার ওপরে। উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম না পাওয়ার কারণে অনেকের স্বপ্ন পূরণের পথ বন্ধুর হয়ে গেছে, অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষি সারা বিশ্বেই যেমন একটি মহৎ পেশা, তেমনি এতে রয়েছে অনেক বাধা-বিপত্তি ও ঝুঁকি। এই বাধা-বিপত্তি ও ঝুঁকি উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই কৃষির জন্য কম-বেশি প্রযোজ্য। কৃষককে যেমন প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়, তেমনি তাঁর উৎপাদিত পণ্যের দামের জন্য নির্ভর করতে হয় উৎপাদনশীলতার ওপর, জোগান ও চাহিদার ভারসাম্যের ওপর। আর আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ আর কৃষকেরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি অনেক দেশেই সরকার প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ করে থাকে। বাংলাদেশে নতুন হলেও, আধুনিক কৃষির প্রণোদনা গত শতাব্দীর শুরুতেই শুরু করেছিল আমেরিকা। আজ কৃষিতে উন্নয়নের শিখরে অবস্থান পাওয়া জাপান বিশ্বে কৃষিতে সবচে বেশি প্রণোদনা প্রদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচিত।

কৃষিতে প্রণোদনা বিভিন্ন পদ্ধতিতে দেওয়া হয়ে থাকে যেমন সরাসরি প্রণোদনা, রেগুলেশন করে সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ, আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, শস্যবিমা, সরকার কর্তৃক ন্যায্যমূল্যে শস্য ক্রয় ও সংরক্ষণের মাধ্যমে মূল্য সহায়তা প্রদান করে কৃষককে সরাসরি লোকসান থেকে মুক্তি দেওয়া প্রভৃতি। মূল্য সহায়তার মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল, কম উপার্জনের কৃষককে সহায়তা, কৃষিকাজ থেকে অভাবনীয় ক্ষতি কমিয়ে আনা, খাদ্যনিরাপত্তার নিশ্চয়তা, কৃষিপণ্যের রপ্তানিকে সহজ করাসহ গ্রামীণ উন্নয়নকে বেগবান করা সম্ভব। আর এ জন্য অনেক বছর থেকে বহু দেশে কৃষির সঙ্গে জড়িত বা কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এটিকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমেরিকা প্রতিবছরই দানাশস্য থেকে শুরু করে গবাদিপশু পালন ও উৎপাদনে ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চয়তার জন্য প্রণোদনা ও মূল্য সহায়তা দিয়ে আসছে।

নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, কোরিয়া, জাপান, আইসল্যান্ডসহ অনেক দেশেই কৃষিপণ্যের উৎপাদন মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে আসছে। জাপান ও কোরিয়া ধানের উৎপাদনে বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রণোদনা দিয়ে আসছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মূল্য সহায়তা তথা কৃষিতে প্রণোদনার বিরোধিতা ও ডেডওয়েট লসের (deadweight loss) যুক্তি দেখালেও কৃষকের ক্ষতি পোষাবার অন্য কোনো বিকল্পের জুতসই ব্যবস্থাপনার সন্ধান দিতে পারেননি। আজ আমাদের কৃষকেরা তাঁদের কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে যে এক হতাশার মধ্যে পড়েছেন, তা থেকে মুক্তির সঠিক পথ বের করবার গুরুদায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়, এটি সরকারেরই দায়িত্ব। এটি স্পষ্ট যে ধান উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষককে সমূহ ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মূল্য সহায়তার অন্য কোনো বিকল্প এখন নেই বললেই চলে। আর কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চয়তার জন্য ভেল্যু চেইনের অব্যবস্থাগুলো দূর করাও জরুরি। মধ্যস্বত্বভোগী ও পণ্যমূল্যের সিন্ডিকেট, অনৈতিকতা রোধ ও সার্ভিসের অব্যবস্থাও জরুরি ভিত্তিতে নিরসন করাও অত্যন্ত জরুরি। কৃষককে কীভাবে মূল্য সহায়তা দিলে কৃষক লাভবান হবেন, তা নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আর দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়নেরও প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষি ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অনেকের মতে কৃষককে মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের উচিত হবে কৃষকের কাছ থেকেই ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় করা। সরকারি উদ্যোগেই এই ধান সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা। সরকারের কেনা ধান আংশিক সরকারি ব্যবস্থাপনায় রপ্তানি আর আংশিক চাল বানিয়ে ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেক অভিজ্ঞ কৃষি বিশেষজ্ঞ। সঙ্গে সঙ্গে ধান-চাল আমদানিতে নিষেধজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যত দিন পর্যন্ত দেশে উদ্বৃত্ত ধান-চাল রয়েছে। অনেকেই প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ধান সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার আবশ্যকতার কথা বলেছেন, যেখানে কৃষক প্রয়োজনমতো ধান মজুত করতে পারবেন আর মজুত করা ধানের ৮০ শতাংশের ন্যায্যমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। এতে ব্যাংক যেমন লাভবান হবে, তেমনি কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। সঙ্গে সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে রেহাই পাবেন কৃষক।

আজ যে ধানের অধিক ফলন হয়েছে, দেশে ধানের উৎপাদন উদ্বৃত্ত হয়েছে, তা আমাদের জন্য বড় সুখবর। আমরা এ নিয়ে গর্ব করতে পারি। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষির এই সাফল্যেরও একটি সূচনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দূরদর্শিতার কারণেই মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনে প্রাণের স্পন্দন পেয়েছিল। ধানের উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্যের অব্যবস্থাপনা আজ এক অন্য রকম সংকট, যা মোকাবিলা করার জন্যও চাই দূরদর্শিতা। আমাদের কৃষককে কৃষিতে অনুপ্রাণিত করেই দেশের কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

গোমতির পাড়ে শীতকালী সবজি চাষের উৎসব

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা একটি গ্রাম। চারার গ্রাম নামে পরিচিত সমেষপুর। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই তিন মাসে এ গ্রাম থেকে বিক্রি হবে অন্তত ৩ কোটি টাকার রবিশস্যর চারা। সে লক্ষ্যই এখন ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। সমেষপুরে এখন উৎসবের আমেজ।

[৩] সরেজমিনে ঘুরে ও চারা চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,শীত আসতে এখনো ঢের বাকি। তার আগেই তৈরি করা হয়েছে বীজতলা। এখন মাটি থেকে মাথা উঁকি দিয়ে আছে টমেটো, মরিচ, তাল বেগুন, শিংনাথ বেগুন,, ফুল ও বাঁধাকপি। এই চারাগুলো রোপণ করা হবে জমিতে। যেখান থেকে উৎপাদিত টমেটো, তাল বেগুন, ফুল ও বাঁধাকপিতে হাসবে কৃষকের জমি।

[৪] সমেষপুরে গত ৭০-৮০ বছর ধরে চারা রোপণ ও বিক্রি করে আসছে শতাধিক পরিবার। কম সময়ে মুনাফা হয় বলে চারা চাষির সংখ্যা বাড়ছে। সমেষপুরের রবিশস্যর চারা পুরো দেশেই যায়। পাইকাররা কাকডাকা ভোরে সমেষপুরে চলে আসেন। পিকআপভ্যান ও মাইক্রোবাসে করে চারা কিনে নিয়ে যান।

[৫] সমেষপুরের কৃষক মনির হোসেন জানান, তিনি ৮ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। আশ্বিন থেকে অগ্রাহায়ণ পর্যন্ত অন্তত তিনবার চারা উৎপাদণ হবে তার বীজতলায়। শতাধিক পরিবার এই তিন মাসে তিনবার চারা উৎপাদন ও বিক্রি করবেন।

[৬] মনির হোসেন জানান, এই তিনবারের মধ্যে প্রতিবার চারা উৎপাদনে তার খরচ হবে ৮০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। খরচের মধ্যে রয়েছে বীজতলা তৈরির জন্য বাঁশ,পলিথিন, কীটনাশক ,সার ও শ্রমিকের মজুরি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চারা বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে তার অন্তত ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা মুনাফা হবে।

[৭] শতাধিক পরিবার বছরের এই সময়টাতে রবিশস্যর চারা উৎপাদন করে। এতে প্রত্যেক পরিবারের গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় হয়। এভাবে অন্তত ৩ কোটি টাকার রবিশস্যর চারা বিক্রি হয় সমেষপুরে।

[৮] ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সমেষপুরে চারা কিনতে প্রতিদিনই কৃষকরা আসেন। চারা কিনতে আসা চট্টগ্রামের কৃষক ফয়সাল হোসেন বলেন, সমেষপুরের চারা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো। গত দশ বছর ধরে আমি সমেষপুর থেকে চারা নিয়ে নিয়ে জমিতে রোপণ করি।

[৯] ফুলকপি এক হাজার চারার দাম ৮’শ টাকা, বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি হাজার ৬’শ টাকা করে। এছাড়াও তাল বেগুন যেগুলো প্রতিটি এককেজি করে হয় ওই বেগুনের প্রতি হাজার চারা ১ হাজার টাকায় কিনেছি। আটি বেঁধে গাড়িতে তুলেছি। পরদিন বিকেলে গিয়ে জমিতে রোপণ করবো।

[১০] সমেষপুরে এতো টাকার চারা উৎপাদন ও বিক্রি হলেও কৃষি অফিস থেকে নেই কোনো সহযোগিতা এমন অভিযোগ অন্তত ২০জন কৃষকের।

[১১] আবু আওয়াল নামে একজন কৃষক জানান, তিনি এ বছর ২০ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজ সার কিংবা পরামর্শ সংক্রান্ত কোনো সহযোগিতা কখনো কোনো দিন কৃষি বিভাগ করেনি। কোনো সমস্যা হলে কৃষকরা নিজেরাই আলাপ আলোচনা করে সমাধান খুঁজে নেন।

[১২] কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, যদি সমেষপুরের কৃষকরা কৃষি বিভাগের কোনো সাপোর্ট না পায় সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। আমি আজ থেকেই ওই কৃষকদের জন্য করণীয় সব কিছু করার ব্যবস্থা শুরু করবো। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মেহেরপুরে কাদা জমিতে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য

লেখক

জমিতে সেচ দিয়ে কাদা তৈরি করে ধান লাগানোর মতো করেই মেহেরপুরের কৃষকরা পেঁয়াজের চাষ শুরু করেছে। কৃষকরা যুগ যুগ ধরে পেঁয়াজ চাষ করে আসছে শীত মৌসুমে শুকনো মাটিতে। মেহেরপুরের চাষিরা তাদের চাষের ধরণ বদলিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেতে আমন ধান আবাদের মতো কাদা তৈরি করে রোপণ করেছে পেঁয়াজের চারা। এ পদ্ধতিতে পেঁযাজের ফলন নিয়ে চিন্তিত হলেও হাল ছাড়েনি কৃষি বিভাগ ও উদ্যোমী চাষিরা। গত ৪ বছর ধরে জেলায় কাদা জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কাদায় রোপণ করা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু ফলনই নয়, নতুন পদ্ধতিতে চাষ করে বিঘাতে গড়ে ৫০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছেন অনেকেই। আগামীতে এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেঁয়াজ উৎপাদনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলায় এবার নতুন পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়। বারি পেঁয়াজ-৫ সহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছে চাষিরা। 
জেলার মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের কৃষক ফিরোজ আহমেদ মাস্টার বলেন- মুজিবনগরে শীতকালে ব্যাপক পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে সেটি ভারতীয় বীজ থেকে উৎপন্ন ‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজ। এ পেঁয়াজ বেশি দিন ঘরে রাখা যায় না। আবার সময় চাহিদা ও দাম না পাওয়ায় চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এবার ‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজের পরিবর্তে কয়েকজন কৃষক গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন ও ভােলা দামে বিক্রি করে ওই জমিতেই আবার শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ করছেন।  পেঁয়াজ আবাদের এ ধারায় দেশের পেঁয়াজ সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন অগ্রগামী এসব কৃষক। 
মেহেরপুর সদর উপজেলার শুভরাজপুর গ্রামের কৃষক ওহাব আলী জানান- তিনি ৫ বিঘা বারি পেঁয়াজ -৫ নতুন পেঁয়াজের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় এ পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি কম। নভেম্বর থেকেই এ পেঁয়াজ উত্তোলন করা যাবে বলে তিনি জানান। ফলে চাষিরা সারা বছর পেঁয়াজ চাষ ও সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে পেঁয়াজের ঘাটতি যেমন কমবে, তেমনি চাষিরাও সারা বছর ন্যায্য দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন।


মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি গোলাম মোস্তফা জানান- ১৫বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি এবছর ২০ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেয়াঁজের চাষ করেছেন। ৯৫ থেকে ১১০ দিনে এ পেঁয়াজ বিঘায় ১২০ থেকে ১৫০ মণ উৎপাদন হয়। গ্রীষ্মকালীন এ পেঁয়াজ প্রতি বিঘায় চাষ করতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ নাসির উদ্দীন আহম্মেদ জানান- জেলায় বিভিন্ন চাষিদের মাধ্যমে ২৫ হেক্টর জমিতে বারী পেঁয়াজ-৫ আবাদ করা হয়েছে। ভালো ফলন হবে এবং চাষিরা লাভবান হবে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন- নতুন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে মেহেরপুর জেলা কৃষিতে যুগান্তকারী এক পরিবর্তনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। লাভ ও ফলনে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। আগামীতে এ জেলায় আরও বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ইঁদুরের হাত থেকে ৩৬০ কোটি টাকার ফসল রক্ষা

গত বছর প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ইঁদুর নিধনের মাধ্যমে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৭৬ টন ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালেও ইঁদুর নিধন অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার ইঁদুর নিধন করে ৩০০ কোটি টাকার ফসল রক্ষা করা হয়।

[৩] সোমবার রাজধানীর খামারবাড়ির আ.কা.মু. গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান ২০২১ ও ২০২০ সালের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্যটি উঠে আসে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতি বছর মাসব্যাপি এ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ অভিযান। জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান ২০২১ এর প্রতিপাদ্য- জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে, ইঁদুর মারি একসাথে।

[৪] ইঁদুরের ব্যাপক ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষা করার পাশাপাশি ইঁদুর নিধন কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার আহবান জানান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। সোমবার জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।

[৫] তিনি বলেন, প্রতিনিয়তই ইঁদুর কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের কয়েকগুন নষ্ট করে থাকে। এ ক্ষতির পরিমান বছরে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। উদ্বুদ্ধরণের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে ইঁদুর নিধন করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ইঁদুর দমন করা অত্যন্ত জরুরি।

[৬] কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম, বিনার মহাপরিচালক মফিজুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন।

[৭] স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ড. মো. আবু সাইদ মিঞা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নওগাঁয় আশার আলো জাগিয়েছে বিনা ১৭ ধান

স্বল্প মেয়াদি জীবনকাল, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল, উন্নত গুনাগুন সম্পন্ন ও খরাসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে আমন মৌসুমে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচালিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ অংশ হিসেবে মাঠ দিবস পালিত হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালাবাড়ি মাঠে ধান কর্তণের পর বটতলী হাটে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর। যেখানে রানীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলা কমবেশি আবাদ হয়েছে।

[৪] বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রীণ সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে। এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০-১১৫দিন। এর প্রতি শীষে ২০০-২৫০ টি দানা থাকে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় কৃষকের জন্য এ জাতের ধান চাষ খুবই লাভজনক। প্রতি বিঘায় প্রায় ২২-২৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য ধানের তুলনায় আবাদে ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম হয়।

[৫] শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চারবিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপন করেছেন। এ জাতের ধান চাষে সেচ, সার, ঔষধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। এক সাথে ধান রোপন করে আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে। আর পাশের জমিতে এখনো প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ৩-৪ টি সেচ দিতে হবে। আগে স্বর্ণা-৫ জাতের আবাদ করতাম। সে তুলনায় বিঘাপ্রতি আমার ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম পড়েছে। আমার কাছে মনে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ লাভজনক এবং কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধান চাষে উদ্বৃদ্ধ হচ্ছে।

[৬] ঘুলকুড়ি গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা নতুন ধানের গুনাবলি বিষয়ে জানতাম না। পাশের জমি একসাথে লাগিয়ে তার টা কাটা হচ্ছে। আবার ফলনও ভাল। আর আমার টা এখনো ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। বাস্তবে দেখলাম বিনা-১৭ জাতের ধান স্বল্প সময়ে আবাদ হয়েছে। এ ধান কাটার পর রবিশষ্য রোপন করা হবে। যে জমিতে দুই ফসল হতো সেখানে এখন তিন ফসল করা সম্ভব। আগামীতে এ জাতের ধান চাষে নিজে লাগানো পাশাপাশি আশপাশের সবাইকে উদ্বৃদ্ধ করব

[৭] বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান। খরাসহিষ্ণু (৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন)। ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যাবে এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টর ৬ দশমিক ৫ হেক্টর। যে জমিতে দুইটি ফসল হতো সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা/মসুর/আলু চাষ করতে পারবেন। পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে।

[৮] আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও জুবায়ের আল ইসলাম, নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম মঞ্জুরে মওলা, নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কৃষক ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জয়পুরহাটে ১৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন মরিচ

জয়পুরহাট ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে গ্রীষ্মকালীন খরিপ-১ মৌসুমে এবার ১৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জয়পুরহাট জেলায় ২০২০-২০২১ খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন আগাম জাতের ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ১৮৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১৪ মেট্রিক টন ধরা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৩৭০ মেট্রিক টন মরিচ।

[৪] এছাড়া জেলায় শতিকালীন মৌসুমে ৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সোমবার পর্যন্ত জেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন মরিচের চাষ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। যাতে মরিচের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭৬ মেট্রিক টন মরিচ। বর্তমান বাজারে ওঠা রবি মৌসুমের মরিচের সঙ্গে যোগ হয়েছে খরিপ-১ মৌসুমের আগাম জাতের মরিচ ফলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

[৫] জেলা শহরের নতুনহাট, মাছবাজার ও ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজার ঘুরে দেখা যায় কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। যদিও জেলা শহরের খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।

[৬] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে আগাম জাতের মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে তবে এটি বেশি দিন থাকবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com