আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

কৃত্রিম মাংসের বার্গার, যা থেকে ‘রক্ত’ও ঝরে – আর বেশি দূরে নয়

কৃত্রিম মাংসের বার্গার, যা থেকে 'রক্ত'ও ঝরে - আর বেশি দূরে নয়

সেই দিন কি তাহলে প্রায় এসে গেল, যখন এমন খাবার বিক্রি হবে দোকানে – যা তৈরি কৃত্রিম মাংস দিয়ে, কিন্তু তা থেকে আসল মাংসের মতোই ‘রক্ত’ বেরোয়?

সম্প্রতি কিছু কিছু দেশে ‘মিট-ফ্রি’ খাবার সহজলভ্য হয়ে ওঠায় বিশেষজ্ঞরা এমন কথাই বলছেন।

মানুষের খাদ্য কিভাবে পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে – তা নিয়ে একদিকে যেমন উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে নিরামিষভোজী হবার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

এই ভেজিটেরিয়ানরা যে খাবার খান তাকে বলে ভেগান ফুড। বিভিন্ন মাংস-জাত খাবারের ভেগান সংস্করণ বের হতে যাচ্ছে এখন। যেমন: ভেগান সসেজ-রোল বা ভেগান বার্গার।

এতে যে মাংস ব্যবহৃত হবে – তা দেখতে চিরাচরিত মাংসের মতোই। এই ‘নিরামিষ মাংসের’ গন্ধ ও স্বাদও আসল মাংসের মতো। এ থেকে আসল মাংসের মতো ‘রক্ত’ও বেরোয়।

এগুলো তৈরি হচ্ছে উদ্ভিদজাত প্রোটিন থেকে। সাধারণত এ কাজে ব্যবহার হচ্ছে গম, মটরশুঁটি বা আলু থেকে। আর এই মাংসের ‘রক্ত’ তৈরি হচ্ছে বীটের রস দিয়ে।

গরুর মাংসের রঙ এবং স্বাদ তৈরি হয় যে প্রাণীজ উপাদানটি থেকে তার নাম হচ্ছে ‘হেম’। ইম্পসিবল ফুডস নামে একটি আমেরিকান ফার্ম সম্প্রতি উদ্ভিজ্জ ‘হেম’ তৈরি করেছে – যা কৃত্রিম মাংসকে আসলের চেহারা এনে দেবে বলেই তারা মনে করছেন।
বিজ্ঞানীরা এখন ল্যাবরেটরিতেও কৃত্রিম মাংস তৈরি করছেন। এটা তৈরি হচ্ছে প্রাণীর স্টেম সেল দিয়ে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে এমন স্তরের কৃত্রিম মাংস তৈরি করা যা রান্না করা বা খাওয়ার অভিজ্ঞতা হবে একেবারেই আসল মাংসের মতো – এর পার্থক্য ধরাই প্রায় অসম্ভব হবে।

এখন পাশ্চাত্যের কিছু সুপারস্টোরে একটা মাংস-মুক্ত শাখাও দেখা যাচ্ছে।

তবে কৃত্রিম মাংস দিয়ে তৈরি খাদ্য পণ্য এখনো বাজারে বা রেস্তোরাঁয় না এলেও কয়েক বছরের মধ্যেই তা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘জাস্ট’ নামে একটি ফার্ম বলছে, ২০১৯ সাল শেষ হবার আগেই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপার স্টোরগুলোতে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা চিকেন বা ‘মুরগির মাংস’ আনতে পারবে বলে তারা আশা করছে।

অবশ্য এ জন্য আমেরিকার ফুড এ্যান্ড ড্রাগ এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমতি লাগবে।

তা ছাড়া সে অনুমতি পাওয়া গেলেও ল্যাবরেটরিতে তৈরি মাংস সম্পর্কে মানুষের যে বিরূপ ধারণা বা ‘ছি ছি’ করে ওঠার প্রবণতা – তা একটি বড় বাধা হবে, এমনটাই অনেকের ধারণা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

কৃষকের অ্যাপ ফসলি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বায়োফ্লকে মাছের কুটির শিল্প গড়েছেন ইমদাদুল হক

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃষিযন্ত্রের প্রদর্শনী চীনে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষিযন্ত্র ঘোরাবে কৃষির চাকা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

করোনাভাইরাস: রোবট কি মানুষের কাজের ক্ষেত্র দখল করে নেবে?

 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবট হয়তো ভবিষ্যতে মানুষের কাজের ক্ষেত্র দখল করে নেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবট হয়তো ভবিষ্যতে মানুষের কাজের ক্ষেত্র দখল করে নেবে।

বিশ্বজুড়ে যখন মহামারি চলছে, তখন মানব জীবনের আরেক হুমকি সম্পর্কে যদি মানুষ ভুলে যায় তাহলে তা ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই যায়। আর সেটি হলও রোবটের উত্থান।

ভাল বা খারাপ যাই বলি না কেন, বিশ্লেষকরা বলছেন যে রোবট মানুষের অনেক কাজের ক্ষেত্র দখল করে নেবে। আর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এই প্রক্রিয়াকে আরো বেশি বেগবান করেছে।

“মানুষ সাধারণত বলে যে, তারা তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ বা মিথষ্ক্রিয়ার জন্য মানবিক ছোঁয়া চান। কিন্তু কোভিড-১৯ সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে,” বলেন মার্টিন ফোর্ড। তিনি একজন ফিউচারিস্ট যিনি আসছে দশকগুলোতে অর্থনীতিতে রোবটকে কিভাবে সংযুক্ত করা হবে সে বিষয়ে লেখালেখি করে থাকেন।

“কোভিড-১৯ ভোক্তাদের পছন্দের ধরণকে পাল্টে দিতে যাচ্ছে এবং এটি স্বয়ংক্রিয়তা বা অটোমেশনের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”

ছোট বা বড়- নানা ধরণের প্রতিষ্ঠান সামাজিক দূরত্ব বাড়াতে রোবটের ব্যবহার বাড়াচ্ছে এবং পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে আসতে হয় এমন কাজের কর্মী কমাচ্ছে। এছাড়া কর্মীরা যেসব কাজ বাড়িতে থেকে করতে পারবে না এমন কাজ করতেও রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।

আমেরিকার সবচেয়ে বড় রিটেইলার ওয়ালমার্ট মেঝে পরিষ্কার করতে রোবট ব্যবহার করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপমাত্রা পরিমাপ করতে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করতে রোবট ব্যবহার করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ার করেছেন যে, ২০২১ সাল পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হতে পারে। এমন অবস্থায় রোবট কর্মীর চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউভিডি-রোবটস নামে একটি প্রতিষ্ঠান যারা পরিষ্কার করার কাজে রোবট তৈরি করে, কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার তারা হাসপাতালগুলোর কাছ থেকে শত শত অর্ডার পেয়েছে।
ইউভিডি-রোবটস নামে একটি প্রতিষ্ঠান যারা পরিষ্কার করার কাজে রোবট তৈরি করে, কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার তারা হাসপাতালগুলোর কাছ থেকে শত শত অর্ডার পেয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে রোবটের চাহিদা বাড়ছে

যেসব কোম্পানি পরিষ্কার এবং জীবাণুনাশক পণ্য তৈরি করে তাদের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ইউভিডি রোবটস নামে একটি ডেনিশ কোম্পানি যেটি আল্ট্রাভায়োলেট-লাইট-ডিসইনফেকশন রোবট তৈরি করে তারা চীন এবং ইউরোপের হাসপাতালগুলো শত শত মেশিন সরবরাহ করেছিল।

যেসব মুদি দোকান কিংবা রেস্তোরা টেকঅ্যাওয়ে বা খাবার কিনে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে সেগুলোতে এসব রোবটের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলবে, আশা করা হচ্ছে যে এসব প্রযুক্তির ব্যবহারও তত বাড়বে- হয়তো দেখা যাবে যে স্কুল কিংবা অফিস পরিষ্কার করছে রোবট।

“ভোক্তারা এখন তাদের নিজেদের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়,” বলেন ব্লেক মরগান যিনি কাস্টমার অব দ্য ফিউচার নামে একটি বই লিখেছেন।

“অটোমেশনের দিকে ঝোঁকাটাই তাদের সবাইকে সুস্থ রাখতে এবং ভোক্তারাও একে সমর্থন দেবেন।”

তবে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মিস মরগান বলেন, যদিও মুদি দোকানগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার মানুষের সাথে মানুষের মিথষ্ক্রিয়া কমিয়ে দেয়।

তারপরও সেগুলো যেহেতু খুব ভাল কাজ করে না এবং তেমন টেকসইও নয়, তাই ক্রেতারা সেগুলো এড়িয়ে ক্যাশিয়ার হিসেবে যেসব কর্মী কাজ করেন তাদের কাছেই যায়।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে

খাবার সরবরাহ হচ্ছে আরেকটি খাত যেখানে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকার কারণে রোবটের ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাকডোনাল্ডসের মতো ফাস্ট-ফুড চেইনগুলো খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহতে পরীক্ষামূলকভাবে রোবট ব্যবহার করছে।

আমাজন এবং ওয়ালমার্টের মতো প্রতিষ্ঠানের গুদামে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য রোবট এরইমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কোভিড-১৯ এর মহামারির পর এই দুটি কোম্পানিই বাছাই, শিপিং এবং প্যাকেটজাত করার জন্য রোবটের ব্যবহার আরো বাড়ানোর চিন্তা করছে।

 আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠান তাদের গুদামে রোবট ব্যবহার করে থাকে।
আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠান তাদের গুদামে রোবট ব্যবহার করে থাকে।

এর ফলে হয়তো গুদামে কাজ করা কর্মীদের অভিযোগ কমে যাবে। এসব কর্মীরা অভিযোগ করেন যে, বর্তমান অবস্থায় তারা সহকর্মীদের কাছ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না।

কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এর ফলে এসব কর্মীদের অনেকেই বেকার হয়ে পড়বে।

একবার যদি কোন একটি কোম্পানি নির্দিষ্ট কোন কাজের জন্য কর্মীর পরিবর্তে রোবটে বিনিয়োগ করে তাহলে সেটি আবার একই কাজের জন্য কর্মী নিয়োগ দেবে- এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

রোবট তৈরি করা এবং সেগুলো ব্যবসায়ে নিয়োগ করাটা বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। কিন্তু একবার যদি সেগুলোকে সচল করা যায় তাহলে সাধারণত তা কর্মীদের তুলনায় সস্তা।

এ বিষয়ে ফিউচারিস্ট মার্টিন ফোর্ড বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বে রোবটের ব্যবহার চালু হলে তা বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করবে।

“মানুষ সেসব স্থানেই যেতে চাইবে যেখানে মানুষের আনাগোনা কম থাকে এবং এ কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও কম হয়,” তিনি বলেন।

রোবট মানুষের মতোই দক্ষ

যেসব ক্ষেত্রে কোন ধরণের শিক্ষা বা সেবার জন্য ব্যক্তির প্রয়োজন হয় সেখানে কিভাবে রোবটগুলো কাজ করবে?

এর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটানো হচ্ছে যা স্কুলের শিক্ষক, শরীরচর্চার প্রশিক্ষক এবং ব্যবসায়িক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে পারবে।

বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ফেসবুক এবং গুগলও আপত্তিকর পোস্টগুলো সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে থাকে।

তবে রোবট নিয়ে সংশয়বাদীরা বলছেন, এসব কাজের ক্ষেত্রে কোন না কোনভাবে মানুষ জড়িত থাকবে।

২০১৭ সালের নিজের এক গবেষণায় গ্লোবাল কনসালটেন্ট ম্যাককিনজি বলেছিলেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়তা এবং রোবটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এক তৃতীয়াংশ কর্মী কাজ হারাবে। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে যে মহামারির মতো ঘটনা সব ধরণের সময় সীমার ধারণাকে পরিবর্তিত করে দেবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তিকে মানুষ কিভাবে বিশ্বে সংযুক্ত করতে চায় তা নির্ভর করবে মানুষের সিদ্ধান্তের উপর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com