আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

কুল চাষের সহজ নিয়ম

কুল চাষের সহজ নিয়ম
কুল চাষের সহজ নিয়ম

কুল একটি সুস্বাদু ফল। কোনো কোনো অঞ্চলে একে ‘বরই’ বলা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায়, সব ধরনের মাটিতেই জন্মে। আসুন জেনে নেই কুল চাষের নিয়ম-কানুন।

বংশবিস্তার
বীজ এবং কলমের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা যায়। কলমের চারার বংশগত গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। বীজ থেকে চারা পেতে বীজকে ভেজা গরম বালির ভেতর দেড়-দুই মাস রেখে দিলে তাড়াতাড়ি গজায়। না হলে ৬-৮ সপ্তাহ সময় লেগে যায়। কলমের চারা পেতে নির্বাচিত স্থানে বীজ বপণ ও চারা তৈরি করে তার উপর বাডিংয়ের মাধ্যমে কলম করে নেওয়া ভালো। বলয়, তালি অথবা টি-বাডিং যেকোনো পদ্ধতিতেই বাডিং করা যায়। তালি, চোখ কলমের চেয়ে সহজ। বাডিং করার জন্য বীজের চারার রুটস্টক বয়স ৯ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে। জাত, স্থান ও জলবায়ুভেদে মধ্য-মাঘ থেকে মধ্য-ফাল্গুনে শুরু করে মধ্য-আষাঢ় থেকে মধ্য-ভাদ্র মাস পর্যন্ত বাডিং করা যায়। তবে মধ্য-বৈশাখ থেকে মধ্য-আষাঢ় উপযুক্ত সময়। এক্ষেত্রে সায়ন সংগ্রহের উদ্দেশে নির্বাচিত জাত এবং রুটস্টক উভয়েরই পুরনো ডালপালা মধ্য-ফাল্গুন থেকে মধ্য-বৈশাখ মাসে ছাঁটাই করে দিতে হয়। এরপর নতুন শাখাকে বাডিংয়ের কাজে লাগাতে হয়।

কুল চাষের সহজ নিয়ম
কুল চাষের সহজ নিয়ম

মাটি
যেকোনো ধরনের মাটিতেই কুলের সন্তোষজনক ফলন পাওয়া যায়। কুলগাছ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। তবে ভারি ও সামান্য ক্ষারযুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটিতে কুলের ভালো ফলন পাওয়া যায়।

জমি তৈরি
বাগান আকারে চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি ভালো। তাছাড়া বাড়ির আনাচে-কানাচে, পুকুর পাড়ে বা আঙিনায় পড়ে থাকা অনুর্বর মাটিতেও গর্ত করে চাষ করা যায়।

রোপণ
বাগান আকারে চাষের জন্য বর্গাকার রোপণ প্রণালি অনুসরণীয়। রোপণ দূরত্ব ৬-৭ মিটার। জাত ও স্থানভেদে দূরত্ব কম-বেশি হবে। চারা রোপণের মাসখানেক আগে ১*১*১ মি আকারের গর্ত তৈরি করে নিতে হবে।

কুল চাষের সহজ নিয়ম
কুল চাষের সহজ নিয়ম

সময়
মধ্য-মাঘ থেকে মধ্য-চৈত্র এবং মধ্য-শ্রাবণ থেকে মধ্য-ভাদ্র রোপণ করা যায়।

সার
চারা রোপণের ১০-১২ দিন আগে ইউরিয়া ২০০-২৫০ গ্রাম, টিএসপি ২০০-২৫০ গ্রাম, এমপি ২৪৫-২৫৫ গ্রাম, পচা গোবর ২০-২৫ কেজি হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

পরিচর্যা
শুষ্ক মৌসুমে বিশেষত ফুল ও ফল ধরার সময়ে মাসে একবার সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। চারাগাছ (বীজের বা কলমে) হলে প্রথম বছর গাছটির কাঠামো মজবুত করার জন্য গাছের গোড়া থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার উঁচু পর্যন্ত কোনো ডালপালা রাখা যাবে না। এর উপরে শক্ত-সামর্থ কিছু শাখা-প্রশাখা গাছের অবস্থা অনুযায়ী রাখতে হবে। যেন ডালপালা সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

ছাঁটাই
ছাঁটাইয়ের সময় শক্ত-সামর্থ শাখাগুলোর গোড়া থেকে না কেটে কিছু অংশ রেখে অগ্রভাগ কেটে ফেলতে হবে। এছাড়া দুর্বল, রোগ ও কীট দৃষ্ট ও ঘনভাবে বিন্যস্ত ডালগুলো গোড়া থেকে কেটে পাতলা করে দিতে হবে। নতুন যে ডালপালা গজাবে সেগুলোও বাছাই করে ভালো ডালগুলো রেখে দুর্বল ডাল কেটে ফেলে দিতে হবে। বয়স বাড়র সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি গাছের জন্য সার দিতে হবে-

কুল চাষের সহজ নিয়ম
কুল চাষের সহজ নিয়ম

প্রয়োগ
সার বছরে ২-৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। ফল ধরা, ফল সংগ্রহ ও বর্ষার পর সার প্রয়োগ করা ভালো। সার দেওয়ার পর হালকা সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে দেওয়া উচিত।

ফল সংগ্রহ
জাত অনুসারে মধ্য-পৌষ থেকে মধ্য-চৈত্র মাসের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। ফলের রং হালকা সবুজ বা হলদে হলে সংগ্রহ করতে হয়। গাছপ্রতি ৫০-২০০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।

কুল চাষের সহজ নিয়ম
কুল চাষের সহজ নিয়ম

রোগ দমন
কুলের পাউডারি মিলডিউ একটি মারাত্মক রোগ। এতে ফলন হ্রাস পায়। ওইডিয়াম প্রজাতির ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। গাছের পাতা, ফুল ও কচি ফল এ রোগে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত ফুল ও ফল গাছ থেকে ঝরে যায়। গাছের পরিত্যক্ত অংশ এবং অন্যান্য পোষক উদ্ভিদে এ রোগের জীবাণু বেঁচে এবং বাতাসের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। উষ্ণ ও ভেজা আবহাওয়ায় বিশেষ করে মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

প্রতিকার
গাছে ফুল দেখা দেওয়ার পর থিওভিট নামক ছত্রাকনাশক প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা টিল্ট ২৫০ ইসি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। পরবর্তীতে ১৫ দিন পর পর দু’বার স্প্রে করতে হবে।

  • কুল চাষের সহজ নিয়ম

    কুল চাষের সহজ নিয়ম

  • কুল চাষের সহজ নিয়ম

    কুল চাষের সহজ নিয়ম

  • কুল চাষের সহজ নিয়ম

    কুল চাষের সহজ নিয়ম

  • কুল চাষের সহজ নিয়ম

    কুল চাষের সহজ নিয়ম

  • কুল চাষের সহজ নিয়ম

    কুল চাষের সহজ নিয়ম

  • কুল চাষের সহজ নিয়ম
  • কুল চাষের সহজ নিয়ম
  • কুল চাষের সহজ নিয়ম
  • কুল চাষের সহজ নিয়ম
  • কুল চাষের সহজ নিয়ম
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

ফল

জাহানারার গাছে দুলছে বারোমাসি আম

জাহানারার গাছে দুলছে  বারোমাসি আম
জাহানারার গাছে দুলছে বারোমাসি আম

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সাহারভিটা গ্রামের জাহানারা বেগম। নিজেদের প্রয়োজনে বাড়ির চারপাশে কয়েক জাতের আম গাছ লাগান। সাথে ৫ বছর আগে একটি বারোমাসি আম গাছও লাগান। তখন বছর যেতে না যেতেই আম ধরতে শুরু করে। সেই গাছ এখনো বারো মাস আম দিয়ে যাচ্ছে।

জাহানারা বেগম জানান, বারোমাসি আম গাছে সারা বছর আম থাকে। প্রতিটি আমের ওজন ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম হয়। খেতেও অনেক সুস্বাদু। আম শেষ হতে না হতেই আবার মুকুল আসে। এভাবে সারা বছর আম থেকে যায় গাছে।

জাহানারার গাছে দুলছে  বারোমাসি আম
জাহানারার গাছে দুলছে বারোমাসি আম

অসময়ে আমের মুকুল ও ফল দেখে অনেকেই এ আমের চাষ করতে আগ্রহ পোষণ করেছেন। এমনই এক যুবক একরামুল হক বলেন, ‘আমরা বাজার থেকে ফল কিনতে গেলে ফরমালিনের ভয় থেকেই যায়। তাই বাণিজ্যিকভাবে এ আমের চাষ করলে ভয় কমে যাবে।’

জাহানারার গাছে দুলছে  বারোমাসি আম
জাহানারার গাছে দুলছে বারোমাসি আম

গাছাবাড়ী গ্রামের কৃষক ছাইদুর রহমান বলেন, ‘বারোমাসি আম গাছ লাগানোর অনেক ইচ্ছা আছে। তবে চারা না পাওয়ায় লাগাতে পারছি না। সরকারিভাবে যদি আমের চারা দিতো, তাহলে লাগাতে পরতাম। কারণ ভালো জাতের বারোমাসি আমের কাটিং চারার দাম ৩শ থেকে ১ হাজার টাকা।’

সাঘাটা উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, ‘ফরমালিনের হাত থেকে বাঁচতে বারোমাসি ফল চাষ করা একান্ত জরুরি। আমরা কৃষকদের মাঝে বারোমাসি বিভিন্ন ফলের চারা বিতরণে চেষ্টা করবো।’

জাহানারার গাছে দুলছে  বারোমাসি আম
জাহানারার গাছে দুলছে বারোমাসি আম

কৃষি গবেষক মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বারোমাসি আমের চারা উৎপাদন করতে সরকারের কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসা দরকার। কিভাবে চারা রোপণ করতে হয়, তা হাতেকলমে শেখালেই ফলের চারার সংকট দূর করা সম্ভব।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

স্ট্রবেরিতে ঈর্ষণীয় সফলতা

স্ট্রবেরিতে ঈর্ষণীয় সফলতা
স্ট্রবেরিতে ঈর্ষণীয় সফলতা

দুই একর জায়গায় বিশেষায়িত শেডের নিচে হাজার হাজার স্ট্রবেরিগাছে পাতার ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে গাঢ় লাল বর্ণের স্ট্রবেরি। বাগানের পরিচর্যায় কর্মীদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন বাগানের মালিক সেলিনা আক্তার। সেলিনা শিক্ষার উচ্চপর্যায়ের পাঠ চুকিয়ে, চাকরি না করে নেমেছেন কৃষিকাজে। আর তাঁর বাগানেই ২২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। স্ট্রবেরি ফলনেও দেখিয়েছেন ভিন্নতর চমক।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে সেলিনা আক্তার গড়ে তুলেছেন এ স্ট্রবেরি–বাগান। স্বামী দেলোয়ার হোসেনের সহায়তায় সেলিনা প্রথমবারের ফলনেই পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সফলতা। পেয়েছেন কৃষিভিত্তিক পুরস্কার ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’।

সম্প্রতি স্ট্রবেরি বাগানে দাঁড়িয়েই সেলিনা বললেন, ‘পড়াশোনা শেষে পরিবারের অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন চাকরি করার জন্য। কিছু শুরু করার আগেই আমার বিয়ে হলো। বিয়ের পর জানলাম স্বামীও আমার মতো কৃষিকাজ ভালোবাসেন। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে শুরু করলাম স্ট্রবেরি চাষ। স্বামীর ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’ নামের প্রতিষ্ঠানে ক্যাপসিকাম, গোলাপ, অর্কিড, জারবেরা ফুলসহ অন্যান্য সবজি চাষের শেড ছিল। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও দুটি বিশেষায়িত শেড তৈরি করা হলো।’

২০১৪ সাল থেকেই সেলিনা ক্যাপসিকাম, ফুলসহ বিভিন্ন কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। ফুল উৎপাদনে সফলতায় তিনি ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ অর্জন করেন। অন্যদিকে পুরোদমে স্ট্রবেরি উৎপাদনে যান গত বছর। শুধু ফল উৎপাদনে নয়, চারা উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। জানান, চলতি বছর প্রতি কেজি স্ট্রবেরি এক হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাঁর মতে, স্ট্রবেরি চাষ খুবই লাভজনক।

সেলিনা জানান, প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আট হাজার স্ট্রবেরির বিয়ার রুট (মূল চারা) আনা হয়। সেগুলোকে শেডে রেখে যত্ন করা হয়। সেই আট হাজার চারা থেকে পাওয়া যায় এক লাখের বেশি ডটার রুট বা চারা। পরে সেগুলো থেকে ১১ জন কৃষকের কাছে ৮০ হাজার চারা বিক্রি করা হয়। রেখে দেওয়া ২০ হাজার চারা থেকে এখন হচ্ছে সুস্বাদু স্ট্রবেরি।

সেলিনা জানান, তাঁর বাগানের বড়সড় একেকটি স্ট্রবেরির ওজন ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। এক কেজিতে ৩০ থেকে ৪০টি স্ট্রবেরি ধরে। স্বাদের ভিন্নতার কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্ট্রবেরি কিনতে আসেন অনেকেই।

সেলিনার স্ট্রবেরি–বাগান প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন বললেন, একজন শিক্ষিত নারী কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন, এটা খুব আশাজাগানিয়া বিষয়।

 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মুঈদ বললেন, ইংরেজিতে এম এ পাস একজন নারী কৃষি ও টেকনোলজির বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে তা মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাচ্ছেন যা কৃষির জন্য খুবই ইতিবাচক। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মাচায় বারোমাসি তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য

মাচায় বারোমাসি তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য
মাচায় বারোমাসি তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভারাহুত গ্রামে প্রথমবারের মতো মাচায় চাষ হচ্ছে উন্নত জাতের বারোমাসি তরমুজ। কৃষি বিভাগের পরামর্শ বা কোন সহযোগিতা ছাড়াই প্রায় ২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় এ তরমুজ। কালচে রঙের তাইওয়ান ব্ল্যাকবেবি ও হলুদ রঙের মধুমালা জাতের বারোমাসি তরমুজসহ পরীক্ষামূলকভাবে ইন্ডিয়ান জেসমিন-১ ও ২ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়।

ভারাহুত গ্রামে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মূছা মিয়া ২.৫ শতাংশ জমিতে ৪ হাজার ৭শ’ টাকা খরচ করে পরীক্ষামূলকভাবে তাইওয়ান ব্ল্যাকবেবি জাতের তরমুজ চাষ করেন। ২ মাসেই তিনি ২৩ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। তার এ অভাবনীয় সাফল্যে এবার এলাকায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে তাইওয়ান ওই জাতের তরমুজ চাষ করা হয়।

জয়পুরহাটের ভারাহুত, কয়তাহার, দাউসারা, কুসুমসারা, মাহমুদপুর গ্রামের জমি তরমুজ চাষের উপযোগী বলে জানান বেসরকারি সংস্থা এসো’র কৃষিবিদ মোজাফফর রহমান। ব্ল্যাকবেবি ও মধুমালা জাতের তরমুজ শীতকাল ছাড়া বছরের সবসময় চাষ করা যায়। এর দামও ভালো পাওয়া যায়। মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় উৎপাদন হারও বেশি। মালচিং পেপার বেডে সেটিং ও নেটিংয়ের ফলে বৃষ্টি, পোকা-মাকড় ও ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। মাচা ও মালচিং পেপার তিন বার ব্যবহারের উপযোগী হওয়ায় ২য় ও ৩য় ধাপে তরমুজের উৎপাদন খরচও খুব কম হয়। কীটনাশক ছাড়া বিষমুক্ত, কেঁচো সার, কম্পোস্ট, বায়োনিম, ফেরোম্যান ট্যাপ ব্যবহারের ফলে রোগের প্রকোপ কম হয়।

মাচায় বারোমাসি তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য
মাচায় বারোমাসি তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য

ভারাহুত গ্রামের রেজুয়ান ৫৫ শতাংশ জমিতে ৪৭ হাজার টাকা খরচ করেন। এতে তার ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা লাভ হয়। বাবু ৩০ শতাংশ জমিতে ৪২ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা লাভ করেন। রবিউল ১৫ শতাংশ জমিতে ২২ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা লাভ করেন। এভাবে অন্যরা সরকারি সহায়তা ছাড়াই স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা এসো’র সহযোগিতায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন এই বারোমাসি তরমুজ।

সবকিছু মিলিয়ে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় তরমুজ হয় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কেজি। বীজ লাগানোর দিন থেকে ৬৫-৭০ দিনের মাথায় এ তরমুজ বিক্রির মাধ্যমে প্রতি বিঘায় চাষিরা লাভ করছেন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ভারাহুত গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, তরমুজের দাম ৬০-৭০ টাকা কেজি হওয়ায় কম সময়ের মধ্যে প্রচুর লাভ হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার লোকজন তরমুজ চাষে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে।

কৃষিবিদ মোজাফফর রহমান বলেন, ‘সারা বছর তরমুজ হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। জেলায় এমন লাভজনক ফসল দেখে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন এ তরমুজ চাষে।’

মাচায় বারোমাসি তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য
মাচায় বারোমাসি তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘মাচায় তরমুজ চাষ হওয়ায় ফলনও ভালো হচ্ছে। আমাদের কাছে এলে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে পারবো। ফলন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যাপার কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

বেশিরভাগ ফল গাছই দেশের সব জায়গায় কম-বেশি জন্মে। কারণ দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানের আবহাওয়ার পার্থক্য খুব বেশি নয়। আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান এবং মাটির গুণাবলী ফল গাছের ফল ধারণ, বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণের বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করে। আসুন জেনে নেই আবহাওয়া নির্ভর মাটির গুণাবলী সম্পর্কে—

গুণাবলী
সাধারণত উঁচু জমি ফল চাষের জন্য বেশি ভালো। দেশের বিভিন্ন স্থানের জমির গুণাবলীতেও অনেক পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও মাটি লালচে, কোথাও কালচে, কোথাও বালি বেশি, কোথাও কর্দমাক্ত। কোথাও লবণের ভাগ বেশি, কোথাও অম্লমান বেশি। কোথাও কম নিষ্কাশিত, কোথাও সু-নিষ্কাশিত। পানির স্তর কম-বেশি হয়।

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

ঋতুচক্র
ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার উপাদানগুলোর মধ্যে ঋতুচক্র একটি বিষয়। কারণ তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত ঋতুচক্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে ঋতুভেদে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

তাপমাত্রা
ফল গাছের বৃদ্ধি এবং ফল ধারণের জন্য তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা কম-বেশি হলে ফল চাষে বিঘ্ন ঘটে। একই ফলের বিভিন্ন জাতের মধ্যেও তাপমাত্রার প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হতে পারে।

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

বৃষ্টিপাত
সব ফল গাছের বৃষ্টিপাতের চাহিদা এক নয়। বৃষ্টিপাত কম-বেশি অনেক ফল গাছের ক্ষতি করে। গাছে ফুল ফোটার সময় বেশি বৃষ্টি হলে পরাগ রেণু ও গর্ভমুণ্ডের আঠালো রস ধুয়ে যায়। ফুলে কীট-পতঙ্গের আনাগোনা কমে যায়। ফলে নিষেকক্রিয়া ব্যাহত হয়ে ফল উৎপাদন হ্রাস পায়।

আলো
গাছের বৃদ্ধি, ফল উত্পাদন এবং গুণগতমান অক্ষুণ্ন রাখতে আলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে বিভিন্ন ধরনের ফল গাছের জন্য আলোর চাহিদায় ভিন্নতা রয়েছে।

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

আর্দ্রতা
ফলের আকার, আকৃতি, রং, গুণগতমান বাতাসের আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে। কিছু ফল শুষ্ক আবহাওয়ায় এবং কিছু ফল আর্দ্র আবহাওয়ায় ভালো জন্মে।

গতিবেগ
ফল চাষের জন্য বাতাসের গতিবেগ গুরুত্বপূর্ণ। গতিবেগ বাড়লে গাছ এবং মাটির রস দ্রুত নিঃশেষ হয়। এজন্য ঘন ঘন পানি সেচের প্রয়োজন হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ে। তাছাড়া ঝড়ো বাতাসে ফল গাছের এবং ফলের অনেক ক্ষতি হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হলুুদ ও লাল তরমুজ চাষে সফল অর্ধশত গ্রামের কৃষক

 হলুদ ও লাল তরমুজ চাষে সফল অর্ধশত গ্রামের কৃষক
হলুদ ও লাল তরমুজ চাষে সফল অর্ধশত গ্রামের কৃষক

ফরিদপুর জেলার অর্ধশত এলাকায় গত দু’বছর যাবত চাষ করা হচ্ছে সুস্বাদু বারোমাসি হলুদ ও লাল তরমুজ। গত বছর স্বল্প পরিসরে এ ভিন্নধর্মী দু’ ধরনের তরমুজ চাষ করে বাজার মূল্য ভালো পাওয়ায় চাষ বেড়ে এবার দ্বিগুণ হয়েছে। তবে এ তরমুজে কৃষকরা বেশি লাভবান হওয়ায় সামনের বছরগুলোতে চাষ বেশি হবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। এদিকে ভিন্নধর্মী এ তরমুজ জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

জানা যায়, জেলার সদরপুর, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, সাতৈর, কাটাখালী, শৈলডুবি, মজুমদার বাজার ও যাত্রাবাড়ীসহ অর্ধশতাধিক এলাকায় গত বছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বারোমাসি হলুদ ও লাল তরমুজ চাষ শুরু হয়। বিশেষ করে এ দু’ ধরনের তরমুজ কৃষকরা বিষমুক্তভাবে চাষ করছেন।

হলুদ তরমুজ (কার্নিয়া) ও লাল তরমুজ (সুইট ব্লাক-২) মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এরমধ্যে হলুদ তরমুজ মাটিতে এবং লাল তরমুজ মাচাসহ (ব্যালচিং পদ্ধতি) মাটিতেও চাষ করা যায়। তেমন কোন পরিশ্রম না থাকায় খুব সহজে এ তরমুজ চাষ এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে কী পরিমাণ জমিতে এ তরমুজ চাষ হয়েছে তার কোন তথ্য দিতে পারেনি কৃষি অফিস। কৃষি অফিস জানায়, তাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে।

 হলুদ ও লাল তরমুজ চাষে সফল অর্ধশত গ্রামের কৃষক
হলুদ ও লাল তরমুজ চাষে সফল অর্ধশত গ্রামের কৃষক

কাটাখালী এলাকার হলুুদ তরমুজ চাষি লিটন ফকির বলেন, ‘আমি প্রথম এ এলাকায় হলুুদ তরমুজের চাষ শুরু করি। আমার সফলতা দেখে অন্যরা এ চাষ শুরু করেন। আমি তাদের নানাভাবে সাহায্য করেছি। দত্ত সীডের মালিক তাপস দত্ত আমাকে প্রথমে এ বীজ দেন। তিনি মাঠে এসে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলেই সুফল পেয়েছি।’

ভাঙ্গার সাদিপুর এলাকার কৃষক শেখ জুয়েল বলেন, ‘আমি ১০ শতাংশ জমিতে তাপসদার কথা মতো পরীক্ষামূলকভাবে সুইট ব্লাক-২ তরমুজ চাষ শুরু করি। আমার খরচ হয়েছে মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা। ক্ষেতের মাঝপথে এসে এ পর্যন্ত বিক্রি নেমেছে ৫০ হাজার টাকা। আশা করছি আরও হবে।’

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা সুমন মাতুব্বর বলেন, ‘দেশের বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যে কারণে যে দামই হোক, আমরা এ তরমুজ কিনতে আসি। দাম বেশি বলেই এর পার্থক্য সবার থেকে আলাদা।’

 হলুদ ও লাল তরমুজ চাষে সফল অর্ধশত গ্রামের কৃষক
হলুদ ও লাল তরমুজ চাষে সফল অর্ধশত গ্রামের কৃষক

দত্ত সীডের মালিক তাপস দত্ত জানান, থাইলান্ড থেকে তিনি এ বীজ সংগ্রহ করেছেন। গতবছর কয়েকজন কৃষককে এ জাতের বীজ দেওয়া হয়। এরপর অন্যরা এ তরমুজের চাষ শুরু করেছেন। তার আশা, এ তরমুজ বেশি সুস্বাদু হওয়ায় এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এর চাষ অনেক বাড়বে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্ত্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘সুস্বাদু ও বারোমাসি হলুদ ও লাল তরমুজ স্বল্প সময়ের ফসল হওয়ায় কৃষকের জন্য লাভবান ফসল। ফলে এ তরমুজের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। তরমুজ চাষে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com