আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

কুরবানির সুস্থ পশু যেখানে পাবেন

কম খরচে লাভবান হতে ব্রাহমা গরুই ভরসা
কুরবানির সুস্থ পশু যেখানে পাবেন

কুরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও উট কেনার কথা ভাবছেন অনেকেই। তাই পশু কেনার আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই জেনে নেওয়া ভালো। তা হচ্ছে- সুস্থ পশু আর পশুর প্রাপ্তিস্থান। তাই আজ সুস্থ পশু চেনার উপায় ও প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে জেনে নিন-

সুস্থ পশু চিনবেন যেভাবে
১. সুস্থ পশুর চোখ উজ্জ্বল ও তুলনামূলক বড় হবে।
২. অবসরে জাবর কাটবে।
৩. কান নাড়াবে, লেজ দিয়ে মাছি তাড়াবে।
৪. বিরক্ত করলে সহজেই রেগে যাবে।

৫. গোবর স্বাভাবিক থাকবে, পাতলা হবে না। ৬. দেখতে প্রাণবন্ত, চামড়া ঝকঝকে দেখাবে।
৭. নাকের ওপরটা ভেজা ভেজা মনে হবে।
৮. খাবার এগিয়ে দিলে জিহ্বা দিয়ে তাড়াতাড়ি টেনে নেবে।

৯. মোটাতাজা করার ওষুধ দিলে শরীরে পানি জমে ফুলে ওঠে।
১০. আঙুল দিয়ে চাপ দিলে অসুস্থ পশুর শরীর দেবে যাবে।
১১. সুস্থ পশুর পানির প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে।
১২. সুস্থ পশুর পাঁজরের হাড়ে উঁচু-নিচু থাকবে।
১৩. আড়াই থেকে তিন বছরের গরু ভালো।

গবাদি পশুর রোগ ও প্রতিকার- তৃতীয় পর্ব
কুরবানির সুস্থ পশু যেখানে পাবেন

সুস্থ পশুর প্রাপ্তিস্থান
১. বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও রাজধানীর আশপাশে বেশ কয়েকটি খামার রয়েছে।
২. রাজধানীর কেরানীগঞ্জ, আটিবাজার, বেড়িবাঁধ, জিঞ্জিরা, হযরতপুরে প্রায় ৩শ খামার আছে।
৩. খামারিরা যে কোন স্থানে বিনামূল্যে গরু পৌঁছানোর সুবিধা দিয়ে থাকে।

৪. এখানে ভারত থেকে আমদানি করা হাসা জাতের গরু পাবেন।
৫. সিলেটের বড় শিংওয়ালা ফাইটার ষাঁড়, ভুট্টি গরুসহ দেশি গরুও রয়েছে।
৬. পাকিস্তানি শাহিওয়াল, পাকরা এবং নেপালি জাতের গরু পাবেন।

কুরবানির সুস্থ পশু যেখানে পাবেন
কুরবানির সুস্থ পশু যেখানে পাবেন

খামারের সুবিধা
১. খামারগুলোতে বিভিন্ন জাতের পশু রয়েছে।
২. খামার থেকে গরুর ওজন মেপে কেনার সুবিধা রয়েছে।
৩. কেনার সময় নিজস্ব পশু চিকিৎসক পশু যাচাই-বাছাই করতে সাহায্য করবেন।

৪. বিক্রয়োত্তর চিকিৎসা সেবাও পাবেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসককে পারিশ্রমিক দিতে হয়।
৫. হাট-বাজারের চেয়ে তুলনামূলকভাবে দাম কম।
৬. ছোট ও মাঝারি গরু বেশি কিনতে পারবেন।
৭. দালালের খপ্পড়ে পড়ার ভয় নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

লাইভস্টক

কোয়েলই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে

কোয়েলই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে
কোয়েলই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে

নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছা, ধৈর্য আর চেষ্টা থাকলে অনেকভাবেই আয় করা যায়। এমনই এক দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছেন চুন্নু নামের এক যুবক। কোয়েল পাখির খামার দিয়ে তা বিক্রি করে তিনি এলাকার বেকারদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছেন। নিজে হয়েছেন স্বাবলম্বী। চুন্নুর দেখাদেখি ফরিদপুরের বেকার যুবকরা দিন দিন কোয়েল ও টার্কি মুরগি পালনের দিকে ঝুঁকছে। বাজারে বেশ চাহিদা থাকায় এবং দামও ভালো পাওয়ায় অনেক বেকার যুবক এখন টার্কি-কোয়েল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে চুন্নু মিয়া গত কয়েক বছর আগে ১৬ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে কোয়েল পালন শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার পুঁজি ২৩ লাখ টাকা। তিনি কোয়েলের পাশাপাশি টার্কি ও তিতির পালন করছেন।

অভাবের সংসারে চুন্নু মিয়া পড়াশোনা বেশিদূর এগোতে পারেনি। তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তখন থেকেই তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। এ কারণে আর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে পঞ্চম চুন্নু। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। চুন্নু তার নিজের ১৬ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করে কোয়েল পালন। খলিলপুর বাজারের কাছে ২০ শতাংশ জমি বাৎসরিক ১০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে একটি শেড নির্মাণ করে কোয়েলের খামার করেন তিনি। এ খামারটি শুরু করতে সব মিলিয়ে তার ব্যয় হয়েছিল ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে নিজের ১৬ হাজার টাকা বাদে বাকি টাকার জোগান দিয়েছিল তার এক আত্মীয়।

খলিলপুর বাজার সংলগ্ন ‘ফ্রেন্ড কোয়েল হ্যাচারি টার্কি ও তিতির ফার্ম’-এ গিয়ে কথা হয় চুন্নুর সঙ্গে। চুন্নু জানায়, প্রথমে নওগাঁ থেকে ৩৩৫টি কোয়েল এনে শুরু করেন খামার। প্রতিটি কোয়েলের দাম পড়েছিল ১০ টাকা করে, পরিবহন খরচসহ মূল্য পড়েছিল ১২ টাকা। তিনি জানান, প্রতিটি কোয়েল বছরে ৩ শটি ডিম দেয়। ডিম দেয়া বন্ধ করে দিলে প্রতিটি কয়েল ৩০/৩৫ টাকা দরে বিক্রি করে দেন। তবে ডিম তিনি বিক্রি করেন না। বাচ্চা ফুটিয়ে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলার অন্তত ২৫ জন খামারিদের কাছে সরবরাহ করে থাকেন।

চুন্নু ইনকুইবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে কোয়েলের বাচ্চা ফুটিয়ে প্রতিমাসে গড়ে ৩০ হাজার কোয়েল বিক্রি করেন বিভিন্ন খামারিদের কাছে। এই ইনকিউবেটরটি দুই বছর আগে কিনেছেন তিনি। কোয়েল দিয়ে খামার শুরুর কিছুদিন পর লেয়ার মুরগি পালন শুরু করেন চুন্নু। কিন্তু তাতে তিনি সুবিধা করতে পারেননি। তবে এখন কোয়েলের পাশাপাশি টার্কি ও তিতির পালন করছেন। ইন্টারনেট ঘেটে টার্কি ও তিতিরের লালন পালন বিষয়ে ধারণা নিয়ে এ ব্যাপারে উৎসাহি হন তিনি।

কোয়েলই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে
কোয়েলই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে

তিনি জানান, তিতির ও টার্কি বিক্রি হয় ওজন হিসেবে। তিতির সাধারণত সৌখিন ব্যক্তিবর্গ বাড়ির শোভা বাড়াতে পালন করার জন্য সংগ্রহ করে থাকেন। প্রতি কেজি তিতির নয়শ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর খাবারের মাংস হিসেবেই টার্কি বিক্রি হয়। এ মাংস মুরগির মাংসের চেয়ে শক্ত এবং কোলেস্টরেল মুক্ত, খেতেও ভালো। টার্কির মাংস বিক্রি হয় ৮শ টাকা কেজি দরে। একটি টার্কিতে আট, দশ থেকে শুরু করে ১৮ কেজি পর্যন্ত মাংস হয়। কোয়েলের ডিম থেকে বাচ্চা হতে সময় লাগে ১৮ দিন। অপরদিকে টার্কি ও তিতিরের ডিম ফুটে বাচ্চা হতে সময় নেয় ২৮ দিন।

চুন্নু অভিযোগ করে বলেন, জেলার পশু হাসপাতালে গিয়ে তেমন একটা সহযোগিতা পাওয়া যায়না। অনেক সময় কাউকেই পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, পশু হাসপাতালের সহযোগিতা পেলে আরও লাভবান হতে পারতাম।

‘আমার রুটি রুজি কোয়েলের মাধ্যমে হয়েছে’-মন্তব্য করে চুন্নু বলেন, অভাবের কারণে বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারিনি। তাই চাকরি বাকরির বিফল চেষ্টা না করে সরাসরি নেমে গেছি কোয়েল পালনে। হয়ে উঠেছি একজন খামারি। কোয়েলই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সঙ্গে দিয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা আর পরিচিতি।

ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল হক বলেন, জেলার তরুণ ও যুবকরা কোয়েল চাষে উৎসাহিত হচ্ছে এটি একটি ভালো দিক। কোয়েল চাষ খুবই লাভজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরা খাবার কম খায়, রোগ বালাই হয় না বললেই চলে। পশু হাসপাতালে গিয়ে ভোগান্তির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাবিবুল হক বলেন, আমাদের জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা আমরা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি।

ফরিদপুরে কতজন কোয়েল খামারি রয়েছেন জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের হাতে এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ পরিসংখ্যান নেই। তবে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি, কিছুদিনের মধ্যে এ সংখ্যা জানাতে পারবো। তবে দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, বর্তমান সরকার বেকার যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং দিয়ে আসছে। জেলাতে যুব উন্নয়ন, মৎস্য বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ, বিসিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া আছে বেকার ও শিক্ষিত যুব সমাজকে ট্রেনিংসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলার। এ কারণে ফরিদপুরের অনেক বেকার যুবকরাই এখন গাভি পালন, কোয়েল কিংবা টার্কি মুরগি পালনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এতে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

টার্কিতে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা

টার্কিতে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা
টার্কিতে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা

সিরাজগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন শুরু হয়েছে। বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে টার্কি পালনেই ঝুঁকছেন অনেক বেকার যুবক।

সিরাজগঞ্জ সদরসহ প্রত্যেক উপজেলা মিলে ছোট-বড় প্রায় ১২৫টি খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রায় ৫০ হাজার টার্কি পালন করছেন খামারিরা। টার্কির বাচ্চা পালন করে মাত্র তিন মাসের মাথায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে লাভোবান হচ্ছেন খামারিরা। এতে আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি মাংসের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।

টার্কিতে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা
টার্কিতে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা

টার্কির খাবার হিসেবে গমের ভুষি, শাকসবজি ও পোল্ট্রি ফিড দেয়া হয়। এদের খাদ্য খরচ কম। তাছাড়া টার্কির মারা যাওয়ার হারও খুব সামান্য। টার্কি প্রায় বারো মাসই ডিম দেয়। টার্কির মাংসও সুস্বাদু।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কাটাগাড়ি গ্রামের ৭০ বছর বয়সী ফজর আলী আকন্দ টার্কি পালনের মাধ্যমে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন। মাত্র ৩৬ হাজার টাকা মূলধনে ১২টি দিয়ে শুরু করে ৬ মাসের ব্যবধানে প্রায় ১০০টির মতো টার্কি রয়েছে তার। যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২ লক্ষাধিক টাকা।

টার্কিতে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা
টার্কিতে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা

টার্কি খামারি ফজর আলী জানান, কৃত্রিম খাবারের তুলনায় প্রাকৃতিক ঘাস জাতীয় খাবারই টার্কির জন্য উপাদেয়। তাদের এলাকার খোলা মাঠগুলো সবুজ ঘাসে ভরপুর। তাই অন্যান্য এলাকার তুলনায় টার্কি পালনে খরচও কম হচ্ছে তার।

তাড়াশ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ জানান, টার্কির মাংস অনেক বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। এটি লালন-পালনে খরচ যেমন কম তেমনি মাংসের গুণগত মানও অনেক ভালো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

নোয়াখালীতে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী কামাল

নোয়াখালীতে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী কামাল
নোয়াখালীতে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী কামাল

দেশে ক্রমবর্ধমান মাংসের চাহিদা মেটাতে পোল্ট্রি শিল্পের পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টার্কি মুরগীর পালন। টার্কি পালনে খরচ কম হওয়ায় এবং অল্প সময়ে অধিক লাভের পাশাপাশি টার্কি বিদেশেও রফতানি করা যায়। পোল্ট্রি শিল্পের বিকল্প হিসেবে টার্কি শিল্পের দিকেই ঝুঁকছেন নোয়াখালী অঞ্চলের খামারিরা। তবে টার্কি পালনে সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা না থাকা ও মাঠ পর্যায়ে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারনেই বাধার মুখে পড়ছে সম্ভাবনাময় এ নতুন শিল্পটি।

সরেজিমনে নোয়াখালীর সেনবাগের অর্জূনতলা ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে কামাল ভূঁইয়ার টার্কি মুরগীর খামারটি। তিনি জানান, ২০১৬ সালে বিদেশে থেকে দেশে এসে নিজ পৈত্রিক ৪৭ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলেন টার্কি মুরগীর খামার কিং এগ্রো গ্রুপ। প্রথমে ২০০ টার্কি মুরগীর বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। কিন্তু টার্কি মুরগী পালনে অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুতেই অনেক ঝুঁকি ও ঝামেলা পোহাতে হয়েছে এমনকি লোকসানও গুনতে হয়েছে। সে সময় অনেক টার্কির বাচ্চা মারা যায়। কিন্তু তাতে তিনি হতাশ হননি। আবার বিদেশ থেকে টার্কি বাচ্চা সংগ্রহ করে আনেন। বর্তমান তার এ খামারে ছোট বড় মিলে প্রায় দুই হাজার টার্কি মুরগী ও বাচ্চা রয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তিনি খামারটি সফলভাবে পরিচালনা করছেন। টার্কি মুরগী পালনের পাশাপাশি ডিম থেকে মেশিন দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে বাজারজাত করছেন। তিনি আরও জানান, খরচ কম হওয়ায় এ খামার থেকে প্রতিমাসে খরচ বাদ দিয়ে তিনি দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করছেন।

নোয়াখালীতে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী কামাল
নোয়াখালীতে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী কামাল

কামাল ভূঁইয়ার জানান, টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। সামান্য ভ্যাকিসন দিলে এর রোগ চলে যায়। এছাড়া টার্কি ঘাস ও লতা পাতা খাওয়ার কারণে খাবারের জন্য বাড়তি তেমন কোনো খরচ হয় না। খরচ অনুপাতে লাভ বেশি।

এদিকে কামাল ভুইয়ার টার্কি খামারে সফলতার খবরটি এলাকায় বেশ সাড়া পড়েছে। বিশেষ করে খামারে বয়লার ও লেয়ার মুরগি পালন করতে উৎপাদন খরচ মেটাতেই অনেকে লোকসানে পড়ে বন্ধ করে দেয়া খামার মালিকরা নতুন সম্ভাবনাময় এ টার্কি খামারের দিকে ঝুঁকছেন। অল্প খরচে র্টাকি খামার থেকে লাভবান হওয়ার দেখাদেখি টার্কি মুরগীর পালন নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে এ অঞ্চলের মানুষের মনে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক বেকার শিক্ষিত যুবকরা এসে এ খামার দেখছেন এবং এখান থেকে টার্কি মুরগী বাচ্চা নিয়ে নিজ এলাকায় খামার গড়ে তোলছেন। অনেকে লাভেরও মুখ দেখেছেন।

নোয়াখালীতে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী কামাল
নোয়াখালীতে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী কামাল

তবে সম্ভাবনায় এ শিল্পটি নতুন হওয়ায় এখনও এলাকার অনেকে কাজে পুরোপুরি বিষয়টি অজানা। তাই অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ার এ সম্ভাবনা খাতটি আরও বৃদ্ধি করণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও খামার স্থাপনে নতুন উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করার দাবি এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. জাকির হোসেন জানান, টার্কি পালন নতুন একটি শিল্প হলেও দিন দিন এর প্রতি খামারিদের আগ্রহ বাড়ছে। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে টার্কির মাংশ বিদেশে রফতানি করে বৈদেশীক মুদ্রা আয় করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। তিনি আরো জানান, জেলায় মাত্র ১৬টি টার্কি খামার গড়ে উঠলেও সেনবাগে উপজেলায় রয়েছে ১২টি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

টার্কি পালনে সাফল্যের স্বপ্নযাত্রায় মানিকছড়ির জামাল উদ্দীন

টার্কি পালনে সাফল্যের স্বপ্নযাত্রায় মানিকছড়ির জামাল উদ্দীন
টার্কি পালনে সাফল্যের স্বপ্নযাত্রায় মানিকছড়ির জামাল উদ্দীন

মাত্র দুটি টার্কি দিয়ে শুরু করে বর্তমানে টার্কি পালনে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির ছেলে মো. জামাল উদ্দীন মৃধা। গত এক বছরে তিন লাখ টাকা আয়সহ প্রায় চার শতাধিক টার্কির সফল খামারি তিনি। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির গচ্ছাবিল এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘মৃধা টার্কি ফার্ম’।

পাহাড়ে মুখীকচু চাষ, আম বাগান, আনারস বাগান সৃজনসহ মৌসুমি ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল জামাল উদ্দিনের আয়ের একমাত্র উৎস। পাশাপাশি ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসা। এ দিয়ে কোনো রকমে টেনেটুনে তার সংসার চলছিল। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনে পাল্টে যায় তার বাণিজ্যিক গতিপথ।

২০১৭ সালের আগস্টে ওই প্রতিবেদন দেখেন জামাল উদ্দিন। প্রতিবেদনে একজন সফল টার্কি চাষির সাফল্য গাঁথা দেখানো হয়। জানতে পারেন হাঁস-মুরগী পালনের পাশাপাশি টার্কি পালনে ব্যাপক সফলতার কথা। ওই প্রতিবেদন দেখে উৎসাহী হয়ে জামাল উদ্দিন সাফল্যের আশায় টার্কির সন্ধানে বের হন এবং চট্টগ্রাম থেকে দুটি টার্কি কিনে আনেন। ৪ মাস বয়সী একটি টার্কি টানা ৬০ দিন ডিম দিয়েছে। এর এক থেকে দেড় মাস পর আবার টানা দুই মাস ডিম দেয়। সেই থেকেই জামাল উদ্দীনের সাফল্যের পথে স্বপ্নযাত্রা শুরু।

টার্কি পালনের মাধ্যমে মাত্র এক বছরে স্বপ্নপূরণের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন স্বপ্নযাত্রী মো. জামাল উদ্দিন মৃধা। তবে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাব এবং টার্কির ডিম ও মাংস বাজারজাতকরণে এখনও পর্যাপ্ত গ্রাহক সৃষ্টি না হওয়ায় টার্কির উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না বলেও জানার তিনি।

টার্কি পালনে সাফল্যের স্বপ্নযাত্রায় মানিকছড়ির জামাল উদ্দীন
টার্কি পালনে সাফল্যের স্বপ্নযাত্রায় মানিকছড়ির জামাল উদ্দীন

টার্কি চাষি মো. জামাল উদ্দিন মৃধা বলেন, দুটি টার্কি দিয়ে শুরু করে এখন তিনি তিনশ টার্কির মালিক। টার্কির পাশাপাশি চায়না মোরগ তিতির ও ইন্দোনেশিয়ার কেদারনাথ মোরগ পালন শুরু করেছেন। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই তার খামারে যুক্ত হবে টাইগার মুরগী।

তিনি বলেন, তিনটি মহিলা টার্কির সঙ্গে একটি পুরুষ টার্কির সংমিশ্রণে রাখা হলে সকল ডিমে শতভাগ বাচ্চা পাওয়া সম্ভব। একটি সুস্থ টার্কি ৩-৪ বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। আর ওইসব ডিম মেশিনের মাধ্যমে বাচ্চ ফুটাতে হয়। তবে টার্কি সর্ম্পকে এখনও পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাব এবং ক্রেতা সঙ্কটে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না।

জামাল উদ্দিন মৃধা বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক টার্কির গড় ওজন ৭-৮ কেজি হয়। প্রতি কেজি টার্কির মাংস প্রায় ৪০০ টাকা, প্রতিটি ডিম ১০০-১২০ টাকা, একমাস বয়সী বাচ্চা ৪০০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, ফেনীর দাঁগনভুইয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র খামারিরা তার খামার থেকে ডিম ও বাচ্চা সংগ্রহ করেছেন।

টার্কি চাষ অত্যন্ত সহজ, লাভজনক ও প্রোটিন সমৃদ্ধ জানিয়ে পাহাড়ের সফল টার্কি চাষি মো. জামাল উদ্দিন মৃধা বলেন, কেউ টার্কি চাষে এগিয়ে আসলে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। টার্কি চাষ বেকারত্ব ঘোচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে জানান সফল এ টার্কি চাষি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

নতুন জাতের মুরগি উদ্ভাবন, দেশি স্বাদ ও নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা

নতুন জাতের মুরগি উদ্ভাবন, দেশি স্বাদ ও নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা
নতুন জাতের মুরগি উদ্ভাবন, দেশি স্বাদ ও নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা

ঐতিহ্যবাহী দেশি মুরগির মাংসের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবন করলো উন্নতজাতের মুরগি। দেখতে অবিকল দেশি মুরগির মতো। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অত্যন্ত উপযোগী। রোগবালাই কম হয় বলে এ জাতের মুরগি পালনে ওষুধের ব্যবহার অনেক কম। ফলে মাংস অনেক বেশি সুস্বাদু ও নিরাপদ।

স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই এ মুরগি বাজারজাত করা হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএলআরআই। এ বিষয়ে আফতাব হ্যাচারি লিমিটেড ও বিএলআরআইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে দেশি মুরগির মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে অথচ দেশি মুরগি বিলুপ্তপ্রায়। দেশি মুরগির মাংসের চাহিদা মেটাতে বিগত কয়েক বছরে সোনালি জাতের মুরগির প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ বেড়েছে। এদিকে সোনালি জাতের মুরগির মূল জাত সংরক্ষণ না করার কারণে রোগবালাই আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন সোনালি মুরগিতে ওষুধের ব্যবহার বেড়েছে অন্যদিকে নিরাপদ মুরগির মাংসের প্রাপ্যতা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ দেশি মুরগির মাংসের স্বাদের চাহিদা মেটাতে নতুন জাতের এ মুরগি উদ্ভাবন করল বিএলআরআই।

নতুন জাতের এ মুরগি সম্পর্কে শুক্রবার আফতাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় আফতাব বহুমুখী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, ভোক্তার চাহিদা বিবেচনায় দীর্ঘদিন থেকেই এ ধরনের একটি নির্ভরযোগ্য জাতের মুরগির প্রত্যাশা করছিল আফতাব হ্যাচারি। আমাদের মূল লক্ষ ছিল দেশি মুরগির স্বাদ ফিরিয়ে আনা, এমন এক জাতের মুরগি উদ্ভাবন করা, যা বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী এবং রোগবালাই সহিষ্ণু।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বিক্রয়) জি এইচ এন এরশাদ বলেন, খুব সহজেই এ মুরগি পালন করা যায়, দেশি মুরগির তুলনায় মাংসের পরিমাণও অনেক বেশি। আশা করা যায় এ মুরগি দেশীয় খামারিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে।

তিনি বলেন, এ জাতটিকে প্রাথমিকভাবে ‘বিএলআরআই মাল্টি কালার টেবিল চিকেন’ নাম দেয়া হলেও অচিরেই এর একটি ব্র্যান্ড নাম চূড়ান্ত করা হবে।

আফতাব বহুমুখী ফার্মসের হেড অব মার্কেটিং নুরুল মোর্শেদ খান বলেন, সোনালি জাতের মুরগিটিও সংকরায়নের মাধ্যমে দেশীয়ভাবে উদ্ভাবন করা হয়েছিল কিন্তু এর পিওরলাইন সংরক্ষণ না করার কারণে বছরের পর বছর ধরে ইনব্রিডিংয়ের ফলে রোগজীবাণুর সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করেছে। বিএলআরআইয়ের সাথে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী কেবল আফতাব হ্যাচারির মাধ্যমেই এ জাতের মুরগি বাজারজাত করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com