আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

কুরবানির পশু যেমন হবে

কুরবানির পশু যেমন হবে
কুরবানির পশু যেমন হবে

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই কিংবা ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে কুরবানি। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবেহের মাধ্যমে কুরবানি আদায় করতে হয়। কুরবানির নির্ধারিত দিনের আগেই কুরবানি দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য পশু কেনা জরুরি।

তবে সব পশু দিয়ে কুরবানি করা যায় না। আবার যেসব পশু দিয়ে কুরবানি করতে হয়, তা হতে হবে নিখুঁত। পশু কেনার আগে যেসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি সংক্ষেপে তা তুলে ধরা হলো-

> কুরবানির পশু
উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানি করা জায়েজ। তবে তা হতে হবে মানুষের গৃহপালিত পশু। এ ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন- হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানি করা বৈধ নয়। (বাদায়েউস সানাঈ)

> নর ও মাদা পশু
যেসব পশু দ্বারা কুরবানি বৈধ, সেসব পশুর নর ও মাদা উভয়টি দিয়েই কুরবানি করা বৈধ। সুতরাং নর ও মাদা উভয় পশু দিয়ে কুরবানি করা যায়।’ (বাদায়েউস সানাঈ)

> পশুর বয়স
– উট : কমপক্ষে ৫ বছর হতে হবে।
উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে।
– গরু ও মহিষ : কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে।
– ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা : কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে।
তবে ভেড়া ও দুম্বা ১ বছরের কিছু কম হলেও চলবে তবে তা দেখতে হৃষ্টপুষ্ট হতে হবে। তা দেখতে যেন ১ বছরের মতো মনে হয়। এমন হলে কুরবানি করা বৈধ। তবে ৬ মাসের কম হলে হবে না। আর ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানি বৈধ নয়।’ (বাদায়েউস সানাঈ)

> পশুতে অংশীদারের সংখ্যা
– উট, গরু, মহিষ : সর্বোচ্চ ৭ জন শরিক হয়ে কুরবানি দেয়া যাবে। এ পশুগুলো একাকিও কুরবানি করা যাবে। এককভাবে কুরবানি করাই উত্তম। এ পশুগুলোতে সাতের অধিক ব্যক্তি শরিক হলে তা দ্বারাও কুরবানি আদায় হবে না।
– ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা : এ পশুগুলোর যে কোনোটিই সর্বোচ্চ একজনের দ্বারা কুরাবানি করা বৈধ। এ পশুগুলোর একটি দিয়ে একাধিক ব্যক্তি কুরবানি করতে পারবে না। যদি একাধিক ব্যক্তি এ পশুগুলো দিয়ে কুরবানি করে তবে তার কুরবানি আদায় হবে না।’ (মুয়াত্তা মালেক, মুসলিম, বাদায়েউস সানাঈ)

> কুরবানির উত্তম পশু
যেসব পশু দিয়ে কুরবানি করা যায়, সেসব পশুর মধ্যে হৃষ্টপুষ্ট এবং দেখতেও সুন্দর তা দিয়ে কুরবানি করা উত্তম।’ (মুসনাদে আহমাদ, বাদায়েউস সানাঈ)

> যেসব পশুতে কুরবানি বৈধ নয়
গৃহপালিত উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানি করা জায়েয। এ পশুগুলোর মধ্যে এমন কিছু খুঁত বা সমস্যা রয়েছে যে কারণে তা দিয়ে কুরবানি বৈধ হবে না। আর তাহলো-
– যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন খুত থাকা পশু দ্বারা কুরবানি বৈধ নয়। (তিরমিজি, আবু দাউদ, বাদায়েউস সানাঈ, রদ্দুল মুহতার)
– এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না; তা দ্বারাও কুরবানি করা বৈধ নয়।’ (তিরমিজি, বাদায়েউস সানাঈ)
– যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না, এমন পশু দ্বারাও কুরবানি করা বৈধ নয়।’ (বাদায়েউস সানাঈ)
– যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশু দ্বারা কুরবানি বৈধ নয়। (তবে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু দিয়ে কুরবানি করা বৈধ।)’ (তিরমিজি, আবু দাউদ, রদ্দুল মুহতার, বাদায়েউস সানাঈ)
– যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশু দ্বারাও কুরবানি বৈধ নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তা দ্বারা কুরবানি বৈধ।’ তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)
– যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু দ্বারাও কুরবানি বৈধ নয়।’ (তিরমিজি, বাদায়েউস সানাঈ)

> পশু গর্ভবতী হলে
গর্ভবতী পশু দ্বারাও কুরবানি করা বৈধ। তবে জবেহ করার পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তবে সে বাচ্চাও জবাই করতে হবে। এ পশু যদি প্রসবের সময় কুরবানির কাছাকাছি হয় তবে তা কুরবানি করা মাকরূহ। (কাযীখান)

> পশু কেনার পর দোষ দেখলে
কুরবানির নিয়তে পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয়, যে কারণে কুরবানি বৈধ নয়; তখণ ওই পশু দ্বারাও কুরবানি বৈধ হবে না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানি করতে হবে। তবে ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কুরবানি করতে পারবে। (বাদায়েউস সানাঈ, রদ্দুল মুহতার)

> পশু বন্ধ্যা হলে
কুরবানির পশু বন্ধ্যা হলেও তা দ্বারা কুরবানি করা বৈধ। (রদ্দুল মুহতার)

পশু কুরবানির ক্ষেত্রে বা পশু নির্বাচনের সময় এ বিষয়গুলো দেখে পশু কেনা জরুরি। আর কুরবানির ক্ষেত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি। অন্যথায় কুরবানি আদায় হবে না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার নৈকট্য অর্জনে বৈধ পশু দিয়ে উল্লেখিত শর্ত মেনে কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। কুরবানিকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমিন।

ইসলাম

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইসলামিক জাদুঘর

ইসলামিক মিউজিয়াম অব অস্ট্রেলিয়া নামের এ জাদুঘরটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত। দেশটিতে আগত দর্শনার্থীদের কাছে ইসলামের ইতহাস, জীবন-যাত্রা ও মুসলিম সভ্যতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে গড়ে তোলা হয়েছে এ জাদুঘর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য
পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদে এ রূপ কেউ কখনও দেখেনি। মসজিদের চিরচেনা রূপ এখন আর নেই। ড্রোনে তোলা এক ছবিই তার প্রমাণ। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় তোলা দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিটিতে দেখা যায় জনমানবহীন সুনসান নিরব ইট-পাথরের তৈরি এ মসজিদ প্রাণহীন দাঁড়িয়ে আছে।

যে মসজিদ আঙিনা সব সময় মুসল্লি ও পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হতো। জীবন হরণকারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভারে কারণে পাল্টে গেছে এ মসজিদের চিরচেনা রূপ। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে মসজিদটি সাধারণ মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

১৮৫৭ সালের রমজান মাসেও একবার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছিল। তবে তা এবারের মতো ছিল না। সে সময় ব্রিটিশরা মসজিদটিকে বাজেয়াপ্ত করেছিল এবং এ মসজিদেকে তারা সৈন্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। মসজিদটি তারা ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলো, কিন্তু মুসলিম জনতার কঠোর আন্দোলনে তাতে সফল হয়নি ব্রিটিশরা।

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য
পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

১৬৩ বছর পর… মহামারি করোনা রমজানের এ ব্যস্ত সময়ে মসজিদটি জনমানবহীন। যা সত্যিই কল্পনাতীত। পাখির চোখে তোলা দিল্লি জামে মসজিদ সত্যিই অচেনা এক নগরী!

মসজিদের সংক্ষিপ্ত তথ্য
– লাল ও মার্বেল পাথরে তৈরি এ মসজিদ।
– মসজিদটিতে রয়েছে ১১টি মেহরাব।
– মাঝের মেহরাবটি সবচেয়ে বড়।
– মসজিদের গম্বুজ সাদা ও কালো মার্বেল পাথরে অলংকৃত।
– মসজিদের বাহিরের আঙিনা ও নামাজের জায়গা দেখতে খুবই দৃষ্টিনন্দন।
– এ মসজিদে ২৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে সক্ষম।

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য
পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

এই মসজিদ নির্মাণে প্রায় ৫০০০ শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া মসজিদটি নির্মাণ কাজে সে সময় প্রায় ১০ লক্ষ রুপি খরচ হয়। এই মসজিদটি লাল কেল্লা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, মোঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর কীর্তিগুলোর একটি এ মসজিদ। ১৬৫০ সালে তিনি এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সম্রাট শাহজাহান উজির সাদুল্লাহ খানের উপর এ মসজিদ নির্মাণ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেন। উজির দীর্ঘ প্রায় ৬ বছরে ১৬৫৬ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। এতে ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সে সময় এটির নির্মাণ খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ রুপি।

দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত ব্যস্ততম এ মসজিদটি মহামারি করোনার কারণে নিষ্প্রাণ দাঁড়িয়ে আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

মৃত ব্যক্তির সম্মানে বিশ্বনবির অতুলনীয় আদর্শ

মৃত ব্যক্তির সম্মানে বিশ্বনবির অতুলনীয় আদর্শ
মৃত ব্যক্তির সম্মানে বিশ্বনবির অতুলনীয় আদর্শ

কুরআনুল কারিমে সুরা আবাসায় মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অতপর তিনি তার (মানুষের) মৃত্যু ঘটান ও কবরস্থ করেন তাকে।’ (আয়াত ২১) বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, মুসলমান-অমুসলমান সবার শেষ ঠাঁই আল্লাহর সৃষ্ট এ মাটিতেই হয়। সব ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জগতসমূহের একমাত্র প্রতিপালক হিসাবে সবাইকে সমানভাবে লালন-পালন করে থাকেন।

বিশ্বাসের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই মেঘের পানি দিয়ে তিনি সিঞ্চিত করেন। সবাইকে তার সৃষ্ট সূর্য নিজের রোদ-তাপ সমান তালে দিয়ে থাকেন। একই মাঠে কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে সমানভাবে উপকৃত হয়। মহান আল্লাহর দয়া ও কৃপার এই সার্বজনিনতা মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমানদের এ শিক্ষা দিচ্ছে যে, আমরাও যেন আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়ে সবার জন্য উদারতা প্রদর্শন করি।

বিশ্বনবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি সম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং তার উম্মতকেও তা করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। হাদিসে এসেছে-

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও কায়স ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কাদ্সিয়াতে বসা ছিলেনতখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হলএটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মী ব্যক্তির জানাযা। তখন তারা (দুই সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিলএটা তো এক ইহুদির জানাজা। প্রিয় নবি ইরশাদ করেছিলেন- সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি)

তাই সাধারণ কোনো লাশ বা কোনো নিষ্পাপ শিশুর লাশ তো দূরের কথা, ঘোরতর শত্রু কাফের ইয়াহুদির লাশের প্রতিও আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মান প্রদর্শন করেছেন। শুধু তা-ই নয় তার দীক্ষায় দীক্ষিত নক্ষত্রতুল্য সাহাবারাও একই আচরণ করে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।

এছাড়া মৃত শিশুর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা হল- তারা জান্নাতি আর প্রত্যেক নবজাতক ইসলামি ফিতরতে জন্মগ্রহণ করে। হাদিসে এসেছে-

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুই স্বভাবধর্মে (ইসলামে) জন্মগ্রহণ করে।’ (তিরমিজি)

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতক ফিতরতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদি বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি-উপাসকরূপে রূপান্তরিত করে।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত ব্যক্তির শুধু সম্মান প্রদর্শনই করেন নি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ কোরো নাতারা যা করেছে তারা তা পেয়েছে।’ (বুখারি)

শ্রেষ্ঠনবির উম্মত হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব শ্রেষ্ঠনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের দ্বারা এমন কোনো কাজ যেন সংঘঠিত না হয় যার ফলে ইসলাম এবং বিশ্বননবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদনাম হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক ইসলামের শিক্ষার আলোকে জীবন গড়ার এবং ইসলামি জিন্দেগী যাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আয়া সোফিয়ার ভেতর–বাহির

তুরস্কের বিখ্যাত আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তাঁর এই ঘোষণায় দেশটির ইসলামপন্থীরা খুশি হলেও দেশে–বিদেশে নানা সমালোচনা হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো আয়া সোফিয়া শুরুতে গির্জা ছিল। পরে এটি মসজিদে এবং তারও পরে এটাকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় বিখ্যাত আয়া সোফিয়া স্থাপনাটির নাম আছে। ছবিতে দেখা যাক আয়া সোফিয়ার ভেতর–বাহির। ছবিগুলো তুরস্কের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কোরবানির ঈদ কি ঈদ-উল আজহা না ঈদ-উল আদহা?

কোরবানির ঈদ কি ঈদ-উল আজহা না ঈদ-উল আদহা?
কোরবানির ঈদ কি ঈদ-উল আজহা না ঈদ-উল আদহা?

কোরবানির ঈদকে বাংলা ভাষায় সবসময় ঈদ-উল আজহা বলা হয়ে আসলেও সম্প্রতি মানুষের মধ্যে আজহা’র স্থলে আদহা ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে, গল্প-উপন্যাসে, সরকারিভাবে কোরবানির ঈদ নির্দেশ করতে ঈদ-উল আজহাই ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরে আজহা’র বদলে আদহা’র ব্যবহার জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনানুষ্ঠানিকভাবে।

বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আজহা’র চেয়ে আদহা’র ব্যবহার করতেই বেশি দেখা যাচ্ছে মানুষকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন আরবি থেকে বাংলায় পরিবর্তন করার সময় উচ্চারণের পার্থক্যের কারণে এই শব্দটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আরবিতে শব্দটি দোয়াদ বর্ণ ব্যবহার করে যেভাবে লেখা হয়, সেই হিসেবে উচ্চারণটা আদহা হওয়ার কথা – অর্থাৎ ‘জ’ না হয়ে অনেকটা ‘দ’ এর মত উচ্চারণ হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আবহমান কাল থেকে আজহা শব্দটির ব্যবহারই হয়ে এসেছে।”

এর পেছনের কারণ হিসেবে আবদুল কাদির বলেন, বাংলাদেশে আরবি ভাষার কোনো শব্দ উচ্চারণের সময় দোয়াদ বর্ণটির ক্ষেত্রে ‘দ’ ব্যবহার না করে ‘জ’ বা ‘য’ ব্যবহার করার প্রচলন ছিল।

“ভাষাগত হিসেবে আরবি দোয়াদ বর্ণটির উচ্চারণের ক্ষেত্রে ‘জ’ না হয়ে ‘দ’ ব্যবহার করাই উচিত। তবে বাংলাদেশে যেহেতু বর্ণটির উচ্চারণের ক্ষেত্রে ‘জ’ এর ব্যবহার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত, তাই সেভাবেই এটি সবসময় লেখা এবং উচ্চারণ করা হয়েছে।”

এছাড়া আরবি থেকে বাংলায় প্রতি বর্ণায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতাও এই শব্দ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার একটি কারণ বলে মনে করেন তিনি।

“আরবির প্রতি বর্ণায়ন এখন পর্যন্ত কেউ নির্দিষ্ট করে নাই। বাংলা একাডেমি করেছে একভাবে, আবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন করেছে আরেকভাবে। আবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুরনো প্রতি বর্ণায়নের সাথে নতুনটির কোনো মিল নেই।”

আবদুল কাদির বলেন, “ভাষার পণ্ডিতরাই যেহেতু এই বিষয়গুলো নিয়ে একমত হতে পারেননি, তখন কোনো একটিকে ভুল বলা উচিত হবে না।”

আদহা বা আজহা শব্দটি নিয়ে এই বিভ্রান্তির মত একই ধরণের বিভ্রান্তি রয়েছে রোজার মাসের নাম নিয়ে। রোজার মাসের নাম আসলে রমজান নাকি রামাদান, সেটি নিয়ে কয়েকবছর আগে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ বিতর্কই তৈরি হয়েছিল।

ভাষাবিদরা মনে করেন আরবি ভাষায় উচ্চারণ অনুযায়ী শব্দটি রামাদান উচ্চারণ করা উচিত, তবে উপমহাদেশে ইসলামের প্রসার শুরুতে ফার্সি ভাবধারায় প্রভাবিত ছিল বলে ঐ শব্দটির উচ্চারণে পরিবর্তন হয়েছে। ফার্সিতে শব্দটির উচ্চারণ রমজান। তেমনি উর্দু ভাষাতেও মূল শব্দটি আসলে রমজান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com