আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন
কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুরআনুল কারিম এক জীবন্ত বিশ্বকোষ। এতে রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান সমাহার। অতিত ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিধি-বিধান থেকে শুরু করে বাদ যায়নি উদ্ভিদ, ফল, তরু-লতা ও গাছ-গাছালির বিবরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি। পরে আমি ভূমি প্রকৃষ্টরূপে বিদীর্ণ করি এবং আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জাইতুন, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান, ফল ও গবাদি খাদ্য। এটা তোমাদের ও তোমাদের জীবজন্তুর ভোগের জন্য।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৪-৩২)

প্রাকৃতিক বৈচিত্রের নয়নাভিরাম সাদৃশ্য ও কুদরতের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরতে আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন-
‘যিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল ফলান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল : আয়াত ১১)

এছাড়াও কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উদ্ভিদের নাম ও শ্রেণি উল্লেখ করেছেন। কয়েকটি সুরার নামকরণও করা হয়েছে উদ্ভিদের নামে। আবার কোনো কিছুর প্রমাণস্বরূপ কিংবা সাধারণ বর্ণনা হিসেবে এসেছে উদ্ভিদের নাম। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

>> মান্না
এক প্রকার খাদ্য, যা আল্লাহ তা‘আলা বনি ইসরাইলের জন্য আসমান থেকে অবতীর্ণ করতেন। তা ছিল দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। এটি দিয়ে মানুষের রুটির অভাব মিটতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ ‘কামআহ হ’ল মান্ন-এর অন্তর্ভুক্ত’। (তিরমিজি, মিশকাত)

মান্না
মান্না

আধুনিক গবেষণায় বলা হয় যে, মান্ন একপ্রকার আঠা জাতীয় উপাদেয় খাদ্য। যা শুকিয়ে পিষে রুটি তৈরী করে তৃপ্তির সাথে আহার করা যায়। দক্ষিণ ইউরোপের সিসিলিতে, আরব উপদ্বীপের ইরাকে ও ইরানে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতবর্ষে মান্না জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন হয়।’ (ডঃ ইকতেদার হোসেন ফারুকী, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে কুরআনে বর্ণিত উদ্ভিদ ই,ফা,বা, ২০০৮, পৃঃ ১৩-২০)

>> খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
খেজুর গাছ থেকে যে খেজুর উৎপন্ন হয় তা অনেক শক্তিশালী খাদ্য। যা মানুষের জন্য অনেক উপকারি। খেজুর বান্দার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার এক মহা নেয়ামত।

খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেন, ‘এবং শস্যক্ষেত ও দুর্বল ও ঘন গোছাবিশিষ্ট খেজুর বাগানে।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ১৪৮)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নাড়া দাও। তোমার ওপর তা ফেলবে পাকা তাজা খেজুর।’ (সুরা মরিয়াম : আয়াত ২৫)।

>> জলপাই (আজ-জায়তুন)
মহা ঔষুধিগুণে ভরপুর জলপাই। জলপাই অনেক ধরনের হয়ে থাকে। এ থেকে তৈরি হয় অনেক উন্নতমানের তেল। যার কদর রয়েছে বিশ্বব্যাপী। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে এ জয়তুন তথা জলপাইয়ের শপথ করে বলেছেন, ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ।’ (সুরা ত্বীন : আয়াত ১)

জলপাই (আজ-জায়তুন)
জলপাই (আজ-জায়তুন)

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন, ‘যিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল ফলান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল : আয়াত ১১)

>> আঙুর ফল (আল-ইনাব)
লতাজাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ফল হলো আঙুর। অনেক সুমিষ্ট ও উপকারি ফল এটি। একই থোকায় ৬ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত উৎপন্ন হয়। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এ ফলের কথা তুলে ধরেছেন।

আঙুর ফল (আল-ইনাব)
আঙুর ফল (আল-ইনাব)

বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, অনেক জটিল ও কঠিন রোগের প্রতিষেধক রয়েছে লতা জাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ফল আঙুরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং আঙুর ও শাক-সবজি।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৮)

>> আনার (আর-রুম্মান)
ডালিম নামে পরিচিত ফলই কুরআনের ভাষায় রুম্মান। গুল্ম জাতীয় গাছ থেকে উৎপন্ন হয় এ ফল। এটাকে অনেকে আনার হিসেবেই জানে।

আনার (আর-রুম্মান)
আনার (আর-রুম্মান)

এ ফলটির কথাও কুরআনে এসেছে- ‘সেখানে রয়েছে ফলমূল; খেজুর ও আনার।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ৬৮)

>> ডুমুর (আত-ত্বীন)
বিশ্বব্যাপী বহু প্রজাতির ডুমুর রয়েছে। এক ধরনের মিষ্টি জাতীয় পাতলা আবরণযুক্ত নরম ফল ডুমুর। গাছ, লতা, গুল্ম জাতীয় ভিন্ন ভিন্ন গাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ডুমুর উৎপন্ন হয়। কুরআনুল কারিম এ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়েছে।

ডুমুর (আত-ত্বীন)
ডুমুর (আত-ত্বীন)

আর তাহলো সুরা ত্বীন। ত্বীন শব্দের অর্থেই হলো ডুমুর। আল্লাহ বলেন, ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ।’ (সুরা ত্বীন : আয়াত ১)

>> শস্য (আজ-জারউ)
নানান ধরনের বীজচারা বা শস্যের কথা কুরআনে তুলে ধরেছেন।

শস্য (আজ-জারউ)
শস্য (আজ-জারউ)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন খেজুর গাছ ও বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৪১)

>> ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
চিরসবুজ নয়নাভিরাম দৃষ্টিনন্দন পাতা বিশিষ্ট উদ্ভিদ ঝাউ গাছ। এর কোনোটি গাছ বিশিষ্টি আবার কোনোটি লতাগুল্ম বিশিষ্ট। এটির কথাও আল্লাহ তাআলা কুরআনে তুলে ধরেছেন-

ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
ঝাউ গাছ (আল-আছলু)

‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১৬)

>> ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
মেসওয়াক করার জন্যও আল্লাহ তাআলা গাছ সৃষ্টি করেছেন। এ গাছকে কেউ কেউ জয়তুন গাছ আবার ইংরেজিতে টুথব্রাশ ট্রি বলে থাকে।

ডালবিশিষ্ট এ গাছকে কুরআনের ভাষায় (আস-সাজারু) বলা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে।’ (সুরা আর-রহমান : আয়াত ৬)

>> মেহেদি গাছ

মেহেদি গাছ
মেহেদি গাছ

মেসওয়াক করার জন্যও আল্লাহ তাআলা গাছ সৃষ্টি করেছেন। এ গাছকে কেউ কেউ জয়তুন গাছ আবার ইংরেজিতে টুথব্রাশ ট্রি বলে থাকে।

ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)

>> আদা (আজ-জানজাবিলু)
এক ধরনের মূল্যবান সুগন্ধি হলো আদা বা আজ-জানজাবিলু। মানুষ এটিকে মসল্লা ও ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। পরকালে এ আদা হবে মানুষের শুরা পানের উপকরণ।

আদা (আজ-জানজাবিলু)
আদা (আজ-জানজাবিলু)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘তারা সেখানে এমন শূরা পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে ‘জানজাবিল’।’ (সুরা দাহর : আয়াত ১৭)

>> মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
মসুর, মটরকলাই সম্পর্কে কুরআনুল কারিমের উল্লেখ করা হয়েছে। যা মানুষ খাদ্যশস্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। মানুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)

আল্লাহ তাআরা বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

>> পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
পেঁয়াজ-রসুন মসল্লা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে অনেক উপকারিতা।

পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

>> লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
লাউ মানুষের জন্য অনেক উপকারি তরকারি হিসেবে পরিচতি। অনেকে লাউবা কদু তরকারিকে সুন্নাত মনে করে খায়। লাউ বা কদু সম্পর্কে কুরআনে রয়েছে বর্ণনা।

লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আমি তার ওপর একটি লাউ গাছ উদ্গত করলাম।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ৪৬)

>> শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শস্যদানার কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলোর উল্লেখ করে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)

– ‘নিশ্চয় আল্লাহ বীজ ও আঁটিকে অঙ্কুরিত করেন।’ (সুরা আনআম- আয়াত ৯৫)
– শীষ বা মুকুল (আস-সানাবিলু) ‘যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের দৃষ্টান্ত হলো বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ বের হয় এবং প্রত্যেক শিষে থাকে ১০০ বীজ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬১)
– উদ্ভিদ (আন-নাবাতু) ‘যেন আমি তা (পানি) দিয়ে উৎপন্ন করি শস্যদানা ও উদ্ভিদ।’ (সুরা নাবা : আয়াত ১৫)

>> পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)
পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

সুগন্ধ গুল্ম বিশিষ্ট পাতা পুদিনা মানুষের জন্য অনেক উপকারি। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আরও আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল।’ (সুরা আর-রহমান : আয়াত ১২)

>> কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস
কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

কাঁটাযুক্ত ‘আল খামতু’ বা ‘আরাক’ নামক বিশেষ লতা গাছ। এ বিষয়ে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ
বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ

‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১৬)

>> তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্‌কুম) ফল। যা জাহান্নামিদের জন্য হবে। এসব ফল হবে তেঁতো, বিস্বাদ ও কাঁটাযুক্ত।

তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আপ্যায়নের (জাহান্নামিদের) জন্য এটাই না উত্তম কাঁটাযুক্ত গাছ?’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ৬২)

>> ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
এমন গাছ যার রয়েছে বড় ডালা ও ঘণ পাতা। বিশাল বৃক্ষরাজি। এসব ডাল, পাতা ও বিশাল বৃক্ষরাজি মহান আল্লাহকে সিজদা করে।

ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)

আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন- ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ৬)

>> শসা (আল-কিসসাউ)

শসা (আল-কিসসাউ)
শসা (আল-কিসসাউ)

আল্লাহ বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

এছাড়াও কুরআনুল কারিমের ফুল, পাতা, ফল, লতা-গুল্ম, বৃক্ষ, উদ্ভিদ বুঝাতে অনেক শব্দের উল্লেখ রয়েছে। আর তাহলো-
– আল কিনওয়ানু এবং আত-তালউ। উভয় শব্দ দ্বারা খেজুর গাছের শীর্ষ কাঁদি বা শিষ বুঝিয়ে ‍থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘এবং খেজুর গাছ, যার শীর্ষদেশ কাঁদির ভারে নুয়ে থাকে।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৯৯)
– আস-সিদরু বা কুল বা বরই গাছ। কুরআনে এসেছে, ‘কাঁটাবিহীন বরই গাছ তলায়।’ (সুরা ওয়াকিয়া : আয়াত ২৮)
– আল-আব্বু : গৃহপালিত ও বন্যপশু যে ফল খায়, পশুখাদ্য। আল্লাহ বলেন, ‘তাতে উৎপন্ন করেছি ফলমূল ও ঘাস।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ৩১)
– আল-কাদবু (শাকসবজি) ‘আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি…।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৪-৩২)
– আল-কাফুরু (কর্পূর ) ‘নিশ্চয় সৎ মানুষ জান্নাতে এমন পাত্রে পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে কর্পূর।’ (সুরা দাহর : আয়াত ৫)

এসবই সৃষ্টিজগতের জন্য মহান প্রভুর একান্ত দান ও মহা অনুগ্রহ। মুমিন বান্দার উচিত আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দানকৃত এসব নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার অগণিত অসংখ্য নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ

    বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ

  • শসা (আল-কিসসাউ)

    শসা (আল-কিসসাউ)

  • ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)

    ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)

  • তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)

    তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)

  • কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

    কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

  • পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

    পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

  • শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)

    শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)

  • লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)

    লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)

  • পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)

    পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)

  • মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)

    মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)

  • আদা (আজ-জানজাবিলু)

    আদা (আজ-জানজাবিলু)

  • ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)

    ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)

  • মেহেদি গাছ

    মেহেদি গাছ

  • ঝাউ গাছ (আল-আছলু)

    ঝাউ গাছ (আল-আছলু)

  • শস্য (আজ-জারউ)

    শস্য (আজ-জারউ)

  • ডুমুর (আত-ত্বীন)

    ডুমুর (আত-ত্বীন)

  • আনার (আর-রুম্মান)

    আনার (আর-রুম্মান)

  • আঙুর ফল (আল-ইনাব)

    আঙুর ফল (আল-ইনাব)

  • জলপাই (আজ-জায়তুন)

    জলপাই (আজ-জায়তুন)

  • খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)

    খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)

  • মান্না

    মান্না

  • কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

    কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

  • বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ
  • শসা (আল-কিসসাউ)
  • ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
  • তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
  • কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস
  • পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)
  • শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
  • লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
  • পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
  • মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
  • আদা (আজ-জানজাবিলু)
  • ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
  • মেহেদি গাছ
  • ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
  • শস্য (আজ-জারউ)
  • ডুমুর (আত-ত্বীন)
  • আনার (আর-রুম্মান)
  • আঙুর ফল (আল-ইনাব)
  • জলপাই (আজ-জায়তুন)
  • খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
  • মান্না
  • কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

ইসলাম

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইসলামিক জাদুঘর

ইসলামিক মিউজিয়াম অব অস্ট্রেলিয়া নামের এ জাদুঘরটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত। দেশটিতে আগত দর্শনার্থীদের কাছে ইসলামের ইতহাস, জীবন-যাত্রা ও মুসলিম সভ্যতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে গড়ে তোলা হয়েছে এ জাদুঘর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য
পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদে এ রূপ কেউ কখনও দেখেনি। মসজিদের চিরচেনা রূপ এখন আর নেই। ড্রোনে তোলা এক ছবিই তার প্রমাণ। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় তোলা দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিটিতে দেখা যায় জনমানবহীন সুনসান নিরব ইট-পাথরের তৈরি এ মসজিদ প্রাণহীন দাঁড়িয়ে আছে।

যে মসজিদ আঙিনা সব সময় মুসল্লি ও পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হতো। জীবন হরণকারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভারে কারণে পাল্টে গেছে এ মসজিদের চিরচেনা রূপ। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে মসজিদটি সাধারণ মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

১৮৫৭ সালের রমজান মাসেও একবার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছিল। তবে তা এবারের মতো ছিল না। সে সময় ব্রিটিশরা মসজিদটিকে বাজেয়াপ্ত করেছিল এবং এ মসজিদেকে তারা সৈন্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। মসজিদটি তারা ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলো, কিন্তু মুসলিম জনতার কঠোর আন্দোলনে তাতে সফল হয়নি ব্রিটিশরা।

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য
পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

১৬৩ বছর পর… মহামারি করোনা রমজানের এ ব্যস্ত সময়ে মসজিদটি জনমানবহীন। যা সত্যিই কল্পনাতীত। পাখির চোখে তোলা দিল্লি জামে মসজিদ সত্যিই অচেনা এক নগরী!

মসজিদের সংক্ষিপ্ত তথ্য
– লাল ও মার্বেল পাথরে তৈরি এ মসজিদ।
– মসজিদটিতে রয়েছে ১১টি মেহরাব।
– মাঝের মেহরাবটি সবচেয়ে বড়।
– মসজিদের গম্বুজ সাদা ও কালো মার্বেল পাথরে অলংকৃত।
– মসজিদের বাহিরের আঙিনা ও নামাজের জায়গা দেখতে খুবই দৃষ্টিনন্দন।
– এ মসজিদে ২৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে সক্ষম।

পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য
পাখির চোখে দিল্লি জামে মসজিদের অচেনা দৃশ্য

এই মসজিদ নির্মাণে প্রায় ৫০০০ শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া মসজিদটি নির্মাণ কাজে সে সময় প্রায় ১০ লক্ষ রুপি খরচ হয়। এই মসজিদটি লাল কেল্লা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, মোঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর কীর্তিগুলোর একটি এ মসজিদ। ১৬৫০ সালে তিনি এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সম্রাট শাহজাহান উজির সাদুল্লাহ খানের উপর এ মসজিদ নির্মাণ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেন। উজির দীর্ঘ প্রায় ৬ বছরে ১৬৫৬ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। এতে ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সে সময় এটির নির্মাণ খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ রুপি।

দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত ব্যস্ততম এ মসজিদটি মহামারি করোনার কারণে নিষ্প্রাণ দাঁড়িয়ে আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

মৃত ব্যক্তির সম্মানে বিশ্বনবির অতুলনীয় আদর্শ

মৃত ব্যক্তির সম্মানে বিশ্বনবির অতুলনীয় আদর্শ
মৃত ব্যক্তির সম্মানে বিশ্বনবির অতুলনীয় আদর্শ

কুরআনুল কারিমে সুরা আবাসায় মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অতপর তিনি তার (মানুষের) মৃত্যু ঘটান ও কবরস্থ করেন তাকে।’ (আয়াত ২১) বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, মুসলমান-অমুসলমান সবার শেষ ঠাঁই আল্লাহর সৃষ্ট এ মাটিতেই হয়। সব ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জগতসমূহের একমাত্র প্রতিপালক হিসাবে সবাইকে সমানভাবে লালন-পালন করে থাকেন।

বিশ্বাসের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই মেঘের পানি দিয়ে তিনি সিঞ্চিত করেন। সবাইকে তার সৃষ্ট সূর্য নিজের রোদ-তাপ সমান তালে দিয়ে থাকেন। একই মাঠে কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে সমানভাবে উপকৃত হয়। মহান আল্লাহর দয়া ও কৃপার এই সার্বজনিনতা মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমানদের এ শিক্ষা দিচ্ছে যে, আমরাও যেন আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়ে সবার জন্য উদারতা প্রদর্শন করি।

বিশ্বনবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি সম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং তার উম্মতকেও তা করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। হাদিসে এসেছে-

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও কায়স ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কাদ্সিয়াতে বসা ছিলেনতখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হলএটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মী ব্যক্তির জানাযা। তখন তারা (দুই সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিলএটা তো এক ইহুদির জানাজা। প্রিয় নবি ইরশাদ করেছিলেন- সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি)

তাই সাধারণ কোনো লাশ বা কোনো নিষ্পাপ শিশুর লাশ তো দূরের কথা, ঘোরতর শত্রু কাফের ইয়াহুদির লাশের প্রতিও আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মান প্রদর্শন করেছেন। শুধু তা-ই নয় তার দীক্ষায় দীক্ষিত নক্ষত্রতুল্য সাহাবারাও একই আচরণ করে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।

এছাড়া মৃত শিশুর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা হল- তারা জান্নাতি আর প্রত্যেক নবজাতক ইসলামি ফিতরতে জন্মগ্রহণ করে। হাদিসে এসেছে-

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুই স্বভাবধর্মে (ইসলামে) জন্মগ্রহণ করে।’ (তিরমিজি)

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতক ফিতরতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদি বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি-উপাসকরূপে রূপান্তরিত করে।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত ব্যক্তির শুধু সম্মান প্রদর্শনই করেন নি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ কোরো নাতারা যা করেছে তারা তা পেয়েছে।’ (বুখারি)

শ্রেষ্ঠনবির উম্মত হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব শ্রেষ্ঠনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের দ্বারা এমন কোনো কাজ যেন সংঘঠিত না হয় যার ফলে ইসলাম এবং বিশ্বননবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদনাম হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক ইসলামের শিক্ষার আলোকে জীবন গড়ার এবং ইসলামি জিন্দেগী যাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আয়া সোফিয়ার ভেতর–বাহির

তুরস্কের বিখ্যাত আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তাঁর এই ঘোষণায় দেশটির ইসলামপন্থীরা খুশি হলেও দেশে–বিদেশে নানা সমালোচনা হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো আয়া সোফিয়া শুরুতে গির্জা ছিল। পরে এটি মসজিদে এবং তারও পরে এটাকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় বিখ্যাত আয়া সোফিয়া স্থাপনাটির নাম আছে। ছবিতে দেখা যাক আয়া সোফিয়ার ভেতর–বাহির। ছবিগুলো তুরস্কের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কোরবানির ঈদ কি ঈদ-উল আজহা না ঈদ-উল আদহা?

কোরবানির ঈদ কি ঈদ-উল আজহা না ঈদ-উল আদহা?
কোরবানির ঈদ কি ঈদ-উল আজহা না ঈদ-উল আদহা?

কোরবানির ঈদকে বাংলা ভাষায় সবসময় ঈদ-উল আজহা বলা হয়ে আসলেও সম্প্রতি মানুষের মধ্যে আজহা’র স্থলে আদহা ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে, গল্প-উপন্যাসে, সরকারিভাবে কোরবানির ঈদ নির্দেশ করতে ঈদ-উল আজহাই ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরে আজহা’র বদলে আদহা’র ব্যবহার জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনানুষ্ঠানিকভাবে।

বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আজহা’র চেয়ে আদহা’র ব্যবহার করতেই বেশি দেখা যাচ্ছে মানুষকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন আরবি থেকে বাংলায় পরিবর্তন করার সময় উচ্চারণের পার্থক্যের কারণে এই শব্দটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আরবিতে শব্দটি দোয়াদ বর্ণ ব্যবহার করে যেভাবে লেখা হয়, সেই হিসেবে উচ্চারণটা আদহা হওয়ার কথা – অর্থাৎ ‘জ’ না হয়ে অনেকটা ‘দ’ এর মত উচ্চারণ হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আবহমান কাল থেকে আজহা শব্দটির ব্যবহারই হয়ে এসেছে।”

এর পেছনের কারণ হিসেবে আবদুল কাদির বলেন, বাংলাদেশে আরবি ভাষার কোনো শব্দ উচ্চারণের সময় দোয়াদ বর্ণটির ক্ষেত্রে ‘দ’ ব্যবহার না করে ‘জ’ বা ‘য’ ব্যবহার করার প্রচলন ছিল।

“ভাষাগত হিসেবে আরবি দোয়াদ বর্ণটির উচ্চারণের ক্ষেত্রে ‘জ’ না হয়ে ‘দ’ ব্যবহার করাই উচিত। তবে বাংলাদেশে যেহেতু বর্ণটির উচ্চারণের ক্ষেত্রে ‘জ’ এর ব্যবহার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত, তাই সেভাবেই এটি সবসময় লেখা এবং উচ্চারণ করা হয়েছে।”

এছাড়া আরবি থেকে বাংলায় প্রতি বর্ণায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতাও এই শব্দ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার একটি কারণ বলে মনে করেন তিনি।

“আরবির প্রতি বর্ণায়ন এখন পর্যন্ত কেউ নির্দিষ্ট করে নাই। বাংলা একাডেমি করেছে একভাবে, আবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন করেছে আরেকভাবে। আবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুরনো প্রতি বর্ণায়নের সাথে নতুনটির কোনো মিল নেই।”

আবদুল কাদির বলেন, “ভাষার পণ্ডিতরাই যেহেতু এই বিষয়গুলো নিয়ে একমত হতে পারেননি, তখন কোনো একটিকে ভুল বলা উচিত হবে না।”

আদহা বা আজহা শব্দটি নিয়ে এই বিভ্রান্তির মত একই ধরণের বিভ্রান্তি রয়েছে রোজার মাসের নাম নিয়ে। রোজার মাসের নাম আসলে রমজান নাকি রামাদান, সেটি নিয়ে কয়েকবছর আগে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ বিতর্কই তৈরি হয়েছিল।

ভাষাবিদরা মনে করেন আরবি ভাষায় উচ্চারণ অনুযায়ী শব্দটি রামাদান উচ্চারণ করা উচিত, তবে উপমহাদেশে ইসলামের প্রসার শুরুতে ফার্সি ভাবধারায় প্রভাবিত ছিল বলে ঐ শব্দটির উচ্চারণে পরিবর্তন হয়েছে। ফার্সিতে শব্দটির উচ্চারণ রমজান। তেমনি উর্দু ভাষাতেও মূল শব্দটি আসলে রমজান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com