আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন
কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুরআনুল কারিম এক জীবন্ত বিশ্বকোষ। এতে রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান সমাহার। অতিত ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিধি-বিধান থেকে শুরু করে বাদ যায়নি উদ্ভিদ, ফল, তরু-লতা ও গাছ-গাছালির বিবরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি। পরে আমি ভূমি প্রকৃষ্টরূপে বিদীর্ণ করি এবং আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জাইতুন, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান, ফল ও গবাদি খাদ্য। এটা তোমাদের ও তোমাদের জীবজন্তুর ভোগের জন্য।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৪-৩২)

প্রাকৃতিক বৈচিত্রের নয়নাভিরাম সাদৃশ্য ও কুদরতের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরতে আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন-
‘যিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল ফলান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল : আয়াত ১১)

এছাড়াও কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উদ্ভিদের নাম ও শ্রেণি উল্লেখ করেছেন। কয়েকটি সুরার নামকরণও করা হয়েছে উদ্ভিদের নামে। আবার কোনো কিছুর প্রমাণস্বরূপ কিংবা সাধারণ বর্ণনা হিসেবে এসেছে উদ্ভিদের নাম। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

>> মান্না
এক প্রকার খাদ্য, যা আল্লাহ তা‘আলা বনি ইসরাইলের জন্য আসমান থেকে অবতীর্ণ করতেন। তা ছিল দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। এটি দিয়ে মানুষের রুটির অভাব মিটতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ ‘কামআহ হ’ল মান্ন-এর অন্তর্ভুক্ত’। (তিরমিজি, মিশকাত)

মান্না
মান্না

আধুনিক গবেষণায় বলা হয় যে, মান্ন একপ্রকার আঠা জাতীয় উপাদেয় খাদ্য। যা শুকিয়ে পিষে রুটি তৈরী করে তৃপ্তির সাথে আহার করা যায়। দক্ষিণ ইউরোপের সিসিলিতে, আরব উপদ্বীপের ইরাকে ও ইরানে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতবর্ষে মান্না জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন হয়।’ (ডঃ ইকতেদার হোসেন ফারুকী, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে কুরআনে বর্ণিত উদ্ভিদ ই,ফা,বা, ২০০৮, পৃঃ ১৩-২০)

>> খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
খেজুর গাছ থেকে যে খেজুর উৎপন্ন হয় তা অনেক শক্তিশালী খাদ্য। যা মানুষের জন্য অনেক উপকারি। খেজুর বান্দার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার এক মহা নেয়ামত।

খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেন, ‘এবং শস্যক্ষেত ও দুর্বল ও ঘন গোছাবিশিষ্ট খেজুর বাগানে।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ১৪৮)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নাড়া দাও। তোমার ওপর তা ফেলবে পাকা তাজা খেজুর।’ (সুরা মরিয়াম : আয়াত ২৫)।

>> জলপাই (আজ-জায়তুন)
মহা ঔষুধিগুণে ভরপুর জলপাই। জলপাই অনেক ধরনের হয়ে থাকে। এ থেকে তৈরি হয় অনেক উন্নতমানের তেল। যার কদর রয়েছে বিশ্বব্যাপী। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে এ জয়তুন তথা জলপাইয়ের শপথ করে বলেছেন, ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ।’ (সুরা ত্বীন : আয়াত ১)

জলপাই (আজ-জায়তুন)
জলপাই (আজ-জায়তুন)

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন, ‘যিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল ফলান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল : আয়াত ১১)

>> আঙুর ফল (আল-ইনাব)
লতাজাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ফল হলো আঙুর। অনেক সুমিষ্ট ও উপকারি ফল এটি। একই থোকায় ৬ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত উৎপন্ন হয়। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এ ফলের কথা তুলে ধরেছেন।

আঙুর ফল (আল-ইনাব)
আঙুর ফল (আল-ইনাব)

বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, অনেক জটিল ও কঠিন রোগের প্রতিষেধক রয়েছে লতা জাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ফল আঙুরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং আঙুর ও শাক-সবজি।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৮)

>> আনার (আর-রুম্মান)
ডালিম নামে পরিচিত ফলই কুরআনের ভাষায় রুম্মান। গুল্ম জাতীয় গাছ থেকে উৎপন্ন হয় এ ফল। এটাকে অনেকে আনার হিসেবেই জানে।

আনার (আর-রুম্মান)
আনার (আর-রুম্মান)

এ ফলটির কথাও কুরআনে এসেছে- ‘সেখানে রয়েছে ফলমূল; খেজুর ও আনার।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ৬৮)

>> ডুমুর (আত-ত্বীন)
বিশ্বব্যাপী বহু প্রজাতির ডুমুর রয়েছে। এক ধরনের মিষ্টি জাতীয় পাতলা আবরণযুক্ত নরম ফল ডুমুর। গাছ, লতা, গুল্ম জাতীয় ভিন্ন ভিন্ন গাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ডুমুর উৎপন্ন হয়। কুরআনুল কারিম এ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়েছে।

ডুমুর (আত-ত্বীন)
ডুমুর (আত-ত্বীন)

আর তাহলো সুরা ত্বীন। ত্বীন শব্দের অর্থেই হলো ডুমুর। আল্লাহ বলেন, ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ।’ (সুরা ত্বীন : আয়াত ১)

>> শস্য (আজ-জারউ)
নানান ধরনের বীজচারা বা শস্যের কথা কুরআনে তুলে ধরেছেন।

শস্য (আজ-জারউ)
শস্য (আজ-জারউ)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন খেজুর গাছ ও বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৪১)

>> ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
চিরসবুজ নয়নাভিরাম দৃষ্টিনন্দন পাতা বিশিষ্ট উদ্ভিদ ঝাউ গাছ। এর কোনোটি গাছ বিশিষ্টি আবার কোনোটি লতাগুল্ম বিশিষ্ট। এটির কথাও আল্লাহ তাআলা কুরআনে তুলে ধরেছেন-

ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
ঝাউ গাছ (আল-আছলু)

‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১৬)

>> ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
মেসওয়াক করার জন্যও আল্লাহ তাআলা গাছ সৃষ্টি করেছেন। এ গাছকে কেউ কেউ জয়তুন গাছ আবার ইংরেজিতে টুথব্রাশ ট্রি বলে থাকে।

ডালবিশিষ্ট এ গাছকে কুরআনের ভাষায় (আস-সাজারু) বলা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে।’ (সুরা আর-রহমান : আয়াত ৬)

>> মেহেদি গাছ

মেহেদি গাছ
মেহেদি গাছ

মেসওয়াক করার জন্যও আল্লাহ তাআলা গাছ সৃষ্টি করেছেন। এ গাছকে কেউ কেউ জয়তুন গাছ আবার ইংরেজিতে টুথব্রাশ ট্রি বলে থাকে।

ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)

>> আদা (আজ-জানজাবিলু)
এক ধরনের মূল্যবান সুগন্ধি হলো আদা বা আজ-জানজাবিলু। মানুষ এটিকে মসল্লা ও ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। পরকালে এ আদা হবে মানুষের শুরা পানের উপকরণ।

আদা (আজ-জানজাবিলু)
আদা (আজ-জানজাবিলু)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘তারা সেখানে এমন শূরা পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে ‘জানজাবিল’।’ (সুরা দাহর : আয়াত ১৭)

>> মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
মসুর, মটরকলাই সম্পর্কে কুরআনুল কারিমের উল্লেখ করা হয়েছে। যা মানুষ খাদ্যশস্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। মানুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)

আল্লাহ তাআরা বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

>> পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
পেঁয়াজ-রসুন মসল্লা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে অনেক উপকারিতা।

পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

>> লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
লাউ মানুষের জন্য অনেক উপকারি তরকারি হিসেবে পরিচতি। অনেকে লাউবা কদু তরকারিকে সুন্নাত মনে করে খায়। লাউ বা কদু সম্পর্কে কুরআনে রয়েছে বর্ণনা।

লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আমি তার ওপর একটি লাউ গাছ উদ্গত করলাম।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ৪৬)

>> শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শস্যদানার কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলোর উল্লেখ করে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)

– ‘নিশ্চয় আল্লাহ বীজ ও আঁটিকে অঙ্কুরিত করেন।’ (সুরা আনআম- আয়াত ৯৫)
– শীষ বা মুকুল (আস-সানাবিলু) ‘যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের দৃষ্টান্ত হলো বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ বের হয় এবং প্রত্যেক শিষে থাকে ১০০ বীজ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬১)
– উদ্ভিদ (আন-নাবাতু) ‘যেন আমি তা (পানি) দিয়ে উৎপন্ন করি শস্যদানা ও উদ্ভিদ।’ (সুরা নাবা : আয়াত ১৫)

>> পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)
পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

সুগন্ধ গুল্ম বিশিষ্ট পাতা পুদিনা মানুষের জন্য অনেক উপকারি। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আরও আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল।’ (সুরা আর-রহমান : আয়াত ১২)

>> কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস
কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

কাঁটাযুক্ত ‘আল খামতু’ বা ‘আরাক’ নামক বিশেষ লতা গাছ। এ বিষয়ে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ
বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ

‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১৬)

>> তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্‌কুম) ফল। যা জাহান্নামিদের জন্য হবে। এসব ফল হবে তেঁতো, বিস্বাদ ও কাঁটাযুক্ত।

তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আপ্যায়নের (জাহান্নামিদের) জন্য এটাই না উত্তম কাঁটাযুক্ত গাছ?’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ৬২)

>> ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
এমন গাছ যার রয়েছে বড় ডালা ও ঘণ পাতা। বিশাল বৃক্ষরাজি। এসব ডাল, পাতা ও বিশাল বৃক্ষরাজি মহান আল্লাহকে সিজদা করে।

ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)

আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন- ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ৬)

>> শসা (আল-কিসসাউ)

শসা (আল-কিসসাউ)
শসা (আল-কিসসাউ)

আল্লাহ বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

এছাড়াও কুরআনুল কারিমের ফুল, পাতা, ফল, লতা-গুল্ম, বৃক্ষ, উদ্ভিদ বুঝাতে অনেক শব্দের উল্লেখ রয়েছে। আর তাহলো-
– আল কিনওয়ানু এবং আত-তালউ। উভয় শব্দ দ্বারা খেজুর গাছের শীর্ষ কাঁদি বা শিষ বুঝিয়ে ‍থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘এবং খেজুর গাছ, যার শীর্ষদেশ কাঁদির ভারে নুয়ে থাকে।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৯৯)
– আস-সিদরু বা কুল বা বরই গাছ। কুরআনে এসেছে, ‘কাঁটাবিহীন বরই গাছ তলায়।’ (সুরা ওয়াকিয়া : আয়াত ২৮)
– আল-আব্বু : গৃহপালিত ও বন্যপশু যে ফল খায়, পশুখাদ্য। আল্লাহ বলেন, ‘তাতে উৎপন্ন করেছি ফলমূল ও ঘাস।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ৩১)
– আল-কাদবু (শাকসবজি) ‘আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি…।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৪-৩২)
– আল-কাফুরু (কর্পূর ) ‘নিশ্চয় সৎ মানুষ জান্নাতে এমন পাত্রে পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে কর্পূর।’ (সুরা দাহর : আয়াত ৫)

এসবই সৃষ্টিজগতের জন্য মহান প্রভুর একান্ত দান ও মহা অনুগ্রহ। মুমিন বান্দার উচিত আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দানকৃত এসব নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার অগণিত অসংখ্য নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ

    বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ

  • শসা (আল-কিসসাউ)

    শসা (আল-কিসসাউ)

  • ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)

    ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)

  • তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)

    তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)

  • কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

    কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

  • পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

    পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

  • শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)

    শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)

  • লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)

    লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)

  • পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)

    পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)

  • মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)

    মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)

  • আদা (আজ-জানজাবিলু)

    আদা (আজ-জানজাবিলু)

  • ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)

    ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)

  • মেহেদি গাছ

    মেহেদি গাছ

  • ঝাউ গাছ (আল-আছলু)

    ঝাউ গাছ (আল-আছলু)

  • শস্য (আজ-জারউ)

    শস্য (আজ-জারউ)

  • ডুমুর (আত-ত্বীন)

    ডুমুর (আত-ত্বীন)

  • আনার (আর-রুম্মান)

    আনার (আর-রুম্মান)

  • আঙুর ফল (আল-ইনাব)

    আঙুর ফল (আল-ইনাব)

  • জলপাই (আজ-জায়তুন)

    জলপাই (আজ-জায়তুন)

  • খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)

    খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)

  • মান্না

    মান্না

  • কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

    কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

  • বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ
  • শসা (আল-কিসসাউ)
  • ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
  • তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
  • কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস
  • পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)
  • শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
  • লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
  • পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
  • মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
  • আদা (আজ-জানজাবিলু)
  • ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
  • মেহেদি গাছ
  • ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
  • শস্য (আজ-জারউ)
  • ডুমুর (আত-ত্বীন)
  • আনার (আর-রুম্মান)
  • আঙুর ফল (আল-ইনাব)
  • জলপাই (আজ-জায়তুন)
  • খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
  • মান্না
  • কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

ইসলাম

করোনাভাইরাস: লকডাউনের মধ্যে যেভাবে রোজা পালন করছে মুসলিমরা

বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলিম নানাভাবে রোজা পালন করছে এমন এক সময়ে যখন সারা বিশ্ব কাবু হয়ে আছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে। সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে নানা দেশ রোজার সময়ে নানা বিধিনিষেধ দিয়েছে মসজিদে কিংবা নামাজে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর দুই পদ

 ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর দুই পদ
ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর দুই পদ

সারাদিন বাড়িতে থাকার দরুন নতুন নতুন রান্না আপনি শিখতেই পারেন। সময় কাটাতে সেসব তৈরি করাও দোষের কিছু নয়। এতদিন নাহয় তাল মিলিয়ে মিষ্টি, মোমো, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে ফুচকা- সব তৈরি করেছেন। কিন্তু সেই অভ্যাসে রাশ টানতে হবে আপাতত। কারণটা রমজান।

রোজায় স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে না তুললে ভুগতে হবে আপনাকে। অতিরিক্ত তেল মশলার খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।। শরীরের কথাও মাথায় রাখতে হবে। এছাড়াও করোনার কারণে শরীর অসুস্থ হলেও চিকিৎসক-হাসপাতালজনিত সমস্যা থাকবেই। ইফতারে রাখতে পারেন এই দুই স্বাস্থ্যকর পদ-

 ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর দুই পদ
ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর দুই পদ

ক্যারট জিঞ্জার ডিটক্স

উপকরণ:
গাজরের রস- ৩০০ মিলি
বাসিল-২ গ্রাম
আদা- ৩ গ্রাম
লেবুর রস
লবণ
বরফ।

প্রণালি: বরফ বাদে সবকিছু মিক্সচার গ্রাইন্ডারে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার গ্লাসে অল্প বরফ দিন। মিশ্রণ ঢেলে খেয়ে নিন। তবে এই মিশ্রণ বেশিক্ষণ ফেলে রাখবেন না।

 ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর দুই পদ
ইফতারে থাকুক স্বাস্থ্যকর দুই পদ

ব্রোকলি অ্যান্ড টোস্টড আমন্ড স্যালাড

উপকরণ:
লেটুস
ব্রোকলি
আমন্ড
ফ্লেক্স সিড
মধু
ফ্রেশ ক্রিম
চিলিফ্লেক্স
অরিগ্যানো
লেবুর রস
গোলমরিচ গুঁড়া
অলিভ অয়েল।

প্রণালি: একটি প্যানে আমন্ড রোস্ট করে নিন। এবার ব্রোকলি, লেটুস ছোট করে কেটে নিন। এবার একটা মিক্সিং বোলে সব উপকরণ নিয়ে ভালো করে মিক্স করুন। ফ্রিজে ঠান্ডা করে খান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

রাজশাহীর ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

ঈদ উল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উৎসব। বাঙালি মুসলিমের কাছে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গাম্ভীর্য ও আনন্দের সাথে যে দিনটি পালিত হয় আমাদের মুসলিমপ্রধান দেশে। ছোটবেলা থেকেই দেখছি বাঙালি ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’-এর জাতি। যেখানে সাম্প্রদায়িকতার বিন্দুমাত্র ছটা পরিলক্ষিত হয়নি। এখনো হয়না। কালের পরিক্রমায় ঈদের উৎসবের রং পাল্টেছে। বেড়েছে এর উৎসবের আকার। বাঙালি মুসলিমের প্রাণের গভীরের যে ঈদ উৎসব তা নতুন বর্ণে আনন্দ বয়ে এনেছে।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এ ধারণাটাই যেন এই উৎসবের মূলে প্রোথিত। আর ক’দিন বাদেই ঈদ উল আযহা। যা আমাদের কাছে কুরবানির ঈদ হিসেবেই বেশি পরিচিত। মহান আল্লাহ্তায়ালার রাহে মুসলিমরা তার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানি দিয়ে থাকেন।

ইতিহাস বলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলায় মুসলিমরা আসে পারস্য অঞ্চল হয়ে। ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান হয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। সারা বছরই নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান লেগে থাকতো পরিবারগুলোতে। তবে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহাই যেন সবকিছুর ওপরে। যেহেতু গ্রামবাংলার মুসলিমরা ছিলো দরিদ্র এবং প্রান্তিক তাই এ দেশে ইসলাম প্রবেশকালে ওই দুটি দিন প্রথমদিকে বড় হয়ে ওঠেনি। কালক্রমে মুসলিমরা যখন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির দেখা পায়, সমাজে একটা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। তখনই ঈদ এই জনপদে পায় সামাজিক মর্যাদা। ভারতবর্ষের নবাব-বাদশাহদের আমলে ঈদ উৎসবে রূপান্তরিত হয়। এই তথ্যগুলো ইতিহাসের পাতা থেকে সংগৃহীত।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশের মুসলিমরা ঈদকে নিয়ে এসেছে জাতীয় উৎসবের কাতারে। যোগ হয়েছে নতুন সাংস্কৃতিক মাত্রা আর নানান নতুন উপাদান। ঈদ এখন আর কেবল মুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। ঈদ ক্রমেই ধর্মীয় থেকে সামাজিক ও জাতীয় গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। হয়ে উঠেছে সর্বজনীন এক উৎসব। ঈদের এই উৎসবে সময়ের সাথে যুক্ত হয়েছে নানান উপাদান। ঈদ ফ্যাশন, পত্র-পত্রিকার ঈদ সংখ্যা, নাটক, মঞ্চানুষ্ঠান এমনকি বেতার-টেলিভিশনে ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিচিত্র সব আয়োজন ঈদকে সর্বজনীন হতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশের বাঙালিদের ঈদ উৎসবের নানা মাত্রা। এ উৎসব গ্রাম ও শহর ভেদে যেমন আলাদা। তেমন পাথর্ক্য সমাজ ভেদেও। তবে উৎসবের মূল উপাদান আনন্দ। যে কোন উৎসবেই মানুষ আনন্দ খোঁজে। আনন্দের মাত্রায় সমাজের সকলেই একই বৃত্তে এসে দাঁড়ালে তা সর্বজনীন হয়ে ওঠে। আর তাই মানুষ যুগ যুগ ধরে চিন্তা করে এসেছে মানুষের চিত্তকে আনন্দিত করে কী? কিসের জন্য মানুষ তার যাপিত জীবনের ক্লেদকে মুছে দাঁড়াতে শেখে? পায় বাঁচার নতুন অনুপ্রেরণা?

গণমাধ্যম এখন ঈদ উদযাপনের একটি বিশেষ জায়গা। যেখানে মানুষ ঈদের দিনগুলোতে খুঁজে পেতে চায় বিনোদন। টেলিভিশন, বেতার, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সিনেমা হল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল- সবাই সাজতে চায় উৎসবে। আর দর্শক বা পাঠক চায় বাড়তি একটু আনন্দ। ঈদের এই অনুষ্ঠানমালা বা লেখালেখি সাজানোর একটা বড় জায়গা জুড়েই থাকে শহরের মানুষ। শহরের মানুষ কী দেখতে বা পড়তে চায়- তা’ই যেন দেখাতে বা পড়াতে উদগ্রীব থাকে প্রকাশক বা টেলিভিশনের স্বত্ত্বাধিকারী। আর বিজ্ঞাপনের বাজারটির কথাও ভুলে গেলে চলবে না।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

ঈদ এলেই সব বিজ্ঞাপনদাতাদের চাই তারকাখচিত অনুষ্ঠান, তারকাদের ফ্যাশন, রান্না ইত্যাদি নিয়ে বহুমাত্রিক আধুনিক প্রকাশনা। তারকা না থাকলে বিজ্ঞাপনদাতা নারাজ থাকে। গণমাধ্যমের যেকোনো শাখা যেমন টিভি, রেডিও বা যা উল্লেখ করলাম একটু আগে- তাদের জন্য মুনাফা আয় করা হয়ে পড়ে কঠিন। এমন অবস্থায় টিভিতে যেখানে আমি কাজ করছি সেই আশির দশকের শুরু থেকে, সেখানে সবসময়ই দেখেছি ঈদ আনন্দে প্রান্তিক ও গ্রামীণ মানুষের বিনোদনের জন্য কিছুই নেই। নেই পত্র-পত্রিকাতেও, অনলাইন বা রেডিওতেও।

কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় গ্রামের সাধারণ মানুষদের ঈদ আনন্দে? এমন একটি প্রশ্ন এবং এক ধরণের দায়বদ্ধতা কাজ করছিল বহু আগ থেকেই। চ্যানেল আইতে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটি শুরুর পর থেকে এ ধারণা আরও বাস্তবতার পথে হাঁটতে থাকে। পরিকল্পনাগুলো ধীরে ধীরে পরিপক্ক হতে থাকে।

২০০৬ সালে, অবশেষে শুরু করি টেলিভিশনে বাংলাদেশের ঈদ বিনোদনে নতুন মাত্রা, কৃষকের ঈদ আনন্দ। যেখানে প্রান্তিক, দরিদ্র, স্বাবলম্বী কৃষকেরা অংশগ্রহণ করে। আর তাদের গ্রামীণ খেলাগুলো স্যাটেলাইটের যুগে পৌঁছে যায় শহরে, নগরে এমনকী পুরো বিশ্বে। বিপুল জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠান শুধু খেলা বা কৃষকের অংশগ্রহণের জন্যই যে জনপ্রিয় হয়েছে তা নয়। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটি মানুষের মন জয় করতে পেরেছে কারণ অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ মানুষ আর তাদের জীবনের নানান গল্পগুলো প্রামাণ্যচিত্রের আকারে খেলার ফাঁকে ফাঁকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

এই ঈদ বিনোদন অনুষ্ঠানে শুধু দেশের কৃষক নয়, বিশ্বের কৃষকরাও সংযুক্ত হয়েছে। উগান্ডার কৃষক, জার্মানির কৃষক, দেশে-বিদেশে ঐতিহাসিক স্থানগুলো থেকে কৃষকের ঈদ আনন্দ হয়ে উঠেছে একটি বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান। যখন ঈদ আনন্দ প্রচারিত হয় চ্যানেল আইয়ে সে সময়ে সর্বাধিক দর্শকের চোখ থাকে টেলিভিশনের পর্দায়। এই অর্জন শুধুমাত্র চ্যানেল আই বা হৃদয়ে মাটি ও মানুষের নয়, এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের মানুষের। ঈদ আনন্দে যদি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রেণী পুরোপুরি বাদ পড়ে যায়, তাহলে বিনোদনের সংজ্ঞা কী দাঁড়ায়? দর্শক তাই মনেপ্রাণে ভালোবেসেছে এই অনুষ্ঠান। একটু বলতে চাই পাঠক, যেমন কোন টেলিভিশনে কৃষি সংবাদের ধারণাটি ছিলো না একসময়।

আমরা প্রথম এরকম শুরু করি। শুরুর দিকে সম্পাদনা পর্ষদ বা কেউই তখন মনে করতেন না কৃষি নিয়ে সংবাদ হতে পারে। পরবর্তীতে টেলিভিশনে কৃষি সংবাদ হয়েছে এবং আমরা তার শুরুটা করেছি দক্ষতার সাথে। চ্যানেল আইয়ের বাইরে অন্যান্য টেলিভিশনও এখন প্রচার করছে কৃষি সংবাদ। আমি মনে করি কৃষকের বিনোদনের বিষয়টিও এখন তাই। পথ দেখাচ্ছে কৃষকের ঈদ আনন্দ। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এগিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে দু’চারটি টেলিভিশন কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুসরণ করে ঈদে এমন বিনোদন অনুষ্ঠান নির্মাণ শুরু করেছে। দর্শক এখন তার ঈদ অনুষ্ঠানের তালিকায় কৃষকের ঈদ আনন্দ-কে স্থান দিয়েছে ভালোবাসার জায়গা থেকে। গ্রাম-গঞ্জ-হাট-বাজার-শহর-নগর-বন্দর সবখানে মানুষই কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানটি দেখার অপেক্ষায় থাকে।

প্রিয় পাঠক, বাঙালি মুসলিমদের ঈদ উদযাপনে সংস্কৃতি একটি জরুরি বিষয়। আর টেলিভিশন সংস্কৃতি এখন মূল্যায়ন হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে, আমাদের টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং এমন গণমাধ্যমে অবশ্যই গ্রামীণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে ঈদ আনন্দে। নইলে, আমরাই পিছিয়ে পড়বো। পৃথিবী জানতে পারবে না বাংলাদেশের গ্রামীণ মানুষগুলোর শ্রমে আর ঘামেই যে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের শক্তিশালী অর্থনীতি। তারাই যে এ জাতির মেরুদন্ড, তারাই যে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আর কনকনে শীতে আমাদের জন্য ফলিয়ে চলেছে সোনার ফসল।

গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ
গণমাধ্যমের সংস্কৃতি বলয়ে বাংলার মানুষের ঈদ আনন্দ

গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এবং দেশের মানুষের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করতে চাই, বিনোদনকে বৈষম্যের কাতারে না ফেলে এবং বাণিজ্যের জোয়ারে না ভেসে দেশের সাধারণ মানুষদের আনন্দকে আরও আপন করে নিই, টেলিভিশনে বা পত্র-পত্রিকায় তুলে ধরতে চেষ্টা করি আমাদের গ্রামীণ কৃষ্টি আর ঐতিহ্য, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছি আমরা। যে ভূখণ্ডে একটা সময় কৃষি সংস্কৃতি থেকেই কৃষ্টি এসেছিল; বর্ণাঢ্য একটা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে যে ভূখণ্ড বেড়ে উঠেছে, তা বর্তমান সময়ের তথাকথিত আধুনিকতার গড্ডালিকা প্রবাহে যেন হারিয়ে না যায় তাও খেয়াল রাখতে হবে আমাদের।

ঈদ আনন্দ তাই কখনোই কোথাও বৈষম্যের শিকার হতে পারে না। আমি তাই মনে করি, আসুন যে দেশে ১১ কোটি মানুষের বসবাস গ্রামাঞ্চলে, এই ঈদের সময়ে এবং ঈদ সংস্কৃতির নতুন জোয়ারে, গণমাধ্যমেও যেন আমরা জায়গা করে দিতে পারি এই সব মানুষদের। ঈদ আনন্দে জয় হোক বাংলার মেহনতি মানুষের যাদের সারা বছরের কঠিন শ্রম আর কষ্টের ভেতর, কিছুটা হলেও বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমাদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসরায়েল

আরবদের হটিয়ে যেভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল

 ইহুদি, মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র জেরুজালেম
ইহুদি, মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র জেরুজালেম

ফিলিস্তিনের গাজা থেকে দুই মাইল উত্তরে কিবুটস এলাকা। এখানে ১৯৩০’র দশকে পোল্যান্ড থেকে আসা ইহুদীরা কৃষি খামার গড়ে তুলেছিল।

ইহুদিদের পাশেই ছিল ফিলিস্তিনী আরবদের বসবাস। সেখানে আরবদের কৃষি খামার ছিল। তারা কয়েক শতাব্দী ধরে সেখানে বসবাস করছিল।

সে সময় মুসলমান এবং ইহুদীদের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।

কিন্তু ১৯৩০’র দশকে ফিলিস্তিনীরা বুঝতে পারলো যে তারা ধীরে-ধীরে জমি হারাচ্ছে। ইহুদিরা দলে-দলে সেখানে আসে এবং জমি ক্রয় করতে থাকে।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাত লাখের মতো ফিলিস্তিনী বাস্তু-চ্যুত হয়েছে। তারা ভেবেছিল দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে তারা বাড়ি ফিরে আসতে পারবে।

কিন্তু ইসরায়েল তাদের আর কখনোই বাড়িতে ফিরতে দেয়নি।

ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ বছর দশেক আগে বিবিসি’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনদের কেন এই দশা হলো সেজন্য তাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত।

মি: পেরেজ বলেন, “অধিকাংশ জমি ফিলিস্তিনদের হাতেই থাকতো। তাদের একটি আলাদা রাষ্ট্র হতো। কিন্তু তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৯৪৭ সালে তারা ভুল করেছে। আমরা কোন ভুল করিনি। তাদের ভুলের জন্য আমরা কেন ক্ষমা চাইবো?”

১৮৯৭ সাল থেকেই ইহুদিরা চেয়েছিলেন নিজেদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।

১৯১৭ সালে থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন।

তখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে।

ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইহুদি আন্দোলনের নেতা ব্যারন রটসচাইল্ডকে।

 ১৯৬৫ সালে জেরুজালেম শহর
১৯৬৫ সালে জেরুজালেম শহর

তৎকালীন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সে চিঠি ‘বেলফোর ডিক্লারেশন’ হিসেবে পরিচিত।

ইহুদীদের কাছে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের জমিতে তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ করে দিবে।

যদিও রোমান সময় থেকে ইহুদিদের ছোট্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সে জায়গায় বসবাস করতো।

ইউরোপে ইহুদীদের প্রতি যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সেটি তাদের একটি নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের ভাবনাকে আরো তরান্বিত করেছে।

১৯৩৩ সালের পর থেকে জার্মানির শাসক হিটলার ইহুদিদের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেন।

ইতোমধ্যে জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদি অভিবাসী ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে আসতে থাকে।

তখন ফিলিস্তিনী আরবরা বুঝতে পারে যে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।

ফিলিস্তিনী আরবরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্রোহ করে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্য এবং ইহুদি নাগরিকরা।

কিন্তু আরবদের সে বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করেছে ব্রিটিশ সৈন্যরা।

ফিলিস্তিনদের উপর ব্রিটিশ সৈন্যরা এতো কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল যে আরব সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছিল।

ইহুদীরা তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর ছিল। ব্রিটেনের সহায়তায় সে অনুযায়ী তারা কাজ এগিয়ে নিচ্ছিল।

১৯৩০’র দশকের শেষের দিকে ব্রিটেন চেয়েছিল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান জোরালো করতে।

সেজন্য আরব এবং ইহুদী- দু’পক্ষকেই হাতে রাখতে চেয়েছে ব্রিটেন।

 ১৯৬৭ সালে তেল আবিব শহরে যুদ্ধ প্রস্তুতি
১৯৬৭ সালে তেল আবিব শহরে যুদ্ধ প্রস্তুতি

১৯৩৯ সালের মাঝামাঝি ব্রিটেনের সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়েছিল পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য পঁচাত্তর হাজার ইহুদি অভিবাসী আসবে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে। অর্থাৎ সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল।

ব্রিটেনের এ ধরনের পরিকল্পনাকে ভালোভাবে নেয়নি ইহুদিরা। তারা একই সাথে ব্রিটেন এবং হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনা করে।

তখন ৩২ হাজার ইহুদি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। সেখান থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ইহুদি সৈন্যরা ব্রিটেন এবং আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বাহিনীর দ্বারা লাখ-লাখ ইহুদি হত্যাকাণ্ডের পর নতুন আরেক বাস্তবতা তৈরি হয়।

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর যেসব ইহুদি বেঁচে ছিলেন তাদের জন্য জন্য কী করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইহুদীদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা আরো জোরালো হয়।

আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন।

মি: ট্রুম্যান চেয়েছিলেন হিটলারের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক লক্ষ ইহুদিকে অতি দ্রুত ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে জায়গা দেয়া হোক।

কিন্তু ব্রিটেন বুঝতে পারছিল যে এতো বিপুল সংখ্যক ইহুদিদের ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে নিয়ে গেলে সেখানে গৃহযুদ্ধ হবে।

 ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে
ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে

এ সময় ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ সৈন্যদের উপর ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো শুরু করে।

তখন ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে জাহাজে বোঝাই হয়ে আসা হাজার-হাজার ইহুদিদের বাধা দেয় ব্রিটিশ বাহিনী। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।

ইহুদি সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ বাহিনীর উপর তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতির তৈরি করা যাতে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের জন্য ব্রিটেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সমাধানের জন্য ব্রিটেনের উপর চাপ বাড়তে থাকে।

এরপর বাধ্য হয়ে ব্রিটেন বিষয়টিকে জাতিসংঘে নিয়ে যায়।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দু’টি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। একটি ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটি আরবদের জন্য।

ইহুদিরা মোট ভূখণ্ডের ১০ শতাংশের মালিক হলেও তাদের দেয়া হয় মোট জমির অর্ধেক। কিন্তু আরবদের জনসংখ্যা এবং জমির মালিকানা ছিল আরবদের দ্বিগুণ।

স্বভাবতই আরবরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। তারা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।

কিন্তু ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ডে তখন ইহুদিরা বিজয় উল্লাস শুরু করে। অবশেষে ইহুদিরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেল। কিন্তু আরবরা অনুধাবন করেছিল যে কূটনীতি দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তের পর আরব এবং ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড ছেড়ে যাবার জন্য ব্রিটিশ সৈন্যরা দিন গণনা করছিল।

তখন ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো প্রকাশ্যে আসা শুরু করে। তাদের গোপন অস্ত্র কারখানাও ছিল।

কিন্তু ইহুদিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তাদের বিচক্ষণ নেতৃত্ব।

এর বিপরীতে আরবদের কোন নেতৃত্ব ছিলনা। ইহুদীরা বুঝতে পেরেছিল যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর আরবরা তাদের ছেড়ে কথা বলবে না। সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই তৈরি ছিল ইহুদিরা।

 ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে
ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত এখনো চলছে

সবার দৃষ্টি ছিল জেরুজালেম শহরের দিকে। মুসলমান, ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র এ জায়গা।

জাতিসংঘ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সেখানে জেরুজালেম আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল।

কিন্তু আরব কিংবা ইহুদি- কোন পক্ষই সেটি মেনে নেয়নি। ফলে জেরুজালেম শহরের নিয়ন্ত্রণের জন্য দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

জেরুজালেমে বসবাসরত ইহুদীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল আরবরা। অন্য জায়গার সাথে জেরুজালেমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ইহুদীরা আরবদের উপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

অনেক বিশ্লেষক বলেন, তখন ইহুদীরা আরবদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছিল।

যেহেতু আরবদের মধ্যে কোন সমন্বয় ছিল না সেজন্য ইহুদিরা একের পর এক কৌশলগত জায়গা দখল করে নেয়।

তখন ফিলিস্তিনের একজন নেতা আল-হুসেইনি সিরিয়া গিয়েছিলেন অস্ত্র সহায়তার জন্য।

কিন্তু সিরিয়া সরকার ফিলিস্তিনদের সে সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেখান থেকে ফিরে এসে আল হুসেইনি আবারো যুদ্ধে নামেন। এর কয়েকদিন পরেই তিনি নিহত হন।

ইহুদিরা যখন তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ বহু ফিলিস্তিনী আরব তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ইহুদি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নৃশংসতা আরবদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনী সশস্ত্র দলগুলো ইহুদিদের উপর কয়েকটি আক্রমণ চালায়।

কিন্তু ইহুদিদের ক্রমাগত এবং জোরালো হামলার মুখে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে ফিলিস্তিনীরা। তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ এবং অন্য আরব দেশগুলোর সরকার তাদের নিজ দেশের ভেতরে চাপে পড়ে যায়।

 ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর আরবদের সাথে দুবার যুদ্ধ হয়েছিল।
ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর আরবদের সাথে দুবার যুদ্ধ হয়েছিল।

সেসব দেশের জনগণ চেয়েছিল, যাতে ফিলিস্তিনদের সহায়তায় তারা এগিয়ে যায়।

১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যায় ব্রিটেন। একই দিন তৎকালীন ইহুদি নেতারা ঘোষণা করেন যে সেদিন রাতেই ইহুদি রাষ্ট্রের জন্ম হবে।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মের এক ঘন্টার মধ্যেই আরবরা আক্রমণ শুরু করে। একসাথে পাঁচটি আরব দেশ ইসরায়েলকে আক্রমণ করে।

যেসব দেশ একযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ করেছিল তারা হচ্ছে – মিশর, ইরাক, লেবানন, জর্ডান এবং সিরিয়া। তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজারের মতো।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার।

কিন্তু আরব দেশগুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় ছিলনা। তাছাড়া আরব নেতৃত্ব একে অপরকে বিশ্বাস করতো না।

জেরুজালেম দখলের জন্য আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলছে তীব্র লড়াই।

ইহুদিরা ভাবছিল জেরুজালেম ছাড়া ইহুদি রাষ্ট্রের কোন অর্থ নেই। অন্যদিকে মুসলমানদের জন্যও জেরুজালেম পবিত্র জায়গা।

তীব্র লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী পিছু হটতে থাকে। তাদের অস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যায়।

সম্ভাব্য পরাজয় আঁচ করতে পেরে ইহুদিরা নিজেদের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময় নেয়।

আর কিছুদূর অগ্রসর হলেই মিশরীয় বাহিনী তেল আবিবের দিকে অগ্রসর হতে পারতো। তখন জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যুদ্ধবিরতির সময় দু’পক্ষই শক্তি সঞ্চয় করে। কিন্তু ইসরায়েল বেশি সুবিধা পেয়েছিল। তখন চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে আধুনিক অস্ত্রের চালান আসে ইসরায়েলের হাতে।

যুদ্ধ বিরতী শেষ হলে নতুন করে আরবদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। একর পর এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নেয় ইহুদিরা।

 ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তার স্ত্রী সুহা
ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তার স্ত্রী সুহা

তেল আবিব এবং জেরুজালেমের উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়।

জাতিসংঘের মাধ্যমে আরেকটি যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে সে সংঘাত থামে। ইসরায়েলী বাহিনী বুঝতে পরে তারা স্বাধীনতা লাভ করছে ঠিকই কিন্তু লড়াই এখনো থামেনি।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ছয় হাজার ইহুদি নিহত হয়েছিল।

ইহুদিরা মনে করে তারা যদি সে যুদ্ধে পরাজিত হতো তাহলে আরবরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতো।

ইসরায়েলিরা মনে করেন ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ সেভাবে দু’টি দেশের স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটি যদি ফিলিস্তিনীরা মেনে নিতো তাহলে ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল নামের দুটি দেশ এখন পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতো।

আরব দেশগুলোর মধ্যে পারষ্পরিক আস্থা না থাকার কারণেই ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়েছে এবং ইসরায়েল দেশটির জন্ম হয়ে সেটি স্থায়ী হতে পেরেছে। অনেক ঐতিহাসিক বিষয়টিকে এভাবেই দেখেন।

১৯৪৮ সালের পর থেকে সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে ইসরায়েল। তারা সুপার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com