আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

কুমিল্লার চান্দিনায় পটল চাষে কৃষকের সাফল্য

জেলার চান্দিনার শ্রীমন্তপুর গ্রামের মানুষ পটল চাষ করে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। কয়েক বছর আগে ওই সব জমিগুলোতে কোন প্রকার চাষাবাদ হতো না এবং তাদের অভাব অনটন লেগে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পটল চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ওইসব দরিদ্র সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চান্দিনা উপজেলায় ৭২ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস হতে বীজ, সার দিয়ে কৃষকদের ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। পটল চাষিরা জানান প্রতি শতাংশ জমিতে পটল চাষে শ্রেণীভেদে খরচ পড়ছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা এবং উৎপাদিত পটল বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। শ্রীমন্তপুর গ্রামের পটল চাষি কামরুল হোসেন বাসসকে জানান, এক সময় তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। কিন্তু বর্তমানে পটল চাষ করে তার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তাদের ৬৬ শতক জমিতে পটল চাষ করে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ পটল বিক্রি করে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। কৃষক আমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, এবার তিনি ১৫ কাঠা জমিতে পটল চাষ করেছেন। চার মাস পটলের জমি পরিচর্যায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। এ ১৫ কাঠা জমি আবাদে তিনি এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন।

এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা পটল বিক্রয় করে ক্যাশ জমিয়েছেন। আগামীতে আরো ১ মাস এমনি ভাবে ফসল তুলে বিক্রয় করতে পারবেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, প্রতি সপ্তাহে এই জমি হতে ২-৩ মন পটল তুলেন। এখন যতই দিন যাবে ততই আরো বেশী ফসল তুলবেন। প্রতি কেজি পটল তিনি ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। সামনের দিনে পটলের দাম আরো বাড়বে ফলে আরো বেশী লাভবান হবে বলে জানান। কৃষক আমিনুল ইসলাম  জানান, আগামীতে তিনি পটলের আবাদ বাড়িয়ে দিবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিনা আক্তার বাসসকে বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিক ভাবে লাভবানে জন্য সরকারের পক্ষ হতে নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের উদ্ভুন্ধ করা হচ্ছে। উপজেলায় অনেক জায়গাতে কৃষক পটল চাষ করে লাভের মুখ দেখছে। আগামিতে অত্র উপজেলায় পটলের আবাদ বেড়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

দৈনন্দিন

ওজন নিয়ন্ত্রণে ফুলকপির ভাত

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর দেহ-মন অর্জন করা এবং বজায় রাখার তাগিদ এখন সারা বিশ্বে সবার মধ্যেই। হৃদ্‌রোগ, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে শরীরের ব্যথাবেদনা, হাড়ক্ষয়, বাতের সমস্যা—এসব রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও ওজন কমানো ও নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনকি করোনা মহামারিতেও দেখা যাচ্ছে মরবিড অবেসিটি বা বিপজ্জনক রকমের বেশি ওজন এই রোগের ভয়াবহতা ও প্রকারান্তরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।বিজ্ঞাপন

ওজন নিয়ন্ত্রণে লো কার্ব ডায়েট ও কলিফ্লাওয়ার রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত
কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত

নিজের শরীর স্লিম আর ফিট রাখতে যুগে যুগে বহু বিশেষায়িত ডায়েট বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের দ্বারস্থ হয়েছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় কম শর্করা গ্রহণের মূলমন্ত্র নিয়ে বহু ধরনের লো কার্ব ডায়েট অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করে অনেকেই দ্রুত সুফল পেয়েছে। এসব লো কার্ব ডায়েটের মধ্যে আছে একসময়ে সাড়া জাগানো এটকিন্স ডায়েট, প্যালেও ডায়েট আর হাল আমলে সবার মুখে মুখে ফেরা বিখ্যাত কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট। কম শর্করাযুক্ত খাবারের সমন্বয়ে করা লো কার্ব ডায়েট মানে কিন্তু না খেয়ে থাকা নয়। এ ক্ষেত্রে শর্করাজাতীয় খাবারের বিকল্প বিভিন্ন খাবার খেয়ে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে আমাদের মতো ভেতো বাঙালিসহ আরও যেসব দেশের মানুষ ভাত না খেয়ে থাকতে পারে না, তাদের জন্য ভাতের এক চমৎকার বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপি ভাত।

কলিফ্লাওয়ার রাইস কী

গোটা ফুলকপি কুরিয়ে বা গ্রেট করে দানাদার চালের মতো তৈরি করে তা ভাতের বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবজি কুরানোর যন্ত্রে হাতে গ্রেট করে অথবা ব্লেন্ডারে হালকাভাবে ফুলকপির ফুলগুলো ব্লেন্ড করে নিলেই হয়ে গেল ফুলকপির চাল। এবার এই চাল দিয়ে অনায়াসে রান্না করা যায় ফ্রাইড রাইস, পোলাও, বিরিয়ানি। নিজস্ব খুব কড়া কোনো স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ না থাকায় চাল দিয়ে তৈরি করতে হয়—এমন যেকোনো রেসিপিতেই সুন্দরভাবে খাপ খেয়ে যায় কলিফ্লাওয়ার রাইস।আরও পড়ুনচাল ছাড়াই ফ্রায়েড রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইসের ইতিকথা

সেই ১৮৬৩ সালে লো কার্ব বা কম শর্করার ডায়েটের ওপরে বই লিখে ওজন সচেতন মানুষের মনে সাড়া জাগিয়েছিলেন ব্রিটিশ এক ফিটনেস এক্সপার্ট। এরপর ২০০২ সালের দিকে ব্যায়ামবিজ্ঞানী লরেইন কোর্ডেনের ‘প্যালেও ডায়েট’ বইয়ে প্রথম চালের ভাতের বদলে কলিফ্লাওয়ার রাইস খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়। আর এখন তো কলিফ্লাওয়ার রাইস সারা বিশ্বেই সমাদৃত।বিজ্ঞাপন

কলিফ্লাওয়ার রাইস বনাম চালের ভাত

দানাদার ও সাদা ফুলকপি ভাত দেখতে ও খেতে কিছুটা হলেও ভাতের আমেজ দেয় আমাদের। অথচ এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে। নেট শর্করার পরিমাণও ভাতের তুলনায় প্রায় ১৮ ভাগের ১ ভাগ। এ ছাড়া ফুলকপির পুষ্টিগুণের ব্যাপারটা তো আছেই!

এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে
এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপকারিতা

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপাদান হচ্ছে গোটা তাজা ফুলকপি। শীতকালের এই ভরা মৌসুম মানেই ফুলকপির বড়া, ফুলকপির তরকারি, ফুলকপির শিঙাড়া। কিন্তু এই অভিনব কলিফ্লাওয়ার রাইস খেলে কম শর্করা খাওয়ার উপকারের পাশাপাশি ফুলকপির অনন্য পুষ্টিগুণ পাব বাড়তি পাওনা হিসেবে। ফুলকপির গুণের কথা তো বলে শেষই করা যায় না। তাও দেখে নেওয়া যাক এর প্রধান উপকারিতা আর উপযোগিতাগুলো।

পুষ্টিকর সবজি ফুলকপিতে আছে অপ্রত্যাশিত পরিমাণে ভিটামিন সি। তবে উচ্চতাপে নষ্ট হয়ে যায় বলে একমাত্র কাঁচা কলিফ্লাওয়ার রাইসেই যথার্থ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পানি না দিয়ে অল্প তাপে তাড়াতাড়ি নেড়েচেড়ে কোরানো ফুলকপি স্টারফ্রাই করলেও কিছুটা অক্ষুণ্ন থাকে ভিটামিন সি। এ ছাড়া এতে আছে যথেষ্ট ভিটামিন বি৬, ভিটামিন কে, ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। তবে কোলিন নামের আধুনিক কালে আবিষ্কৃত এক বিশেষ পুষ্টি উপাদান উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে একমাত্র ফুলকপিতেই পাওয়া যায় খুবই ভালো পরিমাণে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই কোলিন আমাদের হার্ট, লিভার, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ক্যানসার গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্রকলি ও ফুলকপির বিশেষ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ক্যানসারের জন্য দায়ী কারসিনোজেনের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি
ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি

আমাদের বাঙালি স্বাদগ্রন্থির পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি আর গলা অবধি উদরপূর্তির অভ্যাসের নিরিখে দেখতে গেলে ফুলকপি ভাতের ভবিষ্যৎ আপাতদৃষ্টিতে খুব উজ্জ্বল মনে না হলেও বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলে। কলিফ্লাওয়ার রাইসের ফাইবার আর পানির উপস্থিতির কারণে ভাতের বদলে খেলে কিছুটা হলেও পেট ভরে আর তৃপ্তি মেলে। আর বর্তমান সময়ে যখন অতিরিক্ত ওজনের ফলে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ বেড়েই চলছে হু হু করে আমাদের দেশে, তখন শর্করার বিকল্প হিসেবে এই ফুলকপি ভাতের গুরুত্ব ও আবেদন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অবশ্যই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোয় এর জনপ্রিয়তার কারণেও আমরা ধীরে ধীরে এই কিটোজেনিক লো কার্ব রাইসের দিকে আগ্রহী হচ্ছি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সমাজের ফিটনেস–সচেতন মানুষের প্লেটেও ঘরে ঘরে নিত্যদিন শোভা পাবে ফুলকপি চালের পোলাও অথবা ফ্রাইড কলিফ্লাওয়ার রাইস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ফুলকপির ১০ পুষ্টিগুণ

পুষ্টিগুনে ভরপুর সবজি ফুলকপি। শীতকাল হল এই সবজিটি উৎপাদনের মূল সময়কাল। যদিও বর্তমানে ফুলকপি সারা বছর পাওয়া যায়। তবে স্বাদের কথা বিবেচনা করলে শীতকালের ফুলকপি স্বাদে উৎকৃষ্ট। আমাদের দেশে ফুলকপি সাদা এবং হালকা হলুদ বা বাদামী বর্নের পাওয়া গেলেও বাইরের দেশে সাদা,হলুদ বা পার্পল বর্ণেরও পাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে ক্যালরি রয়েছে ৩১, প্রোটিন ৩.৩ গ্রাম, ফ্যাট ০.৮ গ্রাম, ফাইবার ১.১ গ্রাম, শর্করা ০.৮ গ্রাম। সুতরাং বুঝতেই পারছেন দামে বেশ সস্তা হলেও পুষ্টিগত দিক দিয়ে খুবই উপকারি ফুলকপি। পাশাপাশি,স্বাদের দিক থেকেও দারুণ সুস্বাদু। আর এই সবজিটিতে নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। ফুলকপি মাংসের সাথে, ডালের সাথে, চাপ বা কাবাব হিসাবে, মাছের সাথে ঝোল বা স্যুপ বা সালাদ অনেক ভাবে খাওয়া যায়।ফুলকপির বিশেষ কিছু গুণ আছে, যা সবার জেনে রাখা ভালো-

১. কোলস্টেরল কমায়: এতে প্রচুর ফাইবার আছে, যা শরীরে কোলস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

২. ওজন কমাতে: গবেষণায় দেখা গেছে, ফুলকপি মস্তিষ্ক ভালো রাখে, ওজন কমায় এবং সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ প্রতিরোধ করে।

৩. হাড় ও দাঁত শক্ত করে: ফুলকপিতে রয়েছে দাঁত ও মাড়ির উপকারী ক্যালসিয়াম ও ফ্লোরাইড। এর ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে।

৪. ক্যানসার প্রতিরোধ করে: মারাত্মক ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে ফুলকপি। এতে আছে সালফোরাপেন, যা ক্যানসার কোষকে মেরে টিউমার বাড়তে দেয় না। স্তন ক্যানসার, কোলন ও মূত্রথলির ক্যানসারের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতাও আছে ফুলকপির।

৫. হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী: ফুলকপি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য ভালো। এতে যে সালফোরাপেন আছে, তা হৃদ্‌রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।

৬. রোগ প্রতিরোধ করে: ফুলকপিতে আছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘কে’, যা এ সময়ের সর্দি, ঠান্ডা, কাশি জ্বর ভাব, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গা-ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ফুলকপির আরও সব প্রয়োজনীয় উপাদান রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়।

৭. শক্তি জোগায়: এই সবজিতে আছে প্রচুর আয়রন। রক্ত তৈরিতে আয়রন রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। গর্ভবতী মা ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের জন্য ফুলকপি অত্যন্ত জরুরি।

৮. চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী: কম ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চমাত্রার আঁশসমৃদ্ধ ফুলকপি চুল ভালো রাখে। ত্বকের সংক্রমণও প্রতিরোধ করে।

৯. পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে: ফুলকপি পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

১০. দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: চোখের যত্নে ফুলকপির কোনো তুলনা হয় না। ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। চোখ সুস্থ রাখতে বেশি করে ফুলকপি খাওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ চাষীর উজ্বল সম্ভবনা

বাংলাদেশর গ্রীস্মকালীন টমেটো সবজির pionear হিসাবে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিচিত। এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ হয়। গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকেরা আগ্রহী কিন্তু পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা, গ্রীস্মকালীন টমেটোর রোগমুক্ত বীজের অভাব উন্নত জাতের অভাব পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা পরিবহন ব্যববস্থা এবং বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সুবিধা না থাকায় কৃষকেরা গ্রীস্মকালীন

টমেটো  বাজারজাত করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যদি কৃষকদের গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত এ সকল সমস্যা গুলি সমাধান করা যায়। তাহলে বাঘারপাড়া’র টমেটো দেশে ও বিদেশে রপ্তানি হয়ে বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রীস্মকালীন টমেটো  উৎপাদন কারী দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে এবং কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থ্যার উন্নয়ন হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

জেনে নিন সহজ উপায়ে ব্রকোলি চাষ পদ্ধতি

ব্রোকলি একটা পুষ্টিকর সবজি যা দেখতে ফুলকপির মত কিন্তু বর্ণে সবুজ। অনেকেই এর চাষ স্বল্প পরিসরে শুরু করেছে। ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন সি, ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। স্বাস্থের জন্য উপকারী এই সবজীর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি থাকায় আমাদের এর চাষ শুরু করা দরকার।

ব্রোকলি মাঠ থেকে তোলার পর তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় বলে টবে ব্রোকলি চাষ করতে পারলে অল্প অল্প করে খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করা যায় সহজেই। আপনি চাইলে বাড়ির আঙ্গিনায়, বারান্দায় বা ছাদের অল্প জায়গায় টবে ব্রোকলি চাষকরতে পারেন। নিচে টবে ব্রোকলির উৎপাদন কলাকৌশল ও প্রয়োজনীয় উপকরন বর্ণনা করা হলো।

জাত:

ভালো ফসল পেতে ভালো জাত নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্রোকলির উল্লেখযোগ্য জাত গুলো হচ্ছে- টপার-৪৩, ডান্ডি, সপ্রডিটিং টেক্সাস ১০৭, গ্রিন ডিউক, ক্রুসেডার, ওয়ালথাম ২৯, গ্রিন মাউন্টেইল, ইতালিয়ান গ্রিন, গ্রীন বাড ইত্যাদি তবে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় প্রিমিয়াম ক্রপ, এল সেন্ট্রো, গ্রিন কমেট ও ডি সিক্কো জাত গুলো বিশেষ উপযোগী।

চাষের সময়:

সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস ব্রোকলি চাষের উপযুক্ত সময় তাই আগস্ট মাসে বর্ষার পর পরই জমি প্রস্তুত করতে হয় এবং পরে বীজতলায় ব্রোকলির বীজ বুনতে হয়।

মাটি(Soil):

মাটি নরম ও ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পরিমান মত গোবর, টিএসপি ও খৈল দিয়ে সার ও মাটি ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। অথবা পাতা পচা সার বা গোবর সার ১ ভাগ, বালি ১ ভাগ ও মাটি ২ ভাগ মিশিয়ে ব্রোকলির বীজতলা তৈরি করে নিতে পারেন। মনে রাখবেন মাটি সব সময় নরম তুলতুলে থাকলে সব ধরনের সবজি ভালো ফলন দেয় ও তাড়াতাড়ি বাড়ে। আর অবশ্যই সারাদিন রোদ পায় এমন জায়গা ব্রোকলি চাষের জন্য নির্বাচন করবেন।

চারা তৈরি ও রোপন:

ভালো ফলন পেতে হলে বীজতলায় চারা তৈরি করে পরে মূল টবে লাগাতে হবে। বীজ রোপনের পর চারা গজাতে ৩/৪ দিন সময় লাগে । ৮/৯ দিন বয়সে চারা মূল টবে লাগানোর উপযূক্ত হয়। তবে ৩/৪ সপ্তাহের সুস্থ চারা সার ও মাটি ভরা টবে লাগলে ভালো হয়। টবে লাগানোর উপযুক্ত চারা

চেনার জন্য যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন তা হলো চারার উচ্চতা ৮-১০ সেমি, ৫-৬টি সবল পাতা ও গাঢ় সবুজ বর্ণ। টব নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যেন ছোট না হয়ে যায় কারন এটি দ্রুত বাড়ে ও আকারে মোটামুটি মাঝারি আকারের হয় তাই ৫ লিটার পাত্রের সমান টবে লাগাবেন।

পরিচর্যা:

চারা রোপণের পর প্রথম ৪-৫ দিন পর্যন্ত এক দিন অন্তর অন্তর পানি দিতে হবে। পরবর্তীতে ৮-১০ দিন অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিলেই চলবে। টব সব সময় আগাছা মুক্ত রাখুন আর মাটি ঝুরঝুরে করে দিন। আর পরিমান মত যৈব সার ব্যবহার করুন এবং সার প্রয়োগের পরে পানি দিতে ভুলবেন না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ডাটা শাক চাষের পদ্ধতি

ডাটা শাক প্রত্যেক নিরামিষ ভোজনপ্রিয় বাঙালির কাছে অত্যন্ত প্রিয়। ডাটা শাকের চচ্চড়ি, অথবা মাছের মাথা দিয়ে ডাটা শাকের পদগুলি খেতে খুবই ভালো লাগে। ডাটা চাষ করে বর্তমানে বহু মানুষ সাফল্যের ছোঁয়া পেয়েছেন। ডাটা শাক চাষ খুব একটা কঠিন বিষয় নয়। বুদ্ধি করে এবং কৌশলগত ভাবে এগোলেই ডাটা চাষ সহজে করা যাবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই চাষের সহজতম পদ্ধতি।

ডাটা চাষ মূলত শীতকাল ও গ্রীষ্মকাল দুই ঋতুতেই করা যায়। ভিটামিন-এ, বি, সি, ডি এবং ক্যালসিয়াম ও আয়রন পর্যাপ্ত পরিমাণে এই সবজির মধ্যে থাকে। এতগুলো ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ সবজি খুব কম লক্ষ্য করা যায়।

জমি প্রস্তুতি- (Preparing the Land)

ডাটা চাষ করতে গেলে জমি গভীর ভাবে কর্ষণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে মাটি যেন মিহি হয় এবং জমি যাতে ঢেলামুক্ত হয়। মূলত কাণ্ডের জন্য এই বিশেষ সবজি চাষ করা হয়। কম করে ৩০ সেমি. দূরত্ব রেখে সারি তৈরি করতে হবে। চারা গজানোর পর ক্রমান্বয়ে পাতলা করে দিতে হবে। যেন শেষ পর্যন্ত সারিতে পাশাপাশি দুটি গাছ ৮/১২ সে.মি. দূরত্বে থাকে।

বপনের উপযুক্ত সময় (Timing)

খরিফ মৌসুম (মার্চ-এপ্রিল) ও রবি মৌসুম (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) এই চাষের পক্ষে উপযুক্ত

বীজ বপন (Planting)

সার দেওয়ার কৌশল (Fertilizer)

সার                                     প্রতি শতকের জন্য

পচা গোবর/কম্পোস্ট                 ৪০কেজি

ইউরিয়া                                  ২৬৪গ্রাম

টিএসপি                                 ৮০০গ্রাম

এমওপি                                  ৬০০গ্রাম

সার প্রয়োগের কৌশল (Process of Fertilizing)

 গোবর, টিএসপি, অর্ধেক ইউরিয়া এবং পটাশ সার শেষবার চাষ দেওয়ার সময় সমানুপাতে মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। বীজ বপন হয়ে গেলে তার ১৫ দিন বাদে বাকি পটাশ এবং ইউরিয়া সার ছড়িয়ে দিতে হবে।

আগাছা দমন (weed management)

ডাটা বীজ বপন হওয়ার এক সপ্তাহ বাদে গাছ পাতলা করণ ও আগাছা পরিষ্কারে হাত দিতে হবে। প্রত্যেকটা সারিতে ৫ সেমি. অন্তর চারা রেখে পাতলা করে দিতে হবে। জমির উপর চটা লাগে তবে তা ভেঙে দেওয়া উচিত। এর ফলে গাছের বৃদ্ধি  ত্বরান্বিত হবে এবং গাছ বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচবে।

ফসল সংগ্রহ (Harvest)

 পাতা নরম বা মোলায়েম অবস্থায় ডাটা শাক তুলতে হয়। এই অবস্থায় ফসল তুললে শাকের স্বাদ অত্যন্ত ভালো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com