আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

কুমিল্লার আগাম রূপবান শিমে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

শিম শীতকালীন সবজি। কিন্তু গ্রীষ্মে আগাম লাগানো শিম চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে আগাম রূপবান প্রজাতির শিম। আগাম শিম বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কৃষকরা পাইকারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে শিম বিক্রি করছেন। রূপবান জাতের শিম চাষ করে এ এলাকার কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে। 
বুড়িচং উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০ হেক্টর জমিতে দুই শতাধিক চাষি আগাম শিম চাষ করেছেন। উপজেলার মোকাম ও ডুবাইচর  গ্রামের মাঠে বেশি শিমের আবাদ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শিমের আবাদে ভরে গেছে। অনেক কৃষক শিমের ক্ষেতে কাজ করছেন। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শিম তুলছেন। 


শিকারপুর গ্রামের শিমচাষি আলমগীর ইসলাম বাসসকে জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আগাম রূপবান জাতের লাল শিম লাগিয়েছেন। দেড় বিঘা জমিতে তার সার, সেচ, কীটনাশক, বাঁশের চটি, পরিচর্যা বাবদ খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনি দুই দফায় ৫ হাজার টাকার শিমও বিক্রি করেছেন। প্রথম দফায় ৭০ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় ৬০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করেছেন। অবশ্য খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করছেন। তিনি আরো জানান, আগাম লাগানো এ শিম গাছ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিম পাওয়া যাবে। ৬ মাসে তিনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন। অবশ্য বাজার ভালো থাকলে অনেক সময় লাখ টাকার শিম বিক্রি হবার সম্ভাবনা থাকে। 
ডুবাইচর গ্রামের চাষি জহিরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, এখন কয়েক মাস শিমের দাম ভালো পাওয়া যাবে। শীতের সময় শিমের দাম কমে যায়। তখন কৃষকদের ১০/১২ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করতে হয়। খুচরা বিক্রেতা তখন ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করেন। সবমিলিয়ে খরচ বাদে তার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান। 

মোকাম গ্রামের আনু মিয়া ২ বিঘা জমিতে একই গ্রামের আলী মিয়া দেড় বিঘা জামিতে শিমের আবাদ করেছেন। তাদের মতো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক চাষি শিমের আবাদ করেছেন। এসব চাষিরা ক্ষেত থেকে শিম তুলে কয়েক দফায় বাজারে বিক্রিও করেছেন। দাম ভালো পাওয়ায় রূপবানে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। 
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বাসসকে জানান, বুড়িচং উপজেলায় আগাম জাতের শিমের চাষ বেশি হয়েছে। এ এলাকায় শতাধিক কৃষক আগাম জাতের শিমের চাষ করেছেন। এসব চাষিদের সার, বীজ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সার্বিকভাবে কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শাকসবজি

দেশে পেঁপের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন

 সুমিষ্ট লাল ও হলুদ পেঁপের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক।  

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী পেঁপের এ জাত দুটি উদ্ভাবন করেছেন।

নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, পাঁচ বছর গবেষণার পর পেঁপের এমন দেশীয় জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। পেঁপের জাত দুটি গাইনাডোইওসিয়াস ধরনের স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গ বিশিষ্ট গাছ থাকবে। প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ৬০টি ফল ধরবে।  

স্ত্রী গাছের ফলের আকার নাশপাতি আকারের এবং গায়ে লম্বালম্বি দাগ আছে। ফলন হয় হেক্টর প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টন। এ জাতের পেঁপেতে পেপেইন নিঃসরণ বেশি হয়। পাকা ফলের মিষ্টতা বেশি। পাকা ফলের ভিতরের রং একটিতে গাঢ় হলুদ থেকে গাঢ় কমলা, অপরটিতে লাল। পাকা পেঁপেতে যেমন প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ থাকে, তেমনি কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামের এক প্রকার হজমকারী দ্রব্য, যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুব উপকারী।
 
এ জাতের পেঁপের বীজ জানুয়ারিতে রোপণ করা হয় এবং মার্চে উৎপাদিত চারা রোপণের উত্তম সময়। চারা লাগানোর ৬০-৭০ দিনের মধ্যে ফল ধরে। এ জাতের পেঁপেতে রোগ প্রতিরো ক্ষমতা অনেক বেশি। পেঁপের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি হওয়ায় মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে এটি ভালো ভূমিকা রাখে।  

পেঁপে পরপরাগায়িত ফল। পেঁপের ৩২ লিঙ্গের গাছ থাকলেও পুরুষ, স্ত্রী ও উভয় লিঙ্গের গাছই পাওয়া যায়। এদের মধ্যে শুধু স্ত্রী ও উভয় লিঙ্গের পেঁপের জাত উন্নয়নে কাজ করছেন এই গবেষক। স্ত্রী ও উভয় লিঙ্গের পেঁপে গাছে ফল ধরে। উভয় লিঙ্গ গাছের ফল লম্বাটে হয়। প্রতিটি গাছে ৫০-৬০টি ফল হয় এবং প্রতিটি পেঁপের ওজন দেড় কেজি থেকে সাড়ে ৩ কেজি হয়ে থাকে।  

বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে চাষীরা পরপরাগায়িত বীজ ব্যবহার করেন। পেঁপের বীজ থেকে উৎপাদিত চারার ৫০ ভাগ পুরুষ গাছ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব পুরুষ গাছ থেকে কোনো ফল পাওয়া যায় না। পেঁপে চাষীরা এ ক্ষেত্রে প্রতি ভিটেতে ৩-৪টি করে চারা একত্রে রোপণ করেন। ফুল আসার পর পুরুষ গাছ কেটে ফেলে জমিতে রাখে শুধু স্ত্রী ও উভয় লিঙ্গের গাছ।  

পুরুষ গাছ মাটি থেকে পুষ্টি ও সার গ্রহণ করে। তাই অন্য গাছের সার ও পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে ফলন কমে যায় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। চাষীরা যাতে প্রতি ভিটে একটি চারা রোপণ করে সব চারাতেই ফল পায় এবং ফলন ও পুষ্টিগুণ বেশি হয়-এ জন্য ৫ বছর গবেষণা চালিয়ে সুস্বাদু পেঁপের এমন দেশীয় জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।  

২০০৮ সালে পেঁপে গবেষণার কাজ হাতে নেন অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী।  এরপর দেশীয় পেঁপের কৌলিসম্পদ ব্যবহার করে নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেন। দেশীয় পেঁপের পরপরাগায়িত বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা হয় প্রজনন ও জেনেটিক পিওরিফিকেশনের মাধ্যমে। গাইনোডোইওসিয়াস ধরনের কয়েকটি উন্নত লাইন বাছাই করা হয়। বাছাই করা লাইনগুলো থেকে শতভাগ ফলবান পেঁপে গাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। চীন, অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ানে এ ধরনের গবেষণা হয়েছে।  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দীন মিয়া বলেন, পেঁপে ছাড়াও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্যস্যের ৬০টি জাত উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পাশপাশি লেখাপড়ার মান উন্নয়নের সার্বক্ষণিক তিনি তত্ত্বাবধান করছেন।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

মনপুরায় ১০ ফুট লম্বা চিচিঙ্গা

বাড়ির আঙিনায় চিচিঙ্গার বীজ বপন করেছিলেন এক কলেজশিক্ষক। এ ঘটনা তিন মাস আগের। এরপর গাছ পরিচর্যা করেন। দেখতে দেখতে গাছে ৮–১০ ফুট লম্বা চিচিঙ্গা ধরে। কলেজশিক্ষকের বন্ধুরা ওই চিচিঙ্গার ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর ওই চিচিঙ্গা দেখতে তাঁর বাড়িতে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। ব্যতিক্রমী এ ঘটনা ঘটেছে ভোলার মনপুরা উপজেলায়।বিজ্ঞাপন

ভোলার মনপুরা উপজেলার মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক উৎপল মন্ডল। তাঁর বাড়ি উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর যতিন গ্রামে। তিনি জানান, সহকর্মী সীমান্ত হেলাল তাঁর বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে বাড়ির আঙিনায় চিচিঙ্গা দেখে ছবি তোলেন ও মাপেন। কোনোটি ৭ ফুট, কোনোটি ১০ ফুট লম্বা। ওই ছবি ফেসবুকে আপলোড করার পর সবাই তাঁর বাড়িতে আসতে শুরু করেছেন।বিজ্ঞাপন

উৎপল মন্ডল জানান, তিন মাস আগে তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁর শ্বশুর তাঁকে চিচিঙ্গার চারটি বীজ দিয়েছিলেন। সেই বীজ মনপুরায় এনে বাড়ির আঙিনায় বপন করেন। বীজ থেকে গাছ জন্ম নিলে ছাদের ওপর তুলে দেন। কোনো সার ও ওষুধ ছাড়াই গাছ বড় হয় ও সবজি ধরে।

ভোলার মনপুরা উপজেলার মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক উৎপল মন্ডলের বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছে ধরেছে ১০ ফুট লম্বা চিচিঙ্গা
ভোলার মনপুরা উপজেলার মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক উৎপল মন্ডলের বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছে ধরেছে ১০ ফুট লম্বা চিচিঙ্গা 


ভোলার মনপুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী বলেন, ‘এটি খরিপ-১ মৌসুমের উফশী জাতের চিচিঙ্গা। মনপুরার চর যতিনের মাটির কারণে ১০ ফুটের বেশি লম্বা হয়েছে। আমরা বীজ সংগ্রহ এবং আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মনপুরায় সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করব।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

আগাম শীতকালীন সবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত শরীয়তপুরের কৃষকরা

শরীয়তপুর: জেলার শস্য ভান্ডারখ্যাত জাজিরা উপজেলার কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছেন শীতকালীন আগাম সবজি চাষ ও পরিচর্যার কাজে। আগাম সবজি আবাদে তুলনামুলক বেশি দাম পাওয়া যায় বলে জাজিরার কিছু কিছু অঞ্জলের কৃষকরা প্রতি বছরই আগাম সবজি আবাদ করে থাকেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনেরও আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জাজিরা উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে ২’শ ৫০ হেক্টরে। এর মধ্যে রয়েছে লাল শাক, বেগুন, করলা, শশা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনে পাতা, সীম,ধুন্ধলসহ নানা জাতের সবজি।

বর্ষার পানি জমি থেকে নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই অন্যান্য বছরের মতো এবারও বেশি দাম পাওয়ার আশায় আগাম শীতকালিন সবজি আবাদ করেছেন জাজিরার কৃষকরা। তবে এবার বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে লাগাতার বৃষ্টিপাতের কারণে গত বছরের তুলনায় ১৫-২০ দিন বিলম্ব হয়েছে বলে বলছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় এবং সার-বীজ সহজলভ্য হওয়ায় সবজির চারার অবস্থা অনেকটাই সতেজ। তাই কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের মিরাসার গ্রামের কৃষক মো. কামাল খান বলেন, আমরা প্রতি বছরই বেশি দাম পাই বলে শীতকালীন আগাম সবজি আবাদ করি। গত মৌসুমে ১ বিঘায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে বেগুন আবাদ করে খরচ বাদে লাভ করেছিলাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তাই এবার দুই বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছি। সার-বীজ সহজে পাওয়ায় ও আবহাওয়া ভালো থাকায় সবজির চারার অবস্থা খুবই ভালো মনে হচ্ছে। কোন প্রাকৃতিক সমস্যা না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছি।

একই উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের খানকান্দি গ্রামের কৃষক সোহেল খান বলেন, এবার বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে লাগাতার বৃষ্টি হওয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি আবাদে গতবারের চেয়ে ১৫-২০ দিন দেরি হয়েছে। আবাদে কিছুটা দেরি হলেও এবার সবজির চারার অবস্থা খুবই ভালো আছে। তাই আশা করছি ফলনে তেমন হেরফের হবে না এবং আমরা লাভবান হতে পারবো।

জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রশান্ত বৈদ্য বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও আগাম শীতকালীন সবজি আবাদে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান করতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নানা পরামর্শ সহ কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগাম শীতকালীন সবজিতে উপজেলার কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সবজিতে বিষ: যেন এক মরণখেলা

আমরা যেন খাদ্যশিকারীদের হাতের পুতুল। তারা বিষ মিশিয়ে আমাদের কাছে বিক্রি করছে আর আমরা তা নির্দিধায় খেয়ে যাচ্ছি। আর প্রসাশনও লিখিত অভিযোগের আশায় হাত গুটিয়ে বসে আছে। দারুণ এক খেলা। যার নাম বিষ বিষ খেলা।

আমাদের প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় থাকা নানা সবজিতে হরহামেশাই ব্যবহার করা হচ্ছে অক্সিটোসিন। শুনতে অবাক লাগলেও অক্সিটোসিন বা ভালোবাসার হরমোনকে ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হচ্ছে সবজিতে। আর স্প্রেয়ারের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে সিলিকন। এতে না-কি সবজি দেখতে বড় ও ফ্রেশ লাগে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এমন একটি ভয়ংকর বিষয় দেখা গেছে। স্টিভ নামে এক ব্যক্তি এই ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, একদিন আমরা মাছির মতো মরে যাব। ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি ভারতের। তবে, নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এমনটা যে ঘটছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে কীভাবে নানা রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে ফল ও সবজিতে। এক ব্যক্তি এর বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এসব ওষুধ খুব সহজেই মেলে, ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়। সবজিতে এসব ওষুধ রাতে ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হয় আর সকালে এগুলো হয়ে ওঠে বড় আর সতেজ। এরপর একটি স্প্রের বোতল দেখিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, এই স্প্রে সবজিতে ব্যবহার করা হয়, এতে সবজি দারুণ তাজা হয়ে ওঠে। বাসি সবজিতে লাগালেও তা দেখতে হয় সতেজ আর ঝলমলে।

তিনি আরো বলেন, কৃষকরা সবজি রং করেন। এবং এতে ব্যবহার করেন ‘ম্যালাচিট গ্রিন’ নামে একটি রাসায়নিক যৌগ, যা সাধারণত রেশমি কাপড়, কাগজ ও চামড়াজাত পণ্য রং করতে ব্যবহৃত হয়।

যারা এসব করছেন, তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে (ওই ব্যক্তির বয়ানে), তারা প্রায় দীর্ঘ আট থেকে ১০ বছর ধরে এসব করছেন। এসব কাজে তাদের স্ত্রী’রা তাদের সাহায্য করছেন। এভাবেই তারা তাদের সন্তানদের ভরণপোষণ করছেন এবং জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছেন।

এমন আর একটি ভিডিওতে একজন কৃষককে বলতে শোনা গেছে, আমরা তাজা, খামারজাত ও কোনো প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়া সবজি নিয়ে বাজারে যাই, ক্রেতারা বলেন, ওগুলো ভালো না। এরপর আমরা যখন স্প্রে করা সবজি নিয়ে ক্রেতাদের সামনে হাজির হই, তারা সেগুলো দেখে বলে ওগুলো ভালো এবং তারা উৎসাহ নিয়ে ওই স্প্রে করা সবজিগুলো কিনে নিয়ে যায়। আর তাই, আমি এর মধ্যে দোষের কিছু দেখি না।

উল্লেখ্য, শরীরে অতিমাত্রায় অক্সিটোসিনের প্রয়োগ মানসিক ভারসাম্যহীনতা আনতে পারে বা কারণ হতে পারে আরো অনেক বড় ধরনের মানসিক সমস্যার। আর সবজি রং করতে যে রং ব্যবহার করা হচ্ছে তা কিডনি ও লিভারের নানা জটিল ও কঠিন রোগের কারণ হতে পারে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মাচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষে নির্মলা সুন্দরী এখন মডেল

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর দক্ষিণ পাড়ায় ষাট বছরের নির্মলা সুন্দরী মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষ করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে। তিনি এখন অন্যান্য চাষিদের কাছে মডেল হয়েছেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও এগিয়ে আসছেন মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষে।

মঙ্গলবারে নির্মলা সুন্দরীর সাথে কথা হয় সবজি ক্ষেতে বসে এ সময় তিনি জানান, তিন মাস আগে দশ কাঠা জমিতে মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষ করি। এক মাসের মাথায় সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করতে থাকি। দুই তিন দিন পর পরই পুঁইশাক কাটা লাগে। এ বছর পুঁইশাকের দাম ছিল অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি। পাইকাড়রাও সবজি ক্ষেতে এসে পুঁইশাক কিনে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত প্রায় দশকাঠা জমি থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছি। আমার দেখাদেখি এখন এলাকার অনেকেই মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষ করে লাভবান হচ্ছে।

স্বামী, ছেলে ও কন্যাদের নিয়ে শাঁক কাঁটা, আঁটি বাঁধা ও বাজারে বিক্রি করা সব কাজই আমরা আনন্দের সাথে মিলে মিশে করি বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, সিলনা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুয়াধানা, রুপাহাটি, গোপালপুর, সত্তর কান্দা, জোয়ারিয়া, পাথরঘাটা, বন্যাবাড়ী, রাখিলা বাড়ি ও মৃত্তি ডাঙ্গা থেকে শত শত মন পুঁইশাক পাইকাররা নসিমন, ইজিবাইক, লেগুনা ও ভ্যানে গোপালগঞ্জ শহরের বাজারে নিয়ে আসে। এছাড়াও এ পুঁইশাক গোপালগঞ্জ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ দেশের আরো অনেক জেলায় মানুষের মাঝে চাহিদা মিটাচ্ছে।

গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুরের সবজি চাষি বিধান বিশ্বাস, রমানাথ গাঙ্গুলি, দিলীপ বিশ্বাস, তপন বালা ও দয়াল বালা জানান পুঁইশাক চাষ করে এবার অনেকেই লাখ লাখ টাকার মুখ দেখেছে। এবার থেকে পুঁইশাক চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা। আগামী বছর থেকে এলাকায় এ সবজি চাষে প্রাধান্য পাবে বলে তারা জানান।

ডাক্তার অমৃত লাল বিশ্বাস বলেন, পুঁইশাকে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে। যা থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ জন্য প্রত্যেকেরই পুঁইশাক খাওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com