আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

লিচু ছিদ্রকারী পোকা (litchi fruit borer) নিয়ন্ত্রণে সফলতা পেয়েছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. জিএম মোরশেদুল বারী ডলার। কোনো ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে এসেছে লিচুর প্রধান এ বালাই। সম্ভব হয়েছে নিরাপদ লিচু উৎপাদন।

দুই বছরের গবেষণা শেষে তার এই প্রযুক্তি পৌঁছেছে চাষি পর্যায়ে। সাশ্রয়ি হওয়ায় এ জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা সাড়া ফেলেছে স্থানীয় লিচু চাষিদের মাঝে। এ পোকার বৈজ্ঞানিক নাম Conopomorpha sinensis। শুটকীট-বাদামী সবুজাভ। পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী কীট হলুদ। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে এ পোকার বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যায়।

বোম্বাই জাতের লিচুতে এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়। অপেক্ষাকৃত কম আক্রমণ হয় চায়না-৩ জাতে। লিচুর প্রধান শত্রু এ পোকার আক্রমণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়। কমে যায় উৎপাদিত লিচুর বাজার মূল্য। ফলে বাগান মালিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

নতুন এ প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয় বিজ্ঞানী ড. জিএম মোরশেদুল বারী ডলারের সঙ্গে। তিনি বলেন, মূলত ফলের বাড়ন্ত অবস্থায় পূর্ণ বয়স্ক পোকা বোঁটার কাছে খোসার নীচে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে বোঁটার কাছে ফলের শাশ ও বীজ খেতে থাকে। বোঁটার কাছে করাতের গুড়ার মতো পোকার মল জমে স্থানটি কলো হয়ে যায়।

ফলের গুটি পচে যায়, অপরিপক্ক ও পরিপক্ক ফল ঝড়ে যায়। ফেব্রুয়ারি-মে মাসে গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ পোকার আক্রমণ দেখা যায়। ডিম থেকে বেরিয়ে লার্ভা গাছের নরম ও কচি অংশ যেমন বিকাশমান ডগা, পত্রবৃন্ত প্রভৃতিতে ছিদ্র করে। আক্রান্ত ডগা ফ্যাকাসে ও ঢলে পড়া ভাব দেখায় এবং ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরে যায়।

ড. ডলার বলেন, তার এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিকর কীটনাশক মুক্ত লিচু উৎপাদন করা। দুই বছর ধরে তিনি জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করেছেন। কীটনাশক ছাড়াই ফল ছিদ্রকারী পোকা নিয়ন্ত্রণে প্রায় শতভাগ সফলও হয়েছেন তিনি। চাষি পর্যায়ে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা গেলে শতভাগ নিরাপদ লিচু উৎপাদন সম্ভব হবে।

কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

এ বালাই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ডলার বলেন, ফল মটরদানা আকারের হবার পর গাছ পুরোটাই ‘নেটিং’ করে দিতে হবে। এতে বাইরে থেকে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় প্রবেশ করতে পারবেনা।

এর আগে গাছে নিমের তেল বা নিমের বীজ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি গাছে স্প্রে করতে হবে। ফল সংগ্রহের আগের ২০ দিনে কোনোভাবেই কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে না। ওই সময় জৈব বালাইনাশক স্পিনোসেড ১০ দিন পরপর দুই দফা প্রয়োগ করতে হবে। এর আগে ইমিডাক্লোরোপিড প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এতেই শতভাগ নিয়ন্ত্রণে আসবে ফল ছিদ্রকারী পোকা। এ পদ্ধতির বাইরে কেবল নেটিং করেও এ পোকা প্রতিরোধ সম্ভব। এ পদ্ধতিও ছিল গবেষণায়। তবে কেবল নেটিংএ সফলতার হার কিছুটা কম।

তাছাড়া বিরুপ আবহাওয়ায় আক্রমণ ঘটতে পারে এনথ্রাকনোজ। এ ক্ষেত্রে মুকুল ফোটার আগে এবং ফল পুষ্ট হবার সময় ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। নেট খুলে ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পর আবারও নেটিং করে দিতে হবে।

জেলার চারঘাট উপজেলার অনুপমপুরের সোহেল রানার লিচু বাগানে এ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে ফল গবেষণা কেন্দ্র। সম্প্রতি এ বাগান ঘুরে এসেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের একদল বিজ্ঞানী। এ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে স্থানীয় লিচু চাষিদেরও।

কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

প্রদর্শনী লিচু বাগানের মালিক সোহেল রানা বলেন, তার দুই বিঘা আয়তনের বাগানে চাইনা-৩, বারি লিচু- ১ ও বোম্বাই জাতের ১৩টি লিচু গাছ। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ তার পিছু ছাড়েনি।

তারপও দুই ধাপে লিচু বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকার। আরও ২০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি হবে। গত বছর এর অর্ধেকও দাম পাননি। জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা তাকে লাভের মুখ দেখিয়েছে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন বলেন, কৃষকরা না জেনে ইচ্ছেমতো লিচু বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ করেন। লিচুর বাইরের আবরণ পাতলা হওয়ায় এতে বিষক্রিয়া রয়েই যায়। এটি অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাগানে ইচ্ছেমতো কীটনাশক প্রয়োগ থেকে চাষিদের বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

এ গবেষক আরও বলেন, ফলের রাজা আম রাজশাহীর ঐতিহ্য। এর পাশাপাশি রাজশাহীতে বাণিজ্যিক লিচু চাষ বাড়ছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যারা নিরাপদ ফল উৎপাদন করছেন, তারা বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন। দিন দিন জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

কথা হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. দেবাশীষ সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, জৈব রোগ বালাই ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা ক্ষতিকর কীটনাশক থেকে মুক্তি দিতে পারে। বাগানে সময়মতো সার, সেচ এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এই বিজ্ঞানী।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর লিচু বাগান রয়েছে রাজশাহ জেলায় ৪৬৫ হেক্টর, নওগাঁয় ২২১ হেক্টর, নাটোরে এক হাজার ১৪৫ হেক্টর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫৭ হেক্টর। গত বছর উৎপাদন ছিল রাজশাহীতে ৩ হাজার ১১৩ টন, নওগাঁয় ৮৪০ টন, নাটোরে ৬০ হাজার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার টন। এবার এটিই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি দপ্তর।

  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

    কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

    কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

    কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

    কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

    কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা
  • কীটনাশক ছাড়াই লিচুর পোকা নিয়ন্ত্রণে ডলারের সফলতা

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক দিতে হবে না

অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। এতদিন ৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হতো। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আজ থেকে এটি কার্যকর হয়ে গেছে।

এ ছাড়া অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক কমানো হলো। বর্তমানে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ। এটি কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানি পর্যায়ে কম হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক দিতে হবে। আজ আরেকটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন পেঁয়াজ ও চিনির ওপর শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছিল। পরে পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলে শুল্ক-কর কমানোর জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে গত সোমবার আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দাম উঠলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এনবিআর পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছিল। তখন শুল্ক প্রত্যাহারের মেয়াদ ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এপ্রিল মাস থেকে আবার পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ পুনর্বহাল করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দেশে গত বছরের তুলনায় খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে

দেশে করোনাকালে গত বছরের তুলনায় খাদ্য উৎপাদনের ধারা আরও বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি টনের বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

একই সময়ে মোট চাল উৎপাদিত হয়েছে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন, গম ১২ লাখ টন, ভুট্টা প্রায় ৫৭ লাখ টন, আলু ১ কোটি ৬ লাখ টন, শাকসবজি ১ কোটি ৯৭ লাখ টন, তেল জাতীয় ফসল ১২ লাখ টন ও ডালজাতীয় ফসল ৯ লাখ টন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২১ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে এক বছরেই কৃষি মন্ত্রণালয় ৭ লাখ টন উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। এ বছর মোট পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ৩৩ লাখ টন।ব

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খাদ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামীকাল সকালে দিবসের প্রথম ভাগে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এফএও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং ওই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভারতে আরও ইলিশ পাঠালে বাংলাদেশে দাম ঠিক থাকতো: আনন্দবাজার

চলতি বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ইলিশের দাম দেশের নিম্নবিত্ত মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝেমধ্যে কিছুটা কমার খবর পাওয়া গেলেও তা সহজলভ্য হয়নি কখনোই। বরং প্রতি কেজি ইলিশ দেড়-দুই হাজার টাকায় বিক্রির খবর শোনা গেছে হরহামেশা। অথচ কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা দাবি করেছে, ভারতে আরও বেশি রপ্তানি করলেই নাকি বাংলাদেশে ইলিশের উপযুক্ত দাম মিলতো!

এ বছর দুর্গাপূজা সামনে রেখে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে উৎপাদন তুলনামূলক কম ও দেশের বাজারে বিপুল চাহিদা থাকায় গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠাতে পেরেছেন রপ্তানিকারকরা। অনুমতিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এক কেজি ইলিশও পাঠাতে পারেনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই নাখোশ ভারত। আর তার নমুনা মিলছে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনেই।l

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) পত্রিকাটি একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘Hilsha: আরও আরও দাও ইলিশ, ফের আর্জি’। শিরোনামের মতো গোটা প্রতিবেদনজুড়েই ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে নানা সাফাই গাওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা আশ্বাস দিয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির। কিন্তু পৌঁছালো মাত্র ১ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন, যা চার ভাগের এক ভাগও নয়। এটি ‘এপার বাংলার’ ইলিশপ্রেমীদের জন্য যথেষ্ট বড় ধাক্কা। তবে ঢাকা আবার সদয় হতে পারে, এমন আশায় রয়েছেন ‘দুই দেশের’ ইলিশ ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

বাংলাদেশে গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ফের ইলিশ শিকার শুরু হবে। তখন আবারও পদ্মার ইলিশ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন ভারতীয়রা।

আনন্দবাজারের দাবি, ইলিশ রপ্তানি অব্যাহত রাখার অনুরোধ নিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে কয়েক দফায় দেন-দরবার করেছেন পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী দুবাই থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আনন্দবাজার দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করা গেলে দেশের বাজারেও এর দাম ‘একটা জায়গায় থাকতো’ বলে মনে করছেন বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী। উদাহরণস্বরূপ রফিকুল ইসলাম নামে ‘ঢাকার এক ব্যবসায়ী’র ভাষ্য উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। বলা হয়েছে, রফিকুলের মতো ব্যবসায়ীরা পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পক্ষে।

jagonews24

এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভারতে ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশী দেশটিতে আরও ২ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এর জন্য কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়, যা নিয়ে তখনই অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন ভারতীয়রা।

গত ২০ সেপ্টেম্বরের আদেশে ইলিশ রপ্তানির সময়সীমা ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বলা হয়েছিল। কিন্তু ২৩ সেপ্টেম্বরের আদেশে তা কমিয়ে ৩ অক্টোবর বলা হয়। কারণ ৪ অক্টোবর থেকে দেশে শুরু হয়েছে টানা ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এ নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়।

তাদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে সাড়ে চার হাজার টনের বেশি ইলিশ রপ্তানির শর্তে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আশা হাওয়ায় মেলাতে বসেছে। এত কম সময়ে এত ইলিশ আমদানি বা রপ্তানি কার্যত অসম্ভব বলে মনে করেন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা।

এ অবস্থায় সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহম্মদ ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত যা ইলিশ ঢোকার ঢুকুক। কিন্তু ২২ অক্টোবরের পরে ধাপে ধাপে যেন বাকি ইলিশও ঢুকতে দেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভারতে আরও ইলিশ পাঠালে বাংলাদেশে দাম ঠিক থাকতো: আনন্দবাজার

চলতি বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ইলিশের দাম দেশের নিম্নবিত্ত মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝেমধ্যে কিছুটা কমার খবর পাওয়া গেলেও তা সহজলভ্য হয়নি কখনোই। বরং প্রতি কেজি ইলিশ দেড়-দুই হাজার টাকায় বিক্রির খবর শোনা গেছে হরহামেশা। অথচ কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা দাবি করেছে, ভারতে আরও বেশি রপ্তানি করলেই নাকি বাংলাদেশে ইলিশের উপযুক্ত দাম মিলতো!

এ বছর দুর্গাপূজা সামনে রেখে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে উৎপাদন তুলনামূলক কম ও দেশের বাজারে বিপুল চাহিদা থাকায় গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠাতে পেরেছেন রপ্তানিকারকরা। অনুমতিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এক কেজি ইলিশও পাঠাতে পারেনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই নাখোশ ভারত। আর তার নমুনা মিলছে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনেই।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) পত্রিকাটি একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘Hilsha: আরও আরও দাও ইলিশ, ফের আর্জি’। শিরোনামের মতো গোটা প্রতিবেদনজুড়েই ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে নানা সাফাই গাওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা আশ্বাস দিয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির। কিন্তু পৌঁছালো মাত্র ১ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন, যা চার ভাগের এক ভাগও নয়। এটি ‘এপার বাংলার’ ইলিশপ্রেমীদের জন্য যথেষ্ট বড় ধাক্কা। তবে ঢাকা আবার সদয় হতে পারে, এমন আশায় রয়েছেন ‘দুই দেশের’ ইলিশ ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

বাংলাদেশে গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ফের ইলিশ শিকার শুরু হবে। তখন আবারও পদ্মার ইলিশ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন ভারতীয়রা।

আনন্দবাজারের দাবি, ইলিশ রপ্তানি অব্যাহত রাখার অনুরোধ নিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে কয়েক দফায় দেন-দরবার করেছেন পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী দুবাই থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আনন্দবাজার দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করা গেলে দেশের বাজারেও এর দাম ‘একটা জায়গায় থাকতো’ বলে মনে করছেন বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী। উদাহরণস্বরূপ রফিকুল ইসলাম নামে ‘ঢাকার এক ব্যবসায়ী’র ভাষ্য উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। বলা হয়েছে, রফিকুলের মতো ব্যবসায়ীরা পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পক্ষে।

jagonews24

এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভারতে ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশী দেশটিতে আরও ২ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এর জন্য কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়, যা নিয়ে তখনই অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন ভারতীয়রা।

গত ২০ সেপ্টেম্বরের আদেশে ইলিশ রপ্তানির সময়সীমা ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বলা হয়েছিল। কিন্তু ২৩ সেপ্টেম্বরের আদেশে তা কমিয়ে ৩ অক্টোবর বলা হয়। কারণ ৪ অক্টোবর থেকে দেশে শুরু হয়েছে টানা ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এ নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়।

তাদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে সাড়ে চার হাজার টনের বেশি ইলিশ রপ্তানির শর্তে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আশা হাওয়ায় মেলাতে বসেছে। এত কম সময়ে এত ইলিশ আমদানি বা রপ্তানি কার্যত অসম্ভব বলে মনে করেন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা।

এ অবস্থায় সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহম্মদ ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত যা ইলিশ ঢোকার ঢুকুক। কিন্তু ২২ অক্টোবরের পরে ধাপে ধাপে যেন বাকি ইলিশও ঢুকতে দেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

তথ্যবিভ্রাটে খাদ্য ব্যবস্থাপনা, প্রভাব বাজারে

খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ভুল তথ্য বা পরিসংখ্যান অপরিহার্য বিষয়। বিশেষ করে কোনো খাদ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও যোগানের সঠিক তথ্য বা পরিসংখ্যান না থাকলে ওই খাদ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে নির্ভুল তথ্য বা পরিসংখ্যানের অভাব সবসময়ই সামনে এসেছে। যেসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে খাদ্যের ব্যবস্থাপনা হয়, সেগুলোর বেশিভাগ সামসাময়িক থাকে না। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সামঞ্জস্যহীনতা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তথ্য ব্যবস্থাপনায় এ সমস্যার কারণে অনেকটা ম্লান হয়ে পড়েছে দেশের খাদ্য উৎপাদনের সাফল্য। এ কারণেই সরকারি পদক্ষেপ কিংবা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোও সুপরিকল্পিত ও নির্ভুল হচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার অভাবে মাঝে মধ্যেই খাদ্যসংকট চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। বাজারেও উৎপাদন বাড়ার পর খাদ্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি পিছু ছাড়ছে না। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। সেজন্য এখন ইতিবাচক অবস্থায় থেকেও স্বস্তিতে নেই সরকার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে কোনো খাদ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিলেই দেখা যাচ্ছে, ওই খাদ্যশস্যের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। যা আছে, তার মধ্যেও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা ফুটে ওঠে। একেক সংস্থার পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে একেক তথ্য। তথ্যের অনুপস্থিতির কারণে নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো নিতে হচ্ছে পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে। এতে কর্মপরিকল্পনার সিদ্ধান্তে দুর্বলতা পাওয়া যাচ্ছে। কিছুক্ষেত্রে ভুল পরিকল্পনাও হচ্ছে।

খাদ্যের ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনের প্রকৃত তথ্য অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। আবার জাতীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান মেলে অনেক দেরিতে। এ সংস্থার বড় বড় পরিসংখ্যান নিয়েও সমালোচনার শেষ নেই। এমন তথ্য নিয়ে ব্যবস্থাপনার কাজ করতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠানগুলো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বহুবার। আবার বিদেশি সংস্থাগুলো এসব তথ্য আমলেই নেয় না। তাদের তরফ থেকে আসে ভিন্ন তথ্য।

এ বিষয়ে শুক্রবার কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিসংখ্যানগুলো ত্রুটিহীন নয়, সেটা ঠিক। বিবিএসের তথ্য নিয়েও অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। তাই একটি নির্ভুল পরিসংখ্যান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি চালের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি বড় জটিলতা তৈরি করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের চাল উৎপাদনের তথ্য নিয়ে এ পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধান্বিত হয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সঠিক পরিকল্পনা করতে পারেনি তারা। ফলে চালের বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। এমন কথা খোদ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বক্তব্যেও উঠে এসেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৮৭ লাখ টন। সে হিসাব আমলে নিলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ বছর সাড়ে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কিন্তু উল্টো এ পর্যন্ত ৩০ লাখ টন চাল আমদানির প্রয়োজন হয়েছে ঘাটতি মেটাতে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, তথ্যের এ গরমিলের কারণে সঠিক সময়ে চাল আমদানি করতে পারেনি সরকার।

শুধু চালই নয়, তিনদিন আগে তেল, চিনি, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকেও তথ্য বিভ্রাটের বিষয়টি সামনে আসে। তেল, চিনি, পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঠিক চাহিদা ও দেশীয় উৎপাদন নির্ধারণ সম্ভব হয়নি সংশ্লিষ্টদের পক্ষে। ফলে ধারণানির্ভর তথ্যের ওপর নেওয়া হয়েছে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

ওই সময়ও খাদ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো পণ্যের সঠিক তথ্য নেই। উৎপাদনের সঠিক তথ্য না থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে সম্প্রতি পেঁয়াজ উৎপাদন নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অধিদপ্তর বলছে, এ মৌসুমে দেশে ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৮২ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক (এক বছরের হিসাবে)। আগের মৌসুমের চেয়ে আলোচ্য মৌসুমে প্রায় আট লাখ টন বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এমন তথ্যে প্রশ উঠছে, এ বছর এত পেঁয়াজ উৎপাদন হলে তা গেলো কোথায়? তারপরও কেন দেশ এখন পেঁয়াজের সংকটে ভুগছে?

এ প্রশ্নের জবাবে গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়, সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে তথ্য দেয় সেটা মেলে না। তাদের তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখা যায়। যে তথ্য দেওয়া হয় সেসব সামঞ্জস্যহীন।

সঠিক পরিসংখ্যান না থাকায় খাদ্য নিয়ে পরিকল্পনা করতে পরিকল্পনা বিভাগও ভুগছে বড় সমস্যায়। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সম্প্রতি বলেন, দেশে খাদ্যপণ্যের সঠিক চাহিদা কত, সেই হিসাব যেমন নেই, তেমনি উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যানও নেই, যা পরিকল্পনা গ্রহণে খুব বড় সমস্যা তৈরি করে। তথ্যবিভ্রাট হলে পরিকল্পনা ঠিক হয় না।

তিনি বলেন, তথ্যের যথার্থতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি নিশ্চিত হতে বিবিএসকে তার দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে।

উৎপাদন শুধুু নয়, বিভিন্ন খাদ্যের ভোগের তথ্যেও বড় বিভ্রাট রয়েছে। বিভ্রান্তি রয়েছে বিবিএসের তথ্যেও। এখন পর্যন্ত দেশের মানুষের মাথাপিছু খাদ্যশস্যের পরিমাণ নির্ধারণ সম্ভব হয়নি বলা চলে। কারণ বিবিএস তাদের সর্বশেষ ২০১৬ সালের হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশে জাতীয় পর্যায়ে মাথাপিছু দৈনিক খাদ্যশস্য ভোগের পরিমাণ ৪০৬ দশমিক ৫ গ্রাম। একই ধরনের সার্ভেতে ২০১০ সালের মাথাপিছু দৈনিক খাদ্যশস্য ভোগের পরিমাণ ছিল ৪৬৩ দশমিক ৯ গ্রাম। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে জাতীয় পর্যায়ে মানুষের ভোগের পরিমাণ এতটা কমা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়।

দুই বছর পরে ২০১৮ সাল ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি) এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জরিপে দেখা যায়, দেশে দৈনিক মাথাপিছু চাল ভোগের পরিমাণ ৩৯৬ দশমিক ৬ গ্রাম। ২০১৬ সালেও তা ছিল ৪২৬ গ্রাম। তখন ওই দুই সংগঠন দাবি করে, শুধু চাল ভোগের পরিমাণ এত (৩৯৬ দশমিক ৬ গ্রাম) হলে সামগ্রিক খাদ্যশস্য ভোগের বিষয়ে বিবিএসের তথ্য সঠিক নয়।

অপরদিকে বিবিএসের তথ্য খুবই দেরিতে প্রকাশিত হয়। যখন তারা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তখন সে বিষয়টি সামসাময়িক থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও ফুরিয়ে যায়। সময়মতো বিবিএসের তথ্য না পাওয়ার কারণেও অনেকে বাধ্য হয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে খাদ্য সংক্রান্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত রয়েছে তাতে গরমিল আছে। এজন্য দেশের একেক মন্ত্রী একেক কথা বলেন। একেকজনের দফতরের তথ্য একেক রকম।

তিনি বলেন, দুঃখজনক যে, মোটাদাগের জিনিসগুলোর তথ্যে আগে কিছুটা সামঞ্জস্য ছিল। এখন তাও নেই। চালের তথ্য নিয়ে এখনও কেউ পরিষ্কার বলতে পারে না। প্রকৃত উৎপাদন কতটুকু হলো, কতোটুকু মানুষ খেয়েছে? এই চাল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন তথ্য দেয়। মনে হয় হরেক রকম কথা শুনছি।

বিবিএসের তথ্য নিয়ে এ গবেষক বলেন, বিবিএসকে অধুনিক করতে হবে। ডিজিটাল হচ্ছে সবকিছু, এ সংস্থা হয় না কেন? এ সংস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে হবে। সেটা এখনও করা হয়নি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com