আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

আমেরিকা নির্বাচন ফলাফল: জো বাইডেন জয়ী, কিন্তু এখন কী হবে?

জো বাইডেন: প্রেসিডেন্ট হবার জন্য জানুয়ারি ২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
জো বাইডেন: প্রেসিডেন্ট হবার জন্য জানুয়ারি ২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তার মানে এই না যে, তিনি এখনি তার আসবাবপত্র ১৬০০ পেনসিলভেনিয়া অ্যাভেনিউতে অবস্থিত ওয়াইট হাউসে স্থানান্তর করতে পারবেন। এর আগে কিছু কাজ করতে হবে।

এই প্রক্রিয়া সাধারণত নির্ঝঞ্ঝাট হয়, তবে এবার কিছু জটিলতা থাকতে পারে যেহেতু এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হতে পারে।

জো বাইডেন কখন প্রেসিডেন্ট হবেন?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে লেখা আছে যে, প্রেসিডেন্টের নতুন মেয়াদ শুরু হবে জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে, দুপুর বারোটায়।

ক্ষমতা গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় রাজধানী ওয়াশিংটনে জাঁকজমকপূর্ণ একটি ‘অভিষেক’ অনুষ্ঠান দিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকে শপথ পাঠ করান।

অর্থাৎ, জো বাইডেন এবং কমালা হ্যারিস জানুয়ারি ২০, ২০২১-এ শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এই সময়সূচীতে ব্যতিক্রম হয়, যদি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে থাকাকালে পদত্যাগ করেন বা মারা যান। তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাথে সাথে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

জো বাইডেন ২০১৭ সালে ২০শে জানুয়ারি মি. ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জো বাইডেন ২০১৭ সালে ২০শে জানুয়ারি মি. ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রান্সিশন বা উত্তরণের সময়টা কী

নভেম্বরে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং জানুয়ারির ২০ তারিখে নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের মাঝের সময়টি ‘ট্রান্সিশন’ বলা হয়।

নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট একটি ‘ট্রান্সিশন টিম’ গঠন করেন, যার কাজ হলো ক্ষমতা গ্রহণ করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। বাইডেন টিম ইতোমধ্যেই একটি ট্রান্সিশন ওয়েবসাইট চালু করেছে।

তারা জো বাইডেনের মন্ত্রীসভার জন্য সম্ভাব্য সদস্য চিহ্নিত করবেন, নতুন সরকারের নীতি কী হবে, কোন বিষয়ে তারা অগ্রাধিকার দেবে, সেগুলো আলোচনা করবেন এবং দেশ চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেবেন।

এই টিমের সদস্যরা বিভিন্ন ফেডারেল দফতরে গিয়ে তাদের কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত শুনবেন, যেমন কোন কাজের ডেডলাইন কী, কত বাজেট আছে, মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কর্মচারীরা কী কাজ করেন ইত্যাদি।

বিভিন্ন অফিসে যারা বাইডেন প্রশাসনের হয়ে নতুন কাজ করতে আসবেন, ট্রান্সিশন টিম এসব তথ্য তাদের জন্য সংগ্রহ করেন, এবং জানুয়ারির ২০ তারিখের পরও সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রান্সিশনের সময়কালের একটি চিত্র।
২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রান্সিশনের সময়কালের একটি চিত্র।

চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেন। কিন্তু ওয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতের ছবি দেখে বোঝা গিয়েছিল দু’জনের মাঝে উষ্ণতার কত অভাব ছিল – এবং যা এখনো আছে।

জো বাইডেন গত কয়েক মাস ধরে তার ট্রান্সিশন টিম গঠন করেছেন, তা পরিচালনা করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং গত সপ্তাহে তিন একটি ওয়েবসাইট চালু করলেন।

separator

আগামী দিনগুলোতে কোন শব্দগুলো বেশি শোনা যাবে?

প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বা নির্বাচিত-প্রেসিডেন্ট: যখন কোন প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেন কিন্তু শপথ গ্রহণ করেননি – যা হবে জানুয়ারির ২০ তারিখে- সে সময় তাদের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বলা হয়।

ক্যাবিনেট বা মন্ত্রীসভা: জো বাইডেন শীঘ্রই ঘোষণা দেবেন তার মন্ত্রীসভায় তিনি কাদের রাখবেন। মন্ত্রীসভা আমেরিকার সরকারের সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের টিম। ক্যাবিনেটে সকল ফেডারেল সরকারি বিভাগ এবং এজেন্সির প্রধানরা থাকেন।

কনফার্মেশন হেয়ারিং বা শুনানি: প্রেসিডেন্ট যাদের সরকারের উচ্চ পদে নিয়োগ করেন, তাদের অনেকের সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। মি. বাইডেনের মনোনয়ন করা কর্মকর্তাদের সেনেটের সদস্যরা একটি কমিটি হেয়ারিং বা শুনানিতে প্রশ্ন করেন, তারপর কমিটির সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করেন।

কেলটিক: প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট হিসেবে জো বাইডেন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস থেকে বাড়তি নিরাপত্তা পাবেন এবং তার কোড নাম হচ্ছে কেলটিক। প্রার্থীরা নিজেদের কোড নাম বাছাই করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন মোঘল এবং কমালা হ্যারিস নিজের জন্য ‘পাইওনিয়ার’ বাছাই করেছেন।

স্বামী ডাগ এমহফ-এর সাথে কমালা হ্যারিস।
স্বামী ডাগ এমহফ-এর সাথে কমালা হ্যারিস।

ট্রান্সিশন কালে কমালা হ্যারিস কী করবেন?

কমালা হ্যারিস, আমেরিকার প্রথম নারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট, নিজের দফতরের জন্য কর্মচারী নিয়োগ করবেন এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের কাছ থেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানবেন।

ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উয়িং-এ অফিস করেন, কিন্তু তিনি সেখানে বাস করেন না। ঐতিহ্য অনুযায়ী তারা ইউ এস নেভাল অবজারভেটরি প্রাঙ্গণে বাস করেন যেটা শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। কমালা হ্যারিসের স্বামী ডাগ এমহফ একজন আইনজীবী যিনি বিনোদন শিল্পে কাজ করেন।

  • স্বামী ডাগ এমহফ-এর সাথে কমালা হ্যারিস।

    স্বামী ডাগ এমহফ-এর সাথে কমালা হ্যারিস।

  • ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রান্সিশনের সময়কালের একটি চিত্র।

    ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রান্সিশনের সময়কালের একটি চিত্র।

  • জো বাইডেন ২০১৭ সালে ২০শে জানুয়ারি মি. ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    জো বাইডেন ২০১৭ সালে ২০শে জানুয়ারি মি. ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • জো বাইডেন: প্রেসিডেন্ট হবার জন্য জানুয়ারি ২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    জো বাইডেন: প্রেসিডেন্ট হবার জন্য জানুয়ারি ২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

  • স্বামী ডাগ এমহফ-এর সাথে কমালা হ্যারিস।
  • ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রান্সিশনের সময়কালের একটি চিত্র।
  • জো বাইডেন ২০১৭ সালে ২০শে জানুয়ারি মি. ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
  • জো বাইডেন: প্রেসিডেন্ট হবার জন্য জানুয়ারি ২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

নারিকেলে চাঙ্গা লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি

লক্ষ্মীপুর: মেঘনা উপকূলে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান। এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এখানকার ভূমিতে সয়াবিন, ধান ও সুপারির পাশাপাশি প্রচুর নারিকেল উৎপাদন হয়। এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।

গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে নারিকলের চাষ, উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয় জীবনযাত্রার মানে গতি এনেছে। কর্মসংস্থানসহ জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখছে এ নারিকেল।

উন্নয়ন হয়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থার। এতে চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

লক্ষ্মীপুরের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে অর্থকারী ফসলের গাছ নেই। বাগানে সারি সারি গাছ ছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা বসতঘরের আশেপাশে-পুকুরপাড়ে দেশীয় জাতের নারিকেল গাছ দেখা যায়। সারা বছর ধরে ওইসব গাছ থেকে নারিকেল সংগ্রহ করা হয়।

উৎপাদিত নারিকেল পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হয় দেশের বাজারে। মুখরোচক নানা পদের সুস্বাদু খাবার তৈরিতে নারিকেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া তেল উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে নারিকেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কৃষি নির্ভর জনপদে কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ জমির ফসল ও বাড়ির আশেপাশে উৎপাদিত নারিকেলের ওপর নির্ভরশীল। এমন অসংখ্য পরিবার আছে যাদের বাড়ির ১৫/২০টি নারিকেল গাছ তাদের সংসার খরচ চালাতে সহায়তা করছে। অপরদিকে, যাদের নারিকেলের বাগান তাদের আয় লাখ লাখ টাকা।

চলতি বছরও এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নারিকেল কেনা-বেচায় এখন সরগরম লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজার। রাস্তার মোড়ে বসেও নারিকেল কেনা-বেচা করছেন অনেকে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারিকেল কিনেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে লক্ষ্মীপুর থেকে নারিকেল কিনছেন। ওইসব নারিকেল নদী ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করেন। প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে লাখ লাখ টাকার নারিকেল বিক্রি হয়ে থাকে।

জেলার হাট-বাজারে সাপ্তাহিক দুইদিন হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে বিক্রির জন্য নারিকেল উঠানো হয়। নিম্ন আয়ের লোকজন নারিকেল বিক্রি করে প্রয়োজনীয় সদাই কিনে বাড়ি ফিরেন।

নারিকেলের প্রধান মোকামগুলা হলো- সদর উপজেলার দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী, রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, রামগঞ্জ শহর, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডার।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার উল্লাহ বলেন, তার বাড়িতে ১৫টি নারিকেল গাছ আছে। প্রতিহাটে তিনি নারিকেল বিক্রি করতে পারেন। এভাবে সারা বছর নারিকেল বিক্রির টাকায় তার সংসার চলে।

কমলনগর উপজেলার নারিকেল ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকায় নারিকেল ব্যবসা লাভজনক। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এ ব্যবসা করছেন। এতে তিনি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছেন।

তবে স্থানীয়ভাবে নারিকেলভিত্তিক কল কারখানা গড়ে না উঠায় ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।



জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে নারিকেলের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪০০, রায়পুরে ৩৭০, রামগঞ্জে ৫২০, রামগতিতে ১৬০ ও কমলনগরে ৩৫০ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ রয়েছে। জেলায় এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার দাম প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এছাড়া অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, নারিকেল উৎপাদের জন্য লক্ষ্মীপুরের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী। এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়। ভালা ফলন পেতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল

নওগাঁ: আষাঢ়ের বৃষ্টিতে যেনো স্নান করছিল আমের মুকুলগুলো। আবার সেই গাছের অন্যদিকে চলতি মৌসুমের আমও ধরে আছে বেশকয়েকটি। গাছের একদিকে ঝুলছে আম অন্যদিকে মুকুল। এমন দুর্লভ দৃশ্যের দেখা মিলেছে নওগাঁ পুলিশ সুপারের বাসভবন চত্বরে।

মুলত এ আম গাছের নাম কেউই জানে না। তবে আঞ্চলিকভাবে একে বারোমাসি আম গাছ বলে চিনে সবাই।

একেকটি আমের ওজন আড়াই থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।  

নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বছরের দু’বার গাছটি থেকে আম সংগ্রহ করেন তিনি। আমগুলো দেখতেও যেমন সুন্দর খেতেও বেশ মিষ্টি। তবে বছরের প্রথমবার গাছটিতে যে পরিমাণ আম পাওয়া যায়, সেই তুলনায় দ্বিতীয়বার ফলন কিছুটা কম হয়।  
গাছের একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল।  ছবি: বাংলানিউজ


নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিদ কুমার বাংলানিউজকে জানান, বারোমাস আম পাওয়া যায় বাংলাদেশে এধরনের আম গাছের সংখ্যা খুব কম। তবে প্রথম মুকুলে যে পরিমাণ আমের ফলন হয়, পরের মুকুলে আর সেই পরিমাণ ফলন হয় না। তবে এই আম গাছগুলো নিয়ে রাজশাহী আম গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা চলছে। তারা গবেষণা করছেন কীভাবে বছরের দু’বার সমান পরিমাণ আম ফলানো যায়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সুবিধা পেলে আখ চাষে ফিরতে চায় কৃষক

কুষ্টিয়া: বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে আখ অন্যতম। এক সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চাষ হতো চিনি তৈরির এ কাঁচামাল। এরই সুবাদে কুষ্টিয়ায় চিনিকল স্থাপন করা হয়। প্রথম দিকে কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আখ চাষ করলেও এখন আর তাদের আখ চাষ করতে দেখা যায় না। 

আখের অভাবে প্রায় বন্ধ কুষ্টিয়ার চিনিকল। বর্তমানে আখের জমিতে চাষ হচ্ছে বিষ বৃক্ষ তামাক।

তামাক চাষে পরিশ্রম বেশি হলেও নানা সুবিধার কারণে কৃষক ঝুঁকে যাচ্ছে তামাক চাষে। তবে আখ চাষে সুযোগ-সুবিধা পেলে কৃষকরা আবারো তাদের জমিতে আখ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।  

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তামাক চাষি দুলাল আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমার যে জমিতে আখ চাষ করতাম সেখানে এখন তামাকের চাষ করি। মিলের দালাল আর কর্মকর্তাদের অত্যাচারের জন্য আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছি। মিলে আখ দিতে অসুবিধা, ঠিকমতো ওজন দিত না, ফুরজি (মিলে আখ দেওয়ার ট্রিপ) পাওয়া যেত না, একজনের টাকা আরেকজন তুলে নিত, কৃষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো।

এছাড়া আখ একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল তাই এর চাষ কমে যাচ্ছে। তবে চিনি কল যদি আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে আমরা আবার তামাকের পরিবর্তে আখের চাষ করবো।  

আখ চাষি দিলীপ কুমার বাংলানিউজকে বলেন, মিল সংশ্লিষ্টরা আমাদের আখ নিতে চায় না। তারা তাদের দালালদের কাছ থেকে আখ নেয়। আমরা মিলে আখ দিয়ে ঠিকমতো টাকাও পাই না। মিল কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের আখ কেনার এবং ঠিকমতো টাকা দেওয়ার নিশ্চিয়তা দেয় তাহলে আমরা আবার আখ চাষ শুরু করবো।  

আখ চাষি খেপা আলী বাংলানিউজকে জানান, তামাকের চাইতে আখে খরচ ও পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে কম। তবে তামাক চাষে কোম্পানি লোন দেয়, সহজেই তামাক কিনে নিয়ে যায় এবং টাকা পরিশোধ করে। তাই তামাকের ওপরে কৃষকদের বেশি ঝোঁক। যদি আখ চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয় তাহলে আখ চাষ করতে আগ্রহী হবে কৃষকরা।  

কুষ্টিয়া চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে বলেন, আমরা চিনির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করে যাচ্ছি। তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এসএমএস এর মাধ্যমে সরাসরি চাষির কাছ থেকে আখ ক্রয় এবং শিউর ক্যাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি চাষিরা আবারো আখ চাষে উৎসাহিত হবে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

দুই প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবনে অভাবনীয় সাফল্য

রাজশাহী: শুরুটা হয়েছিল নয় বছর আগে। এক জাপানি বন্ধুর পরামর্শে সেদেশে উৎপাদিত ‘রাগবি’ ও ‘মাস্কমেলন’ নামের বিশেষ প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গির বীজ এনে এখানে চাষের উদ্যোগ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুর হোসেন।

নয় বছর ধরে বেশ কয়েকবার তিনি জাপানি বাঙ্গির পরীক্ষামূলকভাবে চাষও করেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী না হওয়ায় বীজগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর থেকেই বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী মিষ্টি জাতের বাঙ্গি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ নয় বছরের নিরলস গবেষণার পর তিনি মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। স্বাদে অতুলনীয় এ বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাঙ্গির মিষ্টতা নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলটি খরমুজ, ফুটি, কাঁকুড় বিভিন্ন নামে পরিচিত। তবে কুমড়াগোত্রীয় গ্রীষ্মকালীন এ ফলটি একে তো স্বাদেও মিষ্টি নয়, আবার পরিপক্ব হলেই ফেটে যায়। মিষ্টি না হওয়ায় সাধারণত গুড় বা চিনি দিয়ে খাওয়া হয়। তবে এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ব্যায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) পরিচালক অধ্যাপক মনজুর হোসেন। তার উদ্ভাবিত এই সোনালি বাঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চিনির মতো মিষ্টি আর ফেটে না যাওয়া।

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, দেশীয় প্রজাতির বাঙ্গির সঙ্গে দু’টি জাপানি প্রজাতির বাঙ্গির জীবন সন্নিবেশনের মাধ্যমে দু’টি বিশেষ প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবিত হয়েছে। জাপানি ‘রাগবি’ প্রজাতির সঙ্গে দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে ‘সোনালি বাঙ্গি’। এছাড়া, জাপানি ‘মাস্কমেলন’ প্রজাতির সঙ্গেও দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে তিনি আরও একটি প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। তবে এই প্রজাতির বাঙ্গির এখনও নামকরণ করা হয়নি।

পাকা মিষ্টি বাঙ্গির গায়ের রং সোনালি হওয়ায় তিনি উদ্ভাবিত বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’। প্রথম অবস্থায় ফলটি হয় গাঢ় সবুজ রঙের। আকৃতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর গায়ের রং পরিবর্তন হয়ে সোনালি বর্ণ ধারণ করে। ছোট অবস্থায় দেখতে মাল্টা বা কমলার মতো এবং পরিপূর্ণ বাঙ্গিগুলো দেখতে একটি ছোট আকারের মিষ্টি কুমড়ার মতো। প্রতিটি বাঙ্গিই আধা কেজি থেকে প্রায় এক কেজি হয়।

রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অধ্যাপক মনজুর কাদেরের গবেষণাগারে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সোনালি বাঙ্গির চারা রোপণ করা হয়েছে। কিছু কিছু গাছে সোনালি বাঙ্গি ঝুলে আছে। বাঙ্গিগুলো আকার বড় আকারের কমলার মতো।

তিন শতক জায়গায় এই সোনালি বাঙ্গির চাষ করছেন অধ্যাপক মনজুর।

চাষ পদ্ধতির বিষয়ে অধ্যাপক মনজুর কাদের বলেন, ‘সোনালি বাঙ্গির’ চাষ পদ্ধতি ভিন্ন। এ বাঙ্গি মাটিতে চাষ করা যাবে না। মাটি থেকে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতায় মাচা করে ফলটি চাষ করতে হয়। চাষের জন্য আলাদা কোনো মাটির প্রয়োজন নেই। সাধারণ বাঙ্গিগুলো যে মাটিতে চাষ করা হয় এ বাঙ্গিও সেই মাটিতে চাষ করা যাবে। চাষের খরচ সাধারণ বাঙ্গির তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ পড়বে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

সোনালি বাঙ্গি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক মনজুর হোসেন।  

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, বাঙ্গি যে কতটা মিষ্টি হতে পারে সেটা অনেকে কল্পনা করতে পারেনি। জাপানি কাতো কেউকির পরামর্শে কাজ শুরু করেছিলাম। দীর্ঘদিন গবেষণার ফলে মিষ্টি জাতের এই বাঙ্গি উদ্ভাবন করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

এ বিশ্বে স্কটল্যান্ডই প্রথম…

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য বিনামূল্যে সরবরাহে আইন পাস করেছে স্কটল্যান্ড সরকার। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে ‘পিরিয়ড প্রোডাক্টস (ফ্রি প্রভিসন) বিল’ পাস হয়।

এ আইনের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এখন থেকে যদি কারো ঋতুস্রাবকালীন কোনো পণ্যের (যেমন: তুলা ও স্যানিটারি প্যাড) প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি যেন সেগুলো বিনামূল্যে ও সহজে সংগ্রহ করতে পারেন।

বিলটি উত্থাপন করেন স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মনিকা লেনন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি মেয়েদের ‘পিরিয়ড পোভার্টি’ দূরীকরণে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

মনিকা লেনন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এর আগে তৈরি সব আইনের মতোই এটি পাস করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কারণ মহামারির কারণে মেয়েদের ঋতুস্রাব থেমে থাকে না। এছাড়া এ সময় প্রয়োজনীয় তুলা, প্যাড ও অন্যান্য পণ্যগুলো সহজে পাওয়ার ব্যবস্থার বিষয়টি কখনোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি।

মেয়েদের ঋতুসাব সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় তুলা, প্যাড ও অন্যান্য পণ্য কিনতে যে খরচ তা বহন করতে অনেক মেয়েকেই হিমশিম খেতে হয়। কারণ প্রতিটি দেশেই স্যানিটারি পণ্যের মূল্য বেশ চড়া, যার জন্য প্রতিমাসে একটি বড় অর্থ এ খাতে খরচ করতে হয় মেয়েদের।

দুই হাজার নারীর ওপর পরিচালিত ইয়ং স্কট-এর এক জরিপে দেখা গেছে, স্কটল্যান্ডের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য পেতে উত্তরদাতাদের মধ্যে চারজনে একজন মুশকিলে পড়েন বলে জানান।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে শতকরা ১০ শতাংশ মেয়ের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই। এছাড়া ১৫ শতাংশ মেয়েকে এসব পণ্য পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং দামের কারণে ১৯ শতাংশ পেয়ে যথাযথ পণ্য ব্যবহার করতে পারেন না।

গবেষকরা বলছেন, তরুণীদের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৭১ শতাংশ মেয়ে ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বিব্রত বোধ করেন।

গবেষকরা আরও বলছেন, মেয়েদের পড়াশোনার ওপর ঋতুস্রাব যে প্রভাব ফেলে তা এ ধরনের আইন প্রতিরোধ করবে। কারণ, ঋতুস্রাবের সময় প্রায় অর্ধেক মেয়ে স্কুলে আসতে পারে না।

বিলটি পাস হওয়ার পর স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন এক টুইট বার্তায় বলেন, যুগান্তকারী আইনটির পক্ষে ভোট দিতে পেরে গর্ববোধ করছি। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে স্কটল্যান্ড সরকার মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য যা তাদের এ সময় জরুরি, সেগুলো বিনামূল্যে ও সহজ সরবরাহ নিশ্চিতে আইন তৈরি করলো। এটি নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এর আগে গত বছরে স্কুলে মেয়েদের বিনামূল্যে স্যানিটারি পণ্য সরবারহের উদ্যোগ নেয় ইংল্যান্ড। এ বছরের প্রথম দিকে নিউজিল্যান্ডও একই পদক্ষেপ নেয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com