আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

মসলা জাতীয় খাদ্যপণ্য হিসেবে পেঁয়াজ অন্যতম। দেশের চাহিদার মোট ১৪ ভাগ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় রাজবাড়ীতে। তাই জেলাসহ দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করতে কৃষকরা পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজের চাষ বাড়িয়েছেন।

পেঁয়াজের এ বীজকে ‘কালো সোনা’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। উৎপান ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বীজ চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে প্রতি বছরই জেলায় পেঁয়াজ বীজ চাষ বাড়ছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা, পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালীতে এ বছর পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে ৩০৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৯০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে বীজ চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক লিটন শেখ জানান, চার বিঘা জমিতে তিনি পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন এবং প্রতি বছর তিনি পেঁয়াজ বীজের চাষ করেন। চাষ, সার-বীজ এবং কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এ চার বিঘা জমি থেকে তিনি ৫-৬ মণ বীজ পাবেন বলে আশা করছেন।

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

এ বীজ ৪-৫ লাখ টাকা বিক্রি করবেন বলে তিনি মনে করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভ হবে তার। পেঁয়াজের বীজ চাষ করে তিনি ভালো লাভবান হয়েছেন। আগামীতে তিনি আরও জমিতে বীজের চাষ করবেন।

জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের বাজার দর তিন-চার হাজার টাকা, আর মণ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মতো পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমি থেকে ফলন পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। প্রতি মণ বীজ ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করে থাকেন।

কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ বীজের উচ্চমূল্য এবং এটি লাভজনক ফসল হওয়ায় তারা দিনদিন বীজের চাষে ঝুঁকছেন। তাছাড়া বীজের চাষ করে ক্ষেত থেকে যে পেঁয়াজ পান, তা থেকে বীজ চাষের খরচ উঠে আসে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ হয়েছে। এ বীজ চাষ করে কৃষকের বিনিয়োগের ৪ ভাগের তিন ভাগই লাভ হয়ে থাকে। বীজ চাষে কৃষকদের এসএমই চাষি হিসেবে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।’

লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এবার পেঁয়াজ বীজের ফলন ভালো হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে বীজের ক্ষতি না হলে উৎপাদনও ভালো হবে। ভালো ফলন এবং বাজার মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকরা বীজের আবাদ বাড়িয়েছেন।’

  • লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

    লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

  • লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

    লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

  • লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

    লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

  • লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
  • লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা
  • লাভের আশায় ‘কালো সোনা’য় ঝুঁকছেন চাষিরা

এগ্রোবিজ

হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

বোয়াল মাছ এখন বিপন্ন প্রায়। তবে বেশি বেশি চাষ করেই এর বংশ রক্ষা করা সম্ভব। কেননা প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম নষ্ট হওয়ায় মাছটি আগের মত পাওয়া যায় না। তবে বোয়াল একটি রাক্ষুসে স্বভাবের মাছ। কাজেই এ মাছকে প্রজননের আওতায় এনে উৎপাদন করতে কয়েকটি বিশেষ দিকে খেয়াল রাখতে হয়।

বোয়াল মাছ মধ্য এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ডিম দেয়। প্রজননের সময় খুব সহজেই পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে শনাক্ত করা যায়। প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী মাছের পেটভর্তি ডিম থাকে আর পুরুষ মাছের পেট সাধারণ মাছের মত থাকে। তাছাড়া পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিলে সাদা মিল্ট বের হয়। এভাবেই বোয়ালের পুরুষ-স্ত্রী শনাক্ত করা যায়।

বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশন করলেই ডিম দিয়ে থাকে। প্রথম ডোজের সময় শুধু স্ত্রী মাছকে ইঞ্জেকশন দিতে হয়। ডোজের মাত্রা ২ মিগ্রা বা কেজি। ৬ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয় ৪ মিগ্রা বা কেজি।

দুটি পদ্ধতিতে বোয়ালের ডিম সংগ্রহ করা যায়। বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে আলাদা আলাদা হাউসে রাখতে হয়। দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টা পর সাধারণত বোয়াল মাছ ডিম দিয়ে থাকে। খেয়াল রাখতে হবে, যখনই ২-১টি ডিম বের হবে; তখনই মাছগুলোকে একে একে হাউস থেকে তুলে আনতে হবে।

এবার স্ত্রী মাছের পেটে আস্তে করে চাপ দিলেই ডিম বের হবে। স্ত্রী মাছের ডিম বের করার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিয়ে মিল্ট বের করে ডিমের উপর পাখির পালক দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এরপর ডিমগুলোকে ২-৩ বার বিশুদ্ধ পানিতে পরিষ্কার করে ৩-৪ ইঞ্চি উচ্চতার পানির হাউসে রাখতে হবে। চিকন প্লাস্টিক পাইপকে ছিদ্র করে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে।

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

অন্যভাবে, পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে হরমোন ইঞ্জেকশন দিয়ে একসাথে একটি বড় হাউসে ছেড়ে দিতে হবে। তাতে দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে এরা ডিম পারবে। ডিম পারা শেষ হলে ব্রুডমাছগুলোকে সর্তকতার সাথে সরিয়ে নিতে হবে। তারপর হাউসের পানি কমিয়ে ৩-৪ ইঞ্চি রেখে ছিদ্রযুক্ত পাইপ দিয়ে পানির ঝরনা দিতে হবে। এখানেও ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে।

তবে বোয়াল মাছের পোনা খুবই রাক্ষুসে। ডিম থেকে ফোটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একটি আরেকটিকে খেতে শুরু করে। অন্য মাছের রেণু পোনা ডিমের কুসুম বা ক্ষুদ্র আকৃতির প্ল্যাংকটন খেলেও বোয়ালের পোনা ডিমের কুসুম বা কোনো ধরনের প্ল্যাংকটন খায় না। সে ক্ষেত্রে তাদের জীবিত অবস্থায় মাছের রেণু বা পোনাকে খেতে দিতে হয়। এভাবে ৮-১০ দিনেই ২ ইঞ্চি সাইজের পোনায় পরিণত হয়।

বোয়াল মাছ এককভাবে চাষ করা যায় না। একটি আরেকটিকে খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত আর বাকি থাকে না। তা ছাড়া কৃত্রিম খাবার না খাওয়ায় মাছগুলো খুব একটা বড়ও হয় না। তাই এদের বিভিন্ন মাছের সাথে চাষ করে ভালো ফল পাওয়া যায়। মজুদ ঘনত্ব মিশ্রচাষে প্রতি ৫ শতাংশে ১টি মাছ।

মাছ ছাড়ার সময় একটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে, বোয়ালের পোনা যেন কোনো অবস্থায়ই পুকুরের অন্যান্য মাছের আকারের সমান না হয়। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য মাছের ওজন যখন ১৫০-২০০ গ্রাম ওজন হবে; সেখানে ২ ইঞ্চি সাইজের বোয়ালের পোনা ছাড়তে হবে। আর তা না হলে বোয়াল দ্রুত বড় হয়ে অন্যান্য মাছ খেয়ে ফেলতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাংলাদেশে জিঙ্ক রাইস আপডেট

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

উত্তরের কৃষকরা বন্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

প্রাচীন খামার লেন ফার্মগুলি খরা দীর্ঘায় দাঁড়িয়ে আছে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

তথ্য মহিলারা তথ্য-পরিষেবা বিপ্লব নিয়ে আসে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com