আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

কালোজিরার উৎপাদন কৌশল

কালোজিরাতে প্রায় শতাধিক পুষ্টি ও উপকারী উপাদান আছে। কালোজিরা খাদ্যাভাসের ফলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালোজিরা আয়ুর্বেদীয়, ইউনানি, কবিরাজি ও লোকজ চিকিৎসায় বহুবিধ রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার হয়। মসলা হিসেবে ব্যাপক ব্যবহার হলেও ইউনানি মতে নারীদের বিভিন্ন রোগে ও সমস্যায় কালিজিরা অব্যর্থ মহৌষধ।

 কালোজিরার উৎপাদন কৌশল

শুকনা ও ঠাণ্ডা আবহাওয়া কালিজিরা আবাদে খুব অনুকূল। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আবহাওয়া বালাইয়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফুল ফোটার সময় বৃষ্টি হলে কালিজিরার ফলন কমে যায়। ৩ থেকে ৪টি চাষ ও আড়াআড়ি মই দিয়ে মাটি ঝুরাঝুরা করে আগাছা পরিষ্কার করে জমি সমতল করে বীজ বপন করতে হয়। অল্প পরিমাণ এক বিঘা বা তার কম জমিতে চাষ করলে ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি উঁচু বেড তৈরি করা ভালো।
বপন : অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বীজ বপন করা যায়। তবে নভেম্বর মাসের প্রথম-দ্বিতীয় সপ্তাহ বীজ বপন করার উত্তম সময়।  অগ্রহায়ণের শেষ থেকেই লাগানো যায়। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে পৌষের প্রথমে লাগানো ভালো। সফলভাবে কালোজিরা উৎপাদনের জন্য ১৫x১০ সেন্টিমিটার দূরত্বে লাইনে বীজ বপন করলে ভালো হয়। ১-৪ ইঞ্চি গর্ত করে প্রতি গর্তে ২-৩টি করে বীজ পুঁততে হবে। খেয়াল রাখতে হবে বীজ যেন বেশি গভীরে না যায়। বীজ বপনের আগে আলাদা করে শোধনের দরকার নেই। তবে বোনার আগে ভালো করে ধুয়ে ধুলাবালি ও চিটা বীজ সরিয়ে নেয়া ভালো। ভেজা বীজ বপন করা উচিত না। হেক্টরপ্রতি ৪ থেকে ৬ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।


সার প্রয়োগ : জমি তৈরি ও শেষ চাষের সময় প্রতি হেক্টরে পচা গোবর ৫ থেকে ১০ মেট্রিক টন, ইউরিয়া ৬৫ কেজি, টিএসপি ৯৫ থেকে ১০০ কেজি, এমওপি ৭৫ কেজি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বীজ বপনের ৪০ দিন পর বাকি ইউরিয়া ৬৫কেজি উপরিপ্রয়োগ হিসেবে জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে। কেউ কেউ ভালো ফলনের জন্য খৈল ব্যবহার করেন।

পরিচর্যা : বীজ লাগানোর পরই হালকা করে মাটি দিয়ে গর্ত ঢেকে দিতে হবে। পাখিতে বীজ খেতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন হলে আগাছা পরিষ্কার, গাছ পাতলাকরণ কাজগুলো নিয়মিত ও পরিমিতভাবে করতে হবে।

সেচ ও নিকাশ : সাধারণত সেচের প্রয়োজন নেই।  জমিতে রস না থাকলে বীজ বপনের পর হালকা সেচ দিতে হবে। তবে প্লাবন সেচ দিলে বীজ এক জায়গায় জমা হয়ে যেতে পারে। মাটির ধরন আর বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে পুরো জীবনকালে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। কোনো কারণে জমিতে পানি জমলে দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

বালাই ব্যবস্থাপনা : কালোজিরা সহজে তেমন কোনো পোকামাকড়ে আক্রান্ত করে না। বরং এর স্বাভাবিক পোকামাকড় ধ্বংসের ক্ষমতা আছে। সে রকম রোগবালাইও তেমন হয় না। মাঝে মাঝে কিছু ছত্রাক আক্রমণ দেখা দিলে রিডোমিল গোল্ড বা ডাইথেন এম ৪৫ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ২-৩ বার ১০ দিন পরপর ছিটিয়ে দিতে হবে।

জীবনকাল : বীজ বপনের পর সর্বমোট ১৩৫ থেকে ১৪৫ দিনে গাছ হলদে বর্ণ ধারণ করে মরে যায়। ১৫-২০ সপ্তাহের মধ্যে ফসল পাকবে ও তোলার সময় হবে অর্থাৎ পৌষের প্রথমে চাষ করলে চৈত্রে ফসল তোলা যাবে।

ফসল সংগ্রহ ও ফলন : ১ বিঘা জমিতে চাষ করলে গড়ে ৯০ থেকে ১১০ কেজি কালোজিরা পাওয়া যাবে। একরপ্রতি ৩০০ কেজি থেকে ৩৩০-৩৪০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বারি কালোজিরা-১ সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি ১ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন দেয়। ফাল্গুন-চৈত্রে গাছ মরে গেলে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে ২ দিন রোদে শুকিয়ে নিয়ে হাতে সাবধানে আঘাত করে মাড়াই করে বা লাঠি দিয়ে বীজ সংগ্রহ করা যায়। গাছে সামান্য রস থাকতেই ফল সংগ্রহ করা উচিত, তা নাহলে বীজ জমিতে ঝরে পড়তে পারে। বীজ রোদে শুকিয়ে ঠাণ্ডা করে কুলা দিয়ে পরিষ্কার করে চটের বস্তায় বা মাটির পাত্রে বীজ সংরক্ষণ করতে হবে। এভাবে অন্তত এক বছর পর্যন্ত বীজ ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়। মানসম্মত বীজ সংরক্ষণে পাত্র শুকনো, ঠাণ্ডা, অন্ধকার জায়গায় রাখতে হবে।

এগ্রোবিজ

কেমন হবে আগামীর কৃষি:

বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কৃষিবিদদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি অধিকাংশ ফসলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নত ফলনশীল জাত। এর ফলে বেড়েছে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা এবং দেশের মোট খাদ্য উৎপাদন।

বর্তমানে যেভাবে সরকারী এবং বেসরকারীভাবে কৃষির উপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করবে ইনশাল্লাহ।

যদিও আমাদের কৃষি আমার মতে সঠিক পথেই এগোচ্ছে, কিন্তু কথা হলো আগামী দিনে কেমন হবে আমাদের কৃষি। আমাদের কৃষি উৎপাদন কি দিন দিন বাড়তেই থাকবে? বিজ্ঞান সম্মত উত্তর হবে বাড়তেই থাকবে না কিন্তু আরো উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। কেননা আমাদের ফসলের জাত সমূহের উৎপাদন ক্ষমতা উপযুক্ত পরিবেশে আরো বেশি। প্রশ্ন এখানেই যে, আমরা চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ কি ধরে রাখতে পারব? প্রতিবছর কৃষি জমি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে বাড়ি-ঘর ও শিল্প কারখানা নির্মানের জন্য। নিবিড় চাষাবাদের ফলে আমাদের মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। চাষযোগ্য জমিতে লবনাক্ততা বাড়ছে দিন দিন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর, ফলে উৎপাদন দিন দিন কমছে। এসব সমস্যার বাহিরে যে সমস্যা আমাদের জন্য অদূর ভবিষ্যতে প্রকট হয়ে দাড়াবে তা হলো আর্সেনিক বিষাক্ততা।

জমিতে ফসল ফলানোর জন্য শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকা জরুরী। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ জমিতে এর পরিমাণ মাত্র শতকরা ২ ভাগ এর কাছাকাছি। এছাড়াও আমাদের মাটিতে গাছের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন এর পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমে গেছে। ৯০ এর দশকে আমাদের জমিতে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু এখন আমাদের জিংক, বোরন সার জমিতে প্রয়োগ করতে হচ্ছে এবং আশংকা করা হচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে মাটি থেকে গ্রহণকৃত ১৪টি খাদ্য উৎপাদনের অধিকাংশ সার হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। এর ফলে আমাদের জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে।

বাংলাদেশের ২০ ভাগ অঞ্চল উপকূলীয় এবং দেশের চাষযোগ্য জমির ৩০ ভাগ এই উপকূলীয় অঞ্চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যে, আমাদের অধিকাংশ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। ফলে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। উপকূলীয় অধিকাংশ অঞ্চলে শুধুমাত্র কিছু স্থানীয় লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত বছরে একবার চাষ করা হয়। ফলে আশানুরুপ ফলনও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব কিছু ছাড়িয়ে আর্সেনিক বিষাক্ততা আমাদের কৃষির জন্য। স¤প্রতি এক গবেষনা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিতভাবে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এই আর্সেনিক দূষণের প্রধান কারণ। কৃষিবিদদের জন্য চিন্তার কারণ হলো যে, আর্সেনিক দূষিত পানি দ্বারা যে সকল ফসলে সেচ প্রদান করা হয় সেসব ফসলের খাদ্যপোযোগী অংশে থাকে আর্সেনিকের উপস্থিতি।

অতি সমপ্রতি আমরা পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছি। এ থেকে প্রতীয়মান হয়ে যে, গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। কিন্তু এসব সমস্যা মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারের কৃষি বান্ধব নীতিমালা এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করা। আমার বিশ্বাস প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা পেলে আমাদের কৃষি গবেষকরা এসব সমস্যা সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে কৃষিকে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ চাষীর উজ্বল সম্ভবনা

বাংলাদেশর গ্রীস্মকালীন টমেটো সবজির pionear হিসাবে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিচিত। এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ হয়। গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকেরা আগ্রহী কিন্তু পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা, গ্রীস্মকালীন টমেটোর রোগমুক্ত বীজের অভাব উন্নত জাতের অভাব পোস্ট হারভেষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর অদক্ষতা পরিবহন ব্যববস্থা এবং বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সুবিধা না থাকায় কৃষকেরা গ্রীস্মকালীন

টমেটো  বাজারজাত করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যদি কৃষকদের গ্রীস্মকালীন টমেটো  চাষ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত এ সকল সমস্যা গুলি সমাধান করা যায়। তাহলে বাঘারপাড়া’র টমেটো দেশে ও বিদেশে রপ্তানি হয়ে বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রীস্মকালীন টমেটো  উৎপাদন কারী দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে এবং কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থ্যার উন্নয়ন হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মিষ্টি মরিচ চাষ: এক সম্ভাবনার নাম

মিষ্টি মরিচ আমাদের দেশীয় প্রচলিত সবজি না হলেও ইদানিং এর চাষ প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় বড় শহরের আশেপাশে সীমিত পরিসরে কৃষক ভাইয়েরা এর চাষ করে থাকের, যা অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া মিষ্টি মরিচের বিদেশে রপ্তানীর সম্ভাবনাও প্রচুর। কারণ সারা বিশ্বে টম্যাটোর পরেই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ।

মিষ্টি মরিচের পুষ্টিমান ও ব্যবহার:
পুষ্টিমানের দিক থেকে মিষ্টি মরিচ একটি অত্যন্ত মূল্যবান সবজি। প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ’সি’ থাকার কারণে এবং অতি সহজেই টবে চাষ করা যায় বলে দেশের জনসাধারণকে মিষ্টি মরিচ খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

মিষ্টি মরিচ লাগানোর নিয়ম কানুন:
ক্যাপসিয়াম বা মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি ভালো। মিষ্টি মরিচ খরা ও গোড়ায় পানি জমা কোনটিই সহ্য করতে পারে না। মিষ্টি মরিচের বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। প্রতি শতকের জন্য ১ গ্রাম বীজ দরকার হয়। বীজ থেকে প্রথমে চরা তৈরি করে নিতে হয়। এ জন্য বীজগুলোকে ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে আগে থেকে তৈরি করে রাখা বীজতলায় ১০ সেমি. দূরে দূরে লাইন করে বীজ বুনতে হবে। বীজ বোনার ৭-১০ দিন পর চারা ৩-৪ পাতা হলে মাঝারি আকারের পলিথিন ব্যাগে চারা স্থানান্তর করতে হবে।

এরপর মূল জমি চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে তৈরি করে নিতে হবে। এরপর বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি বেড চওড়া ২.৫ ফুট রাখতে হয়। দুই বেডের মাঝখানে নালা রাখা দরকার। প্রতি শতক জমির জন্য গোবর ৪০ কেজি,  ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ১.৪ কেজি, এমওপি ১ কেজি, দস্তা ২০ গ্রাম এবং জিপসাম ৪৫০ গ্রাম  প্রয়োগ করতে হয়। এর মধ্যে অর্ধেক গোবর সার জমি তৈরির সময়, বাকি অর্ধেক গোবর সম্পূর্ণ টিএসপি, দস্তা, জিপসাম, ১/৩ ভাগ এমওপি এবং ১/৩ ভাগ ইউরিয়া চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ২/৩ ভাগ ইউরিয়া এবং এমওপি পরবর্তীতে দুইভাগ করে চারা রোপণের ২৫ এবং ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণত ৩০ দিন বয়সের চারা তৈরি করা বেডে ১.৫ ফুট দূরে দূরে লাইনে রোপণ করা হয়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায় বলে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেশি থাকে।

যেহেতু, ক্যাপসিকাম খরা ও জলাবদ্ধতা কোনটাই সহ্য করতে পারে না, তাই প্রয়োজন অনুসারে জমিতে সেচ দিতে হবে। কোন গাছে ফল ধরা শুরু হলে খুঁটি দিতে হবে যাতে গাছ ফলের বারে হেলে না পড়ে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

ফসল তোলা:
মিষ্টি মরিচ সাধারণত পরিপক্ক সবুজ অবস্থায় লালচে হওয়ার আগেই মাঠ থেকে উঠানো যায়। সাধারণত সপ্তাহে একবার গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ফল সংগ্রহের পর ঠান্ডা অথচ ছায়াযুক্ত স্থানে বাজারজাতকরণেল পূর্ব পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ফল সংগ্রহের সময় প্রতিটি ফলে সামান্য পরিমাণে বোটা রেখে দিতে হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জিরা চাষ কৌশল

জিরা একটা অত্যন্ত জনপ্রিয় মসলা এবং প্রতিটি রান্নাঘরে খুব সহজে স্থান করে নিয়েছে জিরা। নাতিশীতোষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়া জিরা চাষের জন্যে প্রয়োজন বিধায়  বাংলাদেশে শীতকালে জিরা চাষ সম্ভব। সঠিক পরিচর্যায়  সহজেই হেক্টরপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি জিরার ফলন পাওয়া সম্ভব।সুনিষ্কাশিত উর্বর,গভীর এবং বেলে দোঁআশ মাটি জিরা চাষের জন্যে উত্তম।

বীজের হার ও বপন: প্রতি হেক্টরে ১২-১৫ কেজি বীজ লাগে ছিটিয়ে বীজ বপন করতে । তবে সারিতে মাদা করে লাগালে প্রতি হেক্টরে ৮-১০ কেজি বীজ লাগে। সারিতে বপন করলে দুরত্ব হবে ২৫× ১৫ সেমিঃ। জিরা বোনার আগে ২/৩ দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং বোনার আগে প্রতি কেজি বীজের সাথে ২ গ্রাম হারে ভিটাভেক্স মিশিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। অক্টোবর,নভেম্বর মাস বীজ বোনার উত্তম সময়।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ: ৫-৮ টি লাঙ্গল এবং মই দিয়ে জমি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। হেক্টর প্রতি ৫ টন জৈব সার, এবং শেষ চাষের আগে ২০ কেজি ইউরিয়া, ৮০-১০০  কেজি টিএসপি ও ৭০-৭৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। এরপর বীজ বোনার ৩০ দিন পর একবার এবং ৬০ দিন পর আরেকবার ২০ কেজি করে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রত্যেকবার সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ দিতে হবে।
পরিচর্যা: বীজ বোনার ২৫-৩০ দিন পর আগাছা এবং অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে এবং চারার গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ জো না থাকলে বীজ বোনার পরে হালকা সেচ দিতে হবে। ফুল আসার সময়ে এবং জিরা পুষ্ট হওয়ার সময়ে যেন মাটি শুকনা না থাকে, তা লক্ষ রাখতে হবে।


ফসল তোলা এবং সময়: ৯০-১১০ দিনের মধ্যে জিরা তোলা যায়। ফসল পেকে গেলে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে,খামারে এনে তারপর রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বীজ জিরা আলাদা করতে হয়। ভালভাবে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৮০০-১০০০ কেজি ফলন পাওয়া সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নারকেল বা সুপারি বাগানে সহজেই গোলমরিচ চাষ করে লাভবান হতে পারেন

গোলমরিচ একটি অর্থকরী দেশীয় মশলা ফসল। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে নারকেল ও সুপারি বাগান আছে সেখানে গোলমরিচের চাষ সহজেই করা যায়। এই মশলা ফসলটি সাথী ফসল হিসেবে চাষ করে কৃষকরা আয় বাড়াতে পারেন।             

পুষ্টিমূল্য: গোল মরিচে আমিষ, চর্বি এবং প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও লৌহ থাকে।

ভেষজগুণ:

  • হজমে সহায়তা করে,
  • স্নায়ু শক্তি বাড়ায়,
  • দাঁতের ব্যাথা কমানোতে সহায়তা করে,
  • মাংসপেশী ও হাড়ের জোড়ায় ব্যাথা উপশম করে,
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

ব্যবহার: মশলা হিসেবে গোলমরিচের ব্যবহার রয়েছে।

উপযুক্ত মাটি ও জমি: পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয় ও আর্দ্রতা বেশি এমন এলাকায় গোলমরিচ জন্মে। এ ফসল ১০-৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। পি এইচ ৪.৫ – ৬.০ পর্যন্ত এ ফসল ফলানো যায়। পাহাড়ি এলাকার মাটি এই ফসল চাষের জন্য খুব উপযোগী।

জাত পরিচিতি: স্থানীয় জাত।

চারা তৈরি: গোল মরিচে ৩ ধরনের লতা/ কান্ড দেখা যায়-

  • প্রধান কান্ড যার পর্বমধ্য বড়
  • রানার ডগা (সুট) ও
  • ফল ধারণকারী পার্শ্বীয় শাখা। রানার ডগা হতে কাটিং এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়। শীর্ষ ডগাও ব্যবহার করা যায়।

ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে ২-৩ টি পর্বসন্ধি (গিট) যুক্ত কান্ড কাটিং হিসেবে নার্সারীতে বা পলি ব্যাগে লাগানো হয়। পলি ব্যাগ উর্বর মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। কাটিং –এ ছায়ার ব্যবস্থা রাখা হয় ও প্রয়োজনে সেচ দিতে হয়। মে-জুন মাসে কাটিং লাগানোর উপযোগী হয়।

চারা লাগানো: গোল মরিচ ঠেস গাছের ছায়ায় লাগাতে হয়। ঠেস গাছ আগে থেকে ২.৫ মি. দূরত্বে লাগিয়ে গোল মরিচের কাটিং লাগানো হয়। ২-৩ টি কাটিং এক গর্তে লাগানো হয়। ঠেস গাছ হিসাবে সুপারী গাছ ব্যবহার করা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতে নারকেল ও সুপারি গাছে গোলমরিচ গাছ তুলে দিলে  বিঘাপ্রতি বাগিচায় ২০০০ – ৩০০০ টাকা বেশী রোজগারের সম্ভাবনা। এক্ষেত্রে নারকেল / সুপারির একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব অবধি গোলমরিচের লতা বাড়তে দিতে হবে যাতে পরিচর্যার সুবিধা হয় আর এরকমভাবে চাষে সুপারি/ নারকেলের সারেই মরিচেরও সার ব্যবস্থা চলবে, অনেকটাই প্রয়োজনে মরিচের গোঁড়ায় আলাদা ভাবে বা গাছে জলে গোলা সার দিলেই হবে।

সার ব্যাবস্থাপনা: প্রতি গর্তে ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১১০ গ্রাম এস এস পি ও ৪৫০ গ্রাম পটাশ দিতে হয়। তবে এ পরিমাণ সার তৃতীয় বছর হতে দিতে হবে। এ পরিমাণের ১/৩ ভাগ ১ম বছর এবং ২/৩ ভাগ দ্বিতীয় বছরে দিতে হবে। সার সাধারণত: বছরে দুবারে দিতে হয়। একবার মে-জুন মাসে ও পরের বার আগষ্ট- সেপ্টেম্বর মাসে দিতে হয়। এছাড়া প্রতি বছর প্রতি গর্তে মে-জুনমাসে ১০ কেজি পচা গোবর ও প্রতি ১ বছর অন্তর-অন্তর প্রতি গর্তে ৬০০ গ্রাম চুন দিতে হবে।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা: আগাছা দেখা দিলে পরিষ্কার করতে হবে ও মাটির রসের অভাব হলে জল সেচ দিতে হবে। ডগা বাড়তে থাকলে ঠেস গাছের সাথে বেঁধে দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com